যেকোনো মূল্যে ইরান হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে: ইরানের সাবেক প্রধান বিচারপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে পিছিয়ে যাবে না প্রয়োজনে যে কোনো মূল্যে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কথা জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি আয়াতুল্লাহ আমোলি লারিজানি।

রোববার (৯ আগস্ট) বার্তাসংস্থা আইআরআইবি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ইরান যেকোনো মূল্যে গুরুত্বপূর্ণ এ সামুদ্রিক রুটটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখবেন।

আয়াতুল্লাহ আমোলি লারিজানি বর্তমানে ইরানের ‘এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল’-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটি সুপিম লিডারের কর্তৃক সরাসরি গঠিত একটি সংস্থা। যা গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তি ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল। এর সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। যা এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি।

এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। এতে করে হরমুজ দিয়ে ইরানে যাওয়া-আসা করা কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।

হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পথ নেই

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দ্বিতীয় কোনো পথ নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আমির আকরামিনিয়া। তিনি বলেছেন, ইরান হরমুজে নতুন যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে এটি অপরিবর্তনযোগ্য। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এটি পরিবর্তন করতে চায়। কিন্তু এতে কাজ হবে না।

তিনি সতর্কতা দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে বর্তমানে যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সেটি আরও বাড়বে।

হুমকির সুরে এ সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আর কোনো উপায় নেই; অন্যথায় অতীতে তারা যে ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিল, এবার মূল্য চুকাতে হবে তার চেয়েও অনেক বেশি।’




রাশিয়ার হয়ে লড়বে উত্তর কোরিয়ার ৫০ হাজার সেনা, দাবি জেলেনস্কির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনীয় সেনাদের বিরুদ্ধে লড়ায়ে প্রায় ৫০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে রাশিয়া। এছাড়া ইউক্রেনের মাটিতে পিয়ংইয়ংয়ের কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে। ভয়াবহ এই পরিস্থিতির কথা জানিয়ে নিজ দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে সাহায্য চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

শনিবার এক্সে দেওয়া বার্তায় জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তিনি এই তথ্যের উৎস পরিষ্কার করেননি। তিনি বলেন, ইউক্রেনে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়া গেছে, তবে সেগুলোর নির্দিষ্ট অবস্থান গোপন রেখেছেন। তার মতে, উত্তর কোরিয়া এই যুদ্ধের মাধ্যমে আধুনিক রণকৌশলের অভিজ্ঞতা ও রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম নিচ্ছে।

ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দারা জানান, পশ্চিম রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন শুরু হয়েছে। তাদের কাছে ১২০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ৬টি লঞ্চার থাকতে পারে। ইউক্রেনের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষার তীব্র ঘাটতি রয়েছে। কঠিন ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ে এই দুর্বলতারই সুযোগ নিচ্ছে রাশিয়া।

সংকট মোকাবিলায় সিউলের সহযোগিতা চেয়ে জেলেনস্কি বলেন, আমাদের যে জায়গায় ঘাটতি রয়েছে, সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থন চাই। মূলত তিনি আকাশ প্রতিরক্ষার কথা বুঝিয়েছেন। ‘ড্রোন চুক্তি’ ও অন্যান্য বিষয়ে সিউলের সাথে ইউক্রেনীয় কূটনীতিকরা যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান তিনি।

২০২৪ সালের জুনে পুতিন ও কিমের চুক্তির অংশ হিসেবে কোরিয়া ইতোমধ্যে রাশিয়াকে লাখ লাখ গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছে। এছাড়া ইউক্রেনীয়দের আক্রমণ ঠেকাতে রাশিয়ার কুরস্কে প্রায় ১৪ হাজার সেনাও পাঠিয়েছে পিয়ংইয়ং।




আজ আমি প্রাণেও মরতে পারতাম: মমতা

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় আজ রোববার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। তার দাবি, কিছু দুর্বৃত্ত ইট ও পাথর দিয়ে তার গাড়িতে হামলা চালিয়েছে, যা তাকে মৃত্যুর মুখেও ঠেলে দিতে পারত। রাজ্য বিজেপি এ হামলার সমালোচনা করেছে এবং এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে অস্বীকার করেছে।

পুলিশের হেফাজতে এক দলীয় কর্মীর মৃত্যুর অভিযোগে তার বাড়িতে যাওয়ার পথে হালিশহরে বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। বিক্ষোভকারীরা তৃণমূল প্রধানের গাড়ি ঘিরে ধরে তাতে কাদা লেপে দেন এবং জুতো ও পানির বোতল ছোড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ‘চোর ভাগাও’ স্লোগানে চারপাশ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং পুলিশ বিক্ষোভকারীদের হটানোর চেষ্টা চালায়।

মমতা পরবর্তীতে সাংবাদিকদের বলেন, ইট ও পাথরগুলো গায়ে লাগলে তার মৃত্যু হতে পারত। তিনি বলেন, পুলিশের সামনে বাইরে থেকে আসা সমাজবিরোধীরা আমার গাড়িতে পাথর ছুড়েছে। গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে আমার মাথা ফেটে যেত। আমি মারা যেতে পারতাম। আমি কখনোই এমন হামলার মুখোমুখি হইনি। পুলিশ আমাদের রক্ষায় কিছুই করেনি। তারা কেবল বিজেপিকেই সুরক্ষা দেয়।

মমতার সঙ্গে থাকা লোকসভার সদস্য (এমপি) কল্যাণ ব্যানার্জি এবং রাজ্যসভার সদস্য দোলা সেনও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

লোকসভার ওই সদস্য বলেন, (মুখ্যমন্ত্রী) শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে ব্যবহার করে সব চালাচ্ছেন।

দলীয় কর্মীদের কোনো ধরনের সহিংসতা সহ্য করা হবে না বলে সব সময় বলে আসা রাজ্য বিজেপি প্রধান শমীক ভট্টাচার্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর ওপর এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং পুলিশকে অবশ্যই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে তার দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর মমতার ভাতিজা ও তৃণমূল সংসদ সদস্য অভিষেক ব্যানার্জি নিজ নির্বাচনী এলাকায় হামলার শিকার হওয়ার কয়েক মাস পর এ হামলার ঘটনা ঘটল।

পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়া এক সাবেক তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী বীরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আজ সকালে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় গিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি।

চাঁদাবাজির অভিযোগে গত শুক্রবার কেওটকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল। কাঁচরাপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মা অভিযোগ করেছিলেন যে, হাজতখানায় তার স্বামীকে নির্যাতন করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

অভিষেক ব্যানার্জি পুলিশের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেওটকে তুলে নিয়েছিল।

তৃণমূল নেতা বলেন, যখন রাষ্ট্র এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও কোনো মানুষকে হেফাজতে নিতে পারে—এবং সে আর জীবিত ফিরে আসে না—তখন প্রশ্নটি কেবল আইন-শৃঙ্খলার থাকে না। এটি সরাসরি আইনের শাসনের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।




জাপানে তাণ্ডব চালিয়ে চীনের দিকে অগ্রসর টাইফুন ডলফিন, ফ্লাইট ও বন্দর বন্ধ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাপানে আঘাত হানার পর টাইফুন ডলফিন এখন চীনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ওকিনাওয়ায় ছয়জন আহত হয়েছেন, আর দেশজুড়ে পঞ্চাশ হাজারের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে চীনের পূর্ব উপকূলে বন্দর বন্ধ, ফেরি স্থগিতসহ নানা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাপানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওকিনাওয়ায় পাঁচজন বয়স্ক মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন তীব্র বাতাসে পড়ে গিয়ে আহত হন। তবে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। কাগোশিমায়ও একজন আহত হয়েছেন। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, কাগোশিমায় প্রায় ৩৯ হাজার এবং ওকিনাওয়ায় ১২ হাজারের বেশি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলো আর জাপান এয়ারলাইনস ওকিনাওয়াগামী ও সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।

টাইফুনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে ওকিনাওয়া আর কাগোশিমার আমামি দ্বীপপুঞ্জে। কেন্দ্রস্থলে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার। ঝোড়ো হাওয়ায় তা আরও বেড়ে ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

স্থানীয় সময় রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে টাইফুনটি চীনে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চীন একে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতার ‘অরেঞ্জ’ ক্যাটাগরিতে রেখেছে। বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বিবেচনায় জরুরি তৎপরতার মাত্রা বাড়িয়ে লেভেল ৩ করা হয়েছে।




কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন এসপ্রিয়েলা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ব্যবসায়ী, আইনজীবী এবং ডানপন্থী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত আবেলিয়ার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শনিবার(৮ আগস্ট) দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কালিতে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। এতে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত এবং ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া উপস্থিত ছিলেন।

গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত রান-অফ নির্বাচনে ৪৯.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে দে লা এসপ্রিয়েলা জয়লাভ করেন। ৪৮ বছর বয়সী দে লা এসপ্রিয়েলা প্রথা ভেঙে রাজধানী বোগোতার পরিবর্তে কলম্বিয়ার অস্থিতিশীল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কালিতে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। যা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের সংঘাতের ধকল দীর্ঘকাল ধরে এই শহরটিকেই সবচেয়ে বেশি সইতে হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেছে, কলম্বিয়ার নতুন প্রশাসনকে সহায়তা করতে ওয়াশিংটন ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলার প্রশাসনকে সহায়তা করার লক্ষ্যে একটি নিরাপত্তা প্যাকেজের আওতায় ১০০ কোটি ডলারের সহায়তা ঘোষণা করতে যাচ্ছে, যা আমাদের যৌথ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

এই অর্থ পশ্চিমা গোলার্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যয় করা হবে। এছাড়া অর্থের একটি অংশ অর্থনীতি, বাণিজ্য ও খনিজ সম্পদ খাতের উন্নয়নেও ব্যবহার করা হবে। নতুন প্রেসিডেন্টের নেওয়া অন্যতম প্রথম পদক্ষেপ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠিত জোট ‘শিল্ড অফ দ্য আমেরিকাস’-এ কলম্বিয়ার যোগদানের ঘোষণা।

নিজের অভিষেক ভাষণে তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠানের পর আমি যেসব নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা করেছি, তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘শিল্ড অফ দ্য আমেরিকাস’-এ যোগদানের বিষয়টি। এটি এমন একটি উদ্যোগ যা বিভিন্ন দেশকে ঐক্যবদ্ধ হতে, কৌশলগত তথ্য আদান-প্রদান করতে এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপ জোরদার করতে সহায়তা করবে।

তার মতে, অন্যান্য দেশের মতোই কলম্বিয়াও একা কোনোভাবেই আন্তঃসীমান্ত অপরাধী সংগঠনগুলোকে পরাজিত করতে সক্ষম নয়। দে লা এসপ্রিয়েলা আরও প্রতিশ্রুতি দেন, তার প্রশাসন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করবে।

তিনি বলেন, আমরা বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে আরও শক্তিশালী করব এবং নতুন নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেব। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার পূর্বসূরির বিপরীতে তিনি সম্ভাব্য সব উপায়ে দেশে কোকা চাষের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।

ডানপন্থী এই রাজনীতিবিদ আরও বলেন, সম্ভাব্য সব উপায়ে অবৈধ কোকা চাষ নির্মূল করাটা বাস্তবে রূপ নেবে। এটি আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে।

সূত্র: আলজাজিরা।




গ্রিস উপকূলে দুই শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী উদ্ধার, অধিকাংশই বাংলাদেশী ও সুদানি

ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে পৌঁছানো দুই শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে দেশটির সরকার। উদ্ধার হওয়াদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশী ও সুদানির নাগরিক। এছাড়া কয়েকজন মিসরীয় নাগরিকও রয়েছেন। খবর মিডল ইস্ট মনিটর।

গ্রিক দৈনিক পত্রিকা দেমোক্রেতিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিবিয়া উপকূল থেকে যাত্রা করা এসব অভিবাসনপ্রত্যাশী গ্রিসের দক্ষিণ ক্রিট দ্বীপে এসে পৌঁছান। গত ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে অন্তত ২০২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী এ দ্বীপে এসেছেন। এতে দ্বীপটির স্থানীয় প্রশাসন ও অস্থায়ী অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকালে ইউরোপীয় সীমান্ত ও কোস্টগার্ড সংস্থা ফন্টেক্সের একটি উড়োজাহাজ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়েরাপেত্রা এলাকায় অন্তত ৪০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে বহন করা একটি ট্রলার চিহ্নিত করে। পরে কোস্টগার্ডের টহল দল একটি মাছ ধরার নৌকার সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে ইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের পরিচয় যাচাই ও নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই দুটি নৌকায় আরো ১১২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ওই দ্বীপে এসে পৌঁছায়। এর মধ্যে প্রথম দলে ৫৬ জন ছিলেন, যার মধ্যে ৩১ জন সুদানি এবং ২৫ জন বাংলাদেশী নাগরিক। আর দ্বিতীয় দলের ৫৬ জনের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশী এবং ৯ জন মিসরীয় নাগরিক ছিলেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এসব অভিবাসনপ্রত্যাশীদের তাৎক্ষণিকভাবে হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। দ্বীপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় কেন্দ্রটি এখন তাদের সাময়িক আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এদিকে পৃথক এক অভিযানে মানব পাচারের অভিযোগে ১৬ বছর বয়সী এক দক্ষিণ সুদানি কিশোরকে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইয়েরাপেত্রা থেকে সাড়ে ২৮ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে সমুদ্র থেকে আগে উদ্ধার হওয়া ৫০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে পাচারের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়।

উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের জবানবন্দি অনুযায়ী, লিবিয়ার তোব্রুক শহর থেকে গ্রিস পর্যন্ত বিপজ্জনক এ সমুদ্র যাত্রায় নৌকাটি ওই কিশোর পরিচালনা করছিল। এর বিনিময়ে সে জনপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।




হরমুজ নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনায় আশার আলো দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধের কারণে স্থবির হয়ে পড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়ায় নিয়ে আশার আলো দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ খুলে দিতে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

ওয়াশিংটনের প্রশাসনিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রণালির দুই তীরের দুই দেশ ইরান ও ওমানের মধ্যে শিগগিরই একটি সমঝোতা চুক্তি হতে পারে। ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরো জানিয়েছেন, হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসা মাত্রই ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন পদক্ষেপগুলো আগের মতোই ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে।

যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ট্রাম্প প্রশাসন বারবার চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সংকেত দিলেও ইরান প্রতিবারই এমন কোনো বৈঠকের কথা অস্বীকার করে এসেছে। ফলে বর্তমান আলোচনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটুকু স্থায়ী সমাধান আনবে তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি হামলার পাশাপাশি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যবর্তী এলাকায় ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীও জাহাজ লক্ষ্য করে আক্রমণ বাড়িয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জ্বালানি উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ‘আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি’ (এডনক) শুক্রবার জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় তাদের ১৫টি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত তাদের এক ক্রু সদস্য নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ওমান চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে সাময়িক স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দেবে।




বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের কমান্ডার ঘোষণা করল সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠিত নতুন বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটেরকমান্ডার হিসেবে সৌদি আরবের রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দিয়েছে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এই জোটে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশ আছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, কমান্ডার হিসেবে আল-শেহরি যৌথ নৌ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। একই সঙ্গে তিনি জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়, অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সঙ্গে সহযোগিতা এবং জোটের সনদ অনুযায়ী নির্ধারিত বিভিন্ন মিশনের নেতৃত্ব দেবেন।

এই নিয়োগ এমন এক সময় এলো, যখন লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এডেন উপসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। গত ৩০ জুলাই সৌদি আরবের উদ্যোগে ১৪টি দেশের অংশগ্রহণে এই সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপদ ও অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা।

বর্তমানে জোটে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, বাংলাদেশ, বাহরাইন, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক, ইয়েমেন, জিবুতি, সোমালিয়া, সুদান ও কোমোরোস।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও কয়েকটি দেশ জোটে যোগদানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। কেউ ইতোমধ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে, আবার কেউ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দিতে ঘোষণাপত্র ও জোটের সনদে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এটি একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জোট। জোটের উদ্দেশ্য ও নীতির সঙ্গে একমত যে কোনো দেশ এতে যোগ দিতে পারবে। নতুন সদস্যদের আবেদন গ্রহণও অব্যাহত রয়েছে। যেসব দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদের স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে, তাদের নাম পরে পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

আগামী ১২-১৩ আগস্ট জোটের একটি পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে জোটের সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করা এবং আরও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশের পশ্চিমমুখী রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ, বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রগামী পণ্য, লোহিত সাগর হয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথের নিরাপত্তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক আজ শুক্রবার একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। চুক্তিতে সইকারী তিন দেশই সুন্নি–প্রধান। তিন দেশই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপর চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে ইরান ও তার মিত্ররা সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। একই সঙ্গে তারা এসব দেশের জ্বালানি রপ্তানির পথও অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করছে।

চুক্তি সইয়ের পর তিন দেশ যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন প্রতিহত করতে সম্মিলিত প্রতিরোধের সক্ষমতা জোরদার করাই এই চুক্তির উদ্দেশ্য। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। এর আওতায় প্রতিটি দেশ কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা দায়িত্ব নিয়েছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এতে বলা হয়েছে, সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অঞ্চল ও এর বাইরে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

তুরস্কের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘চুক্তিতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার একটি ধারা রয়েছে। এটি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক। এতে শুধু আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহায়তার অঙ্গীকার করা হয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা জানান, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা পক্ষকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের এতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এটি বিদ্যমান কোনো দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় চুক্তি বাতিল বা প্রতিস্থাপন করে না।

চুক্তিতে সইকারী তিন দেশের আরেকটি সাধারণ অবস্থান হলো—তারা ইসরায়েল ও বিপ্লবী শিয়া রাষ্ট্র ইরানের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী সামরিক অবস্থান নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। এমন এক সময়ে এই চুক্তি করা হলো, যখন তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছে।




শেখ হাসিনার বক্তব্য ভারত সমর্থন করে না: রণধীর জয়সওয়াল

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি) সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেয়া নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত সরকার শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য সমর্থন করে না।

আজ শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বুধবারের শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্সে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নিয়ে যেসব বক্তব্য দেয়া হয়েছে সেগুলোর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাছাড়া প্রেস কনফারেন্সটি একটি বেসরকারি মাধ্যম বা সংস্থার উদ্যোগ ছিল বলেও জানান তিনি।

গত বুধবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরও দেন। ওই আয়োজন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তির কথা আগেই ভারতকে জানিয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনের পর ওইদিন রাতেই এর কঠোর প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। সেখানে তিনি ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন।

এ ঘটনা বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ওই আয়োজন শুরুর আগেই ওই বিষয়ে আমরা আমাদের মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম। সেই কথা আরো একবার বলছি। আয়োজনটি ছিল একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থার উদ্যোগ। এতে সরকারের কোনো ভূমিকাই ছিল না। ওই মঞ্চ থেকে যা কিছু বলা হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে যা কিছু বলা হয়েছে, ভারত সরকার তা সমর্থন করে না।

নয়াদিল্লির ওই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সজীব ওয়াজেদ বলেছিলেন, বাংলাদেশ দ্রুত আরেকটা পাকিস্তান হতে চলেছে। আজকের ব্রিফিংয়ে তার সেই বক্তব্য উল্লেখ করে এক সাংবাদিক জানতে চান, ওই অভিযোগ ভারত অনুমোদন করে কি না এবং বাংলাদেশের অবস্থা ভারতের কাছে কতটা উদ্বেগের।

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, প্রতিবেশী দেশের যেকোনো ঘটনা বা গতিবিধির ওপর সর্বদা তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয়। ভারত তার রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়। যেকোনো ঘটনা বা পরিস্থিতি অনুযায়ী উচিত পদক্ষেপ নেয়। সজীব ওয়াজেদর অভিযোগ অনুমোদন বা সমর্থন করা বা না করা নিয়ে জয়সোয়াল কোনো মন্তব্য করেননি।