খরা-বন্যা-সংঘাতে ঘরছাড়া সোমালিয়ার লাখো মানুষ, তীব্র খাদ্যসংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সোমালিয়ায় খরা, আকস্মিক বন্যা, সংঘাত ও আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। দেশটির ৬৫ লাখের বেশি মানুষ এখন তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে। এটা মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। অনেক পরিবার জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাজধানী মোগাদিশুর আশ্রয়শিবিরে এলেও সেখানে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের চক্র থেকে মুক্তি পাচ্ছে না।

দেশটির মধ্যাঞ্চলের বুরহাকাবা এলাকার বাসিন্দা জয়নাব ইব্রাহিম টানা তিন বছর খরা দেখেছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় জমি শুকিয়ে যায়, ফসল নষ্ট হয়, আর পানি ফুরিয়ে যায়। তার গ্রামে ক্ষুধা ও রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এতে তার ১০ সন্তানের মধ্যে চারজন মারা যায়। তিনি বলেন, জীবন বাঁচাতে আমরা সবরকম চেষ্টা করেছি—শুকনো ঘাস বিক্রি করেছি, মাটি খুঁড়ে পানি তুলেছি। কিন্তু কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত সন্তানদের বাঁচাতে পালিয়েই আসতে হয়েছে। এখন তিনি মোগাদিশুর কাহদা এলাকার একটি শিবিরে ছয় সন্তান নিয়ে ছোট্ট একটি অস্থায়ী ঘরে থাকেন।

এমন পরিস্থিতির শিকার ৭৭ বছর বয়সী আদান রোবলেও। দীর্ঘ খরায় তার জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এরপর গত মাসে প্রবল বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা হলে তার গ্রাম ভেসে যায়। ওই সময় এলাকাজুড়ে সরকারি বাহিনী ও আল-শাবাবের যুদ্ধ চলছিল, মাথার ওপরে ঘুরছিল ড্রোন।

তিনি বলেন, সবকিছু হারিয়ে খাবার ও পরিষ্কার পানি ছাড়া বেঁচে থাকা, আর চারদিক থেকে যুদ্ধ—এই বাস্তবতা খুব ভয়ংকর। নিরাপত্তাহীনতা ও সাহায্যের অভাবে তাকেও গ্রাম ছেড়ে পালাতে হয়। এখন মোগাদিশুতে ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ অস্বাস্থ্যকর ও ভিড়াভিড়ি পরিবেশে বসবাস করছে। সেখানে পানি, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই।

সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে শিশুরা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১৯ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। অর্থের অভাবে প্রায় ৫০০ পুষ্টিকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অনেক শিশু চিকিৎসা পাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস জানিয়েছে, গত তিন মাসে কিসমায়ো হাসপাতালের বিশেষ বিভাগে ৭০০-এর বেশি শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জন মারা গেছে।

এই সংকট আরও খারাপ হয়েছে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি, খাদ্য ও পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। এটা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার সম্প্রতি বলেন, জলবায়ু সংকট, সংঘাত আর বন্যা-খরা একসঙ্গে পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে। অর্থের অভাবে সাহায্য সংস্থাগুলোও ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। সব মিলিয়ে সোমালিয়া এখন গভীর এক সংকটের মধ্যে রয়েছে, যেখানে মানুষ শুধু বেঁচে থাকার জন্যই প্রতিদিন সংগ্রাম করছে।




ইসরায়েলি কড়াকড়ি উপেক্ষা করে আল-আকসায় জুমার নামাজে ৬৫ হাজার মুসল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের আরোপিত বিধিনিষেধ ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেছেন প্রায় ৬৫ হাজার মুসল্লি। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ জুন) ভোর থেকেই হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পবিত্র এ মসজিদে জড়ো হন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল থেকে মুসল্লিদের ঢল নামে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের আঙিনা ও আশপাশের এলাকা মুসল্লিদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিধিনিষেধ ও বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করেই বহু ফিলিস্তিনি জুমার নামাজে অংশ নিতে সেখানে পৌঁছান।
গত তিন বছর ধরে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা থেকে আসা ফিলিস্তিনিদের আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে আসছে ইসরায়েল। এর ফলে অনেক মুসল্লি সরাসরি মসজিদে প্রবেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র এ ধর্মীয় স্থানে প্রবেশাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে আল-আকসায় প্রবেশে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার দাবি জানিয়ে আসছেন।



এবার মমতার কাছ থেকে সরে গেলেন মুসলিম বিধায়করাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজন। দলটির একটি অংশের বিদ্রোহী অবস্থান এবং বেশ কয়েকজন মুসলিম বিধায়কের সেই শিবিরে যোগ দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিশ্লেষণ সামনে আসছে।

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, দলটির নির্বাচিত ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৩৪ জন মুসলিম। এর মধ্যে ১৭ জন বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া বিধায়কদের মধ্যে রয়েছেন জাবেদ আহমেদ খান, আখরুজ্জামান, সাবিনা ইয়াসমিন, গোলাম রাব্বানী, নিয়ামত শেখ, ইমানি বিশ্বাস, গুলশান মল্লিক ও মো. তৌসিফুর রহমানসহ আরও কয়েকজন।

বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটি স্বাক্ষরিত চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে। এতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থনের কথা উল্লেখ করা হয়।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “১৮তম বিধানসভায় ঘাসফুল প্রতীকে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী আমরাই প্রকৃত বিরোধী দল।”

একসময় দলীয় সিদ্ধান্তে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী মমতা ব্যানার্জিকে এখন কেবল পরামর্শদাতা হিসেবে রাখার প্রস্তাবও দিয়েছে বিদ্রোহী শিবির। এ বিষয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মাননীয় মমতা ব্যানার্জিকে আমাদের পরিষদীয় দলের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক শিউলি সাহা বলেন, “তিনি পরামর্শদাতা হিসেবে থাকুন, আমাদের পরামর্শ দিন এবং আমাদের কাজ করতে দিন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের এই বিভাজন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অধ্যাপক প্রতীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, মমতা ব্যানার্জি বর্তমানে আগের মতো ক্ষমতার কেন্দ্রে নেই। ফলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি অংশও তার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তাদের ধারণা, বর্তমান নেতৃত্বের বাইরে গেলে তারা বেশি নিরাপত্তা পাবে।

বুধবার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়েও দলের ভেতরে মতবিরোধ দেখা যায়। সূত্রগুলোর দাবি, মমতা ব্যানার্জির পছন্দ ছিল শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করা। তবে দলের একটি বড় অংশ সেই অবস্থানের বিপরীতে অবস্থান নেয়।

অধ্যাপক রাজাগোপাল ধর চক্রবর্তী বলেন, মুসলিম সমাজের মধ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হবে বলে আমরা ভেবেছিলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, মমতা ব্যানার্জির প্রতি আগের মতো সমর্থন আর নেই। অনেকের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক বিধায়ক এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরও দলটির ভাঙন নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, একটি দলের সর্বোচ্চ নেত্রী হয়েও যদি অন্যদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতেই পারে।

বৃহস্পতিবার তিনি আরও বলেন, মমতা ব্যানার্জি নির্বাচনে জয়ী হলে এবং নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারলে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হতো না।




গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় চার শিশুসহ নিহত ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ফিলিস্তিনের গাজা নগরীত ইসরায়েলের বিমান হামলায় চার শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বুধবার (৩ জুন) রাতে গাজা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চারটি আবাসিক ভবনে একযোগে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলের বাহিনী। বাসিন্দাদের কোনো ধরনের আগাম সতর্কবার্তা না দিয়েই এই হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছে।

আল-শিফা হাসপাতাল সূত্রে প্রথমে ৬ জন নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯-এ দাঁড়ায়।

এদিকে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, গত বছর ১ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এরপরও ইসরায়েলের বাহিনী এখন পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশিবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এসব লঙ্ঘনের ঘটনায় অন্তত ৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

বর্তমানে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা থেমে নেই বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি পক্ষ।

সূত্র: আল জাজিরা




কুয়েতে নজিরবিহীন হামলা: চরম আতঙ্কে জিসিসি দেশগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা শুধু কুয়েতের নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক বিমান চলাচল ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এটিই সবচেয়ে তীব্র, দ্রুতগতির এবং সমন্বিত হামলার ঘটনা। শুধু বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময়কাল নয়, আগের যুদ্ধবিরতির পরও এত বড় মাত্রার হামলা দেখা যায়নি।

তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে কুয়েতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছিল। এবারও একইভাবে কুয়েতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলায় ইরান থেকে কুয়েতের দিকে ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৭টি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলার ধরন ও ব্যবহৃত অস্ত্রের সংখ্যা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাতের শুরুর দিকে দেখা হামলাগুলোর সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। ফলে শুধু কুয়েত নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কুয়েত বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো বিশ্বব্যাপী বিমান যোগাযোগ ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের হামলা বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, উপসাগরীয় অঞ্চলের সব দেশ এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, জাতীয় বিমান সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো আগামী ২৪ ঘণ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।

তাদের মতে, কুয়েতে হামলার পর সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের বিমানবন্দর নিরাপত্তা এবং আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করতে পারে।

পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে তা শুধু সামরিক উত্তেজনাই বাড়াবে না, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমান পরিবহন, জ্বালানি বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নতুন এক আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা




‘শত্রুর কৌশল এখন আমাদের নখদর্পণে’, যুদ্ধবিরতিতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং যেকোনো ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)।

মঙ্গলবার ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শত্রুপক্ষ যদি আবারও সামরিক আগ্রাসনের পথ বেছে নেয়, তবে এবার তাদের সম্পূর্ণ ভিন্ন যুদ্ধকৌশল ও ভিন্ন ধরনের অস্ত্রের মুখোমুখি হতে হবে। বিদ্যমান সামরিক সক্ষমতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে শত্রুর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইরান নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইআরজিসি যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

আইআরজিসির এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সময়টিকে ইরান তাদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করতে এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অত্যন্ত সফলভাবে ব্যবহার করেছে। পশ্চিমা প্রচারণাকে নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো এই যুদ্ধবিরতির সময়ে আমাদের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৭ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জোটের আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে অন্তত ১০০ দফা পাল্টা আঘাত হানার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন।

মোহেব্বী আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো শত্রুর শক্তি ও কৌশল সম্পর্কে একটি গভীর ও বাস্তবসম্মত ধারণা লাভ করা। এর আগে যা কেবল গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং গণমাধ্যমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে অনুমান করা হতো, এখন তা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা দিয়ে ঝালাই করে নেওয়া হয়েছে। ফলে ইরানি বাহিনী এখন শত্রুপক্ষের সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, অপারেশনাল বেস এবং যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত জ্ঞান রাখে। শত্রুর আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক সরঞ্জাম এবং তাদের প্রতারণামূলক কৌশল এখন তেহরানের কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

ইসলামিক রিপাবলিকের সামরিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে—এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এই মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, দেশের যুদ্ধ সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর প্রচারণার বিপরীতে ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংসও হয়নি এবং এর কার্যক্ষমতাও হ্রাস পায়নি। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে তিনি হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিরবচ্ছিন্ন নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করেন। মোহেব্বী বলেন, সাম্প্রতিক আগ্রাসনের পুরো সময়জুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার বিশাল সামরিক বহর ব্যবহার করেও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করতে পারেনি। এই কৌশলগত নৌপথের ওপর ইরানের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব বজায় রয়েছে, যা মূলত আইআরজিসির শক্তিরই এক অনন্য প্রতীক।




যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে উল্কা বিস্ফোরণ, তৈরি হলো ‘সনিক বুম’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের আকাশে প্রকাণ্ড একটি উল্কাখণ্ড বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর প্রায় ৩০০ টন টিএনটি বিস্ফোরকের সমপরিমাণ প্রচণ্ড শক্তি উৎপন্ন করে সশব্দে বিস্ফোরিত হয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা এই বিরল মহাকাশীয় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। 

আনুমানিক ৩ মিটার চওড়া এই মহাজাগতিক পাথরটি অত্যন্ত উচ্চ গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার পর বাতাসের তীব্র ঘর্ষণে জ্বলে ওঠে এবং একটি বিশাল আলোর ঝলকানি সৃষ্টি করে বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট প্রচণ্ড শব্দ বা ‘সনিক বুম’ পুরো অঞ্চল জুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়।

শনিবার (৩০ মে) মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ০৬ মিনিটে নিউ ইংল্যান্ড এবং ম্যাসাচুসেটসের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আকাশে এই তীব্র আলোর ঝলকানি ও বিস্ফোরণটি ঘটে। বিশেষ করে বোস্টন শহরের বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিস্ফোরণের অসংখ্য বিবরণ প্রকাশ করেছেন।

অনেক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে সেটির কম্পনে তাদের ঘরবাড়ি পর্যন্ত কেঁপে উঠেছিল। বিজ্ঞানীরা মূলত বায়ুমণ্ডলীয় বিস্ফোরণ শনাক্ত করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি উন্নত সেন্সর ব্যবহার করে এই ধরনের মহাজাগতিক ঘটনা ট্র্যাক করে থাকেন। এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক মাইল উঁচুতে ঘটায় নিচে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

মহাকাশ সংস্থার ডেপুটি নিউজ চিফ জেনিফার ডুরেন ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, এই উল্কাটি বর্তমানে সক্রিয় থাকা কোনো সাধারণ উল্কাবৃষ্টির অংশ ছিল না, বরং এটি সম্পূর্ণ একটি প্রাকৃতিক বস্তু ছিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি মানবসৃষ্ট কোনো মহাকাশ বর্জ্য বা কৃত্রিম উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ ছিল না।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশ শিলাটি যখন ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০ মাইল উচ্চতায় বিস্ফোরিত হয়, তখন সেটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ হাজার মাইল বা ১ লাখ ২০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। বায়ুমণ্ডলে এই আকস্মিক ভেঙে যাওয়ার সময় যে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়েছিল তা প্রায় ৩০০ টন টিএনটি-র সমান, যা মূলত এই ভয়াবহ শব্দের সৃষ্টি করেছে।

আমেরিকান মেটিওর সোসাইটির ফায়ারবল প্রোগ্রাম মনিটর রবার্ট লুনসফোর্ড মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে জানিয়েছেন, দেলাওয়ার থেকে মন্ট্রিয়ল পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের বাসিন্দাদের কাছ থেকে তারা এই দ্বি-স্তরের বিস্ফোরণের শব্দের ডজন খানেক সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন পেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এটি স্বাভাবিক উল্কার চেয়ে আকারে বেশ বড় ছিল।

পাথরটির গতিপথ ও গতিবেগ বিশ্লেষণ করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এর বেশিরভাগ অংশই মাটিতে পড়ার আগে সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, আর যদি কোনো অংশ অবশিষ্ঠ থেকে থাকে তবে তা সোজা আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়েছে। নোয়া-এর অত্যাধুনিক ‘গোয়েস-১৯’ স্যাটেলাইটও এই অদ্ভুত আলোর ঝলকানি নিখুঁতভাবে ক্যামেরাবন্দী করেছে, যা কোনো বজ্রঝড়ের আলো ছিল না।

মহাকাশ বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদ নিক স্টুয়ার্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, বোস্টনের আকাশে অনাকাঙ্ক্ষিত এই আলোর ঘনত্ব বিশ্লেষণ করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি একটি অতি শক্তিশালী বোলিড বা উল্কার পুনঃপ্রবেশের ঘটনা ছিল। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা আরও স্পষ্ট করেছে, সাধারণত ভূগর্ভের একটি নির্দিষ্ট স্থানে ঘটা ভূমিকম্পের চেয়ে এই আকাশীয় সনিক বুমের ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ এটি বায়ুমণ্ডলের একটি সরল রৈখিক পথ ধরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

নাসা স্পেস অ্যালার্টের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নিউ ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার অসংখ্য মানুষ এই বিরল মহাজাগতিক আলোর ঝলকানি ও তীব্র বিস্ফোরণের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষী হয়েছেন।

সূত্র: এনডিটিভি




বিশ্ববাজারে ফের কমল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও আজ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। আগের দিন বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
জিও নিউজের প্রতিবেদন অনযায়ী, মঙ্গলবার (২ জুন) গ্রিনউইচ সময় সকাল ৪টা ৩৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭৫ সেন্ট বা ০.৭৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪.২৩ ডলারে নেমে আসে।  একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৮৫ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ কমে ৯১.৩১ ডলারে দাঁড়ায়।
এর আগে সোমবার দুই ধরনের তেলের দামই ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। যদিও মে মাসজুড়ে শান্তিচুক্তির আশায় তেলের দাম ১৬ শতাংশেরও বেশি কমেছিল।
বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির আশায় বাজার অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে চাইলেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না, যা তেলের বাজারকে স্বস্তি দিতে পারে।
এদিকে,  সোমবার (১ জুন) সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, আলোচনা শেষ হয়ে গেলেও তার আপত্তি নেই। তবে কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
পরে এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, বর্তমানে বাজারের নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় বাস্তব অগ্রগতি বা নতুন কোনো জটিলতা তৈরি হচ্ছে কি না, দুই পক্ষের বক্তব্যের ধরন এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থানের দিকে। পাশাপাশি ওই জলপথ দিয়ে ট্যাংকার চলাচলের বাস্তব পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।
তার মতে, আলোচনা কোন দিকে এগোয়, সেটিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে তেলের দামে বর্তমানে যুক্ত হওয়া ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্য (রিস্ক প্রিমিয়াম) থাকবে নাকি কমে যাবে।
এদিকে সোমবার লেবানন আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। এর আওতায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত কিছুটা কমতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের একটি ছোট পদক্ষেপ।
আইজি গ্রুপের বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিনিয়ত নতুন খবর আসছে। ফলে শান্তিচুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত উপসাগরীয় অঞ্চলে অ-ইরানি জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের শোধনাগারগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের চাহিদা বেড়েছে। ফলে মে মাসে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দৈনিক ৫৬ লাখ ব্যারেলের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
রয়টার্সের এক প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, ২৯ মে শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সঙ্গে ডিজেল ও পেট্রোলের মজুতও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শিপিং খাতের কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি হলে তাতে অবশ্যই স্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে, যাতে জাহাজগুলো নিরাপদে ও স্বাভাবিকভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল পুনরায় শুরু করতে পারে।



‘তুমি উন্মাদ, সবাই তোমাকে ঘৃণা করে’, নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি বলেন, বর্তমানে সবাই তাকে ঘৃণা করে এবং তার কর্মকাণ্ডের কারণে ইসরায়েলও আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা প্রচেষ্টাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এ অবস্থায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেন।

ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, “তুমি উন্মাদ হয়ে গেছ। আমি না থাকলে তুমি কারাগারে থাকতে। আমি তোমাকে রক্ষা করছি। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। তোমার কারণে ইসরায়েলকেও ঘৃণা করছে সবাই।”

এক পর্যায়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর কাছে জানতে চান, “তুমি আসলে কী করছ?”

সূত্রগুলোর দাবি, ট্রাম্প জানতেন যে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে হামলা চালাচ্ছিল এবং আত্মরক্ষার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহু পরিস্থিতিকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি উসকে দিচ্ছেন বলে মনে করেন তিনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বৈরুতে হামলার একটি পরিকল্পনা নিয়েও ট্রাম্প আপত্তি জানান। তার আশঙ্কা ছিল, লেবাননের রাজধানীতে বড় ধরনের হামলা চালানো হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এ ছাড়া একজন হিজবুল্লাহ কমান্ডারকে লক্ষ্য করে পুরো ভবন ধ্বংস করার পরিকল্পনাতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

ফোনালাপের পর এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, বৈরুতে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে এসেছে ইসরায়েল।

পরে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, তিনি নেতানিয়াহুকে বৈরুতে বড় ধরনের অভিযান না চালানোর অনুরোধ করেছিলেন এবং নেতানিয়াহু সেনাদের পিছু হটার নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য তিনি নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদও জানান।

একই বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে এবং তারা ইসরায়েল ও ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। পাল্টা হিসেবে ইসরায়েলও হামলা বন্ধে রাজি হয়েছে। তবে এই সমঝোতা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে নেতানিয়াহু ফোনালাপের বিষয়টি স্বীকার করলেও ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ হামলা অব্যাহত রাখলে বৈরুতে আঘাত হানতে পারে ইসরায়েল। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর পরিকল্পিত অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে থাকলেও পরে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা ইরানকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্যও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ তেহরান চাইছে, যেকোনো সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় লেবাননের পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত থাকুক।

এদিকে লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর একটি প্রস্তাবে হিজবুল্লাহ সম্মতি দিয়েছে। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালাবে না এবং হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েলে হামলা থেকে বিরত থাকবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া




জেট ফুয়েল বিক্রি সাময়িক বন্ধ করলো রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়া বিমান চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল বা বিমান জ্বালানি রপ্তানির বা বিক্রির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দেশজুড়ে তেল শোধনাগার এবং অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের হামলার ফলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

সোমবার ক্রেমলিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে, যা আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

রাশিয়া মূলত রেলপথে মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তানে জেট ফুয়েল বা বিমানের জ্বালানি রপ্তানি করে থাকে।

রুশ সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পণ্য বিনিময়ের উদ্দেশ্যে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কেনা জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রেও এই নতুন বিধিনিষেধ সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

ক্রেমলিন স্পষ্ট করেছে, ‘এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।’

তবে রুশ প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিশেষ ছাড় বা ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করেছে, যার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পূর্বে সম্পন্ন হওয়া শুল্ক প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির অধীনে থাকা জ্বালানি সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।