৩০০ ফুট নিচে নেমেছিল এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট, পাইলটের শরীরে মিলল গাঁজার উপস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলতি মাসের শুরুতে ক্রুজিং উচ্চতা থেকে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের শরীরে গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে উড়োজাহাজটির কারিগরি ত্রুটি, পাইলটের আচরণ এবং পুরো ঘটনার সময়কার পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট ক্রুজিং উচ্চতায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে বেশ কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু আহত হন। পরে বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।

ঘটনার পর উড়োজাহাজটির দুই পাইলটের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানায়, ক্যাপ্টেনের প্রথম পরীক্ষায় গাঁজা ব্যবহারের সম্ভাবনা পাওয়া যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে তার নমুনার দ্বিতীয় পরীক্ষা করা হয়। পরে তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও ক্যাপ্টেনের শরীরে গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।

তদন্তকারীরা এখন ঘটনার সময় ক্যাপ্টেনের আচরণও খতিয়ে দেখছেন। কেবিন ক্রুরা এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে অভিযোগ করেছিলেন, ফ্লাইট চলাকালে ক্যাপ্টেনকে পুরোপুরি স্বাভাবিক মনে হয়নি।

একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব ও আইনি দায়িত্ব ক্যাপ্টেনের ওপরই থাকে। ফলে ঘটনার সময় তার অবস্থান ও ভূমিকা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

ঘটনার সময় ককপিটে কী ঘটেছিল?

এনডিটিভির হাতে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সেফটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় ক্যাপ্টেন নিজের আসনে ছিলেন না। তিনি কো-পাইলটের আসনের পেছনে দাঁড়িয়ে বিমানের এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছিলেন।

এ সময় হঠাৎ একটি সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। একই সঙ্গে অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বিমানের সামনের অংশ ওপরে উঠে যায়।

তখন উড়োজাহাজটি চালাচ্ছিলেন কো-পাইলট। স্টল সতর্কসংকেত পাওয়ার পর তিনি বিমানের সামনের অংশ নিচের দিকে নামিয়ে দেন। এর পরপরই বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।

বিমানের আকস্মিক গতিবিধির কারণে ককপিটের কিছু আলগা জিনিস ওপরে উঠে যায়। ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলটও নিজেদের আসন থেকে ওপরে উঠে যান।

ক্যাপ্টেনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ককপিটের বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং কো-পাইলটকে ওপরে ভেসে যেতে দেখছিলেন। তিনিও তখন ভাসছিলেন। পরে তির্যকভাবে নিজের আসনের দিকে ফিরে গিয়ে সিটবেল্টের সংকেত চালু করেন।

আসনে বসে সিটবেল্ট বাঁধার পর তিনি বলেন, ‘আমি নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছি।’ এরপর বিমানটি নিচে নামতে থাকা অবস্থায় তিনি নিয়ন্ত্রণ নেন।

বিমানের গতি ও উচ্চতা কমে যাওয়া ঠেকাতে ক্যাপ্টেন থ্রটল সর্বোচ্চ নিরবচ্ছিন্ন শক্তিতে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেছে।

যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

শুধু পাইলটের ভূমিকা নয়, ঘটনার পেছনে বিমানের কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা উড়োজাহাজটির বিভিন্ন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য ত্রুটির বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

প্রকৌশলসংক্রান্ত নথিতে দেখা গেছে, বিমানের হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় কম চাপের সংকেত পাওয়া গিয়েছিল। হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় চাপযুক্ত তরল ব্যবহার করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ল্যান্ডিং গিয়ার, ব্রেকসহ বিভিন্ন ভারী যান্ত্রিক অংশ পরিচালনা করা হয়।

এ ছাড়া অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি এলিভেটর ত্রুটির সংকেতও পাওয়া যায়। এর ফলে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানের পিচ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা হয়ে থাকতে পারে।

পিচ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পাইলট বিমানের সামনের অংশ ওপরে বা নিচে তুলতে পারেন। এর ওপর নির্ভর করে বিমান ওপরে ওঠে, নিচে নামে অথবা একই উচ্চতায় উড়তে থাকে।

ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, ক্রুজিংয়ের সময় বিমানটি অল্প সময়ের জন্য টার্বুলেন্সের মধ্যে পড়েছিল। এতে বিমানের উচ্চতায় সাময়িক পরিবর্তন ঘটে।

তদন্তে প্রযুক্তিগত ও মানবিক—সব দিকই গুরুত্ব পাচ্ছে

ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) ঘটনাটির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত, পরিচালনাগত, চিকিৎসা ও মানবিক—সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরীক্ষা করছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে বিমানের বিভিন্ন অংশ ও ব্যবস্থা, রেকর্ড করা ফ্লাইট তথ্য, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত নথি, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সব ধরনের প্রমাণ সামগ্রিকভাবে পরীক্ষা করা হবে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পায়নি।

এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য আরেকটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ধাক্কা

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন এয়ার ইন্ডিয়া ইতোমধ্যে একাধিক নিরাপত্তা তদন্তের মুখে রয়েছে। গত ৪ আগস্টের ঘটনার পর উড়োজাহাজটির ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডারও তদন্তের জন্য জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে সহায়তা করতে এয়ারবাস বিশেষজ্ঞ পাঠানোর কথাও জানিয়েছে।

এরই মধ্যে ক্যাপ্টেনের নিশ্চিত মাদক পরীক্ষার ফল প্রকাশ্যে আসার পর এয়ার ইন্ডিয়া সব পাইলটের মাদক পরীক্ষা আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ফ্লাইটের পর এবং বিভিন্ন নির্ধারিত স্থানে পাইলটদের পরীক্ষা করা হবে। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের পাইলটরাও এই পরীক্ষার আওতায় থাকবেন।

ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই সংস্থাটি বাড়তি নজরদারির মধ্যে রয়েছে। ওই দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পাশাপাশি ভারতের পুরো বিমান চলাচল খাতের নিরাপত্তা নিয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের আকস্মিক উচ্চতা হারানোর ঘটনা এখন একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পাইলটের শরীরে গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিমানের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা, এলিভেটর, অটোপাইলট ও পিচ নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ত্রুটির বিষয়ও সামনে এসেছে। ফলে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মানবিক কারণ ও কারিগরি ত্রুটির মধ্যে কোনটি কতটা ভূমিকা রেখেছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।




ইউক্রেনের ড্রোন ঠেকাতে রুশ জাহাজে খাঁচা ও পানির ট্যাংক!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলা থেকে বাঁচতে নিজেদের জাহাজে অভিনব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যুক্ত করছে রাশিয়া। তেলের ট্যাংকারগুলোতে এখন ড্রোন-প্রতিরোধী জাল, ধাতব খাঁচা এমনকি পানির ট্যাংকও লাগানো হচ্ছে। সাগরে ভাসমান এসব জাহাজ দেখতে এখন অনেকটা ‘ম্যাড ম্যাক্স’ সিনেমার দৃশ্যপটের মতোই লাগছে।

সম্প্রতি বসফরাস প্রণালি পার হওয়ার সময় ২৮ বছরের পুরোনো ট্যাংকার ‘কারুজো’-তে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। ট্যাংকারটির চারপাশে ড্রোন-প্রতিরোধী জাল এবং ছাদে খাঁচার মতো কাঠামো ছিল। ড্রোনের আঘাতের জোর কমাতে এতে পানির ট্যাংকও যুক্ত করা হয়।

বিশ্লেষক ইয়োরুক ইসিক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘রিজভেল’ নামের আরেকটি রুশ ট্যাংকারেও একই ধরনের জাল দেখা গেছে। ট্যাংকার ট্র্যাকার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা সামির মাদানি জানান, ভয়ে নাবিকেরা নিজেদের ওই কাঠামোর ভেতর অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।

মূলত রাশিয়ার সামরিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করতে কিয়েভ চালকবিহীন নৌযান এবং ড্রোন দিয়ে হামলা বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আজভ ও কৃষ্ণসাগরে অন্তত ২১৮টি রুশ-সংশ্লিষ্ট নৌযানে আঘাত হেনেছে ইউক্রেন।

তবে এসব হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নভোরোসিস্ক টার্মিনালের কাছে হামলা থামাতে কিয়েভকে অনুরোধ করেছেন। কৃষ্ণসাগরে জাহাজের বিমা ও পরিবহন খরচও এখন অনেকটাই বেড়ে গেছে।

শুধু জাহাজ নয়, নভোরোসিস্ক নৌঘাঁটির নিরাপত্তাও জোরদার করেছে মস্কো। স্যাটেলাইট চিত্রে ঘাঁটির চারপাশে বিশাল জাল ও ব্যারিকেড দেখা গেছে। এর মধ্যেই বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, নভোরোসিস্কে তারা একটি ‘অনন্যসাধারণ অভিযান’ চালিয়েছেন। এতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে রুশ জাহাজ, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং বন্দর অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়।




দেশে ফিরলেন ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে কাটানোর পর নেপালে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। হংকং হয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।

নেপালে ফিরে দেউবা সরাসরি মহারাজগঞ্জে তার ভাড়া করা বাসভবনে উঠবেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সচিব ভানু দেউবা। দেশ ছাড়ার আগে যে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন, দেশে ফিরে সেখানেই থাকবেন তিনি।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কথা জানিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে নেপাল ছাড়েন দেউবা। এরপর প্রায় পাঁচ মাস তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করেন। তবে তার দীর্ঘ বিদেশ অবস্থান এবং চিকিৎসার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

দেউবা কাঠমান্ডু থেকে সরাসরি সিঙ্গাপুরে গেলেও তার স্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবা নয়াদিল্লি হয়ে সিঙ্গাপুরে যান। পরে দেউবা, রানা ও তাদের ছেলে জয়বীর কখন সিঙ্গাপুর থেকে হংকংয়ের উদ্দেশে রওনা হন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার দেউবা দেশে ফিরলেও তার স্ত্রী আরজু রানা ও ছেলে জয়বীরের বর্তমান অবস্থান এখনো জানা যায়নি।

দেউবা পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। তবে কোথায় চিকিৎসা নিয়েছেন কিংবা কী ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য চিকিৎসা করিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে অবস্থানের সময় দেউবা, তার স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসা, যাতায়াত এবং অন্যান্য ব্যয়কে বহন করেছে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

৮০ বছর বয়সী শের বাহাদুর দেউবা নেপালের পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। দেশে ফেরার পর তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া নেপালের জেন-জি আন্দোলন দ্রুত দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, সরকারি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের মধ্যে আন্দোলন তীব্র হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট




ইরান যুদ্ধে দিশাহারা মার্কিন নৌ সেনারা, রণতরি থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা

সমুদ্রে দীর্ঘ ৯ মাস, টানা ২৫০ দিন ডাঙার স্পর্শ না পাওয়া এবং একে একে একাধিকবার মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ তৈরি হয়েছে এক চরম মানবিক সংকট। জাহাজে থাকা প্রায় ৫ হাজার নৌসেনা ও মেরিন সেনার জীবন বিষিয়ে উঠেছে।

পচা খাবার, অস্বাস্থ্যকর বাথরুম, সুপেয় পানির সংকট আর অকেজো শৌচাগারের মধ্যে দিন কাটাতে গিয়ে ভেঙে পড়েছে সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য সাগরে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক সংবাদমাধ্যম ‘মিলিটারি টাইমস’। 

গত বৃহস্পতিবার সান দিয়েগোতে আয়োজিত এক আবেগঘন গণশুনানিতে ভারপ্রাপ্ত নৌসচিব হাং কাও-এর মুখোমুখি হন জাহাজে থাকা সেনাদের প্রায় ২০০ স্বজন। জ্যেষ্ঠ নৌ কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক স্ত্রী জানান, তার স্বামী লাফ দেওয়ার দিনই মেসেজ পাঠিয়ে বলেছেন—‘তিনি আশা করেন কাল সকালে যেন তার আর ঘুম না ভাঙে!’ আরেকজন স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর এই অবিবেচক সিদ্ধান্ত নেতৃত্ব ও সাধারণ সেনাদের পরিবারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে।

 

মিলিটারি টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারবার মেয়াদের মেয়াদ বাড়ানোয় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আনাবেল লোমা নামে এক নারীর স্বামী জাহাজ থেকে সাগরে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ওই নারী জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অবসাদে ভুগছেন এবং ১৩ বছরের ক্যারিয়ার নষ্ট হওয়ার ভয়ে চরম আতঙ্কে আছেন। অন্য আরেকটি ঘটনায়, এক সেনাসদস্য তার এক সহকর্মীকে সাগরে লাফ দেওয়া থেকে টেনে ধরে প্রাণ বাঁচান।

গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল যুদ্ধজাহাজটি।

তবে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর সেটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই থেকে টানা ৯ মাস ধরে তারা সমুদ্রে। এর মধ্যে ডিসেম্বর মাসে গুয়ামে এবং জুলাইয়ে ওমানে মাত্র দুই দিনের জন্য ডাঙায় নামার সুযোগ পেয়েছিলেন সেনারা। মে মাসে ফিরে আসার কথা থাকলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বারবার তাদের মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ইরানবিরোধী সামরিক অপারেশনের পঞ্চম মাসে রয়েছে বিমানবাহী রণতরিটি।
 

দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পাশাপাশি জাহাজের অমানবিক জীবনযাত্রা সেনাদের ঠেলে দিয়েছে এক চূড়ান্ত নরকে। ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসমেম্বার মাইক লেভিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জাহাজের বর্তমান করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, জাহাজে রয়েছে ছত্রাক ধরা বাথরুম, দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট পড়ে থাকা টয়লেট ও ওয়াশিং মেশিন এবং গরম পানির প্রচণ্ড অভাব। এমনকি খাবার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র আধা কাপ ভাত ও দুটি রুটি। সাবান, পেস্ট ও ডিওডোরেন্টের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে সেখানে।

এর আগে এপ্রিলে নিম্নমানের খাবার ও পানির সংকটের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ সেটিকে ‘ফেক নিউজ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

তবে এবার হেগসেথকে কড়া জবাব দিয়েছেন লেভিন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই তরুণ-তরুণীরা দেশের সেবা করতে এসেছে। রাষ্ট্র হিসেবে তাদের ন্যূনতম পাওনা—একটি ভাল টয়লেট, গরম পানি আর পেটে চারটে ভালো খাবার দেওয়া। হেগসেথ তার ব্যবস্থাপনাটুকুও করতে ব্যর্থ হয়েছেন, অথচ স্বজনদের চোখের দিকে তাকিয়ে তাদের মিথ্যাবাদী বলতে তার বাঁধছে না!’




কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫, আহত ৩৫০০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২৬৫ জনে পৌঁছেছে এবং ৩ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের পর উদ্ধার অভিযান এখন ‘চূড়ান্ত ধাপে’ প্রবেশ করেছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য সময় বিবেচনা করা ৭২ ঘণ্টা পার হতে চললেও এখনো প্রায় ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ৯ হাজার ৫৫০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে।

দেশের কফি অঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দু পেরেইরাতে ৮৩ জন এবং তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। কালির মেয়র আলেজান্দ্রো এডার বুধবার জানান, পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হলেও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

মাত্র তিন দিন আগে ক্ষমতা নেওয়া প্রেসিডেন্ট আবেলফ্রেডো দে লা এস্প্রিয়েল্লা ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতাল, স্কুল ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে একটি জরুরি তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা




দীর্ঘ ২৩ বছর পর ইরাক থেকে সব সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরাক থেকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব সেনা প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির দপ্তর। আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাকে আইএস বিরোধী বৈশ্বিক জোটের অভিযানের সমাপ্তি হতে চলেছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব বিদেশি সেনা প্রস্থান করবে। এই সময়সীমা নির্ধারিত এবং চূড়ান্ত। আগামী ১ অক্টোবর দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হতে চলেছে। কারণ এই দিন থেকে ইরাকে আর কোনো বিদেশি সেনার উপস্থিতি থাকবে না।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকমের কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির বৈঠকের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হয়েছে মার্কিন সেনাদের প্রস্থানের এই ডেটলাইন বা সময়সীমা।

জানা যায়, বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিবৃতি দেয়।

২০০৩ সালে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করতে দেশটিতে অভিযান শুরু করেছিল মার্কিন বাহিনী। সে বছর ১৯ মার্চ ইরাকে অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী এবং অভিযানের ৯ মাসের মাথায় গ্রেপ্তার হন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। ৩ বছর বিচার চলার পর ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসি হয়।

শর্ত অনুযায়ী, সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুর পরেই ইরাক ত্যাগের কথা ছিল মার্কিন বাহিনীর। তবে সাদ্দামের মৃত্যুর অল্প সময়ের মধ্যেই ইরাকে উত্থান ঘটে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসের। ফলে এই গোষ্ঠীটিকে নির্মূলের জন্য ইরাকে সেনা অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ওয়াশিংটন।

এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর পেন্টাগনে যোগাযোগ করেছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক এবং জোট অংশীদাররা আইএসকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য প্রদর্শন করেছে। বর্তমানে ইরাকে যেসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রয়েছে, তাদের দমন করতে ইরাকি সেনাবাহনী যথেষ্ট সক্ষম।”

তবে ইরাকে বর্তমানে কতজন মার্কিন সেনা রয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেননি ওই কর্মকর্তা।

গত বছর ইরাকের অধিকাংশ এলাকা থেকে মার্কিন সেনারা ঘাঁটি ছেড়ে গেলেও দেশটির স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে কিছু সেনা অবস্থান করছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এসব ঘাঁটি বিভিন্ন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।




সূর্যগ্রহণ ঘিরে সাজ সাজ রব

স্পেনের ছোট গ্রামগুলো সাধারণত নিরিবিলিই থাকে। কিন্তু গতকাল বুধবার সেখানকার রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। আকাশ পর্যবেক্ষণে আগ্রহীরা দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন। কারও হাতে বিশেষ চশমা, কারও হাতে দূরবিন, ক্যামেরা। চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেবে, আর দিনের আলোয় হঠাৎ নেমে আসবে অদ্ভুত এক অন্ধকার—এ মুহূর্তের জন্য সবার অপেক্ষা।

গতকাল স্পেনের উত্তরাঞ্চলের কাস্তিয়া ও লেয়ন অঞ্চলের বুর্গোস শহরে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। স্থায়িত্ব ছিল দুই মিনিটের কম। রাশিয়া ও গ্রিনল্যান্ডের কিছু এলাকায় তা ছিল প্রায় আড়াই মিনিট। তবে আংশিক গ্রহণটি প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে স্পেনে এসেছেন ৫১ বছর বয়সী বিজ্ঞান শিক্ষক আনা কটস। বিরল এই সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগকে ‘দারুণ’ উল্লেখ করে তিনি জানান, অভিজ্ঞতাটি পরে তাঁর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান।

এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণটি ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের জন্য বিশেষ ঘটনা। ১৯৯৯ সালের পর এবারই প্রথম সেখানে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গেল। আর স্পেনের মূল ভূখণ্ডে এক শতাব্দীর বেশি সময় পর দেখা গেল এমন গ্রহণ। ফলে গ্রহণের পথের মধ্যে থাকা স্পেনের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে সাজ সাজ রব পড়ে যায়।

ফ্রান্সে বসবাসকারী ৫০ বছর বয়সী পেরুর নাগরিক ইয়েনি গুয়েভারা থাকার জায়গা ঠিক না করেই স্পেনে চলে এসেছিলেন। গতকাল সকালে বুর্গোস শহরে পৌঁছান তিনি। তিনি বলেন, ‘জীবনে এবারই সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাচ্ছি।’

ব্রিটিশ সৌরপদার্থবিদ লুসি গ্রিন নিজেকে ‘গ্রহণ শিকারি’ বলে পরিচয় দেন। এবার তিনি স্পেনের মায়োর্কা দ্বীপের কাছে নৌকা থেকে গ্রহণ দেখেছেন। তাঁর ভাষায়, সূর্যগ্রহণ দেখার অভিজ্ঞতা এতটাই আবেগময় যে অনেকে এতে ‘আসক্ত’ হয়ে পড়েন।

সূর্যগ্রহণ চলছে। সূর্যকে প্রায় ঢেকে ফেলেছে চাঁদ। গতকাল যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে
সূর্যগ্রহণ চলছে। সূর্যকে প্রায় ঢেকে ফেলেছে চাঁদ। গতকাল যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামেছবি: এএফপি

গ্রহণ দেখতে মানুষের ভিড়ের কারণে স্পেনের গ্রামাঞ্চলের ছোট রাস্তাতেও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। কর্মকর্তারা গ্রহণ দেখতে অতিরিক্ত ১৫ লাখ গাড়ি রাস্তায় নামতে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। স্পেনের কোথাও কোথাও সূর্যগ্রহণ দেখার বিশেষ চশমার সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এ গ্রহণকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৪৬ হাজার পর্যটক আসতে পারেন বলে জানিয়েছিল।

সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চাঁদ এসে সূর্যের আলো পুরোপুরি আটকে দিলে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়। চাঁদের ছায়া যে সরু পথে পৃথিবীর ওপর পড়ে, সেটিই ‘পূর্ণগ্রাসের পথ’। গতকালের গ্রহণের ছায়া রাশিয়ার দুর্গম আর্কটিক অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড পেরিয়ে স্পেনে পৌঁছায়।

শুধু পর্যটক বা গ্রহণপ্রেমীরা নন, বিজ্ঞানীরাও এ ঘটনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছেন। পূর্ণগ্রাসের সময় সূর্যের উজ্জ্বল পৃষ্ঠ চাঁদের আড়ালে চলে যাওয়ায় এর বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট দেখা যায়। এ সময় বিজ্ঞানীরা সৌরবায়ু, সূর্যের চৌম্বকক্ষেত্র ও বাইরের বায়ুমণ্ডল নিয়ে গবেষণার সুযোগ পান।

২০২৭ সালের আগস্টে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তর আফ্রিকার ওপর দিয়ে আরেকটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ যাবে। আর ২০২৮ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের আইবেরীয় উপদ্বীপে দেখা যাবে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ। এমন গ্রহণের সময় চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এলেও সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। ফলে সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল আলোর বলয় বা আগুনের আংটি দেখা যায়।




জাতিসংঘের দুই কর্মীকে আটক করেছে আফগান গোয়েন্দা সংস্থা: জাতিসংঘ

আফগানিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনের (ইউএনএএমএ) দুই কর্মী আটক হয়েছেন। তাদের সঙ্গে দুই দিন ধরে জাতিসংঘের কোনো যোগাযোগ বা সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইউএনএএমএ এক বিবৃতিতে জানায়, পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে গত ৯ আগস্ট রোববার দেশটির  গোয়েন্দা সংস্থা ‘জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ইন্টেলিজেন্স’-এর কর্মকর্তারা জাতিসংঘের দুই আফগান পুরুষ কর্মীকে আটক করেছেন।

এ বিষয়ে আফগান সরকার এএফপিরকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দপ্তর আটক কর্মীদের বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছে।

গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি এবং তাদের সঙ্গে দেখা করারও অনুমতি দেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ ও এর কর্মকর্তাদের বিশেষ মানবাধিকার ও দায়মুক্তির বিষয়গুলো মেনে চলতে আমরা কার্যত কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পঞ্চম বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে এই আটকের ঘটনা ঘটল। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের মাধ্যমে তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসে।

স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আফগানিস্তানজুড়ে জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।

চলতি সপ্তাহে ইউএনএএমএ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বলপ্রয়োগ, গ্রেফতার ও আটকসংক্রান্ত বিষয় স্পষ্ট করার’ পাশাপাশি এসব কার্যক্রমে জবাবদিহিতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে তালেবান কর্তৃপক্ষ আফগানিস্তান শাসন করছে। তারা ইসলামী আইনের কঠোর ব্যাখ্যার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করছে।

আফগান নারীদের জাতিসংঘের বিভিন্ন স্থাপনায় প্রবেশ নিষিদ্ধ। এমনকি জাতিসংঘের নারী কর্মীরাও এর আওতাভুক্ত।

গত জুনে হেরাত প্রদেশে ইরান সীমান্তের কাছে প্রায় ২০ জন ত্রাণকর্মীকে আফগানিস্তানের নৈতিকতা-বিষয়ক পুলিশ আটক করেছিল। তাদের দাড়ি যথেষ্ট লম্বা না হওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়।

একটি অভ্যন্তরীণ নথির বরাত দিয়ে এএফপির জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জাতিসংঘের অংশীদার বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিরাও ছিলেন। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

জুনের শুরুতে তালেবান সরকারের নৈতিকতা-বিষয়ক পুলিশ কয়েক ডজন নারীকে আটক করে। সরকারি পোশাকবিধি লঙ্ঘন করে শরীর পুরোপুরি ঢেকে রাখে এমন চাদর বা বোরকা না পরার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।

আটকদের মধ্যে মেডিসিনস সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ)-এর একজন হাসপাতালকর্মীও ছিলেন। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থাটি ওই আটকের তীব্র নিন্দা জানায়।

এই বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিরল এক বিক্ষোভ সহিংসভাবে দমন করা হয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এতে অন্তত দুজন নিহত হয়।

আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় আফগানিস্তান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি নানা সংকটের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ও পাকিস্তান থেকে লাখ লাখ আফগান নাগরিকের দেশে ফিরে আসার বিষয়টিও অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




মালয়েশিয়ায় অভিযান ৩৭০ বাংলাদেশি অভিবাসী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মালয়েশিয়ায় দুদিনব্যাপী অভিযানে ১ হাজার ৪৩ অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে ৩৭০ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান দেশটির বিভিন্ন এলাকায় পরিচালনা করা হয়।

ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, ‘অপ সাসার’ নামের এ অভিযানে মোট ৩ হাজার ৩০৭ বিদেশিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল­াশি করা হয়। আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়া জানান, বিদেশিদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ বাড়ায় বর্তমানে সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়টির বেশি অভিযান পরিচালনা করছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। চলতি বছর ৩১ হাজারের বেশি বিদেশিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার বিদেশিকে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।

এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ দিতে সরকার ‘মাইগ্রেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’ চালু রেখেছে বলে জানান তিনি।

জাকারিয়া বলেন, এ কর্মসূচির আওতায় অবৈধ অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা পরিশোধ করলে তাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হয়। জানা যায়, ইমিগ্রেশন বিভাগের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।




হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, মার্কিন নৌবাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে পেতে রাখা মাইন অপসারণের কাজ করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। খবর আল জাজিরা, সিএনএন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঘাঁটি জয়েন্ট বেইস অ্যান্ড্রুজ পরিদর্শনে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে আমরা ভালোভাবে এগোচ্ছি, খুবই ভালোভাবে এগোচ্ছি। হরমুজ প্রণালি এখন আমরা নিয়ন্ত্রণ করছি। এটা পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের নৌবাহিনী সত্যিই অবিশ্বাস্য এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে— তা আমাদের দেশের জন্য ভালো হবে।

তিনি আরো বলেছেন, আমি ইরানকে বিশ্বাস করি না। পৃথিবীর সবাই যদি ইরানকে বিশ্বাস করতে শুরু করে, সেক্ষেত্রে আমি হবো সর্বশেষ ব্যক্তি। তারা প্রতিনিয়ত আমাকে মিথ্যা বলেছে। তারা হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতেছে, আর আমরা এ জলপথকে মাইনমুক্ত করছি। আমাদের নৌবাহিনী শিগগিরই পুরো প্রণালি মাইনমুক্ত করে ফেলবে। হরমুজে এখন তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, পুরো প্রণালি আমাদের নিয়ন্ত্রণে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশী জাহাজ চলাচলে অবরোধ জারি করে তেহরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রও।

এর মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন ইসলামাবাদ একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সে অনুযায়ী হরমুজ সাময়িকভাবে সচল হলেও এ অবস্থা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। গত ১৩ জুলাই দুদেশের হামলা-পাল্টা হামলার কারণে আবারো অচল হয়ে পড়ে এ নৌপথ।