বিশ্বকাপে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পুরস্কার, লাভবান বাংলাদেশও

ক্রীড়া ডেস্কঃ ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে এবার অংশ নিয়েছে ৪৮টি দল। তবে বাছাইপর্বে অংশ নেয় বিশ্বের প্রায় সব দেশের জাতীয় দল। বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ সদস্য দেশগুলোর উন্নয়ন কার্যক্রমে বরাদ্দ দেয় ফিফা। সেই অর্থের অংশ পাবে বাংলাদেশও।

এবারের বিশ্বকাপে রেকর্ড পরিমাণ ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেছে ফিফা, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি।

গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পেয়েছে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার, রানার্সআপ ৩৩ মিলিয়ন, তৃতীয় স্থান অধিকারী দল ২৯ মিলিয়ন এবং চতুর্থ স্থান পাওয়া দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছে ২০ মিলিয়ন ডলার করে। রাউন্ড অব ১৬ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল ১৬ মিলিয়ন ডলার এবং দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছে ১২ মিলিয়ন ডলার করে। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলকে প্রস্তুতি ও যাতায়াত ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত আড়াই মিলিয়ন ডলারও দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেন, ‘যখন দলের সংখ্যা বাড়ানো হয় তখন অন্যান্য দলগুলোও উৎসাহিত হবে এই ভেবে যে–আমারও হয়তো সুযোগ রয়েছে। এশিয়া কিংবা আফ্রিকার দিকে দেখলে দেখা যাবে। দলের সংখ্যা যেহেতু বাড়ছে, সেহেতু কোয়ালিফাই করার জন্য প্রতিযোগিতাটাও বাড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপ থেকে ফিফা যে আয় করে, তার একটি অংশ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। যেমন বড় শো, প্রাইজ মানিও আকাশ ছোঁয়া। এবার সব মিলিয়ে ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। লভ্যাংশ থেকে ফিফা সব দেশকেই অর্থনৈতিক সহযোগিতা করবে। গেইম ডেভেলপমেন্টের জন্য বাংলাদেশও বিশ্বকাপ শেষে পাবে বড় অঙ্কের টাকা।

অন্যদিকে মাঠের পারফরম্যান্সেও এবারের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যে ইতিহাস গড়েছে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত হয়েছে ২৯৭টি গোল। সর্বোচ্চ আটটি করে গোল করেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে।

রোববারের (১৯ জুলাই) ফাইনালের পরই নির্ধারণ হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের পাশাপাশি আসরের সেরা খেলোয়াড় ও অন্যান্য ব্যক্তিগত পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম।




আর্জেন্টিনার জয়ে সামনে এল যে ৫টি বিষয়

ক্রীড়া ডেস্ক : এটাই যেন আর্জেন্টিনার অভ্যাস! নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পেয়েছেন আর্জেন্টিনা। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন গতরাতে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২–১ গোলের জয়ের ম্যাচে অন্তত পাঁচটি বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে।

রদ্রিগো ডি পলে আর আস্থা নেই

নকআউট পর্বের আগের তিন ম্যাচে কঠিন পরীক্ষা দিতে হলেও স্কালোনি তাঁর মূল একাদশে বড় পরিবর্তন করতে চাননি।

তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি শেষ পর্যন্ত কৌশল বদলেছেন। রদ্রিগো ডি পলকে শুরুর একাদশ থেকে বাদ দিয়ে তিনি জুলিয়ানো সিমিওনেকে একাদশে নিয়ে আসেন। পূরণ করেছেন ডি পলের জায়গাটাও।

টুর্নামেন্টে লিওনেল মেসির প্রথম গোলে ডি পলের অ্যাসিস্ট থাকলেও পুরো বিশ্বকাপে তিনি খুব সাধারণ ফুটবলই খেলেছেন। অবশ্য আর্জেন্টিনার পুরো মিডফিল্ডই এই বিশ্বকাপে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের দাপট তারা এবার দেখাতে পারছে না। দায়টা এনজো ফার্নান্দেজ এবং আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারেরও আছে। তবে সেটা বেশি ডি পলেরই।

গতকাল সিমিওনেও স্কালোনির সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছেন। দলে গতি ও কাউন্টার অ্যাটাকের শক্তি বাড়িয়েছেন।

দক্ষিণ আমেরিকার পুরোনো কৌশলে আর্জেন্টিনা

ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই দুই দলের মধ্যকার বৈরিতা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। মাঠের লড়াই শুরু হতেই তা পরিষ্কার হয়ে যায়। এমনকি দুই দেশের সমর্থকেরাও একে অপরের জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় দুয়ো ধ্বনি দেন।

খেলার শুরু থেকেই বল ছাড়া আর্জেন্টিনার কৌশল স্পষ্ট ছিল, তা হলো প্রতিপক্ষকে ‘বিধ্বস্ত’ করা। মনে হচ্ছিল প্রত্যেক আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় শতবছরের পুরোনো সেই দক্ষিণ আমেরিকান কৌশলই ব্যবহার করছেন, ‘হয় বল পার হবে, না হয় খেলোয়াড় পার হবে, কিন্তু দুটো একসঙ্গে কখনোই নয়।’

ম্যাচের শুরুটা ইংল্যান্ড ভালোই করেছিল। কিন্তু আলবিসেলেস্তেরা একের পর এক ফাউল করে ম্যাচের গতি কমিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডও আর্জেন্টিনার পাতা ফাঁদে পা দেয়।

এই কৌশলে আর্জেন্টিনার অন্যতম সেনাপতি ছিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার এমন পরিস্থিতিতেই ভালো খেলেন। জুড বেলিংহাম এবং নিচে নেমে আসা হ্যারি কেইনকে একাই আটকে রাখার দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। তিনি সেটা করেছেনও।

রক্ষণে দুর্বলতা এখনো কাটেনি

কাতারে বিশ্বকাপ জেতা দলটার ওপরই মূলত এবার ভরসা রেখেছে আর্জেন্টিনা। তবে দলে রাইটব্যাক পজিশনে কোনো ভালো বিকল্প না থাকাটাকে আগে থেকেই বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেমিফাইনালে নাহুয়েল মলিনা সেই ভয়টাকেই সত্যি প্রমাণ করেছেন।

টুর্নামেন্ট জুড়েই এই পজিশনে রিভার প্লেটের গঞ্জালো মন্তিয়েল ও মলিনাকে বারবার অদলবদল করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। অথচ মলিনা গত মৌসুমে আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে লা লিগায় মাত্র ১৩টি ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন।

স্কালোনি যাঁকে দিয়েই খেলা শুরু করিয়েছেন, তিনিই মাঠে ভুগেছেন। উল্টো বদলি হিসেবে যিনি পরে নেমেছেন, তিনিই ভালো খেলেছেন! এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও মিম বানাতে ছাড়েননি আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা।

সেমিফাইনালে মলিনা শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ম্যাচের ৫৫ মিনিটে তিনি এক মারাত্মক ভুল করে বসেন, যা আর্জেন্টিনার রক্ষণের আসল কঙ্কালটা বের করে আনে।

মর্গান রজার্সের বাড়ানো ক্রসের সময় মলিনা কেবল বলের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন। নিজের পেছনে থাকা খেলোয়াড়কে মার্ক করতে পুরোপুরি ভুলে যান তিনি। এই সুযোগে অ্যান্থনি গর্ডন তাঁর পেছন থেকে এসে আলতো ছোঁয়ায় ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন।

আলবিসেলেস্তেরা শেষ পর্যন্ত মলিনার ভুল সামলে নিয়ে ম্যাচ জিতেছে। তবে এটা পরিষ্কার যে ফাইনালে স্পেন নিশ্চিতভাবেই আর্জেন্টিনার ফুলব্যাকদের চেপে ধরবে। বিশেষ করে স্কালোনির অরক্ষিত ডান দিকটাই হবে স্প্যানিশদের প্রধান লক্ষ্য।

 

ইংল্যান্ড দরজা খুলে দিল, সুযোগ নিলেন মেসি

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও প্রথমে গোল খাওয়াটাই আর্জেন্টিনার জন্য শাপেবর হয়েছে। ইংল্যান্ড কোচ গোল পাওয়ার পর দলকে পুরোপুরি ডিফেন্সিভ ও লো ব্লকে নিয়ে যান এবং রক্ষণাত্মক বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে আর্জেন্টিনার চাপকে আমন্ত্রণ জানান।

টুখেলের এই জুয়া মেক্সিকোর বিপক্ষে কাজে লেগেছিল। তবে আর্জেন্টিনা পুরোপুরি ভিন্ন দল, এই দলে মেসি ছিলেন। গোল হজমের পরই মেসি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এবং আর্জেন্টিনার পাল্টা–আক্রমণ পরিচালনা করতে শুরু করেন। তাঁর কিছু ক্রস থেকে আরও আগেও গোল আসতে পারত। তবে শেষ পর্যন্ত দুটি গোলে তিনিই সহায়তা করেন।

মেসির দ্বিতীয় অ্যাসিস্টটা ছিল দুর্দান্ত। ৩৯ বছর বয়সী মেসি উইং ধরে দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে এগিয়ে যান। এরপর ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে মার্তিনেজের জয়সূচক গোলের জন্য একটি নিখুঁত ক্রস ভাসিয়ে দেন।

দেখে মনে হবে মেসি যেন ২০০৬ সালে তাঁর প্রথম বিশ্বকাপে খেলা ১৯ বছর বয়সী সেই তরুণ! আর্জেন্টিনার আরও একটি অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের জন্য হয়তো এ রকম কিছুরই প্রয়োজন ছিল।

পথের কাঁটা ফার্নান্দেজ

শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, এনজো ফার্নান্দেজ মাঠে আগুন ঝরাবেন। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটেই এলিয়ট অ্যান্ডারসনের মাথায় আঘাত করে নিজের আগ্রাসী রূপ দেখিয়েছেন তিনি। প্রথম ২৫ মিনিট এই ইংলিশ মিডফিল্ডারকে ফার্নান্দেজ একমুহূর্তও শান্তিতে থাকতে দেননি। অন্যদের জন্যও হয়েছেন বিরক্তির কারণ।

গোলের আগেও বেশ কয়েকবার দূর থেকে শটের চেষ্টা করেছেন ফার্নান্দেজ। তবে আসল ম্যাজিকটা দেখান ম্যাচের ৮৪ মিনিটে। তাঁর উদ্‌যাপনটাও ছিল দেখার মতো।

ফার্নান্দেজের পাশাপাশি তাঁর মিডফিল্ড সঙ্গী আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারও জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছেন। দুর্ভাগ্যবশত তাঁর দুটি দুর্দান্ত শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে তাঁর এই আক্রমণগুলোই ম্যাচের গতি বাড়িয়ে দিতে আর্জেন্টিনাকে তাতিয়ে দিয়েছিল।




গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে শীর্ষে মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক : ২০২৬ বিশ্বকাপে চোখধাঁধানো গোল, অবিশ্বাস্য অঘটন আর রোমাঞ্চকর ম্যাচের অভাব ছিল না। তবে পুরো আসরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিগত লড়াই হয়ে উঠেছে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সেরা গোলদাতার পুরস্কারের প্রতিযোগিতা।

এবার সেই লড়াইয়ে নতুন মোড় এসেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২-১ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচে গোল করতে পারেননি মেসি। তবুও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবচেয়ে বড় লাভ হয়েছে তারই।

ম্যাচে দুটি অসাধারণ গোলের সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নায়ক হন তিনি। ৩৯ বছর ২১ দিন বয়সে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলা সবচেয়ে বয়স্ক মাঠের খেলোয়াড়ের রেকর্ডও গড়েন মেসি।

৮৫তম মিনিটে এনসো ফের্নান্দেসের সমতাসূচক গোল এবং যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেসের জয়সূচক গোল—দুটিই এসেছে মেসির নিখুঁত পাস থেকে। এই জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

গোল না করেও এই দুই সহায়তার সুবাদে আবারও গোল্ডেন বুটের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন মেসি। তার গোলসংখ্যা এখনো আটটিতেই রয়েছে।

মেসি ও এমবাপ্পে দুজনেরই গোল আটটি করে। তবে সমান গোল হলে প্রথমে বিবেচনায় আসে কতটি গোলে সহায়তা করেছেন, সেই হিসাব। আর সেখানেই এগিয়ে আছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

পুরো বিশ্বকাপজুড়েই এই দুই তারকার লড়াই ছিল দারুণ উপভোগ্য। এক ম্যাচে মেসি এগিয়ে গেছেন, পরের ম্যাচেই জবাব দিয়েছেন এমবাপ্পে। তাদের এই দ্বৈরথ টুর্নামেন্টে বাড়তি রোমাঞ্চ যোগ করেছে।

এখন আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি। ফলে লড়াইও পৌঁছে গেছে শেষ অধ্যায়ে।

রোববারের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবেন মেসি। সেখানে গোল কিংবা সহায়তার সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে তার সামনে। অন্যদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ফ্রান্স। সেখানে এমবাপ্পেও জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াই এখনো পুরোপুরি খোলা। যদি শেষ পর্যন্ত গোল ও সহায়তা—দুই দিক থেকেই সমতা থাকে, তাহলে পুরস্কার নির্ধারণ হবে মাঠে খেলা মোট সময়ের ভিত্তিতে। সেই ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন এমবাপ্পে। তিনি খেলেছেন ৬৬৬ মিনিট, আর মেসি খেলেছেন ৭১২ মিনিট। তাই গোল ও সহায়তায় সমতা থাকলে কম সময় খেলায় এগিয়ে থাকায় সোনার জুতা জিতবেন ফরাসি তারকা।

তবে পরিসংখ্যান দিয়ে মেসির প্রভাব পুরোপুরি বোঝানো যায় না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি যেন একজন সুরকারের মতো পুরো আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ পরিচালনা করেছেন। তার নিখুঁত পাসে এসেছে সমতাসূচক গোল, আর অসাধারণ ক্রসে হয়েছে জয়সূচক গোল। এই দুই সহায়তায় ফুটে উঠেছে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সেই চিরচেনা দৃষ্টি, সৃজনশীলতা ও অসাধারণ দক্ষতা।

অন্যদিকে এমবাপ্পেও এমন লড়াইয়ের সঙ্গে পরিচিত। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে সেরা গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। এবারও আরেকটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাঁকে সেই সম্মান আবার এনে দিতে পারে।

প্রায় এক মাসের বিশ্বকাপ শেষে এসেও মেসি ও এমবাপ্পের এই দ্বৈরথ ঠিক ততটাই রোমাঞ্চকর, যতটা বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াই।




‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ মাঠেই ব্যানার নিয়ে মার্টিনেজ-জিওভানিরা

ক্রীড়া ডেস্কঃ ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখার পর আলবিসেলেস্তে ফুটবলাররা দর্শকদের সামনে উল্লাসে মেতে ওঠেন।

এ সময় তারা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন, যাতে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর তাদের মালিকানার দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। এর মধ্যে দিয়ে তারা দ্বীপপুঞ্জটির ওপর আর্জেন্টিনার সেই ঐতিহাসিক সার্বভৌমত্বের দাবিটি আবারও বিশ্বের বুকে তুলে ধরলো। যা ১৯৮২ সালে দুই দেশের মধ্যে এক সশস্ত্র যুদ্ধের মূল কারণ ছিল।

ব্যানারটি সেই ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে, যা ব্রিটেনে ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ’ এবং আর্জেন্টিনায় ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। এই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ৪৪ বছর আগে ৭৪ দিনব্যাপী এক সংঘাত হয়েছিল। সেই সংঘাতে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশসহ মোট ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও জিওভানি লো সেলসো হাসিমুখে ব্যানারটি উঁচিয়ে ধরেন এবং গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। ব্যানারটি কোথা থেকে এসেছিল, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। বিশ্বকাপে রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে প্রশ্ন ওঠার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের ম্যাচের সময় ইরানি-আমেরিকানরা বিপ্লব-পূর্ববর্তী পতাকা উড়িয়েছিল, যা তেহরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। অবশ্য সেই ম্যাচগুলো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল।

এছাড়াও কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পথ সুগম করার পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে স্লোগান দিতে শোনা গিয়েছিল, মালভিনাসের জন্য, দিয়েগোর জন্য এবং মেসির শেষটির জন্য।

আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল বলেছেন, আমরা বুঝি যে এটি এমন একটি ফুটবল ম্যাচ যার গুরুত্ব খেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়; এটি দিয়েগো যা করেছিলেন তার স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। আমরা মালভিনাস যুদ্ধের বীরদের নিয়ে গান গাই, মূলত তাদের স্মরণ করার জন্য; তবে আমাদের বুঝতে হবে যে এটি একটি ফুটবল ম্যাচ এবং মালভিনাস প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনার জায়গা অন্য। অতীতে যা ঘটেছিল তা ছিল এক নৃশংস ঘটনা এবং আমরা সবসময়ই শহীদদের কথা স্মরণ করি, কিন্তু এখন আমাদের লক্ষ্য হলো এই ম্যাচটি জিতে ফাইনালে ওঠা।

ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভেতরে “রাজনৈতিক, আপত্তিকর অথবা বৈষম্যমূলক প্রকৃতির ব্যানার, পতাকা, লিফলেট, পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী” বহন বা প্রদর্শন নিষিদ্ধ।




ইয়ামাল-মেসির যে ছবি দেড়যুগ পর আলোচনায়

ক্রীড়া ডেস্ক : সময়টা ২০০৭ সালের ডিসেম্বর। বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের এক ড্রেসিংরুমে তখন রচিত হচ্ছিল ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে পরাবাস্তব এক মহাকাব্য। কে জানত, সেদিন এক লাজুক তরুণের কোলে পরম নিশ্চিন্তে খেলা করা পাঁচ মাসের সেই শিশুই একদিন বিশ্বমঞ্চে কাঁপন ধরাবে! হ্যাঁ, নিয়তি যেন নিজের হাতে লিখেছিল এই চিত্রনাট্য। আজ থেকে দীর্ঘ ১৯ বছর আগে, যখন লিওনেল মেসি নামক এক জাদুকর বিশ্বজয়ের পথে কেবল পা বাড়িয়েছেন, ঠিক তখনই তার স্পর্শ পেয়েছিলেন আজকের স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন বিস্ময়; লামিন ইয়ামাল!

এটি কোনো পরিকল্পিত ফটোশুট ছিল না, ছিল স্রেফ ভাগ্যের এক অদ্ভুত খেলা। ইউনিসেফ এবং কাতালুনিয়ার স্থানীয় সংবাদপত্র ‘দিয়ারিও স্পোর্ট’-এর যৌথ চ্যারিটি লটারিতে বিজয়ী হয় মাতারো অঞ্চলের এক স্বল্প আয়ের পরিবার। আর পুরস্কার? বার্সেলোনার এক উদীয়মান তারকার সাথে ছবি তোলার সুযোগ! সেই লটারির টিকিটই যেন বদলে দিয়েছিল ফুটবলের ইতিহাসকে। মাত্র ২০ বছর বয়সী লাজুক মেসি সেদিন জলভর্তি প্লাস্টিকের টাবে থাকা ছোট্ট ইয়ামালকে কোলে নিতে বারবার দ্বিধায় ভুগছিলেন। শেষে মা শেইলা ইবানার পরম মমতায় অভয় দেওয়ার পর ক্যামেরা বন্দি হয় সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্টও হয়তো ভাবেননি, তার ক্যামেরার শাটার ক্লিকের সাথে সাথে ফ্রেমবন্দি হচ্ছে ফুটবলের দুই প্রজন্মের এক স্বর্গীয় মিলনমেলা।

কিন্তু এই মহামূল্যবান স্মৃতি কেন দীর্ঘ ১৭ বছর আড়ালে পড়ে রইল? উত্তর লুকিয়ে ছিল এক বাবার গভীর ভালোবাসায়। ইয়ামালের বাবা খুব ভালো করেই জানতেন, এই ছবি প্রকাশ পেলে ছোট্ট ইয়ামালের ওপর চেপে বসবে লিওনেল মেসির সাথে তুলনার এক পর্বতসম মানসিক চাপ। তাই বছরের পর বছর ধরে তিনি বুকের গভীরে চেপে রেখেছিলেন এই পরম সত্য। অবশেষে ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালীন, যখন ইয়ামাল নিজের পায়ে ইতিহাস লিখছেন, ঠিক তখনই তার বাবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন এই ছবি। মুহূর্তের মধ্যেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো ফুটবল বিশ্ব! বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর আলোচনা। রসিক ফুটবলপ্রেমীরা তো বলেই বসলেন, মেসি যেন নিজের অজান্তেই তার ফুটবল প্রতিভার সেই ঐশ্বরিক জাদু সেদিন পানি ছিটিয়ে স্পর্শ করিয়ে দিয়েছিলেন ছোট্ট ইয়ামালের গায়ে।

ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিয়ে স্পেনের ইউরো জয়ের সেই নায়ক লামিন ইয়ামাল এখন আর কোনো কাকতালীয় নাম নন। ১৭ বছর আগের সেই লাজুক মেসির কোল থেকে উঠে আসা শিশুই আজ বিশ্বফুটবলের ধ্রুবতারা।




এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক : জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হার দিয়ে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করলো বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩২ রানে হেরে গেছে তাওহিদ হৃদয়ের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দল। জয়ের জন্য ১৮ বলে প্রয়োজন ছিলো ৪১ রান। হাতে ৪ উইকেট।

বাংলাদেশের জন্য সমীকরণটা একটু কঠিন। সেটা আরো ভালোভাবে বোঝা গেল রিচার্ড এনগারাভার বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ইয়াসির আলির আউট হওয়াতে। ব্র্যাড ইভান্স ক্যাচ ধরতেই থেমে যায় তার ৫৪ রানের ইনিংসটি। সঙ্গে বাংলাদেশের জয়ের পথও থেমে যায়।

কেননা ওই ওভারেই আরেক স্বীকৃত ব্যাটার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও আউট হন। পরে ইনিংস দ্রুতই গুটিয়ে যায়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৩৮ রানে অলআউট হয়। এতে করে ৩২ রানের ব্যবধানে সংক্ষিপ্ত সিরিজও হার দিয়ে শুরু করল বাংলাদেশ।

১৭১ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে নির্ধারিত ওভারের ছয় বল বাকি থাকতেই সবকয়টি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩৮ রান করে সফকারীরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন ইয়াসির আলী। ৩৮ বল খেলে এই রান করেন তিনি। তার এই ইনিংসে দুইটি চার ও তিনটি ছক্কার মার রয়েছে। রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানি চারটি করে উইকেট নেন।

বুধবার বুলাওয়েতে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি উড়ন্ত সূচনা এনে দেন জিম্বাবুয়েকে। ৯ বলে ১৪ রান করে মারুমানি বিদায় নিলেও বেনেট রানের চাকা সচল রাখেন।

ডিওন মেয়ার্স একপ্রান্ত আগলে রাখতে গিয়ে ২০ বলে ২০ রান করে বিদায় নিলে বোলারদের ওপর চড়াও হন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। ১৩ বলে ২০ রান করে তিনি সাজঘরে ফেরার আগে অবশ্য বেনেটকে বিদায় নিতে হয়। তার আগে ৩০ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন এই ওপেনার।

শেষদিকে ২৫ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন রায়ান বার্ল। ১০ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন ব্র্যাড ইভান্স।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে অগ্নিঝরা পারফরম্যান্স করেছেন নাহিদ রানা। মাত্র ৩ রান খরচ করে চারটি উইকেট শিকার করে ফেলেন তিনি। যদিও শেষ ওভারে খরচ করেন ১৮ রান। তবে ৪ ওভারে মোটমাট খরচ করেন মাত্র ২৬ রান।

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৪ ওভারে ৩৫ রান খরচ করে জোড়া উইকেট শিকার করেন। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৭০ রান করে জিম্বাবুয়ে।

এর আগে অন্য সংস্করণে শুধু হার দিয়ে শুরু করেনি, জিম্বাবুয়ের কাছে টেস্ট ও ওয়ানডে দুই সিরিজই খুঁইয়েছে।

বাংলাদেশ:

তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, ইয়াসির আলী চৌধুরী, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

জিম্বাবুয়ে:

সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, রায়ান বার্ল, ব্র্যাড ইভান্স, ক্লাইভ মাডান্ডে, টাডিওয়ানাশে মারুমানি, তাশিঙ্গা মুসেকিয়া, ব্লেসিং মুজারাবানি, ডিওন মেয়ার্স, রিচার্ড এনগারাভা, মিল্টন শুম্বা।




ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন

ক্রীড়া ডেস্কঃ হট ফেভারিট তকমা নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ফ্রান্স-স্পেন। প্রথম সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে পাত্তাই পেলো না এমবাপ্পে-ডেম্বেলেরা। ফরাসিদের ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্প্যানিশরা।

এতে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো স্পেন। এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল তারা। সেবার নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল স্প্যানিশরা। আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি এখন লামিনে ইয়ামালদের সামনে।

ম্যাচের শুরু থেকে একে অপরের ওপর চাপ প্রয়োগ করে খেলার চেষ্টা করে। ১০ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের বক্সের কাছাকাছি জায়গায় ফ্রি–কিক পেয়েছে স্পেন। তবে ফ্রি–কিকটি কাজে লাগাতে পারেনি।

এরপর ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের বক্সের ভেতর লামিনে ইয়ামাল ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় স্পেন। স্পট কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল।

৩৬ মিনিটে ফ্রান্সকে আরেকবার কাঁপিয়ে দেয় স্পেন। দূরপাল্লার একটি ক্রস নিয়ন্ত্রণে নেন বায়েনা। মাইগনান তাকে রুখে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড শট নিতেই অফসাইডের বাঁশি বাজে।

পরের মিনিটে স্পেনের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বারকোলার ডানপায়ের বাঁকানো শট গোলবারের অনেক উপর দিয়ে যায়। এতে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে ফ্রান্স।

বিরতি থেকে ফিরে আবারও গোলের দেখা পায় স্পেন। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ফ্রান্সের জালে বল পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো।

৬৮ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া এমবাপ্পের শট কুকুরেয়া ব্লক করেন। ৮০ মিনিটে আরেকটি গোলের বেশ কাছে ছিল স্পেন। ওয়ারসাবালের বদলি নামার কয়েক মিনিট পরই ফেরান তোরেসের একটি হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়

শেষ ১০ মিনিটে ফ্রান্স মুহুর্মুহু আক্রমণ চালান। কিন্তু গোলকিপার সিমন ও ডিফেন্ডার কুকুরেয়ার বাধায় সফল হয়নি তারা। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।




আমি ফ্রান্সকে ভয় পাই না, আমরা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন: ইয়ামাল

ক্রীড়া ডেস্ক : সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে স্পেনের তরুণ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল ম্যাচটিকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের এই তারকা বলেছেন, প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক, তাদের ভয় পান না তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও ফ্রান্স। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নিজের উচ্ছ্বাসের কথা জানান বার্সেলোনার ১৯ বছর বয়সী তারকা লামিনে ইয়ামাল।

সোমবার ১৯ বছরে পা রাখা ইয়ামাল বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটাই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমরা সবাই দারুণ রোমাঞ্চিত, বিশেষ করে আমি। আমি নিশ্চিত, এটি একটি বিশেষ দিন হতে যাচ্ছে।’
জন্মদিনের উপহার হিসেবে কী চান—এমন প্রশ্নের জবাবেতিনি আরও বলেন, ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠতে পারলে তা হবে নিজের ১৯তম জন্মদিনের সেরা উপহার।

বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ফ্রান্স। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের ছয়টি ম্যাচই জিতেছে। এই সময়ে তারা ১৬ গোল করেছে, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র দুটি।

তবে ফ্রান্সকে নিয়ে ভীত নন ইয়ামাল। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি ফ্রান্সকে ভয় পাই না। আমরা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন, তাই কোনো দলকেই ভয় করি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলেও প্রচুর প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। তাদের আক্রমণভাগ শক্তিশালী হওয়াটা আমাদের জন্য খারাপ হবে বলে মনে করি না। বরং এটি আমাদের জন্য ইতিবাচকও হতে পারে। আমি মনে করি, ম্যাচটি খুবই সমানে সমান হবে।’

চোট কাটিয়ে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার পর পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন ইয়ামাল। চলতি বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচে তার গোল একটি।

নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে এই স্প্যানিশ উইঙ্গার বলেন, ‘আপনারাই বলেন আমি আমার সেরা ছন্দে নেই, তাই আমার কাছ থেকে বেশি কিছু আশা করবেন না। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী, সবকিছু ভালোই হবে। গোল করা নিয়ে আমি চিন্তিত নই, যদিও এমন ম্যাচে গোল করা সব সময়ই বিশেষ কিছু। আমি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি, আর সে কারণেই এখানে আছি।’

চাপ অনুভব করেন কি না—এমন প্রশ্নে ইয়ামালের জবাব, ‘আমি কোনো চাপ অনুভব করি না। আমি যেভাবে খেলতে জানি, সেভাবেই খেলি এবং দলের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। যখন নিজের সবটুকু উজাড় করে দাও, তখন আর চাপ অনুভব হয় না।’




এলপিএল থেকে নাম প্রত্যাহার করলেন লিটন

ক্রীড়া ডেস্ক :  লিটনকে দলে ভিড়িয়েছিল গল গ্যালান্টস। টুর্নামেন্টটিত্র খেলার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনাপত্তিপত্রও পেয়েছিলেন লিটন। পুরো আসরে খেলার জন্যই তাকে এনওসি দিয়েছিল বিসিবি।

গল গ্যালান্টসের পক্ষে খেলার জন্য বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল থেকেও ছুটি পেয়েছিলেন লিটন। নিয়মিত অধিনায়ক হলেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ না খেলে এলপিএলে যাওয়ার কথা ছিল তার।

কিন্তু সবকিছু বদলে দিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে পাওয়া চোট। এতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পরে এলপিএল থেকেও ছিটকে গেলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।




তবে কি এবার ইংল্যান্ডের হাতে বিশ্বকাপ চান ট্রাম্প

ক্রীড়া ডেস্ক : চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের পর এখন কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি—তা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। বেলজিয়ামের কাছে মার্কিন দল বিধ্বস্ত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস এখন হ্যারি কেইনদের ইংল্যান্ডকে সমর্থন করছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্বকাপবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এবারের বিশ্বকাপে আমেরিকা এখন থ্রি লায়ন্সদের বিশ্বজয়ের পক্ষে বাজি ধরছে।

অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম জন্মবার্ষিকীর এই ঐতিহাসিক ক্ষণে যদি স্বাগতিক দল হিসেবে আমেরিকা শিরোপা জিততে না পারে, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে সুন্দর গল্প হবে যদি ইংলিশরা আমেরিকার মাটিতে এসে এই বিশেষ উদযাপনের বছরটিতে কাপ জিতে নেয়। ইংল্যান্ডের ফুটবলে গত ৬০ বছরের যে আক্ষেপ ও দীর্ঘশ্বাস রয়েছে, এবার আমেরিকান মাটিতে তাদের সেই অধরা ট্রফি জয় হবে একটি দারুণ মুহূর্ত। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, টুর্নামেন্টে টিকে থাকা শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডের এবার ফাইনালে যাওয়ার এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সব ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন-এর ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টিও এখন বেশ আলোচনায়। গত সপ্তাহেও ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যারি কেইনকে একজন ‘দারুণ খেলোয়াড়’ এবং ‘চমৎকার মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

জুলিয়ানি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফুটবল বেশ ভালোই বোঝেন এবং তিনি নিয়মিত হ্যারি কেইন-এর পারফরম্যান্সের খোঁজ রাখছেন। তিনি আরও যোগ করেন, ইংল্যান্ড যদি এবার বিশ্বজয় করতে চায়, তবে তার মূল কারণ হবেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবং জুড বেলিংহামের মতো প্রতিভাবান অ্যাথলেটরা। কোচ যেভাবে দলকে সুভারসাম্যপূর্ণ করে গড়ে তুলেছেন, তাতে ইংলিশদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার যথেষ্ট রসদ রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এই সমর্থনের খবরের মাঝেই ট্রাম্পের সঙ্গে গলফ খেলার এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন খোদ হ্যারি কেইন। ইংলিশ অধিনায়ক নিশ্চিত করেছেন যে, ২০২৪ সালের শেষের দিকে ফ্লোরিডার পাম বিচে ট্রাম্পের আমন্ত্রণে তিনি তার সঙ্গে গলফ খেলেছিলেন, যা তার জীবনের অন্যতম এক পরাবাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল।

হ্যারি কেইন বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে যখন এমন আমন্ত্রণ আসে, তখন তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। তৎকালীন ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্পের গলফ খেলার দক্ষতার প্রশংসা করে কেইন রসিকতা করে বলেন, তিনি আশা করেন ট্রাম্পের বয়সে পৌঁছে তিনিও যেন ট্রাম্পের মতোই চমৎকার গলফ খেলতে পারেন।

আমেরিকার মাটিতে এই গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট চলার সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন প্রকাশ্য সমর্থন নিঃসন্দেহে ইংলিশ শিবিরে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে।