মিরপুরের মাঠে ক্রিকেটারদের জন্য ‘টাইগার্স ডেন’

ক্রীড়া ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকের পর মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য নির্মিত নতুন লাউঞ্জ ‘টাইগার্স ডেন’ ঘুরে দেখান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। লাউঞ্জটির কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হলেও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে বলে জানান তিনি।

মিরপুর স্টেডিয়ামের ম্যানুয়াল স্কোরকার্ডের পাশে নির্মিত এই লাউঞ্জটি জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান নারী-পুরুষ ক্রিকেটারদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এতদিন ম্যাচ চলাকালে অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স বক্স’ থাকলেও অন্য ক্রিকেটারদের জন্য আলাদা কোনো সুবিধা ছিল না। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই ‘টাইগার্স ডেন’ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বিসিবি।

এ বিষয়ে তামিম বলেন, ‘টাইগার্স ডেন এমন একটি জায়গা, যেখানে বাংলাদেশের হয়ে একদিনের জন্যও প্রতিনিধিত্ব করা সব নারী ও পুরুষ ক্রিকেটার খেলার দিনে বসে ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া অফিস সময়ের মধ্যে তারা এসে সময় কাটাতে পারবেন। তাদের জন্য একটি নিজস্ব পরিসর তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান ও সাবেক—সব ক্রিকেটারকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের অংশ হিসেবে সম্মান দিতে হবে। তাদের মধ্যে মালিকানাবোধ তৈরি করতে বোর্ডের যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তা করার চেষ্টা করব। অধিনায়কদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাপ্টেন্স বক্স রয়েছে, কিন্তু অন্য ক্রিকেটারদের জন্য তেমন কিছু ছিল না। এটি সেই জায়গা থেকে একটি ছোট উদ্যোগ।’

তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে লাউঞ্জটি চালু করা হয়নি। তামিম জানান, বাংলাদেশের ক্রিকেটের গৌরবময় মুহূর্তগুলো তুলে ধরতে সেখানে বিভিন্ন স্মারক ও ছবি সংযোজনের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়, নারী এশিয়া কাপ শিরোপা, বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়—এমন অনেক স্মরণীয় অর্জনের স্মৃতি আমরা এখানে তুলে ধরতে চাই। এসব কাজ শেষ হলে ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে টাইগার্স ডেন উদ্বোধন করা হবে। বর্তমানে কাজের প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, শুধু ছবিগুলো স্থাপনের কাজ বাকি আছে।’




হারের পরেও বীরের সম্মান, আর্জেন্টিনাকে বরণে সমর্থকের ঢল

ক্রীড়া ডেস্কঃ চার বছর আগে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে যে দেশ উৎসবে মেতেছিল, এবার সেই আর্জেন্টিনাই ফিরেছে শিরোপা হারানোর আক্ষেপ নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়ে দেশে ফিরেছে লিওনেল স্কালোনির দল।

সোমবার সকালে বুয়েনস আইরেসের এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে দলের বহনকারী বিমান। রানওয়েতেই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে লাল গালিচা, সামরিক ব্যান্ড ও আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার মাধ্যমে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে স্বাগত জানানো হয়।

তবে পুরো স্কোয়াড একসঙ্গে দেশে ফেরেনি। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আগেই জানিয়েছিল, অধিনায়ক লিওনেল মেসিসহ কয়েকজন ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাবেন। ফলে বিমানবন্দরে মেসিকে দেখা যায়নি।

বৃষ্টি আর তীব্র শীত উপেক্ষা করে বিমানবন্দরের বাইরে ও জাতীয় দলের অনুশীলন কেন্দ্রের আশপাশে জড়ো হন হাজারো সমর্থক। জাতীয় পতাকা ও নীল-সাদা ছাতা হাতে তারা করতালি ও স্লোগানে প্রিয় দলকে স্বাগত জানান। শিরোপা হাতছাড়া হলেও দলের লড়াইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সমর্থকেরা।

ফাইনাল শেষে রবিবার রাতেও বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক ওবেলিস্ক চত্বরে জড়ো হয় হাজারো মানুষ। আতশবাজি, গান আর স্লোগানে রানার্সআপ দলকে অভিনন্দন জানান তারা।

তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু উচ্ছৃঙ্খল সমর্থকের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। আর্জেন্টাইন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

দেশে ফেরা ১৬ ফুটবলার

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, মার্কোস সেনেসি, ফাকুন্দো মেদিনা, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তালিয়াফিকো, গনসালো মন্টিয়েল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, ভ্যালেন্তিন বার্কো, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, জিওভানি লো সেলসো, নিকো গনসালেস, থিয়াগো আলমাদা, জুলিয়ানো সিমেওনে, হোসে ম্যানুয়েল লোপেস,

যারা সরাসরি দেশে ফেরেননি

লিওনেল মেসি,  রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, জেরোনিমো রুলি, নিকোলাস পাস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, নাহুয়েল মোলিনা ও
হুয়ান মুসো




মেসি ছাড়াই দেশে ফিরছেন আর্জেন্টাইনরা

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হতাশাজনক হারের পর নিরবেই দেশে ফিরছেন আর্জেন্টিনা দলের সদস্যরা। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মেসিসহ দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এই ফিরতি ফ্লাইটে ছিলেন না।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন(এএফএ) আগের রাতেই জানিয়েছিল, দলের কয়েকজন সদস্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা হবেন। এর মধ্যে কেউ ক্লাবে যোগ দিতে, আবার কেউ বিশ্রামের সময় কাটাবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

দেশটির গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইন্টার মায়ামিতে সতীর্থ অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পলের দেশে ফেরার কথা ছিল না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসিদের কোচ লিওনেল স্কালোনিও বুয়েনস এইরেসগামী ফ্লাইটে ছিলেন না।

অ্যারোলিনিয়াস আর্জেন্টিনাস এএফপি-কে জানিয়েছে, বিশ্বকাপ শেষে ফেরার পর আর্জেন্টিনার দলের জন্য কোনো সংবাদ সম্মেলন বা বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন রাখা হয়নি। ফাইনালে হারের কারণে হতাশ হলেও হাজার হাজার আর্জেন্টাইন বুয়েনস এইরেসের ঐতিহ্যবাহী উদযাপনের স্থান ‘ওবেলিস্ক’-এর দিকে ছুটে যান।

সেখানে আতশবাজি ফোটানো এবং দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে তারা দীর্ঘ সময় ধরে উৎসব করেন। তবে গভীর রাতে ওই স্মৃতিস্তম্ভের কাছে ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ উল্লাসকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

অনেকেই এএফপি-কে জানিয়েছিলেন, তারা দলকে স্বাগত জানাতে রাস্তায় নামার পরিকল্পনা করছেন। ফাইনালের পর প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্স উদযাপনের জন্য দলের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে একটি দিনকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে ২০২২ সালে কাতার জয়ের পর ‘আলবিসেলেস্তে’রা বীরোচিত সংবর্ধনা পেয়েছিল। সে সময় খোলা ছাদের বাসে তাদের ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ শোভাযাত্রার পথে লাখ লাখ মানুষ ভিড় করেছিল; কিন্তু জনসমুদ্রের কারণে বাসটি একপর্যায়ে থমকে যায় এবং নিরাপত্তার খাতিরে শোভাযাত্রাটি মাঝপথেই বাতিল করতে হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত কয়েকজন খেলোয়াড় হেলিকপ্টারে করে মূল শোভাযাত্রার স্থানগুলোর ওপর দিয়ে ঘুরেছিলেন।




বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের তকমা নিয়ে দেশে ফিরলো স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক : আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বজয়ের গৌরব অর্জন করেছে স্পেন। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রোববারের রোমাঞ্চকর ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের স্তব্ধ করে উল্লাসে মেতে ওঠেন রদ্রি, লামিনে ইয়ামাল, পাউ কুবারসি ও গাভিরা। নিউইয়র্কের সেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের রেশ ধরে আজই সোনালী ট্রফিটি নিয়ে দেশের মাটিতে পা রাখলেন বিশ্বজয়ী স্প্যানিশ তারকারা।

ইয়ামাল-রদ্রিরা কখন মাদ্রিদে পা রাখবেন-ভক্ত-সমর্থকেরা এ নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে আজ দেশে ফিরল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। মাদ্রিদে স্পেনের ফুটবল দলের বিমান অবতরণ করতেই একে একে বেরিয়ে এলেন অধিনায়ক রদ্রি ও কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেসহ আরও অনেকেই। রদ্রি বিমান থেকে নামার আগেই উঁচিয়ে ধরলেন শিরোপা। নামার পর স্প্যানিশ অধিনায়ক, কোচ দে লা ফুয়েন্তে, কুকুরেয়া, কুবারসিরা ফটোসেশন করেছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পর কোচ, ফুটবলার, সাপোর্টিং স্টাফদের মুখে দেখা গেছে হাসি। তবে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয় বলে কথা। রাজকীয় বরণ না হলে কি চলে! ছাদখোলা বাসে পুরো মাদ্রিদ ঘোরার আগে রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যদের সংবর্ধনা দেবেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে।

নিউজার্সিতে গতকাল আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর স্প্যানিশ ফুটবলাররা শুরু করেন উদযাপন। ইয়ামালের ভাইও গাভি, পাউ কুবারসি, মার্ক কুকুরেয়াদের সঙ্গে ফুটবল খেলেছে। বড় ভাইয়ের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই ট্রফি হাতে নিয়ে উদযাপনও করেছে কেইন। কখনো লাফ দিয়ে ভাইয়ের কোলে উঠেছে কেইন। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বলে কথা। ইয়ামাল ও তাঁর ভাইয়ের এমন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস তো শিরোপাজয়ীদেরই মানায়।

১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে উদযাপন করতে গিয়ে স্পেনের পশ্চিমাঞ্চলে একটি ফোয়ারা ধসে পড়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে আজ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যম জানিয়েছে। এর আগে নিউজার্সিতে ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে শিরোপা নিশ্চিত করে স্পেন।




এনজোর লাল কার্ডই কি ডোবাল আর্জেন্টিনাকে?

ক্রীড়া ডেস্কঃ ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হয়ে উঠেছে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। এরপর অতিরিক্ত সময়ে একজন কম নিয়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচ শেষে তাই প্রশ্ন উঠেছে, এই লাল কার্ডই কি শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের আগে অবশ্য স্পেনই দাপট দেখাচ্ছিল। তবে মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ আর্জেন্টিনার খেলার ছন্দ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন। যোগ করা সময়ে নিকো উইলিয়ামসকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। ফলে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় লিওনেল স্কালোনির দলকে।

এনজো মাঠ ছাড়ার পর আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই স্পেনের দখলে চলে যায়। রদ্রি, পেদ্রি এবং মিকেল মেরিনো বলের দখল বাড়িয়ে একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলেন। একই সঙ্গে একজন কম নিয়ে খেলায় আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের ওপরও চাপ বেড়ে যায়।

অতিরিক্ত সময়ে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরোসহ রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের বেশি পরিশ্রম করতে হয়। ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্লান্তির ছাপও স্পষ্ট হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে।

এই চাপের মধ্যেই ম্যাচের ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের পাস থেকে ফেররান তোরেস গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন। শেষ দিকে লিওনেল মেসি কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি আর্জেন্টিনার।




আর্জেন্টাইনদের কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

ক্রীড়া ডেস্কঃ আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। এই জয়ে সব মিলিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুললো লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

এর আগে ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। টুর্নামেন্টে ফেভারিট হিসেবে খেলতে আসা স্পেন এতটাই গোছানো ফুটবল খেলেছে যে প্রতিপক্ষকে মাঠে কোণঠাসা করে ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রবিবার দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হয় দুই দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। বলের দখলে শুরু থেকেই আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে চাপের মুখে রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে লামিন ইয়ামাল গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করে। এরপর ১২তম মিনিটে স্পেন প্রথম কর্নার পেলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সতর্কতায় আর্জেন্টিনা বিপদমুক্ত থাকে।

খেলার প্রথম ৪৫ মিনিটে বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করে স্প্যানিশরা আর্জেন্টিনাকে কোণঠাসা করে রাখলেও, গোলমুখের তালা খুলতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। স্পেনের নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের সামনে মেসিদের রীতিমতো খুঁজে পেতে কষ্ট হয়েছে। বিপরীতে, আর্জেন্টিনাকে পুরো প্রথমার্ধে রক্ষণভাগ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।

গোল আদায়ে প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেছে স্পেন। তবে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বেশ কিছু আক্রমণ প্রতিহত করেন। এতে ৯০ মিনিটেও গোলের দেখা পায় না স্পেন। আর আর্জেন্টিনা তো প্রতিপক্ষের গোলে তেমন শটই নিতে পারেনি।

তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে পাউ কুবারসিকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ। তার বিদায়ের পর ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন কম নিয়ে খেলতে হওয়ায় স্কালোনির দলের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।

এদিকে, নির্ধারিত সময়ে খেলা গোলশূন্য সমতায় থাকায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়ায় ম্যাচ। পরে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে তোরেসের গোলে এগিয়ে যায় স্প্যানিশরা। বক্সের বাইরে থেকে ভেসে আসা বলটা মাঠের ভেতরে রাখেন নিকো উইলিয়ামস। সেটা অনেকটা ফাঁকায় পেয়ে যান ফেররান তোরেস। এরপরই তা আগুনে এক শটে জালে জড়ান তোরেস। পরে আর্জেন্টিনা গোল শোধের চেষ্টা করলেও ১০ জনের দল নিয়ে পেরে ওঠেনি স্পেনের সাথে। স্পেনও বাকি সময়ে আর গোলের দেখা পায়নি। এতে ১-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।




১০ গোলের রোমাঞ্চে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় ইংল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্কঃ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে গেলেও বিশ্বকাপ শেষটা দারুণভাবে রাঙিয়েছে ইংল্যান্ড। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলবন্যার এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্সরা। বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক, ডেকলান রাইসের দুর্দান্ত গোল এবং শেষদিকে জুড বেলিংহ্যামের একক নৈপুণ্যে জয় তুলে নেয় থমাস টুখেলের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। তৃতীয় মিনিটেই মাঝমাঠে ফ্রান্সের ডেজিরে দুয়ের ভুল পাস কেড়ে নিয়ে একক প্রচেষ্টায় গোল করেন ডেকলান রাইস। বল নিয়ে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের দারুণ বাঁকানো শটে গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁকে পরাস্ত করেন আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার।

১৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইংল্যান্ড। ডেকলান রাইসের নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে বক্সে উঠে আসা এজরি কনসা অসাধারণ হেডে জাল খুঁজে নেন। ফরাসি রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনায়াসেই গোল করেন এই ডিফেন্ডার।

ফ্রান্স তখনও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছে, কিন্তু ৩৭তম মিনিটে আবারও আঘাত হানে ইংল্যান্ড। মার্কাস রাশফোর্ডের পাস থেকে গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে পাঠান বুকায়ো সাকা। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও গোল করেন এই আর্সেনাল উইঙ্গার। এবারও আক্রমণের সূচনা করেন রাশফোর্ড, আর সহজ ফিনিশে প্রথমার্ধেই নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন সাকা। বিরতিতে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৮তম মিনিটে মাইকেল অলিসের পাস থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে ব্যবধান কমান কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে নিজের নবম গোল করে লিওনেল মেসির সর্বকালের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যার রেকর্ডেও ভাগ বসান ফরাসি অধিনায়ক।

মাত্র ছয় মিনিট পর আরেকটি গোল শোধ করে ফ্রান্স। ইংল্যান্ডের আক্রমণ ভেস্তে যাওয়ার পর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে ব্র্যাডলি বারকোলা গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন।

৬৭তম মিনিটে আবারও গোল করেন এমবাপ্পে। অলিসের পাস থেকে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে জাল কাঁপিয়ে ব্যবধান ৪-৩ করেন তিনি।

একসময় মনে হচ্ছিল, অসম্ভব এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে যাচ্ছে ফ্রান্স। কিন্তু সেই সম্ভাবনা শেষ করে দেন বুকায়ো সাকা। ৮৬তম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। তাতে ইংল্যান্ডের ব্যবধান বেড়ে হয় ৫-৩।

যোগ করা সময়েও নাটক থামেনি। ৯০+৬ মিনিটে দায়ো উপামেকানোর পাস থেকে ডান দিক দিয়ে ভেতরে ঢুকে জোরালো শটে গোল করেন ওসমান দেম্বেলে। ব্যবধান আবার এক গোলে নেমে আসে (৫-৪)।

তবে শেষ হাসি হাসে ইংল্যান্ডই। ৯০+৮ মিনিটে ম্যাচে শেষ আঘাতটি হানেন জুড বেলিংহ্যাম। বদলি হিসেবে নেমে মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর সপ্তম গোল। তার এই গোলেই ৬-৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে থমাস টুখেলের দল।

শেষ বাঁশি বাজার পর ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে মাঠ। অন্যদিকে, বিদায়ী ম্যাচে হার নিয়েও হাসিমুখে একে অপরকে আলিঙ্গন করেন ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল ও ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম।

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হলেও ১০ গোলের এই লড়াই দর্শকদের উপহার দিয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় এক ম্যাচ।




ইয়ামালের সাফল্য চাই, তবে ফাইনালে থামানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে: মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক : নিউইয়র্কে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আয়োজিত ফিফার ‘ফ্যানাটিক ফেস্ট’ যেন পরিণত হয়েছিল ফুটবলের এক মহা উৎসবে। সংবাদ সম্মেলন, আনুষ্ঠানিক ফটোসেশন ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে জমে ওঠা এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ছিল স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে নিয়ে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির মন্তব্য।

বার্সেলোনার এই তরুণ ফুটবলারের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ইয়ামাল ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। শৈশবে ইয়ামালের সঙ্গে তোলা নিজের সেই বহুল আলোচিত ছবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এখন ছবিটি আরও বিশেষ মনে হয়। সামনে ইয়ামালের ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে প্রশংসার পাশাপাশি ফাইনালের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথাও মনে করিয়ে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। হাসিমুখে মেসি বলেন, ‘আমি চাই ইয়ামাল অনেক সাফল্য অর্জন করুক। কিন্তু এই ফাইনালে তাকে থামাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাড়তি চাপের বিষয়েও কথা বলেন মেসি। তাঁর মতে, ফুটবলকে উপভোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্যারিয়ারে জয়ের চেয়ে হার থেকেই তিনি বেশি শিক্ষা পেয়েছেন, আর সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও পরিণত করেছে।

ফিফার আয়োজনে নিউইয়র্কের জাভিটস সেন্টারে সকাল থেকেই ছিল হাজারো সমর্থকের ভিড়। আর্জেন্টিনা ও স্পেন দুই দেশের সমর্থকেরাই প্রিয় তারকাদের একনজর দেখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি, গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস, স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ও অধিনায়ক রদ্রি। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন টেনিস কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ, হলিউড অভিনেতা কেভিন হার্ট এবং বাস্কেটবল তারকা কেভিন ডুরান্ট।

অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তে স্কালোনি ও দে লা ফুয়েন্তের করমর্দন, মেসি ও রদ্রির শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বিশ্বকাপ ট্রফির সামনে দুই দলের তারকাদের একসঙ্গে তোলা ছবি যেন মনে করিয়ে দিল ফাইনালের ৯০ মিনিটের লড়াইয়ের আগে ফুটবল আসলে বিশ্বের মানুষকে একত্রিত করারই সবচেয়ে বড় উৎসব।




হাফটাইম শো কতোটা দীর্ঘ হচ্ছে?

ক্রীড়া ডেস্ক : ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা নামতে চলেছে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখন এই ফাইনাল ঘিরে।

তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এবারের ফাইনাল আলোচনায় রয়েছে একটি ভিন্ন কারণে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে আয়োজন করা হচ্ছে ফিফার আনুষ্ঠানিক হাফটাইম শো বা বিরতিকালীন সংগীতানুষ্ঠান। গ্লোবাল সিটিজেনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই নতুন ফরম্যাটটি ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠবে বলে আশা করছে ফিফা।

এবারের এই জমকালো আয়োজনে পারফর্ম করবেন ক্রিস মার্টিন, জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা, বিটিএস এবং শাকিরার মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা। সংগীতানুষ্ঠানটি নিয়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও সময়সীমা নিয়ে তৈরি হয়েছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছিল যে, এবারের হাফটাইম শো হতে পারে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট দীর্ঘ। তবে শেষ পর্যন্ত ফিফা জানিয়েছে, পুরো বিরতির সময়সীমা আগের মতোই ১৭ মিনিট থাকবে, যার মধ্যে মূল সংগীতানুষ্ঠানটি হবে মাত্র ১১ মিনিটের।

অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এর আগে তো বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচে সংগীত পরিবেশনা দেখা গেছে, তাহলে একে কেন প্রথম আনুষ্ঠানিক শো বলা হচ্ছে? এর উত্তর হলো, এর আগে মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচে মানার পারফরম্যান্সটি ছিল মূলত মেক্সিকো সিটির বিদায়ী সংবর্ধনার অংশ। কিন্তু এবারের ফাইনালের এই অনুষ্ঠানটি বিশেষভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে ফিফার নিজস্ব ব্র্যান্ডিংয়ে, যা সরাসরি বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে জায়গা করে নিতে যাচ্ছে। ফুটবল ও বিনোদনের এই মিলনমেলা আজ খেলাটিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।




মেসিকে নিয়ে শাকিরার আবেগঘন বার্তা

ক্রীড়া ডেস্কঃ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির একটি ছবি শেয়ার করে তিনি বলেছেন, বয়সকে হার মানিয়ে যে ফুটবল খেলছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা, তা বর্তমান ক্রীড়াবিশ্বে এক অনন্য উদাহরণ।

নিজের বার্তায় শাকিরা লিখেছেন, মেসি শুধু একজন অসাধারণ ফুটবলারই নন, তিনি কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও অদম্য মানসিক শক্তির প্রতীক। সময়ের সঙ্গে লড়াই করে এবং নানা সমালোচনাকে উপেক্ষা করে তিনি যেভাবে নিজেকে শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রেখেছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর।

শাকিরার ভাষায়, “মেসি প্রমাণ করেছেন একজন মানুষকে কখনোই তার বয়স কিংবা অন্যের মন্তব্য দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। প্রতিভা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।”

তবে মেসির সাফল্যের পেছনে তার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোর ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন শাকিরা। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের সঙ্গী আন্তোনেলার সমর্থন ও ভালোবাসাই মেসিকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে।

শাকিরা বলেন, “আন্তোনেলার মতো একজন মানুষ পাশে থাকার কারণেই মেসি বারবার নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার শক্তি পান। একজন সফল মানুষের পেছনে পরিবারের সমর্থন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটির অন্যতম উদাহরণ তারা।”

শাকিরার এই প্রশংসা আন্তোনেলারও নজর এড়ায়নি। আর্জেন্টাইন তারকার স্ত্রী পরে সেই বার্তাটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন, যা ভক্তদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

এদিকে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী মহারণে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আর্জেন্টিনা। রবিবার রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে মেসির দল, আর স্পেন চাইবে নিজেদের ইতিহাসে আরও একটি বিশ্বকাপ শিরোপা যোগ করতে।