শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঢাকার সকাল

আবহাওয়া ডেস্কঃ সারাদেশের মতো রাজধানী ঢাকায়ও শীতের আমেজ বাড়ছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।  

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিনের প্রথমার্ধে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক। অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক থাকবে।

এই সময় উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ছিল ৬২ শতাংশ। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ১১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬টা ২৭ মিনিটে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি।

অন্যদিকে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এছাড়া ভোরের দিকে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে।




শৈত্যপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নতুন বার্তা

আবহাওয়া ডেস্কঃ ডিসেম্বর মানেই কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, মোলায়েম রোদ আর রাতের তীব্র শীত। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা কম থাকলেও চলতি মাসে তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

সোমবার (১ ডিসেম্বর) এক মাস মেয়াদি আবহাওয়া পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়, ডিসেম্বরে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। এ সময় দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ১-২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এরমধ্যে ১টি নিম্নচাপ/ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

তাপমাত্রার বিষয়ে জানানো হয়, চলতি মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে। আর মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে ১-২টি মৃদু (৮-১০° সে.) থেকে মাঝারি (৬-৮° সে.) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

এছাড়া দেশের নদী অববাহিকায় মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিসেম্বরে দেশের প্রধান নদ-নদীসমূহের স্বাভাবিক প্রবাহ থাকবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়।




তাপমাত্রা নিয়ে নতুন বার্তা দিলো আবহাওয়া অফিস

আবহাওয়া ডেস্কঃ আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (১ ডিসেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানান।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। ভোরের দিকে দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চলে হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় একই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকবে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে এবং সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও সারাদেশে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করবে। ভোরের দিকে উত্তরপূর্বাঞ্চলে হালকা কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আগামী শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও একই অবস্থা বজায় থাকার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভোরের দিকে উত্তরপূর্বাঞ্চলে হালকা কুয়াশা পড়তে পারে এবং সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।




ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ : চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রায় ২ নম্বর সংকেত

আবহাওয়া প্রতিবেদকঃ দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও শ্রীলঙ্কা উপকূলে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশে দেশের চার সমুদ্রবন্দর অর্থাৎ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রায় ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর শুক্রবার প্রকাশিত বিশেষ আবহাওয়ার বিজ্ঞপ্তিতে (ক্রমিক নম্বর-০৬) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ বর্তমানে শ্রীলঙ্কা উপকূল ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।

আজ দুপুর ১২ টায় ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ছিল—চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৯৪০ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৮৮৫ কিমি, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৮২০ কিমি এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৮২০ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিমি রেডিয়াসের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৬২ কিমি, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার মালিকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি, উপকূলবর্তী এলাকায় মানুষকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।




বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

আবহাওয়া ডেস্কঃ ‘দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি, আর এর মধ্যেই সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।’— বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে পড়বে এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ গুরুতর বন্যার ঝুঁকিতে থাকবে। উপকূলে পানি ও মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আদার সাউথ এশিয়ান কান্ট্রিজ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স উইল বি প্রাইভেট সেক্টর লেড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মূল চাপ এখন পরিবারের ওপর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর গিয়ে পড়েছে। জরিপে দেখা গেছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে কোনো না কোনো ধরনের আবহাওয়াজনিত ধাক্কার আশঙ্কা করছে দক্ষিণ এশিয়ার তিন-চতুর্থাংশ পরিবার ও প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে ৮০ শতাংশ পরিবার ও ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জলবায়ু অভিযোজনমূলক পদক্ষেপ নিলেও এগুলোর বড় অংশই সাধারণ ও কম খরচের সমাধান।

বাংলাদেশের উপকূলের ২৫০টি গ্রাম নিয়ে করা এক জরিপ বলছে, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এখানকার সবচেয়ে বড় অপূর্ণ চাহিদা। দীর্ঘমেয়াদে ৫৭ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, দুর্যোগ–সুরক্ষা অবকাঠামোর ঘাটতি তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আর ৫৬ শতাংশ পরিবার বলেছে, অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতাই তাদের নেই। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই সংকট শুধু পরিবেশগত নয়, মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত; বিশেষ করে দরিদ্র ও কৃষিভিত্তিক পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

বিশ্বব্যাংক জানায়, বাঁধ, সাইক্লোন শেল্টারসহ সরকারি বিনিয়োগ মানুষের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা দেখায়—সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও হালনাগাদ তথ্যের সমন্বয়ে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব। তবে রাজস্ব সংকটের কারণে সরকারের সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় বেসরকারি খাতের অভিযোজনকে সহজ করতে নীতিগত প্যাকেজ জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা প্রতিনিয়ত নতুন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জে পরীক্ষার মুখে পড়ছে। অভিযোজন ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে ঘটছে, কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকি দ্রুত বাড়ায় আরও অনেক কিছু করার প্রয়োজন আছে।’ তিনি আরও বলেন, দেশের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ু–স্মার্ট কৃষি, অভিযোজন অর্থায়ন ও নগর এলাকার লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বহুস্তরীয় ও সমন্বিত পদক্ষেপ এখন জরুরি। আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা, আনুষ্ঠানিক ঋণ ও বীমা ছড়িয়ে দেওয়া বিশেষ প্রয়োজন। বেসরকারি খাত প্রয়োজনীয় স্থানে বিনিয়োগ স্থানান্তর করতে পারলে জলবায়ু–সম্পর্কিত ক্ষতির এক-তৃতীয়াংশ এড়ানো সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়। সীমিত বাজেটেও পরিবহন ও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক উন্নত করা এবং লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা জোরদারের মাধ্যমে সরকার এ প্রক্রিয়া সহজ করতে পারে।

এ ছাড়া নতুন প্রযুক্তি–নির্ভর অভিযোজন এবং সড়ক বা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মতো মূল সরকারি পণ্য সরবরাহের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনের সহ–লেখক সিদ্ধার্থ শর্মা বলেন, ‘জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা যেমন শিক্ষণীয়, তেমনি একটি বড় পরীক্ষা। মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে অভিযোজন করছে, কিন্তু সংকটের জটিলতা ও ব্যাপকতা মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি খাতের জরুরি, সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

বিশ্বব্যাংক বলছে, সামনে বাংলাদেশ স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলার বড় সুযোগ পাচ্ছে। আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও সাইক্লোন শেল্টারে বিনিয়োগ বড় দুর্যোগেও প্রাণহানি কমাতে সফল হয়েছে—যা প্রমাণ করে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান স্থানীয় অভিযোজনকে বড় পরিসরে রূপ দিতে পারে। সরকার, বেসরকারি খাত ও কমিউনিটির সমন্বিত অংশীদারিত্ব জোরদার করতে পারলে জলবায়ু–স্মার্ট সমাধান দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে শুধু দুর্বলতা কমবে না, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নও নিশ্চিত হবে।




আন্দামান সাগরে লঘুচাপ, বাংলাদেশের ওপর প্রভাবের সম্ভাবনা কম

আবহাওয়া ডেস্কঃ দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হতে পারে। তবে লঘুচাপটির শেষ গন্তব্য নির্ধারণ এখনই বলা যাচ্ছে না।  

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে বাংলাদেশের ওপর প্রভাবের সম্ভাবনা কম। সম্ভাব্য গতিপথ ভারতের তামিলনাড়ুর দিকে হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হতে পারে, তবে কোথায় আঘাত হানবে তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। কয়েকদিন পর এর গতিপথ স্পষ্ট হবে।

আজ রোববার সকাল থেকে ঢাকা ও আশপাশের আবহাওয়া রৌদ্রোজ্জ্বল থাকবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ৮৮ শতাংশ। সূর্যাস্ত হবে বিকেল ৫:১১ টায়, আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬:১৯ টায়।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের তেমন প্রভাব না পড়লেও কিছু জেলায় তাপমাত্রা কমছে। গতকাল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস; আজ তা কমে ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।




সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা

আবহাওয়া প্রতিবেদকঃ বঙ্গোপসাগরে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকার একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এটি ঘনীভূত হতে পারে। এ সময় আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।




শতাব্দীর শেষে বিলুপ্ত হতে পারে শীত, উপকূলের ১৮% ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে বিশ্ব ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের জলবায়ু আগামী কয়েক দশকে বড় ধরনের পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যেতে পারে—সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণার এমন সতর্ক বার্তা মিলেছে। বিশেষজ্ঞদের হিসেবে, ২০৪১ থেকে ২০৭০ সালের মধ্যে দেশের গড় তাপমাত্রা অন্তত ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে, আর শতাব্দীর শেষে এই বৃদ্ধি আরও বেশি হয়ে দাঁড়াতে পারে দেড় থেকে সাড়ে ৪ ডিগ্রি।

ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং নরওয়েজিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জলবায়ুর রিপোর্ট ২০২৫’ প্রকাশ করে। পাঁচ ধরনের সম্ভাব্য জলবায়ু পরিস্থিতি ধরে বিশ্লেষণ করা এই প্রতিবেদনে ভবিষ্যতের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও সমুদ্রপৃষ্ঠ নিয়ে বিস্তারিত পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বর্ষার আগে মার্চ থেকে মে সময়টিতে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে। দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ২০৭০ সালের মধ্যে বর্ষার আগের সময় ২০ দিন পর্যন্ত তাপপ্রবাহ থাকার সম্ভাবনা উল্লিখিত হয়েছে, যা বর্তমান সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বর্ষাতেও তাপপ্রবাহ বাড়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

রাজধানী ঢাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরে অন্তত দুইটি প্রবল তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হতে হতে পারে নগরবাসীকে। একটি বর্ষার আগে, আরেকটি বর্ষার পরে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে দিনের তাপমাত্রা সাড়ে ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি অনুভূত হতে পারে।

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতও সরে যাবে দক্ষিণাঞ্চল থেকে। শতাব্দীর শেষদিকে শীত মৌসুম প্রায় নামমাত্র থাকতে পারে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ মাত্র এক-দু’দিন অনুভূত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

বাংলাদেশে বর্ষাতেই মোট বৃষ্টির বড় অংশ হয়। নতুন পূর্বাভাস বলছে, ভবিষ্যতে বর্ষার বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে। ২০৭০ সালের মধ্যে বর্ষার বৃষ্টি গড়ে ১১৮ মিমি বাড়তে পারে, আর শতাব্দীর শেষে এই বৃদ্ধি ২৫৫ মিমি পর্যন্ত যেতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অতিবৃষ্টি বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়াবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বাংলাদেশের উপকূলে বৃদ্ধির হার বেশি হতে পারে—প্রতি বছর ৫.৮ মিমি পর্যন্ত। এতে শতাব্দীর শেষে উপকূলের প্রায় ১৮% এলাকা স্থায়ীভাবে পানির নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে সুন্দরবনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা পানিতে ডুবে থাকতে পারে। এ কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে ১০ লাখ মানুষ স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা উত্থাপন করা হয়েছে।

জলবায়ুর বদলে সবচেয়ে বড় আঘাত আসতে পারে কৃষিক্ষেত্রে। তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা বেড়ে ফসল উৎপাদন কমতে পারে। গবাদিপশুর রোগ বাড়তে পারে এবং মিঠাপানির উৎস সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। জনস্বাস্থ্যে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ বাড়তে পারে। অতিরিক্ত গরমে বাইরে কাজ করা কঠিন হওয়ায় শ্রমজীবী মানুষের ওপরও চাপ বাড়বে।

প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে বজলুর রশিদ বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন একদিনে থেমে যাবে না, তাই অভিযোজন পরিকল্পনা হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি। উপকূল সুরক্ষা, বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, আগাম সতর্কবার্তা আধুনিকায়ন এসব ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর পরিবেশের সংকট নয়, বরং কৃষি থেকে জ্বালানি সব খাতেই এর প্রভাব পড়ছে। তাই সমন্বিতভাবে কাজ করাই একমাত্র পথ।

২০১১ সাল থেকে আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং নরওয়ের আবহাওয়া সংস্থা যৌথভাবে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করছে। নতুন প্রতিবেদনটি তাদের তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ।




বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকায় বায়ুমান মাঝারি পর্যায়ে

আবহাওয়া ডেস্কঃ বিশ্বজুড়ে নানা কারণে ক্রমেই বাড়ছে বায়ুদূষণ। দীর্ঘদিন ধরেই মেগাসিটি ঢাকাও দূষিত বায়ুর কবলে। কয়েক দিন আগে রাজধানীর বায়ুমান কিছুটা উন্নতির দিকে থাকলেও সম্প্রতি আবারও বেড়েছে দূষণের মাত্রা।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার আন্তর্জাতিক বায়ুমান নজরদারি সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, একিউআই-এর ৬১ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১০তম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। এ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘মাঝারি’ হিসেবে বিবেচিত।

অন্যদিকে, একই সময়ে ভারতের রাজধানী দিল্লি ভয়াবহ দূষণে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। শহরটির একিউআই স্কোর দাঁড়িয়েছে ৪০২- যা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ মাত্রার অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় স্থানে মঙ্গোলিয়ার উলানবাটোর, আর তৃতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানের লাহোরের স্কোর ১৮৯। চতুর্থ অবস্থানে থাকা করাচির স্কোর ১৪৯।

একিউআই নির্দেশিকা অনুসারে, ০-৫০ স্কোর ‘ভালো’, ৫১-১০০ ‘মাঝারি’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ১০১-১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ১৫১-২০০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ মাত্রা নির্দেশ করে।

২০১-৩০০ স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়- এ সময়ে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। ৩০১-৪০০ স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়, যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে।




রাজধানীতে বাড়তে পারে গরমের অনুভূতি, আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক

আবহাওয়া ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকায় আজ দিনের তাপমাত্রা গতকালের তুলনায় সামান্য বাড়তে পারে। ফলে গত কয়েক দিনের তুলনায় গরমের অনুভূতি কিছুটা বেশি লাগতে পারে। দিনের প্রথমার্ধে আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও আশপাশের এলাকার আবহাওয়ার যে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র, তাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দুপুর পর্যন্ত আকাশ থাকবে পরিষ্কার। উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হবে। আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

সকাল ৬টায় ঢাকার বাতাসের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮২ শতাংশ। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ১১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬টা ১৭ মিনিটে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়নি বলেও জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে, গতকাল প্রকাশিত সারা দেশের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।