মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে বলল চীন

ডেস্ক নিউজঃ ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে আনার ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলেছে চীন।

সেই সঙ্গে মাদুরো দম্পতিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

রবিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক আটক করা এবং দেশ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

শুক্রবার দিবাগত রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া অ্যাডেলা ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। মাত্র কয়েক ঘণ্টার অভিযানে দুর্গের মতো সুরক্ষিত বাসভবন থেকে তাদেরকে যেভাবে বন্দি করা হয়, তাতে অবাক হয়েছে গোটা বিশ্ব। বর্তমানে তাদেরকে নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা




ভেনেজুয়েলায় বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র: জাতিসংঘ মহাসচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে আনার ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

মহাসচিবের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, এসব হামলার ঘটনা ‘বিপজ্জনক নজির’ সৃষ্টি করতে পারে।

মুখপাত্র আর ওবলেন, “মহাসচিব জাতিসংঘের সনদসহ সকলের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান করা হয়নি।”

তিনি ভেনেজুয়েলার প্রতি মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ‘অন্তভুক্তিমূলক সংলাপের’ আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এ দুটি দেশ ভেনেজুয়েলার মিত্র হিসেবে পরিচিত।

অপর দুই স্থায়ী সদস্য এবং মার্কিন মিত্র ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ক্ষমতা থেকে মাদুরোর অপসারণকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশ দুটি বলেছে, তারা ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে। সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা




মাদুরোর আটকাবস্থার ছবি প্রকাশ করলো ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ নতুন একটি ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, ‘ইউএসএস ইও জিমার বোর্ডে নিকোলাস মাদুরো’।

এর আগে এই জাহাজটির কথাই তিনি ফক্স নিউজকে বলেছিলেন। ট্রাম্প বলেন এটিতে করেই ভেনেজুয়েলার নেতাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হচ্ছে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ধূসর ট্র্যাকস্যুট পরা একজন ব্যক্তি—যাকে মাদুরো বলে মনে হচ্ছে—চোখে আই-মাস্ক, কানে হেডফোন পরে আছেন।

এর আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে করে নিউইয়র্কে নেওয়া হচ্ছে বলে শনিবার ফক্স নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী মার্কিন জাহাজ ইউএসএস আইয়ো জিমায় নিউইয়র্কের পথে আছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘হেলিকপ্টারে করে তাদের জাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সুন্দর একটি ফ্লাইটে গেছেন- আমি নিশ্চিত তারা এটি উপভোগ করেছেন। তবে তারা অনেক মানুষ হত্যা করেছেন, এটা মনে রাখতে হবে।’




মাদুরোর ওপর এত রাগ কেন ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মাদুরোর গ্রেফতার প্রমাণ করে ট্রাম্প যা বলেন তা তিনি করেন। এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এর আগে ক্ষমতা ছাড়কে মাদুরোকে হুমকি দেওয়া হলেও তিনি তা শোনেননি। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলায় হামলা চালিয়ে তাকে তুলে নিয়ে আসে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মাদুরোর ওপর এতো রাগ কেন তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। কারণ ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু পারেননি।

একটা সময় পর্যন্ত সংসার চালাতে বাস চালাতেন মাদুরো। ক্রমেই ভেনিজুয়েলার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ২০১৩ সালে শ্যাভেজের মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট হন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই ভেনিজুয়েলা আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে। মাদুরোর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তারপরেও অবশ্য ২০২৪ সালের নির্বাচনে পুননির্বাচিত হয়েছেন মাদুরো। দেশটির বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, তাদের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেজই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু নিজের প্রভাব খাটিয়ে ভোটে কারচুপি করেছেন মাদুরো। মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর। কিন্তু তাকে ভোটে লড়তে দেওয়া হয়নি। ২০২৫ সালে ভেনিজুয়েলায় ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ’ মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

