আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের, ভেনেজুয়েলার তীব্র নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভেনেজুয়েলা তার আকাশসীমা ‘সম্পূর্ণভাবে’ বন্ধ করার মার্কিন ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং উল্লেখ করেছে, এটি ভেনেজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ ও অযৌক্তিক আগ্রাসন। 

আগের দিন শুক্রবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছিলেন, সকল বিমান সংস্থা, পাইলট, মাদক ব্যবসায়ী ও মানবপাচারকারীরা ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ও আশেপাশের আকাশসীমা বন্ধ রাখার কথা বিবেচনা করুন। এই ঘোষণার আগে তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে বক্তৃতা বাড়িয়েছিলেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন মাদকপাচারের অভিযোগের আড়ালে মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিমানবাহী জাহাজ মোতায়েন করেছে এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযানে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে, যা জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছেন।

মাদুরো গত বৃহস্পতিবার জাতীয় টেলিভিশনে ঘোষণা করেন, জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না। ভেনেজুয়েলার রাজনীতি ও ইতিহাসের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতি ও নাগরিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর এবং এটি ভেনেজুয়েলার জনগণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। এরপর দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ বিমান সংস্থা ভেনেজুয়েলায় ফ্লাইট স্থগিত করে, যা কারাকাসের ক্ষোভ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতিতে মাদুরোকে অপসারণের মূল উদ্দেশ্য, তবে এটি ভেনেজুয়েলার জনগণকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অর্থনৈতিক জটিলতা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং অভিবাসনের সমস্যায় ভুগছে দেশটি, যা এই পদক্ষেপে আরও তীব্র হবে।




ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ২০০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইন্দোনেশিয়ায় তীব্র বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম সুমাত্রার আঞ্চলিক দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র ইলহাম ওয়াহাব জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৬১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত এবং ৯০ জন নিখোঁজ। 

সংস্থার তথ্যমতে, উত্তর সুমাত্রায় মৃতের সংখ্যা ১১৬ এবং আচেহ প্রদেশে কমপক্ষে ৩৫। প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডেও ভারি বৃষ্টিপাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জুন থেকে সেপ্টেম্বরের বর্ষাকালে ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা, ভূমিধস এবং পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। সম্প্রতি কয়েক দিনের মধ্যে একটি শক্তিশালী মৌসুমি ঝড় পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্ষাকাল দীর্ঘ হচ্ছে, বৃষ্টিপাত বাড়ছে এবং আকস্মিক বন্যার ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মাসেই মধ্য জাভায় ভারি বৃষ্টিজনিত ভূমিধসে ৩৮ জন নিহত এবং ১৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন।




ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো পাকিস্তান, আতঙ্কে মানুষ ঘরছাড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো পাকিস্তান। শনিবার (২৯ নভেম্বর) ভোরে দেশটির লোরালাই এবং আশেপাশের এলাকায় হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছে। এ সময় লোকজন আতঙ্কে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে। জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনএসএমসি) জানিয়েছে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।

জিও নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

পরে ভূমিকম্প অফিস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৪। এর কেন্দ্রস্থল ছিল লোরালাইয়ের দক্ষিণ-পূর্ব থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে। তবে ভূমিকম্পের পর প্রাথমিক ভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে, গত মঙ্গলবারও পাকিস্তানের সিবি এলাকায় ৩ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে দুটি ক্ষেত্রেই বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতেও প্রদেশের কিছু অংশে ছোটখাটো ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সে সময় পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তর (পিএমডি) পরিচালিত এনএসএমসি জানায়, জিয়ারাত এবং আশেপাশের এলাকায় ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

গত ৮ নভেম্বরের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল কোয়েটা থেকে ৬৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। তবে ওই ভূমিকম্প থেকে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

জিয়ারাতে সর্বশেষ বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল ২০০৮ সালে। সে সময় ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়।

ওই ভূমিকম্পে পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়ে যায়, শত শত বাড়িঘর ও সরকারি ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ফলে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।

দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশটির বেলুচিস্তান প্রদেশ মূলত একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের পাশে অবস্থিত।




ইন্দোনেশিয়ার বন্যা-ভূমিধসে মৃত্য সংখ্যা বেড়ে ৮০

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপজুড়ে এই সপ্তাহে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেক মানুষ।

সুমাত্রার উত্তরাঞ্চল পুলিশের মুখপাত্র ফেরি ওয়ালিনতুকান জানান, সকালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২-তে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ৯৫ জন। কমপক্ষে ৬৫ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। পাশ্বর্বর্তী পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশেও অন্তত ২২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এখনো ১২ জন নিখোঁজ আছেন।

এদিকে শুক্রবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ১৮৩ জনে দাঁড়িয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডের বিস্তীর্ণ অংশ এক সপ্তাহ ধরে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের কবলে পড়েছে। ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই অঞ্চল সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডজুড়ে লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি কমতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে এই অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ আটকে পড়া নাগরিকদের উদ্ধার, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ পুনরুদ্ধার এবং পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার সমন্বয় সাধনের জন্য কাজ করছে।
কিন্তু কেবল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াই নয় শ্রীলঙ্কায় এই সপ্তাহে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে কমপক্ষে ৫৬ জন মারা গেছেন এবং ২১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। শ্রীলঙ্কা শুক্রবার আরো তীব্র আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, কারণ ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া তার পূর্ব উপকূল বরাবর অগ্রসর হচ্ছে। থাইল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের আটটি প্রদেশে বন্যায় এখন পর্যন্ত ৮৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৫ লাখ ছাড়িয়েছে।




সৌদি যুবরাজ ‘না’ বলায় ক্ষেপে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে চাপ দেন। কিন্তু তার এই চাপে যুবরাজ সরাসরি ‘না’ করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘ক্ষুব্ধ ও হতাশ’ হন।  

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ দুজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প ও মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে সরাসরি বৈঠকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রথমে সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকরণ ইস্যুটি উত্থাপন করেন এবং যুবরাজকে এখন থেকেই এই কাজ শুরু করার আহ্বান জানান। জবাবে প্রিন্স সালমান বলেন, তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চান, কিন্তু এটি এখন সম্ভব নয়।

কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, গাজায় ইসরায়েলের ‘দুই বছরের বেশি বর্বর যুদ্ধের’ পর সৌদিতে ইসরায়েল বিরোধী কঠোর অবস্থান রয়েছে। আলোচনার বেশিরভাগ অংশই শালীন থাকলেও, ইসরায়েলের সঙ্গে এখন সম্পর্ক গড়তে না চাওয়ায় ক্রাউন প্রিন্সের ওপর ট্রাম্প ক্ষুব্ধ ও হতাশ হন।

মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, যুবরাজ বিন সালমান বৈঠকে একবারও বলেননি তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়বেন না; তিনি এক্ষেত্রে ভবিষ্যতের জন্য দরজা খোলা রেখেছেন। তবে এই পথে দ্বি-রাষ্ট্র এক বিশাল সমস্যা।

এদিকে, সৌদির দূতাবাসের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে চ্যানেল-১২-কে তারা কোনো জবাব দেয়নি। অপরদিকে, হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকেই আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।




মন্দিরে দাহ করার সময় কফিনে নড়ে উঠলেন থাই নারী, জীবিত উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ থাইল্যান্ডের ব্যাংককের উপকণ্ঠে অবস্থিত ওয়াট র‍্যাট প্রাখং থাম বৌদ্ধ মন্দিরে দাহের প্রস্তুতির সময় কফিনের ভেতর থেকে শব্দ পেয়ে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এক নারীকে।  

সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্দিরের মহাব্যবস্থাপক পাইরাত সুদথুপ জানান, কফিন থেকে মৃদু ধাক্কার শব্দ শুনে তিনি প্রথমে ‘চমকে’ যান। পরে কফিন খোলার পর দেখা যায়, নারীটি চোখ খুলেছেন এবং কফিনের দেয়ালে হালকা আঘাত করছেন। সুদথুপ বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বেশ কিছুক্ষণ ধরেই ধাক্কা দিচ্ছিলেন।’

৬৫ বছর বয়সী ওই নারীর ভাই দাবি করেন, স্থানীয় কর্মকর্তারা তাকে তার বোনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিলেন। তবে মন্দিরের ব্যবস্থাপক জানান, ভাইয়ের কাছে কোনো মৃত্যু সনদ ছিল না। তিনি যখন ভাইকে মৃত্যু সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করছিলেন, ঠিক তখনই কর্মীরা আবার কফিন থেকে শব্দ শুনতে পান।

নারীটি জীবিত আছেন নিশ্চিত হওয়ার পর মন্দিরের মঠপতি (বৌদ্ধ মঠের প্রধান) তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। স্থানীয় চিকিৎসকরা পরে জানান, তিনি গুরুতর হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় ভুগছিলেন—যে অবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যায়। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তিনি শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত হননি।

ওই নারীর ছোট ভাই জানান, তার বোন গত দুই বছর ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন। মন্দিরের ব্যবস্থাপকের ধারণা, স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় শনিবার তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে বলে মনে করা হয়েছিল।

পরিবারটি থাইল্যান্ডের ফিটসানুলোক প্রদেশ থেকে দাহ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ব্যাংককের উদ্দেশে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার (৩১১ মাইল) পথ পাড়ি দিয়েছিল।




১২ হাজার বছর ধরে ঘুমিয়ে থাকা আগ্নেয়গিরিতে আকস্মিক অগ্ন্যুৎপাত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইথিওপিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১২ হাজার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি ঘুমিয়ে থাকা বা সুপ্ত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে। এর ফলে আকাশে ১৪ কিলোমিটার পর্যন্ত ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার (২৩ নভেম্বর) উত্তর-পূর্বে ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে অবস্থিত হায়লি গুব্বি আগ্নেয়গিরিতে কয়েক ঘণ্টা ধরে অগ্নুৎপাত হয়।

প্রায় ৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরিটি রিফ্ট ভ্যালির মধ্যে অবস্থিত। এখানে দুটি টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয়ে তীব্র ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ দেখা যায়।

দেশটির আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরি থেকে ছাইয়ের মেঘ ইয়েমেন, ওমান, ভারত এবং উত্তর পাকিস্তানের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিওগুলোতে সাদা ধোঁয়ার ঘন স্তম্ভ উঠতে দেখা গেছে।

স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের গ্লোবাল আগ্নেয়গিরি প্রোগ্রাম বলেছে, হলোসিন উপযুগের সময় হেইলি গুব্বির কোনো অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেনি। এই যুগ প্রায় ১২ হাজার বছর আগে শেষ বরফ যুগের শেষে শুরু হয়েছিল।

মিশিগান টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির একজন আগ্নেয়গিরিবিদ এবং অধ্যাপক সাইমন কার্ন ব্লুস্কিতে নিশ্চিত করেছেন, এই আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের কোনো পূর্ব রেকর্ড নেই।




৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো ইন্দোনেশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উত্তর মালুকু প্রদেশের হালমাহেরা অঞ্চলে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। রোববার (২৩ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ বরাবর অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অংশে প্রায়শই ভূমিকম্প হয়। কারণ, সেখানে একাধিক টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয়েছে। এর ফলে বারবার আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এবং ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে।

এদিকে মিয়ানমার উপকূলে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বাংলাদেশ সময় আজ সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে এই ভূকম্পন আঘাত হানে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের দাওয়েই শহর থেকে ২৬৭ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে আন্দামান সাগরে। কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, মিয়ানমারের পাশাপাশি ভূমিকম্পের প্রভাব প্রতিবেশী থাইল্যান্ডেও অনুভূত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ভূমিকম্পের কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে, গত শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। নরসিংদীর মাধবদীতে উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৫। এতে ১০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ।




যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজার একাধিক স্থানে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ২৮

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হামলা চালিয়েছে, এতে অন্তত ‘২৮ জন’ নিহত এবং কমপক্ষে ‘৭৭ জন’ আহত হয়েছেন। 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, বুধবার (১৯ নভেম্বর) গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকার তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে এবং গাজার প্রধান শহর গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা শুজাইয়া ও জয়তুনে যথাক্রমে একটি করে ভবনে আইডিএফের বোমা আঘাত হেনেছে। এতেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

আলজাজিরাকে হানি মাহমুদ জানান, আইডিএফের বোমার আঘাতে একটি ভবনে এক পরিবারের বাবা, মা এবং তিন সন্তানসহ পরিবারের সব সদস্য নিহত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গাজার ফিলিস্তিনিরা ব্যাপক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কারণ গাজায় এখনও যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে এবং আইডিএফের নিত্যদিনের সহিংসতায় ফিলিস্তিনিরা নিহত হচ্ছেন।

সূত্র: আল জাজিরা




কিয়েভের আক্রমণে রাশিয়ার বন্দরনগরীতে জরুরি অবস্থা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের কৃষ্ণসাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এক বন্দরনগরীতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়র আন্দ্রেই ক্রাভচেঙ্কো জানিয়েছেন, রাতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর ১৪ নভেম্বর সকালে নোভোরোসিয়েস্ক বন্দরনগরীতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

ক্রাভচেঙ্কো জানিয়েছেন, কিয়েভের রাতের হামলায় ‘অরোরা রেসিডেনশিয়াল কমপ্লেক্স’ ও ‘সুভোরোভস্কায়া স্ট্রিট’-এর আবাসিক ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনও ধ্বংস হয়ে গেছে। জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। প্রয়োজনে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে।

আঞ্চলিক গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ জানান, নোভোরোসিয়েস্কে তিনটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত পাঁচজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে দুজন শিশুও আছে।

ইউক্রোনের ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে শস্য টার্মিনালের তিনটি ট্যাংকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ড্রোনের ধংসাবশেষ তেমরিউকস্কি জেলার তামান গ্রামে এবং আনাপার কাছের ইউরোভকা ও সিবানোবালকা গ্রামেও পড়ে।

এদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়ে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গত রাতে তাদের দুই শতাধিক ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত ও জব্দ করেছে।

নোভোরোসিয়েস্ক রাশিয়ার অন্যতম প্রধান উষ্ণ পানির বন্দর। এই বন্দর দিয়েই দেশটির তেল ও শস্যের বড় অংশ রপ্তানি করা হয়। বন্দরটি রাশিয়ার কৌশলগত সামরিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।