নাহিদ রানার রেকর্ডের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ২৫ রানে হারল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : ব্যাটিং ব্যর্থতায় ২৫ রানের লজ্জাজনক হার দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন নুরুল হাসান সোহান। একমাত্র টেস্টে উড়িয়ে দেয়ার পর এবার ওয়ানডের প্রথম ম্যাচেও টাইগারদের লজ্জায় ফেলল জিম্বাবুয়ে। ১৪২ রান তাড়া করতে নেমে লক্ষে পৌঁছাতে পারেনি টাইগাররা।হারারেতে আজ সোমবার শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নাহিদ রানার তোপে কেবল ১৪১ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। জবাব দিতে নেমে ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের দেওয়া রান তাড়া করতে নেমে দলীয় ১৭ রানে প্রথম ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। বাজে শুরুর পর তাওহীদ হৃদয় এবং নুরুল হাসান সোহানের ৪৯ রানের জুটিতে আবারও চালকের আসনে বসে টাইগাররা। পরপর দুই ওভারে হৃদয় এবং মোসাদেক হোসেনকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়েকে ম্যাচে ফেরান।

জিম্বাবুয়ের পেসারদের বোলিং নৈপুণ্যে ৪২ রানের ব্যবধানে শেষ ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন রিচার্ড এনগারাভা এবং ব্রাড ইভান্স। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন নিয়ামহুরি এবং মুজারাবানি।




ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টারে নরওয়ে

ডেস্ক নিউজঃ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল নরওয়ে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ব্রাজিলকে বিদায় করে দেয় ইউরোপের দলটি।

প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের সুযোগ পেলেও কোনো দলই তা কাজে লাগাতে পারেনি। ম্যাচের শুরুতেই নরওয়ের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। অন্যদিকে ১৫ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিল। ব্রুনো গিমারাইসের স্পটকিক দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিল্যান্ড। সেই মুহূর্তটিই পরে ম্যাচের বড় মোড় হয়ে দাঁড়ায়।

বিরতির পরও ম্যাচে খুব বেশি ছন্দ খুঁজে পায়নি ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কয়েকবার আক্রমণ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি। বদলি হিসেবে এন্দ্রিক ও পরে নেইমারকে নামিয়েও আক্রমণে ধার ফেরাতে পারেননি কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

অন্যদিকে ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল নরওয়ে। ৭৫ মিনিটে হালান্ডের তৈরি করা সুযোগ থেকে গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যায় তারা। এরপর ৭৯ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের ভাসিয়ে দেওয়া দারুণ ক্রসে বক্সের ভেতর উঁচুতে লাফিয়ে শক্তিশালী হেডে আলিসনকে পরাস্ত করেন হালান্ড। পুরো ম্যাচে খুব বেশি বল না পেলেও এক সুযোগেই নিজের জাত চিনিয়ে দেন নরওয়ের এই গোলমেশিন।

গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে ব্রাজিল। ৮৩ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের কর্নার থেকেও কোনো লাভ হয়নি। ৮৬ মিনিটে ভাগ্য প্রায় ব্রাজিলের পক্ষে যেতে বসেছিল। প্রতিপক্ষের একজনের গায়ে লেগে বলের গতিপথ বদলে গোলমুখে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু দুর্দান্ত উপস্থিত বুদ্ধি ও ক্ষিপ্রতায় নিল্যান্ড ফিরে এসে বল পোস্টে ঠেলে দেন। সেই অসাধারণ সেভে নরওয়ের লিড অক্ষুণ্ন থাকে।

ব্রাজিল যখন মরিয়া হয়ে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করছে, তখনই যোগ হয় আরও এক দুঃস্বপ্ন। ৮৯ মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে আবারও সুযোগ পান হালান্ড। এবারও কোনো ভুল করেননি তিনি। নিজের দ্বিতীয় গোল করে নরওয়েকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এবং কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন।

তবে যোগ করা সময়ে শেষবারের মতো ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় ব্রাজিল। কাসেমিরোকে বক্সের ভেতরে কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি দেন রেফারি। সেই সুযোগ থেকে ১০০তম মিনিটে গোল করেন নেইমার। ধীরগতির রানআপ নিয়ে নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিল্যান্ডকে পরাস্ত করেন তিনি। যদিও পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি নিয়ে বিতর্কেরও জন্ম হয়।

নেইমারের গোলে ব্যবধান ২-১ হলেও শেষ মুহূর্তে আর সমতায় ফিরতে পারেনি ব্রাজিল। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ২-১ গোলের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় নরওয়ে। অন্যদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় নিতে হয় শেষ ষোলোর বাধাতেই।

এই জোড়া গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় সাতে। ফলে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষেও উঠে যান।

অন্যদিকে গোলরক্ষক অরিয়ান নিল্যান্ডও নরওয়ের জয়ের অন্যতম নায়ক। ব্রাজিলের পেনাল্টি ঠেকানোর পাশাপাশি ম্যাচজুড়ে একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন তিনি।

সব মিলিয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দুর্দান্ত গোলরক্ষণ এবং হালান্ডের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। আর শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত ব্রাজিলকে শেষ ষোলোর বাধাতেই বিদায় নিতে হলো।




বিশ্বকাপে রাতজাগা দর্শকদের জন্য ব্রিটিশ সরকারের বিশেষ সুবিধা

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর হাইভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে বড় ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। সমর্থকদের ম্যাচ উপভোগের সুযোগ বাড়াতে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের পাবগুলোকে ভোর ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এই ম্যাচে ইংল্যান্ড সময় রাত ১টায় মুখোমুখি হবে মেক্সিকোর। সময়ের পার্থক্যের কারণে যুক্তরাজ্যের দর্শকদের জন্য ম্যাচটি মধ্যরাতের পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে সমর্থকদের আনন্দ উদযাপন নির্বিঘ্ন রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন,‘ফুটবল হয়তো ঘরে ফিরছে, কিন্তু আমরা নিশ্চিত করছি সমর্থকদের বাড়ি ফিরতে তাড়াহুড়ো করতে হবে না। শেষ বাঁশি পর্যন্ত পাব খোলা থাকা সমর্থকদের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি স্থানীয় ব্যবসার জন্যও ইতিবাচক। গোটা দেশ ইংল্যান্ড দলের পাশে রয়েছে।’

এর আগে টুর্নামেন্ট চলাকালে ইংল্যান্ডের ম্যাচগুলোর জন্য রাত ২টা পর্যন্ত পাব খোলা রাখার অনুমতি ছিল। তবে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচের সময়সূচি বিবেচনায় এবার সেই সময়সীমা বাড়ানো হলো।

শেষ ৩২-এর ম্যাচে কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় থমাস টুখেলের দল। এবার তাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা মেক্সিকো। ম্যাচে জয় পেলে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হতে পারে ব্রাজিল অথবা নরওয়ে।

সময় পার্থক্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় আয়োজিত এই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যুক্তরাজ্যের দর্শকদের জন্য গভীর রাতে সম্প্রচারিত হচ্ছে। তবে সরকারী এই সিদ্ধান্তে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস আরও বেড়েছে।

সমর্থক ও পাব ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে রাতভর ফুটবল উন্মাদনা উপভোগের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।




নরওয়ের বিপক্ষে জয়হীন ব্রাজিল, এবার কি বদলাবে ইতিহাস?

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটিতে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় নরওয়ের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেলেসাওদের সামনে থাকছে আরও একটি বড় লক্ষ্য—ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নরওয়েকে হারানো।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। সেখানে দুটি ম্যাচ জিতেছে নরওয়ে, বাকি দুটি ড্র হয়েছে। অর্থাৎ, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল ব্রাজিল এখনও পর্যন্ত নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের দেখা পায়নি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নরওয়ের ২-১ গোলের জয় এখনও দুই দলের লড়াইয়ের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়।

তবে অতীতের পরিসংখ্যান ভুলে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে কার্লো আনচেলত্তির দল। ১৯৯০ সালের পর প্রতিটি বিশ্বকাপেই শেষ ষোলো পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ব্রাজিল। এবারও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় তারা।

ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন আর্লিং হালান্ড। অভিষেক বিশ্বকাপেই দুর্দান্ত ছন্দে থাকা নরওয়ের এই স্ট্রাইকার চার ম্যাচে পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে অন্যতম দাবিদার। তার সঙ্গে মাঝমাঠে মার্টিন ওডেগার্ড এবং উইংয়ে আন্তোনিও নুসার উপস্থিতি নরওয়ের আক্রমণকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।

অন্যদিকে, আক্রমণে কম শক্তিশালী নয় ব্রাজিলও। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ইতোমধ্যে চার গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। মাতেউস কুনিয়ার ঝুলিতে রয়েছে তিনটি গোল। ফলে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার মতো একাধিক অস্ত্র রয়েছে আনচেলত্তির হাতে।

চলতি আসরে নরওয়ে চার ম্যাচে ১০ গোল করলেও হজম করেছে আটটি। বিপরীতে ব্রাজিল পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি গোল খেয়েছে। শেষ বত্রিশে জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও নাটকীয় জয় তুলে নেওয়ায় আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে সেলেসাওদের।

কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে ব্রাজিলকে শুধু নিজেদের আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেললেই হবে না, একই সঙ্গে হালান্ডকে আটকে রাখার কঠিন পরীক্ষাও উতরে যেতে হবে। অন্যদিকে, নরওয়ে চাইবে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ড অক্ষুণ্ন রেখে আরেকটি ইতিহাস গড়তে।




আমরাও কুৎসিত ফুটবল খেলতে জানি: এমবাপ্পে

ক্রীড়া ডেস্কঃ ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে উত্তেজনা। একদিকে প্যারাগুয়ের দুর্ভেদ্য রক্ষণ। অন্যদিকে, ফ্রান্সের অবিরাম আক্রমণ। প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় খেলা ম্যাচটিতে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

অধিনায়কের একমাত্র গোলেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফরাসিরা। এদিন ফ্রান্সকে শুধু প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে নয়, মাঠে প্যারাগুয়ের আগ্রাসী ও শারীরিক ফুটবলের সঙ্গেও লড়তে হয়েছে। ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়েরা শারীরিকভাবে আগ্রাসী ফুটবল খেলেছেন। ফাউল, ট্যাকল এবং সংঘর্ষে ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের বিরক্ত করে গেছেন লাগাতার। ম্যাচ শেষে এ নিয়ে স্পষ্টতই অসন্তোষ জানিয়েছেন এমবাপ্পে।

তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে তার দলও ‘ডার্টি ফুটবল’ খেলতে জানে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, সেটি আগে থেকেই জানা ছিল ফ্রান্সের। খেলা শেষে এমনটাই জানিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমরা জানতাম, কী ধরনের ম্যাচ অপেক্ষা করছে। আমার মনে হয়, আজ আমরা সেটি খুব ভালোভাবেই সামলেছি।’

প্রতিপক্ষের কৌশল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘ওরা ভেবেছিল আমরা বুঝি টাক্সেডো (আভিজাত্যপূর্ণ ও ভদ্র ফুটবল খেলা অর্থে) পরে মাঠে নামব এবং শুধু চোখধাঁধানো কিছু কৌশল দেখাব। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। প্রয়োজন হলে আমরাও কুৎসিত ফুটবল খেলতে জানি। আজ সেটাই করেছি।’

ম্যাচে মোট চারটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন উজবেক রেফারি ইলগিজ তানতাশেভ। এর মধ্যে তিনটিই দেখেছে ফ্রান্স।




কোন বিশ্বকাপে কতটি আত্মঘাতী গোল হয়েছে

ক্রীড়া ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে শুক্রবার রাতে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে মিসর–অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে আত্মঘাতী গোল করেন আফ্রিকার দলটির রাইটব্যাক মোহামেদ হানি। চলতি বিশ্বকাপে এটা ছিল ১৩তম আত্মঘাতী গোল। এই গোলেই ভেঙেছে বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বোচ্চ আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড।

বিশ্বকাপে এত দিন এক আসরে সর্বোচ্চ আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড ছিল ২০১৮ আসরে। সেবার ১২টি আত্মঘাতী গোল হয়েছে। এবার শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে ভেঙে গেল আট বছর আগের আসরের সে রেকর্ড। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১৪টি আত্মঘাতী গোল হয়েছে। সামনে এখনো শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। আত্মঘাতী গোলের নতুন এ রেকর্ড কোন উচ্চতায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

২০২২ সালে ২টি, ২০১৮ সালে ১২টি, ২০১৪ সালে ৪টি, ২০১০ সালে ২টি, ২০০৬ সালে ৪টি, ২০০২ সালে ২টি, ১৯৯৮ সালে ৫টি, ১৯৯৪ সালে ১টি, ১৯৯০ সালে আত্মঘাতী গোল হয়নি। ১৯৮৬ সালে ২টি, ১৯৮২ সালে ১টি, ১৯৭৮ সালে ২টি, ১৯৭৪ সালে ২টি, ১৯৭০ সালে ১টি, ১৯৬৬ সালে ২টি, ১৯৬২ সালে আত্মঘাতী গোল হয়নি। ১৯৫৪ সালে ৪টি, ১৯৫০ সালে আত্মঘাতী গোল হয়নি, ১৯৩৮ সালে ২টি, ১৯৩৪ সালে আত্মঘাতী গোল হয়নি ও ১৯৩৪ সালে ১টি আত্মঘাতী গোল হয়েছে।




আজ শুরু হচ্ছে ষোলোর লড়াই, মুখোমুখি মরক্কো-কানাডা

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে মরক্কো ও কানাডা। বাংলাদেশ সময় শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১১টায় হিউস্টনের রিলায়ান্ট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দু’দল। জয়ী দল নিশ্চিত করবে শেষ আট, আর হেরে গেলেই শেষ হবে বিশ্বকাপ অভিযান। তবে দুইদলই দুর্দান্ত খেলার ছন্দে আছে।

গ্রুপ পর্ব ও রাউন্ড অব ৩২ পেরিয়ে এবার বিশ্বকাপ যেন পা রেখেছে মহাযুদ্ধে। আজ রাত থেকেই শুরু হচ্ছে শেষ ষোলোর লড়াই। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটতে মুখোমুখি মরক্কো ও কানাডা। রাউন্ড অব ৩২-এ স্বাগতিক কানাডা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউটে এসেছে। অন্যদিকে মরক্কো টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টিকিট কেটেছে শেষ ষোলোর।

কানাডার জন্য শেষ ষোলো বিশেষ কিছুই। তারা ১৯৮৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেললেও কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। ২০২২ সালেও বিদায় নিতে হয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট জিতে শেষ ষোলোয় উঠে তারা গোটা দেশের ফুটবল মানচিত্র বদলে দিয়েছে। তৃতীয় সারির দল থেকে এক লাফে তারা অভিজাত ক্লাবে চলে এসেছে।

নকআউট পর্বে একটা ম্যাচ জয় করার জন্য কোনো দলকে যুগের পর যুগ অপেক্ষা করতে হয়। কানাডা সেই অপেক্ষাটা ঘুচিয়েছে অল্পতেই। স্বাগতিক হওয়ার মর্যাদাও রক্ষা করেছে তারা। অন্যদিকে মরক্কো তো লিখে চলেছে রূপকথা। কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে বিশ্বকে চমকে দেয়ার পর তাদের বিস্ময়করযাত্রা চলছেই। চলতি আসরেও ডার্ক হর্স হিসেবেই দেখা হচ্ছে মরক্কোকে।

আফ্রিকান নেশন্স কাপজয়ী এই দলের পক্ষে যেকোনো কিছুই করা সম্ভব! চার বছরে বেশ শক্তি জমা করেছে তারা। টানা ৩২টির বেশি ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড নিয়ে এই ম্যাচে মাঠে নামছে মরক্কো।

এবার বিশ্বকাপে আশরাফ হাকিমি, ইয়াসিন বোনোর সাথে ইসমাইল সাইবারিও নিজেকে তারকার কাতারে নিয়ে গেছেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ডাক পেয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখ থেকে।

অতীতের পরিসংখ্যানও মরক্কোর পক্ষে। দু’দল এর আগে চারবার মুখোমুখি হয়েছে। সেখানে তিনবার জিতেছে মরক্কো, একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। কানাডা এখনো মরক্কোর বিপক্ষে জয়ের দেখা পায়নি। দু’দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। সেবার হাকিম জিয়েচ ও ইউসুফ আন-নেসিরির গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল মরক্কো।

অবশ্য ইতিহাস নয়, বর্তমান ছন্দই কানাডার সবচেয়ে বড় ভরসা। নিজেদের সমর্থকদের সামনে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে তারা। গতিময় আক্রমণ, উচ্চ প্রেসিং এবং দ্রুত ট্রানজিশন এই দলের মূল শক্তি। তবে ইতিহাস আর সম্ভাবনা যাইহোক; নকআউট পর্বের ম্যাচে ভুলের সুযোগ নেই। একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের চিত্র। তাই হিউস্টনে সতর্ক কিন্তু রোমাঞ্চকর একটি লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।




আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে অবাক হবো: সাকিব আল হাসান

ডেস্ক নিউজঃ এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রিয় দল আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতলে অবাক হবেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা এই তারকা ক্রিকেটারের মতে, এবারের আসরে স্পেন ও ফ্রান্স সবচেয়ে শক্তিশালী দল। ২০২২ সালের তুলনায় বর্তমান আর্জেন্টিনা দল অনেকটাই দুর্বল হওয়ায় তাদের টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ে ভাগ্যের ব্যাপক সহায়তা লাগবে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর খেলা শেষে টুর্নামেন্টের গতিপথ নিয়ে নিজের এমন পর্যালোচনার কথা জানিয়েছেন সাকিব। কট্টর আর্জেন্টিনা সমর্থক হিসেবে পরিচিত এই ক্রিকেটার জানান, প্রিয় দল চ্যাম্পিয়ন হোক—সেটি তিনি মন থেকেই চান। তবে বাস্তবতার নিরিখে এবার তাদের হাতে শিরোপা উঠলে সেটি তার কাছে বিস্ময়করই মনে হবে। কারণ হিসেবে তিনি লিওনেল মেসির ওপর দলের অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। বয়সের ভারে থাকা মেসির ওপর পুরো দলের এই নির্ভরতাকে তিনি দলগত দিক থেকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে মেসির ছন্দে থাকাটা উপভোগ করছেন বলেও জানান এই অলরাউন্ডার।

সার্বিক বিশ্বকাপ পরিস্থিতি নিয়ে সাকিব জানান, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার দলগুলোর দারুণ পারফরম্যান্সের কারণে এবারের আসরটি বেশ রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে। তবে শিরোপার মূল দাবিদার হিসেবে তিনি ইউরোপের দুটি দেশকে এগিয়ে রাখছেন। তার মতে, এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সেরা দুই দল হলো স্পেন ও ফ্রান্স। মেক্সিকোসহ আরও কয়েকটি দল ভালো করলেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা ফ্রান্স বা স্পেনের কারও হাতেই উঠবে বলে তিনি জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন।

এদিকে, এর আগে গ্যালারিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের জার্সি গায়ে সাকিবের উপস্থিতি নিয়ে ভক্তদের মাঝে বেশ আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানান, সেদিন মাঠে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচ ছিল। রবিন নামের এক পরিচিত ব্যক্তি তাকে ওই ম্যাচের টিকিট ও জার্সি উপহার দিয়েছিলেন। কেবল সেই কারণেই তিনি ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে গিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

টুর্নামেন্টে স্পেন ও ফ্রান্সকে ফেভারিট মানলেও একজন নিখাদ সমর্থক হিসেবে ফাইনালে প্রিয় দলকেই দেখতে চান এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও শিরোপার চূড়ান্ত লড়াইয়ে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাকিব আল হাসানের।




দুই মাইলফলকের সামনে মেসি, সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে স্কালোনি

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে আজ শুক্রবার দিবাগত রাত ৪টায় নবাগত কেপ ভার্দের হচ্ছে বর্তমানচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে খেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচের আগে দেখে নেওয়া যাক কিছু পরিসংখ্যান:

২০১০ সালে স্লোভাকিয়ার পর কেপ ভার্দে প্রথম দল, যারা নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই নকআউট পর্বে উঠেছে। এ ছাড়া ২০০৬ সালে ঘানার পর, প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে মাত্র ৪ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তন ও ৬ লাখ জনসংখ্যার দেশটি।

১৯৯৮ সালে চিলির পর, প্রথম দল হিসেবে তিনটি ম্যাচ ড্র করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে কেপ ভার্দে। দলটির জন্য আরেকটি ঐতিহাসিক ঘটনা- নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই নকআউট পর্বে শিরোপাধারীদের মুখোমুখি হওয়া তৃতীয় দল তারা। এর আগে ১৯৩৮ সালে ইতালির বিপক্ষে নরওয়ে ২-১ গোলে ও ২০০৬ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ঘানা ৩-০ গোলে হেরেছিল।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে এবার বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেয় কেপ ভার্তে। নকআউটে উঠতে পারা ক্ষুদ্রতম দেশ তারাই।

এই শতাব্দীতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠা তৃতীয় দল আর্জেন্টিনা। তাদের আগে এই কৃতিত্ব আছে ব্রাজিল (২০০৬ সালে কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরেছিল) ও ফ্রান্স (২০২২ সালে ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টিতে হেরেছিল)।

বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সবশেষ সাত ম্যাচের প্রতিটিতেই জিতেছে আর্জেন্টিনা, তবে এমন প্রতিপক্ষের কাছে প্রথম ম্যাচেই হেরেছিল তারা, ১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ১-০ গোলে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবশেষ ১৩টি নকআউট ম্যাচের সাতটিই গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। এমনকি আলবিসেলেস্তেদের চেয়ে আর কোনো দলের এত বেশি ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যায়নি (মোট ১১টি, যা জার্মানি ও ইতালির সমান)।

