১৪১ যাত্রীসহ বজ্রপাতের কবলে ইন্ডিগোর বিমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কলকাতা বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো শুক্রবার সকালে। আচমকা বজ্রপাতের কবলে পড়ে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের আগরতলাগামী একটি বিমান। প্রবল বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটায় বিমানবন্দরের কর্মী ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কলকাতা বিমানবন্দরের ৫৬এল অ্যারোব্রিজে দাঁড়িয়ে ছিল ইন্ডিগোর ফ্লাইট ৬ই ৬০৬৪ (ভিটি-আইপিডব্লিউ)। ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রচণ্ড বজ্রপাতে কেঁপে ওঠে বিমানটি। মূলত বজ্রপাতের জেরে বিমানের মূল বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড়সড় বিভ্রাট দেখা দেয় এবং বিমানের ভেতরে হঠাৎ করেই সব আলো ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম নিভে গিয়ে অন্ধকার নেমে আসে।

ঘটনার সময় বিমানটিতে মোট ১৪১ জন যাত্রী এবং ছয়জন ক্রু সদস্য ছিলেন। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনো যাত্রী আহত হননি। তবে বজ্রপাতের তীব্রতায় বিমানের ভেতরের ইলেকট্রনিক সিস্টেম পুরোপুরি অচল হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তড়িঘড়ি বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়। জানা গেছে, বজ্রপাতের প্রভাব সরাসরি বিমানের বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোর ওপর পড়ায় পাইলট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীরা তৎক্ষণাৎ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

এদিকে, এই ঘটনায় বিমানের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি দুই গ্রাউন্ড স্টাফও সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাদের তড়িঘড়ি চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে দ্রুত মেডিকেল পরীক্ষার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের তরফে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার পর শেষ পর্যন্ত অন্য একটি এয়ারবাস এ৩২১ (ভিটি-আইসিডি) বিমানে করে যাত্রীদের আগরতলার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। যাত্রীরা দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ কলকাতার আকাশ ছাড়েন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় নাগাড়ে বৃষ্টি আর বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝোড়ো হাওয়া বইছিল। বিমানবন্দরের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (এওসিসি) থেকেও আগেভাগেই দুর্যোগের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এই খারাপ আবহাওয়ার জেরেই কলকাতা বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কাজকর্মও বেশ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।




৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালিকে টোলমুক্ত রাখছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আগামী ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে কোনো ফি আদায় করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়। 

দেশটির আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা মেহেরের প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য আবেদনকারী জাহাজগুলোকে আগামী ৬০ দিন বিনা খরচে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে পারস্য উপসাগর জলপথ কর্তৃপক্ষকে আবেদনগুলো দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা যায়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশেষ পরিস্থিতি এবং নৌপথে বিদ্যমান কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজগুলোকে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি অনুসরণ করে চলাচল করতে হবে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। 

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় কারিগরি নির্দেশনা ও পরিচালনাগত তথ্য শিগগিরই প্রকাশ করবে পারস্য উপসাগর জলপথ কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদের আওতায় মাইন অপসারণসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।




ইরান যুদ্ধে হেরে গেছেন ট্রাম্প: নিউইয়র্ক টাইমস

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় চার মাসব্যাপী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চুক্তির প্রাথমিক যে রূপরেখা এসেছে, তা স্বাগত জানানো হলেও এর মধ্য দিয়ে বেশ কিছু কঠিন বাস্তবতা সামনে এসেছে।

এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক- তিন ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চাপে পড়েছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে ওয়াশিংটনকে।

সমালোচকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বড় ধরনের কৌশলগত ভুল ছিল। তারা বলছেন, আইনগত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিচালিত এই অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ হয়নি। তবে ঘোষিত রূপরেখা অনুযায়ী, ট্রাম্প যে কঠোর শর্তগুলো আদায়ের কথা বলেছিলেন, তার বড় অংশই বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি আপসের সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প বারবার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জন করবে এবং ইরানকে ‘শর্তহীন আত্মসমর্পণ’ করতে হবে। তিনি ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন। পাশাপাশি দাবি করেছিলেন, ইরানকে কোনওভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হবে না এবং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে।

তবে যুদ্ধ শেষে দেখা যাচ্ছে, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো এখনও টিকে আছে। পারমাণবিক ইস্যুতে আগামী দুই মাস ধরে আলোচনার কথা থাকলেও বর্তমান চিত্রে এটি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির কাছাকাছি কোনও সমঝোতায় গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা ওই চুক্তিকে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ২০১৮ সালে বাতিল করেছিলেন। তিনি এটিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে চুক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, ওই চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দিচ্ছে এবং দেশটিকে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহযোগিতা বন্ধ করতে বাধ্য করছে না। কিন্তু সামরিক সংঘাতের পর এখন প্রায় একই ধরনের সমঝোতার পথে যেতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে।

হরমুজ প্রণালী: ট্রাম্পের একমাত্র বড় সাফল্য?
যুদ্ধবিরতির রূপরেখায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমতে পারে এবং তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া। ইরান বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি এবং যুক্তরাষ্ট্রকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করেছিল। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তেহরান দেখিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় তাদের এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।

ইরানের ক্ষয়ক্ষতি, তবে কৌশলগত সুবিধা
চার মাসের যুদ্ধে ইরানও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। দেশটির সামরিক অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যুদ্ধ শেষে ইরান নিজেদের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো পুনর্গঠনের সুযোগ পেয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের দীর্ঘদিনের সংকটগুলোও এখনও রয়ে গেছে। অর্থনৈতিক দুরবস্থা, মুদ্রার মূল্যহ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ দেশটিকে দুর্বল অবস্থায় রেখেছে। তবে যুদ্ধের আগে যে কূটনৈতিক অবস্থান ছিল না, সংঘাতের পর ইরান সেটি ফিরে পেয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ইরান দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের চাপের মধ্যেও তারা টিকে থাকতে পারে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সক্ষমতাও তারা প্রমাণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিতে ধাক্কা
এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিপুল সামরিক শক্তি, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি।

এতে বিশ্বের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রভাব নিয়ে নতুন হিসাব তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি সামরিক কৌশল ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নও জরুরি হয়ে পড়েছে।

যুদ্ধের আগে দুর্বল ছিল ইরান
যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে ছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। ইসরায়েলের অভিযানে হামাস ও ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়ে। সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত সরকারও পতনের মুখে পড়ে।

এছাড়া ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ এবং অর্থনৈতিক সংকট দেশটিকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছিল। কিন্তু যুদ্ধের পর ইরান নতুন করে দর-কষাকষির অবস্থানে ফিরেছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- ভবিষ্যতে যদি ইরান আবার হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দেয়, তখন যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে? সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস




চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, উদ্বিগ্ন ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টিরোল ফাইটার জেট ক্রয়ের সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার আকাশসীমায় এক বিশাল কৌশলগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তিটিকে নয়াদিল্লি কেবল একটি সাধারণ সামরিক কেনাকাটা হিসেবে দেখছে না, বরং এটিকে ভারতের চারপাশে চীনের সামরিক বেষ্টনী বা ‘কৌশলগত ঘেরাও’-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের আলোচনাকে গতিশীল করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারও এই প্রতিরক্ষা নীতি সচল রেখেছে। এই চুক্তি ঢাকা ও বেইজিংয়ের সামরিক সম্পর্ককে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, যা ভারতের পূর্ব সীমান্তে নতুন নিরাপত্তা সমীকরণ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে এই চুক্তিটি করা হচ্ছে। বিমান বাহিনীর বর্তমান বহরে থাকা পুরোনো এফ-৭ এবং সীমিত সংখ্যক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান পরিবর্তন করে আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এই আধুনিক ফাইটার জেটগুলো অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।

প্রায় ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই চুক্তিটির অর্থ আগামী ১০ বছরের সহজ কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। এর ফলে জাতীয় রাজস্বের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো বড় চাপ ছাড়াই বাংলাদেশ তার সামরিক বাহিনীকে আধুনিক করার সুযোগ পাচ্ছে। ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ফাইটার জেটগুলো বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই প্যাকেজের আওতায় শুধু যুদ্ধবিমানই নয়, বরং লজিস্টিকস, পাইলট ও ক্রু ট্রেনিং, দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নত যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করবে চীন, যা দুই দেশের সামরিক নির্ভরতাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করবে।

বাংলাদেশের এই সামরিক আধুনিকায়ন ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করেছে সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা সামরিক পরিভাষায় ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। ভারতের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের আশঙ্কা, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় বিমান ঘাঁটিগুলোতে এই আধুনিক চীনা ফাইটার জেট মোতায়েন করা হলে তা শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তার জন্য বড় মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করবে। ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান ইতিপূর্বেই চীন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্ভাব্য ‘স্বার্থের মিলন’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, যা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা নীতিকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে।

‘অপারেশন সিন্দুর’ এবং জে-১০সিই-এর যুদ্ধক্ষমতা

জে-১০সিই মূলত একটি ৪.৫ প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত সংক্ষিপ্ত আকাশযুদ্ধ ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর জে-১০সি ফাইটার জেটের দুর্দান্ত কার্যকারিতা প্রদর্শনের পর এই বিমানের প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ, বিশেষ করে বাংলাদেশের আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যায়।

এই ফাইটার জেটটি অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে রাডারে সজ্জিত, যা একসাথে একাধিক লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে এবং শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া বিমানটি চীনের তৈরি দূরপাল্লার বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল ‘পিএল-১৫’ ছুঁড়তে সক্ষম, যা যেকোনো আধুনিক পশ্চিমা বা রুশ বিমানকে আকাশযুদ্ধে বড় চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। উন্নত ডেটা লিংক এবং এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের মাধ্যমে এটি যুদ্ধক্ষেত্রে নিখুঁত নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক সমন্বয় তৈরি করতে সক্ষম।

বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক টানাপোড়েন

বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের ৭০ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করে চীন। সাবমেরিন, ট্যাংক, মিসাইল সিস্টেম এবং যুদ্ধজাহাজের পর এবার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ইকোসিস্টেমে চীনের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা এসেছে।

ট্রানজিট, বাণিজ্য, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতে যখন দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের কূটনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই চীনের সাথে এই মেগা চুক্তি বেইজিংয়ের প্রতি ঢাকার কৌশলগত ঝুঁকে পড়াকেই নির্দেশ করে। যদিও বেইজিংয়ের সাথে এই চুক্তিকে বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে এবং ভারতের বিরুদ্ধে কোনো জোটে শামিল হওয়া এর উদ্দেশ্য নয় বলে মনে করে ঢাকা।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিযোগিতামূলক নিরাপত্তার নতুন যুগ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য এবং সীমান্ত সুরক্ষায় পারস্পরিক নির্ভরতা থাকার কারণে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে সম্পর্কের ধরনটি আগের ‘বিশেষ বন্ধুত্ব’ থেকে বদলে গিয়ে এখন অনেকটাই আনুষ্ঠানিক, সতর্কতামূলক ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট রূপ নিতে যাচ্ছে। ২০টি জে-১০সিই ফাইটার জেট ক্রয়ের এই সিদ্ধান্ত কেবল বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং এটি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে চীনের ভূরাজনৈতিক প্রভাবকে আরও দৃশ্যমান করবে। এর ফলে, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন একটি নতুন এবং অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক যুগে পদার্পণ করছে, যেখানে প্রতিটি দেশের সামরিক সিদ্ধান্তই আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যকে পুনর্নির্ধারণ করছে।




হরমুজ প্রণালিতে দুই মাসে সর্বোচ্চ জাহাজ চলাচল, স্বস্তির ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দুই মাসের মধ্যে এই নৌপথে এখন সর্বোচ্চ বাণিজ্যিক জাহাজ পারাপার দেখা গেছে।

সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা এএক্সএসমেরিন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার এই প্রণালি দিয়ে ২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে। গত ১৮ এপ্রিলের পর কোনো এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। জুনের প্রথম ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৭.৬টি জাহাজ চলাচল করেছিল। সেই তুলনায় এই সংখ্যা পাঁচ গুণের বেশি।

এই বৃদ্ধি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতার পর। চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত আলোচনাটি স্থগিত হওয়ার আগেই এই জাহাজ চলাচল বাড়তে শুরু করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতের সময় ইরান কার্যত এই প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এ সময় জাহাজে একাধিক হামলার ঘটনাও ঘটে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বাড়ে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়।

যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করত। শান্তিকালে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। ৫০০টির বেশি জাহাজ ও প্রায় ১১ হাজার নাবিক এখনো উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে আছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ও পরিবহন খাত প্রথমে এই উন্নতির সুফল পাবে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।




পুশ-ইন বন্ধে বাংলাদেশ–ভারতকে আলোচনায় বসার আহ্বান জাতিসংঘের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সীমান্তে পুশ-ইনের কারণে শূন্যরেখায় অবস্থানরত মানুষের মানবাধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা অপরিহার্য বলে মনে করে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিবের পক্ষে অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আলোচনার আহ্বান জানান।

এদিন সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাওয়া হয়, সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত নারী ও শিশুরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের অবস্থান কী?

জবাবে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, সীমান্তে অবস্থানরত মানুষের মানবাধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উভয় পক্ষকে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে ‘পুশইন’ ইস্যু নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পরিচয় যাচাই ছাড়াই কিছু মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে, যাদের অনেকেই সীমান্ত এলাকায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।




লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় দিন দিন প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩৯১২ জন মারা গেছেন। এছাড়াও ইসরায়েলি হামলায় ১১ হাজার ৮৭৩ জন আহত এবং ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের সর্বশেষ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শত শত শিশু, নারী এবং স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন।

এদিকে, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আগামীকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং কামান থেকে দক্ষিণ লেবাননের শহরগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র : আল-জাজিরা।




ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা ঠিক হয়নি: ইসরায়েলি কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা আসলেই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল কি না, তা নিয়ে খোদ ইসরায়েলের ভেতরেই তীব্র বিতর্ক ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দেশটির একজন শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, যুদ্ধের রাজনৈতিক পরিণতি যদি আগে থেকে জানা থাকত, তবে এই অভিযান শুরু করার বিষয়টি অত্যন্ত সন্দেহজনক হতো। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘আই-২৪ নিউজ’-এ দেওয়া ওই কর্মকর্তার এমন বক্তব্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে ক্ষোভ ও সমালোচনা তীব্র হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এটাই ইসরায়েলের জন্য বড় কৌশলগত পরাজয়। দেশটির প্রবীণ সামরিক সাংবাদিক অ্যালন বেন ডেভিড এই চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য একটি ‘নাটকীয় ও সুদূরপ্রসারী’ ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আগামী প্রজন্মের ওপর প্রভাব ফেলবে।

তবে ঘরে-বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নস্যাৎ করা এবং ইসরায়েলকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করাই ছিল তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের ওই ১২ দিনের অভিযানের মাধ্যমে ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে একটি নিশ্চিত পারমাণবিক হুমকি থেকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে এবং এই অঞ্চলে হুমকি মোকাবিলায় তাঁর সরকার কাজ চালিয়ে যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরও সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ কমেনি। অনেকেই মনে করছেন, এই ব্যয়বহুল ও অনিষ্পন্ন যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত তেহরানকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।




ভিয়েতনামে মাংসের জন্য চুরি করা ৪০০-এর বেশি বিড়াল উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভিয়েতনামে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে চুরি করা ৪০০-এরও বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেই সাথে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিড়াল চুরির সাথে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দেশটির একটি প্রাণীকল্যাণ সংস্থা এই তথ্য জানায়।

হো চি মিন সিটি পুলিশের তথ্য অনুসারে, গত সপ্তাহে তায় নিনহ প্রদেশ ও হো চি মিন সিটির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৪০০-এর বেশি জীবিত বিড়াল এবং প্রায় ৮০টি হিমায়িত বিড়ালের দেহ উদ্ধার করে। এ ছাড়া আরও ২১টি বিড়াল আলাদা একটি জায়গা থেকে জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিড়াল চুরি ও সংগ্রহে দক্ষ এই চক্রের ৯ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা তিন বছর ধরে দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিড়াল ধরে এনে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে আসছিল। প্রতি দুই-তিন দিন অন্তর তারা চুরির মালামাল সংরক্ষণ কেন্দ্রে রেখে বিক্রি করত।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, হো চি মিন সিটিতে একের পর এক পোষা প্রাণী চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে ১১ জুন পুলিশ এই চক্রের সন্ধান পায়। বর্তমানে তদন্ত চলছে। যাদের বিড়াল চুরি হয়েছে, তাদের উদ্ধার করা প্রাণী শনাক্ত করতে সরাসরি আসার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

প্রাণীকল্যাণ সংস্থা হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেলস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিড়ালগুলোর মধ্যে প্রায় ৪০টিকে ইতিমধ্যে তাদের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে চুরি ও বন্দিদশার কারণে কয়েকটি বিড়াল পরে মারা গেছে। যেগুলো এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে, সেগুলোকে নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যা দেওয়া হচ্ছে।

ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া আইনত বৈধ। তবে বিক্রেতাদের অনুমতিপত্র নিতে হয় এবং প্রাণীগুলো কোথা থেকে আসছে তা উল্লেখ করতে হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুসারে, দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ কুকুর এবং ১০ লাখ বিড়াল মাংসের জন্য ধরা, চুরি ও পাচার হয়।

চুরির সময় কুকুর ধরতে বিষ মেশানো ফাঁদ, টেজার কিংবা লোহার চিমটি ব্যবহার করা হয়। আর বিড়ালের ক্ষেত্রে স্প্রিংযুক্ত ফাঁদের আশ্রয় নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও পোষা প্রাণীর মালিকদের মধ্যে এই প্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ছে। ২০২৩ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মানুষ কুকুর-বিড়ালের মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

পুলিশের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে প্রাণীকল্যাণ সংস্থাগুলো।

সূত্র: বিবিসি




আমিই বস, ম্যাক্রোঁ-মেলোনিদের সামনে ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফ্রান্সে জি৭ শীর্ষবৈঠকে বসে নিজেকে বস ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এ সময় জি৭-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রধানরা সকলেই সেখানে ছিলেন।

বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তা বিষয়ক একটি অধিবেশনের আয়োজন করা হয় ফ্রান্সে। তাতে যোগ দিতে এসে সাংবাদিক এবং রাষ্ট্রনেতাদের সামনে ট্রাম্প বলেন, “আমিই বস।”

তবে কিসের প্রেক্ষিতে তার এই মন্তব্য, তা খোলসা করেননি। উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারাও কেউ তার কোনও প্রতিবাদ করেননি। বরং, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে এত দিন যে, ইউরোপের নেতারা ট্রাম্পের সমালোচনা করছিলেন, তারাও এবার সুর নরম করেছেন।

ট্রাম্পের ঘোষণার সময় অধিবেশন কক্ষে ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিরা।

১৫ জুন থেকে ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলন শুরু হয়। তা চলবে ১৭ জুন, বুধবার পর্যন্ত। ইতোমধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠক হয়েছে। জি৭ সদস্যরাষ্ট্রগুলো একটি যৌথ বিবৃতিও দিয়েছে। বুধবারের অধিবেশনের আলোচ্য বিষয় ছিল দুষ্প্রাপ্য খনিজ এবং অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতা। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধের বিষয়েও জি৭ বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তার পরেই নিজেকে ‘বস‌’ বলে ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। তাতে মৃত্যু হয় সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির। তারপর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র হয়েছে। ওই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে গিয়েছে ইরান। সেই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালীতে পণ্য পরিবহণেও বাধা সৃষ্টি করে। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার এই আগ্রাসী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছিল ইউরোপের একাধিক দেশ।

হরমুজ খোলার বিষয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প তাদের সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু ইউরোপের বেশির ভাগ শক্তিধর দেশই পিছিয়ে গিয়েছিল। ট্রাম্পও প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বারবার। জি৭ বৈঠকে তার বিপরীত চিত্র দেখা গেল। এমনকি, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎজ মঙ্গলবার ট্রাম্পকে একটি ফুটবল জার্সি উপহার দেন। জার্সির নম্বর ছিল ৪৭।

ইউরোপের এই সুর বদলের নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের ইরান চুক্তিই। সময় বদলেছে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা সমঝোতার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে রবিবার। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধে আমেরিকার নীতি নিয়েও ইউরোপে ক্ষোভ ছিল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলাদা করে ট্রাম্পের বৈঠক না-হলেও জি৭ শীর্ষবৈঠকে তিনি ছিলেন। সেখানে অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল রাশিয়া। এই সংঘাতে আগের চেয়ে ইউক্রেনের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে বলে মেনে নিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারা।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বৈঠকের পর বলেন, ‘‘আমেরিকা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান বদলেছে। রাশিয়ার প্রতি তাদের অবস্থান কঠোর হয়েছে। আমার মতে, তা যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।” সূত্র: রয়টার্স