বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হার ভারতের

ক্রীড়া ডেস্কঃ সুপার এইট পর্বে বড় ধাক্কা খেল স্বাগতিক ভারত। আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে রানের হিসাবে নিজেদের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের মুখ দেখল তারা।

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। তবে সেখান থেকে দলের হাল ধরেন ডেভিড মিলার ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। চতুর্থ উইকেটে তাদের ৯৭ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে আফ্রিকা। মিলার ৩৫ বলে ৬৩ ও ব্রেভিস ২৯ বলে ৪৫ রান করেন। শেষ দিকে ত্রিস্তান স্টাবস ২৪ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮৭ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ভেঙে পড়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ। ৫১ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় তারা। শিবম দুবে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও অন্য প্রান্তে ছিল নিয়মিত উইকেট পতন। শেষ পর্যন্ত ৭ বল বাকি থাকতে ১১১ রানেই অলআউট হয় ভারত।

এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৯ রানে হার ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় পরাজয়। এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেল এই হার। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর এটাই কোনো বহুজাতিক টুর্নামেন্টে ভারতের প্রথম হার। মাঝের ২২ ম্যাচে ২১টিতে জয় পেয়েছিল তারা, একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল।

২৬ ফেব্রুয়ারি সুপার এইটে ভারতের পরবর্তী ম্যাচ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ঘুরে দাঁড়াতে হলে সে ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই তাদের সামনে।




বিসিবির প্রধান নির্বাচক হলেন হাবিবুল বাশার

ক্রীড়া ডেস্কঃ চলতি মাসেই জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর দুই বছরের চুক্তি শেষ হতে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি চুক্তি নবায়ন করতে চাইছেন না বলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে নতুন প্রধান নির্বাচক খুঁজছিল বোর্ড।

সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন প্রধান নির্বাচক হয়েছেন। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে বিসিবি।

হাবিবুল বাশার সুমন ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ পুরুষ জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি নারী ক্রিকেট দলের নির্বাচক ছিলেন।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পুরুষ দলের নির্বাচক প্যানেল থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বাশারকে আবার নির্বাচক প্যানেলে ফিরিয়ে আনা হলো। বর্তমানে হাবিবুল বাশার বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বও পালন করছেন।




শিরোপার লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত

ক্রীড়া ডেস্কঃ ব্যাংককে রাইজিং স্টারস নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের ফাইনাল আজ। শিরোপার লড়াইয়ে ম্যাচে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় মাঠে নামবে বাংলাদেশ ও ভারত। প্রথম সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল ভারত এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৫৪ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে টাইগ্রেসরা।

টুর্নামেন্টের প্রথম আসর ২০২৩ সালে ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ ও ভারত। সেবার লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের ৩১ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ভারতের মেয়েরা। আজ সেই প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। শিরোপার লড়াইয়ের ম্যাচে ভারতকে হারাতে মুখিয়ে আজ মেয়েরা।

গতকাল এক অডিও বার্তায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ উইকেট শিকার করা সানজিদা আক্তার মেঘলা জানান, ভারত বধের আত্মবিশ্বাসের কথা। বলেন, ‘আমরা গ্রুপ পর্বের তিনটা ম্যাচ ও সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেয়েছি। আমরা দলগত পারফরম্যান্সে একদূর এসেছি। আগামীকাল (আজ) আমাদের ভারতের সঙ্গে খেলা। আমরা চাইব আমরা যেন দলগতভাবে খেলতে পারি। এবং টিমের প্রয়োজন অনুযায়ী পারফরম্যান্স করতে পারি। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’




সামিত সোমের ছবি দিয়ে মাতৃভাষা দিবসে বার্তা দিলো ফিফা

ক্রীড়া ডেস্কঃ আজ ২১ ফেব্রুয়ারি। সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের এই দিনে প্রাণ দিয়েছেন সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর ও জব্বারসহ নাম না জানা অনেকে। ক্রীড়াঙ্গন–ও মহান শহীদ ও মাতৃভাষা দিবস বিশেষভাবে পালন করছে। ফিফা বিশ্বকাপের ফেসবুক পেজ থেকে মাতৃভাষা দিবসের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

কানাডিয়ান প্রবাসী বাংলাদেশের তারকা ফুটবলার সামিত সোমের ছবি দিয়ে তারা ক্যাপশনে লিখেছে– ‘ভিন্ন ভাষায় একই আবেগ।’ পাশে ফুটবল ও ভালোবাসার ইমোজি দেওয়া হয়েছে।

আর সামিতের ছবিতেও বাংলা ভাষায় লেখা হয়– ‘ফুটবলই আমাদের ভাষা।’ অর্থাৎ, বাংলা ভাষার মাধ্যমে ফুটবলেরও নিজস্ব ভাষা আছে সেটাই স্মরণ করিয়ে দিলো ফিফা। অবশ্য ফিফার ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে প্রাইভেসি ‘কাস্টম’ করে, কেবল বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা সম্ভবত পোস্টটি দেখতে পারবেন।

মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজেদের ফেসবুক পেজে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) লিখেছে, ‘তারুণ্যের নব চেতনায় একুশ রবে সকলের অনুপ্রেরণায়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।’

এছাড়া বাংলাদেশের নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, ‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমাদের মাতৃভাষার অধিকার, তাদের স্মৃতি চিরদিন বাঙালির হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে। শহীদদের রক্তে রাঙানো একুশ আমাদের গৌরব, আমাদের পরিচয়।’




আমিনুলের পাশে সাবেক ক্রীড়াবিদরা

ক্রীড়া ডেস্কঃ দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানী ঢাকার প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১৬ আসনের আলোচিত এক প্রার্থী ছিলেন আমিনুল হক। দেশের সাবেক তারকা ফুটবলার। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি জয় পাননি। তার দাবি তাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমিনুলের পরাজয় মেনে নিতে পাছেন না দেশের সাবেক ক্রীড়াবিদরা। মিরপুরে আমিনুলের বাসায় গিয়ে সাবেক তারকারা আমিনুলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।

জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক মো. সুজন, ডন, জাহেদ চৌধুরী থেকে শুরু করে ক্রিকেট তারকা তামিম ইকবালসহ বিভিন্ন খেলার মানুষরা এ সময় আমিনুলের পাশে দাঁড়ান। তারা কেউ আমিনুলের এই ফল মেনে নিতে পারছেন না। সবার বিশ্বাস আমিনুলের জয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমিনুলের শুভাকাঙ্ক্ষীরা ঢাকা-১৬ (সংসদীয় আসন ১৮৯) নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫৪৬৭ ভোট, তার প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৮৮৮২৮ ভোট। ৩৩৬১ ভোট ব্যবধান।

সাবেক ক্রীড়াবিদরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশার কথা জানিয়েছেন। জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য অবাক হয়ে লিখেছেন তিনি নির্বাক। এত ত্যাগ, এত নির্যাতন, কারাবাস, নিপীড়ন জেল-জুলুম সহ্য করেছেন আমিনুল। আমার বন্ধু আমিনুল সব কিছু নীরবে সহ্য করেছেন। আমিনুল ছিলেন মিরপুরের মানুষের চোখের মণি। কিন্তু পেছন থেকে নীল ষড়যন্ত্র তাকে হারিয়ে দিয়েছে।

সাবেক তারকা শুটার শারমিন আক্তার রত্না জানিয়েছেন আমিনুলকে হারানো হয়েছে। যে মানুষটি দেশের জন্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য কাজ করছিলেন, তার জনপ্রিয়তার কাছে ঈর্ষা করে হারানোর নীল নকশা করা হয়েছিল। আমিনুল নীল নকশা বুঝেন না। তিনি বুঝেন দেশের মানুষের মঙ্গল।’ রত্না জানিয়েছেন ক্রিকেটের তামিম ইকবাল ভাইও এসেছিলেন আমিনুলের বাসায়। দেশের অনেক ক্রীড়াবিদ গিয়েছিলেন মিরপুরে আমিনুলের বাসায়।’

বিপ্লব বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আমার বন্ধু আমিনুল হককে যথাযথ সম্মান জানাবেন। তারা আমিনুলকে ক্রীড়া নেতৃত্বে দেখতে চান। ক্রীড়া উন্নয়নে তিনি যেভাবে কাজ করার কথা ঘোষণা দিয়েছিলেন তা অন্য কারো মুখ থেকে শোনেননি বলে জানিয়েছেন সাবেক তারকা শুটার শারমিন আক্তার রত্না। তিনি বলেন, ‘আমিনুল দেশের ক্রীড়া নেতৃত্বে এলে দেশের সব ক্রীড়াবিদের জন্য মঙ্গলজনক।’




পাকিস্তান খেলবে শুনে খুশি বিসিসিআই

ক্রীড়া ডেস্কঃ চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের অবস্থান থেকে সরে এসে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে পাকিস্তান সরকারের ঘোষণার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

পাকিস্তান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান দল। এর আগে লাহোরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের পরই পাকিস্তানের অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

পাকিস্তান সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় খুশি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা। সংবাদিকদের তিনি বলেন,  ‘আমি খুবই আনন্দিত যে আইসিসি উদ্যোগ নিয়ে লাহোরে বিসিবি ও পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি চমৎকার সমাধান বের করেছে। এটি একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান, যেখানে ক্রিকেটকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

আইসিসির প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি বলেন, ‘পুরো কৃতিত্ব আইসিসির। তারা সবাইকে আলোচনার টেবিলে এনে বিষয়টির সুরাহা করেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে খেলা হবে— আমাদের সবার জন্য এটিই সবচেয়ে বড় সুসংবাদ।’




মত বদলে ভারতের সঙ্গে খেলতে রাজি পাকিস্তান

ক্রীড়া ডেস্কঃ অবশেষে পাকিস্তানের মত বদল। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান।

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আর নানা টানাপোড়েনের জেরে শুরুতে ম্যাচটি বয়কটের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে পাকিস্তান সরকার। মূলত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিসিবি।

সোমবার রাতে পাকিস্তান সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, খেলাধুলার চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং বিশ্ব ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও শ্রীলঙ্কাও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমারা দিশানায়েকে এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের মধ্যকার আলোচনার পর জট খুলতে শুরু করে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তান বর্তমানে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের পক্ষ থেকে জানানো কৃতজ্ঞতাকেও তারা ইতিবাচকভাবে দেখছে। পাকিস্তান সরকার আশা প্রকাশ করেছে, তাদের ক্রিকেটাররা জাতীয় গৌরব আর খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামবে।

সূত্র: খালিজ টাইমস




আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলো শ্রীলঙ্কা

ক্রীড়া ডেস্কঃ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে ফিল্ডিংয়ের ভয়াবহ ব্যর্থতাকে কাজে লাগিয়ে সহজ জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। 

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আইরিশদের হাতছাড়া করা চারটি ক্যাচ এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাজে ফিল্ডিংয়ের সুযোগ নিয়ে ২০ রানে জয় নিশ্চিত করে লঙ্কানরা।

জয়ের জন্য ১৬৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে আয়ারল্যান্ড এক বল হাতে থাকতেই ১৪৩ রানে অলআউট হয়ে যায়। এই জয়ের ফলে এই ফরম্যাটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টানা ১১তম জয়ের রেকর্ড ধরে রাখল শ্রীলঙ্কা, যা তাদের বিশ্বকাপের মিশন ২ পয়েন্ট দিয়ে শুরু করতে সাহায্য করেছে।

ম্যাচের শুরুতে আয়ারল্যান্ডের বোলাররা লঙ্কানদের বেশ চাপে রেখেছিলেন। ইনিংসের চার ওভার বাকি থাকতে শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ৪ উইকেটে মাত্র ১০৪ রান। তবে ম্যাচের ভাগ্য বদলে যায় শেষ চার ওভারে, যেখানে আইরিশ ফিল্ডাররা একের পর এক ক্যাচ মিস করতে থাকেন। ১৭তম ওভারে দুটি ক্যাচ ফেলার খেসারত হিসেবে ২১ রান দেয় আয়ারল্যান্ড।

শেষ দিকে কুশল মেন্ডিসের অপরাজিত ৪৩ বলে ৫৬ রান এবং কামিন্দু মেন্ডিসের মাত্র ১৯ বলে ৪৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের ওপর ভর করে ৬ উইকেটে ১৬৩ রানের লড়াকু পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা। আইরিশরা শেষ চার ওভারে ৫৯ রান দিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে শুরু করে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে ৪৫ রান তুলে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। হ্যারি টেক্টর ও লরকান টাকার এক সময় ম্যাচটি আইরিশদের নাগালে নিয়ে এসেছিলেন। ১৫ ওভার শেষে তাদের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১০৫ রান। কিন্তু লঙ্কান স্পিনারদের জাদুকরী বোলিংয়ের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে আয়ারল্যান্ডের মিডল ও লোয়ার অর্ডার।

মাত্র ৩৮ রানের ব্যবধানে তারা শেষ ৮টি উইকেট হারায়। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও দুনিথ ভেল্লালাগের স্পিন আক্রমণে টাকার ও টেক্টর ফিরে যাওয়ার পর মাহিশ থিকশানা টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডের হার নিশ্চিত করেন।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে অধিনায়ক ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও মাহিশ থিকশানা সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন কামিন্দু মেন্ডিস। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে বোলাররা শুরুতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও ফিল্ডিংয়ের চরম বিশৃঙ্খলা ও স্পিন খেলার দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত তাদের পরাজয়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল লঙ্কান সিংহরা।




ক্যাচটা ধরলেই ইতিহাস বদলে যেত, কী হয়েছিল পাকিস্তান ভারত ম্যাচে

ক্রীড়া ডেস্কঃ বিশ্বকাপের প্রথম দিন। আলাদা দুই মাঠ, আলাদা দুই প্রতিপক্ষ। অথচ আশ্চর্য মিল নিয়ে একই গল্প লিখল পাকিস্তান ভারত। রাজনৈতিক বৈরিতার বাইরে গিয়ে ক্রিকেটের মাঠে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যেন হয়ে উঠল একই বৃন্তে দুটি ফুল। নেদারল্যান্ডস আর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হারের শঙ্কা থেকে ফিরে এসে জয় তুলে নেওয়ার পথে দুই দলকে এক ছাতার নিচে এনে দিল মাত্র দুটি ঘটনা, দুটি ক্যাচ মিস।

পাকিস্তান ভারতের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই উত্তপ্ত। তবে মাঠে সেই উত্তাপ কিছুদিন আগেও এতটা চোখে পড়েনি। বাবর আজম মোহাম্মদ রিজওয়ানদের সঙ্গে বিরাট কোহলি রোহিত শর্মাদের হাসিমুখের ছবি একসময় নিয়মিত দেখা যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই দৃশ্য বদলেছে। এশিয়া কাপে তিনবার মুখোমুখি হলেও সালমান আলী আগা সূর্যকুমার যাদব একবারও হাত মেলাননি। বাইরে সাবেক ক্রিকেটারদের কথার লড়াইও চলছে। এমন আবহেই বিশ্বকাপের প্রথম দিনে মাঠে নামে দুই দল।

সূচির মিল ছিল আগেই। বিশ্বকাপের শুরুতেই খেলতে নামে পাকিস্তান ভারত। প্রতিপক্ষও প্রায় একই মানের, সহযোগী সদস্য নেদারল্যান্ডস-যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ম্যাচের ভেতরের চিত্র অবাক করার মতো কাছাকাছি হয়ে যায়।

কলম্বোয় নেদারল্যান্ডসকে ১৪৭ রানে আটকে দিয়ে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরুটা করেছিল দুর্দান্তভাবে। ৬ ওভারে ৬১, ১০ ওভারে ৯০ রান। মনে হচ্ছিল বড় জয় আসছে। ঠিক তখনই ধস। ৯৮ রানে দুই উইকেট থেকে মাত্র ১৬ রানের মধ্যে পড়ে যায় আরও পাঁচটি উইকেট। ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়।

সেখান থেকে পাকিস্তানকে টেনে তোলেন ফাহিম আশরাফ। ১১ বলে ২৯ রানের ক্যামিওতে তিন উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় পায় তারা। তবে এই ইনিংসের মোড় ঘুরে যায় ১৯তম ওভারে। তখন ফাহিমের ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ম্যাক্স ও’ডাউড। ক্যাচটি মিস হয়। আগের বলে ছক্কা হাঁকানো ফাহিম এরপর আরও দুটি ছক্কা মারেন। ওই ওভারেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় পাকিস্তানের জয়।

ভারতের গল্পও প্রায় একই। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৭৭ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তখন দলের ভরসা হয়ে দাঁড়ান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ৪৯ বলে ৮৪ রানের ইনিংসে ভারত পৌঁছে যায় ১৬১ রানে, পরে জিতে নেয় ২৯ রানে।

সূর্যকুমারও পেয়েছিলেন এক জীবন। তখন তার রান ছিল ১৫। শুভম রাঞ্জানের বলে ফিরতি ক্যাচ তুলেছিলেন, কিন্তু রাঞ্জান ধরতে পারেননি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরের ৩২ বলে যোগ করেন আরও ৬৯ রান। ওই ইনিংসই ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেয়।

দুটি ম্যাচে দুটি ক্যাচ মিস। দুটি নায়কোচিত ইনিংস। আর তাতেই বিশ্বকাপের প্রথম দিনেই এক সুতোয় গাঁথা পড়ে গেল পাকিস্তান ভারত। মাঠের ভিন্নতা থাকলেও গল্পটা হয়ে উঠল প্রায় এক।




ওয়াংখেড়েতে জমকালো অনুষ্ঠান, অন্যান্য স্টেডিয়াম ফাঁকা

ক্রীড়া ডেস্কঃ মুম্বাইয়ে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টি-টেয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধণী অনুষ্ঠান দেখে বুঝার উপায় নেই যে এবারের আসর কতোটা বিতর্কের মধ্য দিয়ে এসেছে। ওয়াংখেড়ের মাঠে উদ্বোধণী অনুষ্ঠান মাতিয়েছেন বলিউডের ডান্স কুইন খ্যাত নোরা ফাতেহি এবং র‍্যাপারখ্যাত বাদশা। নোরা ফাতেহির উদ্দাম নাচের ঝলকে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের দর্শক মুগ্ধ। আলোর ঝলকানি আর নাচের মঞ্চ কাঁপিয়ে বিশ্বকাপের দশম আসরের সুর বাজল।

তবে এবারের বিতর্কিত টি-টোয়োন্টি বিশ্বকাপের সুর সবার কানে শ্রুতিমধুর হয়নি। যেখানে ভারতই ছিল নানা দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে। আইসিসি এখনও চেষ্টা করছে পাকিস্তান যেন ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা খেলতে নামে। নানা বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে গতকাল পর্দা উঠল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইসিসির সভাপতি জয় শাহ ও ২০২৪ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রোহিত শর্মা। সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক মাঠে ট্রফি নিয়ে আসেন। সন্ধ্যায় ওয়াংখেড়েতে মাঠে নেমেছে স্বাগতিক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। স্বাগতিক দলের ম্যাচ হওয়ায় গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়া বাকি দুটি ম্যাচের তুলনায় ম্যাচটিতে ছিল দর্শকদের উপস্থিতি।

মূল উদ্বোধণী অনুষ্ঠান ওয়াংখেড়েওত হলেও প্রথম দিনে মাঠে গড়িয়েছে তিনটি ম্যাচ। কলম্বোতে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডের ম্যাচ গড়িয়েছে। যেখানে ডাচদের হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। এ ছাড়াও দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ‘সি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্কটল্যান্ড। ম্যাচটিতে স্কটিশদের ৩৫ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এবারের আসরে বাংলাদেশ না থাকায় টুর্নামেন্টে ডাক পায় স্কটল্যান্ড। তবে দর্শকদের ম্যাচটি নিয়ে ছিল না তেমন কোনো আগ্রহ। ইডেন গার্ডেন্সে দর্শকধারণ ক্ষমতা ৬৫ হাজার। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্কটল্যান্ডের খেলায় ছিল না ৩ হাজার দর্শকও। স্টেডিয়ামের বাইরে ছিল না বিশ্বকাপের আমেজ। স্কটল্যান্ডের জায়গা বাংলাদেশ থাকলে গল্পটা ভিন্ন হতে পারত। এর আগে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে কলকাতায় একাধিক ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। সে সময় গ্যালারিতে ছিল চোখে পড়ার মতো দর্শক-সমর্থক।

কলম্বোতে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাচেও ছিল একই চিত্র। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডের দর্শকধারণ ক্ষমতা মাত্র ১০ হাজার। তবুও গ্যালারির সিংহভাগ আসনই ছিল ফাঁকা। মাঠে দর্শক টানতে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডের ম্যাচ ফ্রিতে খেলা দেখানোর ঘোষণা নিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। মাঠে ছিল না তেমন দর্শক।

এবারের আসরে পাঁচ গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে ২০টি দল। যার মধ্যে ১১টি আইসিসির পূর্ণ সদস্যের দল এবং ৯টি আইসিসির সহযোগী সদস্য। ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ বাদ দিলে টুর্নামেন্টে থাকে ৪৪টি ম্যাচ। দর্শকদের মাঠে টানতে দরকার হাইভোল্টেজ ম্যাচ। ২০ দলের লড়াইয়ে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের খেলাগুলোতে চার ভাগের তিন ভাগ ম্যাচের ফলাফল আগে থেকে আঁচ করা যাচ্ছে, যদি না কোনো অঘটন ঘটে। ফলে মাঠে বসে খেলা উপভোগ করতে তেমন আগ্রহ নেই সমর্থকদের।

এছাড়াও টুর্নামেন্টে দর্শক খরার আরো একটি কারণ, ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ! প্রতিবেশী দেশগুলোদের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্ক খুব একটা ভালো না হওয়ায় মাঠে বসে খেলা উপভোগ করতে আগ্রহী দর্শকদের পড়তে হয় ভিসা জটিলতায়। এই তালিকায় বাদ যান না ক্রিকেটারাও।