আইপিএল নিলাম: সবচেয়ে বড় পার্স কেকেআরের, বাকি দলগুলোর হাতে কত টাকা?

খেলাধুলা ডেস্কঃ কেউ প্রায় পুরো দল ধরে রেখেছে। আবার কেউ অধিনায়ককেই ছেড়ে দিয়েছে। কারও পকেটে রয়েছে মাত্র ২ কোটি টাকা। আবার কেউ ৬৪ কোটি নিয়ে নামবে আইপিএলের নিলামে।

মঙ্গলাবার (১৬ ডিসেম্বর) আবু ধাবিতে হবে এবারের আইপিএলের মিনি নিলাম। গতবার বড় নিলাম হওয়ায় এবার শুধু জায়গা পূরণের লক্ষ্যে নামবে প্রতিযোগিতার ১০ দল। প্রতিটি দলের চাহিদা আলাদা। দেখে নেওয়া যাক- নিলামে কোন দল কাদের নেওয়ার জন্য ঝাঁপাবে।

কলকাতা নাইট রাইডার্স

হাতে কত- ৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা

ধরে রাখা ক্রিকেটার- অজিঙ্ক রাহানে, অঙ্গকৃশ রঘুবংশী, অনুকুল রায়, হর্ষিত রানা, মণীশ পাণ্ডে, রমনদীপ সিংহ, রিঙ্কু সিংহ, রভম্যান পাওয়েল, সুনীল নারাইন, উমরান মালিক, বৈভব অরোরা ও বরুণ চক্রবর্তী।

জায়গা বাকি-  ১৩ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ৬ বিদেশি

জায়গা কোথায়- নিলামে সবচেয়ে বেশি টাকা নিয়ে নামবে কেকেআর। সবচেয়ে বেশি ক্রিকেটারও কিনতে হবে তাদের। দলে একজন বিদেশি ওপেনার প্রয়োজন। পাশাপাশি অধিনায়কও বদল করতে পারে কেকেআর। আন্দ্রে রাসেলকে ছেড়ে দেওয়ায় এক বিদেশি অলরাউন্ডারের খোঁজ করতে হবে শাহরুখ খানদের। পাশাপাশি বিদেশি পেসারের দিকেও নজর থাকবে কেকেআরের।

নজরে কারা-  ক্যামেরন গ্রিন, বেঙ্কটেশ আয়ার, পৃথ্বী শ, সরফরাজ় খান, কুইন্টন ডি’কক, জেমি স্মিথ, জনি বেয়ারস্টো, মাথিসা পাথিরানা, ম্যাট হেনরি।

চেন্নাই সুপার কিংস

হাতে কত- ৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা

ধরে রাখা ক্রিকেটার- মহেন্দ্র সিংহ ধোনি, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, আয়ুষ মাত্রে, সঞ্জু স্যামসন (নিলামের আগে ট্রেডে নেওয়া), শিবম দুবে, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, নুর আহমেদ, অংশুল কম্বোজ, নেথান এলিস, খলিল আহমেদ, উর্বিল পটেল, গুরজপনীত সিংহ, মুকেশ চৌধরী, রামকৃষ্ণ ঘোষ, শ্রেয়স গোপাল ও জেমি ওভারটন।

জায়গা বাকি-  ৯ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ৪ বিদেশি।

জায়গা কোথায়- মিডল অর্ডারে দু’জন ব্যাটার প্রয়োজন চেন্নাইয়ের। রবীন্দ্র জাডেজা ও স্যাম কারেন না থাকায় অলরাউন্ডার দরকার তাদেরে। পাশাপাশি এক বিদেশি স্পিনার ও বিদেশি পেসার নেওয়ার দিকেও নজর থাকবে ধোনিদের।

নজরে কারা- ক্যামেরন গ্রিন, বেঙ্কটেশ আয়ার, লিয়াম লিভিংস্টোন, জেসন হোল্ডার, মাইকেল ব্রেসওয়েল, মুস্তাফিজ়ুর রহমান।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু

হাতে কত- ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা

ধরে রাখা ক্রিকেটার- রজত পাটীদার, ফিল সল্ট, বিরাট কোহলি, দেবদত্ত পড়িক্কল, টিম ডেভিড, জিতেশ শর্মা, ক্রুণাল পাণ্ড্য, রোমারিয়ো শেফার্ড, ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হেজ়লউড, সুযশ শর্মা, যশ দয়াল, রসিখ দার, অভিনন্দন সিংহ, স্বপ্নিল সিংহ, জেকব বেথেল ও নুয়ান তুষারা।

জায়গা বাকি- ৮ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ২ বিদেশি।

জায়গা কোথায়- দলে খুব বেশি ফাঁক নেই গত বারের চ্যাম্পিয়নদের। তবে হেজ়লউডের চোট থাকায় বিদেশি পেসারের দিকে নজর খাকবে তাদের। পাশাপাশি ভারতীয় ব্যাটারের দিকে নজর রাখবে কোহলিদের দল।

নজরে কারা- লুঙ্গি এনগিডি, আলজারি জোসেফ, তাসকিন আহমেদ, স্পেনসার জনসন, সরফরাজ় খান।

লখনৌ সুপার জায়ান্টস

হাতে কত- ২২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা

ধরে রাখা ক্রিকেটার- ঋষভ পন্থ, আব্দুল সামাদ, এডেন মার্করাম, আকাশ সিংহ, অর্জুন তেন্ডুলকর (নিলামের আগে ট্রেডে নেওয়া), আর্শিন কুলকর্ণি, আবেশ খান, আয়ুষ বাদোনি, দিগ্বেশ রাঠী, হিম্মত সিংহ, এম সিদ্ধার্থ, ম্যাথু ব্রিৎজ়কে, মায়াঙ্ক যাদব, মহম্মদ শামি (নিলামের আগে ট্রেডে নেওয়া), মিচেল মার্শ, মহসিন খান, নিকোলাস পুরান, প্রিন্স যাদব ও শাহবাজ় আহমেদ।

জায়গা বাকি- ৬ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ৪ বিদেশি।

জায়গা কোথায়- মিডল অর্ডারে ভাল বিদেশি দরকার লখনউয়ের। বোলিং আক্রমণে ভারতীয়দের আধিক্য রয়েছে। ফলে ভাল বিদেশি পেসারও চাইবেন সঞ্জীব গোয়েন্‌কারা।

নজরে কারা- জেসন হোল্ডার, আলজারি জোসেফ, অনরিখ নোখিয়া, উইয়ান মুল্ডার।

গুজরাত টাইটান্স

হাতে কত- ১২ কোটি ৯০ লাখ টাকা

ধরে রাখা ক্রিকেটার- শুভমন গিল, সাই সুদর্শন, জস বাটলার, ওয়াশিংটন সুন্দর, গ্লেন ফিলিপস, শাহরুখ খান, রাহুল তেওতিয়া, রশিদ খান, সাই কিশোর, কাগিসো রাবাডা, মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, অনুজ রাওয়াত, গুরনুর সিংহ ব্রার, ইশান্ত শর্মা, জয়ন্ত যাদব, কুমার কুশাগ্র, মানব সুথার, আরশাদ খান ও নিশান্ত সিন্ধু।

জায়গা বাকি- ৫ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ৪ বিদেশি।

জায়গা কোথায়-  বেশি ফাঁক না থাকলেও দলে বিদেশির সংখ্যা কম। শারফেন রাদারফোর্ডের মতো মিডল অর্ডারে খেলা বিদেশির বিকল্প নেওয়ার চেষ্টা করবে তারা। বিদেশি পেসারের দিকেও তাদের নজর থাকবে।

নজরে কারা- ডেভিড মিলার, লিয়াম লিভিংস্টোন, কুশল মেন্ডিস, জনি বেয়ারস্টো, ম্যাট হেনরি, অনরিখ নোখিয়া, জেকব ডাফি, অ্যাডাম মিলনে।

রাজস্থান রয়্যালস

হাতে কত- ১৬ কোটি ০৫ লাখ টাকা

ধরে রাখা ক্রিকেটার- বৈভব সূর্যবংশী, যশস্বী জয়সওয়াল, স্যাম কারেন (নিলামের আগে ট্রেডে নেওয়া), রিয়ান পরাগ, শিমরন হেটমায়ের, ধ্রুব জুরেল, ডোনোভান ফেরেইরা, রবীন্দ্র জাডেজা (নিলামের আগে ট্রেডে নেওয়া), জফ্রা আর্চার, তুষার দেশপাণ্ডে, সন্দীপ শর্মা, কেওয়ান মাফাকা, লুয়ান ড্রে প্রিটোরিয়াস, নান্দ্রে বার্গার, শুভম দুবে ও যুদ্ধবীর চড়ক।

জায়গা বাকি- ৯ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ১ বিদেশি।

জায়গা কোথায়- মাত্র এক বিদেশিই নিতে পারবে তারা। তবে অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসনকে ছেড়ে দেওয়ায় নতুন অধিনায়ক লাগবে তাদের। সেই জায়গায় দেখা যেতে পারে রিয়ান পরাগকে। ভারতীয় স্পিনার লাগবে তাদের।

নজরে কারা-  রবি বিশ্নোই, রাহুল চহার, বিগ্নেশ পুথুর, সরফরাজ় খান।

দিল্লি ক্যাপিটালস

হাতে কত- ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

ধরে রাখা ক্রিকেটার- অক্ষর পটেল, লোকেশ রাহুল, অভিষেক পোড়েল, নীতীশ রানা, করুণ নায়ার, সমীর রিজ়ভি, ট্রিস্টান স্টাবস, আশুতোষ শর্মা, বিপরাজ নিগম, মিচেল স্টার্ক, কুলদীপ যাদব, মুকেশ কুমার, টি নটরাজন, অজয় মণ্ডল, মাধব তিওয়ারি, ত্রিুপুর্ণ বিজয় ও দুষ্মন্ত চামিরা।

জায়গা বাকি- ৮ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ৫ বিদেশি।

জায়গা কোথায়-  ফাফ ডুপ্লেসি চলে যাওয়ায় টপ অর্ডারে ভাল বিদেশি দরকার। পাশাপাশি মিচেল স্টার্কেরও বিকল্প তৈরি রাখতে হবে তাদের।

নজরে কারা- কুইন্টন ডি’কক, পাথুম নিশঙ্ক, জেমি স্মিথ, জনি বেয়ারস্টো, মাথিশা পাথিরানা, ম্যাট হেনরি ও মুস্তাফিজ়ুর রহমান।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ

হাতে কত- ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

ধরে রাখা ক্রিকেটার- প্যাট কামিন্স, অভিষেক শর্মা, অনিকেত বর্মা, ব্রাইডন কার্স, ইশান মালিঙ্গা, হর্ষ দুবে, হর্ষল পটেল, হাইনরিখ ক্লাসেন, ঈশান কিশন, জয়দেব উনাদকাত, কামিন্দু মেন্ডিস, নীতীশ কুমার রেড্ডি, আর স্মরণ, ট্রেভিস হেড ও জিশান আনসারি।

জায়গা বাকি- ১০ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ২ বিদেশি।

জায়গা কোথায়- ডেথ ওভারে বল করার মতো পেসারের খোঁজ করবে হায়দরাবাদ। পাশাপাশি নীতীশ রেড্ডির ফর্ম খারাপ থাকায় মিডল অর্ডারেও ব্যাটারের দিকে নজর থাকবে তাদের।

নজরে কারা- আকাশদীপ, সরফরাজ় খান, লিয়াম লিভিংস্টোন।

পাঞ্জাব কিংস

হাতে কত- ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

ধরে রাখা ক্রিকেটার-  শ্রেয়স আয়ার, অর্শদীপ সিংহ, আজমাতুল্লা ওমরজাই, হারনুর সিংহ পান্নু, হরপ্রীত ব্রার, লকি ফার্গুসন, মার্কো জানসেন, মার্কাস স্টোইনিস, মিচ ওয়েন, মুশির খান, নেহাল ওয়াধেরা, প্রভসিমরন সিংহ, প্রিয়াংশ আর্য, পি অবিনাশ, শশাঙ্ক সিংহ, সূর্যাংশ শেরগে, বিষ্ণু বিনোদ, বিজয়কুমার বৈশাখ, জ়েভিয়ার বার্টলেট, যশ ঠাকুর ও যুজবেন্দ্র চহল।

জায়গা বাকি-  ৪ ক্রিকেটার আর এর মধ্যে ২ বিদেশি।

জায়গা কোথায়-  সবচেয়ে বেশি ক্রিকেটার ধরে রেখেছে পঞ্জাব। দলে খুব একটা ফাঁক নেই গত বারের ফাইনালিস্টদের। তবে এক বিদেশি উইকেটরক্ষক ও পেসারের দিকে নজর রাখতে পারে তারা।

নজরে কারা-  শাই হোপ, জনি বেয়ারস্টো, ম্যাট হেনরি, অনরিখ নোখিয়া, রাহুল চহার, রবি বিশ্নোই।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স

হাতে কত- ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা

ধরে রাখা ক্রিকেটার- হার্দিক পাণ্ড্য, শার্দূল ঠাকুর (নিলামের আগে ট্রেডে নেওয়া), শারফেন রাদারফোর্ড (নিলামের আগে ট্রেডে নেওয়া), মায়াঙ্ক মারকণ্ডে (নিলামের আগে ট্রেডে নেওয়া), আল্লা গজ়নফর, অশ্বনী কুমার, কর্বিন বশ, দীপক চহার, জসপ্রীত বুমরাহ, মিচেল স্যান্টনার, নমন ধীর, রঘু শর্মা, রোহিত শর্মা, রাজ অঙ্গদ বাওয়া, রবিন মিঞ্জ, রায়ান রিকেলটন, সূর্যকুমার যাদব, তিলক বর্মা, ট্রেন্ট বোল্ট ও উইল জ্যাকস।

জায়গা বাকি- ৫ ক্রিকেটার আর এর মধে ১ বিদেশি।

জায়গা কোথায়-  সবচেয়ে কম টাকা নিয়ে নিলামে নামবে মুম্বাই। ফলে বেশি লড়াই করতে পারবে না তারা। অন্তত এক বিদেশি কেনার চেষ্টা করবে হার্দিকদের দল। রিকেলটন ফর্মে না থাকায় বিকল্প বিদেশি উইকেটরক্ষকের দিকে নজর থাকবে তাদের।

নজরে কারা-  জনি বেয়ারস্টো, কুশল মেন্ডিস, জেমি স্মিথ, টিম সেইফার্ট।




দলে থেকেও মাঠে নামা হলো না নাহিদার, বিসিএল নিয়ে আক্ষেপ

খেলাধুলা ডেস্কঃ মাঠে ফেরার জন‍্য অপেক্ষা বাড়ছে নাহিদা আক্তারের। নারীদের জাতীয় ক্রিকেট লিগের (ডব্লিউএনসিএল) পর বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগেও (ডব্লিউবিসিএল) খেলা হচ্ছে না অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি স্পিনারের।

তবে চোট কাটিয়ে বিসিএল দিয়ে মাঠে ফিরছেন নিগার সুলতানা ও মারুফা আক্তার। চার দল নিয়ে ডব্লিউবিসিএল রাজশাহীতে শুরু হয়েছে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর)। আগামী মাসে নেপালে অনুষ্ঠেয় ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতির ভালো সুযোগ এই টুর্নামেন্ট।

চোটের জন‍্য গত নভেম্বরে ডব্লিউএনসিএলে খেলেননি জাতীয় দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও পেসার মারুফা। সেরে ওঠায় সেন্ট্রাল জোনকে নেতৃত্বে আছেন কিপার-ব‍্যাটার নিগার। সাউথ জোনের হয়ে খেলবেন মারুফা। নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ জানিয়েছেন, পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় নাহিদা এই টুর্নামেন্টেও খেলবেন না।

ভারত সফর বাতিল হওয়ার পর ফাঁকা হয়ে যাওয়া সূচি কাজে লাগাতে এগিয়ে আনা হয়েছে ডব্লিউবিসিএল। নারী বিভাগের ম্যানেজার বুলবুল বাশার জানান, বিশ্বকাপ বাছাইয়ের জন‍্য প্রস্তুতিই তাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, সামনে জানুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। তাই আমরা টি-টোয়েন্টি সংস্করণেই খেলছি। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য মেয়েদের নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেওয়াই উদ্দেশ্য।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন অধিনায়কসহ চারটি দলের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি। টুর্নামেন্টে মোট ম‍্যাচ হবে ১২টি। প্রতি দিন হবে দুইটি করে ম্যাচ, পরদিন বিরতি। প্রতিটি দল দুবার করে মুখোমুখি হবে। ২৫ ডিসেম্বর শেষ হবে টুর্নামেন্ট।

রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে সকাল ৯টায়, দ্বিতীয় ম্যাচ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। উদ্বোধনী ম্যাচে সেন্ট্রাল জোনের প্রতিপক্ষ নর্থ জোন। পরের ম‍্যাচে খেলবে সাউথ জোন ও ইস্ট জোন।




কনুইয়ের গুঁতো ও নখের আছড়ে বিশৃঙ্খলা, মাঠ ছাড়লেন মেসিরা

খেলাধুলা ডেস্কঃ দুই যুগ পর ভারতে পা রেখে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়লেন আর্জেন্টাইন ফুটবল সুপারস্টার লিওনেল মেসি। জিওএটি ট্যুরের অংশ হিসেবে কলকাতায় আসার পর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই আয়োজকদের অব্যবস্থাপনায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। মেসিকে সরাসরি দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা ভাঙচুর চালান।

পরে আয়োজক প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ঘটনার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ক্ষমা চান। এই বিশৃঙ্খলার খবর ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও।

কলকাতার সেই দিনের ঘটনা নিয়ে ধীরে ধীরে সামনে আসছে নানা অস্বস্তিকর তথ্য। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক হয়ে ওঠে যে, নিজ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা অনুভব করতে শুরু করেন লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ, রদ্রিগো ডি পল।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যুবভারতীর চার ও পাঁচ নম্বর গ্যালারির মাঝের পথে এসে থামে মেসির গাড়ি। গাড়ি থেকে নামতেই তাকে ঘিরে ধরেন শতাধিক মানুষ। উদ্যোক্তা, আলোকচিত্রী, রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী এবং তাদের ঘনিষ্ঠজনদের ভিড়ে মেসি কার্যত আটকে পড়েন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মেসির গায়ে কার্যত লেপ্টে ছিলেন। প্রভাবশালীদের ভিড় মেসির সঙ্গে সঙ্গে এগোতে থাকে এবং ছবি তোলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে মরিয়া সেলফি শিকারিদের একজনের কনুইয়ের গুঁতো লাগে লুইস সুয়ারেজের পেটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আরেকজনের নখের আছড় লাগে রদ্রিগো ডি পলের হাতে।

মুখে হাসি ধরে রাখার চেষ্টা করলেও স্পষ্ট অস্বস্তিতে ছিলেন মেসি। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা আর ঝুঁকি নেননি। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে মেসি, সুয়ারেজ, ডি পলদের মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ওইদিন মাঠে উপস্থিত ভারতের ফুটবলারদের কেউ কেউ এই দৃশ্য লক্ষ্য করেন। রহিম নবি বলেন, অনেকেই মেসি, সুয়ারেজ, ডি পলদের ঘাড়ের কাছে চলে যাচ্ছিলেন। কয়েক মিনিট পরিস্থিতি দেখে মেসি নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে মাঠ ছাড়েন। দূর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল ভিড়ের মধ্যে তিনি অস্বস্তিতে ছিলেন।

দীপেন্দু বিশ্বাস জানান, পেনাল্টি নেওয়ার কথা ছিল মেসির। সে জন্য তিনি গোলপোস্টের দিকেও যাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে আবার ভিড়ের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সংগ্রাম মুখোপাধ্যায়ের ভাষ্য, মেসিকে ঠিকমতো হাঁটতেও দেওয়া হচ্ছিল না, কোনও দিক দিয়েই ভিড় থেকে বেরোতে পারছিলেন না।

ঘটনার পেছনে অব্যবস্থাপনার একের পর এক চিত্র উঠে এসেছে। ন্যূনতম পরিকল্পনার অভাবের পাশাপাশি দায়িত্বশীল পক্ষগুলোর মধ্যে কোনও সমন্বয় ছিল না। আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, পশ্চিমবঙ্গের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু ও ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের মধ্যে মেসিকে দখলে নেওয়ার প্রতিযোগিতাই বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত করে।

শুক্রবার দিবাগত রাতে কলকাতায় পৌঁছানোর পর মেসিকে নিজের দখলে নেন সুজিত বসু। হায়াত রিজেন্সি হোটেলে মেসিকে ঘিরে থাকেন তার লোকজন। শ্রীভূমির সামনে ৭০ ফুট মূর্তি উন্মোচনসহ সারাক্ষণই মেসির পাশে ছিলেন তিনি এবং মঞ্চে হাজির করেন তার মেয়েকেও।

মেসি মাঠে ঢুকতেই সেই দখল চলে যায় ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের হাতে। মাঠে ঢোকার পর তাকে ঘিরে ধরেন অরূপ ও তার ঘনিষ্ঠরা। ছবি তোলার টানাহ্যাচড়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এক পর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীরা অরূপ বিশ্বাসকে সরিয়ে দেন।

এমন অস্বস্তিকর পরিবেশে প্রায় এক ঘণ্টা থাকার কথা থাকলেও মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই মাঠ ছাড়েন লিওনেল মেসি। তার এই দ্রুত প্রস্থান হাজার হাজার দর্শকের হতাশা ও ক্ষোভকে আরও উসকে দেয়।

ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ ছিল নিয়ন্ত্রণহীন ভিআইপি সংস্কৃতি। এনডিটিভি লিখেছে, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের ভিড়ের কারণেই সাধারণ দর্শকেরা মেসিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাননি।




যুব এশিয়া কাপে টানা জয়ে বাংলাদেশের দাপট

খেলাধুলা ডেস্কঃ নেপালকে সাত উইকেটে হারিয়ে যুব এশিয়া কাপে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। এর মধ্যে দিয়ে সেমিফাইনাল এক পা দিয়েছে যুবা টাইগাররা।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুবাইয়ে টসে জিতে আগে নেপালকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। মাত্র ১৩০ রানের মাথাতে অলআউট হয়ে যায় নেপাল। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩০ রানের ইনিংস খেলেন অভিষেক তিওয়ারি।

বাংলাদেশের হয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ সবুজ। ২টি করে উইকেট নেন সাদ ইসলাম, শাহরিয়ার আহমেদ এবং আজিজুল হাকিম তামিম। ১ উইকেট নিয়েছেন শাহরিয়া আল-আমিন।

জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশকে আগ্রাসী শুরু এনে দেন ওপেনার জাওয়াদ আবরার। তবে ৪র্থ ওভারের প্রথম দুই বলে রিফাত বেগ এবং আজিজুল হাকিম তামিমের উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ৭ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন রিফাত। তামিম আউট হন ১ বলে ১ রান করে। এরপর জাওয়াদের সাথে জুটি বাঁধেন কালাম সিদ্দিকী অ্যালেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে শুভ সূচনা এনে দেন ওপেনার জাওয়াদ আবরার। তবে ৪র্থ ওভারের প্রথম দুই বলে রিফাত বেগ এবং আজিজুল হাকিম তামিমের উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ৭ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন রিফাত। তামিম আউট হন ১ বলে ১ রান করে। এরপর জাওয়াদের সাথে জুটি বাঁধেন কালাম সিদ্দিকী অ্যালেন।

এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন জাওয়াদ। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন কালামও। দুজনের কার্যকরী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস। কিছুটা চালিয়ে খেলেছেন জাওয়াদ। তুলে নেন দারুণ এক ফিফটিও। আগের ম্যাচেও ম্যাচ জেতানো ফিফটি হাঁকিয়েছিলেন জাওয়াদ আবরার।

শেষে ৬৬ বলে ৩৪ রান করে বিদায় নেন অ্যালেন। জাওয়াদ শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ৬৮ বলে ৭০ রান করে টিকে ছিলেন জাওয়াদ। ৮ বলে ১২ রান করে টিকে ছিলেন রিজান হোসেন। ১৫১ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ।

আগামী ১৭ ডিসেম্বর (বুধবার) বাংলাদেশ পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে।




মেসিকে ভারতে আনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু আটক

ক্রীড়া ডেস্কঃ তিন দিনের সফরে এখন ভারতে আছেন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। সফরের প্রথম দিনেই কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে চরম অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছেন গ্যালারিভর্তি দর্শক।

মেসিকে ঠিক মতো দেখতেই পাননি কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালিয়েছেন। ফুটবলভক্তদের ক্ষোভের মুখে অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তকে আটক করেছে কলকাতা পুলিশ।

কলকাতা পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল জায়েদ শামিম বলেন, ‘এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে, এক্ষেত্রে কোন ধারা দেওয়া হবে তা আমরা বিবেচনা করছি। বিশৃঙ্খলার ঘটনা সল্ট লেকে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি এবং এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কারা দায়ী তা চিহ্নিত করতে কাজ চলছে। এতে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রধান উদ্যোক্তাকে আটক করা হয়েছে ইতোমধ্যে।’

সমর্থকদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার যৌক্তিকতাও আছে বলে মনে করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘ভক্তরা খুবই বাজে আচরণের শিকার হয়েছেন। এখানে কোথায় কী দুর্বলতা ছিল এবং তাতে কারা দায়ী তা খুঁজে বের করতে হবে। পুরো ঘটনাটিই ভালোভাবে তদন্ত করা হবে।’

এর আগে চরম অব্যবস্থাপনার জন্য মেসির কাছে ক্ষমা চান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এক্সে দেওয়া তিনি লেখেন, ‘আজ সল্টলেক স্টেডিয়ামে যে অব্যবস্থাপনা হয়েছে, তাতে আমি গভীরভাবে বিচলিত ও মর্মাহত। আমি নিজেও হাজার হাজার ক্রীড়াপ্রেমীর সঙ্গে প্রিয় ফুটবলার মেসিকে দেখতে অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ছিলাম।’

মেসির কাছে ক্ষমা চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য আমি আন্তরিকভাবে লিওনেল মেসি এবং সব ক্রীড়াপ্রেমী ও তার ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইছি।’  মমতা জানান, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব থাকবেন।

মমতা ব্যানার্জি লেখেন, ‘কমিটি এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করবে, দায় ঠিক করবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে সুপারিশ দেবে। আবারও সব ক্রীড়াপ্রেমীর কাছে আমার আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থনা।’




ক্যাম্প ন্যুতে ভাঙচুরের ঘটনায় ইউয়েফার দ্বারস্থ বার্সেলোনা

খেলাধুলা ডেস্কঃ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে জয়ের পর ক্যাম্প ন্যূতে বার্সেলোনার হোম স্টেডিয়াম ক্যাম্প ন্যূতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। জার্মান ক্লাবের সমর্থকরা স্টেডিয়ামটির আসন ভাঙচুর, পার্টিশন ধ্বংস ও টয়লেট নষ্ট করে দিয়েছেন। এমনকি উপরের সারিতে বসা সমর্থকরা নিচে থাকা বার্সা সমর্থকদের দিকে বস্তু ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটেছে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্সেলোনা স্টেডিয়ামের ক্ষতির বিস্তারিত নথি ইউয়েফার কাছে জমা দিয়েছে। ক্লাব আশা করছে, ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেবে। বার্সা দাবি করছে, অভিযুক্ত ফ্রাঙ্কফুর্ট সমর্থকদের বিরুদ্ধে অন্তত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।

ঘটনার পাশাপাশি টিকিট ব্যবস্থাপনাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রায় ৫০০টি সন্দেহজনক টিকিট বিক্রির লেনদেন ধরা পড়েছে। বার্সা ধারণা করছে, প্রায় ১,০০০ ফ্রাঙ্কফুর্ট সমর্থক অফিসিয়াল টিকিট ছাড়া স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেছে। ইউয়েফা বর্তমানে পুরো প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছে।




ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ নারী দলের আট ধাপ অবনতি

খেলাধুলা ডেস্কঃ চার ম্যাচে টানা হারের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের র‍্যাঙ্কিংয়ে। ৮ ধাপ পিছিয়ে বর্তমানে ১১২ নম্বরে অবস্থান করছে তারা।

এর আগে আগস্ট মাসের ৭ তারিখ প্রকাশিত ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে মেয়েরা ২৪ ধাপ এগিয়ে ১০৪তম অস্থানে উঠেছিল। আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মেয়েদের নতুন ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনতি হয়েছে বাংলাদেশ দলের।

আগে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ছিল ১১৭৯.৮৭৩। নতুন প্রকাশিত র‍্যাঙ্কিংয়ে ১২.২৬ রেটিং পয়েন্ট কমেছে বাংলাদেশের। এখন তাদের রেটিং পয়েন্ট ১১৬৭.৬১১।

গত চার মাসে চারটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। তার সবগুলোই হেরেছে। অক্টোবরে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচে ৩-০ ও ৫-১ গোলে হারে বাংলাদেশ।

নভেম্বর ও ডিসেম্বরে তিন জাতি নিয়ে টুর্নামেন্টেও দুটি ম্যাচে হারে তারা। মালয়েশিয়ার কাছে ১-০ ও আজারবাইজানের কাছে ২-১ গোলে হারে বাংলাদেশ দল। এই চার ম্যাচে ১১টি গোল হজমের বিপরীতে মাত্র ২ গোল করতে পারে বাংলাদেশ।

মেয়েদের ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে স্পেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুইয়ে।




দ্বিতীয়বার টানা সেরা খেলোয়াড় মেসি

খেলাধুলা ডেস্কঃ লিওনেল মেসি যেন থামতেই জানেন না। আবারও ইতিহাস গড়ে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) সেরা খেলোয়াড়ের (এমভিপি) মুকুট জিতলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। টানা দ্বিতীয়বার এই পুরস্কার জিতে এমএলএস ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অনন্য রেকর্ড গড়লেন ৩৮ বছর বয়সী ফুটবল জাদুকর।

ইন্টার মায়ামির হয়ে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটিয়েছেন মেসি। লিগে সর্বোচ্চ ২৯ গোল ও ১৯ অ্যাসিস্ট করে দলকে এমএলএস কাপ জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। এমএলএস-এ এক মৌসুমে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও।

পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত মেসি বলেন, “এই পুরস্কার পেয়ে আমি সত্যিই খুশি। টানা দুই বছর জিতে এমএলএস ইতিহাসে প্রথম হতে পেরে গর্বিত। এই সম্মান আমি আমার সতীর্থদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি। তাদের ছাড়া কিছুই সম্ভব হতো না।”

এর আগে, এমএলএস ইতিহাসে দুইবার এমভিপি জেতার রেকর্ড ছিল কেবল প্রেকির-১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে।

ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন মেসি। ২০২৪ মৌসুমে ১৯ ম্যাচে ২০ গোল ও ১৬ অ্যাসিস্ট করে জিতেছিলেন আগের এমভিপি। ২০২৩ সালে পিএসজি থেকে মায়ামিতে যোগ দিয়েই প্রথম মৌসুমে দলকে এনে দেন লিগস কাপ। পরে আরেক মৌসুমে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে সাপোর্টার্স শিল্ড জিতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা।

টানা দুই বছর শীর্ষে থেকে মেসি আবারও প্রমাণ করলেন এখনও তিনি ফুটবলের সেরাদের সেরা। আরও দেখার বাকি আছে মেসি জাদু!




বিগ ব্যাশে রিশাদ হোসেনের ম্যাচসূচি প্রকাশ

খেলাধুলা ডেস্কঃ সাকিব আল হাসানের পরে দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ বিগ ব্যাশে খেলতে যাচ্ছেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে এবারই প্রথম মাঠে নামবেন তিনি। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন এই তরুণ স্পিনার।

গত মৌসুমেও হোবার্ট হারিকেন্স রিশাদকে দলে ভিড়িয়েছিল; তবে বিসিবির অনুমতি (এনওসি) না পাওয়ায় খেলতে পারেননি তিনি। সেই মৌসুমেই শিরোপা জিতেছিল হোবার্ট। এবার শিরোপা ধরে রাখার মিশনে দলে যুক্ত হলো বাংলাদেশের উদীয়মান এই লেগস্পিনার।

২০২৪-২৫ মৌসুমে হোবার্ট হারিকেন্স তাদের অভিযান শুরু করবে ১৬ ডিসেম্বর সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে।

ডিসেম্বর মাসে গ্রুপপর্বে আরও চারটি ম্যাচ খেলবে হোবার্ট। জানুয়ারিতে বাকি পাঁচটি ম্যাচ মাঠে গড়াবে। আগামী ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বিগ ব্যাশের ফাইনাল।

হোবার্ট হারিকেন্সের পূর্ণ সূচি (বাংলাদেশ সময়)

১৬ ডিসেম্বর হোবার্ট হারিকেন্স – সিডনি থান্ডার দুপুর ২টা ১৫
১৮ ডিসেম্বর হোবার্ট হারিকেন্স – মেলবোর্ন স্টার্স দুপুর ২টা ১৫
২১ ডিসেম্বর হোবার্ট হারিকেন্স – মেলবোর্ন রেনেগেডস দুপুর ২টা ১৫
২৬ ডিসেম্বর হোবার্ট হারিকেন্স – পার্থ স্কোরচার্স বিকাল ৪টা ১৫
২৯ ডিসেম্বর হোবার্ট হারিকেন্স – মেলবোর্ন রেনেগেডস দুপুর ২টা ১৫
১ জানুয়ারি হোবার্ট হারিকেন্স – পার্থ স্কোরচার্স দুপুর ২টা ১৫
৩ জানুয়ারি হোবার্ট হারিকেন্স – সিডনি থান্ডার দুপুর ২টা ১৫
৯ জানুয়ারি হোবার্ট হারিকেন্স – অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স দুপুর ২টা ১৫
১১ জানুয়ারি হোবার্ট হারিকেন্স – সিডনি সিক্সার্স সকাল ৯টা ৫
১৪ জানুয়ারি হোবার্ট হারিকেন্স – ব্রিসবেন হিট দুপুর ২টা ১৫




পুরানের অভিনব কৌশল‘নন-স্টাম্পিং’ দেখে অবাক ক্রিকেট বিশ্ব

খেলাধুলা ডেস্কঃ আবুধাবিতে আইএলটি২০’র ম্যাচে ১ রানের ব্যবধানে এমআই এমিরেটসেকে হারিয়েছে ভাইপার্স। তবে ক্রিকেট বিশ্ব আলোচনায় এসেছে নিকোলাস পুরানের এক অদ্ভুত সিদ্ধান্তকে ঘিরে।

ম্যাচের ১৬তম ওভারে, রশিদ খানের বলে ম্যাক্স হোল্ডেন মারতে গিয়ে পুরোপুরি মিস করেন। স্পষ্ট সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ম্যাক্স হোল্ডেনকে স্টাম্প না করা—এটাই ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত। পরে ভাইপার্স তাকে রিটায়ার্ড আউট ঘোষণা করলে বিষয়টি আরও আগুন ধরায় ক্রিকেটমহলে।

টি-টোয়েন্টিতে কৌশলগত কারণে ব্যাটারকে রিটায়ার্ড আউট করা বৈধ। একইভাবে ব্যাটার বের হলে স্টাম্পিং বাধ্যতামূলক নয়। ফলে পুরানের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি আইনি।

এদিকে, ভাইপার্স শেষ ৪ ওভারে ৪১ রান তুলে ১৫৯/৪ এ পৌঁছায়। এমআই এমিরেটস ১৫৮/৯ এ থামে। সামাজিক মাধ্যমে কিছু সমর্থক ‘ফিক্সিং’–এর অভিযোগ তুললেও, ক্রিকেটবিশ্বে এটিকে ‘ট্যাকটিকাল নন-স্টাম্পিং’ হিসেবে প্রশংসা করা হচ্ছে।

পুরানের কৌশল একটি উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছে, কীভাবে আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কৌশলগত সিদ্ধান্ত ম্যাচ ঘোরাতে পারে।