হরমুজে আসলেই জাহাজ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে ‘জ্বালিয়ে’ দেওয়া হবে।

সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরজিসি-র প্রধান কমান্ডারের সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারির এই বক্তব্য প্রকাশ করে। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরান এই প্রণালীটি পুরোপুরি বন্ধ দাবি করলেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী এখনো নৌ-চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে সোমবারই আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন সংশ্লিষ্ট তেলের ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ‘আথে নোভা’ নামের ওই ট্যাঙ্কারটিতে দুটি ড্রোন আঘাত হানার পর সেটিতে এখনো আগুন জ্বলছে।

হরমুজ প্রণালীতে চলমান এই অচলাবস্থা মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় শুরু হয়েছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারকে উৎখাতের ডাক দিয়ে ইরানি জনগণকে সহায়তার প্রস্তাব দেন। এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের জেরে ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক ব্যবস্থার হুমকি দিয়ে আসছিল।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান কেবল হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং তারা ইসরায়েল এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন ইরানি মিসাইলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিল যে, তাদের ওপর কোনো আক্রমণ হলে তারা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ ধমনীটি বন্ধ করে দেবে। বর্তমান পরিস্থিতির মাধ্যমে ইরান কার্যত তাদের সেই পুরোনো হুমকি বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। মাত্র ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত এই জলপথটি সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইরানের এই কড়া অবস্থানের ফলে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর এবার হরমুজ প্রণালীতে এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।




আমিরাতে অ্যামাজনের একাধিক ডেটা সেন্টার ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরান-ইসরাইল পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। এ পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অ্যামাজনের দুটি ডেটা সেন্টার ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস বা এডব্লিউএস। এছাড়া বাহরাইনে তাদের আরেকটি স্থাপনার কাছাকাছি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিপক্ষে সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। কাতার, কুয়েত, আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী।

এ অবস্থায় বিশ্বব্যাপী ডেটা সেন্টার এবং ডিজিটাল সেবা দেওয়া অ্যামাজন জানিয়েছে, ড্রোনের ‘সরাসরি আঘাতে’ তাদের ‘অবকাঠামোগত ক্ষতি’ হয়েছে এবং ভবনটির ‘বিদ্যুৎ বিঘ্নিত’ হয়েছে।

ডেটা সেন্টারগুলো একটি অঞ্চলে ওয়েবসাইট এবং অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনের মতো বিস্তৃত ব্যবসা ও ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাত করে। এই ধরনের স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব গুরুতর হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে গ্রাহকদেরকে অবিলম্বে তাদের ডেটা ব্যাকআপ করা অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া, ইউরোপ বা অন্য কোথাও তাদের সিস্টেম স্থানান্তরের আহ্বান জানানো হয়েছে।




সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে হামলা, বিকট বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে এবার হামলা হয়েছে। সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।  

প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস দুইটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে বিশাল বিস্ফোরণ হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সৌদির মন্ত্রণালয় বলছে, হামলার কারণে দূতাবাসে সামান্য ক্ষতি হয়েছে এবং ভবনে আগুন ধরেছে।

ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কনস্যুলেটগুলোতে এটিই সর্বশেষ হামলা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা রিয়াদের কূটনৈতিক কোয়ার্টারে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন। এতে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ঘন, কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

এর আগে সোমবার, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হামলা হয়েছে। এদিকে সৌদিতে মার্কিন দূতাবাসে হামলার জেরে কড়া বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই হামলার জোরালো জবাব দেওয়া হবে।




খামেনি নিহত, ইরানে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই খবর নিশ্চিত করেছে।

কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে এক ঘোষণায় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপক দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণার কথা জানান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলার পর খামেনি মারা গেছেন বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসন ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। এক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফও ছিলেন।




রমজানে আফগানিস্তানে ধর্মীয় স্কুল-মসজিদে পাকিস্তানের হামলা, নিহত বেড়ে ৮০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আফগানিস্তানে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতভর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আফগান সূত্র জানিয়েছে, ধর্মীয় স্কুল, বেসামরিক বাড়ি ও মসজিদে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান বাহিনী। এতে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছে। খবর টোলো নিউজ ও সিনহুয়ার। 

তবে ইসলামাবাদ দাবি করেছে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে সাতটি জঙ্গি ক্যাম্প ও আস্তানা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। নিহতরা জঙ্গি বলে দাবি পাকিস্তানের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের পাকতিকা ও নানগরহার প্রদেশে এসব হামলা হয়েছে। পাকতিকায় যে বেসামরিক বাড়িতে পাকিস্তানি বাহিনী হামলা চালিয়েছে- সেই পরিবারের সদস্য আব্দুল্লাহ জান বলেন, গতকাল মধ্যরাতে বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। টিটিপি’র সদস্যদের উপস্থিতির অজুহাতে তারা হামলা চালিয়েছে।

জেলার গভর্নর মিরজা আলি খান সাঈদ বলেছেন, মধ্যরাতে বোমাবর্ষণের পর রাত ২টায় আবার হামলা চালানো হয়। সেইসময় বাড়িতে কেউ ছিলেন তবে বাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। বার্মাল জেলায় একটি ধর্মীয় স্কুলেও হামলা চালানো হয়েছে। 

মোহাম্মদ জুবায়ের নামে একজন প্রতক্ষ্যদর্শী বলেন, পরিস্থিতি অনেক খারাপ ছিল, শিশু ও নারীরা অনেক ভয়ে ছিল। ধুলো-ধোঁয়ায় বাতাস ভরে গিয়েছিল এবং সর্বত্র তীব্র গন্ধ ছিল। আশেপাশের বাড়ির বাসিন্দারা আমাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সাহায্য করে।

আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন এসব হামলার ‘উপযুক্ত’ জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। আফগানিস্তানে পাকিস্তান বাহিনীর এই হামলায় ফলে দেশ দুইটির মধ্যে যুদ্ধবিরতি আরও নড়বড়ে হলো। সেইসঙ্গে প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাতটি সন্ত্রাসী শিবির এবং আস্তানায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

ইসলামাবাদ দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামাবাদ, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউর ও বান্নু জেলায় সংঘটিত হামলাগুলো আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্ব ও হ্যান্ডলারদের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে। এর ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ আমাদের হাতে রয়েছে।




আফগানিস্থানের ৭ স্থানে পাকিস্তানের হামলা, শিশুসহ বহু হতাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দুই দেশের সীমান্তে সংঘর্ষের পর আফগানিস্থানে সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির বিমান হামলায় আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার ও পাকতিকা প্রদেশে বহু বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। মৃতদের মধ্যে শিশুও রয়েছেন।

শনিবার রাতভর ওই হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহ চাপা পড়েছে। এতে কয়েক ডজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে স্থানীয়রাও উদ্ধারে অংশ নিয়েছেন।

ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় আফগানিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে সাতটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। কয়েকদিন আগে পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সেনারা ইসলামিক স্টেটের একটি শাখা এবং তাদের সহযোগীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় নাঙ্গারহার প্রদেশের একটি মাদ্রাসা ও কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে চাপা পড়েছেন।

নাঙ্গারহার পুলিশ জানিয়েছেন, রাত প্রায় বারোটার দিকে হামলা শুরু হয়। তিনটি জেলায় একযোগে এ আঘাত করা হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র সায়েদ তাইয়েব হাম্মাদ বলেন, ‘অনেক নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছেন। একটি বাড়িতে ২৩ জন পরিবারের সদস্য ছিলেন। তার মধ্যে আহত অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই হামলার ‘যথাযথ ও সুপরিকল্পিত জবাব’ দেওয়া হবে।

২০২১ সালে তালেবান সরকার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের মধ্যে বিরোধ বৃদ্ধি পায়। দুই দেশের সীমান্তে সর্বশেষ বড় সংঘর্ষ হয়েছিল গত অক্টোবর মাসে। তখন প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তীব্র গোলাগুলি ও সংঘর্ষ চলে।

জাতিসংঘ মিশনের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানে অন্তত ৭০ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর বেশ কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে, কিন্তু এখনও দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী চুক্তি হয়নি।

পাকিস্তান দাবি করছে, বারবার তাগিদের পরও তালেবান সরকার আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অন্যদিকে, আফগান সরকার জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সূত্র: গালফ নিউজ




আরব অঞ্চলে দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধির রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আরব অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার সাম্প্রতিক দশকগুলোতে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালকে এ অঞ্চলের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে উল্লেখ করেছে ওয়ার্ল্ড মেটোরোলজিকাল অরগানাইজেশন (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির প্রকাশিত স্টেট অব দ্য ক্লাইমেট ইন দ্য আরব রিজিয়ন ২০২৪ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চিত্র।

ডব্লিউএমও জানায়, ২০২৪ সালে আরব অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা ছিল ১৯৯১ থেকে ২০২০ সময়কালের গড়ের চেয়ে ১ দশমিক ০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। উত্তর আফ্রিকা ও নিকটপ্রাচ্যে তাপপ্রবাহের সময়কাল ও তীব্রতা বেড়েছে। কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি ডব্লিউএমও, ইউনাইটেড ন্যাশনস ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর ওয়েস্টার্ন এশিয়া, লিগ অব আরব স্টেটস যৌথভাবে প্রস্তুত করেছে। এতে বলা হয়েছে, বিশ্বের ১৫টি সবচেয়ে পানি স্বল্প দেশের অবস্থান আরব অঞ্চলে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এখানে আরও গভীর।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্টে সাউলো বলেন, তাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ মানবস্বাস্থ্য, পরিবেশ, অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। খরা ঘনঘন ও তীব্র হচ্ছে। আবার কিছু দেশে আকস্মিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।

২০২৪ সালে চরম আবহাওয়া প্রায় ৩৮ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করেছে এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ১৯৮০ থেকে ১৯৯৯ সময়কালের তুলনায় ২০০০ থেকে ২০১৯ সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ৮৩ শতাংশ বেড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরব অঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশ দেশে বহুমাত্রিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা রয়েছে, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি। তবে জীবন ও জীবিকা রক্ষায় এসব ব্যবস্থায় আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করছে ডব্লিউএমও।

পানি সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ, বর্জ্যপানি পুনর্ব্যবহার, বাঁধ নির্মাণ, উন্নত সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে।

ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের জলবায়ু পূর্বাভাস সংযুক্ত করে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, উচ্চ নিঃসরণ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শতাব্দীর শেষে আরব অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি উপকূলীয় শহরগুলোর জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় খাদ্য উৎপাদন ও পানি নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ছে।

ডব্লিউএমও বলছে, প্রতিবেদনটি নীতিনির্ধারকদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে এবং জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

সোর্সঃ ডব্লিউএমও




ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ অংশ নেবে না ভ্যাটিকান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত ‘বোর্ড অফ পিস’ উদ্যোগে অংশ নেবে না ভ্যাটিকান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভ্যাটিকানের শীর্ষ কূটনৈতিক কর্মকর্তা কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পিয়েত্রো পারোলিন বলেন, যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির কড়া সমালোচক এবং ইতিহাসের প্রথম মার্কিন পোপ হিসেবে পরিচিত পোপ লিও-কে গত জানুয়ারিতে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

গত অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বোর্ড গঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে গাজার সাময়িক শাসন তদারকি করার জন্য ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তার সভাপতিত্বে এই বোর্ডের পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হবে যাতে এটি বৈশ্বিক সংঘাতগুলো নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে এই বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে মূল আলোচ্য বিষয় হবে গাজার পুনর্গঠন।

পবিত্র ভ্যাটিকান সিটি বা হোলি সি কেন এই উদ্যোগে থাকছে না, তার ব্যাখ্যায় কার্ডিনাল পারোলিন বলেন, ‘বোর্ড অফ পিস’-এর বিশেষ প্রকৃতির কারণেই ভ্যাটিকান এতে অংশ নেবে না, কারণ আমাদের অবস্থান অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অন্যতম উদ্বেগের বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক স্তরে যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাগ্রে জাতিসংঘকেই দায়িত্ব নিতে হবে। এটি এমন একটি পয়েন্ট যেটির ওপর আমরা বরাবরই জোর দিয়ে আসছি।’

বিদেশি ভূখণ্ডের অভ্যন্তরীণ বিষয় তদারকির জন্য ট্রাম্পের অধীনে এমন একটি বোর্ড গঠনকে অনেক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞই ‘ঔপনিবেশিক কাঠামো’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। গত মাসে চালু হওয়া এই বোর্ডটিতে কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি না রাখায় এটি শুরু থেকেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।

ট্রাম্পের এই আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই বোর্ড গঠনের ফলে জাতিসংঘের কার্যকারিতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তাই ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মিত্র রাষ্ট্র এই উদ্যোগে যোগ দিলেও পশ্চিমা মিত্ররা এখন পর্যন্ত দূরত্ব বজায় রেখেছে।

এদিকে, গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে শত শত ফিলিস্তিনি এবং চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।




হাতির আক্রমণে একই পরিবারের ৪ জনসহ ৬ জনের প্রাণহানি

ডেস্ক নিউজঃ বন্য হাতির পালের আক্রমণে ভারতের ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ জেলায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে একজন বন কর্মকর্তা। স্থানীয় সময় শুক্রবার এই ঘটনা ঘটে।

গত কয়েকদিন ধরে বেশ কয়েকজনকে আক্রমণ করেছে একই হাতির দল। গত বৃহস্পতিবার রাতে চুরচু ব্লকের গোন্ডোয়ার গ্রামে প্রবেশ করে শুক্রবার ভোরে ছয়জনকে পদদলিত করে হত্যা করে বলে জানিয়েছেন হাজারিবাগ পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) বিকাশ কুমার উজ্জ্বল।

উজ্জ্বল বলেন, ‘নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন সদস্য রয়েছেন। একটি শিশুও গুরুতর আহত হয়েছে।’ শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাজারিবাগের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

গত কয়েকদিন ধরে বোকারো, রামগড় এবং হাজারিবাগ জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল হাতির দলটি। এর আগে বোকারোতেও তাদের আক্রমণে প্রাণহানি ঘটনা ঘটেছে বলে উজ্জ্বল আরো জানান। সূত্র: এনডিটিভি




মাঝ আকাশ থেকে মহাসড়কে আছড়ে পড়লো বিমান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ জরুরি অবতরণের সময় যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের এক ব্যস্ত মহাসড়কে একটি উড়োজাহাজ আছড়ে পড়েছে। এতে রাস্তায় থাকা কয়েকটি যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিমানটির। স্থানীয় সময় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দেশটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর এনডিটিভির। 

মার্কিন পুলিশের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একক ইঞ্জিনের প্রশিক্ষণ বিমানটির পাইলট এটিকে মহাসড়কেই জরুরি অবতরণ করাতে বাধ্য হন। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে ফিরে যাওয়ার মতো সক্ষমতা ছিল না বিমানটির।

ইতোমধ্যে বিমান সড়কে আছড়ে পড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছডিয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, ছোট বিমানটি ব্যস্ত সড়কে জরুরি অবতরণের পর বেশ কয়েকটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটিতে বেশ কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবতরণের পর বিমানটির ডান দিকের ডানা একটি গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে উড়োজাহাজের জ্বালানি ট্যাংক আলগা হয়ে ছিটকে একটি এসইউভির পেছনের অংশে ঢুকে যায়।

বিমান দুর্ঘটনার পর ইতোমধ্যে সড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘ যানজটের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, বিমানটি জর্জিয়ার গেইনসভিলের লি গিলমার মেমোরিয়াল বিমানবন্দর থেকে ক্যান্টনের চেরোকি কাউন্টি রিজিওনাল বিমানবন্দরে যাচ্ছিল।

উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই পাইলট ইঞ্জিনে ত্রুটি অনুভব করেন, তিনি গেইনসভিলে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট সক্ষমতা না থাকায় পাইলট রাস্তায় জরুরি অবতরণ করেন এবং বিমানটি তিনটি গাড়িতে আঘাত হানে বলে জানায় এনটিএসবি।

এই ঘটনার তদন্ত করা হবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।