বিশ্বকাপে নিজের সবশেষ সাত ম্যাচেই গোল করেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এমন কীর্তি গড়া প্রথম ফুটবলার তিনি। এই সাত ম্যাচে ১১টি গোল করেছেন তিনি। আর নকআউটে নিজের সবশেষ পাঁচ ম্যাচে মোট ৯টি গোলে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি (পাঁচ গোল, চার অ্যাসিস্ট)।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি। প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্ব মঞ্চে ২০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে তার প্রয়োজন আর মাত্র একটি গোল।বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডধারীও মেসি। এটি হবে তার ৩০তম ম্যাচ।

আসন্ন ম্যাচটি হবে আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে লিওনেল স্কালোনির ১০০তম ম্যাচ, অর্থাৎ আর্জেন্টিনার হয়ে ডাগআউটে সেঞ্চুরি করবেন তিনি। আগের ৯৯ ম্যাচের ৭২টিতে তিনি জিতেছেন, ড্র ১৮টি, হার কেবল ৯টি।




হৃদয়ভাঙা পরাজয়ে বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি মদরিচের!

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার লুকা মদরিচের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো হৃদয়ভাঙা এক পরাজয়ে। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে পর্তুগালের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া।

৪০ বছর বয়সেও মাঠে ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা মদরিচ। পুরো ম্যাচে তিনি সর্বোচ্চ ৬৬ বার বল স্পর্শ করেন, তিনটি সফল ট্যাকল করেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে দুটি দারুণ আক্রমণাত্মক বল বাড়ান। তবে শেষ মুহূর্তে ইয়োশকো গভার্দিওলের সমতাসূচক গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় স্বপ্নভঙ্গ হয় ক্রোয়েশিয়ার।

ম্যাচ শেষে ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ জানান, এটি সম্ভবত মদরিচের শেষ বিশ্বকাপ। তবে তিনি যোগ করেন, ‘আগামী চার বছরে কী হবে, তা শুধু সৃষ্টিকর্তাই জানেন। দেখা যাক, পরে ক্রোয়েশিয়ায় এ নিয়ে আমরা কথা বলব।’

মদরিচের প্রশংসা করে দালিচ আরও বলেন, ‘লুকা অসাধারণ খেলেছে। বরাবরের মতোই সে ছিল আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন। তার জন্য এভাবে শেষ হওয়ায় আমার খুব খারাপ লাগছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সে নিজের চরিত্র, নেতৃত্ব ও অসাধারণ সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।’

২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপের রানার্সআপ এবং ২০২২ সালে তৃতীয় স্থান এনে দেওয়া মদরিচ এবার খেললেন নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপ। এবারের আসরে দলের চারটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি।

মদরিচকে নিয়ে তার সাবেক ক্লাব সতীর্থ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বলেন, ‘আমি বহু বছর লুকার সঙ্গে খেলেছি। আমাদের বয়সও প্রায় সমান। আমার কাছে সে ফুটবলের একজন কিংবদন্তি, এবং এখনও সে কিংবদন্তিই আছে।’

২০১৮ সালে বিশ্বের সেরা ফুটবলারের সম্মাননা জিতেছিলেন মদরিচ। ক্লাব ফুটবলে তিনি ছয়বার ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতার শিরোপা এবং চারবার স্পেনের শীর্ষ লিগের শিরোপা জিতেছেন। দীর্ঘ ২৩ মৌসুমের পেশাদার ক্যারিয়ারে তিনি মূলত দিনামো জাগরেব, টটেনহ্যাম হটস্পার ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন। সর্বশেষ মৌসুমে ইতালির একটি শীর্ষ ক্লাবের জার্সিতেও বল স্পর্শ, সফল পাস, সামনের দিকে বল বাড়ানো, বল নিয়ে অগ্রসর হওয়ার দূরত্ব এবং বল পুনরুদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানে দলের সেরা ছিলেন তিনি।

পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেসও মদরিচের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘মদরিচ এমন একজন ফুটবলার, যিনি দীর্ঘ ক্যারিয়ার পার করেও তরুণের মতো খেলেন, আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—তিনি অসাধারণভাবে খেলার পরিস্থিতি বুঝতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রায়ই কৌশল, কারিগরি দক্ষতা কিংবা শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করি। কিন্তু মাঠে কখন বল থামিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেই বুদ্ধিমত্তার কথা খুব কমই বলা হয়। মদরিচ সেই বিরল উদাহরণগুলোর একজন। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে তিনি নিজের খেলার গতি ঠিক করেন এবং প্রায় প্রতিবারই সঠিক সিদ্ধান্ত নেন।’