মধ্যপ্রাচ্যে ঢুকলো মার্কিন রণতরী, ইরান ও হিজবুল্লাহর পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং তার সহায়ক যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় এই মোতায়েনের খবর নিশ্চিত করেছে। 

সেন্টকম জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই নৌবহরটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিয়ে একটি ‘বিশাল নৌবহর’ পাঠানোর যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, এই মোতায়েন মূলত তারই অংশ। এর ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একটি বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

মার্কিন এই সামরিক শক্তিবৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছে, তারা যেকোনো ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের রণতরী মোতায়েন করে ইরানি জাতিকে রক্ষা করার দৃঢ় সংকল্প থেকে তেহরানকে বিচ্যুত করা যাবে না।

তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, যেকোনো হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং এর প্রতিক্রিয়া হবে ‘অনুতাপ উদ্রেককারী’। গত বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন হামলার প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া রেষারেষি এবং সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে তেহরানের ভূমিকার জের ধরে দুই দেশের মধ্যে এই যুদ্ধংদেহি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এদিকে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম এক টেলিভিশন ভাষণে জানিয়েছেন, তেহরানের ওপর যেকোনো হামলা হিজবুল্লাহর ওপর হামলা হিসেবেই গণ্য হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, ইরানের ওপর নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তা পুরো অঞ্চলকে জ্বালিয়ে দেবে এবং এই লড়াইয়ে হিজবুল্লাহ কখনোই নিরপেক্ষ থাকবে না।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকূল সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করতে দেবে না। উল্লেখ্য যে, আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত আল ধাফরা বিমান ঘাঁটিটি মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও আমিরাতের এই অবস্থান কূটনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

পেন্টাগন কেবল রণতরীই নয়, বরং ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করছে। সপ্তাহান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে যে, তারা এই অঞ্চলে একটি মহড়া পরিচালনা করবে যার মূল উদ্দেশ্য হবে প্রতিকূল পরিবেশে বিমান শক্তি মোতায়েন ও টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা প্রদর্শন করা।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে ইরানের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের এই সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি মূলত ইরান ও আমেরিকার দীর্ঘদিনের বৈরিতাকে এক নতুন ও বিপজ্জনক চূড়ান্ত রূপ দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক বিশাল বারুদস্তূপে পরিণত হয়েছে, যেখানে যেকোনো একটি ছোট ভুল পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিধ্বংসী যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড




আফগানিস্তানে তুষারপাত ও বৃষ্টিতে ৬১ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারি বৃষ্টিপাতে তিনদিনে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এছাড়াও শতাধিক আহত হয়েছে।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তুষারপাত ও বৃষ্টিপাতের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ এবং একাধিক প্রদেশের অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ইউসুফ হাম্মাদ বলেছেন, আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ১৫টিতে ৬১ জন মারা গেছেন এবং ১১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও ৪৫৮টি বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং শত শত প্রাণী মারা গেছেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ প্রদেশগুলো থেকে তথ্য দিলে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

কাবুলের উত্তরের প্রদেশ পারওয়ানের কর্তৃপক্ষ আফগানিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ সালাং মহাসড়ক বন্ধ থাকার কথা নিশ্চিত করেছে। আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ মহাসড়ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আফগানিস্তানে তুষারপাত এবং ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আকস্মিক বন্যা অনেকের মৃত্যু হয়। গত বছর আকস্মিক বন্যায় ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়। দশকের পর দশক ধরে চলা সংঘাত, দুর্বল অবকাঠামো, সংগ্রামরত অর্থনীতি, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাবের ফলে এই ধরনের দুর্যোগের প্রভাব আরও বেড়েছে।

অনেক বছর ধরেই দেশটির জনসংখ্যার বড় অংশ আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর চলছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে এই সহায়তার পরিমাণ কমে এসেছে। জাতিসংঘের হিসাবে, চলতি বছর চার কোটি জনসংখ্যার আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেকেরই মানবিক ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন হবে।

সূত্র: ডন।




মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, কাতারে যুদ্ধবিমান পাঠালো যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে কাতারে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। কাতারের দোহা শহরের কাছে আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার যুক্তরাজ্য সরকার জানায়, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই মোতায়েন করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, কাতার সরকারের আমন্ত্রণে পাঠানো এসব টাইফুন যুদ্ধবিমান যৌথ আরএএফ–কাতারি ইউনিট নম্বর ১২ স্কোয়াড্রনের অংশ হিসেবে কাজ করবে। এর লক্ষ্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা জোরদার করা।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, এই অংশীদারত্ব দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। তার ভাষায়, যৌথ স্কোয়াড্রনের টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মাধ্যমে কাতারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা উভয় দেশের অভিন্ন নিরাপত্তা লক্ষ্যকে শক্তিশালী করবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, যা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ একটি স্ট্রাইক গ্রুপ বহন করছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বুধবার মালাক্কা প্রণালি অতিক্রম করেছে রণতরীটি। এর সঙ্গে রয়েছে মার্কিন গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন। পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহ অতিরিক্ত মার্কিন প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামও অঞ্চলটিতে পাঠানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি’ হিসেবে ইরানের দিকে এই ‘নৌবহর’ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বিমানবাহী রণতরী জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ভার্জিনিয়ার নরফোক ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলেও জানা গেছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।

প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র দ্য ন্যাশনালকে জানিয়েছে, এই সামরিক সমাবেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূত্রটি আরও জানায়, ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন শুধু আশ্বাসমূলক নয়, বরং ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা মোকাবিলায় একটি অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করাও এর উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন প্রতিহত করতে টাইফুন যুদ্ধবিমান অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।

টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো আগে সিরিয়ায় আইএসআইএসের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে এবং গত বছর ইয়েমেনে হুতি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার কাতারে এই মোতায়েনকে ‘প্রতিরক্ষামূলক ও সহযোগিতামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা যুক্তরাজ্য–কাতার প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা চুক্তির আওতায় নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইরান আগেও আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাবে আল উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। এই ঘাঁটিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তর অবস্থিত, যা একে ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ইসরায়েল–ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাজ্য এই অঞ্চলে অতিরিক্ত ‘কন্টিনজেন্সি সাপোর্ট’ পাঠিয়েছিল, যাতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়। এছাড়া ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময়ও নিরাপত্তা সহায়তার অংশ হিসেবে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল যুক্তরাজ্য।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো শিগগিরই প্রায় ৫০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে উন্নত রাডার আপগ্রেড পাচ্ছে, যা এগুলোর যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়াবে।




গ্রিনল্যান্ডের দাম ১ বিলিয়ন ডলার, ট্রাম্পের হয়ে ডেনমার্ককে পুতিনের খোঁচা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আর্কটিক অঞ্চলে ভূ-রাজনীতির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নজিরবিহীন মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ডেনমার্কের কাছ থেকে এই দ্বীপটি কিনে নিতে চায় তবে তার মূল্য হতে পারে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

এই মূল্যায়নের স্বপক্ষে পুতিন ১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে আমেরিকার আলাস্কা ক্রয়ের ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, সে সময় আলাস্কা ৭.২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছিল। বর্তমান সময়ে স্বর্ণের মূল্যমান ও ভৌগোলিক আয়তন বিবেচনা করলে গ্রিনল্যান্ডের দাম ১ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে হওয়া উচিত এবং আমেরিকার মতো দেশের জন্য এই অর্থ পরিশোধ করা কোনো কঠিন বিষয় নয়।

তবে কেবল দাম নির্ধারণ করেই ক্ষান্ত হননি রুশ প্রেসিডেন্ট। গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের দীর্ঘদিনের কর্তৃত্বকে তিনি অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে চিত্রায়িত করেছেন। পুতিনের অভিযোগ, ডেনমার্ক সবসময় গ্রিনল্যান্ডের মানুষের সাথে ঔপনিবেশিক আচরণ করেছে। এই শাসন ছিল অত্যন্ত কঠোর ও নিষ্ঠুর।

পুতিন দাবি করেন, ডেনমার্ক ঐতিহাসিকভাবে এই দ্বীপটিকে একটি উপনিবেশ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। অথচ রাশিয়া এই পুরো বিবাদকে ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেনের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করে এবং এতে মস্কোর সরাসরি কোনো স্বার্থ নেই।




মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী, পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরকে ধ্বংস করে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে। ওয়াশিংটন তাদের বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরিয়ে নেওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, নতুন করে কোনো আক্রমণ করা হলে তারা হাতে থাকা সবটুকু শক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত হানবে। 

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি কোনো নিছক হুমকি নয় বরং বাস্তব সত্য। তিনি উল্লেখ করেন, একটি সর্বাত্মক সংঘাত অত্যন্ত ভয়াবহ হবে এবং তা ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের দেওয়া কাল্পনিক সময়সীমার চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হবে। আরাগচির মতে, এমন যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং গোটা বিশ্বের সাধারণ মানুষের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় এসেছে। এর আগের দিন নিউজ নেশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পুনরায় হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরান যদি তাকে হত্যার চেষ্টা করে তবে দেশটিকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে’।

ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের জবাবে ইরানের জেনারেল আবুলফজল শেকারচি জানিয়েছেন, তাদের সর্বোচ্চ নেতার ওপর কোনো ধরনের আঘাত আসার সামান্যতম ইঙ্গিত পাওয়া গেলে তারা কেবল আক্রমণকারীর হাত কেটে দেবেন না, বরং পুরো অঞ্চলে মার্কিনদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় অবশিষ্ট রাখবেন না। এই পাল্টাপাল্টি বাগযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং তারা ট্রাম্পকে হামলা না করার জন্য কূটনৈতিকভাবে চাপ দিচ্ছে।

সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইতিমধ্যে দক্ষিণ চীন সাগর পেরিয়ে মালাক্কা প্রণালী অতিক্রম করেছে। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, রণতরীটি এখন ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে এবং সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছাতে মাত্র কয়েক দিন সময় লাগবে।

যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এই রণতরী মোতায়েনের সুনির্দিষ্ট গন্তব্য নিয়ে মন্তব্য করেননি, তবে ভারত মহাসাগরে এর উপস্থিতি তেহরানের জন্য একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইরান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল, যা যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবেই ধরা হচ্ছে।

এদিকে অভ্যন্তরীণভাবেও ইরান এক ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটিতে এখন সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে, যেখানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং ২৬ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা এই মৃত্যুর জন্য বিদেশি মদতপুষ্ট ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করছেন এবং নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার বলে স্বীকার করেছেন।

এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং বাইরের সামরিক হুমকির দ্বিমুখী চাপে তেহরান এখন এক অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি বড় আকারের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা




মাস্কের কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করলো তার সন্তানের মা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইলন মাস্কের এআই কোম্পানি ‘এক্সএআই’-এর বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা দায়ের করেছেন তার (ইলন মাস্কের) ১৬ মাস বয়সী ছেলে রোমুলাসের মা অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার। লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যাশলি অভিযোগ করেছেন, মাস্কের চ্যাটবট ‘গ্রক’ ব্যবহার করে তার অত্যন্ত অবমাননাকর ও যৌন উত্তেজক ‘ডিপফেক’ ছবি তৈরি করা হয়েছে, যা তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। 

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর আইনি লড়াইয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা ইতিমধ্যেই মাস্কের কোম্পানিকে এই ধরনের অনৈতিক ও সম্ভাব্য অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের জন্য আইনি নোটিশ প্রদান করেছেন।

অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক সিটির একটি আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। তিনি জানান, গত বছর থেকে গ্রক দিয়ে তৈরি তার বিকৃত ছবিগুলো এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে তিনি বিষয়টি মাস্কের সংস্থাকে জানান। তবে প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ শুরুতে জানায় যে, ওই ছবিগুলো তাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করেনি।

পরবর্তীতে তার ছবি বিনা অনুমতিতে ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও উল্টো অ্যাশলির এক্স প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন এবং ভেরিফিকেশন মার্ক সরিয়ে দিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। অ্যাশলি বলেন, ‘গ্রক যেভাবে আমার কুরুচিপূর্ণ ছবি তৈরি ও প্রচার করছে, তাতে আমি এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মধ্যে আছি এবং আমার মানসিক যন্ত্রণা দিন দিন বাড়ছে।’

অন্যদিকে, এই মামলার প্রতিক্রিয়ায় ‘এক্সএআই’ পাল্টা মামলা করেছে টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালতে। তাদের দাবি, অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার ব্যবহারকারী চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছেন, কারণ ওই চুক্তিতে যেকোনো আইনি বিরোধ টেক্সাসের আদালতে মীমাংসা করার কথা উল্লেখ ছিল।

অ্যাশলির আইনজীবী ক্যারি গোল্ডবার্গ এই পাল্টা মামলাকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন তারা নিউ ইয়র্কেই এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও বলেন, নারীদের সম্মতি ছাড়াই তাদের যৌনতাপূর্ণ কৃত্রিম ছবি তৈরি করে এক্সএআই মূলত জননিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইলন মাস্কের এই এআই চ্যাটবটটি বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছে। যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ—যেমন ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও জাপান ইতিমধ্যেই গ্রক-এর ডিপফেক কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

শুক্রবার জাপানি কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, এ ধরনের আপত্তিকর ছবি তৈরি বন্ধে তারা এক্স-এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন। অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এটি কেবল তার একার লড়াই নয়; এটি মূলত সেইসব এআই সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়াই যা কোনো জবাবদিহি ছাড়াই নারী ও শিশুদের অপব্যবহার করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা




মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীকে বরখাস্ত ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ শিল্পমন্ত্রীর পদ থেকে ব্যবসায়ী অ্যালেক্স সাবকে বরখাস্ত করেছেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন  প্রেসিডেন্ট। সাব সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাবের বিরুদ্ধে মাদুরোর হয়ে অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) শিল্পমন্ত্রীর পদ থেকে ব্যবসায়ী অ্যালেক্স সাবকে বরখাস্ত করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়কে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একীভূত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া ভেনেজুয়েলান নাগরিক সাবকে ‘তার সেবার’ প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও তাকে ধন্যবাদ জানান। রদ্রিগেজ বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

মূলত, ওয়াশিংটনের চাপের মধ্যেই এই পরিবর্তন এলো বলে মনে হচ্ছে।

গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক অভিযানে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের রদবদল হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে মুক্তি পাওয়া সাবকে ২০২৪ সালে মাদুরো তাকে শিল্পমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন।

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত সাবকে গত ২০২০ সালে দ্বীপ রাষ্ট্র কেপ ভার্দেতে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার বিমানে জ্বালানি নেওয়া হচ্ছিল।

ইন্টারপোলের নোটিশের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মাদুরোর হয়ে অর্থপাচারের অভিযোগ ছিল।

পরবর্তীতে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়, যেখানে সাব ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার আলভারো পুলিদোর বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করা হয়।

মুক্তি পাওয়ার পর কারাকাসে সাবকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি দেশের শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আটক হওয়ার পর থেকে ডেলসি রদ্রিগেজ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনছেন। সাবের বরখাস্ত সেই ধারাবাহিক পরিবর্তনেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র : এএফপি।




ইরানের চাবাহার বন্দর নিয়ে চাপে ভারত, ট্রাম্পকে মানাতে তৎপর দিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ ও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে জড়িত দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও ভারত তার অবস্থানে অনড় রয়েছে। 

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে দিল্লির এই অনমনীয় অবস্থানের কথা উঠে এসেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, চাবাহার বন্দর ভারতের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে অপরিহার্য এবং এই প্রকল্প থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ তাদের নেই।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন যে, চাবাহার বন্দরে উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখতে তারা নিয়মিতভাবে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। গত বছরের ২৮ অক্টোবর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এই প্রকল্পের জন্য যে শর্তসাপেক্ষ নিষেধাজ্ঞা ছাড় দিয়েছিল, তার মেয়াদ আগামী ২৬ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। নয়াদিল্লি এখন এই ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভারতের কাছে চাবাহার কেবল একটি বন্দর নয়, বরং পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর একমাত্র বিকল্প পশ্চিমা করিডর। এছাড়া এটি ৭ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডরের (আইএনএসটিসি) একটি প্রধান সংযোগস্থল, যা সুয়েজ খালের তুলনায় পণ্য পরিবহনের সময় অন্তত ১৫ দিন কমিয়ে আনবে।

২০২৪ সালে ভারত ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১০ বছরের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত এই বন্দরে ৩৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে ১২০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করেছে ভারত সরকারের মালিকানাধীন ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (আইপিজিএল)।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভারত সরকার একটি নতুন কৌশল অবলম্বনের কথা ভাবছে। সূত্রমতে, ভারত এই প্রকল্পে সরাসরি সরকারি সংশ্লিষ্টতা কমিয়ে একটি স্বতন্ত্র বা স্বাধীন সত্তা তৈরির পরিকল্পনা করছে, যাতে ভারত সরকারের ওপর সরাসরি কোনো দায় বা ঝুঁকি না আসে কিন্তু উন্নয়নকাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, দেশটির ওপর এর প্রভাব হবে ‘সামান্য’। গত বছর ভারত ও ইরানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.৬ বিলিয়ন ডলার, যা ভারতের বিশাল অর্থনীতির তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

ভারত এখন ওয়াশিংটনকে এটি বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, চাবাহার বন্দর কেবল ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ নয়, বরং আফগানিস্তানের মানবিক সহায়তা এবং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে ভারত এই স্থিতিশীল বাণিজ্য পথটি যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে মরিয়া।

সূত্র: এনডিটিভি




ইরানকে যে কারণে ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে গ্রেফতার হওয়া শত শত বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা বাতিল করায় দেশটির নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি ইরানের নেতৃত্বের প্রতি অত্যন্ত সম্মান জানাই, যারা সব নির্ধারিত ফাঁসিকে বাতিল করেছেন, যা গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ধন্যবাদ!”

ট্রাম্প আরও বলেন,‘উপসাগরীয় কোনো দেশ বা ইসরায়েল আমাকে হামলা থেকে বিরত রেখেছে—এমন মন্তব্য সঠিক নয়; কেউ আমাকে বোঝায়নি; আমি নিজেই নিজেকে বুঝিয়েছি।’

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কারও ফাঁসি হয়নি। তারা ফাঁসি বাতিল করেছে। এটি আমার উপর বড় প্রভাব ফেলেছে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস জানায়, টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ইরানি কর্তৃপক্ষ ৮০০টি নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড ‘স্থগিত’ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতি “সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ” করছে।

ট্রাম্প বারবার ইরানের বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। তার ভাষায়, কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়নে সেখানে হাজারো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার তিনি ইরানি বিক্ষোভকারীদের ‘বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে ও প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিতে’ আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘সহায়তা আসছে।’

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর হলে তেহরানকে ‘খুব কঠোর পদক্ষেপের’ মুখে পড়তে হবে।

অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ ও ‘সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে এসবের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে প্রাণঘাতী ও সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয় । তবে হতাহত বা আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড




গ্রিনল্যান্ড দখল করলে ন্যাটোর অবসান হবে: ডেনমার্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে যে উত্তেজনা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে, তা শুধু একটি দ্বীপের ভবিষ্যৎ নয় বরং উত্তর আটলান্টিক জোট ন্যাটোর ঐক্য, পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির সীমারেখা নিয়েই এক গভীর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন সতর্ক করে বলেছেন, ডেনমার্কের সম্মতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তা হবে উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটোর শেষ।

ন্যাটো গঠিত হয়েছে একটি মৌলিক নীতির ওপর তা হলো, এক সদস্যের ওপর আক্রমণ মানেই সকল সদস্যের ওপর আক্রমণ। সেই জোটের ভেতরেই যদি একটি শক্তিধর রাষ্ট্র তার মিত্র দেশের ভূখণ্ড দখলের চিন্তা করে, তাহলে ন্যাটোর নৈতিক ও কৌশলগত ভিত্তিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং রাশিয়া ও চীন যেন সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে জন্য দ্বীপটির মালিকানা ওয়াশিংটনের হাতে থাকা জরুরি।

আর্কটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে রাসমুসেন স্পষ্টভাবে চীনের প্রভাব থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘প্রায় এক দশক ধরে আমরা সেখানে কোনো চীনা যুদ্ধজাহাজ দেখিনি। গ্রিনল্যান্ডে চীনের কোনো বিনিয়োগই নেই।’

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণ স্বাধীনতা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে যাওয়ার পক্ষে নয়। এর অন্যতম কারণ হলো তারা ডেনিশ রাষ্ট্রের মাধ্যমে বিস্তৃত সামাজিক সুবিধা পেয়ে থাকে।

রাসমুসেন বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি মনে করি না যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কল্যাণ ব্যবস্থার খরচ বহন করবে।’

তবে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া সত্ত্বেও তিনি জানিয়েছেন, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র একটি উচ্চপর্যায়ের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে। এই গ্রুপের কাজ হবে, কীভাবে ডেনমার্ক রাজ্যের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা যায় এবং একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে মোকাবিলা করা যায়।

আর্কটিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডেনমার্ক ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে। অঞ্চলটি যেনো কোনো উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় পরিণত না হয় সেজন্য আর্কটিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গত বছর প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি