ইসরাইলের শহরে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছির হানা: আতঙ্ক, থেমে গেল বিমান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরান ও লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইসরাইলের একটি শহরে হঠাৎ করে মৌমাছির বিশাল ঝাঁক দেখা দেওয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নেতিভতের একটি শপিং সেন্টার ঘিরে হাজার হাজার মৌমাছি আকাশ ঢেকে ফেললে মুহূর্তেই পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

গত বুধবার এই ঘটনায় পুরো এলাকার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। বাইরে থাকা মানুষ আতঙ্কিত হয়ে আশ্রয় খুঁজতে থাকে, আর ঘরের ভেতরে থাকা বাসিন্দারাও চরম উদ্বেগে পড়েন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের দরজা জানালা বন্ধ রেখে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেয়। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যস্ত সড়ক থেকে শুরু করে বাড়ির বারান্দা পর্যন্ত সব জায়গা দখল করে নেয় মৌমাছির ঝাঁক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, এর প্রভাব পড়ে সামরিক কার্যক্রমেও।

দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, একটি সামরিক বিমানের ইঞ্জিনে মৌমাছি ঢুকে পড়ায় এবং ডানায় আটকে থাকায় বিমানটির উড্ডয়ন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

ঘটনাটি ঘিরে অনলাইনে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে ধর্মীয় ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন, আবার অনেকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্বও ছড়াচ্ছেন।

তবে বিজ্ঞানী ও কীটপতঙ্গ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো পরিকল্পিত হামলা নয়। বরং প্রাকৃতিক কারণেই এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাদের মতে, প্রাকৃতিক আবাসস্থলের অভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মৌমাছিরা অনেক সময় শহরের দালান বা দেয়ালের ফাঁককে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নেয়।




“অবরোধের পর প্রথম, হরমুজ পাড়ি দিল তিন ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার: কেপলার”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল ট্র্যাকিংকারী সংস্থা কেপলার’র তথ্যমতে, মার্কিন অবরোধের পর এই প্রথম মোট ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে তিনটি ইরানি ট্যাঙ্কার পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’কে কেপলার জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে ‘ডিপ সি’, ‘সোনিয়া ১’ এবং ‘ডায়োনা’ নামে জাহাজ তিনটি ইরানের খার্গ দ্বীপ থেকে তেল লোড করে। এরপর গত বুধবার এই কৌশলগত জলপথ অতিক্রম করে।

তেহরানের তেল রপ্তানি বন্ধের লক্ষ্যে গত সোমবার থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল স্টারলা জাহাজটির পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো ইরানি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী দিয়ে বের হয়নি।

উল্লেখ্য-গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে তেহরান নিজেদের ছাড়া অন্যান্য জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন গত সোমবার ইরানের বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে।




“ট্রাম্প বলছেন ইরান ধ্বংস, গোয়েন্দাদের দাবি ভিন্ন”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ পশ্চিমা সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে নেওয়া সুপরিকল্পিত প্রস্তুতির কারণে ইরান তাদের অস্ত্রভান্ডার ও নেতৃত্বের ক্ষতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে এখনো পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে দেশটির।

ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলায় ইরানের অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু ঘটেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আগাম পরিকল্পনার কারণে ইরান তাদের মিসাইল ও ড্রোন সক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি। একই সঙ্গে সামরিক প্রতিক্রিয়ার কার্যকারিতাও ধরে রাখতে পেরেছে।

এই মূল্যায়ন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের চেয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান সামরিকভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর বিকল্প নেতৃত্ব প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা থাকায় কমান্ড কাঠামোতে বড় ধরনের ভাঙন দেখা যায়নি। ইউরোপীয় ও উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের কাছে এখনো বিপুল সংখ্যক দূরপাল্লার মিসাইল রয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার ড্রোনও সক্রিয় রয়েছে তাদের অস্ত্রাগারে।

ইরানের মিসাইল মজুতের সঠিক তথ্য গোপন থাকলেও কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ হামলা চালানো প্রয়োজন ছিল। তবে অন্যরা বলছেন, এই হিসাব অতিরিক্ত আশাবাদী হতে পারে।

ইরান তাদের মিসাইল লাঞ্চার ও ড্রোন অবকাঠামো দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে এবং নিয়মিত স্থান পরিবর্তন করছে। ফলে দ্রুত এসব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি কংগ্রেসে দেওয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরানের কাছে এখনো হাজার হাজার মিসাইল ও ড্রোন রয়েছে, যা মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর জন্য হুমকি।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। যদিও আলী খামেনি, আলী লারিজানির মতো শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

গত বছরের সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে ইরান ‘মোজাইক প্রতিরক্ষা কৌশল’ গ্রহণ করে, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। এতে মাঠ পর্যায়ের কমান্ডারদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতিও বাড়ছে। উপসাগরীয় ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, সংঘাত চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ব্যালিস্টিক মিসাইল ছিল। এখন পর্যন্ত তারা বিপুল পরিমাণ মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহার করেছে।




“এআইয়ের ছায়ায় বাড়ছে পারমাণবিক সংঘাতের শঙ্কা”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভয়াবহ মাত্রা যোগ করেছে। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সামরিক আধুনিকায়নের প্রতিযোগিতা এখন আর কেবল প্রচলিত অস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা দ্রুতগতিতে এআই-চালিত সমরকৌশলের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণ থেকে জানা যাচ্ছে, যুদ্ধের ময়দানে এআইর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার দুই দেশের মধ্যবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়কে এতটাই কমিয়ে দিচ্ছে যে, একটি ছোট ভুলও মুহূর্তের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের পেহেলগাম হামলার পরবর্তী সংকট দেখিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি পাল্টে দিচ্ছে।

ভারত-পাকিস্তানের মতো চিরবৈরী দুটি প্রতিবেশী দেশের জন্য এআই কেবল প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ নয় বরং বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যুদ্ধের ময়দানে এখন আর কেবল মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে না বরং স্যাটেলাইট ইমেজ, ড্রোন ফিড এবং সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স থেকে আসা বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করছে এআই সিস্টেম। এই ব্যবস্থাটি তথ্যের পাহাড় ডিঙিয়ে অতি দ্রুত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং হামলার সুপারিশ প্রদান করছে। এর ফলে নীতিনির্ধারকদের হাতে চিন্তা করার বা পরিস্থিতি শান্ত করার মতো পর্যাপ্ত সময় আর অবশিষ্ট থাকছে না। আর এতেই দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত স্থিতিশীলতা সংকটের মুখে।

ভারতের সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালীন যে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, তার সঠিকতা বা নির্ভুলতা ছিল প্রায় ৯৪ শতাংশ। দীর্ঘ ২০ বছরের সংগৃহীত তথ্য এবং রিয়েল-টাইম ড্রোন ডাটার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সিস্টেমটি অত্যন্ত নিখুঁত হলেও এর বিপত্তি অন্য জায়গায়। এই প্রযুক্তির কারণে শনাক্তকরণ এবং পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্যবর্তী সময় এতটাই কমে গেছে যে, রাজনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের কোনো সুযোগই পাওয়া যাচ্ছে না। এই ধরণের অ্যালগরিদমের ওপর অতিরিক্ত আস্থা সেনাপতিদের মনে এই ধারণা তৈরি করছে যে দ্রুততর সিদ্ধান্তই সঠিক সিদ্ধান্ত। অথচ আসলে এটা বড় ধরনের ভ্রমও হতে পারে।

পাকিস্তানও এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই এবং তারা নিজস্ব এআই সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। পাকিস্তান বিমান বাহিনী ইতিমধ্যে ‘সেন্টার ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড কম্পিউটিং’ প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০২৬ সালের ‘গোল্ড ঈগল’ মহড়ার মাধ্যমে তারা তথ্য-চালিত যুদ্ধরীতির বাস্তব প্রয়োগ প্রদর্শন করেছে। পাকিস্তানের এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি মূলত চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ফসল, অন্যদিকে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আধুনিক হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলে এআই-এর কারণে যে ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে, তা কোনোভাবেই শান্তি নিশ্চিত করছে না বরং উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই নতুন সমরকৌশলের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এর ভুলের মাত্রা। ৯৪ শতাংশ নির্ভুলতার অর্থ হলো অন্তত ৬ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। ভারত ও পাকিস্তানের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য অবকাঠামো সমৃদ্ধ অঞ্চলে এই সামান্য ভুলও বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কোনো একটি বেসামরিক স্থাপনাকে ভুলবশত সামরিক লক্ষ্যবস্তু মনে করে আঘাত করলে তার প্রতিক্রিয়ায় যে পাল্টা আঘাত আসবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কারো হাতে থাকবে না। বিশেষ করে উত্তেজনার মুহূর্তে যখন মানুষের ওপর মানসিক চাপ থাকে, তখন তারা যন্ত্রের দেওয়া তথ্যকে ধ্রুব সত্য বলে ধরে নেয়। একে সামরিক পরিভাষায় ‘অটোমেশন বায়াস’ বলা হয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম মিসাইল এবং রাডার ব্যবস্থাগুলো অনেক সময় প্রচলিত যুদ্ধের জন্যও ব্যবহৃত হয়। এআই যদি ভুলবশত কোনো সংকেতকে পারমাণবিক আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে ব্যাখ্যা করে, তবে তার ফল হবে ভয়াবহ। পারমাণবিক ছায়ার নিচে বাস করা এই দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস এতটাই গভীর যে, একে অপরের প্রতিটি পদক্ষেপকে তারা চরম হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। এমন পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল ব্যাখ্যা বা ‘ব্ল্যাক বক্স’ ডাটা প্রসেসিং যুদ্ধের ময়দানে এমন এক ফিডব্যাক লুপ তৈরি করতে পারে, যেখানে মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাবে এবং যান্ত্রিক সিদ্ধান্তই জয়ী হবে।

মিলিটারি থিঙ্কিং ‘ওওডিএ লুপ’ (অবজার্ভ, ওরিয়েন্ট, ডিসাইড, অ্যাক্ট বা পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ) প্রক্রিয়াটি এআই’র কারণে এখন অতি-সংকুচিত। যখন মহাকাশ, আকাশপথ এবং সাইবার জগৎ একই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকে, তখন একটি ভুল সংকেত পুরো ব্যবস্থার মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে যুদ্ধের ময়দানে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে নেতারা আর বসে কথা বলার সুযোগ পান না বরং পরিস্থিতির চাপে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। প্রযুক্তি এখানে স্বচ্ছতা আনার বদলে এক ধরনের কৌশলগত অস্পষ্টতা তৈরি করছে যা উভয় পক্ষকেই বিচলিত করে তোলে।




৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রায় পাঁচ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে স্পেন। অনেক ইউরোপীয় প্রতিবেশী দেশ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার বিপরীতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘ন্যায়বিচারের পদক্ষেপ’ ও স্পেনের জন্য একটি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। স্পেনবাসীর উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে সানচেজ বলেন, এই গণবৈধতা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো- প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বাস্তবতাকে স্বীকার করা, যারা এরই মধ্যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছেন।

তবে স্পেনের রক্ষণশীল বিরোধী দল পিপলস পার্টি (পিপি) এই উদ্যোগ ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের দাবি- এটি অবৈধ অভিবাসীদের পুরস্কৃত করবে ও আরও মানুষকে অবৈধভাবে আসতে উৎসাহিত করবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের এক বছরের জন্য নবায়নযোগ্য আবাসন অনুমতি দেওয়া হবে। তবে এর জন্য আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে, তারা এরই মধ্যে অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে অবস্থান করেছেন ও তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। আবেদন করার সময়সীমা ১৬ এপ্রিল থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

গবেষণা সংস্থা ফুংকাস-এর হিসাব অনুযায়ী স্পেনে বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার অবৈধ অভিবাসী রয়েছেন। তাদের অধিকাংশ লাতিন আমেরিকার বাসিন্দা।

এদিকে বিরোধীরা দাবি করেছে, সরকারের হিসাব সঠিক নয় এবং প্রায় ১০ লাখ অভিবাসী এই প্রকল্পের আওতায় আবেদন করতে পারেন। পিপি এই পরিকল্পনাকে ‘চরম অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে ক্যাথলিক চার্চ এই আইনি উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে।




আগ্রাসনে ইরানের ক্ষতি ২৭০০ কোটি ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এ পর্যন্ত ইরানের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, আর্থিক হিসাবে তা ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের সমতুল্য। গত মঙ্গলবার দেশটির আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন, এটি প্রাথমিক হিসাব। বিস্তারিতভাবে হিসাব আরও বাড়তে পারে।

গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে বৈঠকে ক্ষয়ক্ষতির এ তথ্য মার্কিন প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন মোহাজেরানি।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। দুই ইস্যুতে গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো ধরনের সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন আয়তুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। এ ছাড়া ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামী প্রজাতন্ত্রী সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায়।




যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে অপ্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি, তবে বেড়েছে বাণিজ্য ঘাটতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে গত ফেব্রুয়ারিতে অপ্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে একই সময়ে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতিও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের (ওএনএস) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাজার প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেলেও বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ২ হাজার ৪ কোটি পাউন্ডে (প্রায় ২ হাজার ৭৭০ কোটি ডলার) দাঁড়িয়েছে।

ওএনএস জানায়, জানুয়ারিতে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর ফেব্রুয়ারিতেও শূন্য দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ মাসিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বার্ষিক হিসাবে জিডিপির এই প্রবৃদ্ধির হার ১ শতাংশ, যা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশের বাজার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। খাতভিত্তিক হিসাবে গত ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণ খাতে ১ শতাংশ, সেবা খাতে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং উৎপাদন খাতে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

শিল্প খাতেও ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। জানুয়ারিতে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ সংকোচনের পর ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ শিল্প উৎপাদন শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওএনএস এক বিবৃতিতে বলে, ‘ফেব্রুয়ারি মাসে খনি ও পাথর উত্তোলন খাতে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন খাতে আংশিক বৃদ্ধির কারণে মাসিক শিল্প উৎপাদনে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।’ তবে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ পতন সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে কিছুটা ম্লান করেছে বলে দপ্তরটি জানিয়েছে। খনি ও পাথর উত্তোলনের ক্ষেত্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন ৫ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে।

অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও বাণিজ্য ঘাটতির চিত্রটি তুলনামূলক হতাশাজনক। ওএনএস জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ২ হাজার ৪ কোটি পাউন্ডে পৌঁছেছে, যেখানে বাজার প্রত্যাশা ছিল ১ হাজার ৯৪০ কোটি পাউন্ড। এ সময় পণ্য আমদানি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ১৯০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছায়। অন্যদিকে, রপ্তানি ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৩ হাজার ১৫০ কোটি পাউন্ডে নেমে আসে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭০ কোটি পাউন্ডে। ইইউ দেশগুলোতে রপ্তানি শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৪০ কোটি পাউন্ড এবং আমদানি ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৭১০ কোটি পাউন্ড হয়েছে। অন্যদিকে, ইইউবহির্ভূত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৮৭০ কোটি পাউন্ড।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। দেশটিতে যুক্তরাজ্যের রপ্তানি ১১ দশমিক ৩ শতাংশ (প্রায় ৫০ কোটি পাউন্ড) বেড়েছে। যন্ত্রপাতি, পরিবহন সরঞ্জাম এবং কাঁচামাল রপ্তানি বৃদ্ধির কারণেই মূলত এই উল্লম্ফন ঘটেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ আমদানি কমে যাওয়ায় সার্বিক আমদানি ৮ দশমিক ২ শতাংশ (প্রায় ৪০ কোটি পাউন্ড) হ্রাস পেয়েছে। তবে ওএনএস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাণিজ্য শুল্ক আরোপের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানির মূল্য তুলনামূলকভাবে কমই রয়ে গেছে।




চুক্তি না করলে ইরানে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে ইসরায়েল ইরানের ওপর ‘আরও ভয়াবহ’ হামলা চালাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘ইরান এখন এক ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটি তাদের বেছে নেওয়ার সময়, ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সেতু নাকি বিচ্ছিন্নতা ও ধ্বংসের অতল গহ্বর’।

তিনি আরও বলেন, ইরান যদি ধ্বংসের পথ বেছে নেয়, তবে তারা ‘খুব দ্রুতই টের পাবে’ যে ইসরায়েল এখন পর্যন্ত যেসব জায়গায় হামলা চালায়নি, সেগুলো ‘এর আগে আক্রান্ত হওয়া জায়গাগুলোর চেয়েও অনেক বেশি স্পর্শকাতর হবে।’

‘সিদ্ধান্ত তাদের হাতে এবং এর পরিণামের দায়ভারও তাদেরই নিতে হবে’ বলেন কাৎজ।

সূত্র : বিবিসি




নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ‘চাপ’, আজই যুদ্ধবিরতির আলাপে বসছে ইসরায়েল-লেবানন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চলমান সংঘাত নিয়ে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার ফোনালাপ করবেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক সদস্য গালিয়া গামলিয়েল ইসরায়েলি আর্মি রেডিওকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সামাজিক মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা একটি পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পর গালিয়া গামলিয়েল এমন তথ্য দিলেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) আলোচনা করবেন।’

গামলিয়েলের ঘোষণার আগে লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।

ফোনালাপ নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের পর লেবানিজ গণমাধ্যম ‘আল-জাদিদ’-এর বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরায়েল (টিওআই)। এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় ফোনালাপ আয়োজনের তোড়জোড় চলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফোনালাপের মূল বিষয়বস্তু হতে পারে দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি শুরু করা। এছাড়া একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার পৃথক একটি প্রতিবেদনে টাইমস অব ইসরায়েল লিখেছে, লেবাননে সাময়িক যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বুধবার রাতে এক জরুরি বৈঠকে বসেছিল। এরপরই জেরুজালেমের রাজনৈতিক মহলে একটি ধারণা জোরালো হয়। সেটি হলো- যুক্তরাষ্ট্রের প্রচণ্ড চাপের মুখে যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়া ছাড়া ইসরায়েলের আর কোনো উপায় নেই।

টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, মন্ত্রী গালিয়া ইসরায়েলের আর্মি রেডিওকে বলেন, ‘এত বছরের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতার পর’ এ কথোপকথন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আশা করা যায়, এ পদক্ষেপ শেষপর্যন্ত সমৃদ্ধির দিকে ধাবিত করবে।

তবে কিছু সংবাদমাধ্যম লেবাননের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে এমন কোনো যোগাযোগ বা আলোচনার বিষয়ে তারা অবগত নন।




মাছ খেলে আপনাদের বাংলাদেশি বলা হবে: মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি থেকে মৎস্যজীবীদের উন্নতি, নানা প্রতিশ্রুতি উঠে আসছে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের প্রার্থীদের বক্তব্যে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর৷ অন্য যে বিষয়গুলি উঠে আসছে, তার মধ্যে অন্যতম বাঙালির খাদ্যাভ্যাস৷

মাছে-ভাতে বাঙালি এটাই তাদের পরিচয়। বাঙালির পাতে অপরিহার্য মাছ৷ বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে মাছ খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, এমন প্রচারণা চালাচ্ছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস৷

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভায় বলেছেন, ‘বিজেপি আপনাদের মাছ খেতে দেবে না৷ মাংস, ডিমও খেতে দেবে না৷ যদি আপনারা খান, তাহলে আপনাদের বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করবে৷’

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, তিনি টানা ১৫ দিন এ রাজ্যে থাকবেন৷ তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়ায় ইলিশ ভাপা, পাবদার ঝাল, চিংড়ি মাছের মালাইকারি ও কষা মাংসের ছবি পোস্ট করেন৷ সেখানে লেখা হয়, ‘পর্যটকদের স্বাগত জানাই পশ্চিমবঙ্গে। এখানে এলে এসব খাবার মিস করবেন না।’

জবাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জনসভায় বলেছেন, ‘বাংলায় মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এর উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ স্বনির্ভর নয়৷ এখানে মাছের চাহিদা মেটানোর জন্য অন্য রাজ্য থেকে আমদানি করতে হয়৷ গত ১১ বছরে দেশে মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে৷ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেটা করতে পারেনি৷’

মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা দাবি করেছেন, ‘আগে হায়দ্রাবাদ থেকে মাছ আসতো৷ এখন আর আসে না৷ বিজেপি বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানে মাছ খেতে দেয় না৷ দোকান বন্ধ করে দিয়েছে৷’

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, অনেকে মাছের প্রসঙ্গে তৃণমূলকে জবাব দিয়েছেন৷ মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি থেকে মৎস্যজীবীদের উন্নতি, নানা প্রতিশ্রুতি উঠে আসছে তাদের বক্তব্যে৷

মাছ নিয়ে প্রচারে প্রার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে৷ বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় একটা বড় আকারের কাতলা মাছ হাতে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচার করেছেন৷ ভোটারদের বলেছেন, বিজেপি এলে মাছ খাওয়া বন্ধ হবে না৷ খড়গপুরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ প্রচার করতে করতে ঢুকে পড়েন মাছের বাজারে৷

নববর্ষের সকালে টালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস অভিনব প্রচারে বার হয়েছিলেন৷ গড়িয়া এলাকায় তার সমর্থকরা দুটো বড় ট্রেতে রুই মাছ নিয়ে প্রার্থীর পাশে হাঁটছিলেন৷ অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘বিজেপি শাসিত রাজ্যে মাছ খাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ মাছ ফেলে দেওয়া হচ্ছে৷ এখানে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালি মাছ খেতে পারবে না৷’