যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব, রাজি হবে কি ইরান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। তবে প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মূল মতবিরোধ এখনও পুরোপুরি মেটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দুই পক্ষের মধ্যে ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে এবং একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগের দিন তিনি হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে শুরু করা সামরিক অভিযান “প্রজেক্ট ফ্রিডম” স্থগিত করেন।

কী আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে?
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, দুই পক্ষ ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে ইরান অন্তত ১২ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।

বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, বিদেশে আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড় এবং ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ- এসব স্পর্শকাতর ইস্যু প্রাথমিক প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

ইরানের অবস্থান কী?
এখনও আনুষ্ঠানিক জবাব না দিলেও ইরানি নেতারা প্রস্তাবটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য ইবরাহিম রেজায়ি প্রস্তাবটিকে ‘বাস্তবতা বর্জিত মার্কিন স্বেচ্ছাচারি তালিকা’ বলে মন্তব্য করেছেন।

অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, এই পর্যায়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছে না; তাদের প্রধান লক্ষ্য যুদ্ধ বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ তেহরান এটিকে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার হিসেবে দেখে।

হরমুজ ইস্যুই বড় বাধা
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এখন এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে চাইছে এবং নতুন নিয়ম-কানুন আরোপের কথাও বলছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় মিত্ররা কোনও শর্ত ছাড়াই জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে চায়। ফলে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের দূরত্ব এখনও অনেক।

তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার বিষয়ে দুই দেশ আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা




অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে ঢাকার সহযোগিতা চেয়েছে দিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার সহযোগিতা চেয়েছে দিল্লি।

বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র জানান, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬২টি নথি পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক মামলা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। বাংলাদেশ সরকারকে এ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রনধীর জয়সওয়াল বলেন, “এ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা আশা করছি বাংলাদেশ সরকার যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে সহায়তা করবে। কারণ ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী যে দেশেরই হোক না কেন তাদের ফেরত পাঠানো দিল্লির নীতি।”

এছাড়া তিস্তা নদীর পানি বণ্টন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে, যেগুলো দুই দেশই ব্যবহার করে থাকে। এসব নদী-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সুসংগঠিত দ্বিপাক্ষিক কাঠামো রয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমেই পানি–সংক্রান্ত যেকোনও ইস্যু সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

সূত্র: দ্য হিন্দুএএনআইদ্য প্রিন্ট




যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তায় বাড়ছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা এখন অপেক্ষা করছেন, শান্তি আলোচনা আবার শুরু হবে কি না তা দেখার জন্য।

এদিকে হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বাজারে নতুন করে হামলা বা সংঘাত শুরুর আশঙ্কা কাটেনি। এ কারণেই তেল ব্যবসায়ীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

যদিও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যে ধাক্কা লেগেছিল, তা কাটিয়ে ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো আবারও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই যুদ্ধের অবসান চায়। কারণ এই সংঘাতের ফলে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রেড নেশনের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ডেভিড মরিসন বলেন, শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে, অথবা এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে না, যদিও জ্বালানির দাম এখনো উঁচু রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো বাড়তি মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসানা স্ট্রিটার বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও বাজারে উদ্বেগ কমেনি, কারণ জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ে দুশ্চিন্তা এখনো রয়ে গেছে।




যুদ্ধে চাকরি হারিয়েছেন ২০ লাখ ইরানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধের প্রভাবে ইরানে ২০ লাখের বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির শ্রম উপমন্ত্রী গোলাম হোসেন মোহাম্মাদি। এতে আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটে বিপর্যস্ত ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়েছে

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে মোহাম্মাদি বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের কারণে ১০ লাখের বেশি মানুষ সরাসরি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। আর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সব মিলিয়ে ২০ লাখের বেশি মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের তেল ও গ্যাসক্ষেত্র, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম কারখানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উৎপাদন, সরবরাহ ও শিল্প কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

এদিকে জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট বিভ্রাট এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চলমান ব্ল্যাকআউট দেশটির ডিজিটাল অর্থনীতিকেও প্রায় স্থবির করে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান সংকট আরও বাড়তে পারে। ইরানের সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক অর্থনীতিবিদ হাদি কাহালজাদেহ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দেশটির মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের চাকরি এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি




ইরানের সঙ্গে শুক্রবারের মধ্যে আলোচনা ‘সম্ভব’: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা নিয়ে আগামী শুক্রবারের মাঝে ‘সুসংবাদ’ আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পাকিস্তানের একাধিক সূত্র এই তথ্য জানিয়েছেন।

ইসলামাবাদের কয়েকটি সূত্র তেহরানের সঙ্গে তাদের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, আগামী ‘৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার’ মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সম্ভাব্য অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এক ক্ষুদে নিউইয়র্ক পোস্টকে ট্রাম্প বলেন, ‌‌‘‘এটি সম্ভব! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।’

ইরানের নেতারা ‘একীভূত প্রস্তাব’ না নিয়ে আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর এই ইতিবাচক খবর এলো।

এর আগে, মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ অব্যাহত রাখার এবং অন্য সব ক্ষেত্রে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছি। তাই তাদের প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে দিচ্ছি।’’




ইরানের বন্দর অবরোধ: ২৮টি জাহাজ ঘুরিয়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের বন্দরে প্রবেশ ও ত্যাগের ওপর অবরোধ শুরুর পর থেকে ২৮টি জাহাজ ঘুরিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই তথ্য জানিয়েছে।

গত সপ্তাহ থেকে ওয়াশিংটন নৌ অবরোধ বহাল রাখার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য সামনে এলো। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।

শুক্রবার হরমুজ প্রণালী নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল ইরান। তবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্যবাধকতা পূরণ না করার অভিযোগ তুলে একদিন পরই আবার জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে দেশটি। বুধবার ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অভিযোগ করে বলেন, ‘ইরান একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।’

নতুন দফা আলোচনার জন্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তানে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরান এখনও এই আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। পূর্বশর্ত হিসেবে তারা অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।




ইংল্যান্ডে প্রতি মাসে গড়ে ছুরিকাঘাতে দুই শিশুর প্রাণ যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল মেডিকেল স্কুলের গবেষকদের প্রতিবেদনে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা বলছে, ইংল্যান্ডে প্রতি মাসে গড়ে অন্তত দুটি শিশু ছুরিকাঘাতের শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে।

ন্যাশনাল চাইল্ড মর্টালিটি ডেটাবেসসহ বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে দেশটিতে কিশোর বয়সীদের মধ্যে ছুরিকাঘাতে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে যেখানে এই সংখ্যা ছিল ২১ জন, সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে।

এই গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো ভুক্তভোগীদের পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট। গত পাঁচ বছরে ছুরি হামলায় নিহত ১৪৫ জন শিশুর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই ছেলে এবং এদের বিশাল একটি অংশ দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা থেকে আসা। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, নিহত শিশুদের এক-চতুর্থাংশ এমন একজনের সাথে বসবাস করত যারা মানসিকভাবে অসুস্থ এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু এমন পরিবারে বড় হয়েছে যেখানে মাদকাসক্তির সমস্যা ছিল। এছাড়া পারিবারিক সহিংসতার ইতিহাসও অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণায় উঠে আসা নৃতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণে একটি বড় বৈষম্য ধরা পড়েছে। নিহতদের ৩২ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ৩১ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ হলেও জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে কৃষ্ণাঙ্গ বা ব্রিটিশ-কৃষ্ণাঙ্গ শিশুরা শ্বেতাঙ্গ শিশুদের তুলনায় ১৩ গুণ বেশি ছুরি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া নিহতদের ৭৫ শতাংশই দেশের চরম দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকার বাসিন্দা এবং এক-তৃতীয়াংশ ঘটনায় গ্যাং বা কিশোর অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে।

গবেষণার প্রধান লেখক এবং জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ড. টম রবার্টস এই পরিস্থিতিকে ‘জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, অনেক শিশু নিয়মিত সরকারি ও সামাজিক সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর সংস্পর্শে থাকা সত্ত্বেও তারা পারিবারিক সহিংসতা বা প্রতিকূল শৈশবের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর সহায়তা পায়নি। এই প্রতিবেদনটি শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা ও দারিদ্র্যের শিকার শিশুদের জন্য দ্রুত কার্যকর হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্র: স্কাই নিউজ




রাশিয়া-ইরান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোনালাপ, যা কথা হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন আলাপে মিলিত হয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে এই আলোচনায় উভয় নেতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

ফোনালাপের একপর্যায়ে লাভরভ একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং চলমান সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে রাশিয়ার প্রতি পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি নিশ্চিত করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে রাশিয়ার জাহাজ এবং পণ্যবাহী কার্গো চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। 

কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করতে পারে, ইরান সেই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই ফোনালাপটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মস্কো ও তেহরানের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা।




শর্ত সাপেক্ষে ইরানি নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক : ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনায় অংশ নেবে বলেই প্রত্যাশা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সোমবার রাতেই তারা ইসলামাবাদে পৌঁছাবে।

দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, আলোচনায় যদি উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে তাহলে তিনি ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান।

দ্বিতীয় দফার আলোচনা ভেস্তে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে- এই প্রসঙ্গ তোলা হলে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের আলোচনার কথা আছে। তাই আমি ধরে নিচ্ছি, এই মুহূর্তে কেউ কোনও রকম চালাকি করছে না।”

ট্রাম্পের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এবারের আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সঙ্গে থাকবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার।

ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “তাদের সঙ্গে দেখা করতে আমার কোনও সমস্যা নেই। যদি তারা দেখা করতে চায়; তবে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আমার কোনো আপত্তি নেই।”

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে ট্রাম্প আবারও বলেন, ইরানকে অবশ্যই যেকোনও ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা ত্যাগ করতে হবে। এটি খুবই সাধারণ বিষয়। তাদের কাছে কোনও পরমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।

সূত্র: আল-জাজিরা




ভারতে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলায় একটি আতশবাজি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (১৯ এপ্রিল) এ দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, রাসায়নিক পদার্থ মেশানোর সময় সৃষ্ট ঘর্ষণ থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হতে পারে। পুলিশ জানায়, কাট্টানারপত্তি এলাকার ওই কারখানায় প্রায় ৩০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন, তখনই আকস্মিকভাবে বিস্ফোরণ ঘটে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার অন্তত চারটি কক্ষ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। শব্দটি প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা গেছে বলেও জানা গেছে।

খবর পেয়ে শিবকাশী, সাত্তুর ও বিরুধুনগরসহ আশপাশের এলাকা থেকে দমকল ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং কারখানাটি নিরাপত্তা বিধি মেনে চলছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনও এই দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: এনডিটিভি