গাজায় বিয়ের আসরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, শিশুসহ নিহত ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। 

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গাজা সিটির তুফাহ এলাকায় একটি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের বিয়ের আসরে এই বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই নৃশংস হামলায় বর-কনে পক্ষের অন্তত ৬ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অধীনে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই এমন প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

তুফাহ এলাকার একটি স্কুল ভবনে যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি হারানো কয়েকটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল এবং সেখানেই দোতলার একটি কক্ষে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। আনন্দমুখর সেই পরিবেশে হঠাৎ ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ করা হলে মুহূর্তেই উৎসবের আমেজ শোকে পরিণত হয়।

আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়ের জায়গায় এই হামলার কোনো যৌক্তিক কারণ এখন পর্যন্ত ব্যাখ্যা করেনি ইসরায়েলি বাহিনী। উল্লেখ্য যে, গত ১০ অক্টোবর ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় তিন স্তরের একটি শান্তি চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ৬ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল, যার মেয়াদ বর্তমানে শেষের দিকে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা যখন হামাস ও ইসরায়েল উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার জন্য জোরালো তাগাদা দিচ্ছেন, তখন আইডিএফ-এর এই কর্মকাণ্ড শান্তি প্রক্রিয়াকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

গত দুই বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও ইসরায়েলি বাহিনীর বারবার শর্ত লঙ্ঘনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী ছোট-বড় মিলিয়ে দেড় শতাধিকবার হামলা চালিয়ে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। তুফাহ এলাকার এই স্কুলটিতে হামলা চালিয়ে ৬ জনকে হত্যার ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুদ্ধের বিভীষিকা কাটিয়ে যখন সাধারণ মানুষ একটু স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিল, তখন বিয়ের আসরে এই রক্তপাত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা




জাতিসংঘের ব্রিফিংয়ে ওসমান হাদি হত্যা ইস্যু, বিচার চাইলেন মহাসচিব

ডেস্ক নিউজঃ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এ তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে স্টিফেন দুজারিক বলেন, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জাতিসংঘের নজরে এসেছে। মহাসচিব এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং সহিংসতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে হবে, যাতে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিবেশ বজায় থাকে।

এর আগে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। সংস্থাটি হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত, নিরপেক্ষ, পুঙ্খানুপুঙ্খ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ফলকার তুর্ক।

জেনেভা থেকে পাঠানো ওই বিবৃতিতে ভলকার তুর্ক বলেন, গত বছর বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদি মৃত্যুবরণ করেন। বিবৃতিতে মানবাধিকার কমিশনার বলেন, প্রতিশোধ কেবল বিভেদকে আরও গভীর করবে এবং সবার অধিকার ক্ষুণ্ন করবে।




কম্বোডিয়ায় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা থাইল্যান্ডের

বিশেষ প্রতিবেদকঃ কম্বোডিয়ায় নতুন করে ‘এফ-১৬’ যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালিয়েছে থাইল্যান্ড। কম্বোডিয়া জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের বাহিনী বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রিয়াহ ভিহিয়ার প্রদেশে ‘এফ-১৬’ যুদ্ধবিমান দিয়ে নতুন করে হামলা চালিয়েছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রেশ নিউজ জানিয়েছে, সকালের দিকে থাই বিমানগুলো নম কমোচ এবং পিক স্বিক এলাকায় বোমাবর্ষণ করে। গত ১২ দিন আগে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৫৫ জন নিহত হয়েছেন।

কম্বোডিয়ার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংকল্পের সঙ্গে দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষা করে চলবে তাদের বাহিনী। অপরদিকে রয়্যাল থাই আর্মি জানিয়েছে, ৭ ডিসেম্বর সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ক্যাসিনো এবং হোটেলসহ আন্তর্জাতিক জালিয়াতি নেটওয়ার্কের ব্যবহৃত ছয়টিরও বেশি ভবন ধ্বংস করেছে।

এছাড়া রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সীমান্ত সংঘাতে থাইল্যান্ড বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেছে কম্বোডিয়া। হাসপাতালে কম্বোডিয়ার এক সেনা এ হামলার বর্ণনা দিয়েছেন। কম্বোডীয় সেনা কুন ইয়ং বলেছেন, সম্প্রতি তিনি সীমান্তে তার অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। থাই বিমান থেকে হামলার পর শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় তাকে সরে যেতে হয়েছে বলে জানান এ সেনা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।’
ডিসেম্বরের শুরু থেকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষে লিপ্ত। এ সংঘর্ষে দুই দেশে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কয়েক দশকের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুই দেশের মধ্যে এটিই সবচেয়ে তীব্র লড়াই। কম্বোডিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বান্টি মিঞ্চি প্রদেশে বেশ কয়েকজন সেনা ও পুলিশ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাই বিমান হামলার পর শ্বাসকষ্টে ভোগার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছে। তারা বলছেন, থাই বিমান থেকে বিষাক্ত পানি ছোড়া হয়েছিল। ওদিকে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় প্রতিদিনই দাবি করে আসছে যে, থাই সেনাবাহিনী ‘বিষাক্ত গ্যাস’ ব্যবহার করছে।

এদিকে কম্বোডিয়ার এ অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করেছে থাই কর্তৃপক্ষ। রয়টার্সকে থাই বিমানবাহিনীর মুখপাত্র এয়ার মার্শাল জ্যাকরিত থাম্মভিচাই বলেছেন, তারা কখনই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেননি।
এর আগে, গত জুলাইয়ে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষের সময় কম্বোডিয়া সাদা ফসফরাস গোলা ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিল থাই বাহিনীর বিরুদ্ধে। থাইল্যান্ড তাদের কাছে এ ধরনের অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেছিল। তবে বলেছিল, আন্তর্জাতিক কনভেনশনের আওতায় এই অস্ত্র রাসায়নিক অস্ত্র হিসাবে গণ্য নয়।




১২ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিলো ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজা উপত্যকা থেকে আটক ১২ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে তাদের হেফাজত থেকে মুক্তি দিয়েছে। 

বুধবার (১৭ নভেম্বর) ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক মিডিয়া অফিস টেলিগ্রামে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের কেরেম আবু সালেম ক্রসিংয়ে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

বন্দি মুক্তির এই খবরের পাশাপাশি গাজায় একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের ছোড়া একটি মর্টার শেল ভুলবশত লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়ার কারণে অন্তত একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’ বুধবার এই সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিজেরাই তাদের এই ভুল শেলিংয়ের কথা স্বীকার করেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, মর্টার শেলটি লক্ষ্যচ্যুত হওয়ার বিষয়টি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং তারা ইতিমধ্যে এর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। তবে গাজায় চলমান পরিস্থিতির মধ্যেও এ ধরনের প্রাণঘাতী যান্ত্রিক বা কৌশলগত ভুল সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অন্যদিকে মুক্তিপ্রাপ্ত ১২ ফিলিস্তিনির পরিচয় বা তাদের আটকের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।




রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানাল সংযুক্ত আরব আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত – নতুন বছরকে সামনে রেখে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পবিত্র রমজান এবং ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছে এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি।

এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল–জারওয়ান বলেন, ১৪৪৭ হিজরির রমজান মাসের চাঁদ ১৭ ফেব্রুয়ারি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সে অনুযায়ী, রমজান মাস শুরু হতে পারে ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং এটি চলতে পারে ২৯ বা ৩০ দিন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি ২০ মার্চ শুরু হতে পারে।

সংস্থার চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল-জারওয়ান জানান, রমজান মাস যদি ৩০ দিন পূর্ণ না হয়, তবুও ইউএই সরকারের নীতি অনুযায়ী ৩০তম দিনটি ঈদের ছুটির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। ফলে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য ছুটি ১৯ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত টানা চার দিন হবে। জ্যোতির্বিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর শুরু হতে পারে ২০ মার্চ।

২০২৬ সালে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ছুটি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আরাফাত দিবস হতে পারে ২৬ মে এবং ঈদুল আজহা শুরু হতে পারে ২৭ মে। এই ছুটি ২৯ মে পর্যন্ত চলতে পারে। সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হলে বাসিন্দারা সর্বোচ্চ ছয় দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবেন।

তবে অন্যান্য ইসলামি ছুটির মতো, ইউএইতে ঈদের চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ওপর। নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি এসে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটির দিন ঘোষণা করবে।




জাপানে ভূমিকম্পে আহত অন্তত ৩০, সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ জাপানের উত্তরাঞ্চলে সোমবারের ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) জানিয়েছে। ভূমিকম্পে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তীব্র শীতের মধ্যে বহু মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। খবর জাপান টাইমসের।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানায়, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫, এর আগে ৭ দশমিক ৬ বলা হয়েছিল। সংস্থাটি আরও সতর্ক করে বলেছে, আগামী কয়েক দিনে একই রকম বা আরও বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে।

সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার হলেও জাপানের বাসিন্দাদের আগামী এক সপ্তাহ সতর্ক ও ভূমিকম্পের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পরামর্শ দিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান, আওমোরি অঞ্চলের উপকূলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে ৩০ জন আহত হয়েছেন। এতে সাগরে সর্বোচ্চ ৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হয়েছিল। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় হোক্কাইডো থেকে সানরিকু উপকূলের অদূরবর্তী অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা এখন বেশি।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আওমরি উপকূলের অদূরে। এর পরপরই হোক্কাইডো ও আওমোরির পূর্ব উপকূলজুড়ে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাঁচটি অঞ্চলের সোয়া ১ লাখ বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশও উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পে পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিপর্যয়ের কারণে আওমোরি ও ইওয়াতে প্রায় ৪৮০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর (জেএমএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের তীব্রতা আওমরির হাচিনোহে শহরে জাপানি শিন্ডো স্কেলে আপার-৬ রেকর্ড করা হয়। এটি প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছিল।

প্রথমে তিন মিটার পর্যন্ত সুনামির সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। হাজারো বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল ৭০ সেন্টিমিটার। কয়েক ঘণ্টা পরে সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।

কিছু এলাকায় বুলেট ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়, যেন প্রকৌশলীরা রেললাইনের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে পারেন।

২০১১ সালে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে যে সুনামি আঘাত হানে, তাতে ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে।

জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অব ফায়ারের পশ্চিম প্রান্তে চারটি বড় টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি।

 




বাংলাদেশে বিক্রি করতে না পেরে ভারতে পেঁয়াজের ‘শেষকৃত্য’ করলো ব্যবসায়ীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ কোনো মানুষের নয়, ভারতে শেষকৃত্যের আয়োজন চলছে পেঁয়াজের। এ বছর বাংলাদেশে পেঁয়াজের রেকর্ড উৎপাদনের কারণে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা চড়া দামে রপ্তানি করতে না পেরে হয়েছেন কার্যত পথে বসা।  

কেজি দুই রুপিতেও কেউ পেঁয়াজ কিনছে না দেশটিতে। সেই হতাশা, রাগ–ক্ষোভ থেকেই অভিনব এই প্রতিবাদ। মধ্যপ্রদেশে কৃষকরা ঘটা করে আয়োজন করছেন পেঁয়াজের প্রতীকী শেষকৃত্যের। যে ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদনের জেরে এবার ভারতের কৃষকদের নিতে হচ্ছে ভিন্নধর্মী প্রতিবাদের পথ। দেশে মাত্র দুই রুপিতেও পেঁয়াজ বিক্রি না হওয়ায় মধ্যপ্রদেশের অনেক চাষি ক্ষোভ–হতাশায় আয়োজন করেছেন পেঁয়াজের প্রতীকী শেষকৃত্য। শেষকৃত্যের এই ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

চলতি বছরে বাংলাদেশের পেঁয়াজ উৎপাদন গত কয়েক বছরের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন কোনো ঘাটতি নেই, ফলে কৃষকদের সুবিধা ও উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে সরকার আমদানি বন্ধ রাখে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বড় ধাক্কা লাগে ভারতের মধ্যপ্রদেশের মান্দাসৌর অঞ্চলে। বাংলাদেশের বাজার হারিয়ে এবং স্থানীয়ভাবে দাম না পাওয়ায় সেখানকার কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রতীকী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

বাংলাদেশের বাজারে যখন নতুন দেশি পেঁয়াজের সরবরাহে স্বস্তির হাওয়া বইছে, ঠিক তখনই পাশের দেশ ভারতে নেমে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। মধ্যপ্রদেশের মান্দাসৌরে পেঁয়াজের দাম নেমে গেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে—কেজিপ্রতি মাত্র দুই রুপি। এত কম দামেও ক্রেতা না মেলায় ক্ষুব্ধ কৃষকেরা রাস্তায় পেঁয়াজের বস্তা ফেলে প্রতিবাদ করছেন, এমনকি পেঁয়াজের প্রতীকী শেষকৃত্যও আয়োজন করছেন। তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ রপ্তানি বন্ধ করায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গিয়ে এ ভয়াবহ দরপতন হয়েছে।

বাংলাদেশে অবশ্য দৃশ্য সম্পূর্ণ আলাদা। মৌসুমের শুরু থেকেই নতুন পেঁয়াজ ঘিরে স্থানীয় কৃষকেরা ভালো মূল্যের আশায় আছেন। সামনে মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ আসছে, যা রবি মৌসুমে দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ পূরণ করে এবং তিন থেকে পাঁচ মাস বাজারকে স্থিতিশীল রাখে। এর সঙ্গে খারিফ–১ মৌসুমের উৎপাদন যুক্ত হওয়ায় সারা বছরই দেশীয় পেঁয়াজের যোগান বজায় থাকে। ফলে আমদানির প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ভারতের গণমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, বাংলাদেশ আগে ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কিনত। এবার সেই দরজা বন্ধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের উৎপাদনক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের স্বার্থেই আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে ভারতের পাইকারি বাজারে পচে যাচ্ছে বিশাল পরিমাণ পেঁয়াজ।

ভারতীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, রপ্তানি বন্ধ থাকাই এই সংকটের মূল কারণ। অন্যদিকে বাংলাদেশের কৃষকেরা এখন অনেকটাই নিশ্চিত যে, দেশীয় উৎপাদনেই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখা যাচ্ছে।




সামরিক নিয়ন্ত্রণের ছদ্মবেশে ২০২৪ সালের পাকিস্তানের নির্বাচন, মার্কিন কংগ্রেসের উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ৪২ জন প্রভাবশালী মার্কিন আইনপ্রণেতা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দমন-পীড়ন এবং মানবাধিকারের ক্রমবর্ধমান লঙ্ঘনকে কেন্দ্র করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি লিখেছেন। চিঠির নেতৃত্ব দেন ভারতীয়-আমেরিকান কংগ্রেসওম্যান প্রমিলা জয়পাল এবং কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ক্যাসার। 

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ভারতীয় ইংরেজি ভাষার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডব্লিউআইওএন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

গত ৩ ডিসেম্বর চিঠিতে  আইনপ্রণেতারা জানান, পাকিস্তান কর্তৃত্ববাদের দিকে এগোচ্ছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। আইনপ্রণেতারা যুক্তি দেন, পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বকে জবাবদিহি করানো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও দায়িত্ব। তারা প্রশাসনকে দ্রুত ভিসা নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ জব্দের মতো পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

এছাড়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তানের অনুসন্ধানী সাংবাদিক আহমেদ নূরানি সামরিক দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসলামাবাদে অপহরণ ও মারধরের শিকার হন। এছাড়া পাকিস্তানি-আমেরিকান সঙ্গীতশিল্পী সালমান আহমেদ ও তার পরিবারের ওপর সামরিক বাহিনীর হুমকির ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সঙ্গীতশিল্পী সালমান আহমেদের শ্যালককেও অপহরণ করে বিনা অভিযোগে আটক করা হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও এফবিআইয়ের হস্তক্ষেপে সমাধান হয়।




নতুন স্বর্ণভাণ্ডার আবিষ্কারের ঘোষণা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরান তাদের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণখনিতে বিশাল নতুন স্বর্ণভাণ্ডার আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) স্থানীয় গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশ হয়েছে। 

পূর্বাঞ্চলীয় দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশে অবস্থিত বেসরকারি মালিকানাধীন শাদান স্বর্ণখনিতে নতুন এই শিরা কাঠামো পাওয়া গেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সি একে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে। এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মজুদগুলো শিল্প, খনি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শাদান স্বর্ণখনির প্রমাণিত মজুদ বিশাল স্বর্ণশিরা আবিষ্কারের পর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেখানে রয়েছে ৭.৯৫ মিলিয়ন টন অক্সাইড স্বর্ণ আকরিক এবং ৫৩.১ মিলিয়ন টন সালফাইড স্বর্ণ আকরিক। অক্সাইড আকরিক সাধারণত উত্তোলন করা তুলনামূলকভাবে সহজ ও কম ব্যয়বহুল।

ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তার জাতীয় স্বর্ণের মজুদের পরিমাণ প্রকাশ করেনি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বর্ণ কেনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে বলে দাবি করে তারা। গত সেপ্টেম্বর ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদর রেজা ফারজিন বলেন, ২০২৩-২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশ্বে সর্বাধিক স্বর্ণক্রয়কারী পাঁচ ব্যাংকের একটি ছিল।

স্থানীয় গণমাধ্যম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ইয়েকতা আশরাফির উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে স্বর্ণের মজুদ বাড়ানো সহায়ক হবে।

ইরানে মোট ১৫টি স্বর্ণখনি রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জারশোরান খনি। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে পরমাণু কর্মসূচির সামরিকীকরণের অভিযোগ আনার পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়াও, ইসরাইলের নজিরবিহীন হামলার পর শুরু হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধে, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইসরাইলের সাথে ইরানের পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করায় দেশের অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। অত্যধিক মুদ্রাস্ফীতি এবং রিয়ালের অবমূল্যায়নের কারণে ক্রমাগত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেক ইরানির কাছে স্বর্ণ একটি নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ডলার অনানুষ্ঠানিক বাজারে প্রায় ১১.৭ লাখ রিয়াল এবং ইউরো প্রায় ১৩.৬ লাখ রিয়ালে লেনদেন হয়েছে বলে বিনিময় হার পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট বোনবাস্ট ও আলানচান্ড তথ্য দিয়েছে।




পর্তুগালে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীদের ঐক্যের নতুন অধ্যায়- ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি অব পর্তুগালের নতুন কমিটি ঘোষণা**

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা, সংগ্রাম আর নিজের শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা—এই তিন অনুভূতিকে একসূত্রে গেঁথে পর্তুগালে বসবাসরত ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছেন। সেই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় প্রবাসীদের কল্যাণ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কমিউনিটির ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি অব পর্তুগাল–এর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন পর্তুগালপ্রবাসী সুপরিচিত কমিউনিটি সংগঠক কাজী আনোয়ার হোসেন কায়েফ।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তরুণ সমাজকর্মী সোহাগ হাসান, আর সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন সাব্বির মাহমুদ।

উপদেষ্টা পরিষদে অভিজ্ঞ ও প্রবীণ কমিউনিটি নেতারা

ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীদের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যাঁরা নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন, সেসব অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়ে গঠিত হয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এতে রয়েছেন— শাহাদাত হোসেন শাহিন, নাছির হোসেন, রেজাউল করিম আবেদ, ফারুক হোসেন, খোকা মিয়া, জাবেদ মিয়া, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুজিবুর রহমান, আব্দুস সাত্তার, আকরামুল ইসলাম, শাহেদ সোহেল, জহিরুল ইসলাম ও তুহিন মিয়া।

নতুন কমিটির ঘোষণাকে ঘিরে কমিউনিটির সদস্যদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— শেখ সুমন, কাজী আসলাম, মনির হোসেন, মাহাদী জয়, শাহেদ মোল্লা, এরশাদ মিয়া, ফেরদৌস মিয়া, বাবু শিকদার ও আতিক আল মামুন।

কমিউনিটির সুনাম রক্ষায় অঙ্গীকার

নবনির্বাচিত সভাপতি কাজী আনোয়ার হোসেন কায়েফ বলেন,
“প্রবাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুনাম ধরে রাখা ও কমিউনিটির ঐক্য সুদৃঢ় করতে কাজ করব। প্রবাসীদের কল্যাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা শুধু দেশের অর্থনীতির সহায়ক নন; তাঁরা দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন। তাই কমিউনিটির প্রতিটি সদস্যকে সম্মান, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করাই হবে নতুন নেতৃত্বের মূল দায়িত্ব।

সবার প্রত্যাশা—প্রবাসীদের স্বার্থে কার্যকর ভূমিকা

নবগঠিত কমিটি নিয়ে কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাঁদের মতে, সুশৃঙ্খল একটি কমিটি প্রবাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীদের ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যা, কর্মসংস্থান, সামাজিক সহায়তা, মানবিক সহযোগিতা এবং নতুন প্রবাসীদের দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন— “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ পরিশ্রমী, ঐক্যবদ্ধ এবং মানবিক কাজের প্রতি আগ্রহী। পর্তুগালে এই কমিউনিটি সেই ভাবমূর্তি ধরে রাখবে। নতুন কমিটির মাধ্যমে প্রবাসীরা আবারও এক নতুন শক্তিতে সংগঠিত হবে।”

কমিউনিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নতুন কমিটি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কার্যক্রম হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • প্রবাসীদের জরুরি সহায়তা সেল।
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের জন্য তথ্য–উপাত্তভিত্তিক ডাটাবেজ।
  • নতুন প্রবাসীদের সহায়তা ও দিকনির্দেশ।
  • ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন।
  • মৃত্যু ও দুর্ঘটনায় সহযোগিতা তহবিল।
  • স্থানীয় পর্তুগিজ সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন।

কমিউনিটির সদস্যদের বিশ্বাস, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু প্রবাসীদের উপকারেই নয়, দেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সবার শুভেচ্ছা, সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি অব পর্তুগালের নতুন কমিটি তাদের যাত্রা শুরু করল। প্রবাসের মাটিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ঐক্য, সুনাম ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাবে—এমনই প্রত্যাশা সকলের।