ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে দেওয়ার’ হুমকি ইরানের সেনাপ্রধানের, মার্কিন সেনা হত্যায় পুরস্কার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ডে পরিণত করার হুমকি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই বিস্ফোরক মন্তব্যের কড়া জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ‘পা ভেঙে দেওয়ার’ নজিরবিহীন হুমকি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দি করতে পারলে ৩০ হাজার ডলার বা ৫ বিলিয়ন তোমান আর্থিক পুরষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির শীর্ষ সামরিক বাহিনী।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের নতুন করে আর কোনো সংলাপে না বসার অবস্থানের পর দুই পরাশক্তির মধ্যে এই চরম কথার লড়াই মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে তৈরি করেছে নতুন তীব্র উত্তেজনা।

ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি ট্রাম্পের দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার খ্যাত হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানকে চূড়ান্ত পরাজিত করার পর—যেটি খুব দ্রুতই ঘটতে যাচ্ছে—আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য বা ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘মূলত এখন এটি (হরমুজ প্রণালি) আমাদেরই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের অবরোধ কার্যকর আছে। আমরা না চাইলে কোনো জাহাজ সেখান দিয়ে যেতে পারবে না।’

চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানে মার্কিন হামলার আগে বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান জলপথ ছিল এই হরমুজ প্রণালি। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে এবং বহুবার এটি সম্পূর্ণ বন্ধও করে দেওয়া হয়। বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং শান্তিচুক্তির কোনো লক্ষণ না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দখলের মতো বিষয় নিয়ে রসিকতা করা একটি ‌“বিশাল ভুল”। কারণ, ইরানের এমন বীর রক্ষকরা রয়েছে যারা ট্রাম্পের “পা ভেঙে দেবে”।’ তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন বাহিনীকে এই অঞ্চল থেকে ‘কার্যকরভাবে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে’ এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের আর প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

মার্কিন প্রশাসনকে ‘পরাজয়ের বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার’ পরামর্শ দিয়ে হাতামি বলেন, সবাই জেনে রাখুক, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান ঘাঁটিগুলো আর কখনো তাদের আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে না। আমাদের প্রতিবেশী অঞ্চলে ইসলামি ইরানকে হুমকি দেওয়ার জন্য কোনো কেন্দ্র গড়ে তোলার অনুমতি আমরা কখনোই দেব না। আমেরিকানদের একমাত্র পথ হলো এই অঞ্চল ত্যাগ করা।’

উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে বড় আর্থিক পুরস্কারের পরিকল্পনা উন্মোচন করেছেন মেজর জেনারেল হাতামি। তিনি জানান, ‘আর্থিক জিহাদে’ অংশ নিতে আগ্রহী জনগণের সহযোগিতায় ও সেনাবাহিনীর গ্যারান্টিতে এই অর্থ দেওয়া হবে। হাতামি বলেন, ‘যে কেউ একজন আক্রমণকারী আমেরিকান সেনাকে হত্যা বা বন্দি করে তুলে দিতে পারবে, তাকে ৩০ হাজার ডলার সমপরিমাণ বা ৫ বিলিয়ন তোমান উপহার দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি এই কাজে সফল হবে, তার ব্যবহৃত অস্ত্রটি দ্বিগুণ দামে কিনে নেওয়া হবে এবং তাকে একটি নতুন অস্ত্র দেওয়া হবে। আর সেনার কাছ থেকে সংগৃহীত মূল অস্ত্রটি একটি বিশেষ জাদুঘরে সংরক্ষণ করে রাখা হবে।’

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই গাজায় স্থবির হয়ে পড়া শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারে বিরল কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে গত রবিবার এক শীর্ষ হামাস নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আজ সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে কুশনারের। মার্কিন-সমর্থিত এই ১৫ দফা রোডম্যাপ অনুযায়ী, হামাসকে গাজায় অস্ত্রসংবরণ করতে হবে এবং ইসরায়েলকে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ১০ মাসেরও বেশি সময় পার হলেও অঞ্চলটি এখনো ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত বছর মিসরে কুশনার, স্টিভ উইটকফ ও হামাস নেতাদের বৈঠকের মাধ্যমে মূল যুদ্ধবিরতি অর্জিত হলেও, হামাসের অস্ত্রহ্রাসের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দীর্ঘায়িত মতভেদের কারণে গাজার ২০ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আটকে আছে।




ওমানে ট্রাম্পের বোমা হামলার হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি করলে উপসাগরীয় দেশ ওমানে সোমবার (১৭ আগস্ট) বোমা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত ওমানের বিরুদ্ধে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সরাসরি হুমকি দিলেন ট্রাম্প।

এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সংঘাত অবসানের প্রক্রিয়ায় ওমান কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করলে দেশটির ওপর কঠোর হামলা চালানো হবে। প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত কূটনৈতিক সময়সীমা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

তবে সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনই কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের ‘আত্মসমর্পণের’ ইঙ্গিত দিতে সাদা পতাকা প্রদর্শন করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য বলে আবারও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গত জুনে জি-সেভেন সম্মেলনের ফাঁকে হওয়া সমঝোতার আওতায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ মেটাতে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে।

এদিকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলার মধ্যেই ট্রাম্পের নতুন এই হুমকিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র হওয়া সত্ত্বেও এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকেও ওমানকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।

তবে ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্যের মধ্যেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে চলছে।




পশ্চিমবঙ্গে হোটেলে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে মন্দিরের সামনে অবস্থিত পাঁচতলা হোটেল ‘বিদেশিনী’ তে আগুন লাগে। নিহতরা শ্রাবণ মাসের পূজা দিতে তারাপীঠে যাওয়া পুণ্যার্থী বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোটেলটির নিচতলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে।

আগুন লাগার সময় হোটেলের অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। সেখানে শিশুও ছিল। আগুন ও ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে কক্ষের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।

খবর পেয়ে দমকলের দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে ধোঁয়া ভবনের ওপরের তলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়।

হোটেলটির মালিক কল্যাণ পাল জানান, রাতে পাহারার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা আগুন দেখতে পেয়ে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে দমকলকর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আহতদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।




বিশ্বজুড়ে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, জাতিসংঘের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন, তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির মতে, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ এখন আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী হচ্ছে।

বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন অংশ পঞ্চম দফায় গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হয়েছে। চরম খরা, দাবানল ও রেকর্ড তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত অঞ্চলটি। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএমওর জলবায়ু তথ্যপ্রধান জন কেনেডি বলেন, অতীতের তুলনায় তাপপ্রবাহ এখন শুধু বেশি ঘন ঘনই হচ্ছে না, বরং আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। তার মতে, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ ইউরোপে চলমান তাপপ্রবাহের পেছনে বায়ুমণ্ডলের উচ্চচাপ বলয় ও উষ্ণ জলবায়ুর সম্মিলিত প্রভাব রয়েছে।

উচ্চচাপ বলয় গরম বাতাসকে আটকে রাখার পাশাপাশি মেঘের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং শীতল বাতাসের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে দিনের পর দিন বা সপ্তাহের পর সপ্তাহ বিশাল এলাকাজুড়ে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় থাকে।

সাধারণত বৈশ্বিক তাপমাত্রার ওঠানামায় এল নিনোর প্রভাব থাকলেও এবারের ইউরোপের তাপপ্রবাহের জন্য এটি দায়ী নয়। বর্তমানে ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের অবস্থা অনেকটাই নিরপেক্ষ। কেনেডি বলেন, ১৯৭৬ সালের জুনেও প্রায় একই ধরনের বায়ুমণ্ডলীয় উচ্চ ও নিম্নচাপ পরিস্থিতি ছিল। কিন্তু তখন বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মাত্রা কম থাকায় ফলাফল ছিল ভিন্ন। সে সময় গড়ের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন এলাকায়। বিপরীতে, বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলেই গড়ের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে।

ইউরোপের স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রের অস্বাভাবিক উষ্ণতাও পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করছে। ভূমধ্যসাগর ও ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলীয় সমুদ্রের সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ স্থলভাগের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের শুষ্কতায় মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ভূমি দ্রুত উত্তপ্ত হচ্ছে এবং তাপমাত্রা আরও বাড়ছে।

জন কেনেডির ভাষায়, চলতি বছরে রেকর্ড মাত্রার তাপমাত্রার পেছনে একাধিক প্রাকৃতিক ও জলবায়ুগত কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র, দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।




ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু, মিশরে হাসপাতালে ভর্তি ১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দাবি, খাবার ও পানির সংকটে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজন মারা যান। মরদেহে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।

গত ৩ আগস্ট রাতে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। নৌকাটিতে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি ছিলেন বলে জানা গেছে।

যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পর ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর কোনো খাবার-পানি ছাড়াই যাত্রা অব্যাহত রাখেন তারা। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে সেটি সাগরে ভাসতে থাকে।স

টানা নয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছায়। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম বলেন, গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর তাদের নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর নৌকাটি আর সামনে এগোতে পারেনি। এ সময় দালালের লোকজন বা অন্য কোনো সংস্থা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি।

আব্দুল করিম বলেন, নৌকায় খাবার ও পানি না থাকায় চরম সংকটের মধ্যে পড়েন তারা। খাবার ও পানির অভাবে নয় বাংলাদেশি মারা যান। পরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় সাগরে থাকার কারণে জীবিতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে বলেও জানান তিনি।

মারসা মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করিম দেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে বলেন, তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকেরা খাবারের ব্যবস্থাও করছেন। তারা দেশে ফিরতে চান।

এ বিষয়ে মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শরিফ এবং স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা বাদরানের সঙ্গে দূতাবাসের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি বাংলাদেশিদের চিকিৎসার অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আহতরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটক বাংলাদেশিদের ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।




দাবানলে জ্বলছে ইউরোপ, ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রচণ্ড দাবদাহ এবং দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে ইউরোপের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপণ কর্মী। ইতোমত্যেই আগুন থেকে বাঁচতে ইউরোপের একাধিক দেশের হাজার হাজার অধিবাসী ও পর্যটক নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশ্রয়স্থল ছেড়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় লান্দেস বিভাগের লুগলোঁ শহরের আশপাশ থেকে নতুন করে অন্তত ১০০ জন বাসিন্দা ও পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই আগুন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিস্তার লাভ করছে। লান্দেস প্রসেফেকচার থেকে জানানো হয়েছে, আগুন ইতোমধ্যে প্রায় ১,৫৮০ হেক্টরেরও বেশি এলাকা ভস্মীভূত করেছে। বিশেষ করে লুগলোঁ শহরের দক্ষিণ-পূর্বাংশে গা রেঁ গ্রামের কাছাকাছি এলাকায় আগুন তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ভয়াবহ এই আগুন নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ৫৫০ জন ফায়ারফোর্সের কর্মী সমন্বিতভাবে কাজ করছেন এবং আকাশপথে আগুন নেভানোর মহড়া পুনরায় শুরু করা হয়েছে।

জার্মানির ইফেল অঞ্চলে দাবানলের প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সেখানে নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বনভূমি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। হুরটগেনওয়াল্ড এলাকা থেকে অন্তত ১,৮০০ জন মানুষকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ১,৪০টি বিভিন্ন ফায়ার ব্রিগেডের অগ্নিনির্বাপক দল দিনরাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ বেলজিয়ামের ফাগনেস প্রাকৃতিক উদ্যানে সৃষ্টি হওয়া অন্য একটি দাবানল নেভাতে জার্মান দমকল বাহিনীর সাহায্য চাওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই আগুনে বেলজিয়াম সীমান্তে অন্তত ১৬ বর্গকিলোমিটার বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আরাগন অঞ্চলেও পরিস্থিতি বেশ গুরুতর। সেখানে ১৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি এলাকা ছাই হয়ে গেছে এবং প্রায় এক হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা আগুনকে বসতি এলাকার দিকে এগোনো থেকে থামাতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে ওই অঞ্চলে খুব শীঘ্রই তাপমাত্রা কমতে পারে এবং হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। গ্রীসেও তীব্র বাতাসের কারণে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৫০টিরও বেশি কৃষি ও বনভূমির দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল, যদিও অধিকাংশ আগুন ফায়ার সার্ভিস দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে।

পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতেও দাবানল পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রোয়েশিয়ার ডুগি ওটোক দ্বীপে ১০০ জনেরও বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং দুটি ওয়াটার বোম্বিং বিমানের সাহায্যে আগুন নেভানোর কাজ চলছে। এছাড়া পেলজেসাক উপদ্বীপে ছড়ানো আরেকটি আগুন শুক্রবার আয়ত্তে আনা সম্ভব হয়েছে। সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে বেলগ্রেডের কাছে দেলিব্লাতস্কা জাতীয় উদ্যানে ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা ভস্মীভূত করা একটি বড় দাবানল সহ তারা প্রায় ২৫টি বনাঞ্চলের আগুনের সাথে লড়াই করছে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন জানিয়েছেন যে সমগ্র ইউরোপ বর্তমানে উচ্চ দাবানল সতর্কতায় রয়েছে এবং পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘কোপার্নিকাস’ উপগ্রহ ইতোমধ্যেই স্পেন, আলবেনিয়া, গ্রীস, ফ্রান্স, জার্মানি এবং সার্বিয়ায় মানচিত্র তৈরি ও জরুরি সহায়তায় কাজ শুরু করেছে। আক্রান্ত দেশগুলোকে জরুরি সহায়তা প্রদান করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।




ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র! ধর্মীয় নেতার বক্তব্যে তোলপাড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এতদিন ইরানের হুমকির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কেবল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। হরমুজ প্রণালি ঘিরেও তৈরি হয়েছিল নতুন উত্তেজনা। কিন্তু এবার ইরানের এক প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা এমন মন্তব্য করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পুরো হিসাব পাল্টে দিতে পারে। তাঁর বক্তব্য—পরিস্থিতি যদি আরও এক ধাপ এগোয়, তবে ইরান এমন সিদ্ধান্তের দিকে যেতে পারে, যা নিয়ে বহু বছর ধরে পশ্চিমা বিশ্ব সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। অর্থাৎ, তেহরানের সমরাস্ত্র হুমকির কেন্দ্রে এবার প্রকাশ্যে উঠে এসেছে পারমাণবিক অস্ত্র।

ইরানের আহভাজ শহরের জুমার নামাজের খতিব ও ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ নবি মুসাভিফার্দ শুক্রবার এক খুতবায় এই সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ যদি ইরানের বিরুদ্ধে কথিত ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ওয়ার’ বা দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা শুরু করে, তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে যাবে। তাঁর ভাষায়, ‘যদি আমাদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে আমরা বাধ্য হয়ে পরমাণু অস্ত্রের দিকে হাত বাড়াব।’

এই বক্তব্যের পর নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিমা বিশ্ব। প্রশ্ন উঠেছে—ইরান কি সত্যিই তার দীর্ঘদিনের পরমাণুনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? তবে বিশ্লেষণ বলছে, এটি এখনো ইরান সরকারের পক্ষ থেকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। তা সত্ত্বেও বক্তব্যটির রাজনৈতিক গুরুত্ব কম নয়। মুসাভিফার্দ স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি দেশটির অভ্যন্তরীণ এখতিয়ার। অর্থাৎ, তেহরানকে পরমাণু শক্তি নিয়ে ক্রমাগত চাপে ফেললে ইরান আরও কঠোর সামরিক অবস্থানে যেতে পারে—সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করে সতর্ক করে দেন। মুসাভিফার্দ বলেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই এই সংঘাতে এমন এক জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে, যা থেকে উত্তরণ তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, তেহরান সংঘাতকে একটি আঞ্চলিক চাপে রূপ দিতে চায়, যেখানে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও অর্থনৈতিক পথগুলো মার্কিন স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবারও এক পৃথক বক্তব্যে আরও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, ইরানের নীতিগত শর্তগুলো পূরণ করা না হলে চলমান পরিস্থিতি ‘আক্রমণাত্মক যুদ্ধের পর্যায়ে’ মোড় নিতে পারে।

অর্থাৎ, ইরানের তরফ থেকে এখন দুটি স্পষ্ট কৌশল দৃশ্যমান—একদিকে হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ রক্ষা, অন্যদিকে চাপ বাড়লে সর্বাত্মক সামরিক প্রতিরোধ। আর এর সঙ্গে পরমাণু অস্ত্রের সরাসরি ব্যবহার সম্পর্কিত নতুন সতর্কবার্তাটি পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।




হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের, জবাবে যা বললো ইরান

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ও উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ইরানেরই ছিল, আছে এবং থাকবে। কখন প্রণালী বন্ধ বা খোলা হবে, সেই সিদ্ধান্তও তেহরানই নেবে বলে জানিয়েছে দেশটি।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাদ্যম আনাদোলু এজেন্সি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, নিউইয়র্কের পুলিশ একাডেমি সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্সে স্থানীয় সময় শুক্রবার দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করতে যাচ্ছি।’

ট্রাম্পের এ বক্তব্যের পর ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, হরমুজ প্রণালী ‘ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে’।

তার দাবি, ইরানের ‘কৌশলগত পরাজয়’ মেনে না নেওয়া পর্যন্ত প্রণালীর ওপর অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং কখন এটি বন্ধ বা খোলা হবে, সেই সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে।

এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের সময়ই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কেপলার ডেটা অনুযায়ী, শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করেছে এবং কোনো অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের চলাচল দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার নয়টি এবং বুধবার পাঁচটি জাহাজ পার হয়েছে। অথচ আগস্ট মাসে গড়ে প্রতিদিন ১২টি জাহাজ এ পথ ব্যবহার করছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করতো। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধ কার্যকর করতে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত তাদের বাহিনী ৬২টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে, তিনটি অচল করেছে এবং দুটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেলেও এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থান আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে ওয়াশিংটন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে, অন্যদিকে তেহরান প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিজেদের কর্তৃত্বের দাবি জোরালো করছে। তবে এখন পর্যন্ত দুই পক্ষই আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ফেরার বিষয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

  • হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড করা হবে: ট্রাম্প

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি




পশ্চিম তীরের শেষ খ্রিষ্টান শহরটিও এখন ইসরায়েলিদের নিশানায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের একমাত্র ও শেষ খ্রিষ্টান অধ্যুষিত শহর তাইবেহ। একসময় নিরাপদ ও শান্ত হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক এই শহরটির বাসিন্দারা এখন চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন। গত কয়েক বছরে শহরটিতে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, জমি দখল ও লুটপাট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

রোলান্ড বাসির নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে প্রায় ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে শহরের প্রান্তে একটি পাথরখনি ও কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমাগত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে বাধ্য হয়ে তাঁকে ব্যবসা ছেড়ে দিতে হয়েছে। শুধু রোলান্ড নন, স্থানীয় ব্যক্তিদের কৃষিজমি, জলপাইবাগান ও পানির কূপগুলোও একে একে দখল করে নিচ্ছে ইসরায়েলিরা।

আতঙ্ক এখন স্থানীয় ব্যক্তিদের নিত্যসঙ্গী। রোলান্ডের স্ত্রী সান্দ্রা বাসির আত্মরক্ষার্থে ঘরে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখেন। রাতে ঘুমানোর আগে দরজা বন্ধ করেছেন কি না, বারবার পরখ করে দেখেন, পাহারার জন্য রেখেছেন কুকুরও। ভয়ে তাঁদের সাত বছরের ছেলের বাইরে খেলাধুলা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন।

অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী তাইবেহ ব্রুয়ারির (বিয়ার উৎপাদন) ব্যবসাও হুমকির মুখে। এর পরিচালক মাদিস খৌরি জানান, তাঁদের আয় আগের চেয়ে ৮০ শতাংশ কমে গেছে। বসতি স্থাপনকারীরা তাঁদের পানির প্রধান উৎস ‘আইন সামিয়া’ ঝরনা এবং ব্যক্তিগত খামারও দখল করেছে। ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রশাসনের অধীনে থাকা ‘এলাকা বি’-তেও নতুন ফাঁড়ি বসিয়ে জমি দখল করছে ইসরায়েলিরা।

হামলা ঠেকাতে ৯ আগস্ট ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাইবেহকে ‘সামরিক অভিযানের আওতাধীন এলাকা’ ঘোষণা করলেও পরিস্থিতি বদলায়নি। স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, এই আদেশের ফলে শহরটি আরও একঘরে হয়ে পড়েছে। বসতি স্থাপনকারীরা ঠিকই নির্বিঘ্নে তাদের হামলা ও দখলদারি চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ বা প্রশাসন ডাকলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

ভয়, নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক ধসের কারণে গত দুই বছরে অন্তত ১৫টি পরিবার শহর ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে পর্যটনও।

তবে ক্রমাগত হামলা ও সব হারানোর ভয় থাকলেও নিজেদের মাটি আঁকড়ে থাকতে চান অনেকে। তাইবেহ শহরের মেয়র সুলেইমান খৌরিয়াহ বলেন, ‘প্রভু যিশুখ্রিষ্ট যখন এই শহরে হেঁটেছিলেন, তখন থেকেই আমরা এখানে আছি। এটি আমাদের শহর। আমরা এ জায়গা ছেড়ে যাব না। আমাদের মৃত্যু হলেও আমরা এখানেই সমাহিত হব। কারণ, এটি পবিত্র ভূমি।’




ইলিশ চাইতে ঢাকায় আসছে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশ থেকে এখনো ইলিশ না পেয়ে তা পাওয়ার অনুরোধ জানাতে ঢাকায় আসছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী সোমবার তারা ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ও বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খানের সঙ্গে বৈঠক করবে তারা।

ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যম এ বলা হয়, বৈঠকেই পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদল তাদের রাজ্যে ইলিশ রপ্তানি করার অনুরোধ করবে। পশ্চিমবঙ্গের আমদানিকারক সংগঠনের নেতা অতুলচন্দ্র দাস বলেন, ‘আশা করছি বৈঠক ফলপ্রসূ হবে।’

গত বছর বাংলাদেশ সরকার ৩৭টি সংস্থাকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে ১২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল। সেটা ছিল দুর্গাপূজার সময়। তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে জটিলতা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে ২০১২ সাল থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ রেখেছিল বাংলাদেশ। সরকারিভাবেই তা জানিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। তারপর ২০১৯ সালে ফের পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রপ্তানি করে, তবে তা দুর্গাপূজা উপলক্ষে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসাবে। পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁর পেট্রাপোল-বাংলাদেশের যশোরের বেনাপোল দিয়ে এ ইলিশ রপ্তানি করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ গতবারও চেষ্টা চালিয়েছিলেন যাতে করে বেশি ইলিশ নেওয়া যায় বাংলাদেশ থেকে। এবারও সেই চেষ্টা করছেন। পদ্মার ইলিশ এক কেজি ওজনের বেশি হলেই পশ্চিমবঙ্গে তা আড়াই হাজার রুপি পর্যন্ত প্রতি কেজি দাম ওঠে। এবার পশ্চিমবঙ্গের দিঘা, নামখানায় ইলিশের জোগান যথেষ্ট রয়েছে। তবে বড় ইলিশ নেই। এখন পর্যন্ত এক কেজি ওজনের ইলিশ এসেছে একেবারে নামমাত্র।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা, পশ্চিমবঙ্গ ফিশ ট্রেডার্স ও ট্রলার মালিকদের সংগঠনের নেতা বিজন মাইতি বলেছেন, ‘গত পাঁচ-ছয় দিন খুবই ভালো ইলিশ উঠেছে। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপর যদি ভালো পরিমাণ মাছ ওঠে তো বলতে হবে গতবারের চেয়ে জোগান বেশি। না হলে গতবারের মতোই থাকবে।’