‘ইরান ইস্যুতে দৃঢ় ট্রাম্প, স্থল অভিযানের শঙ্কা কম’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে হস্তক্ষেপে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে তেহরান সরকারের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিচ্ছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানি দেশপ্রেমিকরা, আন্দোলন চালিয়ে যান। আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিন। হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন। তাদের এর চড়া মূল্য দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।

তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে স্পষ্ট ঐকমত্য নেই। সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা জোরদার, সাইবার কার্যক্রম এবং সীমিত সামরিক হামলার বিষয় আলোচনায় রয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক সহকারী সচিব মার্ক কিমিট বলেন, ইরান বিষয়ে ট্রাম্প ‘দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ বলে মনে হচ্ছে।

তবে তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান চালাবে, এমন আশঙ্কা কম। বরং সীমিত পরিসরে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান হতে পারে।

কিমিট বলেন, এসব অভিযানে ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ নেতারা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। এর মধ্যে আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান কিংবা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ নেতৃত্ব থাকতে পারে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২০ সালের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। ওই বছরের ৩ জানুয়ারি ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলায় হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র।

কিমিটের ভাষায়, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান এমন পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে, যা সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের মতো একটি নতুন ঘটনার জন্ম দিতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরাটিআরটি




থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়লো ক্রেন, নিহত অন্তত ২২

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ব্যাংকক থেকে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রদেশে যাওয়ার পথে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর নির্মাণাধীন উচ্চগতির রেল প্রকল্পের একটি ক্রেন ভেঙে পড়ায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২২ জন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। থাইল্যান্ডের পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশ–এর সিখিও জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি রাজধানী ব্যাংকক থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের স্থানীয় পুলিশ প্রধান থাচাপোন চিন্নাওং বার্তাসংস্থা এএফপি–কে জানান, ‘এ ঘটনায় ২২ জন নিহত হয়েছেন এবং ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।’

পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ট্রেনটি থাইল্যান্ডের উবন রাতচাথানি প্রদেশ–এর উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে নির্মাণাধীন একটি উচ্চগতির রেল প্রকল্পে ব্যবহৃত ক্রেন হঠাৎ ভেঙে পড়ে চলন্ত ট্রেনের একটি বগির ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয় এবং কিছু সময়ের জন্য আগুন ধরে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনতে ধাতব কাঠামো কেটে কাজ করছেন।

থাইল্যান্ডের স্টেট রেলওয়ে অব থাইল্যান্ড জানিয়েছে, ট্রেনটির আসন বিন্যাস অনুযায়ী এতে ১৯৫ জন যাত্রীর নাম ছিল। তবে বাস্তবে ট্রেনে থাকা যাত্রীর সংখ্যা এর চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পরিবহনমন্ত্রী ফিপাত রাচাকিতপ্রাকর্ন এ ঘটনায় একটি ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক তদন্ত’ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, নির্মাণকাজে গাফিলতি ছিল কি না এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না—সব বিষয় তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এই দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের জানাতে কাজ করছে প্রশাসন।




ইরানে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, শিগগিরই ইন্টারনেট চালুর আশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তীব্র অর্থনৈতিক দুরাবস্থার প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে একাধিক ‘সহিংস দাঙ্গায়’ বিপুল সংখ্যক মানুষের নিহতের ঘটনায় রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান সরকার। নিহত ইরানিদের স্মরণে প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভা শোক পালন করছে বলে প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে।

জিও নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ আন্দোলনের সময় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের স্মরণেই এই জাতীয় শোক পালন করা হচ্ছে।

সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি জাতি দেখেছে যে, কীভাবে অপরাধীরা দায়েশ (আইএসআইএল বা আইএসআইএস)-এর মতো বর্বর সহিংসতা চালিয়ে সাধারণ মানুষ, বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার ফলে অনেকেই শহীদ হয়েছেন।

এদিকে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সমন্বয় করে দ্রুত ইন্টারনেট পুনঃসংযোগ চালু করতে কাজ করছে। দূতাবাস ও সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর ইন্টারনেট সংযোগও চালু করা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি বিক্ষোভে আরও উসকানি সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেছেন আরাগচি।

এদিকে, চলমান সহিংস বিক্ষোভের প্রতিবেদে সোমবার ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সমর্থনে জাতীয় বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে ইরান সরকার।

রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সরকার অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে প্রস্তুত, তবে দাঙ্গাবাজদের প্রতি কোনো ধরনের সহনশীলতা দেখানো হবে না।




ইন্দোনেশিয়ার তালাউড দ্বীপপুঞ্জে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইন্দোনেশিয়ার তালাউদ দ্বীপপুঞ্জের উপকূলে এক শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। জার্মান জিওসাইন্স রিসার্চ সেন্টার (জিএফজি) জানিয়েছে, শনিবার (১০ জানুয়ারি) এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় এবং রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮। এর কেন্দ্রস্থল ছিল প্রায় ৭৭ কিলোমিটার গভীরে।

স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ‍বিকেএমজি জানায়, তারা ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করেছে, যার গভীরতা মাত্র ১৭ কিলোমিটার।

বিকেএমজি আরও জানায়, ভূমিকম্পের পর কয়েকটি ছোট কম্পনও অনুভূত হয়েছে। তবে এই ভূমিকম্প সুনামি সৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

জানা গেছে, উত্তর সুলাওয়েসির প্রান্তে অবস্থিত মানাডো শহরে অনেকেই ভূমিকম্পটি অনুভব করেছেন। তবে কোনো বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইন্দোনেশিয়া অবস্থিত ‘প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার’ অঞ্চলে একাধিক টেকটনিক প্লেট মিলিত হয়, সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে।

সূত্র : রয়টার্স




ইরানে হামলার ব্যাপারে ‘সিরিয়াসলি’ ভাবছেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে বিক্ষোভকারীদের কঠোরভাবে দমন করায় দেশটিতে হামলার ব্যাপারে ‘সিরিয়াসলি’ (গুরুত্বের সঙ্গে) ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানে কীভাবে হামলা করা যায় এ ব্যাপারে ট্রাম্পকে ব্রিফ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যদিও ট্রাম্প হামলার ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তবে হামলার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন।

সংবাদমাধ্যমটিকে নাম গোপন রাখার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানে কোথায় কিভাবে হামলা চালাতে পারে সে ব্যাপারে একাধিক পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বেসামরিক স্থাপনার ওপর হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এরআগে আরেক সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, ট্রাম্প যদি নির্দেশ দেন তাহলে ইরানের সেনাবাহিনীর অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারে বিমান হামলা চালানো হতে পারে।

ইরানের সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী।

গত বৃহস্পতিবার রাতে সবচেয়ে তীব্র আন্দোলন হওয়ার পর শুক্রবার রাতেও রাস্তায় নেমেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া শনিবারও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।

তবে গতকাল শুক্রবার রাতে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচার গুলির ঘটনা ঘটেছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনটি হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালগুলো নিহত ও আহতে মানুষে উপচে পড়েছে।

তেহরান হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন তরুণদের মাথা লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়া হয়েছে। এছাড়া অনেকের হার্টেও গুলি করা হয়েছে।

একটি চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালে এত বেশি রোগী আসছিল যে তারা ক্রাইসিস মুডে চলে গেছেন। হতাহতের চিকিৎসা দিয়ে তারা কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না।

বিক্ষোভকারীদের পাশপাশি আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত এ সংখ্যা ১৪ জন বলে জানা গেছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল




বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা ইরানের, মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ টানা দুই সপ্তাহের ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ সতর্ক করে বলেছেন, যারা বিক্ষোভে অংশ নেবেন, তাদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরানের আইনে এ অভিযোগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এমনকি যারা ‘দাঙ্গাকারীদের সহায়তা করেছেন’, তারাও একই অভিযোগের মুখোমুখি হবেন।

ইরানের দণ্ডবিধির ১৮৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন যদি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে জড়ায়, তাহলে যারা জেনে-বুঝে সেই গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে সহায়তা করে, তারাও ‘মোহারেব’ বা ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন—এমনকি তারা নিজেরা সরাসরি সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে অংশ না নিলেও।

দণ্ডবিধির ১৯০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘মোহারেব’-এর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড, ফাঁসি, ডান হাত ও বাঁ পা কেটে ফেলা অথবা স্থায়ীভাবে দেশের অভ্যন্তরে নির্বাসন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নেওয়া এই কঠোর অবস্থানের বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপক্ষকে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে এবং বিলম্ব না করে অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ার পথ তৈরি করতে হবে এবং যারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে বিদেশি আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও চূড়ান্ত মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘কোনো ধরনের শিথিলতা, সহানুভূতি বা ছাড় না দিয়েই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হতে হবে।’

মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এসব বিক্ষোভে অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে তেহরানে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে এবং টেলিফোন লাইনও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ রেজা পাহলভি বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়ে শনিবার ও রোববার রাস্তায় নামতে জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের শাহ আমলের প্রতীক হিসেবে পরিচিত সিংহ-সূর্য চিহ্নযুক্ত পুরোনো ইরানি পতাকা ও অন্যান্য জাতীয় প্রতীক বহন করার আহ্বান জানান, যাতে তারা ‘জনসাধারণের স্থানগুলো নিজেদের বলে দাবি করতে পারে’।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রা রিয়াল রেকর্ড দরপতনের মুখে পড়ে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখের বেশি রিয়ালে নেমে গেলে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। শুরুতে এটি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি সাধারণ অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।




যেকোনো মূল্যে গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো না কোনোভাবে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেবেই। সম্প্রতি তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেন, দ্বীপটির বাসিন্দারা বা ডেনমার্ক বিষয়টি পছন্দ করুক বা না করুক, ওয়াশিংটন সেখানে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে।  

ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখল না করে, তবে সেখানে রাশিয়া বা চীন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, রাশিয়া বা চীনকে তিনি প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চান না। এই লক্ষ্য অর্জনে ট্রাম্প ‘সহজ উপায়ে’ বিষয়টি মিটমাট করতে পছন্দ করলেও প্রয়োজনে ‘কঠিন উপায়ে’ বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

গ্রিনল্যান্ডকে লিজ নেওয়ার বদলে কেন পুরোপুরি মালিকানা নিতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন যে, কোনো জায়গাকে সঠিকভাবে রক্ষা করতে হলে তার মালিক হওয়া প্রয়োজন। লিজ নেওয়া জায়গায় সেই পর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রুশ সংবাদসংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নিয়ে কথা না বললেও ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি এই দ্বীপটি কব্জায় নিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। এমনকি হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটও নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রাম্প সক্রিয়ভাবে সহযোগীদের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অনড় অবস্থানের বিপরীতে গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৫১ সালে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের সুরক্ষার দায়িত্ব ন্যাটোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আশা প্রকাশ করেছেন, গ্রিনল্যান্ড প্রথমে স্বাধীনতা অর্জন করবে এবং পরে শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হবে।

কিন্তু হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্প সবসময়ই উন্মুক্ত রয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি কোনো আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করেন না এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার খাতিরে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা অর্জনকেই তিনি এখন প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন।

গ্রিনল্যান্ডের এই সংকটের মধ্যেই বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এমন আগ্রাসী মনোভাবের ফলে ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে ডেনমার্ক তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বলছে, অন্যদিকে ট্রাম্প ‘মালিকানা’র দাবিতে অনড়।

খনিজ সম্পদে ভরপুর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার প্রতিযোগিতা এখন এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ট্রাম্পের ‘সহজ বা কঠিন’ উপায়ের যে কোনো একটির প্রয়োগ গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব শান্তিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: তাস




বিক্ষোভকারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, ইরানের প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং দেশটির মুদ্রা রিয়েলের দরপতনের প্রতিবাদে সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ-আন্দোলন দেশটির ছোট ছোট শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই আন্দোলনের ১২তম দিনে বৃহস্পতিবার দেশটির বিভিন্ন শহরের বিক্রেতারাও দোকান বন্ধ করে এতে অংশ নিয়েছেন।

এদিকে, বিক্ষোভকারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে, চলমান বিক্ষোভের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই সমর্থনকে ‘হস্তক্ষেপবাদী এবং প্রতারণামূলক’ অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ইরানি জনগণের প্রতি সহানুভূতি থেকে নেওয়া হয়নি। বরং সর্বোচ্চ চাপ, হুমকি এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের নীতির সাথে তা সঙ্গতিপূর্ণ। যেটির লক্ষ্য সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেওয়া এবং দেশটিতে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘আজ যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ইরানের বিরুদ্ধে যা করছে তা কেবল অর্থনৈতিক যুদ্ধ নয় বরং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার একটি মিডিয়া প্রচারণা, সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি এবং সহিংসতার প্ররোচনা।’

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, দেশটিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে কমপক্ষে ৩৯ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বিবিসি পারসিয়ান স্বাধীনভাবে কমপক্ষে ২১ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে। যাদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইরান সরকারকে বিক্ষোভকারীদের ‘হত্যা’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রতিক্রিয়ায় বিবিসি পারসিয়ানকে জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলো ‘ইরানি জনগণের ক্ষোভকে প্রতিফলিত করে’, কারণ দেশটির সরকার জনগণকে উন্নত জীবন যাপন করতে দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি।




যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ, দিতে হবে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন আর্থিক বাধ্যবাধকতা যুক্ত হলো। মার্কিন সরকারের হালনাগাদ ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় এখন থেকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মার্কিন ভিসা পেতে বাংলাদেশি নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর তালিকা হালনাগাদ করে। এতে নতুন করে বাংলাদেশের নাম যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে এ তালিকায় বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশ রয়েছে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, বিশেষ করে বি১/বি২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার ক্ষেত্রে এই বন্ড আরোপ করা হতে পারে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ভিসার সব শর্ত পূরণ করলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে তার ওপর ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। জামানতের পরিমাণ তিন ধাপে নির্ধারণ করা হয়েছে—৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত প্রোফাইল, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং সাক্ষাৎকারের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এই অঙ্ক নির্ধারণ করবেন।

এই জামানতের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসার লিখিত নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ জমা না দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ভিসা বন্ড একটি পাইলট কর্মসূচির অংশ, যার মূল লক্ষ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বা ‘ওভারস্টে’ কমানো। যেসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরে না আসার হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কর্মসূচি প্রথম চালু হয় গত আগস্টে, তখন সীমিত কয়েকটি দেশ এতে যুক্ত ছিল।

ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে নেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এই অর্থ ফেরতযোগ্য। পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি কোনো ভ্রমণকারী অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, ভিসা পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করেন, অথবা মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পান—সে ক্ষেত্রে জমা দেওয়া জামানত ফেরত পাওয়া যাবে। তবে কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন, যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা এসাইলাম চাইলে, তাহলে সেই জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এই বন্ডের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত যুক্ত হয়েছে। ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিমানবন্দরগুলো হলো—বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)। এসব নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা টাকা ফেরতের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল, উগান্ডাসহ আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ। বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে এই নীতি ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে কার্যকর হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে। পর্যটন, ব্যবসা কিংবা স্বল্পমেয়াদি সফরের পরিকল্পনায় অতিরিক্ত আর্থিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে।

ভিসা বন্ড মূলত একটি আর্থিক নিশ্চয়তা ব্যবস্থা, যা দিয়ে কোনো ভ্রমণকারী ভিসার শর্ত—বিশেষ করে থাকার সময়সীমা—মেনে চলবেন বলে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। যদিও বেশির ভাগ দেশই ভিসার সময় পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ চায়, তবে ফেরতযোগ্য জামানত নেওয়ার এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিকভাবে খুব বেশি প্রচলিত নয়। অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সীমিত পরিসরে এমন উদ্যোগ নিলেও পরে তা বাতিল করা হয়েছিল।




ভেনেজুয়েলা থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল কিনবে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্ব রাজনীতিতে তেল আবারও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল উচ্চমানের তেল বিক্রি করবে। এই তেল বিক্রি হবে আন্তর্জাতিক বাজারদরে।

মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে আনা তেল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে। তেল বহনের জন্য ব্যবহার করা হবে বিশেষ স্টোরেজ জাহাজ। এসব জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে এসে তেল খালাস করবে। পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প আরও জানান, এই তেল বিক্রির মাধ্যমে যে অর্থ আসবে, তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে এই অর্থ ভেনেজুয়েলার জনগণ এবং যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশেরই কল্যাণে ব্যবহার করা হবে বলে তিনি দাবি করেছেন। কীভাবে এবং কোন খাতে এই অর্থ ব্যয় হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

এদিকে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার ওভাল অফিসে তেল কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে। এই বৈঠকে এক্সন, শেভরন ও কনোকোফিলিপসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারেন। আলোচনার বিষয় হবে ভেনেজুয়েলার তেল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সাজানোর পথও খুলে যাচ্ছে। তবে এই চুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ কতটা উপকৃত হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।