পূর্ব তেহরানে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৪০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পূর্ব তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব তেহরানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ৪০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকেই।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের প্রতিবেদকেরা তেহরানে সোমবার রাতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তবে বিস্ফোরণের লক্ষ্যবস্তু এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সোমবার (দিনভর) তেহরানের পরিস্থিতি ছিল বেশ অস্থির। প্রতি এক বা দুই ঘণ্টা পরপর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানসহ আরও কয়েকটি বড় শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ইসফাহানে অত্যন্ত তীব্র বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটায় সেখানে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া একটি গভর্নরের কার্যালয়ও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে ইউনেসকো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত একটি প্রাচীন প্রাসাদও বোমা হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা




যুদ্ধের জেরে তীব্র পানিসংকটের ঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তৎক্ষণাৎ পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে তেহরান। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য।

এই যুদ্ধের মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পানিসংকটের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কেননা, মরুপ্রধান এই অঞ্চলের টিকে থাকার প্রধান অবলম্বন ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট (পানির লবণাক্ততাদূরীকরণ কেন্দ্রগুলো) এখন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

গত রবিবার বাহরাইনের একটি পানি শোধনগার ইরানি ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মাত্র একদিন আগে ইরান জানিয়েছিল, তাদের কেশম দ্বীপের একটি পানি শোধনগারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট কী?

ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট মূলত সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে লবণ ও দূষণ অপসারণ করে পানযোগ্য পানি তৈরি করে।

এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত দুটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়— তাপ প্রয়োগ করে পানি বাষ্পে পরিণত করে পরে তরলে রূপান্তর এবং মেমব্রেন প্রযুক্তি, বিশেষ করে ‘রিভার্স অসমোসিস’, যা লবণ ও অন্যান্য উপাদান আলাদা করে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশ এই রিভার্স অসমোসিস প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

মধ্যপ্রাচ্যে এর গুরুত্ব

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত শুষ্ক। বৃষ্টিপাত কম এবং মিঠা পানির উৎস সীমিত। ফলে এই অঞ্চলের দেশগুলো পানির বড় অংশই পায় সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধ করে।

আরব সেন্টার ওয়াশিংটন ডিসির তথ্যমতে, বিশ্বে মোট ডিস্যালাইনেশন সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি সদস্য দেশগুলো। বিশ্বের মোট পরিশুদ্ধ সমুদ্রের পানির প্রায় ৪০ শতাংশ এখানেই উৎপাদিত হয়।

দেশভেদে পানির নির্ভরতার হারও অনেক বেশি। যেমন- কুয়েতে সুপেয় পানির প্রায় ৯০ শতাংশ, ওমানে ৮৬ শতাংশ, সৌদি আরবে প্রায় ৭০ শতাংশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪২ শতাংশ পানি ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্টের ওপর নির্ভরশীল। এসব দেশে চার শতাশিক ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট রয়েছে।

হামলার সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব স্থাপনায় হামলা হলে শুধু পানি সরবরাহই নয়, পুরো অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

অতীতে ১৯৯০–৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাক কুয়েতের বেশিরভাগ ডিস্যালাইনেশন স্থাপনা ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে দেশটির পানি সরবরাহে বড় সংকট তৈরি হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে- শহরগুলোর পানির সরবরাহ দ্রুত কমে যেতে পারে, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে চাপ তৈরি হতে পারে, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সবচেয়ে ঝুঁকিতে কোন দেশ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট উপসাগরীয় দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে- যেমন: বাহরাইন, কুয়েত ও কাতার। কারণ এসব দেশের বিকল্প পানি উৎস খুবই সীমিত এবং কৌশলগত পানির মজুতও তুলনামূলক কম।

তবে বড় দেশগুলো কিছুটা প্রস্তুতি রেখেছে। উদাহরণ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৪৫ দিনের পানির মজুত ধরে রাখার পরিকল্পনা করেছে।

সমাধানের পথ

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোকে পানি নিরাপত্তাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- যৌথ আঞ্চলিক পানির মজুত গড়ে তোলা, সমন্বিত ডিস্যালাইনেশন নেটওয়ার্ক তৈরি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিচালিত ছোট প্ল্যান্ট বাড়ানো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘ হলে এবং জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোর মতো পানির স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে মানবিক এই সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা




ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী সামরিক অভিযান দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ালে এর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে খোদ আমেরিকা। গত সপ্তাহান্ত জুড়ে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং শিকাগোসহ অন্তত ৫০টি প্রধান শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এই যুদ্ধের অবসান দাবি করেছেন।  

বিক্ষোভকারীরা ‘ইরান থেকে হাত সরাও’ এবং ‘মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধ নয়’ সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধবাজ নীতির তীব্র নিন্দা জানান। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত ইউনিয়ন স্কয়ারে সমবেত কয়েকশ বিক্ষোভকারী স্লোগান দেন যে, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বড় হুমকি হলো ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসন। তারা দাবি করেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা যুদ্ধের পেছনে ব্যয় না করে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হোক।

নিউইয়র্কে বিক্ষোভ অংশ নেওয়া মায়া নামের এক আন্দোলনকারী সিনহুয়াকে বলেন, এটি একটি অন্যায় যুদ্ধ এবং মূলত অন্য একটি দেশের ভূখণ্ড দখল ও সম্পদ লুটপাটের উদ্দেশ্যে এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের চক্রান্ত করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, যখন আমেরিকার সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন এই যুদ্ধের পেছনে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জনস্বাস্থ্য, শিশু যত্ন এবং গণপরিবহনের উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। অন্য এক বিক্ষোভকারী ম্যাগি মোরালেস বলেন, এই যুদ্ধ কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করছে, যা পুরো দেশকে আরও বেশি বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে অন্য দেশে হামলা চালানো অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গত সপ্তাহে ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ শুরু করে, যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস থেকে আসা আন্দ্রে ইস্টন তার বক্তৃতায় বলেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা এই রক্তপাত বন্ধে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় পক্ষই কংগ্রেসে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, কেবল বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই এই যুদ্ধ মেশিনকে থামাতে পারে। বক্তারা হোয়াইট হাউসের এই সামরিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং মধ্যপ্রাচ্যকে এক অরাজক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল বলে অভিহিত করেছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে লস অ্যাঞ্জেলেসেও, যেখানে সিটি হলের সামনে কয়েকশ মানুষ ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে সমবেত হন। সেখানে বিক্ষোভকারীরা ‘ইরানে বোমাবর্ষণ একটি অপরাধ’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে লস অ্যাঞ্জেলেসের এক বিক্ষোভকারী বলেন, এই যুদ্ধ মূলত ‘এপস্টাইন ফাইল’ থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই শুরু করা হয়েছে এবং এতে অকারণে অগণিত বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। তিনি বিশ্ববাসীকে এই অন্তহীন যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। আমেরিকার উপকূল থেকে উপকূলে ছড়িয়ে পড়া এই গণবিক্ষোভ প্রমাণ করে যে, সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা তাদের সরকারের যুদ্ধংদেহী অবস্থানকে মেনে নিতে পারছেন না এবং অবিলম্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছেন।

সূত্র: জিনহুয়া




‘এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দেওয়া হবে না’, জাতির উদ্দেশে ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ভাষণে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইরান তার ভূখণ্ডের এক ইঞ্চিও শত্রুর দখলে যেতে দেবে না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, দেশের মাটি ও পানি রক্ষার দায়িত্ব সবার। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের মাধ্যমে যে কোনো আগ্রাসন প্রতিহত করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ইরান প্রতিবেশী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে শত্রুপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে অঞ্চলটিতে বিভাজন ও উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের দাবি, কিছু হামলা অন্য দেশের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হচ্ছে, যার জবাব দিতে ইরান বাধ্য হচ্ছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সেই দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের সরাসরি কোনো বিরোধ রয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে তেহরান এবং উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

ভাষণের শেষ অংশে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনতার শক্তিই ইরানকে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সহায়তা করবে।

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা




ভালো জীবনের খোঁজে দেশ ছেড়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা

 আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের দেশ ছাড়ার খবরটি এখন কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার দেশান্তর নয়, বরং দেশটির এক গভীর সংকটের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি সিডনিতে সপরিবারে ঘর খুঁজতে দেখা গেছে আরডার্নকে, যার মধ্য দিয়ে তিনি নিউজিল্যান্ডের বর্তমান ‘গণপ্রস্থান’ বা অভিবাসন জোয়ারের সবচেয়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।

তবে কেবল আরডার্ন নন, তার মতো হাজার হাজার মধ্যবয়সী নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এখন ভালো জীবনের আশায় পাড়ি জমাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত চার বছরে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী কিউইদের দেশ ছাড়ার হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। যেখানে আগে কেবল তরুণরা অভিজ্ঞতার জন্য বিদেশ যেত, সেখানে এখন প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার ও পরিবার নিয়ে মাঝবয়সীরা দেশ ছাড়ছেন।

গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার মানুষ নিউজিল্যান্ড ত্যাগ করেছেন, যা ২০১২ সালের পর সর্বোচ্চ। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবণতা অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং উদ্বেগজনক। সাধারণত অত্যন্ত কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি না হলে এই বয়সের মানুষ তাদের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করে দেশান্তরী হন না।

এই প্রস্থান বা এক্সোডাসের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নিউজিল্যান্ডের আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্থবির অর্থনীতি। ওয়েলিংটন থেকে মেলবোর্নে পাড়ি জমানো জেসিন্ডা থর্ন জানান, অস্ট্রেলিয়ায় তার স্বামীর বেতন এক লাফেই ৫০ শতাংশ বেড়েছে, অথচ সেখানে নিত্যপণ্যের দাম এবং চিকিৎসা খরচ নিউজিল্যান্ডের তুলনায় অনেক কম। মেলবোর্নে তাদের সাপ্তাহিক বাজার খরচ ৪০০ ডলার থেকে কমে ২৬৭ ডলারে নেমে এসেছে, আর জ্বালানি ও যাতায়াত খরচ কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। নিউজিল্যান্ডে যেখানে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে অস্ট্রেলিয়ায় একদিনে সেবা মিলছে অনেক কম খরচে।

নিউজিল্যান্ডের বর্তমান অর্থনৈতিক চিত্র বেশ ধূসর। গত দুই বছর ধরে দেশটির প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক এবং বেকারত্বের হার গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আবাসন খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে; অকল্যান্ড ও ওয়েলিংটনের মতো শহরগুলোতে ঘরের দাম ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। সরকারি চাকরিতে দফায় দফায় ছাঁটাইয়ের কারণে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে স্থায়িত্ব ও উন্নত ভবিষ্যতের খোঁজে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ বেছে নিচ্ছেন প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়াকে।

যদিও নিউজিল্যান্ডে এখনো ভারত, ফিলিপাইন ও চীন থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী আসছেন, তবে অর্থনীতিবিদ ব্র্যাড ওলসেনের মতে, এটি কোনো সুষম বিনিময় নয়। অভিজ্ঞ ও দক্ষ পেশাজীবীরা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় নিউজিল্যান্ডের উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হচ্ছে। কয়েক দশকের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও মেধা হারিয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে দেশটির অর্থনৈতিক ইঞ্জিন সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। যারা দেশ ছাড়ছেন, তারা নিজেদের আজও ‘গর্বিত কিউই’ হিসেবে পরিচয় দেন ঠিকই, তবে স্বদেশের মাটিতে টিকে থাকার মতো ন্যূনতম নিশ্চয়তা না পেয়ে তারা এখন বিদেশের মাটিতেই নতুন করে শিকড় গজানোর চেষ্টা করছেন।

সূত্র: সিএনএন




রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্যের বিমানবাহী রণতরী

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাজ্যের দুটি বিমানবাহী রণতরীর মধ্যে একটি, এইচএমএস প্রিন্স অফ ওয়েলসকে পোর্টসমাউথ থেকে যাত্রা শুরু করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানতে পেরেছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি বলছে, প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে যে, জাহাজের ক্রুদের পাঁচ দিনের মধ্যে রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সাধারণত ১৪ দিন সময় রেখে জাহাজটির “যাত্রা শুরুর নোটিশ” দেওয়া হয়।

এর ফলে এটি ভাবা হচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে হুমকির মুখে পড়া ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষায় ভূমধ্যসাগরে এই জাহাজটি মোতায়েন করা হতে পারে।

এদিকে, শত্রুর ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সাইপ্রাসকে রক্ষা করতে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে।

ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে টাইপ ৪৫ ডেস্ট্রয়ার, এইচএমএস ড্রাগন, মোতায়েন করা হয়েছে।

এই বছরের শেষের দিকে উত্তর আটলান্টিক এবং আর্কটিক মহাসাগরে মোতায়েনের পরিকল্পনা ছিল বিমানবাহী রণতরী এইচএমএস প্রিন্স অফ ওয়েলস। সেই লক্ষ্যে পোর্টসমাউথে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাখা হয়েছিল এটি।

উত্তর মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলে রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে মার্কিন, কানাডিয়ান এবং ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে অপারেশন ফায়ারক্রেস্টে এই রণতরীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

একজন প্রতিরক্ষা সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে যে, প্রিন্স অফ ওয়েলসের “সফরের জন্য পাঁচ দিনের নোটিশে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে”।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “আমরা জানুয়ারি মাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছি। ইতোমধ্যেই ব্রিটিশ জনগণ এবং এই অঞ্চলে আমাদের মিত্রদের সুরক্ষার জন্য টাইফুন, এফ-৩৫ জেট, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সাইপ্রাসে অতিরিক্ত ৪০০ জন কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে”।

“আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে, ব্রিটিশ বিমানগুলোকে ড্রোন ধ্বংস করতে দেখেছি এবং আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য এই অঞ্চলে অতিরিক্ত সরঞ্জাম পাঠিয়েছি”।

সূত্র: বিবিসি




৪ ঘণ্টায় ২৮ বার ভূমিকম্পে কেঁপেছে গোটা যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একের পর এক ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৮টি মৃদু মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।

ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১.৫ বা তার বেশি মাত্রার মোট ১০৮টি ভূমিকম্প হয়েছে। গত সাত দিনে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩১টিতে, আর গত ৩০ দিনে প্রায় ৩ হাজার ৭০৭টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলোর বেশিরভাগই তুলনামূলকভাবে কম মাত্রার ছিল। সর্বশেষ রেকর্ড অনুযায়ী, নেভাদার লাভলকে ১.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার গভীরতা ছিল প্রায় ৪ কিলোমিটার। এর আগে টেক্সাসের ভ্যান হর্নে ১.৯ এবং ক্যালিফোর্নিয়া, সোলেদাদে ২.০ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

এ ছাড়া হাওয়াইয়ের আগ্নেয়গিরি এলাকায়, আলাস্কার সোলডোটনা ও হ্যাপি ভ্যালি, নিউ মেক্সিকোর লাভিং এবং টেক্সাসের কয়েকটি অঞ্চলেও স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি হয়েছে লুইজিয়ানার কুশাট্টায়, যার মাত্রা ছিল ৪.৯। আর চলতি মাসে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়েছে আলাস্কার উনালাস্কায়, যার মাত্রা ছিল ৬.১।

অন্যদিকে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি হয়েছে আলাস্কার স্যান্ড পয়েন্ট এলাকায়, যার মাত্রা ছিল ৭.৩। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট মাত্রার ভূমিকম্প প্রায়ই ঘটে থাকে। বিশেষ করে আলাস্কা, ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াই ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ভূমিকম্প বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয় না।




‘ইরানি হামলার’ বিষয়ে জরুরি বৈঠকে বসছে আরব লীগ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানকে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) থেকে যৌথ হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। পাশাপাশি ইরান কয়েকটি আরব দেশে যেখানে মার্কিন ঘাঁটিসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আছে সেখানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, আরব দেশ গুলোতে ইরানের হামলার প্রেক্ষিতে এক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন সংস্থাটির সহকারী মহাসচিব হোসাম জাকি। এই বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, জর্ডান এবং মিশর।

ফরাসি গণমাধ্যম এএফপিকে তিনি জানান, বেশ কয়েকটি আরব দেশে ‘ইরানি হামলার’ বিষয়ে আলোচনা করতে আগামী রবিবার সংস্থাটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি জরুরি বৈঠকে বসবেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে প্রতিবেশীদের ওপর হামলা বন্ধে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত। এসময় এই হামলাকে ইরানের কৌশলগত ভুল বলেও বর্ণনা করেন তিনি।

উল্লেখ্য-২২ সদস্যের আরব লীগ আঞ্চলিক সহযোগিতা উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। তবে সংস্থাটিকে ব্যাপকভাবে অকার্যকর হিসেবে দেখা হয় এবং বিভিন্ন সংঘাত সমাধানে দীর্ঘদিন ধরেই এটি হিমশিম খাচ্ছে।

সূত্র : আল-জাজিরা।




বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল দুবাই-মানামা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।

শনিবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির সংবাদদাতারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুবাইয়ে দু’টি এবং মানামায় একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মানামায় বিস্ফোরণের সময় সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বেজে ওঠে।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, দেশের নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। সূত্র: আরব নিউজ, ডন নিউজ




ঈদের দিনের আবহাওয়া নিয়ে দুঃসংবাদ

আবহাওয়া ডেস্কঃ ঈদুল ফিতরের দিন দেশে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে শিলাবৃষ্টি ও তীব্র বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ এই দুঃসংবাদ জানান।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ঈদের দিন ও ঈদের পূর্বের দিন পুরো বাংলাদেশের উপর দিয়ে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও তীব্র বজ্রপাত অতিক্রম করার প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে। বিশেষ করে আগামী ১৬, ১৭ ও ১৮ মার্চ এই ৩ দিন বাংলাদেশের উপরে দিয়ে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড় অতিক্রম করার প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে।’