কাস্পিয়ান সাগর হচ্ছে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাস্পিয়ান সাগরে সম্প্রতি একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্য-পূর্ব ইউরোপের যুদ্ধকে একসূত্রে গেঁথে ফেলার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। গত ২৫ জুলাই ঘটে যাওয়া এই ঘটনা কেবল এক তরুণ নাবিকের প্রাণই কেড়ে নেয়নি বরং ইরান-ইউক্রেন সম্পর্ককে এক অভূতপূর্ব সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বহির্বিশ্বের জন্য শঙ্কার বিষয় হলো, এর মাধ্যমে সংঘাতের সীমান্ত কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভেতরেই সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন অঞ্চলে বিস্তৃত হচ্ছে।

নিহত ওই তরুণ ইরানি নাবিকের নাম নিমা মোরাদি, যার বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। উত্তর ইরানের বন্দর নগরী বান্দারে আনজালি থেকে আসা নিমার শৈশব থেকেই ইচ্ছা ছিল নাবিক হওয়ার। আয়রন আকরিক বোঝাই ‘আনা’ নামক জাহাজে রাশিয়া থেকে ইরানে ফেরার পথে ইউক্রেনীয় দূরপাল্লার ড্রোনের আঘাতে নিমা নিহত হন এবং জাহাজের আরও এক কর্মী গুরুতর আহত হন। নিমার এই অকাল প্রয়াণে তার পরিবার ও পুরো ইরানি সমাজ আজ গভীর শোকে নিমজ্জিত।

ঘটনার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইউক্রেনের এই পদক্ষেপ জাতিসংঘের সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি অভিযোগ তোলেন, ইসরায়েলের উসকানিতেই ইউরোপকে যুদ্ধের দিকে টেনে আনতে এই আঘাত হানা হয়েছে। অন্যদিকে এই হামলা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে তেল আবিব, যা এই ঘটনার পেছনে থাকা ভূ-রাজনৈতিক চাল নিয়ে সংশয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রথমে ইরান এই হামলার কঠোর সামরিক জবাব দেয়ার পরিকল্পনা হিসেবে ইউক্রেনের তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে খবর পাওয়া যায়। তবে পরবর্তীতে কিয়েভের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করায় এবং তেহরানের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে কিছুটা শান্ত হয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই নীরবতা বা নমনীয়তা একেবারে স্থায়ী কিছু নয় বরং তেহরান এখন নতুন কোনো ফাঁদে না পড়ার জন্য সময় নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতকে একীভূত করার একটি কৌশলগত চেষ্টা করা হচ্ছে। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া ও ইরানকে একই অক্ষের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। তাছাড়া, ওয়াশিংটনের নজর ও সামরিক সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে বেশি চলে যাওয়ায় কিয়েভ একধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই ইরানকে এই সংঘাতে টেনে আনলে আমেরিকার সমর্থন ইউক্রেনের দিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে বলে ইউক্রেনীয় নীতি নির্ধারকরা চিন্তা করছেন।

ইউক্রেনীয় এই কৌশলের মাধ্যমে ইসরায়েলও সরাসরি লাভবান হতে পারে। এর ফলে মার্কিন-ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি এই যুদ্ধের অংশ হয়ে উঠবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ইসরায়েল বিশ্বজুড়ে তার ভাবমূর্তির সংকট কাটিয়ে উঠতে এই যুদ্ধকে নিজেদের সুরক্ষার বদলে ইউক্রেনকে রক্ষার যুদ্ধ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক সুবর্ণ সুযোগ পাবে।

ঐতিহাসিকভাবে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক সবসময় সহজ ছিল না। ঊনবিংশ শতাব্দীতে অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি এবং বিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক টানাপোড়েনে দুটি দেশ পরস্পরকে সন্দেহের চোখে দেখে এসেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পরও মস্কো ও তেহরানের নীতিগত দূরত্ব বজায় ছিল। তবে সময় ও দূরদর্শী রাজনীতির প্রয়োজনে তা পরবর্তীতে কৌশলগত ও সামরিক অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে। যৌথ প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর তাগিদ আজ রাশিয়া ও ইরানকে এক ছাতার নিচে এনে দাঁড় করিয়েছে।

