হান্টাভাইরাস আক্রান্ত ক্রুজ শিপের স্প্যানিশ নাগরিকের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শিকার হওয়া প্রমোদতরি ‘এমভি হন্ডিয়াস’ থেকে উদ্ধারকৃত এক স্প্যানিশ নাগরিকের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। সোমবার স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদ্রিদের একটি হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় ওই ব্যক্তির পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

আক্রান্ত ব্যক্তি ‘এমভি হন্ডিয়াস’ প্রমোদতরিতে থাকা ১৪ জন স্প্যানিশ নাগরিকের একজন, যাদের গত ১০ মে থেকে মাদ্রিদের গোমেজ উল্লা সেন্ট্রাল ডিফেন্স হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল।

প্রমোদতরিতে প্রাথমিক প্রাদুর্ভাবের পর শুরু হওয়া মহামারি-সংক্রান্ত নজরদারির মাধ্যমে এই রোগীকে চিহ্নিত করা হয়। সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই রোগীকে হাসপাতালের উচ্চ-স্তরের আইসোলেশন ইউনিটে (UATAN) স্থানান্তর করা হয়েছে। ওই জাহাজে থাকা স্প্যানিশ নাগরিকদের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। অবশ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনগণকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, যেহেতু কঠোর আইসোলেশন ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মধ্যেই এই সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, তাই সাধারণ মানুষের জন্য কোনো বাড়তি ঝুঁকি নেই।

গত এপ্রিলে প্রমোদতরি ‘এমভি হন্ডিয়াস’ আর্জেন্টিনা থেকে রওনা হওয়ার পর তিন যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে বেশ কয়েকটি দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে অনুসন্ধান শুরু করে। এপ্রিলের শেষের দিকে জাহাজের বেশ কিছু যাত্রী দূরবর্তী দক্ষিণ আটলান্টিক দ্বীপ সেন্ট হেলেনায় নেমে যান। বাকি যাত্রীরা মে মাসে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নামার পর তাদের নিজ নিজ দেশে বিমানে ফেরত পাঠানো হয় এবং ক্রু সদস্যরা পরে নেদারল্যান্ডসে জাহাজ থেকে অবরোহন করেন।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মে মাসের শুরুতে জাহাজে থাকা যাত্রীদের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সময় এখনই। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইজ্যাক বোগোচ জানিয়েছেন, ভাইরাসটির গড় ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা লক্ষণ প্রকাশের সময়কাল প্রায় তিন সপ্তাহ, তবে এটি প্রকাশ পেতে সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নিতে পারে। এই কারণেই আক্রান্ত জাহাজ থেকে নামার পর যাত্রীদের কমপক্ষে ৪২ দিন পর্যবেক্ষণে রাখছে বিভিন্ন দেশের প্রশাসন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই ভাইরাসটি সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়, তবে এই প্রমোদতরিতে এটি মানুষের থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি একটি বিরল রোগ যা প্রাথমিকভাবে সাধারণ ফ্লুর মতো অনুভূত হয় এবং এর ফলে ক্লান্তি, জ্বর, কাঁপুনি ও শরীরে ব্যথা হতে পারে। তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ভাইরাস মানবদেহের হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস বা কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এবং এর ফলে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও অঙ্গ বিকল হয়ে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।




ট্রাম্পের ‘নরককুণ্ড’ মন্তব্য ঢাকতে মোদি-বন্দনায় মাতলেন রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে রবিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের পাশে দাঁড়িয়ে এক মার্কিন সাংবাদিকের গুগলি প্রশ্নের মুখে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয়দের বর্ণবাদের শিকার হওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত পোস্ট নিয়ে সাংবাদিক প্রশ্ন তুললে রুবিও জানান, শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন এটি সাধারণ কোনো অনলাইন কনটেন্ট বা ট্রলের বিষয়। প্রথম দিকে সুনির্দিষ্ট কোনো উদাহরণ না পেয়ে রুবিও মন্তব্য করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারা এসব ছড়াচ্ছে তা বলা কঠিন, কারণ এগুলো কোনো ইন্টারনেট ট্রল বা বটও হতে পারে। তবে সাংবাদিক যখন সুনির্দিষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই একবার ভারতকে ‘নরককুণ্ড’ বলে অভিহিত করেছিলেন, তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মার্কো রুবিও স্পষ্ট ভাষায় জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতকে অত্যন্ত ভালোবাসেন এবং তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একজন মস্ত বড় ভক্ত। মাত্র আগের রাতেই একটি অনুষ্ঠানে ফোনকলে ট্রাম্প ভারতের প্রতি তার এই ভালোবাসার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রুবিও আরও যোগ করেন, প্রেসিডেন্ট নিজে না চাইলে তিনি আজ ভারতে আসতেন না এবং ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সার্জিওর মতো কাউকে ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হতো না।

সাংবাদিককে পাল্টা খোঁচা দিয়ে রুবিও বলেন, তিনি প্রথমে সুনির্দিষ্ট উদাহরণ দেওয়ার সুযোগ দিলেও সাংবাদিক তা বলতে পারেননি, যার কারণে তিনি ভেবেছিলেন এটি হয়তো সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো সাধারণ মন্তব্য। দুর্ভাগ্যবশত বিশ্বের প্রতিটি দেশেই কিছু মানুষ প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটে বোকার মতো কথা বলে থাকে।

এই পুরো বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল গত এপ্রিল মাসে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন পডকাস্টারের একটি আপত্তিকর পোস্ট নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন, যেখানে ভারতকে ‘নরককুণ্ড’ বলে বর্ণনা করা হয়েছিল। সেই সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের নাম সরাসরি উচ্চারণ না করেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছিলেন, এই ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই ভারত ও আমেরিকার মধ্যকার প্রকৃত সম্পর্কের প্রতিফলন নয়, যা দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও যৌথ স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে।

রবিবারের এই ব্রিফিংয়ে ভারতীয় এবং ভারতীয়-আমেরিকানদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্যের উদ্বেগ নিয়ে রুবিও বলেন, তিনি এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তিনি খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেন যে, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই কিছু বোকা মানুষ থাকে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এমন কিছু মানুষ আছে যারা সারাক্ষণ এমন নির্বোধের মতো মন্তব্য করে। সেইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতিতে ভারতীয়দের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ মার্কিন সংস্কৃতিতে মিশে গিয়ে দেশটিকে সমৃদ্ধ করেছেন।

চার দিনের ভারত সফরে আসা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।




ট্রাম্প কি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই নিজেকে সফল ও জয়ী হিসেবে দাবি করে আসছেন। কিন্তু সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঘুরে ফিরে এই প্রশ্নই আসছে যে, তিনি কি এই যুদ্ধে আসলেও জয়ী হয়েছেন নাকি হেরে যাচ্ছেন? 

হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ নিয়ে আপস না করা এবং তাদের বহু শীর্ষ নেতা নিহত হওয়ার পরেও দেশের নেতৃত্বে সবার অবিচল অবস্থান ও এক্যের কারণে এই সন্দেহ ক্রমশ বাড়ছে যে, ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীর কৌশলগত সাফল্যগুলোকে এমন কোনো ফলাফলে রূপান্তরিত করতে পারবেন কি না, যাকে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ভূ-রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।

কিছু বিশ্লেষকের মতে, তার বারবার করা পূর্ণ বিজয়ের দাবি অন্তঃসারশূন্য মনে হচ্ছে, কারণ দুই পক্ষই অনিশ্চিত কূটনীতি এবং হামলা পুনরায় শুরু করার হুমকির মধ্যে দোদুল্যমান, যা নিশ্চিতভাবেই এই অঞ্চলজুড়ে ইরানের পাল্টা প্রতিশোধের কারণ হবে।

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিলো ইরান
ট্রাম্পের জন্য এখন এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে যে, এই সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় আরব মিত্ররা আরও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় বেরিয়ে আসবে। অন্যদিকে ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার পরেও আরও বেশি সুবিধা পেতে পারে, কারণ তারা দেখিয়েছে যে, তারা বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম। তারা হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপের কারণে সারাবিশ্বেই জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে অবরোধে বড় সংকটে বিশ্ব
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক সার সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সার এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। উপসাগরীয় দেশগুলো বিশ্বে ব্যবহৃত ইউরিয়ার ৪১ শতাংশ রপ্তানি করে। এছাড়া তারা অ্যামোনিয়া, ফসফেট শিলা ও সালফারেরও বড় অংশ সরবরাহ করে, যা কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে নাইট্রোজেন ইউরিয়ার দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এত বেশি দাম আর দেখা যায়নি।

জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, এই সরবরাহ ব্যাহত অবস্থা চলতে থাকলে আরও প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ঘাটতির মুখে থাকা মানুষের সংখ্যা রেকর্ড ৩৬ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছাতে পারে। যুক্তরাজ্য সতর্ক করেছে যে, ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধ বৈশ্বিক খাদ্য সংকট তৈরি করতে পারে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুপার বলেছেন, বিশ্ব ধীরে ধীরে একটি বড় সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, অথচ অনেকেই তা বুঝতে পারছে না। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সারবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে।

কৌশলগত ব্যর্থতা
সংকট এখনো শেষ হয়নি এবং কিছু বিশেষজ্ঞ এই সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন যে, আলোচনা যদি ট্রাম্পের অনুকূলে যায়, তবে তিনি হয়তো এখনো সম্মানজনক কোনো পথ খুঁজে নিতে পারেন।

কিন্তু অন্যরা ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ-পরবর্তী এক ভয়াবহ পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিচ্ছেন। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, তিন মাস কেটে গেছে এবং মনে হচ্ছে যে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য একটি স্বল্পমেয়াদী বিজয় হিসেবে পরিকল্পিত হয়েছিল কিন্তু তা একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হচ্ছে।

ট্রাম্পের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ তিনি পরাজয় মেনে নিতে অভ্যস্ত নন এবং তিনি সব সময় তার বিরোধিদেরই পরাজিত বলে উল্লেখ করতে পছন্দ করেন। ইরান সংকটে তিনি নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে এমন এক দ্বিতীয় সারির শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে দেখছেন, যারা নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উভয়সংকট ট্রাম্পকে এমন যেকোনো আপসের বিরোধিতা করতে আরও বেশি উৎসাহিত করতে পারে, যা তার চরমপন্থি অবস্থান থেকে পিছু হটা বা ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের ওবামা আমলের পারমাণবিক চুক্তির পুনরাবৃত্তির মতো মনে হতে পারে। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ওই চুক্তি বাতিল করেছিলেন। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে তাদের সব সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেছে বা ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব ক্ষমতা এবং তিনি বিচক্ষণতার সঙ্গে সব বিকল্প খোলা রেখেছেন।

চাপ ও হতাশা
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রচারণায় অপ্রয়োজনীয় সামরিক হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক জটিলতায় জড়িয়ে ফেলেছেন যা তার পররাষ্ট্রনীতির রেকর্ড এবং বিদেশে তার বিশ্বাসযোগ্যতার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অজনপ্রিয় যুদ্ধে নামার পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের উচ্চ মূল্য এবং নিম্ন জনসমর্থন নিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়ার মধ্যেই এই চলমান অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তার রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

ফলস্বরূপ যুদ্ধবিরতির ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় পর কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, ট্রাম্প একটি কঠিন পছন্দের মুখোমুখি: একটি সম্ভাব্য ত্রুটিপূর্ণ চুক্তিকে পরিত্রাণের পথ হিসেবে গ্রহণ করা অথবা সামরিকভাবে পরিস্থিতি আরও বাড়িয়ে দিয়ে আরও দীর্ঘ সংকটের ঝুঁকি নেওয়া। কূটনীতি ব্যর্থ হলে তার হাতে থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে, কয়েকটি তীব্র কিন্তু সীমিত হামলা চালানো, সেটিকে চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে তুলে ধরা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়া।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আরেকটি সম্ভাবনা হলো ট্রাম্প আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে এবং তুলনামূলকভাবে সহজ একটি জয় ছিনিয়ে নেওয়ার আশায় যেমনটা তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কিউবার দিকে মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করতে পারেন।

যদি তাই হয়, তাহলে হাভানার সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো তিনি ভুলভাবে বিচার করতে পারেন; ঠিক যেমন ট্রাম্পের কিছু সহযোগী ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেন যে, তিনি ভুল করে ভেবেছিলেন ইরান অভিযানটি ৩ জানুয়ারির সেই অভিযানের মতো হবে, যে অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল। তারপরেও ট্রাম্পের সমর্থকের অভাব নেই।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সিনিয়র উপদেষ্টা এবং বর্তমানে আমেরিকান গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিস কনসালটেন্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলেকজান্ডার গ্রে এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, প্রেসিডেন্টের ইরান অভিযান কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর এই মারাত্মক আঘাতটি নিজেই একটি ‘কৌশলগত সাফল্য’, এই যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোকে চীনের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কাছে নিয়ে এসেছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভাগ্য এখনো নির্ধারিত হয়নি।

তবে ঘটনার বিবরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারার কারণে ট্রাম্পের হতাশার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি তার সমালোচকদের তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন এবং সংবাদমাধ্যমকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার’ অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার সময় ট্রাম্প যে সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহের সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন, এই সংঘাত তার দ্বিগুণ সময় ধরে চলেছে। তারপর থেকে যদিও তার রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠী এই যুদ্ধে তার পাশে দাঁড়িয়েছে, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে তার একসময়ের প্রায় সর্বসম্মত সমর্থনে ফাটল দেখা দিয়েছে।

শুরুতে একের পর এক বিমান হামলা দ্রুত ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত হ্রাস করে, দেশটির নৌবাহিনীর বেশিরভাগ অংশ ডুবিয়ে দেয় এবং অনেক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু তেহরান এর জবাবে হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে। ফলে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে যায় এবং ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালায়।

এরপর ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধের নির্দেশ দেন, কিন্তু সেটাও তেহরানকে তার ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করাতে ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্পের বিজয়োল্লাসপূর্ণ দাবির জবাবে ইরানের নেতারাও তাদের নিজস্ব প্রচারণায় তার অভিযানকে একটি ‘চরম পরাজয়’ হিসেবে চিত্রিত করেছেন।

পরিবর্তনশীল লক্ষ্য এখনো অপূর্ণ
ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য হলো ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ বন্ধ করে দেওয়া, এই অঞ্চল ও মার্কিন স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা শেষ করা এবং ইরানিদের জন্য তাদের শাসকদের উৎখাত করা সহজ করে দেওয়া।

এই পরিবর্তনশীল লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়েছে এমন কোনো লক্ষণ নেই এবং অনেক বিশ্লেষক বলছেন, সেগুলো অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

মধ্যপ্রাচ্যের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথন প্যানিকফ বলেছেন, যদিও ইরান মারাত্মক আঘাত পেয়েছে, দেশটির শাসকরা মার্কিন হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এবং উপসাগরীয় নৌপরিবহনের ওপর তারা কতটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে তা জানতে পারাকেই একটি সাফল্য বলে মনে করে।

বর্তমানে আটলান্টিক কাউন্সিল থিঙ্ক ট্যাঙ্কে কর্মরত প্যানিকফ বলেন, তারা যা আবিষ্কার করেছে তা হলো, তারা সেই প্রভাব খাটাতে পারে এবং এর জন্য তাদের তেমন কোনো পরিণতির সম্মুখীন হতে হয় না। তিনি আরও যোগ করেনছেন যে, ইরান আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হচ্ছে। কারণ তারা ট্রাম্পের চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক যন্ত্রণা সহ্য করতে এবং তার পরেও টিকে থাকতে পারবে। ট্রাম্পের ঘোষিত প্রধান যুদ্ধ লক্ষ্য—ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে এবং তেহরান এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আগ্রহ দেখায়নি।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বিরোধ প্রকাশ্যে
ইরান যুদ্ধ কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সম্প্রতি উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। এর আগে ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারেন।

তবে সেই কথোপকথনের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করা হচ্ছে। এরপর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো হোয়াইট হাউজ ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে কূটনৈতিক আলোচনার একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ওই মার্কিন কর্মকর্তা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আরেক ব্যক্তি।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ইরান ইস্যুর একেবারে শেষ পর্যায়ে আছি। কী হয়, দেখা যাক। সে সময় তিনি আরও বলেন, হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাবো, নয়তো কিছুটা কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে আশা করি, সেটা করতে হবে না।

চলমান আলোচনা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে হতাশ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি সূত্রগুলোর মতে, নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের পক্ষে ছিলেন। তার মতে, দেরি হলে লাভবান হবে কেবল ইরানই।

ট্রাম্পকে নিজের হতাশার কথা জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে, পরিকল্পিত হামলা পিছিয়ে দেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত এবং প্রেসিডেন্টের উচিত আগের পরিকল্পনামতো এগিয়ে যাওয়া। প্রায় এক ঘণ্টার ওই ফোনালাপে নেতানিয়াহু সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর পক্ষে জোর দেন বলে জানিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি ইসরায়েলি সূত্র। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট ছিল। ট্রাম্প দেখতে চান চুক্তি সম্ভব কি না, কিন্তু নেতানিয়াহু ভিন্ন কিছু প্রত্যাশা করেছেন।

ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা কমাতে সিনেটে উদ্যোগ
সম্প্রতি মার্কিন সিনেট এমন একটি ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজ্যুলেশন’ এগিয়ে নিয়েছে, যা পাস হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারবেন না।

প্রস্তাবটি এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াগত ভোটে ৫০-৪৭ ব্যবধানে অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বিরল রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সংঘাত না থামায় রিপাবলিকানদের একটি অংশ ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে।

ভোটের আগে ডেমোক্র্যাট সিনেট নেতা চাক শুমার বলেন, এই প্রেসিডেন্ট যেন লোড করা বন্দুক হাতে থাকা এক শিশুর মতো আচরণ করছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে সেনা প্রত্যাহারের পক্ষে আমাদের প্রস্তাব সমর্থনের এটাই সঠিক সময়।

এই ভোটকে কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতার পক্ষে একটি জয় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণা ও সেনা পাঠানোর ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকার কথা। তবে এটি এখনো কেবল প্রাথমিক বা প্রক্রিয়াগত ভোট। প্রস্তাবটি কার্যকর হতে হলে আরও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে।

১০০ সদস্যের সিনেটে চূড়ান্ত ভোটে পাস হলেও এটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন পেতে হবে। এরপর ট্রাম্প ভেটো দিলে সেই ভেটো বাতিল করতে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে। এর আগে চলতি বছর একই ধরনের সাতটি প্রস্তাব সিনেটে আটকে দিয়েছিল ট্রাম্পের রিপাবলিকান। প্রতিনিধি পরিষদেও তিনটি প্রস্তাব অল্প ব্যবধানে নাকচ হয়।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের জন্য ‘আমাদের পক্ষ থেকে সব পথ খোলা আছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, জোরপূর্বক ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা একটি অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়।

ইরানের নতুন পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘তত্ত্বাবধান এলাকা’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে যাতায়াতের জন্য অনুমতিপত্র প্রয়োজন হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া যাতায়াত অবৈধ বলে গণ্য হবে।

সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স, আল জাজিরা




যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো বাড়তে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ও হস্তান্তরের বিষয়টি কাঠামোগত আলোচনা শুরু হওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো ৬০ দিন বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ সংলাপের একটি কাঠামোও তৈরি করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হ্রাস বা অন্যত্র স্থানান্তরের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

দ্য ইসরায়েল টাইমস বলছে, চুক্তিতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিল করা এবং কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বিভিন্ন শর্ত ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা চলছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুদ্ধবিরতি আলোচনা ঘিরে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে।

সম্ভাব্য আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে থাকছে পারমাণবিক কর্মসূচির নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টি।




যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে হামলায় নিহতদের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগো শহরের মসজিদে বন্দুক হামলায় নিহত তিন ব্যক্তির আবেগঘন জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের একটি পার্কে দুই হাজারের বেশি মানুষ জানাজায় উপস্থিত হন। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

জানাজায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ কর্মকর্তারাও অংশ নেন। নিহতদের মরদেহ সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় একটি সাদা ছাউনির নিচে রাখা হয়। এ সময় উপস্থিত জনতা আরবিতে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দেন।

নিহত তিনজন হলেন-৫১ বছর বয়সী নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহ, ৭৮ বছর বয়সী মানসুর কাজিহা এবং ৫৭ বছর বয়সী নাদির আওয়াদ। পরে তাদের একই কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

স্থানীয় ইসলামিক সেন্টারের ইমাম তাহা হাসান বলেন, ‘আজকের এই সমাবেশ একটি বার্তা দিচ্ছে আমাদের সম্প্রদায় আঘাত পেয়েছে, কিন্তু আমরা এখনো দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ।’

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে মানুষ জানাজায় অংশ নিতে সান ডিয়েগোতে এসেছেন। কেউ কেউ অনেক দূর থেকেও উড়ে এসেছেন।

গত সোমবার সান ডিয়েগোর সবচেয়ে বড় মসজিদ ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোতে দুই কিশোর বন্দুকধারী হামলা চালায়। হামলায় নিহত তিন ব্যক্তি সাহসিকতার সঙ্গে হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।

পুলিশ জানায়, নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহ প্রথমে আততায়ীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। তিনি রেডিওর মাধ্যমে দ্রুত মসজিদে লকডাউনের নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, মসজিদের ভেতরে ১৪০ শিক্ষার্থীর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে। তার এই পদক্ষেপের কারণে শিশু ও শিক্ষকরা নিরাপদে শ্রেণিকক্ষ ও আলমারির ভেতরে লুকানোর সময় পান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নাদির আওয়াদ, যার স্ত্রী ওই কেন্দ্রে শিক্ষকতা করেন, এবং কেন্দ্রের কর্মী মানসুর কাজিহা গুলির শব্দ শুনে সাহায্যের জন্য ছুটে আসেন। পরে তিনজনই গুরুতর আহত হয়ে মারা যান।

পুলিশ জানায়, হামলাকারীরা পরে গাড়িতে পালিয়ে যায় এবং পরে তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল বলেছেন, ঘটনাটি ঘৃণাজনিত অপরাধ (হেট ক্রাইম) হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।

হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই হামলাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন অনেকে।




একের পর এক রুশ তেল শোধনাগার জ্বলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সম্প্রতি রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। এসব হামলার মধ্যে বেশির ভাগ লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে দেশটির বড় বড় তেল শোধনাগারে।

যার ফলে জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ বা কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে রাশিয়া। ইতিমধ্যেই এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত গ্যাসোলিন রপ্তানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটি।

বার্তা সংস্থা বলছে, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার। যেসব শোধনাগারের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ৮৩ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি বা দৈনিক প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার টন।

যার ফলে জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ বা কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে রাশিয়া। ইতিমধ্যেই এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত গ্যাসোলিন রপ্তানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটি।

বার্তা সংস্থা বলছে, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার। যেসব শোধনাগারের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ৮৩ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি বা দৈনিক প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার টন।

ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শোধনাগারগুলোর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম রাশিয়ার কিরিশি, মস্কো তেল শোধনাগার এবং ভলগা নদীর তীরে অবস্থিত নিজনি নোভগোরোদ, রিয়াজান ও ইয়ারোস্লাভলের প্ল্যান্টগুলো।

সূত্রের দেওয়া তথ্য মতে, রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম শোধনাগার কিরিশি, যার উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ২ কোটি মেট্রিক টন। এটি রাশিয়ার মোট শোধনাগার ক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। যা গত ৫ মে থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে স্থাপনাটি।

বার্ষিক ১৭ মিলিয়ন টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি প্রধান তেল শোধনাগার নোরসি। বুধবার হামলার শিকার হয়েছে এই শোধনাগারও। হামলার পর নোরসি কার্যক্রম চালু রাখতে পেরেছে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদনে এই শোধনাগারগুলোর সম্মিলিত অংশ গ্যাসোলিনের জন্য ৩০ শতাংশের বেশি এবং ডিজেলের জন্য প্রায় ২৫ শতাংশ।

রুশ কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা বিভিন্ন পোস্ট অনুসারে, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন।যা চলতি বছরের শুরু থেকে দ্বিগুণ তেল শোধনাগার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

এই হামলায় পাইপলাইন এবং সংরক্ষণাগারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা রাশিয়ার তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পর রাশিয়া বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। এর ফলে মস্কোর ফেডারেল বাজেটের ওপর চাপ বেড়েছে, যেখানে মোট রাজস্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে তেল ও গ্যাসের কর থেকে।




চীন বেঁকে বসলে মুখ থুবড়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নিজেদের ড্রোনের ঘাটতি এবং সক্ষমতা বুঝতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সেই কারণে সম্প্রতি আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ড্রোন অর্ডার দিয়েছে। তবে এখানে প্রয়োজন চীনের সহায়তা। তারা যদি বেঁকে বসে তবে মুখ থুবড়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৮ সালের শুরুর মধ্যে ৩০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখের বেশি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ তৈরি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই লক্ষ্যে তারা কাজও শুরু করে দিয়েছে।

এই ড্রোন চালাতে প্রয়োজন হয় বিশেষ ধরনের ‘রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট’। আর গোল্ডম্যান সাক্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৯৮ শতাংশ ম্যাগনেট তৈরি হয় চীনে। অর্থাৎ মোটাদাগে এখানে চীনের ওপর নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন রেয়ার আর্থ ও ম্যাগনেট উপাদান উৎপাদনকারী কোম্পানি রিঅলয়েস বলছে, উত্তর আমেরিকায় চীনের বাইরে একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ‘মাইন-টু-ম্যাগনেট’ ভারী রেয়ার আর্থ সরবরাহ ব্যবস্থা তাদের রয়েছে। অর্থাৎ খনি থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাত ধাতু, অ্যালয় এবং সামরিক ম্যাগনেট তৈরির কাঁচামাল—সবই তারা সরবরাহ করতে পারে।

তবে হঠাৎ ড্রোন নিয়ে এত তাড়াহুড়া?

বিশ্লেষকদের মতে, এর বড় কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ। গত দুই বছরে ড্রোন যুদ্ধের ধরন পুরো বদলে দিয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই ইউক্রেন ১২ লাখের বেশি ড্রোন তৈরি করেছে। আর এসব ড্রোনের প্রায় সবগুলোর ম্যাগনেটই এসেছে চীন থেকে।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—যদি চীন সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তাহলে পশ্চিমা বিশ্বের সামরিক শিল্প বড় সংকটে পড়তে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ

জুন মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আনলেশিং আমেরিকান ড্রোন ডমিনেন্স’  নামে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। যার লক্ষ্য ছিল সামরিক ও বাণিজ্যিক উভয় খাতে ড্রোন উৎপাদন বাড়ানো। পরের মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শত শত মার্কিন ড্রোন পণ্য কেনার পরিকল্পনা অনুমোদন করেন।

এছাড়া ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা বাজেটে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থার জন্য ১৩.৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মূলত আসল সংকট অন্য জায়গায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু টাকা ঢাললেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১,৯০০ অস্ত্র ব্যবস্থার অন্তত ৮০ হাজার যন্ত্রাংশ চীনা রেয়ার আর্থের ওপর নির্ভরশীল। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—ড্রোন মোটর, গাইডেন্স সিস্টেম, সেন্সর, উন্নত যুদ্ধ প্রযুক্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ প্রযুক্তি খাতে ইতোমধ্যে বড় বড় কোম্পানি কাজ বাড়াচ্ছে। তারা এআই-চালিত যুদ্ধ ব্যবস্থা, নজরদারি ড্রোন ও আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে। তবে সমস্যা হলো—এসব প্রযুক্তির প্রায় সবই শেষ পর্যন্ত চীনা রেয়ার আর্থ ম্যাগনেটের ওপর নির্ভরশীল।

সাধারণ ম্যাগনেটের জন্য ‘লাইট রেয়ার আর্থ’ ব্যবহার হয়। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত ড্রোন বা জেট ইঞ্জিনের উচ্চ তাপমাত্রায় টিকে থাকতে দরকার ‘হেভি রেয়ার আর্থ’। এগুলো ছাড়া সামরিক মানের ম্যাগনেট তৈরি করা কঠিন।




ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে সমরাস্ত্র কিনবে আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আরও কাছাকাছি এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরাইল। তারা যৌথভাবে একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা তহবিল গঠন করেছে। এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌথভাবে আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ক্রয় করা।

রোববার বর্তমান ও সাবেক দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

একজন বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের আওতায় দুই দেশ ‘যৌথভাবে অস্ত্র ক্রয়’ করবে। এর পাশাপাশি ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত উন্নয়নেও বড় অঙ্কের অর্থায়ন করতে পারে ইউএই।

সূত্রটি জানায়, মার্কিন-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধ চলাকালীন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের সময় এই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পায়। তবে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইউএই ও ইসরাইলি দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তা যোগ করেছেন, দুই দেশ মূলত ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিমান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি যৌথভাবে তৈরি ও ক্রয়ের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

তেল আবিবভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ’র উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইয়োয়েল গুজান্সকি মিডল ইস্ট আই-কে বলেন, ‘ইউএই-ইসরাইল সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সেরা অবস্থানে রয়েছে। কোনো আরব দেশের সঙ্গে ইসরাইলের এত ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আগে কখনো হয়নি।’

ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে ইরান পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইউএই; দেশটিকে লক্ষ্য করে প্রায় ৩,০০০ ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।

যুদ্ধ চলাকালীন ইসরাইল তার ‘আয়রন ডোম’ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যাটারি এবং তা পরিচালনার জন্য সেনা ইউএই-তে মোতায়েন করেছিল, যা চলতি মে মাসে ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি নিশ্চিত করেছেন।

গুজান্সকি বলেন, অস্ত্র ব্যবস্থার উন্নয়নে যৌথ তহবিল গঠন দুই দেশের জন্যই একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের এখন ইউএই-এর অর্থের প্রয়োজন। আমাদের প্রযুক্তি আছে কিন্তু সম্পদের অভাব। অন্যদিকে ইউএই-এর সম্পদ আছে কিন্তু প্রযুক্তির অভাব।’




ট্রাম্পের পর এবার চীন যাচ্ছেন পুতিন, বৈশ্বিক কূটনীতিতে কী ঘটতে চলেছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর শেষ হওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় এবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। পরপর দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেতার বেইজিং সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এ ঘটনা।

সোমবার (১৮ মে) চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

তথ্যমতে, আগামী ১৯ ও ২০ মে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। এ সফরের প্রাক্কালে গত রোববার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একে অপরকে ‘অভিনন্দন বার্তা’ পাঠিয়েছেন।

শি জিনপিং তার বার্তায় উল্লেখ করেন, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের ৩০ বছর পূর্তির এ বছরে রাশিয়া ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ‘আরও গভীর ও সুসংহত’ হয়েছে।

চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সফর স্নায়ু যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত বিরল। বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা এটিই প্রমাণ করে যে বেইজিং দ্রুত বৈশ্বিক কূটনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

এদিকে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কোর প্রতি বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন বাড়তে থাকে। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চীনের কাছে রাশিয়ার গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর থেকে চীন রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বেইজিং রাশিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৩৬৭ বিলিয়ন ডলারের জীবাশ্ম জ্বালানি ক্রয় করেছে। চীন বর্তমানে রাশিয়ার মোট রপ্তানির চার ভাগের এক ভাগেরও বেশি পণ্য একা ক্রয় করছে, যা ক্রেমলিনকে যুদ্ধের বিশাল ব্যয় মেটাতে সাহায্য করছে।

আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো জোসেফ ওয়েবস্টার তার এক বিশ্লেষণে জানিয়েছেন, পুতিন ও শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকের মূল বিষয় হতে পারে ‘তাইওয়ান সংকট’। বেইজিং ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সম্ভাব্য সংঘাতের সৃষ্টি হলে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মস্কোর সঙ্গে আরও দীর্ঘমেয়াদি জীবাশ্ম জ্বালানি চুক্তি সই করতে চায়।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য চীনকে তাগিদ দিয়ে আসছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বছরে আরও ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হবে, যা রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো বৈশ্বিক সংকটে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তাকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র করবে।




চুক্তি না হলে ইরানে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে খুব তাড়াতাড়ি রাজি না হয়, তাহলে চরম পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।

ট্রুথ সোশ্যাল একাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ”ইরানের জন্য সময় খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে আসছে, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে ইরানে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”

ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের একটি প্রতিবেদনে অনুযায়ী, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে কথা বলার পরেই ট্রাম্পের এই হুমকি সামনে এলো।

এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, যুদ্ধ অবসানে ইরান কোনো চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখন ‘মুমুর্র্ষ অবস্থায়’ রয়েছে। সূত্র: বাসস