ইরান যুদ্ধ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জ্বালানি খাতে ঝুঁকি এনে দিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : টানা কয়েক মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার(আইইএ)। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংস্থাটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্রুত জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য না আনলে এ অঞ্চলে শত শত কোটি ডলার ক্ষতি হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনটিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। যা এর জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি ‘কঠোর সতর্কবার্তা’।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্রমবর্ধমান বিক্রি, পারমাণবিক শক্তির প্রতি নতুন করে আগ্রহ এবং ছাদের ওপর সৌর ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপনের ব্যাপক প্রসারের পর এটাই প্রমাণ করে, ইরান যুদ্ধ পরিবর্তনের প্রেরণা যোগাচ্ছে। এক্ষেত্রে আরও সংস্কার প্রয়োজন।

অন্যথায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জ্বালানি আমদানির বিল ২০৩৪ সালের ৮০ বিলিয়ন ডলার থেকে তিনগুণ বেড়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

আইইএ-র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, জ্বালানির উৎস ও সরবরাহ পথের বৈচিত্র্য আনা এখন একটি প্রধান অগ্রাধিকার। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে জ্বালানি সংকট মোকাবেলার এক কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে, যার ফলে জ্বালানির বিল বেড়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

আইইএ বলেছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমানোর প্রচেষ্টার জন্য এটি একটি সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা এবং এই সংঘাত জ্বালানি সংকটের সময়ে কয়লার ওপর নির্ভর করার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরদার করেছে।

প্রতিবেদনে ইরান যুদ্ধের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পারমাণবিক শক্তির পরিকল্পনাকেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এর নির্মাণ ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া এখনও বহু বছরের। ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম এবং ফিলিপাইন পারমাণবিক শক্তি পরিকল্পনায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু তাদের সময়সীমা অনিশ্চিত।

সিঙ্গাপুরে অবস্থিত আইইএ আঞ্চলিক সহযোগিতা কেন্দ্রের প্রধান সু-আর্ন ট্যান বলেন, এই জ্বালানি সংকট শুধু স্বল্পমেয়াদী প্রতিক্রিয়াই নয়, বরং সরকারগুলোর নীতিগত অগ্রাধিকার এবং বিনিয়োগ কৌশলের একটি গভীর পুনর্মূল্যায়নের দিকেও চালিত করছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল অ্যানালাইসিস-এর স্যাম রেনল্ডস বলেন, আইইএ-এর প্রতিবেদনটিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বলে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। রেনল্ডস বলেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করার জন্য অস্থায়ী চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও জীবাশ্ম জ্বালানির দাম সম্ভবত বেশিই থাকবে, যার অর্থ হলো আমরা আরও উচ্চাভিলাষী পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের দিকে একটি প্রবণতা দেখতে পাব।

আইইএ বলেছে, নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির সামগ্রিক চাহিদা কমাতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডগুলোকে আরও কার্যকর করা এবং সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ ও ভূতাপীয় শক্তির মতো সব ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

আইইএ ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস পাওয়ার গ্রিড’-এর মতো আঞ্চলিক জ্বালানি ভাগাভাগির উদ্যোগগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও সুপারিশ করেছে। বিরোল বলেন, এই জ্বালানি সংকট থেকে পাওয়া সতর্কবার্তা আশা করা যায় প্রতিবেশী দেশগুলোকে সেই রাজনৈতিক বাধাগুলো কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে যা এই প্রকল্পটিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতটি একদিকে যেমন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বর্তমান জ্বালানি ব্যবস্থার একটি কঠিন পরীক্ষা, তেমনি এটি কাঠামোগত পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করার একটি অনুঘটকও।

সূত্র: এএফপি।




চুক্তি চূড়ান্ত করতে রুশ-চীনের প্রতিনিধিদের বৈঠক তেহরানের

চলমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি খসড়া প্রস্তাবের ‘সবশেষ অগ্রগতি’ নিয়ে তেহরানে রুশ ও চীনা রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। দেশটির স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি (আইএসএনএ) গরিবাবাদির একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বৈঠকে ইসলামাবাদে খসড়া সমঝোতা স্মারক সম্পর্কিত সবশেষ অগ্রগতি নিয়ে মতামত বিনিময় ও আলোচনা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান, চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং এই তিন দেশের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, যার সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী প্রকাশ্যে প্রকাশ করা হয়নি।

গত মাসে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তার ইরানি প্রতিপক্ষের বেইজিং সফরের পর চলমান আলোচনাকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দেন। এদিকে ক্রেমলিন মার্কিন সৈন্য ও সরঞ্জামের অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে ইরানের ইরানের সংসদ স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বিজয় না আসা পর্যন্ত তেহরান দৃঢ় থাকবে বলে জানিয়েছেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং তেহরান তার অবস্থানে অটল থাকবে বলে অঙ্গীকার করেছেন। এক বিবৃতিতে গালিবফ বলেছেন, তারা নিরীহ শিশুদের হত্যা করেছে এবং কোনো অপরাধ বা নিষ্ঠুরতা থেকে বিরত থাকেনি।

তিনি আরও বলেন, ১২ দিনের যুদ্ধের বীর ও নির্যাতিত শহীদদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, আমরা আমাদের প্রিয় ইরানের গৌরব ও চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য শেষ পর্যন্ত দৃঢ়ভাবে পাশে থাকব।

সূত্র: সিএনএন, আলজাজিরা।




যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক বা শান্তি চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তা স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনে দুই দেশ চুক্তির খুব কাছে পৌঁছে গেছে বলে যে দাবি উঠেছে, তাকে আপাতত ‘গুঞ্জন’ বলেই অভিহিত করেছেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার যে প্রক্রিয়া চলছে, তা এখনো চূড়ান্ত কোনো পরিণতির দিকে যায়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা বা খবর প্রচার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সব তথ্য উপযুক্ত সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হবে।” অর্থাৎ, গণমাধ্যমে চুক্তির ধারা বা শর্তাবলি নিয়ে যেসব তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলোকে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেননি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর মধ্যে গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকবার সংঘাতের ঘটনা ঘটলেও, দুই দেশ কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হলেও, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে আলোচনার বর্তমান ধীরগতি ও সতর্ক অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে কোনো প্রকার আপস করার আগে বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে শর্তসাপেক্ষে (পারফরম্যান্স-ভিত্তিক) এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে। আব্বাস আরাগচির এই কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে ইরান মূলত বোঝাতে চেয়েছে যে, তারা চাপের মুখে বা তড়িঘড়ি করে কোনো চুক্তি করতে রাজি নয়।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে, শান্তি চুক্তির বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের কূটনৈতিক দরকষাকষি যে এখনও অনেক দূর বাকি—ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য তারই প্রমাণ। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো দাবিকে নির্ভরযোগ্য মনে না করার আহ্বানই জানিয়েছেন তিনি।




হরমুজ দিয়ে ১০ কোটি ব্যারেল তেল নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র, বাস্তবতা কী বলে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘গোপনে লাখ লাখ ব্যারেল’ তেল পরিবহন করে নিয়ে গেছে, যা তেলের বৈশ্বিক দামে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে এই জলপথ দিয়ে তেল সরিয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে এনেছি, কেউ কিছু টের পায়নি।”

তিনি আরও দাবি করেন, এই গোপন অভিযানের কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে, যা যুদ্ধের শুরুতে ১০০ ডলারের ওপরে ছিল।

বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহিত হয় এই সরু ও কৌশলগত জলপথ দিয়ে। চলমান সংঘাতের কারণে মার্চের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ইরান ঘোষণা দেয়, তারা কোনও জাহাজকে এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে না। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধু রাষ্ট্রের’ জাহাজের জন্য সীমিত অনুমতি দেওয়া হয়, তবে শর্ত থাকে যে, তাদের ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে।

এপ্রিলের ১৩ তারিখে, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পাঁচ দিন পর, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দর লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ আরোপ করে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের টানাপোড়েনের মধ্যে খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজই প্রণালীটি পার হতে সক্ষম হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে- যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই ইরানের অনুমতি ছাড়া এই জলপথ দিয়ে কোটি কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পেরেছে?

ট্রাম্প কী দাবি করেছেন?
ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ‘২২টি জাহাজ রাতে আলো নিভিয়ে পার করা হয়েছে’, কারণ ইরানের রাডার ব্যবস্থা নাকি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তিনি এই ‘গোপন মিশন’ প্রকাশ করছেন কারণ তেহরান বিষয়টি বুঝে ফেলেছে।

পরবর্তীতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে তিনি লেখেন, গত মাসে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেলবাহী জাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘গোপন অভিযান’ পরিচালনা করতে।

তার দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানের ফলে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “২০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে প্রণালী পার হয়েছে। এখন হরমুজ প্রণালী যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, ইরানের নয়।”

তিনি ইরানের সামরিক শক্তিকে ‘পরাজিত’ ও তাদের অর্থনীতিকে ‘ধ্বংসপ্রায়’ বলেও মন্তব্য করেন।

তবে একই দিনে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট কংগ্রেস শুনানিতে জানান, তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনও বৃহৎ তেল পরিবহনের বিষয়ে অবগত নন। তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন সেনাবাহিনী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন, এসব জাহাজ ইরানি নয়।

গালফ অঞ্চলের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশ এই প্রণালী ব্যবহার করে তাদের তেল রফতানি করে।

বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র কি এই তেল সরাতে পেরেছে?
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ট্রাম্পের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১০ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে পাঁচ দিনের সমুদ্রপথ বাণিজ্যের সমান। যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে দৈনিক প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবাহিত হতো।

সেই হিসেবে, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মোট সম্ভাব্য পরিবহনযোগ্য তেল প্রায় ২০০ কোটি ব্যারেল হওয়ার কথা ছিল, যদি স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকত।

এছাড়া যুদ্ধপূর্ব দৈনিক প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করতো। সেই হিসাবে পাঁচ দিনের স্বাভাবিক ট্রাফিকেই প্রায় ৭০০টি জাহাজ পার হওয়ার কথা।

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ট্র্যাকিং ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যেও বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, গত পাঁচ সপ্তাহে প্রায় ৮০টি বাণিজ্যিক জাহাজ উপসাগর ত্যাগ করেছে। লয়েড’স লিস্ট বলছে সংখ্যা ১৪২টি, আর কেপলার জানিয়েছে সর্বোচ্চ ২৬৪টি জাহাজ পারাপার হয়েছে।

তবে এসব সংখ্যাও ট্রাম্পের দাবি করা ১০ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহনের সমর্থনে যথেষ্ট নয় বলে বিশ্লেষকদের মত।

অনেক জাহাজই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে  (আইআরজিসি) কর প্রদান করে- প্রণালী পার হয়েছে। কিছু জাহাজ চীনা মুদ্রা ইউয়ানেও অর্থ পরিশোধ করেছে বলে জানা গেছে।

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার নিয়ন্ত্রণে?
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বলছে, তারা বাণিজ্যিক জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করছে, তবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে ইরানের আইআরজিসি এই কৌশলগত জলপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

পাকিস্তান, ভারত ও রাশিয়ার মতো কিছু দেশ তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে জাহাজ পরিবহন করছে।

ইরান এই প্রণালীকে নিজেদের ভূখণ্ডসংলগ্ন অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করছে এবং জাহাজ চলাচলের জন্য বীমাসদৃশ ফি আরোপ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সমালোচকরা এই ফি-কে অবৈধ ‘টোল বুথ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তবে ইরান দাবি করছে, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলসীমার অংশ নয়; এটি ইরান ও ওমানের যৌথ নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা।

ফ্লোরিডাভিত্তিক এনএসআই ইনস্যুরেন্স গ্রুপের সিইও অস্কার সেকালি বলেন, “ভূগোলিক সুবিধাকে আর্থিক সুবিধায় রূপান্তরের প্রচেষ্টা এটি। প্রাচীন এই কৌশলই এখন নতুনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, একটি বড় তেলবাহী জাহাজ প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ডলার খরচ করে, এবং ১০০ দিনের বিলম্বে ক্ষতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি ডলার পর্যন্ত। তবে ইরানকে অর্থ প্রদান অনেক কোম্পানিই এড়িয়ে চলে, কারণ এতে নিষেধাজ্ঞা, আইনি ঝুঁকি ও বীমা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা




ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠিন হামলা চালাতে যাচ্ছি: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কোনও শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠিন হামলা চালাবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১০ জুন) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানে হামলার বিষয়ে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পক্ষ থেকে একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‌‌‘আমরা তাদের ওপর হামলা চালাতে যাচ্ছি, খুব জোরালো হামলা চালাব এবং আবারও বোমাবর্ষণ শুরু করব।’

তিনি বলেন, বুধবারই ইরানে আঘাত হানা হবে। ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি চুক্তি চাই যা অর্থবহ, আমরা এমন একটি চুক্তি চাই, যা কার্যকর হবে।’

মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার ব্যাপারে ইরান ইতোমধ্যে সম্মতি জানিয়েছে। তবে চুক্তিটিতে এখনও স্বাক্ষর বাকি রয়েছে। দেখা যাক কী ঘটে। তবে আমরা গতকাল তাদের ওপর জোরালো আঘাত হেনেছি এবং আজ আবারও তাদের ওপর জোরালো আঘাত হানতে যাচ্ছি…।’

তিনি বলেন, আর চুক্তির ব্যাপারে কী হয় সেটিও আমরা দেখব। আমরা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের শুধু ঝুলিয়ে রাখছে, আমাদের বোকা বানাচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স।




লাইসেন্স ছাড়াই ১৭ বছর ধরে উড়োজাহাজের পাইলট, অবশেষে গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ প্রয়োজনীয় ও উচ্চতর লাইসেন্স ছাড়াই প্রায় ১৭ বছর ধরে শত শত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগে কানাডার এক সাবেক পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওন্টারিও প্রদেশের পিল অঞ্চলের পুলিশ দীর্ঘ চার মাস তদন্তের পর এয়ার কানাডার সাবেক ক্যাপ্টেন জিওফ্রে ওয়ালের বিরুদ্ধে জালিয়াতিসহ বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ এনেছে।

বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

পিল আঞ্চলিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ৫৯ বছর বয়সী জিওফ্রে ওয়াল ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জাল পাইলট লাইসেন্স ব্যবহার করে দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক রুটে ৯০০টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। ২০২৫ সালে অবসরে যাওয়ার আগে তিনি এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল প্রশাসন উভয় পক্ষকেই নিজের যোগ্যতার নথিপত্র নিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেছিলেন বলে পুলিশ প্রমাণ পেয়েছে। অভিযুক্ত ওয়ালের একটি বৈধ সাধারণ বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স থাকলেও বড় যাত্রীবাহী বিমান চালানোর জন্য বাধ্যতামূলক ‘এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স’ ছিল না।

সাবেক এই ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ভুয়া নথি ব্যবহার, জাল ট্রেডমার্ক নিজের কাছে রাখা এবং জননিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানোর মতো বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পিল আঞ্চলিক পুলিশের প্রধান নিশান দুরাইআপ্পা এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন যে এই জালিয়াতি সরাসরি জননিরাপত্তা এবং গণআস্থার ওপর আঘাত হেনেছে কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি ৯০০টিরও বেশি ফ্লাইটে লাখ লাখ যাত্রীর জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছেন।

অন্যদিকে এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার কথা জানালেও দাবি করেছে যে এর ফলে যাত্রী নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত হয়নি। বিমান সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে তাদের প্রতিটি পাইলটকে প্রতি ছয় মাসে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ এবং বছরে একবার প্রত্যয়িত পাইলটের অধীনে ফ্লাইটের দক্ষতা পরীক্ষা দিতে হয়। জিওফ্রে ওয়াল তার পুরো কর্মজীবনে এই প্রশিক্ষণগুলোতে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং বড় বিমান নিখুঁতভাবে চালানোর উচ্চ দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলেন।

কানাডার এই জাতীয় বিমান সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে এই ঘটনা জানার পরপরই উক্ত পাইলটকে সক্রিয় ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপোর্ট কানাডাকে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে তাদের সকল পাইলটের লাইসেন্স অডিট বা পুনঃযাচাই করে অন্য কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান এবং লাইসেন্সধারী পাইলট হাসান শাহিদি এই ঘটনাকে ব্যতিক্রমী ও বিরল বলে উল্লেখ করেছেন।

হাসান শাহিদি আল জাজিরাকে বলেন যে এখানে মূল সমস্যা কোনো অদক্ষ মানুষের বিমান চালানো নয়, বরং একজন পাইলট কর্তৃক দীর্ঘ বছর ধরে মূল প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকে ফাঁকি দেওয়া। এই ঘটনাটি লাইসেন্স যাচাইকরণ এবং সামগ্রিক নজরদারি প্রক্রিয়ার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে যা এত বছর ধরে ধামাচাপা পড়েছিল। তবে পাইলট প্রশিক্ষিত থাকায় সাধারণ যাত্রীরা কোনো চরম ঝুঁকির মুখে পড়েননি বলেও তিনি মনে করেন।

সূত্র: আল জাজিরা




হরমুজ প্রণালীতে ‘চুইয়ে’ বের হচ্ছে তেল: সিএনএন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান যুদ্ধের কারণে গত তিন মাস ধরে কার্যত অচল বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী। এর জেরে ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি সরবরাহ সংকট চলছে বিশ্বজুড়ে। কিন্তু তারপরও কেন তেলের বাজার এখনও তুলনামূলক শান্ত? এটি যেন এই মুহূর্তে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত তিন মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত চলছে। এর জেরে ইরান বন্ধ করে দিয়েছে হরমুজ প্রণালী। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন নৌ অবরোধ। এতে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আশঙ্কার তুলনায় তীব্রভাবে বাড়েনি।

মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের আগের তুলনায় বর্তমানে এই পথে দৃশ্যমান জাহাজ চলাচল নেমে এসেছে মাত্র ১৫ শতাংশে।

তবে বিস্ময়করভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এখনও বড় ধরনের সংকটের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে একটি কারণ হতে পারে- হরমুজ প্রণালীর ওপর আরোপিত কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও কিছু পরিমাণ তেল গোপনে বা নজর এড়িয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

‘গোপন প্রবাহ’ সামলাচ্ছে বাজারের ধাক্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু তেলবাহী জাহাজ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে নজরদারি এড়িয়ে হরমুজ প্রণালী পার হচ্ছে। এসব তেল পরিবহনকে বলা হচ্ছে ‘ক্ল্যান্ডেস্টাইন ফ্লো’ বা গোপন প্রবাহ।

জেপি মরগানের তথ্যানুযায়ী, মে মাসের শেষ দুই সপ্তাহে প্রতিদিন প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল তেল এভাবে পরিবহন হয়েছে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ব্যারেল তেল যেতো। সেই তুলনায় এই পরিমাণ কম হলেও বৈশ্বিক বাজারে চাপ কমানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জেপি মরগানের বৈশ্বিক পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান নাতাশা কানেভা এক নোটে লিখেছেন, “নৌ অবরোধ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বড় পতন সত্ত্বেও আশ্চর্যজনক পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এখনও হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হচ্ছে।”

‘ভূতের মতো’ জাহাজ চলাচল
র‌্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকন্যালি বলেন, গোপন তেল পরিবহন সংকটকে কিছুটা বিলম্বিত বা কম তীব্র করতে পারে।

তিনি বলেন, “আমরা ধারণা করেছিলাম যুদ্ধের পর হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন শূন্য থেকে ১০ শতাংশে নেমে আসবে। কিন্তু এই গোপন প্রবাহের কারণে প্রকৃত পরিমাণ কিছুটা বেশি হতে পারে।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই প্রবাহ সংকট পুরোপুরি এড়ানোর মতো যথেষ্ট নয়, বরং এটি শুধু বাজারের ওপর চাপ কিছুটা কমাচ্ছে।

পাইপার স্যান্ডলারের বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ও কৌশলবিদ জান স্টুয়ার্টের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসে প্রতিদিন প্রায় ২৯ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে বের হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল এমন জাহাজ বহন করেছে, যেগুলো ইরানি সংস্থাকে ফি দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রায় ৯ লাখ ব্যারেল ছিল ‘ভূতের মতো’ পরিবহন- অর্থাৎ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে অন্ধকারে চলাচল করা জাহাজ।

স্টুয়ার্ট বলেন, “এই গোপন প্রবাহ সংকট সামলাতে সাহায্য করছে। বাস্তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সক্ষমতা আমার ধারণার চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।”

চীনের আমদানি কমানোও বড় কারণ
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলারে নেমে আসে। যুদ্ধের আগে যেখানে দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার, সেখানে এটি বেশি হলেও সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ ১১৪ ডলারের তুলনায় কম।

তবে বাজার স্থিতিশীল থাকার পেছনে শুধু গোপন তেল পরিবহনই নয়, আরও কয়েকটি কারণ কাজ করছে।

পাইপার স্যান্ডলারের হিসাবে, প্রতিদিন প্রায় ৪৫ লাখ ব্যারেল তেল পারস্য উপসাগর থেকে বিকল্প পথে বের হচ্ছে। এর বড় অংশ যাচ্ছে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে, যা দেশটির তেলক্ষেত্রগুলোকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

এছাড়া বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ চীন তেল আমদানি কমিয়ে দিয়েছে এবং নিজেদের বড় মজুত থেকে চাহিদা পূরণ করছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকটের চাপ কিছুটা কমেছে।

জেপি মরগানের কানেভা বলেন, চাহিদা কমে যাওয়া এবং প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মজুত পরিস্থিতি সামাল দিতে ভূমিকা রাখছে। তার মতে, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকা মানে এই নয় যে সংকট ছোট; বরং বাজার ব্যয়বহুল উপায়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে।

সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে
তবে কিছু জ্বালানি বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন, বাজার বর্তমানে বিকল্প ব্যবস্থার কারণে প্রকৃত ঝুঁকি পুরোপুরি বুঝতে পারছে না। যুদ্ধ শুরুর পর বাণিজ্যিক তেলের মজুত দ্রুত কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত ১৯৮০-এর দশকের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের দিকে যাচ্ছে।

জান স্টুয়ার্ট সতর্ক করে বলেন, “পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে যাচ্ছে।”

তিনি পূর্বাভাস দিয়ে বলেছেন, জুলাই ও আগস্টে ব্রেন্ট তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩০ ডলারে উঠতে পারে। এমন হলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালন ৫ ডলারের বেশি হতে পারে, যেখানে বর্তমানে তা প্রায় ৪ দশমিক ২০ ডলার।

স্টুয়ার্টের মতে, আরও জরুরি তেল ছাড়তে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যবহার কমাতে হলে তেলের দাম দ্রুত বাড়ার প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি বলেন, “মানুষকে পরিবর্তনে রাজি করাতে হবে। আর দাম বেশি হলে সেটি করা অনেক সহজ হয়।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িকভাবে বাজারকে স্থিতিশীল রাখলেও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন




এবার ইরানে হামলা করলে ইসরায়েলকে একা লড়তে হবে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করলে ইসরায়েলকে হয়তো সম্পূর্ণ একা লড়াই করতে হতে পারে। গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটার পর তিনি এই মন্তব্য করলেন।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে উভয় পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় কোনো প্রকার অজ্ঞতা বা বোকামির স্থান নেই বলে উল্লেখ করেন।

এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের সম্ভাব্য টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘আমি বিবিকে বলেছি, তোমার আরও সতর্ক হওয়া উচিত, তা না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একা হয়ে যেতে হবে।’

রোববার (৭ জুন) ইসরায়েলি বিমান বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আকস্মিক ও ভয়াবহ বোমা হামলা চালালে এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান, যার জবাবে সোমবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি পেট্রোমিক্যাল কারখানায় নিখুঁত বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।

অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, ট্রাম্পের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তা প্রয়োগ করছে। নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন যে, তেহরানের সন্ত্রাসী সরকারকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার পর তারা আপাতত হামলা বন্ধ করেছে, তবে ইরান পুনরায় আক্রমণ করার ভুল করলে ইসরায়েল পূর্ণ শক্তি দিয়ে তার জবাব দেবে।

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার অবশ্য দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যকার এই উত্তেজনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি হননি। তিনি ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার এই বাক্যবিনিময়কে দীর্ঘ বন্ধুত্বের মাঝে একটি সাময়িক উত্তপ্ত আলোচনা বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি এটিও মনে করিয়ে দেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট খুব ভালো করেই জানেন যে ইসরায়েলের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হলে তেল আবিব কোনোভাবেই চুপচাপ বসে থাকবে না।

এই তীব্র আঞ্চলিক সংঘাতের জন্য ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আমেরিকা এই যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম প্রধান পক্ষ এবং মধ্যস্থতাকারী, তাই লোহিত সাগরে জাহাজ আটক বা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের মতো যেকোনো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনার জন্য মার্কিন প্রশাসনই সরাসরি দায়বদ্ধ থাকবে। তবে ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ দাবি করেছেন, এই সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার এক নতুন উচ্চতা প্রদর্শিত হয়েছে, যা ইসরায়েলকে পুনরায় যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করতে বাধ্য করেছে।

এই চরম উত্তেজনার মধ্যেও পর্দার আড়ালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক শান্তি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন যে তেহরান এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি নিশ্চিত করেছেন যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান নিয়মিত বার্তা বিনিময় করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও একটি শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধানের জন্য সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এই সংঘাতের রেশ ধরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও সোমবার সকালে লোহিত সাগরে ইসরায়েলি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে হামলা চালিয়েছে, যা ইসরায়েলি বাহিনী আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। একই সাথে দক্ষিণ লেবাননের টায়ার এবং নাবাতিয়েহ এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৪ জন লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফিলিস বেনিস মন্তব্য করেছেন যে, ট্রাম্পের এই মৌখিক সতর্কবার্তা ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো কাজে আসবে না যতক্ষণ না আমেরিকা ইসরায়েলকে বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আদালতে তাদের রক্ষা করা বন্ধ করছে।

সূত্র: আল জাজিরা




৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ফিলিপাইনে নিহত বেড়ে ৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে সোমবার ভোরে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৩৪ জন। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। ঘটনার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে সরকার।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সারঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। এর কম্পন মিন্দানাওজুড়ে প্রবলভাবে অনুভূত হয় এবং প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দূরে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরেও কাঁপুনি টের পাওয়া যায়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মিন্দানাওয়ে ধ্বংসাবশেষ ও ভূমিধসে ৩২ জন নিহত এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাসের শহর জেনারেল সান্তোস সিটি। সেখানে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছু স্থাপনা ধসে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী জোজো কালমা বলেন, ‘এই প্রথম আমি এত শক্তিশালী ভূমিকম্প দেখলাম। সত্যিই নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। আমি আমার সন্তান এবং ভাগ্নির কথা ভাবছিলাম, যদি তাদের কিছু হয়ে যেত?’ ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি ভবনের সামনে মোটরচালিত থ্রি-হুইলার ট্যাক্সি চালাচ্ছিলেন। পরে ভবনটি ধসে পড়লেও তিনি অক্ষত থাকেন। তাঁর সন্তানরা তখন স্কুলে ছিল, তবে তারা নিরাপদ আছে। তাঁর ভাইয়ের বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সরকারের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে একটি ফাস্টফুড দোকানসংবলিত ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ভবনটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধুলার মেঘ ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরা আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে থাকেন।

দীর্ঘ ছুটির পর স্কুল খোলার পরদিনই এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোকে মোতায়েন করেছে সরকার।

ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ ফিলিপাইন, উত্তর ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ রাজ্যে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলীয় বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

এর আগে ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের আট মাস পর এ দুর্যোগ আঘাত হানল। গত বছর মধ্যাঞ্চলীয় সেবু দ্বীপের উপকূলে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭৯ জন নিহত হন। এর দুই সপ্তাহ পর মিন্দানাওয়ে ৭.৪ মাত্রাসহ আরও দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল।




আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনীর মর্যাদা ফিরে পেয়েছেন। শুক্রবার (৫ জুন) তার মালিকানাধীন আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম এক লাফে বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিবর্তন এসেছে।

বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র এক দিনেই গৌতম আদানির সম্পদ প্রায় ২৫০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অভাবনীয় উত্থানের পর আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯২০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মাধ্যমে তিনি ভারতের আরেক শীর্ষ ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানি এবং জাপানের সফটব্যাংক গোষ্ঠীর প্রধান মাসায়োশি সনকে পেছনে ফেলে ধনীর তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করলেন। বর্তমানে আম্বানির সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, জাপানের শেয়ারবাজারে হঠাৎ বড় ধরনের পতনের কারণে মাসায়োশি সনের সম্পদ কমে ৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে গৌতম আদানির এই আধিপত্য বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আদানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আদানি পাওয়ার’ বাংলাদেশে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে অবস্থিত আদানির ১৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

শুক্রবার আদানির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে তাদের পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আদানি গ্রিন এনার্জি’। এটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। এ ছাড়া তাদের বিদ্যুৎ সঞ্চালন, মূল প্রতিষ্ঠান, বন্দর পরিচালনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সব মিলিয়ে আদানির ছয়টি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বাজারমূল্য এখন প্রায় ১৯ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ আদানির বিরুদ্ধে আনা একটি বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই তার ব্যবসায় সুবাতাস বইতে শুরু করে। অভিযোগ প্রত্যাহারের পর থেকে এ পর্যন্ত তার সম্পদ প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার বেড়েছে। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে তার বিরুদ্ধে ২৫ কোটি ডলারের একটি ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তি পেতে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া হয়েছে এবং সেই তথ্য গোপন করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে শুরু থেকেই আদানি ও তার সহযোগীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।

সূত্র: মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস