মেক্সিকোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ১৩

মেক্সিকোর রাজ্য সিনালোয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা সবাই হামলাকারী গ্রুপের সদস্য। সশস্ত্র ওই গ্রুপটি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী ওমার গারসিয়া হারফুচ জানিয়েছেন, সোমবার দুপুরে (স্থানীয় সময়) এ ঘটনাটি ঘটেছে।

হারফুচ জানিয়েছেন, নয়জনকে অপহরণ করা হয়েছিল, অভিযানের মাধ্যমে তাদের মুক্ত করা হয়েছে। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়।

সিনালোয়া রাজ্যটি মাদক চোরাকারবারিদের কুখ্যাত চক্র সিনালোয়া কার্টেলের প্রভাবাধীন। কর্তৃপক্ষ অঞ্চলটিকে তাদের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করার জন্য অভিযান চালাচ্ছে। আর এসব অভিযান ঘিরে প্রায়ই প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

রাজ্যটিতে সিনালোয়া কার্টেলের উপদলগুলোর মধ্যে আগে থেকেই আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে সংঘাত চলছে। এর মধ্যে সরকারি বাহিনীর অভিযানের কারণে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। এই রাজ্যটিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে মেক্সিকো সরকার।

প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ক্যারিবীয় সাগরে ও প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী আক্রমণ পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে এই দুই জলসীমায় মার্কিন বাহিনীর আক্রমণে অন্তত ১৫টি কথিত মাদকবাহী নৌযান ধ্বংস এবং ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। সূত্র: গালফ নিউজ, এফপি




ট্রাম্প-সৌদি যুবরাজ বৈঠক ১৮ নভেম্বর

আগামী ১৮ নভেম্বর হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
সোমবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।

এমন এক প্রেক্ষাপটে এই সফরে যাচ্ছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, যখন সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প।

২০২০ সালে ট্রাম্প সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান এবং মরক্কোর সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। এই চুক্তির মাধ্যমে ওই দেশগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। সৌদি আরব অবশ্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে পদক্ষেপ না হওয়ায় এখনও এই চুক্তিতে যোগ দিতে দ্বিধা প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত অ্যাকর্ডসে যোগ দেবে। ট্রাম্প এবং মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কেও আলোচনা করতে পারেন।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস দুই সপ্তাহ আগে জানিয়েছে, আশা করা হচ্ছে মোহাম্মদ বিন সালমানের সফরের সময় দুই দেশ এমন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ক্রাউন প্রিন্স আসার সময় কিছু স্বাক্ষরের আলোচনা চলছে। কিন্তু বিস্তারিত এখনও পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে। সৌদি আরব চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজের রক্ষা করার আনুষ্ঠানিক গ্যারান্টি এবং অধিক উন্নত অস্ত্রব্যবস্থার সুযোগ পাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের অন্যতম বড় গ্রাহক হলো সৌদি আরব। দুই দেশ দীর্ঘ দশক ধরে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সেখানে সৌদি আরব তেল সরবরাহ করে এবং ওয়াশিংটন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। মে মাসে ট্রাম্পের রিয়াদ সফরের সময়, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে প্রায় ১৪২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রপ্যাকেজ বিক্রি করার বিষয়ে সম্মত হয়। সূত্র: রয়টার্স