ইরানের পক্ষে ইসরায়েলে দ্বিতীয় দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা। এক বিবৃতিতে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি।

শনিবার ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এই দ্বিতীয় দফা আক্রমণ চালালো হুথিরা। ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ‘আগ্রাসন ও হামলা’ বন্ধ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আগামী দিনগুলোতেও হুথিদের এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

হুথিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলের বেশ কিছু ‘গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা’ লক্ষ্য করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। লেবানন, ইরান ও ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।

এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, এই হুমকি মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করার পর ইয়েমেনের ভূখণ্ড থেকে হামলা হওয়ার বিষয়ে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি।

হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আমরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছি। ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে অন্য কেউ যোগ দেয়, তবে আমাদের আঙুল সবসময় বন্দুকের ট্রিগারে রয়েছে।’

এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হুথিদের এই সরাসরি অংশগ্রহণ যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।




হোয়াইট হাউসে ফোন দিতেই স্ক্রিনে ভেসে উঠলো ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের সুইচবোর্ডে ফোন করলে কিছু সাংবাদিকের মোবাইল স্ক্রিনে কলার আইডি হিসেবে ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামটি দেখা যায়।

বুধবার (২৫ মার্চ) এই ঘটনাটি ঘটার পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ওয়াশিংটন পোস্টের কয়েকজন সাংবাদিক প্রথম বিষয়টি সামনে আনেন। তাদের দাবি, বিশেষ করে গুগলের পিক্সেল সিরিজের অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে হোয়াইট হাউসে কল করার সময় ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামটি প্রদর্শিত হচ্ছিল। তবে আইফোন থেকে কল করলে এমনটি দেখা যায়নি; সেখানে কেবল ফোন নম্বরই দেখা গেছে।

ওই দিন হোয়াইট হাউসে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়োজনে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বনেতাদের স্ত্রীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘ফিগার ০৩’ নামের একটি মানবসদৃশ রোবট অতিথিদের ১১টি ভাষায় শুভেচ্ছা জানায়।

এই অনুষ্ঠানেই মেলানিয়া ট্রাম্পের পোশাকের ব্র্যান্ড সম্পর্কে জানতে ওয়াশিংটন পোস্টের ‘স্টাইল’ বিভাগ হোয়াইট হাউসের সুইচবোর্ডে যোগাযোগ করে। সেই সময়ই কয়েকজন সাংবাদিকের ফোনে অস্বাভাবিক এই কলার আইডি দেখা যায়।

এ বিষয়ে গুগলের মুখপাত্র ম্যাথিউ ফ্লেগাল জানান, গুগল ম্যাপে ভুয়া তথ্য সংযোজন বা ‘ফেক এডিট’-এর কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। তার মতে, গুগলের কলার আইডি সিস্টেম সাময়িকভাবে ভুল তথ্যটি গ্রহণ করায় ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামটি প্রদর্শিত হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, ত্রুটিটি ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। ভুয়া তথ্য সংযোজনকারী ব্যবহারকারীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বর্তমানে পিক্সেল ফোন থেকে হোয়াইট হাউসে কল করলে আর এমন কোনো নাম দেখা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেন, এই কলার আইডি বিভ্রাট সম্পূর্ণরূপে বাহ্যিক প্রযুক্তিগত সমস্যার ফল। এর সঙ্গে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ টেলিফোন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে পুরোনো বিতর্কের কারণে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নারী ও শিশু পাচারসহ গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এপস্টেইনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতীত সম্পর্ক নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

ক্যারিবীয় অঞ্চলের লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপে জেফরি এপস্টেইনের একটি ব্যক্তিগত এস্টেট ছিল, যা ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামে পরিচিত।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, গুগল ম্যাপে ভুয়া নাম, ভুল ফোন নম্বর বা বিভ্রান্তিকর ব্যবসায়িক তথ্য যুক্ত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন স্কুল, প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বর পরিবর্তন করা বা মিমভিত্তিক নাম যুক্ত করার মতো ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ এই ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলেছে—জনপ্রিয় ডিজিটাল ম্যাপ ও কলার আইডি প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য যাচাই ব্যবস্থা কতটা নির্ভরযোগ্য?




‘অর্থনৈতিক ধকল আর সইতে পারছেন না ট্রাম্প’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধের বহুমুখী চাপ আর দীর্ঘসময় সইতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে না। বিশেষ করে যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ‘অর্থনৈতিক যন্ত্রণা’ থেকে মুক্তি পেতে তিনি মরিয়া হয়ে একটি ‘এক্সিট র‍্যাম্প’ বা নিরাপদ প্রস্থানের পথ খুঁজছেন। দ্য হিল-এর হোয়াইট হাউস কলামিস্ট নিয়াল স্ট্যানেজ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। 

নিয়ল স্ট্যানেজের মতে, এই যুদ্ধ শুরু থেকেই মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জনপ্রিয় ছিল না। সময়ের সাথে সাথে এর নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, “বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মার্কিন নাগরিকদের গাড়ির জ্বালানি খরচ যেভাবে বেড়েছে, তাতে জনমনে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অর্থনৈতিক ধকল এবং এর রাজনৈতিক চড়া মূল্য দিতে খুব একটা ইচ্ছুক নন।”

ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট আসলে সময়ক্ষেপণ করছেন যাতে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তি আরও বাড়ানো যায়। স্ট্যানেজ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো স্রেফ ‘ধাপ্পাবাজি’  হতে পারে অথবা খুব শীঘ্রই নীতিমালায় ‘আকস্মিক কোনো পরিবর্তন’ আসতে পারে।

সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো সময়ের হিসাব। আগামী শুক্রবার ট্রাম্পের দেওয়া বর্ধিত সময়সীমা বা ‘ডেডলাইন’ শেষ হতে যাচ্ছে। ঠিক একই সময়ে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত মার্কিন মেরিন সেনাসদস্যদের পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে স্ট্যানেজ মন্তব্য করেন, “ডেডলাইন শেষ হওয়া এবং অতিরিক্ত সৈন্য পৌঁছানো—এই দুটি ঘটনার সময়কাল হুবহু মিলে যাওয়াটা বেশ রহস্যজনক এবং তা অনেকেরই ভ্রু কুঁচকে দিচ্ছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউস এখন দ্বিমুখী চাপে। একদিকে ভোটের রাজনীতি আর অর্থনীতির টানাপোড়েন, অন্যদিকে সামরিক কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখা—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব রাজনীতির মোড়।




পাকিস্তানের হামলায় কাবুলে ৪০০ নিহত, দাবি তালেবানের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। এই ঘটনায় আরও প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে তারা।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, কাবুলের একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা কেন্দ্রে (পুনর্বাসন হাসপাতাল) হামলা চালানো হয়। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেক মানুষ নিহত ও আহত হন।

তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামিদুল্লাহ ফিতরাত জানান, হামলায় হাসপাতালের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফাত জামান বলেছিলেন, এই হামলায় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ওই হাসপাতালে প্রায় তিন হাজার মাদকাসক্ত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ জানিয়েছে, কাবুলের নবম পুলিশ জেলায় অবস্থিত একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে কয়েক দফা গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে তীব্র সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে পাকিস্তান পুনর্বাসন কেন্দ্রে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বলেছে, কাবুলে কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।

পাকিস্তানের দাবি, ১৬ মার্চ রাতে তারা কাবুল ও নানগারহার এলাকায় নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা এবং সন্ত্রাসীদের সহায়তাকারী অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব স্থাপনা পাকিস্তানের বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে তাদের দাবি।

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, হামলার পর সেখানে মজুদ থাকা গোলাবারুদ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের হামলা ছিল অত্যন্ত নির্ভুল এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তালেবান মুখপাত্রের অভিযোগকে ইসলামাবাদ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলেও উল্লেখ করেছে।




নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি দিল ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিশানা করার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

রবিবার আইআরজিসির নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু সম্পর্কে বলা হয়, ‘আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাঁকে ধাওয়া ও হত্যা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’

দুই সপ্তাহ আগে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের ডাক দিয়ে দেশটির সঙ্গে এ যুদ্ধ শুরু করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন অর্থাৎ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় পুত্র আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নেতানিয়াহুকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমের বিরুদ্ধে ইসরায়েল কী ব্যবস্থা নিতে পারে? জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমি এই ‘‘সন্ত্রাসী’’ নেতাদের কারোরই জীবনবিমার নিশ্চয়তা দেব না।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান




ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডারের বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয়

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে নিয়ে জল্পনা কোনোভাবেই থামছে না। এবার সেই জল্পনার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১৫ মার্চ) সিএনএনের লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।  

শনিবার এনবিসি নিউজকে ৩০ মিনিট টেলিফোনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তখনই ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডারের অবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, মোজতবা আদৌ বেঁচে আছেন কি না, আমি জানি না। এখন পর্যন্ত কেউ তার উপস্থিতির প্রমাণ দিতে পারেনি।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তিনি শুনছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা বেঁচে নেই। ট্রাম্প বলেন, মোজতবা যদি বেঁচে থাকেন, তবে নিজের দেশের স্বার্থে তার একটি অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ করা উচিত। আর তা হলো আত্মসমর্পণ করা।

তবে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অবশ্য মোজতবা খামেনির মৃত্যুর খবরকে একটি ‘গুজব’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।

ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে তিনি নির্দিষ্ট কাউকে সমর্থন করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কারও নাম উল্লেখ করেননি। তিনি শুধু বলেন, আমাদের কাছে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা ওই দেশের ভবিষ্যতের জন্য দুর্দান্ত নেতা হতে পারেন।

টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘একটি চুক্তি করতে চায় ইরান। কিন্তু আমি এখনই তা করতে চাই না, কারণ চুক্তির শর্তগুলো এখনো যথেষ্ট ভালো নয়।’




সরাসরি ইরানের পাশে দাঁড়ালো চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে চীন সরাসরি ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিক্ষার্থীদের মৃত্যুতে চীনের সরকার ২ লাখ ডলারের জরুরি মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন (১৩ মার্চ, শুক্রবার) জানিয়েছেন, সহায়তা দেওয়া হবে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে এবং এটি নিহতদের পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতীক।

চীনের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, স্কুলে হামলা এবং নিরপরাধ শিশুদের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। চীন সব সময় মানবিক চেতনায় বিশ্বাসী এবং এই কঠিন সময়ে ইরানের জনগণের পাশে থেকে সংকট কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। সব দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা সম্মান করতে হবে, এবং সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করে সংলাপে ফিরতে হবে যাতে সংঘাত ছড়িয়ে না পড়ে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬৫ শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।




যুক্তরাষ্ট্র কেন খারগ দ্বীপে হামলা চালালো, ইরানের কাছে দ্বীপটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের খারগ দ্বীপের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, সেখানকার তেল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি করা হয়নি। 

বিবিসির মাইকি কে’র ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই দ্বীপটি থেকেই ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয় এবং এটিকে তেহরানের অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়।

এর আগে দুজন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি মেরিন ইউনিট এবং আরও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। 

খারগ দ্বীপ ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত প্রায় ৫ মাইল লম্বা একটি ছোট দ্বীপ। এই দ্বীপকে ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

দ্বীপটিতে অল্প কিছু মানুষ বাস করে। বরং ইরানের রপ্তানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে যায়।

বড় বড় তেলবাহী ট্যাংকার প্রথমে এই দ্বীপ থেকে তেল নিয়ে তারপর সেখান থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায়। এর অন্যতম হলো চীন। দেশটি ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

ইরানের এই দ্বীপে প্রবেশ বা ব্যবহার বন্ধ হলে দেশটির অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে সিএনএনকে যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তা জানান, খারগ দ্বীপে হামলার ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজার ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে যেতে পারে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মার্ক কিমিট বলেন, সেখানে মার্কিন হামলার অর্থ হলো আমরা এই যুদ্ধে ঝুঁকির মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছি। বিষয়টি এখন আর শুধু ‘সামরিক বাহিনী বা সরকারকে হটিয়ে দেওয়ার’ মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।  বরং আমরা এখন ইরানের অর্থনৈতিক প্রাণভোমরাকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করছি।




ইসরায়েলি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালালো হিজবুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধা গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা গ্যালিলি সাগরের পশ্চিমে অবস্থিত একটি ইসরায়েলি একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

লেবানিজ এই গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ‘স্যামসন বেস’ (যা ক্যাম্প শিমশোন নামেও পরিচিত) নামক একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এ ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গণহত্যাকারী ইসরায়েল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করলে ২ মার্চ এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে লেবানন।

যদিও এর আগ থেকেই দেশটিতে হামলা চালিয়ে আসছিল ইসরায়েলি সেনারা। তখন কড়া প্রতিক্রিয়া না জানালেও ইরানের সমর্থনে পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করে হিজবুল্লাহ। সূত্র: আলজাজিরা




ইসরায়েলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দখলদার ইসরায়েলের তেল ও গ্যাস স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর হেডকোয়ার্টারের এক মুখপাত্র বলেছেন, নতুন হামলায় ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোকে টার্গেট করা হয়েছে।

তারা বলেছে, ইসরায়েলের হাইফা শহরে থাকা তেল ও গ্যাস শোধনাগার এবং মজুদ ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। এছাড়া বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিবের কাছের একটি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সেন্টারও ধ্বংস করা হয়েছে।

ইরানের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ এর ৩৩তম দফায় এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। তারা বলেছে, ইরানের তেল ডিপোতে হামলার জবাব হিসেবে এ পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।