২০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৮

আবহাওয়া ডেস্কঃ শৈত্যপ্রবাহের বিস্তৃতি কিছুটা কমেছে। শুক্রবার দেশের ২০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। এ দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, এভাবে শৈত্যপ্রবাহ চলতে পারে আরও অন্তত দুদিন। অধিদপ্তরের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসের অন্তত মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকবে। এ সময় এর বিস্তৃতি কমবেশি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় গতকাল শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। এর পাশাপাশি চার জেলা– নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ায়ও বয়ে গেছে শৈত্যপ্রবাহ।

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে জেলার সংখ্যা ১৬। তাই সব মিলিয়ে গতকাল ২০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। ওই দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবার নওগাঁর বদলগাছীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ছিল এই শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে মাঝারি এবং ৮ থেকে ১০-এর মধ্যে থাকলে ওই এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। এমন আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও দু-তিন দিন থাকতে পারে।

নীলফামারীতে গতকাল সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানায়, এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ এবং পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে। এদিন দৃষ্টিসীমা ছিল মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ মিটার।

গত তিন দিনে মাত্র ঘণ্টাখানেক সূর্যের দেখা মিললেও দুপুরের পর থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল মানুষ। কাজে বের হতে না পেরে অনেকেই আয়-রোজগার হারাচ্ছেন। খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।




আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গতকালের তুলনায় সামান্য বেশি। একই সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহের আওতায় থাকা জেলার সংখ্যাও কিছুটা কমেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ— রংপুর বিভাগের সব জেলা ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়াও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে—গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে মোট জেলা সংখ্যা ১৬। এর সঙ্গে আরও ৮ জেলা যুক্ত হওয়ায় মোট ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ চলছে।

গতকাল দেশের ৪৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। সে দিন নওগাঁর বদলগাছীতে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা ছিল চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন। আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী— ৮.১°–১০° সেলসিয়াস: মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬.১°–৮° সেলসিয়াস: মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪.১°–৬° সেলসিয়াস: তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, ৪° সেলসিয়াসের নিচে: অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকদিন চলতে পারে। নতুন করে কিছু জেলা যুক্ত হতে পারে, আবার কিছু জেলা শৈত্যপ্রবাহের বাইরে চলে যেতে পারে।

তিনি বলেন, “শৈত্যপ্রবাহ দ্রুত কেটে যাচ্ছে না। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এটি চলতে পারে। এ মাসের অন্তত মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এর প্রভাব থাকতে পারে।”




মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁয় ৬.৭

আবহাওয়া ডেস্কঃ নওগাঁয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। বুধবার সকাল ৬টার দিকে জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এটিই এ বছরে সারা দেশের এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

জানা যায়, কুয়াশার ঘনত্ব তুলনামূলক কম থাকলেও হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ফলে সকাল থেকেই নগর ও গ্রামাঞ্চলে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। ঠাণ্ডার কারণে ব্যাহত হচ্ছে এ মৌসুমের ধান রোপণ। কষ্টে আছেন ছিন্নমূল মানুষ। গত তিন দিন থেকেই এমন আবহাওয়া বইছে জেলাজুড়ে।

নওগাঁ সদরের বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক সামিউল ইসলাম বলেন, অনেক ঠান্ডা পড়েছে। এই ঠান্ডায় জমিতে যেতেই ভয় লাগে। তারপরও যেতে হয়।

শহরের তাজের মোড়ের অটোরিকশা চালক সালাম ও বক্কর বলেন, মাঝে মাঝে ভাবি, এই ঠান্ডায় গাড়ি নিয়ে বের হবো না। কারণ ঠান্ডার কারণে যাত্রী বের হতে চায় না। তারপরও জীবিকার তাগিদে বের হতে হয়।

হাপানিয়া এলাকার বাসিন্দা স্বপন আহমেদ বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই শীতের প্রকোপ বেড়েছে। সেই সঙ্গে কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতা কয়েকগুণ বাড়িয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকেই গরম কাপড় পরে চলাফেরা করছে মানুষ। ভোর থেকে এখনো পর্যন্ত কুয়াশায় আচ্ছন্ন আছে চারপাশ।

বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, টানা তিন সপ্তাহ ধরে বৈরী আবহাওয়া জনজীবনে প্রভাব পড়েছে। বুধবার সকাল ৬টায় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এই মৌসুমে এটিই সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।




আগামী ৫ দিনেও আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনের আভাস নেই: আবহাওয়া অধিদপ্তর

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ৪৪ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তীব্র শীতের পাশাপাশি সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোণা, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লা জেলাসহ রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আগামী ৮ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। আংশিক মেঘলা আকাশ ও শুষ্ক আবহাওয়ার পাশাপাশি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার প্রবণতাও আগের দিনের মতোই থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আগামী শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্তও সারাদেশে শুষ্ক আবহাওয়া এবং শৈত্যপ্রবাহের কোনো বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে শনিবার রাত থেকে দেশের নদী অববাহিকা এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, আর দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার পাশাপাশি রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। নদী অববাহিকার কিছু এলাকায় ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যান্য স্থানে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচদিনের মধ্যে দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।




১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে দুঃসংবাদ

আবহাওয়া ডেস্কঃ শীতের তীব্রতায় সারা দেশ কাঁপছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বুধবার (৭ জানুয়ারি) ১০ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। 

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে প্রকাশিত নিয়মিত আবহাওয়া বুলেটিনে বলা হয়, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হতে পারে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে।

এই পরিস্থিতিতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের আবহাওয়া আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে থাকা জেলার মধ্যে রয়েছে- রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙামাটি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া। এ সময়ে দেশের রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকবে।

সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সারা দেশে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার রাজশাহীতে তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন। রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ বলেন, বায়ু দূষণের কারণে বাতাসে বেড়েছে ভাসমান বস্তুকণা। এতে কাটছে না কুয়াশা। যে কারণে সূর্যের আলো পাওয়া যাচ্ছে কম। এতে বাড়ছে শীতের অনুভূতি।

এদিকে তীব্র শীতে খেটে খাওয়া মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।




আজ কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়তে পারে দেশ

ডেস্ক নিউজঃ টানা ঘন কুয়াশা আর শীতের তীব্রতার সঙ্গে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বাতাসে জনজীবন-প্রাণিকুল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রার পারদও নামছে ক্রমশ। গতকাল দেশের ১৫ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এক দিনের ব্যবধানে গতকাল তাপমাত্রা এক ডিগ্রি নেমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ঈশ্বরদীতে ৮ দশমিক ৪ এবং ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি।

আবহাওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশা আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাতে কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়তে পারে গোটা দেশ। রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা পাঁচ থেকে সাত ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চলতি মাসে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, গতকাল সোমবার রাত থেকেই তাপমাত্রা ধাপে ধাপে হ্রাস পাচ্ছে। জানুয়ারি মাসে অন্তত এক থেকে দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, ‘গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই দেশের আটটি বিভাগের বিভিন্ন জেলা মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে। তার মতে, আজ মঙ্গলবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ জেলায় দুপুর ১২টার আগে সূর্যের দেখা মিলবে না। অন্যদিকে, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোয় সকাল ১০টার পর ধীরে ধীরে সূর্যের আলো দেখা যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়—টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, আরিচা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, ঈশ্বরদী, বগুড়া, বদলগাছি, তাড়াশ, বাঘাবাড়ি, দিনাজপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুমারখালির ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, এটি অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার বিষয়ে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদনদী অববাহিকাসহ দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। তবে কখনো কখনো কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে, দেশের ১৫ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে সকালে কাজে বের হতে পারছেন না দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ। শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা, বেড়েছে সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যাও। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় খোলা জায়গায় বসবাসকারী মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কর্মজীবী মানুষ ও পণ্য পরিবহনে সৃষ্টি হয়েছে বাড়তি সমস্যা।




রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রামসহ ৬ জেলায় বাড়তে পারে শৈত্যপ্রবাহ

আবহাওয়া ডেস্কঃ পৌষের মাঝামাঝি সময়ে দেশজুড়ে কনকনে শীতের প্রভাব বাড়ছে। ঘন কুয়াশা ও তীব্র হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের কিছু অঞ্চলে চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে।

উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ঠাকুরগাঁও ও শরীয়তপুরে হিমেল বাতাস বইছে এবং তাপমাত্রা নেমে এসেছে প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই শীতে নিম্ন আয়ের মানুষ ও বহিরাগত শ্রমিকরা বিশেষভাবে বিপাকে পড়েছেন।

হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপও বেড়েছে। শয্যার তুলনায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার ওপর দিয়ে বয়ে চলা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




বছরের প্রথম দিনেই ১৩ ডিগ্রিতে ঢাকার সকাল

ডেস্ক নিউজঃ পৌষের মাঝামাঝি সময়ে এসে রাজধানী ঢাকায় শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বছরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোরে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, আজ দিনের প্রথমার্ধে আকাশ সাময়িকভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও দুপুরের দিকে তাপমাত্রা গতকালের তুলনায় কিছুটা বাড়তে পারে।

এর ফলে দিনের বেলা শীতের প্রকোপ গত কয়েক দিনের তুলনায় সামান্য কম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা না হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য এবং কুয়াশার কারণে জনজীবনে কনকনে শীতের আমেজ বজায় রয়েছে।

সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুপুর পর্যন্ত আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। এ সময় উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সকাল ৬টায় ঢাকার বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ, যা ঘন কুয়াশা সৃষ্টির প্রধান কারণ। গতকাল ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২২ মিনিটে এবং আগামীকাল শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে।

সারাদেশের আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। তবে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।

 এই ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দিনের বেলা রোদের তেজ কম থাকায় সারাদেশে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকবে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেলেও কুয়াশার চাদরে ঢাকা প্রকৃতিতে শীতের কামড় খুব একটা কমবে না। বিশেষ করে নদী অববাহিকা ও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ঘন কুয়াশা জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।




আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নিকলীতে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সারা দেশেই কয়েকদিন ধরে দাপট দেখাচ্ছে শীত। তবে আজ রবিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায়।

হাওর অধ্যুষিত এ উপজেলায় সকালে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

নিকলী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মাছুম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশের মধ্যে নিকলীতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস উল্লেখ করা হয়। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে। সেখানে আজকের তাপমাত্রা ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বেশ কয়েকদিন ধরেই কিশোরগঞ্জ জেলায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কনকনে শীতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।




সারাদেশে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে

আবহাওয়া ডেস্কঃ ঢাকাসহ সারা দেশেই জেঁকে বসেছে তীব্র শীত।কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আগামী পাঁচ দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগও সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৯ ডিগ্রি ও ঢাকায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা অব্যাহত থাকবে আরও কয়েক দিন।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করায় বেড়েছে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা। এতে সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক রয়েছে।

তবে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশাসহ কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।