সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা

আবহাওয়া প্রতিবেদকঃ বঙ্গোপসাগরে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকার একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এটি ঘনীভূত হতে পারে। এ সময় আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।




শতাব্দীর শেষে বিলুপ্ত হতে পারে শীত, উপকূলের ১৮% ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে বিশ্ব ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের জলবায়ু আগামী কয়েক দশকে বড় ধরনের পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যেতে পারে—সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণার এমন সতর্ক বার্তা মিলেছে। বিশেষজ্ঞদের হিসেবে, ২০৪১ থেকে ২০৭০ সালের মধ্যে দেশের গড় তাপমাত্রা অন্তত ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে, আর শতাব্দীর শেষে এই বৃদ্ধি আরও বেশি হয়ে দাঁড়াতে পারে দেড় থেকে সাড়ে ৪ ডিগ্রি।

ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং নরওয়েজিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জলবায়ুর রিপোর্ট ২০২৫’ প্রকাশ করে। পাঁচ ধরনের সম্ভাব্য জলবায়ু পরিস্থিতি ধরে বিশ্লেষণ করা এই প্রতিবেদনে ভবিষ্যতের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও সমুদ্রপৃষ্ঠ নিয়ে বিস্তারিত পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বর্ষার আগে মার্চ থেকে মে সময়টিতে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে। দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ২০৭০ সালের মধ্যে বর্ষার আগের সময় ২০ দিন পর্যন্ত তাপপ্রবাহ থাকার সম্ভাবনা উল্লিখিত হয়েছে, যা বর্তমান সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বর্ষাতেও তাপপ্রবাহ বাড়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

রাজধানী ঢাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরে অন্তত দুইটি প্রবল তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হতে হতে পারে নগরবাসীকে। একটি বর্ষার আগে, আরেকটি বর্ষার পরে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে দিনের তাপমাত্রা সাড়ে ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি অনুভূত হতে পারে।

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতও সরে যাবে দক্ষিণাঞ্চল থেকে। শতাব্দীর শেষদিকে শীত মৌসুম প্রায় নামমাত্র থাকতে পারে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ মাত্র এক-দু’দিন অনুভূত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

বাংলাদেশে বর্ষাতেই মোট বৃষ্টির বড় অংশ হয়। নতুন পূর্বাভাস বলছে, ভবিষ্যতে বর্ষার বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে। ২০৭০ সালের মধ্যে বর্ষার বৃষ্টি গড়ে ১১৮ মিমি বাড়তে পারে, আর শতাব্দীর শেষে এই বৃদ্ধি ২৫৫ মিমি পর্যন্ত যেতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অতিবৃষ্টি বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়াবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বাংলাদেশের উপকূলে বৃদ্ধির হার বেশি হতে পারে—প্রতি বছর ৫.৮ মিমি পর্যন্ত। এতে শতাব্দীর শেষে উপকূলের প্রায় ১৮% এলাকা স্থায়ীভাবে পানির নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে সুন্দরবনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা পানিতে ডুবে থাকতে পারে। এ কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে ১০ লাখ মানুষ স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা উত্থাপন করা হয়েছে।

জলবায়ুর বদলে সবচেয়ে বড় আঘাত আসতে পারে কৃষিক্ষেত্রে। তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা বেড়ে ফসল উৎপাদন কমতে পারে। গবাদিপশুর রোগ বাড়তে পারে এবং মিঠাপানির উৎস সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। জনস্বাস্থ্যে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ বাড়তে পারে। অতিরিক্ত গরমে বাইরে কাজ করা কঠিন হওয়ায় শ্রমজীবী মানুষের ওপরও চাপ বাড়বে।

প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে বজলুর রশিদ বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন একদিনে থেমে যাবে না, তাই অভিযোজন পরিকল্পনা হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি। উপকূল সুরক্ষা, বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, আগাম সতর্কবার্তা আধুনিকায়ন এসব ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর পরিবেশের সংকট নয়, বরং কৃষি থেকে জ্বালানি সব খাতেই এর প্রভাব পড়ছে। তাই সমন্বিতভাবে কাজ করাই একমাত্র পথ।

২০১১ সাল থেকে আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং নরওয়ের আবহাওয়া সংস্থা যৌথভাবে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করছে। নতুন প্রতিবেদনটি তাদের তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ।




বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকায় বায়ুমান মাঝারি পর্যায়ে

আবহাওয়া ডেস্কঃ বিশ্বজুড়ে নানা কারণে ক্রমেই বাড়ছে বায়ুদূষণ। দীর্ঘদিন ধরেই মেগাসিটি ঢাকাও দূষিত বায়ুর কবলে। কয়েক দিন আগে রাজধানীর বায়ুমান কিছুটা উন্নতির দিকে থাকলেও সম্প্রতি আবারও বেড়েছে দূষণের মাত্রা।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার আন্তর্জাতিক বায়ুমান নজরদারি সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, একিউআই-এর ৬১ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১০তম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। এ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘মাঝারি’ হিসেবে বিবেচিত।

অন্যদিকে, একই সময়ে ভারতের রাজধানী দিল্লি ভয়াবহ দূষণে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। শহরটির একিউআই স্কোর দাঁড়িয়েছে ৪০২- যা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ মাত্রার অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় স্থানে মঙ্গোলিয়ার উলানবাটোর, আর তৃতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানের লাহোরের স্কোর ১৮৯। চতুর্থ অবস্থানে থাকা করাচির স্কোর ১৪৯।

একিউআই নির্দেশিকা অনুসারে, ০-৫০ স্কোর ‘ভালো’, ৫১-১০০ ‘মাঝারি’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ১০১-১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ১৫১-২০০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ মাত্রা নির্দেশ করে।

২০১-৩০০ স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়- এ সময়ে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। ৩০১-৪০০ স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়, যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে।




রাজধানীতে বাড়তে পারে গরমের অনুভূতি, আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক

আবহাওয়া ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকায় আজ দিনের তাপমাত্রা গতকালের তুলনায় সামান্য বাড়তে পারে। ফলে গত কয়েক দিনের তুলনায় গরমের অনুভূতি কিছুটা বেশি লাগতে পারে। দিনের প্রথমার্ধে আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও আশপাশের এলাকার আবহাওয়ার যে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র, তাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দুপুর পর্যন্ত আকাশ থাকবে পরিষ্কার। উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হবে। আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

সকাল ৬টায় ঢাকার বাতাসের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮২ শতাংশ। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ১১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬টা ১৭ মিনিটে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়নি বলেও জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে, গতকাল প্রকাশিত সারা দেশের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।




আগামী ৫ দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর

আবহাওয়া প্রতিবেদকঃ সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।




ঢাকায় নামছে শীতের আমেজ, তাপমাত্রা কমে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস

আবহাওয়া ডেস্কঃ  দেশজুড়ে শীতের আগমনী বার্তা মিলছে, রাজধানী ঢাকাতেও পড়ছে ঠান্ডার ছোঁয়া। শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে নগরজুড়ে। বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে ঢাকার তাপমাত্রা নেমে এসেছে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা গত কয়েক দিনের তুলনায় কিছুটা কম। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দিনের প্রথমার্ধে ঢাকা ও আশপাশের আকাশ থাকবে পরিষ্কার। উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে হালকা বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। তাপমাত্রা সামান্য পরিবর্তনসহ প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলেও জানায় দপ্তরটি।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ। গতকাল মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় কোথাও বৃষ্টিপাত হয়নি।

আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ১৩ মিনিটে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ১২ মিনিটে।

অন্যদিকে, গতকাল রাতে প্রকাশিত সারাদেশের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
এছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে, তাপমাত্রায় তেমন পরিবর্তন হবে না।




জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ১৮ প্রকল্প অনুমোদন

আবহাওয়া ডেস্কঃ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সারা দেশে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, নদী পুনঃখনন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব জীবিকা গঠনের লক্ষ্যে ১৮টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টি বোর্ডের ৬৫তম সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। 

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে বাগেরহাট, নওগাঁ, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায়- ‘প্রাকৃতিক সম্পদ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নিরাপদ পানির মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল পরিবেশ গঠন’-প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার বড়াল নদী ও মির্জা মাহমুদ খাল পুনঃখনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ জেলায় রজতরেখা নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় আলাই নদী ও যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলার চরশাহী ইউনিয়নে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ, দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলায় টেকসই প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহের প্রথম পর্যায়ের প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। বাগেরহাট জেলার তিনটি উপজেলায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা পৌর এলাকায় সোলার প্যানেল পাম্প হাউজ স্থাপন করে সুপেয় পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পটুয়াখালী পৌর এলাকায় রিভার্স ওসমোসিস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থানীয় জনগণের জন্য পরিবেশবান্ধব বিকল্প জীবিকা সহায়তা প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নোয়াখালীর চাটখিল পৌর এলাকায় খাল পুনঃখনন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার সকল উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য পৃথক তিনটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

সভায় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারের লক্ষ্য হলো জনগণকে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা। তিনি আরো বলেন, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয়, পার্বত্য ও খরা-প্রবণ অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নত হবে।

সভায় কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী মো. ওয়ালি-উল-হকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




দূষিত শহরের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বাতাসও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’

আবহাওয়া ডেস্কঃ বিশ্বজুড়ে ক্রমেই বাড়ছে বায়ুদূষণের প্রকোপ। দীর্ঘদিন ধরেই দূষণে শীর্ষ অবস্থানে থাকা মেগাসিটি ঢাকার বাতাসও আবারও অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিছুদিন আগে সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও গত কয়েক দিনে রাজধানীর বায়ুমান আবারও নেমে এসেছে বিপজ্জনক মাত্রায়।

আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ২২২ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ঢাকা। সংস্থাটির সূচকে এই মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

একই সময়ে ভারতের রাজধানী দিল্লি ৭৭৮ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে আছে পাকিস্তানের লাহোর (৪৮০), তৃতীয় স্থানে উজবেকিস্তানের তাশখন্দ (২৩১) এবং পঞ্চম স্থানে ভারতের কলকাতা, যার স্কোর ২০৩।

বায়ুমানের একিউআই সূচকে ০ থেকে ৫০ ভালো, ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি এবং ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে গণ্য হয়। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’, আর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে।

এই পর্যায়ে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাইরে যাতায়াত সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। একিউআই ৩০১ থেকে ৪০০ হলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়, যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।




সারাদেশে তাপমাত্রা কমার আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ কয়েক দিন ধরেই দেশের উত্তরাঞ্চলে বইছে হিমেল হাওয়া, বেড়েছে কাঁপুনি ধরানো শীতের অনুভূতি। বিকেল নামলেই বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে ঠাণ্ডার ছোঁয়া। মনে হচ্ছে, শীত যেন দুয়ারে কড়া নাড়ছে। 

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, সামনে আরও কমবে তাপমাত্রা। ইতোমধ্যে রাজশাহীর তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমে এসেছে।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে কাজ করা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে আজ রাতেই দেশের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
এক ফেসবুক পোস্টে তারা জানায়, রোববার রাত থেকে ১৫ নভেম্বর রাত পর্যন্ত পঞ্চগড়, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, শেরপুর, জামালপুর ও এর পার্শ্ববর্তী কিছু কিছু স্থানে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২-১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে।

এ ছাড়া একই সময়ে দেশের অধিকাংশ স্থানের রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রা সারা দেশেই ২৮-৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই দিনে তেমন শীত অনুভব হবে না।

এদিকে আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়া বার্তাতেও আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা কমার তথ্য জানানো হয়েছে।




দিল্লিতে ভয়াবহ দূষণ, ঢাকায়ও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বাতাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ বিশ্বের বড় শহরগুলোতে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। ভারতের রাজধানী দিল্লি এখন এ দূষণে সবচেয়ে শীর্ষে, আর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাও রয়েছে বিপজ্জনক অবস্থায়।

রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পরিমাপক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, দিল্লির একিউআই (AQI) স্কোর ছিল ৬৩৫, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। এটি বায়ুদূষণের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ স্তর হিসেবে গণ্য।

একই সময়ে ২০৯ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে ছিল ঢাকা। এই মাত্রার বাতাসকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর (স্কোর ৩৫৫), তৃতীয় কুয়েত সিটি (২৫৭) এবং পঞ্চম ইরাকের বাগদাদ (১৭৫)।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।