প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির শুভ সূচনা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করতে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল যাচ্ছেন। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এর অংশ হিসেবে আজ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশের ১০ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম তিনি উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে দেশব্যাপী প্রি-পাইলটিং হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন এবং কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। পরে দুপুর সোয়া ১২টায় তিনি পৌর উদ্যানে কৃষিমেলা উদ্বোধন করবেন।

এছাড়া সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলে পৌঁছে সন্তোষে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত কৃষক সমাজের সরাসরি ক্ষমতায়নের লক্ষে পহেলা বৈশাখ থেকে টাঙ্গাইলে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি। কৃষিখাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষেই এ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি ও কৃষিজাত শিল্পায়নে বিনিয়োগকারীদের সাথে মতবিনিময় শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনী বিজয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তার ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করছেন।

এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা।

মাহদী আমিন বলেন, প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০ জেলার ১১ উপজেলায় এ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এ বিশেষ কার্ডের আওতায় আনা হবে। টাঙ্গাইলে উদ্বোধনী দিনে ১৫০০ জন কৃষকের হাতে ব্যক্তিগতভাবে এ কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এ যুগান্তকারী কর্মসূচির শুভ সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রাক-পাইলট পর্যায়ে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক, টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভিবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপির ব্লক ও জামালপুর জেলার, ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে।

তিন ধাপে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব কৃষককে এ ‘কৃষক কার্ড’ দেবে সরকার। পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে দেওয়া হবে এই কার্ড। এর মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন কার্ডধারী কৃষকেরা।




বাগেরহাটে ক্রমেই হারাচ্ছে কৃষিজমি

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটে এখন মাঠের পর মাঠ নেই অতীতের সেই সোনালি ধানের শিষ, মাঠে এখন ঢেউ তুলছে লবণাক্ত পানিতে চিংড়ি চাষের ঘের। গত এক দশকে উপকূলীয় এই জেলায় যে বদল এসেছে তা কয়েক কয়েক হাজার মানুষের এনে দিয়েছে বিপুল সমৃদ্ধি, তবে, লাখ লাখ কৃষকের জীবনে বয়ে এনেছে অস্থিরতা ও ক্ষতি।

জেলার রামপাল, মোংলা, মোরেলগঞ্জ, কচুয়া  থেকে শুরু করে বাগেরহাট সদরে লবণাক্ততার কারনে হাজার হাজার হেক্টর চাষযোগ্য জমি রূপান্তরিত হয়েছে চিংড়ি চাষের ঘেরে। বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য এ পরিবর্তন বৈদেশিক বাজারে চিংড়ি রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়ালেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন লাখ লাখ কৃষক। বহু পরিবার জমি হারিয়ে, দেনার বোঝা বাড়িয়ে এবং চাষাবাদের অনুপযোগী মাটি নিয়ে এখন দিশেহারা।

মোরেলগঞ্জের হরতকিতলা গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান জানান, আগে তাঁর সব জমিতেই ধান হতো। এখনমাত্র আড়াই একর ধান চাষ করেন, বাকি ৫ একরে প্রভাবশালীরা বাগদা চিংড়ির ঘের করছে। মোংলার চিলা গ্রামের কৃষক রতন হাওলাদার জানান, তাঁর পুরো ৫ একর জমিই এখন চিংড়ি চাষে ব্যবহৃত হয়, ধান চাষ আর করেন না। এই চিংড়ি ঘেরে লবণাক্ত পানি ঢুকানোর ফলে পাশের কৃষকের জমিতে আর ধান হচ্ছেনা। ধানের ফলন কমে যাওয়ায় অনেককে কম দামে জমি লিজ দিতে বাধ্য হতে হয়েছে।
গত বছর খুলনার মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) এবং বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ জরিপে দেখাগেছে, বাগেরহাট  জেলাটির বিভিন্ন অঞ্চলে মাটির লবণাক্ততা গত এক দশকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। পশুর, দড়াটানা, পনগুছি ঘষিয়াখালী নদীর লবণাক্ততা শুষ্ক মৌসুমে  প্রায় ২০ ডিসিএম পর্যায়ে উঠে যায়, যা ধানসহ অধিকাংশ ফসলের সহনক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি।
বাগেরহাট ২০২০ সালে জেলার মোট কৃষিজমি ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪১ হেক্টর। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৬১ হেক্টরে। যদিও ফসল চক্রের অনুপাত জেলায় শতকরা ৬১ শতাংশ  এক ফসলি, ২৭ শতাংশ দুই ফসলি, ১১ শতাংশ তিন ফসলি জমি। পানিতে লবণাক্ততা বাড়য় কৃষি  জমিগুলো সহজেই চিংড়ি ঘরে পরিণত হচ্ছে।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা খুলনা বিভাগের সমন্বয়কারী শেখ নূর আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাগেরহাট জেলায় লবণাক্ততা বাড়ায় কৃষিতে ধস নামেছে। ৮০ দশকে চালু হওয়া চিংড়ি চাষ কৃষির পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছে। ধান ছাড়াও সবজি, কলা সবই লবণাক্ততায় আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি জনস্বাস্থ্যের ওপরও এর ক্ষতি পড়ছে। চিংড়ি রপ্তানি বছরে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা আয় করলেও কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে এর ক্ষতির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তাই পরিকল্পনা ছাড়া চিংড়ি চাষ বন্ধে কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাগেরহাটে চিংড়ি চাষের জমি বেড়েছে। বাগদা চিংড়ি চাষ হচ্ছে ৫২ হাহার ৫৫১ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন ২০ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন। আর গলদা চাষ হচ্ছে ১৯ হাহার ৭৭৩.৩ হেক্টর জমিতে। বাগদা উৎপাদন ১৯ হয়েছে ৭১৬.৩  মেট্রিক টন। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরে চিংড়ি থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। যা দেশের মোট চিংড়ি রপ্তানী আয়ের (গত অর্থবছরে ৪,০০০ কোটি টাকা) চেয়ে কিছুটা কম।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মতাহার হোসেন জানান, শিল্পায়ন, শহরায়ণ এবং নদীর লবণাক্ততা বৃদ্ধিই বাগেরহাট জেলায় চাষযোগ্য জমি কমে যাওয়ার মূল কারণ। নভেম্বর থেকেই নদীর পানিতে তীব্র লবণাক্ততা শুরু হয়, যা আগে জানুয়ারি মাসে হতো। মার্চ- এপ্রিল নাগাদ জমির ফসল লবনাক্ততায় মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে লবণ-সহনশীল ধান বীজের প্রচলন ও এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি ব্যবস্থায় আনতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। এরমধ্যে প্রভাবশালীরা অনেক ক্ষেত্রেই কৃষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে জমি চিংড়ি ঘেরের মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে, যা সাময়িক লাভ দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে তা কৃষিসহ পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হবে। যা বাগেরহাটে এখনই দেখা যাচ্ছে।




রংপুরের শাহিনুল ইসলাম: গ্রামের কৃষকদের জন্য স্বপ্নের কৃষি উদ্যোগ

রংপুর প্রতিবেদকঃ ২০০৬ সালে মিঠাপুকুরের ময়েনপুর পূর্বপাড়া গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্র শাহিনুল ইসলাম (বকুল) শখের বশে দুটি হাঁস পালন শুরু করেছিলেন। কয়েক বছরের মধ্যে হাঁসের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। এরপর তিনি গরু, হাঁড়িভাঙা আম, শিল আলু ও মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এলাকায় সাফল্যের নজির স্থাপন করেন।

শাহিনুল ইসলাম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশ করার পরেও কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। তিনি দেশি মুরগি, কোয়েল পাখির ডিম ও বাচ্চা উৎপাদনসহ বিভিন্ন কৃষিকাজ চালাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের সংগঠিত করতে ২০১২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ময়েনপুর কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র’। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে এক যুগের বেশি সময় ধরে গ্রামের কৃষকরা কৃষি তথ্য, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাচ্ছেন।

সংগঠনটি কৃষি সম্প্রসারণ, বিপণন, হর্টিকালচার ও মৎস্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। কৃষকেরা এখানে বিষমুক্ত ফল, সবজি উৎপাদন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার শিখছেন। সংগঠনটি ২০২০ সালে করোনাকালে কৃষকের উৎপাদিত ফসল বিপণনে সহযোগিতা করার জন্য জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) থেকে ফুড হিরো পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া, সংগঠনটির উদ্যোগে পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, যা কৃষকের ফসল ঘরে তোলার সুবিধা দিয়েছে।

শাহিনুল জানান, কীটনাশক ছাড়া আলোর ফাঁদে পোকা দমন, পাচিং পদ্ধতি ও ফুড ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ২০১৬ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক পান। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে আমরা একটি কৃষি হাসপাতাল তৈরি করতে চাই, যেখানে কৃষকের ফসল ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান হবে।”

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, ময়েনপুর কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রের সহায়তায় গ্রামের চিত্র অনেক বদলেছে। কৃষকরা মৎস্যচাষ, অসময়ে টমেটো, শসা ও মরিচ চাষসহ আধুনিক কৃষিকৌশল শিখছেন। এতে তাদের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

শাহিনুল ইসলাম ও তার সংগঠন প্রমাণ করেছেন, কৃষি শুধুমাত্র জীবিকা নয়, বরং গ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণের অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে। 




সিংড়ার চলনবিলে নৌকায় আমন ধান কাটা শুরু

নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিলে এখনো নামেনি বন্যার পানি। হেমন্তের অগ্রহায়ণে সারাদেশে নতুন ধান কাটার উৎসব চললেও চলনবিলের কৃষকদের মুখে শঙ্কা আর হতাশা। জমিতে হাঁটু থেকে হাঁটুর ওপরে পানি থাকায় কৃষকদের ধান কাটতে হচ্ছে নৌকা দিয়ে। এতে বাড়ছে শ্রমিক খরচ, কমছে ফলন।

সরেজমিনে ডাহিয়া ও ইটালী ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে দেখা যায়, পানিতে নেমে শ্রমিকরা কষ্ট করে ধান কাটছেন। কাটা ধান নৌকায় তুলে আনা হচ্ছে খোলায়, সেখান থেকে মাড়াই করে তুলছেন ঘরে।

কৃষকেরা বলছেন, দ্বিতীয় দফার আকস্মিক বন্যায় তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রতি বিঘায় ফলন হচ্ছে ৫ থেকে ৬ মণ ধান। কিন্তু শ্রমিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ সব খরচ বাদ দিলে কৃষকের হাতে থাকছে মাত্র ১ থেকে ২ মণ ধান।

ইটালী ইউনিয়নের পশ্চিম মাগুড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম ভুট্টু বলেন, আমরা তিন ভাই মিলে ৭০ বিঘা ধান করেছি। বেশির ভাগ জমিতে নৌকা নিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। শ্রমিকই পাওয়া যাচ্ছে না। পানিতে ধান কাটতে শ্রমিকেরা রাজি হচ্ছেন না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজের জন্য ৫শ থেকে ৭শ টাকা দিতে হচ্ছে।

ইন্দ্রাসন গ্রামের কৃষক সবুজ আলী জানান, ৫ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান করেছি। ফলন ভালো হলেও খরচ এত বেশি যে ১–২ মণ ধান ঘরে তোলাই কঠিন। এখন বর্গার ধান কীভাবে দেব—দুশ্চিন্তায় আছি।

ডাহিয়া ইউনিয়নের কাউয়াটিকরী গ্রামের কৃষক ফরিদ প্রামাণিক বলেন, প্রতি বছর আমন কেটে সরিষা করি। গত বছর ২০ বিঘা করেছি। কিন্তু এবার জমিতে পানি থাকায় সরিষা বপন করতে পারব কিনা চিন্তায় আছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ জানান, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোনা আমন এবং ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের বন্যায় বোনা আমনের কিছু ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষি প্রণোদনা ও পরামর্শ দিয়ে আমরা কৃষকদের সহযোগিতা করছি। পানি নেমে যাচ্ছে। সরিষা ও বোরো চাষে কৃষকেরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছি।