ইরানকে বাগে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫ শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ও সংঘাত নিরসনের প্রক্রিয়ায় ইরানকে বাগে আনতে ৫টি বড় এবং অত্যন্ত কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন এই পাল্টা শর্তগুলো দিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইরানের উৎপাদিত ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি আমেরিকার হাতে হস্তান্তর করা। এ ছাড়া পূর্ববর্তী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে ইরানের যে বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতেও সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

রোববার (১৭ মে) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির এক বিশেষ প্রতিবেদন বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রশাসনের এই অনমনীয় ও কঠোর অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনা এখন এক গভীর অচলাবস্থার দিকে মোড় নিচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার টেবিল থেকে সুবিধা আদায় করতে ওয়াশিংটন শর্ত দিয়েছে যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির আওতাধীন যতগুলো স্থাপনা রয়েছে, তার মধ্যে কেবল একটিমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা বা কেন্দ্র ভবিষ্যতে সচল বা চালুর অনুমতি পাবে। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে আটকে বা ফ্রিজ করে রাখা ইরানের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সম্পদের অন্তত ২৫ শতাংশও অবমুক্ত বা ছেড়ে দেওয়ার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রশাসন।

শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটার বিষয়টি এই আলোচনার ধারাবাহিকতা ও সফল সমাপ্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল বলে লিংক বা জুড়ে দিয়েছে তারা। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরান যদি আমেরিকার এই সবকটি শর্ত মেনেও নেয়, তবুও ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের স্থায়ী হুমকি পুরোপুরি বহাল থাকবে।

মার্কিন এই পাল্টা শর্তের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের গণমাধ্যমগুলো রোববার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তেহরানের দেওয়া যৌক্তিক শান্তি প্রস্তাবের জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের দৃশ্যমান বা বাস্তবসম্মত ছাড় দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের এক সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ‘আমেরিকা নিজে কোনো ত্যাগ বা ছাড় না দিয়ে, মূলত যুদ্ধের ময়দানে যেসব সুবিধা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিল, তা এখন আলোচনার টেবিলে ছলে-বলে-কৌশলে আদায় করতে চাচ্ছে; ওয়াশিংটনের এই অতি লোভী মানসিকতা চলমান শান্তি আলোচনাকে নিশ্চিতভাবে একটি স্থায়ী অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দেবে।’

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া ১৪ দফার একটি ব্যাপক শান্তি প্রস্তাব সরাসরি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ট্রাম্পের এই প্রত্যাখ্যানের পর ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ক্যালিবাফ এক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন প্রশাসন যদি ইরানের দেওয়া প্রস্তাব মেনে না নেয়, তবে এর জন্য মার্কিন করদাতাদের ভবিষ্যতে অত্যন্ত ভারী ও চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।

এর বিপরীতে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য ইরানের পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক মহলে পাঁচটি ‘আস্থা-বিল্ডিং’ বা বিশ্বাসযোগ্য পূর্বশর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তেহরানের এই শর্তগুলোর মধ্যে প্রধানতম হলো—লেবাননে ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ বাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের চলমান হামলাসহ সবকটি ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে, ইরানের ওপর আরোপিত সমস্ত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সব ফান্ড বা অর্থ অবিলম্বে ছেড়ে দিতে হবে।

এর পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে ইরানের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অন্যতম প্রধান নৌ রুট হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিজস্ব একচ্ছত্র সার্বভৌমত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে। ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, তাদের দেশে নতুন করে যেকোনো ধরনের সামরিক বা বিমান হামলা চালানো হলে তার জবাবে আরও বেশি ‘বিধ্বংসী ও ভয়াবহ পাল্টা আঘাত’ হানা হবে।

আন্তর্জাতিক এই চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন মূলত তাদের সামরিক ও সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য কূটনীতিকে একটি সস্তা ঢাল বা কভার হিসেবে ব্যবহার করছে।

বাঘাই অত্যন্ত কড়া ভাষায় লেখেন, ‘এটি তাদের দীর্ঘদিনের অত্যন্ত সুপরিচিত এবং কুৎসিত একটি কৌশল—প্রথমে তারা নিজেরাই কৃত্রিমভাবে সংকট ও যুদ্ধ তৈরি করে, এরপর আবার সেই যুদ্ধকে আরও উসকে দেয় এবং সবশেষে তার ওপর ‘স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার’ ও ‘শান্তি রক্ষা’র এক মহৎ ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়। মূলত তারা বিশ্বজুড়ে একটি ধ্বংসস্তূপ বা মরুভূমি তৈরি করে এবং পরবর্তীতে ধূর্ততার সঙ্গে সেটাকেই শান্তি বলে দাবি করে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে একযোগে ব্যাপক সামরিক ও বিমান হামলা চালালে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই আগ্রাসনের পর ইরানও লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে পাল্টা প্রতিরোধমূলক হামলা চালায়, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম হু হু করে বাড়ে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।

পরবর্তীতে বন্ধু রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিশেষ কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি অর্জিত হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব হলেও মূল নীতিগত বিরোধগুলোর সমাধান না হওয়ায় এবং উভয় পক্ষের শর্তের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান থাকায় স্থায়ী কোনো শান্তি চুক্তি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

সূত্র: এনডিটিভি




সৌদিতে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে দেশটিতে আগামী ২৭ মে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

এছাড়া আরাফাত দিবস হবে আগামী ৯ জিলহজ বা ২৬ মে। রোববার সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটির এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সৌদি আরবের দুই মসজিদভিত্তিক ওয়েবসাইট ইনসাইড দ্য হারামাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দেশটির আকাশে চাঁদ দেখার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আকাশে আজ (রোববার) ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে আজ রাতেই বরকতময় জিলহজ মাস শুরু হবে। এছাড়া আগামী ২৭ মে (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

এদেকে পবিত্র জিলহজ মাস ও ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রাচের দেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিন দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই।

রোববার এসব দেশের সংশ্লিষ্ট চাঁদ দেখা বিষয়ক কমিটি জিলহজ মাস শুরুর ও পবিত্র ঈদুল আজহার ভিন্ন ভিন্ন তারিখ ঘোষণা করেছে।




মালদ্বীপে ডাইভিং দুর্ঘটনা: উদ্ধার কাজে নেমে প্রাণ হারালেন ডুবুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ স্কুবা ডাইভিং দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো একদল ইতালীয় পর্যটকের মরদেহ উদ্ধারে নেমে মালদ্বীপে এক উদ্ধারকারী ডুবুরির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মালদ্বীপ সরকারের এক মুখপাত্র গতকাল শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, স্টাফ সার্জেন্ট মোহামেদ মাহদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে সেখানেই তিনি মারা যান।

এর আগে বৃহস্পতিবার সমুদ্রের প্রায় ৫০ মিটার (১৬৪ ফুট) গভীরে গুহা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করতে গিয়ে ইতালির পাঁচ নাগরিকের মৃত্যু হয়। এখন পর্যন্ত তাদের একজনের মৃতদেহ মিলেছে, তাও সমুদ্রপৃষ্ঠের ৬০ মিটার নিচে এক গুহায়। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু শনিবার বাকি ইতালীয় নাগরিকদের মৃতদেহ উদ্ধার অভিযান দেখতে ভাভু প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় যান।

“আট উদ্ধারকারী ডুবুরি আজ পানিতে নেমেছিলেন। তারা যখন ভেসে ওঠেন, বুঝতে পারেন যে মাহদি ফিরে আসেনি,” বিবিসিকে এমনটাই বলেছেন মালদ্বীপ সরকারের মুখপাত্র মোহামেদ হোসেইন শরিফ।

অন্য উদ্ধারকারী ডুবুরিরা তাৎক্ষণিকভাবে সমুদ্রের তলদেশে যান এবং সেখানে মাহদিকে অচেতন অবস্থায় পান। মালদ্বীপের সামরিক বাহিনী আগেই বিরূপ আবহাওয়ায় সমুদ্র তলদেশে এই উদ্ধার অভিযানকে ‘খুবই ঝুঁকিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়েছিল।

মাহদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি। যে পাঁচ ইতালীয় কেভ ডাইভে নেমে মারা গেছেন তাদের চারজনই জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দলের অংশ। এরা হলেন- অধ্যাপক মনিকা মন্টিফেলকোন ও তার মেয়ে এবং দুই তরুণ গবেষক। এর বাইরে যে ইতালিয়ান মারা গেছেন তিনি নৌযান পরিচালনা ব্যবস্থাপক ও ডাইভিং প্রশিক্ষক।

এ পাঁচজনই বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালের দিকে ভাভু দ্বীপপুঞ্জের কাছে সমুদ্রে নেমেছিলেন; অনেকক্ষণ পরও তারা ভেসে না ওঠায়, তাদেরকে ডাইভিংয়ে নিয়ে যাওয়া নৌযানের ক্রু’রা ৫ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর দেন।

রাজধানী মালে-র প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ওই এলাকার আবহাওয়াও সেসময় বিরূপ ছিল এবং যাত্রীবাহী নৌকা ও জেলেদের জন্য ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছিল, বলছে পুলিশ।

শরিফ বলছেন, বেড়াতে আসা স্কুবা ডাইভারদের কেবল সমুদ্রের ৩০ মিটার গভীর পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এই ইতালীয়রা কী করে ৬০ মিটার নিচের গুহায় গিয়েছিলেন তা পরিষ্কার নয়।

এর আগে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, যে ডিউক অব ইয়র্ক ইয়ট থেকে ওই ৫ জন সমুদ্রে নেমেছিলেন, সেখানে ইতালির আরও ২০ নাগরিক ছিলেন। তারা অক্ষত আছেন এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অবস্থিত ইতালি দূতাবাস তাদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে।




আইফেল টাওয়ারে ফিলিস্তিনি পতাকা, আটক ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে ফিলিস্তিনের একটি বড় পতাকা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ফরাসি পুলিশ অন্তত ৬ জনকে আটক করেছে।

শুক্রবার (১৫ মে) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে পরিবেশবাদী ও সামাজিক আন্দোলন সংগঠন “Extinction Rebellion France”-এর সদস্যরা আইফেল টাওয়ারের প্রথম তলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে প্রবেশ করেন এবং সেখানে একটি বড় ফিলিস্তিনি পতাকা ঝুলিয়ে দেন।

ঘটনার সময় টাওয়ার এলাকায় পর্যটক চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়। পরে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের আটক করে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে বলে ফরাসি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অ্যাক্টিভিস্টরা এটিকে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাত ও মানবিক পরিস্থিতির প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি পালন করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ একে রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিশ্বখ্যাত স্থাপনার নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করছেন।




প্রাণঘাতী ইবোলায় বিপর্যস্ত কঙ্গো, ৬৫ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আফ্রিকার শীর্ষ স্বাস্থ্য সংস্থা আফ্রিকা সিডিসি শুক্রবার (১৫ মে) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ২৪৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং অন্তত ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণের প্রধান কেন্দ্রস্থল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে স্বর্ণখনি সমৃদ্ধ শহর মোংওয়ালু এবং রুয়াম্পারা।

আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, রাজধানী কিনশাসার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিকেল রিসার্চে (আইএনআরবি) পাঠানো ২০টি নমুনার মধ্যে ১৩টিতেই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বর্তমানে ভাইরাসের ধরন বা স্ট্রেইন শনাক্তে অধিকতর পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। ইতুরির প্রাদেশিক রাজধানী বুনিয়াতেও বেশ কিছু সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে আফ্রিকা সিডিসি। আক্রান্ত এলাকাগুলোর খনি শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচলের কারণে ভাইরাসটি সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. জাঁ কাসেয়া সীমান্ত নজরদারি এবং আঞ্চলিক সমন্বয় জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে এই কঙ্গোতেই প্রথম ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। এটি মূলত শারীরিক তরল বা শরীরের ক্ষতস্থানের সরাসরি সংস্পর্শে ছড়ায় এবং এতে আক্রান্ত হলে প্রবল রক্তক্ষরণ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যায়।

বর্তমানে এই রোগের কোনো সুনিশ্চিত নিরাময় নেই এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এর গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। এটি দেশটিতে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কঙ্গোতে ইবোলার ভয়াবহতম প্রাদুর্ভাবে প্রায় ২,৩০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

ইতুরি প্রদেশটি সামরিক শাসনের অধীনে থাকায় এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বজায় থাকায় উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




ভারতের উত্তর প্রদেশে বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণে নিহত ১১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রবল শিলাবৃষ্টি, ভারী বর্ষণ ও বজ্রপাতে অন্তত ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৭২ জন। রাজ্যের ২৫টি জেলায় গতকাল বুধবার থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে হতাহতের এসব ঘটনা ঘটে।

উত্তর প্রদেশের ত্রাণ কমিশনার ঋষিকেশ ভাস্কর যশোদের কার্যালয় জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে প্রয়াগরাজে। সেখানে মারা গেছেন ২১ জন।

এ ছাড়া মির্জাপুরে ১৯ জন, সন্ত রবিদাসনগরে ১৬ জন এবং ফতেহপুরে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ১৭০টি গবাদিপশুর মৃত্যু এবং ২২৭টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ত্রাণ কমিশনার জানান, ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল অ্যান্ড কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতি নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

৫০ ফুট ওপরে উঠে যান এক ব্যক্তি

উত্তর প্রদেশের বেরেলি জেলার ভামোরা এলাকায় একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। জেলার বাবিয়ানা গ্রামের নানহে আনসারি নামের এক বাসিন্দা বাতাসের তোড়ে একটি টিনের চালের সঙ্গে প্রায় ৫০ ফুট ওপরে উঠে যান বলে জানা গেছে। পরে তিনি একটি ভুট্টাখেতে আছড়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। আনসারির শূন্যে উড়ে যাওয়ার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ঝড়, বৃষ্টি ও বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে কর্মকর্তাদের দ্রুত ত্রাণতৎপরতা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসকদের (ডিএম) নিজ নিজ জেলায় উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টিতে হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, কর্মকর্তাদের দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন, দুর্গত ব্যক্তিদের সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ।




পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করলো বিজেপি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং পশু চিকিৎসকের দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড় বা মহিষের মতো কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই নিয়ম অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নতুন এই সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ স্বাক্ষর করা সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই বিধিনিষেধ গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর এবং স্ত্রী ও পুরুষ মহিষসহ সব ধরনের গবাদি পশুর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে সনদ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী হতে হবে। এ ছাড়া গুরুতর আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগের কারণে কোনো পশু স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তবেই সেটিকে জবাইয়ের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।

পশু জবাইয়ের জন্য স্থান নির্ধারণের বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাজ্য সরকার বিজেপি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করতে হবে। রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ কোনো খোলা জায়গায় পশু জবাই করা এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নিয়মটি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার জন্য পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা বা চত্বর পরিদর্শন করতে পারবেন। এই পরিদর্শন কাজে বাধা দেওয়াকেও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।

শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, এই নতুন আইনের যেকোনো ধারা ভঙ্গ করলে অপরাধীকে এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা, ছয় মাসের জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এ ছাড়া এই সংক্রান্ত সব ধরনের অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই এই আমূল পরিবর্তন আনা হলো। বিশেষ করে ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় এবং নতুন সরকারের এই ত্বরিত সিদ্ধান্তগুলো পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি




সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বের সবচেয়ে বিধ্বংসী ও শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ‘সারমাত’র সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে রাশিয়া।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার দূরপাল্লার এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষা চালানো হয়। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে।

এই সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে রাশিয়া তাদের সামরিক সক্ষমতার এক নতুন উচ্চতা প্রদর্শন করল, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক বিবৃতিতে জানান, ‘সারমাত’ বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।

তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক বাহিনীর হাতে থাকা যে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এটি কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী এবং অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন মারণাস্ত্র বহনে সক্ষম।




যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) স্থানীয় সময় ওয়াশিংটন থেকে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে বুধবার (১৩ মে) বেইজিং পৌঁছান তিনি। 

পূর্বনির্ধারিত এই সফরটি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে কয়েক দফা পিছিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থাতেই চীন সফরে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আগামী ১৫ মে পর্যন্ত ট্রাম্প চীনে অবস্থান করবেন এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের এই সংকটময় মুহূর্তে ট্রাম্পের বেইজিং সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পর্যবেক্ষক সংস্থা এশিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চীন বিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা কুর্ট কাম্পবেল এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অস্বাভাবিক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন , একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে, অন্যদিকে চীন ও ইরান ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মিত্র হওয়া সত্ত্বেও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো একটি বিরল ঘটনা।

কাম্পবেলের মতে, এই সফরটি প্রমাণ করে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উভয়েই বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এবং দুই দেশের ভঙ্গুর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশেষভাবে আগ্রহী।

উল্লেখ্য, গত ৪০ দিন ধরে ইরান ও তার মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে আসছে এবং বর্তমানে ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের মিত্র দেশের ওপর আক্রমণ চালিয়েও ট্রাম্পের এই রাষ্ট্রীয় সফরটি বাতিল না হওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের পাশাপাশি বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রাধান্য পাবে। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত আলোচনা দুই পরাশক্তির মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে কোনো ভূমিকা রাখে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাখছে বিশ্ববাসী।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ট্রাম্পের এই সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

চীন শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসলেও ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসা বেইজিংয়ের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তিন দিনের এই সফর শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বড় কোনো ঘোষণা আসে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক জল্পনা চলছে।

সূত্র: এপি নিউজ




যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে প্রতিদিন হতাহত হচ্ছে ৪ শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লেবাননে গত মাসে কার্যকর হওয়া তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতির’ মধ্যেও ইসরাইলি হামলায় শিশুদের হতাহতের সংখ্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন আজ মঙ্গলবার (১২ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর প্রথম ২৫ দিনে গড়ে প্রতিদিন ৪টিরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, এই অল্প সময়ের ব্যবধানে অন্তত ২২ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং ৮৯ জন গুরুতর আহত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ শিশু নিহত হয়েছে। সব মিলিয়ে নিহতের মোট সংখ্যা প্রায় ২,৯০০ জনে দাঁড়িয়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের লেবানন পরিচালক নোরা ইংডাল বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা আসলে বন্ধ হয়নি, বরং ভিন্ন নামে তা অব্যাহত রয়েছে। অনেক এলাকায় বিমান হামলার তীব্রতা আগের চেয়েও বেড়েছে। শিশুদের জীবন রক্ষায় কোনো শর্তহীন এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিকল্প নেই বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ইসরাইলি বিমান বাহিনী দাবি করেছে, তারা এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত লেবাননের ১,১০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তবে এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে সাধারণ পরিবারগুলো। সংঘাতের কারণে এ পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

বর্তমানে বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ গাদাগাদি করে বসবাস করছে, যার মধ্যে ৩৬ শতাংশই শিশু। এসব কেন্দ্রে অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও তীব্র ভিড়ের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনার কথা রয়েছে। উভয় দেশই হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি দিলেও হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাদের অস্ত্রসমর্পণ আলোচনার কোনো অংশ হতে পারে না।

ফলে আসন্ন এই বৈঠক থেকে কতটুকু সুফল আসবে এবং শিশুদের ওপর চলা এই নৃশংসতা বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

সূত্র: আল-জাজিরা।