কেন মাদুরোর উপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

ট্রাম্পের সঙ্গে মাদুরোর সংঘাত বহু দিনের। ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদকের কারবার চালানোর অভিযোগ তুলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভেনিজুয়েলার শরণার্থীদের আমেরিকায় আশ্রয় নেওয়া নিয়েও আপত্তি ছিল ট্রাম্পের। ২০১৩ সালের পর থেকে ভেনিজুয়েলা থেকে বহু মানুষ আমেরিকায় আশ্রয় নিয়েছেন। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটা ঠান্ডা লড়াই ছিলই। সম্প্রতি মাদক চোরাচালান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যায়। আমেরিকার অভিযোগ, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য তেল ব্যবহার করছে ভেনিজুয়েলা। ওই তেল আদতে চুরি করা হচ্ছে ভেনিজুয়েলার বিভিন্ন খনি থেকে। তার পর তা বিক্রি করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহার করা হচ্ছ।

ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে সম্প্রতি সে দেশের তেলের ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভেনিজুয়েলা সীমান্তে কোনো তেলের ট্যাঙ্কার আসা-যাওয়া করতে পারবে না। ভেনিজুয়েলার সরকারকেও ফের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেন। তাছাড়া প্রেসিডেন্ট হিসাবে মাদুরোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন ট্রাম্প। গত কয়েক মাসে ভেনিজুয়েলাকে ঘিরতে ক্যারিবিয়ান সাগরে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ এবং পরমাণুডুবোজাহাজ মোতায়েন করেছিল আমেরিকা। সর্বক্ষণ দেশটিকে একপ্রকার ঘিরে রেখেছিল মার্কিন বাহিনী। শুক্রবার মধ্যরাত (স্থানীয় সময় অনুসারে রাত ২টা) থেকেই রাজধানী কারাকাসে অন্তত সাতবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট একাধিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু এই পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি খুব স্পষ্ট ছিলেন যে, মাদক পাচার বন্ধ করতে হবে এবং চুরি করা তেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠাতে হবে। তিনি বলেন, মাদুরো সবশেষ ব্যক্তি যিনি বুঝতে পেরেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা বলছেন সেটি অর্থবহ। আমাদের সাহসী বিশেষ অপারেটরদের ধন্যবাদ, যারা সত্যিই চমৎকার একটি অভিযান পরিচালনা করেছেন।

পালটা দাবি ভেনিজুয়েলার

আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে অভিহিত করেছে ভেনিজুয়েলা। সরকারের দাবি, খনিজ তেল এবং সম্পদ কুক্ষিগত করতেই এই কাজ করেছে আমেরিকা। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই চেষ্টা সফল হবে না বলে জানিয়েছে তারা। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমেরিকা নিজেদের জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভেনিজুয়েলায় নিজেদের পছন্দের লোক চান ট্রাম্প। কিন্তু বামপন্থী নেতা মাদুরো আমেরিকার অঙ্গুলিহেলনে হাঁটার পাত্র নন। ক্ষমতায় আসার পরই চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান তিনি। অভিযোগ, ভেনিজুয়েলার সম্পদ কুক্ষিগত করার লক্ষ্যেই আসলে এই হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। ভেনিজুয়েলাও দাবি করেছে, লক্ষ্য যদি মাদক বন্ধ হয়, তাহলে তেলের ট্যাঙ্কারগুলোকে কেন টার্গেট করছে আমেরিকা? এগুলি ধ্বংস করার একটাই উদ্দেশ্য ভেনিজুয়েলার আয়ের সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে আর্থিকভাবে দেশটিকে আমেরিকার কাছে হার মানতে বাধ্য করা এবং সেখানে মার্কিন সমর্থিত সরকার বসানো।




মিয়ানমারে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হচ্ছে: জান্তা প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মিয়ানমারের সামরিক জান্তার প্রধান মিন অং হ্লাইং দাবি করেছেন, দেশটিতে চলমান জাতীয় নির্বাচন ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ হচ্ছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিয়ানমারে। খবর এএফপির।

রাজধানী নেইপিদোতে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিন অং হ্লাইং। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিচ্ছি। এটি সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা আমাদের নাম কলঙ্কিত হতে দিতে পারি না।’

স্থানীয় সময় রোববার সকাল থেকেই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত জান্তা-পরিচালিত এই জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোরের দিকে ইয়াঙ্গুনের কামায়ুত টাউনশিপে একটি ভোটকেন্দ্র খোলা দেখা যায়। কেন্দ্রটি ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু চির পরিত্যক্ত বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দরিদ্র দেশ মিয়ানমার ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই ব্যাপক সহিংসতা ও অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। ওই অভ্যুত্থানে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী।

জাতিসংঘের মতে, চলমান গৃহযুদ্ধের পাশাপাশি একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ—বিশেষ করে চলতি বছরের মার্চে সংঘটিত শক্তিশালী ভূমিকম্প—দেশটির মানবিক পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।

এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা দেশে খাদ্য সংকটসংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখতে গবেষক ও ত্রাণকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে অভ্যুত্থানের পর থেকে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।




সৌদির গ্রান্ড মসজিদে আত্মহত্যা চেষ্টাকারীকে বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন নিরাপত্তারক্ষী

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র কাবা শরীফ সংলগ্ন গ্রান্ড মসজিদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টাকারীকে বাঁচিয়ে প্রসংশায় ভাসছেন নিরাপত্তারক্ষী রায়ান বিন সাঈদ বিন ইয়াহিয়া আল-আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার ওই ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তখন নিচে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন রায়ান।

ওই ব্যক্তি যখন মসজিদের ওপরের তলা থেকে লাফ দেন তখন তাকে ধরে ফেলার চেষ্টা করেন রায়ান। এতে তিনি আহত হন। ওই সময় আত্মহত্যা চেষ্টাকারী ও তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এই নিরাপত্তারক্ষীকে দেখতে শুক্রবার হাসপাতালে যান সৌদির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সউদ বিন নাঈফ। সেখানে তার উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেন তিনি।

সামাজিকমাধ্যম এক্সে ওই ব্যক্তিকে বাঁচানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, লাফ দেওয়া ব্যক্তিকে ধরার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষী রায়ানও মাটিতে পড়ে গেছেন। যদি তিনি তার হাত দিয়ে তাকে না আটকাতেন তাহলে ওই ব্যক্তি সেখানেই হয়তো মারা যেতেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও; তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

এদিকে আত্মহত্যা চেষ্টাকারীর পরিচয় বা তিনি কোন দেশের নাগরিক এবং তার অবস্থা কেমন আছে এর কিছুই আর জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সূত্র: আরব নিউজ




আসাম বাংলাদেশের অংশ হয়ে যাবে- মুখ্যমন্ত্রীর শঙ্কা প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলে রাজ্যটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তার দাবি, জনসংখ্যার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আসাম একসময় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাংলাদেশের অংশ হয়ে যেতে পারে। তার এই দাবি নতুন করে সীমান্ত ও অভিবাসন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) একটি সরকারি অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আসামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা যদি আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তাহলে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছাতে পারে, যাকে তিনি ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের অংশ হয়ে যাওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করেন।

তিনি জানান, গত পাঁচ বছর ধরেই তিনি এই প্রবণতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন।

এদিন বাংলাদেশের এক নেতার উত্তর-পূর্ব ভারতকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘আসামে বর্তমানে জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। যদি এই সংখ্যা আরও ১০ শতাংশ বাড়ে, তাহলে আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে (বাংলাদেশের সঙ্গে) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব’।

তিনি আরও বলেন, ‘এই কারণেই আমি গত পাঁচ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে জোরালোভাবে কথা বলে যাচ্ছি।’

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর একটি মন্তব্য ঘিরে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।

ওই মন্তব্যে বলা হয়েছিল, নয়াদিল্লি যদি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তাহলে ঢাকার উচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘বিচ্ছিন্ন’ করে রাখা এবং সেখানে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলোকে সহায়তা দেওয়া।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও দাবি করেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে, কারণ অঞ্চলটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের ওপর নির্ভরশীল, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত।

এই বক্তব্যগুলোর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার মতো হুমকি ভারত মেনে নেবে না। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য অব্যাহত থাকলে দিল্লি নীরব থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে আলাদা করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ও অবাস্তব। ভারত একটি বড় দেশ, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি—এই বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে।

তার ভাষায়, ভারতের বিরুদ্ধে এমন মনোভাব বা আচরণ হলে দেশটি নিশ্চুপ থাকবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর এসব বক্তব্য ঘিরে আসামসহ পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অভিবাসন, জনসংখ্যা পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।




দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ, ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বড় ধরনের বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে হাইকমিশনের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাবাহিনী সক্রিয় রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন’ এবং ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা চালায়।

হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের ডাকে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

এর আগে, গত ২০ ডিসেম্বর রাতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গেটের সামনে একটি বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার মো. ফয়সাল মাহমুদ জানান, ওই রাতে তিনটি গাড়িতে করে কিছু লোক এসে হাইকমিশনের গেটের সামনে চিৎকার করে স্লোগান দেয় এবং কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে চলে যায়।

এ ঘটনার পর ভারত সরকার জানায়, বাংলাদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ‘বিভ্রান্তিকর’। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল দাবি করেন, সেদিন মাত্র ২০–২৫ জন বিক্ষোভকারী হাইকমিশনের সামনে জড়ো হয়েছিল এবং তারা কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেনি।

তবে ভারতের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। ঢাকার পক্ষ থেকে কূটনৈতিকভাবে সুরক্ষিত এলাকায় কীভাবে বিক্ষোভকারীরা প্রবেশ করল, তা নিয়ে গুরুতর নিরাপত্তা ঘাটতির প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ মিশন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত। অনুমতি ছাড়া সেখানে এ ধরনের বিক্ষোভের ঘটনা স্বাভাবিক নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে উগ্র সংগঠনের সদস্যদের একটি দল সেখানে প্রবেশ করতে সক্ষম হলো।




স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে প্রত্যেক অভিবাসীকে ৩০০০ ডলার করে দেবে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ যারা স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাদের প্রত্যেককে ৩ হাজার ডলার করে সহায়তা দেওয়া হবে। 

রয়টার্স এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে এই সহায়তার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম ছিল। বর্তমান প্রশাসন তা তিন গুণ বাড়িয়ে ৩ হাজার ডলার নির্ধারণ করেছে।

ডিএইচএস জানিয়েছে, নগদ সহায়তার পাশাপাশি অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরার জন্য বিনা মূল্যে বিমান টিকিটও দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসীদের উচিত এই উপহারটি গ্রহণ করে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করা। তারা যদি তা না করেন, তাহলে আমরা তাদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করব। সেক্ষেত্রে তারা আর কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সুযোগ পাবেন না।’

ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের মার্চে ‘সিবিপি হোম’ নামে একটি অ্যাপ চালু করে, যার মাধ্যমে অভিবাসীরা সহজেই স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের আবেদন করতে পারেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় একই অ্যাপ ‘সিবিপি ওয়ান’ নামে পরিচিত ছিল এবং তখন এটি অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে আইনিভাবে প্রবেশের কাজে ব্যবহৃত হতো।

ডিএইচএসের হিসাব অনুযায়ী, একজন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার, আটক রাখা এবং জোরপূর্বক বহিষ্কার করতে সরকারের গড়ে প্রায় ১৭ হাজার ডলার ব্যয় হয়। সে তুলনায় ৩ হাজার ডলার দিয়ে স্বেচ্ছায় ফেরত পাঠানো সরকারের জন্য অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ট্রাম্প প্রতি বছর ১০ লাখ অভিবাসীকে প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত তার প্রশাসন প্রায় ৬ লাখ ২২ হাজার অভিবাসীকে প্রত্যাবাসিত করেছে। আগামী ২০২৬ সাল থেকে এ অভিযান আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই লক্ষ্যে হাজার হাজার নতুন এজেন্ট নিয়োগ, নতুন ডিটেনশন সেন্টার (আটক কেন্দ্র) নির্মাণ এবং অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিচ্ছে মার্কিন সরকার।




বিরল তুষারপাতের সাক্ষী হলো মরুভূমির দেশ সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তুষারপাতের মতো বিরল এক প্রাকৃতিক ঘটনার সাক্ষী হলো মরুর দেশ সৌদি আরব। উত্তরাঞ্চলসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় শীতল আবহাওয়ার দাপটে পাহাড় ও উঁচু ভূমি ঢেকে গেছে বরফের চাদরে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সৌদির একাধিক অঞ্চলে তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিতে বদলে গেছে চিরচেনা মরুভূমির দৃশ্যপট—তপ্ত বালুরাশি আর ধূ-ধূ প্রান্তর যেন রূপ নিয়েছে শীতের রূপকথায়।

সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলের তাবুক প্রদেশের জাবাল আল-লাওজ পাহাড়ে অবস্থিত পর্যটন এলাকা ট্রোজেনা তুষারাবৃত হয়ে পড়ে। প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতার এই পাহাড়ি গন্তব্যে তুষারপাতের পাশাপাশি হালকা বৃষ্টিও হয়েছে। তাবুক ছাড়াও হাইল প্রদেশের হাইল শহরের আশপাশের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বুধবার সন্ধ্যায় তুষারপাত দেখা যায়। এসব অঞ্চলের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

উত্তর সৌদি আরবের পাশাপাশি দেশের মধ্যাঞ্চলেও বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করে। রাজধানী রিয়াদে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সারাদিন ঘন মেঘে ঢাকা ছিল আকাশ। টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে রিয়াদের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাময়িকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। কাসিম অঞ্চলের বুরাইদাহ শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়। আল-উলা, শাকরা ও এর আশপাশ, বির বিন হারমাস, আল-আইনাহ ও আম্মার এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সৌদির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) জানিয়েছে, রিয়াদের উত্তরাঞ্চলের আল-মাজমা’আ ও আল-ঘাত গভর্নরেটেও বৃহস্পতিবার সকালে তুষারপাত হয়। উঁচু ভূমি ও খোলা এলাকায় বরফ জমে থাকতে দেখা গেছে।

এনসিএমের মুখপাত্র হুসেইন আল-কাহতানি জানান, উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে এই পরিস্থিতির মূল কারণ হলো উত্তর দিক থেকে ধেয়ে আসা একটি তীব্র শীতল বায়ুস্তর, যার সঙ্গে ছিল বৃষ্টিবাহী মেঘ। এর ফলে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায় এবং ভোরের দিকে তুষারপাতের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

আল-কাহতানি বলেন, আগেই এ ধরনের আবহাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল এবং বিশেষায়িত দলগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি জানান, আগামী কয়েক ঘণ্টা তাপমাত্রা আরও কম থাকতে পারে এবং দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় তুষার জমে বরফে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় খোলা সড়কে গাড়ি চালানোর সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেই আল-মাজমা’আ ও আল-ঘাত এলাকায় তুষারপাত দেখতে ভিড় করেন অনেকে। রিয়াদের বাসিন্দা থামর আল-ওতাইবি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য একেবারেই অভূতপূর্ব। তাই বন্ধুবান্ধব নিয়ে এই শীতের বিস্ময় নিজের চোখে দেখতে এসেছি।’ আরেক বাসিন্দা আবদুল হাম্মেদ জানান, পরিবারের একটি আউটডোর আয়োজন বাতিল করে আবহাওয়ার কারণে ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চল, রিয়াদ ও কাসিমে দমকা হাওয়া, মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর সীমান্ত অঞ্চল, জৌফ ও হাইল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কিছু এলাকায় কুয়াশা দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অধিকাংশ অঞ্চলে ধুলোময় ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শীত আরও তীব্র হতে পারে। লোহিত সাগরে ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার এবং আরব উপসাগরে ২৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সৌদির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ বৈরি আবহাওয়ার কারণে সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি উপত্যকা ও নিম্নাঞ্চলে যাতায়াত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবেই সৌদি আরবের মতো মরুপ্রধান দেশে এই বিরল তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে—যা অঞ্চলটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অত্যন্ত ব্যতিক্রমী বলে মনে করছেন অনেক বাসিন্দা।