ইরানের সঙ্গে শুক্রবারের মধ্যে আলোচনা ‘সম্ভব’: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা নিয়ে আগামী শুক্রবারের মাঝে ‘সুসংবাদ’ আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পাকিস্তানের একাধিক সূত্র এই তথ্য জানিয়েছেন।

ইসলামাবাদের কয়েকটি সূত্র তেহরানের সঙ্গে তাদের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, আগামী ‘৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার’ মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সম্ভাব্য অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এক ক্ষুদে নিউইয়র্ক পোস্টকে ট্রাম্প বলেন, ‌‌‘‘এটি সম্ভব! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।’

ইরানের নেতারা ‘একীভূত প্রস্তাব’ না নিয়ে আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর এই ইতিবাচক খবর এলো।

এর আগে, মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ অব্যাহত রাখার এবং অন্য সব ক্ষেত্রে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছি। তাই তাদের প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে দিচ্ছি।’’




ইরানের বন্দর অবরোধ: ২৮টি জাহাজ ঘুরিয়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের বন্দরে প্রবেশ ও ত্যাগের ওপর অবরোধ শুরুর পর থেকে ২৮টি জাহাজ ঘুরিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই তথ্য জানিয়েছে।

গত সপ্তাহ থেকে ওয়াশিংটন নৌ অবরোধ বহাল রাখার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য সামনে এলো। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।

শুক্রবার হরমুজ প্রণালী নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল ইরান। তবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্যবাধকতা পূরণ না করার অভিযোগ তুলে একদিন পরই আবার জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে দেশটি। বুধবার ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অভিযোগ করে বলেন, ‘ইরান একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।’

নতুন দফা আলোচনার জন্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তানে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরান এখনও এই আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। পূর্বশর্ত হিসেবে তারা অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।




ইংল্যান্ডে প্রতি মাসে গড়ে ছুরিকাঘাতে দুই শিশুর প্রাণ যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল মেডিকেল স্কুলের গবেষকদের প্রতিবেদনে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা বলছে, ইংল্যান্ডে প্রতি মাসে গড়ে অন্তত দুটি শিশু ছুরিকাঘাতের শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে।

ন্যাশনাল চাইল্ড মর্টালিটি ডেটাবেসসহ বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে দেশটিতে কিশোর বয়সীদের মধ্যে ছুরিকাঘাতে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে যেখানে এই সংখ্যা ছিল ২১ জন, সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে।

এই গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো ভুক্তভোগীদের পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট। গত পাঁচ বছরে ছুরি হামলায় নিহত ১৪৫ জন শিশুর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই ছেলে এবং এদের বিশাল একটি অংশ দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা থেকে আসা। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, নিহত শিশুদের এক-চতুর্থাংশ এমন একজনের সাথে বসবাস করত যারা মানসিকভাবে অসুস্থ এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু এমন পরিবারে বড় হয়েছে যেখানে মাদকাসক্তির সমস্যা ছিল। এছাড়া পারিবারিক সহিংসতার ইতিহাসও অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণায় উঠে আসা নৃতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণে একটি বড় বৈষম্য ধরা পড়েছে। নিহতদের ৩২ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ৩১ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ হলেও জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে কৃষ্ণাঙ্গ বা ব্রিটিশ-কৃষ্ণাঙ্গ শিশুরা শ্বেতাঙ্গ শিশুদের তুলনায় ১৩ গুণ বেশি ছুরি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া নিহতদের ৭৫ শতাংশই দেশের চরম দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকার বাসিন্দা এবং এক-তৃতীয়াংশ ঘটনায় গ্যাং বা কিশোর অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে।

গবেষণার প্রধান লেখক এবং জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ড. টম রবার্টস এই পরিস্থিতিকে ‘জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, অনেক শিশু নিয়মিত সরকারি ও সামাজিক সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর সংস্পর্শে থাকা সত্ত্বেও তারা পারিবারিক সহিংসতা বা প্রতিকূল শৈশবের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর সহায়তা পায়নি। এই প্রতিবেদনটি শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা ও দারিদ্র্যের শিকার শিশুদের জন্য দ্রুত কার্যকর হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্র: স্কাই নিউজ




