হরমুজ পাড়ি দিতে ইরানের ‘নতুন নিয়ম’, অনুমতি ছাড়া চলবে না কোনো জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছে ইরান। এখন থেকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে চাইলে প্রতিটি জাহাজকে আগে তেহরানের অনুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত টোল পরিশোধ করতে হবে।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে যেকোনো পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল তেহরান। সেই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়।

এবার সেই প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে নতুন আইনি ও নিরাপত্তা কাঠামো চালু করেছে ইরান। নৌপরিবহনবিষয়ক সাময়িকী ‘লয়েডস লিস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ (পিজিএসএ)’ ইতোমধ্যে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। এর আওতায় হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে ইচ্ছুক সব জাহাজকে আগে অনুমতি নিতে হবে এবং টোল পরিশোধ করতে হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে ‘নৌযান তথ্য ঘোষণা’ ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে। এতে জাহাজের মালিকানা, বীমা, ক্রু সদস্য, বহন করা পণ্য, কোন বন্দর থেকে যাত্রা শুরু হয়েছে, কোথায় যাবে— এসবসহ ৪০টিরও বেশি তথ্য দিতে হবে। সব তথ্য যাচাইয়ের পরই মিলবে চলাচলের অনুমতি।

তবে টোলের পরিমাণ কী হবে বা কোন ভিত্তিতে তা নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মঙ্গলবার ইরানের প্রেস টিভি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর ‘সার্বভৌম কর্তৃত্ব’ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মাবলি বিভিন্ন জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়।
একইসঙ্গে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে তার সম্পূর্ণ দায় আবেদনকারী জাহাজ কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে। তবে কোনো দেশ বিশেষ সুবিধা পাবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি তেহরান।

এর আগে, গত শনিবার ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি এক্স-এ একটি পোস্টে বলেন, ‘যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাদের জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহার সহজ হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালিতে নতুন আইনি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছি। এখন থেকে কোনো নৌযান এই পথ ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।’

সূত্র : এনডিটিভি




মুখ্যমন্ত্রী হয়েই ৭১৭টি মদের দোকান বন্ধ করলো বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তামিলনাড়ুর নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় ওরফে ‘থালাপতি’ বিজয় নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রথম দিনেই রাজ্যজুড়ে ৭০০-র বেশি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ জারি করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং কর্পোরেশন (টাসম্যাক) পরিচালিত ৭১৭টি মদের দোকান অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই দোকানগুলো মূলত বিভিন্ন মন্দির, মসজিদ, গির্জা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বাস স্ট্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত ছিল।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে টাসম্যাকের অধীনে ৪ হাজার ৭৬৫টি মদের দোকান রয়েছে। বিজয় নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোনো ধর্মীয় স্থান, স্কুল, কলেজ বা জনবহুল বাস স্ট্যান্ডের ৫০ মিটারের মধ্যে মদের দোকান রাখা যাবে না। বন্ধ হতে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে ২৭৬টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে, ১৮৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে এবং ২৫৫টি বাস স্ট্যান্ডের আশেপাশে অবস্থিত।

গত রবিবার ৫১ বছর বয়সী এই অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার রাজনৈতিক দল টিভিকে (তামিলনাড়ু ভেট্টি কাজাগাম) এবারের নির্বাচনে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী আধিপত্য ভেঙে দিয়ে এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে।

কংগ্রেস, বামপন্থী দলসমূহ এবং মুসলিম লিগের মতো বিভিন্ন পক্ষের সমর্থন নিয়ে বিজয়ের নেতৃত্বে তামিলনাড়ুর ইতিহাসে প্রথমবার একটি জোট সরকার গঠিত হয়েছে। ক্ষমতা লাভের পর থেকে তিনি সামাজিক সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, যার অংশ হিসেবেই এই বিশাল সংখ্যক মদের দোকান বন্ধের সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিজয় জনকল্যাণমূলক বেশ কিছু কাজের অনুমোদন দিয়েছেন, যার মধ্যে বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রদান এবং মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী গঠন অন্যতম। এছাড়া জেলাগুলোতে মাদক বিরোধী বিশেষ ইউনিট গড়ার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন তিনি। তবে মদের দোকান বন্ধের ফলে রাজ্য সরকারের বিপুল আয়ে টান পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশ্লেষক।

তারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে প্রভাব পড়তে পারে। তা সত্ত্বেও ডিএমকে আমলের অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের যে ঘোষণা বিজয় দিয়েছেন, তা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও চর্চা চলছে।

সূত্র: এবিপি




ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় জিবদিন গ্রামে ইসরাইলি বাহিনীর এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী নিহত হয়েছেন।

সোমবারের (১১ মে) এই হামলায় তাদের সঙ্গে এক সিরীয় নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত সংবাদদাতারা। নিহত ব্যক্তিরা ওই এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, জিবদিন গ্রামের একটি বাড়ি লক্ষ্য করে ইসরাইলি ড্রোন থেকে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার সময় ওই তিন ব্যক্তি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন অথবা বাড়ির কাছাকাছি কাজ করছিলেন।

তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এই হামলার মাধ্যমে জিবদিন গ্রামে একই দিনে দ্বিতীয়বারের মতো আক্রমণ চালাল ইসরাইলি বাহিনী।

লেবানন ও ইসরাইল সীমান্তে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই প্রাণহানির ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নিহত বাংলাদেশি কর্মীদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই ইসরাইলি বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে, যার শিকার হচ্ছেন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ও সেখানে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকরা।

সূত্র: লরিয়েন্ট টুডে।




বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম

ডেস্ক নিউজঃ ইরান যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা ঘনীভূত হওয়ায় বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী অপরিশোধিত তেলের দাম। এর ফলে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ সকাল সাড়ে ৮টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৬৮৪.৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া জুন মাসে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ০.৮ শতাংশ কমে ৪,৬৯২.৭০ ডলারে বিক্রি হয়েছে।

কেসিএম ট্রেড-এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার রয়টার্সকে বলেন, ‘মূলত মার্কিন-ইরান চুক্তির বিষয়ে তাৎক্ষণিক যে আশা ছিল, তা ফিকে হয়ে যাওয়ায় আমরা এই পরিস্থিতি দেখছি। পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’

গতকাল রবিবার (১০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শান্তি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এতে প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার আশা ভেঙে যায়। এই সংঘাতে ইরান ও লেবাননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।




ভয়াবহ সংকটে ইসরাইলি সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরাইলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির রোববার (১০ মে) এক জরুরি বার্তায় জানিয়েছেন, বর্তমানে বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক তৎপরতা এবং হারিদি বা কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের সংকটময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর জন্য অবিলম্বে অতিরিক্ত সৈন্য প্রয়োজন।

ইসরাইলের সংসদ নেসেটের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা কমিটির এক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওত আহরনোতের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইয়াল জামির উল্লেখ করেন, গাজা ছাড়াও লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল বর্তমানে বহুমুখী ফ্রন্টে যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমানে এই সংঘর্ষগুলোতে বিরতি চলছে, তবুও ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত আছে।

জামির স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক বা আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে চিন্তিত নন, বরং তার পুরো মনোযোগ এখন শত্রুকে পরাজিত করার দিকে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বজায় রাখতে হলে এখনই নতুন জনবল নিয়োগ করা অপরিহার্য।

এর আগে গত মার্চ মাসে জামির সতর্ক করেছিলেন, কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক সেবা এবং রিজার্ভ ডিউটি সংক্রান্ত আইন পাসে সরকারের ব্যর্থতা এবং বাধ্যতামূলক সেবার মেয়াদ ৩৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি না করায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছে।

সেনাপ্রবক্তা ইফি দেফরিন জানান, সেনাবাহিনীর জন্য বর্তমানে আনুমানিক ১৫ হাজার অতিরিক্ত সৈন্য প্রয়োজন, যার মধ্যে অন্তত ৭ থেকে ৮ হাজার হতে হবে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়ার মতো যোদ্ধা। এই সংকট নিরসনে দ্রুত একটি কার্যকর নিয়োগ আইন প্রণয়ন করাকে অপরিহার্য বলে মনে করছে সামরিক নেতৃত্ব।

ইসরাইলের প্রায় ৯৯ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে হারিদি বা কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের হার প্রায় ১৩ শতাংশ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তারা সামরিক সেবার পরিবর্তে কেবল তোরাহ পাঠে মনোনিবেশ করার সুযোগ পেয়ে আসছে, যা ইসরাইলি সমাজে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয়। যদিও ১৮ বছর ঊর্ধ্ব সকল নাগরিকের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক, তবুও হারিদিদের এই বিশেষ ছাড় পাওয়ার বিষয়টি বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক এই দাবি সরকারকে নতুন করে চাপে ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ বাহিনী গঠনের আদেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই তামিলাগা ভেত্রি কাজাগামের (টিভিকে) সভাপতি ও রাজ্যটির নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপতি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি তার প্রথম বক্তব্যেই বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আলাদা বাহিনী গঠনের কথা জানান।

রোববার (১০ মে) শপথ নিয়ে প্রথম সরকারি আদেশে সই করেছেন থালাপতি বিজয়। খবর এনডিটিভির।

শপথ গ্রহণের পরেই তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় বা বিনামূল্যে প্রদান করার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং নারীদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী গঠন করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

থালাপতি বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানির মতো মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতিও তার পূর্ণ মনোযোগ থাকবে। কৃষক ও জেলেদের দেখভাল করা হবে। সবকিছু ভালো হবে।’

তিনি বলেন, ‘একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে। আমি দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কী, তা জানি। আমি কোনো রাজকীয় পরিবার থেকে আসিনি। জীবনে অনেক কষ্ট সহ্য করেছি, অনেক মানুষ অপমান করেছে। আমি আপনাদের সন্তানের মতো, ভাইয়ের মতো। আপনারা আমাকে হৃদয়ে জায়গা দিয়েছেন, গ্রহণ করেছেন।’

এসময় জনগণকে মিথ্যা আশ্বাস না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থালাপতি বলেন, ‘ডিএমকে রাজ্যের কোষাগার পরিষ্কার করেছে এবং আমরা ১০ লাখ কোটি রুপির ঋণ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমরা জনগণের তহবিল থেকে একটি পয়সাও নেব না এবং আমরা কাউকে রাজ্য লুট করতে দেব না।’

জানা যায়, স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ নেন থালাপতি বিজয়। তামিলনাড়ুর গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথ পড়ান। শপথ নেন নতুন সরকারের নয়জন মন্ত্রীও।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতিক ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও এসেছিলেন।




ইরানে হামলায় ইরাকে গোপন সামরিক ঘাঁটি বানিয়েছিল ইসরায়েল: রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে হামলার জন্য ইরাকের মরু অঞ্চলে একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল ইসরায়েল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এমনটিই দাবি করা হয়েছে। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর কিছুদিন আগে ঘাঁটিটি তৈরি করা হয়। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রও জানে। ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী ওই ঘাঁটিকে দেশটির বিমানবাহিনীর জন্য লজিস্টিক সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতো।

সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ঘাঁটিটির অবস্থান ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে ইসরায়েলি বাহিনী ইরাকি সেনাদের ওপর বিমান হামলা চালায়। কারণ, ইরাকি সেনারা ওই এলাকায় সন্দেহজনক সামরিক তৎপরতার খবর পেয়ে তদন্তে এগোচ্ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চের শুরুতে এক রাখাল ওই এলাকায় হেলিকপ্টার চলাচলসহ অস্বাভাবিক সামরিক কার্যক্রম দেখতে পান। পরে ইরাকের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ হলে দেশটির সেনারা তদন্ত শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়ে ইরাকি বাহিনীকে ঘাঁটির কাছাকাছি পৌঁছাতে বাধা দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এক ইরাকি সেনা নিহত হন। তখন ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের উপ-প্রধান কাইস আল-মুহাম্মাদাওয়ী বলেন, “কোনও সমন্বয় বা অনুমোদন ছাড়াই এই বেপরোয়া অভিযান চালানো হয়েছে।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গোপন ওই ঘাঁটিতে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন ছিল, যাতে যুদ্ধের সময় ভূপাতিত ইসরায়েলি পাইলটদের উদ্ধার করা যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত এ ধরনের কোনও উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজন হয়নি।

এছাড়া ইসফাহানের কাছে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ইসরায়েল সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীই দুই ক্রুকে উদ্ধার করে। ওই সময় উদ্ধার অভিযান নিরাপদ করতে ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।

তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা শুরু করে। ইরানও তাক্ষণিক পাল্টা হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা গুড়িয়ে দেয় ইরানি বাহিনী। এতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় তেহরান।

পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী সমঝোতা এখনও হয়নি। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন, যদিও নতুন কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নালআনাদোলু এজেন্সি




সরকার গঠনের অনুমতিপত্র নিতে ১ ঘণ্টা বসে ছিলেন থালাপতি বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রোববার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন থালাপতি বিজয়। শনিবার রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছ থেকে সরকার গঠনের অনুমতি নেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন থালাপতি। এ সময় তিনি জানান, আরও দুটি রাজনৈতিক দল তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর ফলে তার দল টিভিকে ও জোটের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০-এ। পরে তিনি সরকার গঠনের অনুমতি চান।

তবে সমর্থনের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করেন রাজ্যপাল। বিশেষ করে ভিসেকে ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল)-এর দেওয়া সমর্থনপত্রের সত্যতা পরীক্ষা করা হয়।

এর আগে ভারতীয় কংগ্রেস, সিপিআই এবং সিপিআই (এম)সহ তিনটি বামপন্থি দলও থালাপতি বিজয়ের প্রতি সমর্থন জানায়। তাদের দেওয়া চিঠিগুলোও আগেই যাচাই করা হয়েছিল।

যাচাই শেষে থালাপতি বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন বলে নিশ্চিত হন রাজ্যপাল। পরে তিনি শপথ গ্রহণের সময় ও তারিখ সম্পর্কে জানতে চাইলে থালাপতি জানান, রোববার সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ নেবেন তিনি।

এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজ্যপাল প্রথমে থালাপতিকে জানান, এক ঘণ্টার মধ্যে সরকার গঠনের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে থালাপতি অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে এক ঘণ্টা পর নিজ হাতে আমন্ত্রণপত্র নিয়ে রাজভবন ত্যাগ করেন তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি




ওমান উপসাগরে তেলের ট্যাংকার জব্দ করল ইরান, দুই জাহাজ অচল করার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ওমান উপসাগরে একটি তেলের ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। একই সময়ে ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকার অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শুক্রবার (৮ মে ) উভয় পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। 

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে অঞ্চলজুড়ে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ‘ওশান কোই’ নামের একটি ট্যাংকার জব্দ করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, জাহাজটি ইরানের তেল রপ্তানি ও জাতীয় স্বার্থে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল।

এ ঘটনায় জাহাজে ইরানি বাহিনীর সদস্যদের ওঠার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি। বার্বাডোজে নিবন্ধিত ট্যাংকারটি বর্তমানে ইরানি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকারকে অচল করে দেওয়া হয়েছে। সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ কার্যকর রাখতে মার্কিন বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বাহিনী তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে হামলা চালিয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একটি তেলের ট্যাংকার ও আরেকটি জাহাজে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এতে অন্তত ১০ ইরানি নাবিক আহত হয়েছেন এবং পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।

ইরান আরও অভিযোগ করেছে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হরমুজের পূর্বাঞ্চল ও চাবাহার বন্দরের দক্ষিণে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।

তবে ট্রাম্প এ সংঘর্ষকে ‘সামান্য গোলাগুলি’ বলে উল্লেখ করে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ নাকচ করেছেন।

এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে তেহরানের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন।

ওয়াশিংটনে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নিয়েও সেখানে আলোচনা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে ইরানের বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত।

এদিকে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ঘিরে নতুন নৌ-নীতি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে তেহরান। “পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি” নামে একটি নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী সব জাহাজকে আগেভাগে ইরানকে ই-মেইলের মাধ্যমে মালামাল, গন্তব্য ও উৎপত্তি সম্পর্কিত তথ্য জানাতে হবে। একই সঙ্গে চলাচলের জন্য অনুমতি ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে চাইছে ইরান।

সূত্র: আল–জাজিরা




ইউক্রেনকে অস্ত্র ও সমর্থন দিচ্ছে ন্যাটো: পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউক্রেনকে অস্ত্র ও সমর্থন দিচ্ছে ন্যাটো অভিযোগ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মস্কোর রেড স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত বিজয় দিবসের ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধকে ন্যায্য বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া একটি ন্যায্য যুদ্ধে লড়ছে এবং ইউক্রেনকে ন্যাটো সমর্থিত আগ্রাসী শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানটি। শত শত সেনা সদস্যের উপস্থিতিতে এটি অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ছিলেন কিছু বিদেশি অথিতিও। এর আগে রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন।

এবারের কুচকাওয়াজে প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবার কোনো সামরিক যান দেখা যায়নি। তবে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সেনারা রেড স্কোয়ারে মার্চ করেন। ভাষণের শুরুতে পুতিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত সেনাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং পরে ইউক্রেন যুদ্ধকে সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা করেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, রাশিয়া ন্যাটো জোটের সমর্থিত একটি আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে, তবু তাদের সেনারা এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি রাশিয়ার বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সামরিক কর্মীদের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অবদানের জন্য প্রশংসা করেন। পুতিন বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ জনগণের হাতেই নির্ভর করছে।

ভাষণের পর কামানের গুলি ও সামরিক ব্যান্ডের সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো। এ ছাড়া লাওসের প্রেসিডেন্ট ও মালয়েশিয়ার রাজাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ভাষণের পর রুশ টিভিতে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনাদের দৃশ্যও সম্প্রচার করা হয়। গত বছরের তুলনায় এবার কম বিদেশি নেতা অংশ নেন। সূত্র: বিবিসিমস্কো টাইমস