কাস্পিয়ান সাগরের মতো সুরক্ষিত এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনস্থ একটি অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য এক মারাত্মক সতর্কবার্তা। এই পানিপথটি কেবল একটি সীমান্ত বা রুট নয় বরং রাশিয়া ও ইরানের জন্য বিশ্ব নিষেধাজ্ঞার ফাঁক গলে অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ইউক্রেনীয় এই হামলার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, বৈশ্বিক অস্থিরতার মানচিত্র প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পানিপথ ও ভূখণ্ডে ডালপালা মেলে প্রসারিত হচ্ছে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে বিশ্বব্যবস্থার জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় ডেকে আনবে।




কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপলো ইকুয়েডরও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) ৭টা ৩৪ মিনিট পশ্চিম কলম্বিয়ায় এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের কম্পনে প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলাও কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এবং কলম্বিয়ার সংশ্লিষ্ট ভূতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত চোকো অঞ্চলের ‘সান হোসে দেল পালমার’ এলাকায়। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার (ইউএনজিআরডি-এর মতে ৭৯ কিমি)।

সোমবার সকালে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের কম্পন শুধু চোকোতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেও তা অনুভূত হয়েছে। এমনকি দেশটির সীমানা পেরিয়ে ভেনেজুয়েলা পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় বেশ কিছু এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। চোকো বিভাগের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্ডোবা-কুরি জানান, ভূমিকম্পের প্রভাবে বিভাগের রাজধানী কিবদোতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া শহরটির বেশ কিছু স্থাবর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কাজ করছে। সেই সঙ্গে সম্ভাব্য আফটারশক বা অনুকম্পনের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান গভর্নর। তিনি বলেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করছে ও শিগগিরই প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

তবে ভূমিকম্পটির মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। ইউএসজিএস ও কলম্বিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭ দশমিক ৪ বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে কলম্বিয়ার ন্যাশনাল ইউনিট ফর ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট (ইউএনজিআরডি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৬ ও এর গভীরতা ছিল ৭৯ কিলোমিটার।

ইউএনজিআরডি জানিয়েছে, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য যাচাই করতে তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ফলে ভূমিকম্পের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ও হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই ভূমিকম্পের আগে জুনের শেষ দিকে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলায় পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই দুটি ভূমিকম্পে শত শত ভবন ধ্বংস ও ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ঘটনার পর আবারও দক্ষিণ আমেরিকার এই অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।




ছাত্র আন্দোলনের মুখে অমিত শাহ নতি স্বীকার করলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে সরব হওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে সংসদে বিস্তারিত আলোচনায় সায় দিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধী দলগুলোর টানা দাবির মুখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর নেওয়া পদক্ষেপর ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তবে আলোচনা ও মন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বিরোধীদের সংসদকক্ষে কোনো প্রকার হট্টগোল বা গোলযোগ না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রিজিজু জানান, ছাত্র আন্দোলন এবং তৎসংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়ে সরকার সংসদে বিশদ আলোচনা করতে সম্পূর্ণ রাজি। বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বক্তব্য দেবেন কিংবা সরকার যখন জবাব দেবে, তখন বিরোধী শিবির যেন হট্টগোল করে পরিবেশ বিনষ্ট না করে। তাদের ধৈর্য ধরে সরকারের বক্তব্য ও গৃহমন্ত্রীর জবাব শোনা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সরকারের এই অবস্থান এসেছে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর একটি কড়া কলাম প্রকাশের পর। একটি জাতীয় দৈনিকে লেখা কলামে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি আক্রমণের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো তদন্তের নির্দেশ দেননি, এমনকি কোনো বক্তব্যও পেশ করেননি। তিনি দাবি করেন, আন্দোলন থামাতে ছাত্রদলের ওপর কাঁদানে গ্যাস, পেরেকযুক্ত লাঠি এবং পেল্ট গান ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া বিহারের সিওয়ানে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর একে-৪৭ দিয়ে গুলি চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগও তোলেন তিনি।

এর আগে গত ২০ জুলাই নতুন দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের দিকে বিক্ষোভকারীরা এগোতে চাইলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এতে একাধিক শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে আহত হন। এরপরই ভারতজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিরোধীরা এই ঘটনাকে ‘অবৈধ ও অসংবিধানিক সহিংসতা’ হিসেবে উল্লেখ করে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

সূত্র: এনডিটিভি




ফিলিপাইনে বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু ১২, নিখোঁজ ৮

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় ‘কুজিরো’ ও ‘ডলফিন’-এর জোড়া প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ফিলিপাইনে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু এবং ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। 

সিভিল ডিফেন্স দপ্তরের সহকারী সচিব লরেন্স মিনা জানিয়েছেন, সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত পাওয়া হিসাবে এসব ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। পাহাড় ধস, গাছ ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে তিনি জানান।

জিএমএ নিউজ অনলাইনের বরাতে জানা গেছে, দেশের ৯টি অঞ্চল ও ৩৩টি প্রদেশের প্রায় ৫ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রিজিওন ১, ৩, ক্যালাবারজোন এবং মিমারোপায় ৪ হাজার ৮৬৬ জনকে সতর্কতামূলকভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগের কারণে ইতোমধ্যেই ৩২ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। তারা বর্তমানে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র অথবা তাদের আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি




রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ১৩ জনের প্রাণহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রে এক শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। যদিও নিঝনেকামস্ক শহরে চালানো এই হামলার বিষয়ে কিয়েভ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

শহরটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ১,১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত। সেখানে বেশ কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার ও একটি বিশাল পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাত থেকে শুরু হয়ে সকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা ধরে এই হামলা চলে।

হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ভিডিওটি যাছাই করা সম্ভব হয়নি। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ছবিতে দিনের আলোয় আকাশে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী ও আগুনের শিখা উঠতে দেখা গেছে এবং বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বাজতে শোনা গেছে।

হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া না গেলেও, কিয়েভ সম্প্রতি এমন সব স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে। যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে রাজস্ব ও কারিগরী সহায়তা জোগায় বলে তারা দাবি করে।

মস্কো নিশ্চিত করেছে, আবাসিক এলাকার পাশাপাশি শিল্প স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, সেখানে এমন বেসামরিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন, যারা কোনো সামরিক অভিযানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাতারস্তানের প্রধান রুস্তম মিন্নিখানভ হামলাটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন।

নিঝনেকামস্কের মেয়র রাদমির বেলায়েভ বলেছেন, এটি আমাদের সবার জন্য এক গভীর বেদনাদায়ক ঘটনা।তাতারস্তানে শোকের সময় ঘোষণা করা হয়েছে। মস্কো জানিয়েছে, রাতের বেলা রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪৫০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। দেশটির অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলা চালানোর ক্ষেত্রে কিয়েভ ক্রমশ সফল হয়ে উঠছে। তারা প্রায়শই গুদাম বা জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং এতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে।

অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের শহর ও আবাসিক এলাকাগুলোতে নিয়মিত বড় আকারের বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত সপ্তাহে কিয়েভে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের যৌথ হামলায় ২১ জন নিহত হন। এছাড়া সম্মুখসারির কাছাকাছি অবস্থিত খারকিভে রাতের বেলা রাশিয়ার গোলাবর্ষণে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি। 




ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ট্রাম্প হেরে গেছেন: মার্কিন সিনেটর

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘হেরে গেছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি। তাঁর দাবি, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হচ্ছে এবং ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

মারফি এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রয়োজন হলে তিনি খারাপ চুক্তিও সমর্থন করবেন। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

মারফির ভাষ্য, যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন। কারণ প্রতিদিন যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল হবে, অন্যদিকে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন এই সিনেটর আরও বলেন, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের পক্ষে তিনি ভোট দেবেন না। তবে সংঘাত শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার পুনরায় পূরণ করার উদ্যোগকে সমর্থন করবেন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রবিবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে না। তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না।

ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে নৌ অবরোধ প্রত্যাহারও রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সূত্র: আল জাজিরা




গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের

গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। খবর এপি ও রয়টার্স।

নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসকে ‘বাস্তবিক অর্থে নিরস্ত্র’ না করা পর্যন্ত ইসরায়েল গাজা থেকে কোনোভাবেই সেনা প্রত্যাহার করবে না।

গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল ১৫ দফা নথিটি প্রত্যাখ্যান করছে।’

তবে গাজা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহেও তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা। ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টায় থাকা নেতানিয়াহু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও রয়েছেন।

গত মাসে চুক্তি বিষয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে সরে যাবে।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউজ কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাঈম বলেন, ‘আমরা এই রোডম্যাপের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে বলে হামাস আশা করছে।

অবশ্য হামাস ‘নিরস্ত্রীকরণ’ শব্দটি ব্যবহার করছে না। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা অস্ত্রগুলো হস্তান্তর করে সংরক্ষণে রাখতে সম্মত হয়েছে। এসব অস্ত্র গাজা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট প্রশাসনের অধীনে সংরক্ষিত থাকবে। ওই প্রশাসন ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর তত্ত্বাবধানে কাজ করবে।

হামাস বলেছে, যুদ্ধ আবার শুরু হওয়া ঠেকাতেই তারা এ পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে। তবে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, চুক্তির বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ইসরায়েল আগে তার নিজস্ব প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করছে কিনা, যার মধ্যে রয়েছে সেনা প্রত্যাহার এবং হামলা বন্ধ করা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলা করা হয়। এরপর গাজায় আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। এতে ৭৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাদের বেশির ভাগ নারী ও শিশু। এছাড়া ধ্বংস হয়ে গেছে দেশটির বেশির ভাগ অবকাঠামো।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।

ইসরায়েল জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলায় অংশ নেয়া যোদ্ধাদের খুঁজে বের করে হত্যা করবে। সোমবার লক্ষ্যভিত্তিক হামলা বন্ধ করার আগে তারা এ অভিযান চালিয়ে যায়।

ইসরায়েলি সেনারা গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা দখল করে জনশূন্য করে ফেলেছে। ফলে ২০ লাখের বেশি বাসিন্দার প্রায় সবাই গাজার উপকূলের পাশে হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি ছোট্ট ভূখণ্ডে আটকা পড়েছেন। তাদের অধিকাংশই অস্থায়ী তাঁবু বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস করছেন।




যেকোনো মূল্যে ইরান হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে: ইরানের সাবেক প্রধান বিচারপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে পিছিয়ে যাবে না প্রয়োজনে যে কোনো মূল্যে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কথা জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি আয়াতুল্লাহ আমোলি লারিজানি।

রোববার (৯ আগস্ট) বার্তাসংস্থা আইআরআইবি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ইরান যেকোনো মূল্যে গুরুত্বপূর্ণ এ সামুদ্রিক রুটটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখবেন।

আয়াতুল্লাহ আমোলি লারিজানি বর্তমানে ইরানের ‘এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল’-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটি সুপিম লিডারের কর্তৃক সরাসরি গঠিত একটি সংস্থা। যা গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তি ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল। এর সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। যা এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি।

এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। এতে করে হরমুজ দিয়ে ইরানে যাওয়া-আসা করা কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।

হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পথ নেই

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দ্বিতীয় কোনো পথ নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আমির আকরামিনিয়া। তিনি বলেছেন, ইরান হরমুজে নতুন যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে এটি অপরিবর্তনযোগ্য। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এটি পরিবর্তন করতে চায়। কিন্তু এতে কাজ হবে না।

তিনি সতর্কতা দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে বর্তমানে যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সেটি আরও বাড়বে।

হুমকির সুরে এ সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আর কোনো উপায় নেই; অন্যথায় অতীতে তারা যে ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিল, এবার মূল্য চুকাতে হবে তার চেয়েও অনেক বেশি।’




রাশিয়ার হয়ে লড়বে উত্তর কোরিয়ার ৫০ হাজার সেনা, দাবি জেলেনস্কির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনীয় সেনাদের বিরুদ্ধে লড়ায়ে প্রায় ৫০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে রাশিয়া। এছাড়া ইউক্রেনের মাটিতে পিয়ংইয়ংয়ের কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে। ভয়াবহ এই পরিস্থিতির কথা জানিয়ে নিজ দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে সাহায্য চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

শনিবার এক্সে দেওয়া বার্তায় জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তিনি এই তথ্যের উৎস পরিষ্কার করেননি। তিনি বলেন, ইউক্রেনে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়া গেছে, তবে সেগুলোর নির্দিষ্ট অবস্থান গোপন রেখেছেন। তার মতে, উত্তর কোরিয়া এই যুদ্ধের মাধ্যমে আধুনিক রণকৌশলের অভিজ্ঞতা ও রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম নিচ্ছে।

ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দারা জানান, পশ্চিম রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন শুরু হয়েছে। তাদের কাছে ১২০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ৬টি লঞ্চার থাকতে পারে। ইউক্রেনের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষার তীব্র ঘাটতি রয়েছে। কঠিন ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ে এই দুর্বলতারই সুযোগ নিচ্ছে রাশিয়া।

সংকট মোকাবিলায় সিউলের সহযোগিতা চেয়ে জেলেনস্কি বলেন, আমাদের যে জায়গায় ঘাটতি রয়েছে, সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থন চাই। মূলত তিনি আকাশ প্রতিরক্ষার কথা বুঝিয়েছেন। ‘ড্রোন চুক্তি’ ও অন্যান্য বিষয়ে সিউলের সাথে ইউক্রেনীয় কূটনীতিকরা যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান তিনি।

২০২৪ সালের জুনে পুতিন ও কিমের চুক্তির অংশ হিসেবে কোরিয়া ইতোমধ্যে রাশিয়াকে লাখ লাখ গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছে। এছাড়া ইউক্রেনীয়দের আক্রমণ ঠেকাতে রাশিয়ার কুরস্কে প্রায় ১৪ হাজার সেনাও পাঠিয়েছে পিয়ংইয়ং।




আজ আমি প্রাণেও মরতে পারতাম: মমতা

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় আজ রোববার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। তার দাবি, কিছু দুর্বৃত্ত ইট ও পাথর দিয়ে তার গাড়িতে হামলা চালিয়েছে, যা তাকে মৃত্যুর মুখেও ঠেলে দিতে পারত। রাজ্য বিজেপি এ হামলার সমালোচনা করেছে এবং এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে অস্বীকার করেছে।

পুলিশের হেফাজতে এক দলীয় কর্মীর মৃত্যুর অভিযোগে তার বাড়িতে যাওয়ার পথে হালিশহরে বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। বিক্ষোভকারীরা তৃণমূল প্রধানের গাড়ি ঘিরে ধরে তাতে কাদা লেপে দেন এবং জুতো ও পানির বোতল ছোড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ‘চোর ভাগাও’ স্লোগানে চারপাশ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং পুলিশ বিক্ষোভকারীদের হটানোর চেষ্টা চালায়।

মমতা পরবর্তীতে সাংবাদিকদের বলেন, ইট ও পাথরগুলো গায়ে লাগলে তার মৃত্যু হতে পারত। তিনি বলেন, পুলিশের সামনে বাইরে থেকে আসা সমাজবিরোধীরা আমার গাড়িতে পাথর ছুড়েছে। গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে আমার মাথা ফেটে যেত। আমি মারা যেতে পারতাম। আমি কখনোই এমন হামলার মুখোমুখি হইনি। পুলিশ আমাদের রক্ষায় কিছুই করেনি। তারা কেবল বিজেপিকেই সুরক্ষা দেয়।

মমতার সঙ্গে থাকা লোকসভার সদস্য (এমপি) কল্যাণ ব্যানার্জি এবং রাজ্যসভার সদস্য দোলা সেনও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

লোকসভার ওই সদস্য বলেন, (মুখ্যমন্ত্রী) শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে ব্যবহার করে সব চালাচ্ছেন।

দলীয় কর্মীদের কোনো ধরনের সহিংসতা সহ্য করা হবে না বলে সব সময় বলে আসা রাজ্য বিজেপি প্রধান শমীক ভট্টাচার্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর ওপর এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং পুলিশকে অবশ্যই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে তার দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর মমতার ভাতিজা ও তৃণমূল সংসদ সদস্য অভিষেক ব্যানার্জি নিজ নির্বাচনী এলাকায় হামলার শিকার হওয়ার কয়েক মাস পর এ হামলার ঘটনা ঘটল।

পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়া এক সাবেক তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী বীরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আজ সকালে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় গিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি।

চাঁদাবাজির অভিযোগে গত শুক্রবার কেওটকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল। কাঁচরাপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মা অভিযোগ করেছিলেন যে, হাজতখানায় তার স্বামীকে নির্যাতন করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

অভিষেক ব্যানার্জি পুলিশের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেওটকে তুলে নিয়েছিল।

তৃণমূল নেতা বলেন, যখন রাষ্ট্র এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও কোনো মানুষকে হেফাজতে নিতে পারে—এবং সে আর জীবিত ফিরে আসে না—তখন প্রশ্নটি কেবল আইন-শৃঙ্খলার থাকে না। এটি সরাসরি আইনের শাসনের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।