পরশু থেকে তিন দিন তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ পৌষের প্রথম পক্ষ না পেরুতেই শীতে কাঁপছে গোটা দেশ। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে জনজীবন রীতিমতো  কাহিল হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রার পারদ নেমেছে ৯ ডিগ্রিতে। বইছে শৈত্যপ্রবাহ। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কনকনে ঠান্ডায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু মানুষ ও প্রাণীকূল। সকালে সূর্যের দেখা মিলছে না। দুপুরে সূর্যের সামান্য রোদের উষ্ণতা জনপদের মানুষের ঠান্ডা নিবারণ হচ্ছে না।

ভোর থেকে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে সড়ক-মহাসড়ক ও ফসলের মাঠ। হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকেই। ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়া দৌলতদিয়া ও আরিচা কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সন্ধ্যা নামলেই। রাজধানীসহ সারা দেশের আটটি বিভাগের ওপরই বয়ে চলেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। গতকাল শুক্রবার যশোরে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি।

উত্তরের জেলাগুলোর অবস্থা আরো করুণ। গত তিন দিনে শৈত্যপ্রবাহের তীব্র শীত আর কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কয়েকটি জেলার জনজীবন। দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। বেশি অসুবিধায় পড়েছেন ছোট বাচ্চা ও বয়োবৃদ্ধরা। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় ঘর থেকে বের হচ্ছেন না গরিব অসহায় মানুষ। সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে হিমালয় থেকে আসা হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে। ঘন কুয়াশা আর হাড়-কাঁপানো শীতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনেও স্বস্তি নেই, আর রাত নামলেই প্রকৃতি যেন আরো কঠোর হয়ে ওঠে। গতকাল সকাল ৯টার দিকে তেঁতুলিয়ায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। টানা পাঁচ দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ বইছে এই জেলায়।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে তাপমাত্রা আরো কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) পর্যন্ত পাঁচ দিন দেশের তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। দেশে শীতের দাপট হঠাত্ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাব বলে মনে করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলছে, এই বলয়ের প্রভাবে দেশে শীতের তীব্রতা আরো বাড়তে পারে। এই বলয়ের বর্ধিতাংশ এখন পশ্চিমবঙ্গ ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় ঠান্ডা অনুভূতি বাড়তে পারে। আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামীকাল রবিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আগামী সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ কয়েক দিন অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

রাজধানীতে বেড়েছে শীতের দাপট:

ঢাকায় জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে চারপাশ, আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হিমেল হাওয়ার দাপট। বৃহস্পতিবারের তুলনায় গতকাল তাপমাত্রা আরো কিছুটা কমেছে, ফলে জনজীবনে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে প্রবলভাবে। গতকাল শুক্রবার আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সকালে ঢাকায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার এই তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এদিকে শীত বাড়তে থাকায় খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট বেড়েছে। গতকাল সন্ধ্যার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হতদরিদ্র লোকজনকে শীতে জবুথবু হয়ে রাস্তার ধারে বসে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া হঠাত্ ঠান্ডা বেড়ে যাওয়ায় শীতের কাপড়ের দোকানে ও ফুটপাতের দোকানে বেশ ভিড় লক্ষ করা গেছে।

 দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা চুয়াডাঙ্গা এখন কনকনে শীতের কবলে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শৈত্যপ্রবাহ বইতে থাকায় জনদুর্ভোগ বেড়ে গেছে। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় খেটে-খাওয়া মানুষ এবং প্রাণীকূল শীতে কষ্ট পাচ্ছে। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, দেশের কোথাও শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও তাপমাত্রা কমে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। এ অবস্থা আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে। এরপর নতুন বছরের শুরুতেই শীত আরো তীব্র আকারে জেঁকে বসতে পারে। তবে এ মুহূর্তে শৈত্যপ্রবাহের কোনো পূর্বাভাস নেই। আবহাওয়াবিদ নাজমুল হকের মতে, শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে দেশের অন্তত দুই থেকে তিনটি এলাকায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসে।

পরশু থেকে তিন দিন তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা :

দেশ জুড়ে শীতের তীব্র রূপ দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, শীতের তীব্রতা এবার সাধারণের চেয়ে কিছুটা বেশি অনুভূত হচ্ছে। সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য যদি ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে আসে, তবে শীতের অনুভূতি বাড়তে থাকে। আর এই পার্থক্য যদি ৫ ডিগ্রির নিচে নামে, তবে হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হয়। বর্তমানে রংপুর, দিনাজপুর ও তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রার এই পার্থক্য ১০ ডিগ্রির নিচে থাকায় সেখানে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি ঢাকা, বগুড়া ও সিলেটেও এই পার্থক্য ১৩ ডিগ্রির নিচে নেমে এসেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। যদিও আজ রাত থেকে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে সামান্য বাড়তে পারে, তবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে আবারও নতুন উদ্যমে হানা দেবে শীতের দাপট। তখন দুই থেকে তিন দিন তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। কুয়াশার ঘনত্বের কারণে নৌপথ ও সড়কপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে দেখা গেছে চালকদের। হিমেল হাওয়ায় জবুথবু বৃদ্ধ ও শিশুরা ভুগছেন নানা শীতজনিত রোগে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, সামনের কয়েকটা দিন প্রকৃতির এই শীতল লড়াই আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।




শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঢাকার সকাল

আবহাওয়া ডেস্কঃ সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকায় শীতের উপস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর তাপমাত্রা হঠাৎ কমে ১৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে, যা সকাল ৬টায় রেকর্ড হওয়া চলতি সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। 

ভোর থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় কম-বেশি কুয়াশা দেখা যাওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়নি।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জন্য আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিনের বাকি সময় আকাশ প্রধানত পরিষ্কার থাকবে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। উত্তর/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে হালকা বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। 

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯০ শতাংশ। এদিকে, আজ সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ বিরাজ করতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ১২ মিনিটে, আর আগামীকাল সূর্যোদয় সকাল ৬টা ৩২ মিনিটে হওয়ার কথা রয়েছে।




ধেয়ে আসছে শৈত্যপ্রবাহ ‘পরশ’, তাপমাত্রা নামতে পারে ৮ ডিগ্রিতে

আবহাওয়া ডেস্কঃ মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ‘পরশ’ আসছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানায় বিডব্লিউওটি। এতে বলা হয়, ১৪ থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে সক্রিয় থাকতে পারে শৈত্যপ্রবাহ পরশ। এটি সক্রিয় থাকার সময় রংপুর, রাজশাহী, খুলনা এবং সিলেট বিভাগের কিছুকিছু স্থানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১১ ডিগ্রি, কুমিল্লা, নওগাঁর বদলগাছী, গোপালগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১২ দশমিক ৫, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় ১২ দশমিক ৪ এবং রাজশাহী, কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

পূর্বাভাসে জানানো হয়, ডিসেম্বর মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে। আর মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে ১-২টি মৃদু (৮-১০° সে.) থেকে মাঝারি (৬-৮° সে.) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।




শীতের অনুভূতি বাড়িয়ে আজও ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঢাকার সকাল

আবহাওয়া ডেস্কঃ সকালে রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বুধবারের (৩ ডিসেম্বর) ১৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দিনের বেলায় এই তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সকাল ৭টায় পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব কথা বলা হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮১ শতাংশ।

এ ছাড়া আজ দুপুর পর্যন্ত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া প্রায় শুষ্ক থাকবে। দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে যে, আজ দুপুর পর্যন্ত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ওপর দিয়ে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্তের সময় সন্ধ্যা ৫টা ১১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬টা ২৭ মিনিটে হবে।




শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঢাকার সকাল

আবহাওয়া ডেস্কঃ সারাদেশের মতো রাজধানী ঢাকায়ও শীতের আমেজ বাড়ছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।  

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিনের প্রথমার্ধে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক। অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক থাকবে।

এই সময় উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ছিল ৬২ শতাংশ। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ১১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬টা ২৭ মিনিটে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি।

অন্যদিকে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এছাড়া ভোরের দিকে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে।




শৈত্যপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নতুন বার্তা

আবহাওয়া ডেস্কঃ ডিসেম্বর মানেই কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, মোলায়েম রোদ আর রাতের তীব্র শীত। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা কম থাকলেও চলতি মাসে তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

সোমবার (১ ডিসেম্বর) এক মাস মেয়াদি আবহাওয়া পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়, ডিসেম্বরে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। এ সময় দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ১-২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এরমধ্যে ১টি নিম্নচাপ/ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

তাপমাত্রার বিষয়ে জানানো হয়, চলতি মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে। আর মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে ১-২টি মৃদু (৮-১০° সে.) থেকে মাঝারি (৬-৮° সে.) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

এছাড়া দেশের নদী অববাহিকায় মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিসেম্বরে দেশের প্রধান নদ-নদীসমূহের স্বাভাবিক প্রবাহ থাকবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়।




তাপমাত্রা নিয়ে নতুন বার্তা দিলো আবহাওয়া অফিস

আবহাওয়া ডেস্কঃ আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (১ ডিসেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানান।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। ভোরের দিকে দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চলে হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় একই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকবে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে এবং সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও সারাদেশে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করবে। ভোরের দিকে উত্তরপূর্বাঞ্চলে হালকা কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আগামী শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও একই অবস্থা বজায় থাকার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভোরের দিকে উত্তরপূর্বাঞ্চলে হালকা কুয়াশা পড়তে পারে এবং সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।




ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ : চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রায় ২ নম্বর সংকেত

আবহাওয়া প্রতিবেদকঃ দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও শ্রীলঙ্কা উপকূলে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশে দেশের চার সমুদ্রবন্দর অর্থাৎ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রায় ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর শুক্রবার প্রকাশিত বিশেষ আবহাওয়ার বিজ্ঞপ্তিতে (ক্রমিক নম্বর-০৬) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ বর্তমানে শ্রীলঙ্কা উপকূল ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।

আজ দুপুর ১২ টায় ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ছিল—চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৯৪০ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৮৮৫ কিমি, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৮২০ কিমি এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৮২০ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিমি রেডিয়াসের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৬২ কিমি, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার মালিকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি, উপকূলবর্তী এলাকায় মানুষকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।




বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

আবহাওয়া ডেস্কঃ ‘দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি, আর এর মধ্যেই সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।’— বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে পড়বে এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ গুরুতর বন্যার ঝুঁকিতে থাকবে। উপকূলে পানি ও মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আদার সাউথ এশিয়ান কান্ট্রিজ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স উইল বি প্রাইভেট সেক্টর লেড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মূল চাপ এখন পরিবারের ওপর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর গিয়ে পড়েছে। জরিপে দেখা গেছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে কোনো না কোনো ধরনের আবহাওয়াজনিত ধাক্কার আশঙ্কা করছে দক্ষিণ এশিয়ার তিন-চতুর্থাংশ পরিবার ও প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে ৮০ শতাংশ পরিবার ও ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জলবায়ু অভিযোজনমূলক পদক্ষেপ নিলেও এগুলোর বড় অংশই সাধারণ ও কম খরচের সমাধান।

বাংলাদেশের উপকূলের ২৫০টি গ্রাম নিয়ে করা এক জরিপ বলছে, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এখানকার সবচেয়ে বড় অপূর্ণ চাহিদা। দীর্ঘমেয়াদে ৫৭ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, দুর্যোগ–সুরক্ষা অবকাঠামোর ঘাটতি তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আর ৫৬ শতাংশ পরিবার বলেছে, অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতাই তাদের নেই। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই সংকট শুধু পরিবেশগত নয়, মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত; বিশেষ করে দরিদ্র ও কৃষিভিত্তিক পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

বিশ্বব্যাংক জানায়, বাঁধ, সাইক্লোন শেল্টারসহ সরকারি বিনিয়োগ মানুষের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা দেখায়—সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও হালনাগাদ তথ্যের সমন্বয়ে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব। তবে রাজস্ব সংকটের কারণে সরকারের সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় বেসরকারি খাতের অভিযোজনকে সহজ করতে নীতিগত প্যাকেজ জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা প্রতিনিয়ত নতুন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জে পরীক্ষার মুখে পড়ছে। অভিযোজন ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে ঘটছে, কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকি দ্রুত বাড়ায় আরও অনেক কিছু করার প্রয়োজন আছে।’ তিনি আরও বলেন, দেশের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ু–স্মার্ট কৃষি, অভিযোজন অর্থায়ন ও নগর এলাকার লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বহুস্তরীয় ও সমন্বিত পদক্ষেপ এখন জরুরি। আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা, আনুষ্ঠানিক ঋণ ও বীমা ছড়িয়ে দেওয়া বিশেষ প্রয়োজন। বেসরকারি খাত প্রয়োজনীয় স্থানে বিনিয়োগ স্থানান্তর করতে পারলে জলবায়ু–সম্পর্কিত ক্ষতির এক-তৃতীয়াংশ এড়ানো সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়। সীমিত বাজেটেও পরিবহন ও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক উন্নত করা এবং লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা জোরদারের মাধ্যমে সরকার এ প্রক্রিয়া সহজ করতে পারে।

এ ছাড়া নতুন প্রযুক্তি–নির্ভর অভিযোজন এবং সড়ক বা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মতো মূল সরকারি পণ্য সরবরাহের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনের সহ–লেখক সিদ্ধার্থ শর্মা বলেন, ‘জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা যেমন শিক্ষণীয়, তেমনি একটি বড় পরীক্ষা। মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে অভিযোজন করছে, কিন্তু সংকটের জটিলতা ও ব্যাপকতা মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি খাতের জরুরি, সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

বিশ্বব্যাংক বলছে, সামনে বাংলাদেশ স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলার বড় সুযোগ পাচ্ছে। আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও সাইক্লোন শেল্টারে বিনিয়োগ বড় দুর্যোগেও প্রাণহানি কমাতে সফল হয়েছে—যা প্রমাণ করে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান স্থানীয় অভিযোজনকে বড় পরিসরে রূপ দিতে পারে। সরকার, বেসরকারি খাত ও কমিউনিটির সমন্বিত অংশীদারিত্ব জোরদার করতে পারলে জলবায়ু–স্মার্ট সমাধান দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে শুধু দুর্বলতা কমবে না, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নও নিশ্চিত হবে।




আন্দামান সাগরে লঘুচাপ, বাংলাদেশের ওপর প্রভাবের সম্ভাবনা কম

আবহাওয়া ডেস্কঃ দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হতে পারে। তবে লঘুচাপটির শেষ গন্তব্য নির্ধারণ এখনই বলা যাচ্ছে না।  

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে বাংলাদেশের ওপর প্রভাবের সম্ভাবনা কম। সম্ভাব্য গতিপথ ভারতের তামিলনাড়ুর দিকে হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হতে পারে, তবে কোথায় আঘাত হানবে তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। কয়েকদিন পর এর গতিপথ স্পষ্ট হবে।

আজ রোববার সকাল থেকে ঢাকা ও আশপাশের আবহাওয়া রৌদ্রোজ্জ্বল থাকবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ৮৮ শতাংশ। সূর্যাস্ত হবে বিকেল ৫:১১ টায়, আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬:১৯ টায়।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের তেমন প্রভাব না পড়লেও কিছু জেলায় তাপমাত্রা কমছে। গতকাল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস; আজ তা কমে ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।