রাশিয়া-ইরান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোনালাপ, যা কথা হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন আলাপে মিলিত হয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে এই আলোচনায় উভয় নেতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

ফোনালাপের একপর্যায়ে লাভরভ একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং চলমান সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে রাশিয়ার প্রতি পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি নিশ্চিত করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে রাশিয়ার জাহাজ এবং পণ্যবাহী কার্গো চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। 

কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করতে পারে, ইরান সেই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই ফোনালাপটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মস্কো ও তেহরানের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা।




শর্ত সাপেক্ষে ইরানি নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক : ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনায় অংশ নেবে বলেই প্রত্যাশা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সোমবার রাতেই তারা ইসলামাবাদে পৌঁছাবে।

দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, আলোচনায় যদি উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে তাহলে তিনি ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান।

দ্বিতীয় দফার আলোচনা ভেস্তে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে- এই প্রসঙ্গ তোলা হলে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের আলোচনার কথা আছে। তাই আমি ধরে নিচ্ছি, এই মুহূর্তে কেউ কোনও রকম চালাকি করছে না।”

ট্রাম্পের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এবারের আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সঙ্গে থাকবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার।

ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “তাদের সঙ্গে দেখা করতে আমার কোনও সমস্যা নেই। যদি তারা দেখা করতে চায়; তবে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আমার কোনো আপত্তি নেই।”

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে ট্রাম্প আবারও বলেন, ইরানকে অবশ্যই যেকোনও ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা ত্যাগ করতে হবে। এটি খুবই সাধারণ বিষয়। তাদের কাছে কোনও পরমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।

সূত্র: আল-জাজিরা




ভারতে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলায় একটি আতশবাজি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (১৯ এপ্রিল) এ দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, রাসায়নিক পদার্থ মেশানোর সময় সৃষ্ট ঘর্ষণ থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হতে পারে। পুলিশ জানায়, কাট্টানারপত্তি এলাকার ওই কারখানায় প্রায় ৩০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন, তখনই আকস্মিকভাবে বিস্ফোরণ ঘটে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার অন্তত চারটি কক্ষ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। শব্দটি প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা গেছে বলেও জানা গেছে।

খবর পেয়ে শিবকাশী, সাত্তুর ও বিরুধুনগরসহ আশপাশের এলাকা থেকে দমকল ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং কারখানাটি নিরাপত্তা বিধি মেনে চলছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনও এই দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: এনডিটিভি




ইরানে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল শুরু কবে থেকে, জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দীর্ঘ সামরিক উত্তেজনার পর অবশেষে আন্তর্জাতিক আকাশসীমার দুয়ার খুলতে শুরু করেছে ইরান। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগ ঘোষণা করেছে, সোমবার ২০ (এপ্রিল) থেকে ইরানে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তার খাতিরে ইরানের সমস্ত বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামীকাল থেকে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বিমান ওঠা-নামার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটিকে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অঞ্চলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার একটি প্রাথমিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।




চুক্তি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি না হলে দেশটির প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব ন্যায্য এবং যুক্তিসংগত একটি চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি। আমি আশা করি ইরান এটি গ্রহণ করবে। কারণ যদি তারা তা না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু গুঁড়িয়ে দেবে।’

একই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করেছে। ট্রাম্পের দাবি, গতকাল হরমুজ প্রণালিতে গোলাগুলির মাধ্যমে ইরান যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন করেছে।

তিনি আরও বলেন, ইরান একটি ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি মালবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

ট্রাম্পের ভাষায়, ‘ইরান সম্প্রতি প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে, যা অদ্ভুত। কারণ আমাদের অবরোধ ইতোমধ্যেই সেটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। তারা না বুঝেই আমাদের সাহায্য করছে।’

সূত্র: আল-জাজিরা




পেজেশকিয়ান: সম্মানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে চায় ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘সম্মানের সঙ্গে’ শেষ করতে চায় ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তেহরানকে তার পারমাণবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোনো অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার তিনি এ কথা জানান।

আইএসএনএ বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয়ে পরিদর্শনের সময় পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ট্রাম্প বলেছেন ইরানের তাদের পারমাণবিক অধিকার ব্যবহার করা উচিত নয়, কিন্তু ইরান কী অপরাধ করেছে তার কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘রক্তপিপাসু ও নিষ্ঠুর শত্রুর বিরুদ্ধে জাতিকে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি ইরানকে এমনভাবে মোকাবিলা করতে হবে, যাতে আমাদের যুদ্ধবাজ হিসেবে তুলে ধরা না হয়। কারণ, আমরা শুধু নিজেদের রক্ষা করছি।’

গত মাসে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে অস্ট্রেলিয়া নারী ফুটবল দলের পারফরম্যান্স এবং আশ্রয় চাওয়া দুই খেলোয়াড়ের কথা উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের মেয়েরা শত্রুকে শক্ত আঘাত করেছে। শত্রুদের মাধ্যমে বিভ্রান্ত হওয়া ওই দুই প্রিয় মেয়ে যখনই ফিরে আসতে চাইবে, তাদের সব সময় স্বাগত জানানো হবে; তাদের জন্য আমাদের দরজা খোলা আছে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েলসহ ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ রয়েছে এমন দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় গত ৮ এপ্রিল থেকে এই যুদ্ধ স্থগিত রয়েছে।

স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে গত সপ্তাহের শেষে পাকিস্তানে আলোচনায় বসেছিল ওয়াশিংটন ও তেহরান। এ ছাড়া ইসলামাবাদে আরও একটি বৈঠকের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।




ইরান যুদ্ধের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার ব্যালেস্টিক মিসাইল পরীক্ষা, উত্তেজনা বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে ব্যালেস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে নিজেদের সামরিক শক্তির জানান দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। রোববার ভোরে দেশটির পূর্ব উপকূলের সিনপো শহর থেকে সমুদ্রের অভিমুখে এই মিসাইলগুলো ছোড়া হয়।

চলতি মাসে এটি পিয়ংইয়ংয়ের চতুর্থ এবং বছরের সপ্তম মিসাইল পরীক্ষা। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকটের এই সময়ে নিজেদের আত্মরক্ষা সক্ষমতা বিশ্বদরবারে প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাড়তি সুবিধা আদায় করাই উত্তর কোরিয়ার মূল লক্ষ্য।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ১০ মিনিটের দিকে মিসাইলগুলো নিক্ষেপ করা হয়, যা প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সমুদ্রের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। জাপানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মিসাইলগুলো কোরিয়া উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলে পতিত হয়েছে এবং তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।

এই ঘটনার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ‘ব্লু হাউস’ একটি জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক আহ্বান করে এবং উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশনের চরম লঙ্ঘন ও উসকানিমূলক কাজ হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানায়।

উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক তৎপরতার পেছনে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা কিম কি-জং। তাঁর মতে, ইরান যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে পিয়ংইয়ং বিশ্বকে দেখাতে চায় যে, তাদের পারমাণবিক ও সামরিক আত্মরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং অজেয়।

এছাড়া মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এশিয়া সফরের আগে উত্তর কোরিয়া কৌশলে নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার চেষ্টা করছে। যদিও ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং কিম জং উনের সাথে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রসি গত বুধবার এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন যে, উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতায় ‘মারাত্মক’ উন্নতি ঘটিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পিয়ংইয়ং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে নতুন একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র যুক্ত করেছে।

গত মার্চ মাসে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান এখন অপরিবর্তনীয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। ইরান যুদ্ধের আবহে কিমের এই মারমুখী অবস্থান এশীয় অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছে।