ভয়াবহ সংকটে ইসরাইলি সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরাইলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির রোববার (১০ মে) এক জরুরি বার্তায় জানিয়েছেন, বর্তমানে বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক তৎপরতা এবং হারিদি বা কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের সংকটময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর জন্য অবিলম্বে অতিরিক্ত সৈন্য প্রয়োজন।

ইসরাইলের সংসদ নেসেটের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা কমিটির এক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওত আহরনোতের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইয়াল জামির উল্লেখ করেন, গাজা ছাড়াও লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল বর্তমানে বহুমুখী ফ্রন্টে যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমানে এই সংঘর্ষগুলোতে বিরতি চলছে, তবুও ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত আছে।

জামির স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক বা আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে চিন্তিত নন, বরং তার পুরো মনোযোগ এখন শত্রুকে পরাজিত করার দিকে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বজায় রাখতে হলে এখনই নতুন জনবল নিয়োগ করা অপরিহার্য।

এর আগে গত মার্চ মাসে জামির সতর্ক করেছিলেন, কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক সেবা এবং রিজার্ভ ডিউটি সংক্রান্ত আইন পাসে সরকারের ব্যর্থতা এবং বাধ্যতামূলক সেবার মেয়াদ ৩৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি না করায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছে।

সেনাপ্রবক্তা ইফি দেফরিন জানান, সেনাবাহিনীর জন্য বর্তমানে আনুমানিক ১৫ হাজার অতিরিক্ত সৈন্য প্রয়োজন, যার মধ্যে অন্তত ৭ থেকে ৮ হাজার হতে হবে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়ার মতো যোদ্ধা। এই সংকট নিরসনে দ্রুত একটি কার্যকর নিয়োগ আইন প্রণয়ন করাকে অপরিহার্য বলে মনে করছে সামরিক নেতৃত্ব।

ইসরাইলের প্রায় ৯৯ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে হারিদি বা কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের হার প্রায় ১৩ শতাংশ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তারা সামরিক সেবার পরিবর্তে কেবল তোরাহ পাঠে মনোনিবেশ করার সুযোগ পেয়ে আসছে, যা ইসরাইলি সমাজে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয়। যদিও ১৮ বছর ঊর্ধ্ব সকল নাগরিকের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক, তবুও হারিদিদের এই বিশেষ ছাড় পাওয়ার বিষয়টি বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক এই দাবি সরকারকে নতুন করে চাপে ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ বাহিনী গঠনের আদেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই তামিলাগা ভেত্রি কাজাগামের (টিভিকে) সভাপতি ও রাজ্যটির নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপতি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি তার প্রথম বক্তব্যেই বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আলাদা বাহিনী গঠনের কথা জানান।

রোববার (১০ মে) শপথ নিয়ে প্রথম সরকারি আদেশে সই করেছেন থালাপতি বিজয়। খবর এনডিটিভির।

শপথ গ্রহণের পরেই তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় বা বিনামূল্যে প্রদান করার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং নারীদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী গঠন করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

থালাপতি বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানির মতো মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতিও তার পূর্ণ মনোযোগ থাকবে। কৃষক ও জেলেদের দেখভাল করা হবে। সবকিছু ভালো হবে।’

তিনি বলেন, ‘একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে। আমি দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কী, তা জানি। আমি কোনো রাজকীয় পরিবার থেকে আসিনি। জীবনে অনেক কষ্ট সহ্য করেছি, অনেক মানুষ অপমান করেছে। আমি আপনাদের সন্তানের মতো, ভাইয়ের মতো। আপনারা আমাকে হৃদয়ে জায়গা দিয়েছেন, গ্রহণ করেছেন।’

এসময় জনগণকে মিথ্যা আশ্বাস না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থালাপতি বলেন, ‘ডিএমকে রাজ্যের কোষাগার পরিষ্কার করেছে এবং আমরা ১০ লাখ কোটি রুপির ঋণ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমরা জনগণের তহবিল থেকে একটি পয়সাও নেব না এবং আমরা কাউকে রাজ্য লুট করতে দেব না।’

জানা যায়, স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ নেন থালাপতি বিজয়। তামিলনাড়ুর গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথ পড়ান। শপথ নেন নতুন সরকারের নয়জন মন্ত্রীও।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতিক ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও এসেছিলেন।




ইরানে হামলায় ইরাকে গোপন সামরিক ঘাঁটি বানিয়েছিল ইসরায়েল: রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে হামলার জন্য ইরাকের মরু অঞ্চলে একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল ইসরায়েল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এমনটিই দাবি করা হয়েছে। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর কিছুদিন আগে ঘাঁটিটি তৈরি করা হয়। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রও জানে। ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী ওই ঘাঁটিকে দেশটির বিমানবাহিনীর জন্য লজিস্টিক সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতো।

সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ঘাঁটিটির অবস্থান ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে ইসরায়েলি বাহিনী ইরাকি সেনাদের ওপর বিমান হামলা চালায়। কারণ, ইরাকি সেনারা ওই এলাকায় সন্দেহজনক সামরিক তৎপরতার খবর পেয়ে তদন্তে এগোচ্ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চের শুরুতে এক রাখাল ওই এলাকায় হেলিকপ্টার চলাচলসহ অস্বাভাবিক সামরিক কার্যক্রম দেখতে পান। পরে ইরাকের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ হলে দেশটির সেনারা তদন্ত শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়ে ইরাকি বাহিনীকে ঘাঁটির কাছাকাছি পৌঁছাতে বাধা দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এক ইরাকি সেনা নিহত হন। তখন ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের উপ-প্রধান কাইস আল-মুহাম্মাদাওয়ী বলেন, “কোনও সমন্বয় বা অনুমোদন ছাড়াই এই বেপরোয়া অভিযান চালানো হয়েছে।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গোপন ওই ঘাঁটিতে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন ছিল, যাতে যুদ্ধের সময় ভূপাতিত ইসরায়েলি পাইলটদের উদ্ধার করা যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত এ ধরনের কোনও উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজন হয়নি।

এছাড়া ইসফাহানের কাছে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ইসরায়েল সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীই দুই ক্রুকে উদ্ধার করে। ওই সময় উদ্ধার অভিযান নিরাপদ করতে ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।

তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা শুরু করে। ইরানও তাক্ষণিক পাল্টা হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা গুড়িয়ে দেয় ইরানি বাহিনী। এতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় তেহরান।

পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী সমঝোতা এখনও হয়নি। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন, যদিও নতুন কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নালআনাদোলু এজেন্সি




সরকার গঠনের অনুমতিপত্র নিতে ১ ঘণ্টা বসে ছিলেন থালাপতি বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রোববার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন থালাপতি বিজয়। শনিবার রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছ থেকে সরকার গঠনের অনুমতি নেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন থালাপতি। এ সময় তিনি জানান, আরও দুটি রাজনৈতিক দল তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর ফলে তার দল টিভিকে ও জোটের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০-এ। পরে তিনি সরকার গঠনের অনুমতি চান।

তবে সমর্থনের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করেন রাজ্যপাল। বিশেষ করে ভিসেকে ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল)-এর দেওয়া সমর্থনপত্রের সত্যতা পরীক্ষা করা হয়।

এর আগে ভারতীয় কংগ্রেস, সিপিআই এবং সিপিআই (এম)সহ তিনটি বামপন্থি দলও থালাপতি বিজয়ের প্রতি সমর্থন জানায়। তাদের দেওয়া চিঠিগুলোও আগেই যাচাই করা হয়েছিল।

যাচাই শেষে থালাপতি বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন বলে নিশ্চিত হন রাজ্যপাল। পরে তিনি শপথ গ্রহণের সময় ও তারিখ সম্পর্কে জানতে চাইলে থালাপতি জানান, রোববার সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ নেবেন তিনি।

এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজ্যপাল প্রথমে থালাপতিকে জানান, এক ঘণ্টার মধ্যে সরকার গঠনের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে থালাপতি অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে এক ঘণ্টা পর নিজ হাতে আমন্ত্রণপত্র নিয়ে রাজভবন ত্যাগ করেন তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি




ওমান উপসাগরে তেলের ট্যাংকার জব্দ করল ইরান, দুই জাহাজ অচল করার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ওমান উপসাগরে একটি তেলের ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। একই সময়ে ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকার অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শুক্রবার (৮ মে ) উভয় পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। 

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে অঞ্চলজুড়ে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ‘ওশান কোই’ নামের একটি ট্যাংকার জব্দ করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, জাহাজটি ইরানের তেল রপ্তানি ও জাতীয় স্বার্থে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল।

এ ঘটনায় জাহাজে ইরানি বাহিনীর সদস্যদের ওঠার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি। বার্বাডোজে নিবন্ধিত ট্যাংকারটি বর্তমানে ইরানি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকারকে অচল করে দেওয়া হয়েছে। সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ কার্যকর রাখতে মার্কিন বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বাহিনী তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে হামলা চালিয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একটি তেলের ট্যাংকার ও আরেকটি জাহাজে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এতে অন্তত ১০ ইরানি নাবিক আহত হয়েছেন এবং পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।

ইরান আরও অভিযোগ করেছে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হরমুজের পূর্বাঞ্চল ও চাবাহার বন্দরের দক্ষিণে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।

তবে ট্রাম্প এ সংঘর্ষকে ‘সামান্য গোলাগুলি’ বলে উল্লেখ করে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ নাকচ করেছেন।

এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে তেহরানের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন।

ওয়াশিংটনে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নিয়েও সেখানে আলোচনা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে ইরানের বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত।

এদিকে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ঘিরে নতুন নৌ-নীতি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে তেহরান। “পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি” নামে একটি নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী সব জাহাজকে আগেভাগে ইরানকে ই-মেইলের মাধ্যমে মালামাল, গন্তব্য ও উৎপত্তি সম্পর্কিত তথ্য জানাতে হবে। একই সঙ্গে চলাচলের জন্য অনুমতি ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে চাইছে ইরান।

সূত্র: আল–জাজিরা




ইউক্রেনকে অস্ত্র ও সমর্থন দিচ্ছে ন্যাটো: পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউক্রেনকে অস্ত্র ও সমর্থন দিচ্ছে ন্যাটো অভিযোগ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মস্কোর রেড স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত বিজয় দিবসের ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধকে ন্যায্য বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া একটি ন্যায্য যুদ্ধে লড়ছে এবং ইউক্রেনকে ন্যাটো সমর্থিত আগ্রাসী শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানটি। শত শত সেনা সদস্যের উপস্থিতিতে এটি অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ছিলেন কিছু বিদেশি অথিতিও। এর আগে রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন।

এবারের কুচকাওয়াজে প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবার কোনো সামরিক যান দেখা যায়নি। তবে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সেনারা রেড স্কোয়ারে মার্চ করেন। ভাষণের শুরুতে পুতিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত সেনাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং পরে ইউক্রেন যুদ্ধকে সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা করেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, রাশিয়া ন্যাটো জোটের সমর্থিত একটি আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে, তবু তাদের সেনারা এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি রাশিয়ার বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সামরিক কর্মীদের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অবদানের জন্য প্রশংসা করেন। পুতিন বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ জনগণের হাতেই নির্ভর করছে।

ভাষণের পর কামানের গুলি ও সামরিক ব্যান্ডের সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো। এ ছাড়া লাওসের প্রেসিডেন্ট ও মালয়েশিয়ার রাজাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ভাষণের পর রুশ টিভিতে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনাদের দৃশ্যও সম্প্রচার করা হয়। গত বছরের তুলনায় এবার কম বিদেশি নেতা অংশ নেন। সূত্র: বিবিসিমস্কো টাইমস




যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব, রাজি হবে কি ইরান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। তবে প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মূল মতবিরোধ এখনও পুরোপুরি মেটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দুই পক্ষের মধ্যে ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে এবং একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগের দিন তিনি হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে শুরু করা সামরিক অভিযান “প্রজেক্ট ফ্রিডম” স্থগিত করেন।

কী আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে?
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, দুই পক্ষ ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে ইরান অন্তত ১২ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।

বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, বিদেশে আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড় এবং ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ- এসব স্পর্শকাতর ইস্যু প্রাথমিক প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

ইরানের অবস্থান কী?
এখনও আনুষ্ঠানিক জবাব না দিলেও ইরানি নেতারা প্রস্তাবটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য ইবরাহিম রেজায়ি প্রস্তাবটিকে ‘বাস্তবতা বর্জিত মার্কিন স্বেচ্ছাচারি তালিকা’ বলে মন্তব্য করেছেন।

অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, এই পর্যায়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছে না; তাদের প্রধান লক্ষ্য যুদ্ধ বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ তেহরান এটিকে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার হিসেবে দেখে।

হরমুজ ইস্যুই বড় বাধা
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এখন এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে চাইছে এবং নতুন নিয়ম-কানুন আরোপের কথাও বলছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় মিত্ররা কোনও শর্ত ছাড়াই জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে চায়। ফলে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের দূরত্ব এখনও অনেক।

তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার বিষয়ে দুই দেশ আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা




অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে ঢাকার সহযোগিতা চেয়েছে দিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার সহযোগিতা চেয়েছে দিল্লি।

বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র জানান, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬২টি নথি পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক মামলা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। বাংলাদেশ সরকারকে এ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রনধীর জয়সওয়াল বলেন, “এ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা আশা করছি বাংলাদেশ সরকার যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে সহায়তা করবে। কারণ ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী যে দেশেরই হোক না কেন তাদের ফেরত পাঠানো দিল্লির নীতি।”

এছাড়া তিস্তা নদীর পানি বণ্টন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে, যেগুলো দুই দেশই ব্যবহার করে থাকে। এসব নদী-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সুসংগঠিত দ্বিপাক্ষিক কাঠামো রয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমেই পানি–সংক্রান্ত যেকোনও ইস্যু সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

সূত্র: দ্য হিন্দুএএনআইদ্য প্রিন্ট




যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তায় বাড়ছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা এখন অপেক্ষা করছেন, শান্তি আলোচনা আবার শুরু হবে কি না তা দেখার জন্য।

এদিকে হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বাজারে নতুন করে হামলা বা সংঘাত শুরুর আশঙ্কা কাটেনি। এ কারণেই তেল ব্যবসায়ীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

যদিও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যে ধাক্কা লেগেছিল, তা কাটিয়ে ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো আবারও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই যুদ্ধের অবসান চায়। কারণ এই সংঘাতের ফলে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রেড নেশনের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ডেভিড মরিসন বলেন, শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে, অথবা এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে না, যদিও জ্বালানির দাম এখনো উঁচু রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো বাড়তি মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসানা স্ট্রিটার বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও বাজারে উদ্বেগ কমেনি, কারণ জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ে দুশ্চিন্তা এখনো রয়ে গেছে।




যুদ্ধে চাকরি হারিয়েছেন ২০ লাখ ইরানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধের প্রভাবে ইরানে ২০ লাখের বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির শ্রম উপমন্ত্রী গোলাম হোসেন মোহাম্মাদি। এতে আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটে বিপর্যস্ত ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়েছে

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে মোহাম্মাদি বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের কারণে ১০ লাখের বেশি মানুষ সরাসরি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। আর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সব মিলিয়ে ২০ লাখের বেশি মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের তেল ও গ্যাসক্ষেত্র, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম কারখানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উৎপাদন, সরবরাহ ও শিল্প কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

এদিকে জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট বিভ্রাট এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চলমান ব্ল্যাকআউট দেশটির ডিজিটাল অর্থনীতিকেও প্রায় স্থবির করে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান সংকট আরও বাড়তে পারে। ইরানের সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক অর্থনীতিবিদ হাদি কাহালজাদেহ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দেশটির মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের চাকরি এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি