ভারতের সঙ্গে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা পাকিস্তানের, আইসিসির ক্ষতি ৬ হাজার কোটি টাকা

ক্রীড়া ডেস্কঃ একজন ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অর্থনীতিতে বড়সড় ঢেউ তুলতে পারে- সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে। জাতীয় দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে আইপিএলের একটি সিদ্ধান্ত এখন কেবল ক্রিকেট নয়, কূটনীতি ও বাণিজ্যিক স্বার্থের আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিলামে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক চাপ ছিল- এমন আলোচনা বিভিন্ন মহলে রয়েছে। ফলে মোস্তাফিজের চুক্তির পুরো অর্থই কার্যত লোকসান হয়েছে বলে ধরা হচ্ছে। তবে ঘটনাটি এখানেই থেমে থাকেনি।

এই ইস্যুকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ক্রিকেট সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা সামনে আসে। এর জেরে বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা দেয়—যে টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন পাকিস্তানও প্রথমে বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দেয়। যদিও পরে তারা জানায়, পুরো টুর্নামেন্ট নয়, কেবল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করবে।

মোস্তাফিজের ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতি যেখানে ৯ কোটির কিছু বেশি, সেখানে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাণিজ্যিক কাঠামোয় অনেক বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। আধুনিক ক্রিকেট কেবল মাঠের লড়াই নয়; এটি এখন সম্প্রচার, বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং বৈশ্বিক দর্শকসংখ্যা নির্ভর বিশাল শিল্প।

বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে কিছু ম্যাচ থাকে ‘হাই ভ্যালু ইভেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত। এর মধ্যে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বৈরথ ধরা হয়। বাজার বিশ্লেষকদের রক্ষণশীল অনুমান অনুযায়ী, সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন, টিকিট, স্পনসরশিপ ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড মিলিয়ে একটি ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬ হাজার কোটির বেশি।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের সময় মাত্র ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন স্লট বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৪০ লাখ ভারতীয় রুপিতে। একটি ম্যাচ থেকেই বিজ্ঞাপন বাবদ প্রায় ৩০০ কোটি রুপি আয় হয়- এমন ধারণা রয়েছে।

এই ধরনের ম্যাচ না হলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সম্প্রচার স্বত্ব কিনে নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা আগেই বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে আইসিসির কাছ থেকে টুর্নামেন্টের স্বত্ব নেয়। সেই বিনিয়োগের বড় অংশই ওঠে উচ্চ দর্শকসংখ্যার ম্যাচ থেকে। ফলে নির্ধারিত ম্যাচ বাতিল বা বর্জন হলে রাজস্ব কাঠামোয় চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি জিওস্টার আগেই আর্থিক ক্ষতির প্রসঙ্গ তুলেছে বলে জানা গেছে। বড় ম্যাচ বাতিল হলে আইসিসির ওপর ক্ষতিপূরণ বা চুক্তিগত চাপ বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের একটি গড় বাণিজ্যিক মূল্য নির্ধারিত থাকে, যা শত কোটি রুপির ঘরে। কিন্তু সব ম্যাচ সমান নয়—কিছু ম্যাচের মূল্য অন্যগুলোর তুলনায় বহুগুণ বেশি। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। এই ম্যাচ না হলে শুধু তাৎক্ষণিক আয় নয়, স্পনসরদের ব্র্যান্ড এক্সপোজার ও চুক্তিভিত্তিক লক্ষ্যও ব্যাহত হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে আইসিসি, সংশ্লিষ্ট বোর্ড ও সম্প্রচার অংশীদারদের মধ্যে জটিল আর্থিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ না নিলে তাদেরও আর্থিক ক্ষতি কম নয়। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ ফি, সম্প্রচার আয়ের ভাগ, স্পনসর উপস্থিতি ও বৈশ্বিক প্রচারণা- সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ জড়িত থাকে। একটি বড় টুর্নামেন্ট মিস করা মানে কয়েক কোটি ডলারের সম্ভাব্য আয় হারানো।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখাচ্ছে, আধুনিক ক্রিকেট কেবল ব্যাট-বলের লড়াই নয়; এটি কূটনৈতিক সম্পর্ক, করপোরেট বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক দর্শকবাজারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। একজন খেলোয়াড়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সিদ্ধান্তও তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আর্থিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।




বয়কট গুঞ্জনের মধ্যেই বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন স্থগিত করলো পাকিস্তান

ক্রীড়া ডেস্কঃ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে পাকিস্তান দলের নতুন জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম মিনিট মিররের প্রতিবেদন, বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করা অফিশিয়াল কিট উন্মোচনের পরিকল্পনা ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের টসের পর। তবে পিসিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনিবার্য কারণে শেষ মুহূর্তে সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।

জোর আলোচনা চলছে, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই জার্সি উন্মোচন বাতিল করা হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে কি না পাকিস্তান। এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি পিসিবি। শুক্রবার ও সোমবার সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছিলেন বোর্ড প্রধান মহসিন নাকভি। গতকাল অবশ্য এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি তারা।

গত সপ্তাহে নাকভি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। গত ২৬ জানুয়ারি ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং পিসিবির পৃষ্ঠপোষক শেখবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন নাকভি। সেখানে বিশ্বকাপে দলের অংশগ্রহণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

পিসিবির পক্ষ থেকেও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়ে অফিশিয়ালি কিছু জানানো হয়নি। তবে পিসিবির একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। পাকিস্তান তাদের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ খেলার কথা শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে। বিশ্লেষকদের ধারণা, নিরাপত্তা, রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক নানা বিষয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও জার্সি উন্মোচন একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন, তবে এটি বিশ্বকাপের আগে বড় ধরনের প্রচারণামূলক কর্মসূচি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। এতে সমর্থকদের আগ্রহ বাড়ে এবং স্পন্সরদের প্রচারও নিশ্চিত হয়।

বিশ্বকাপ শুরু হতে আর এক সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকায় দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাতে চাপ বাড়ছে পিসিবির ওপর। খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ ও সংবাদমাধ্যমের লজিস্টিক প্রস্তুতির জন্যও বিষয়টি জরুরি হয়ে উঠেছে।




বিশ্বের ‘সবচেয়ে বাজে’ লিগের তকমা পেল বিপিএল

ক্রীড়া ডেস্কঃ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে যেন বিতর্ক থামছেই না। ঘরোয়া গণ্ডি ছাড়িয়ে সেসব বিতর্কের খবর বিশ্বের নামকরা সংবাদমাধ্যমেও পৌঁছায়, যার আঁচ পাওয়া গেল ব্রিটিশ ম্যাগাজিন ‘দ্য ক্রিকেটার’ এর পর্যালোচনায়। 

তাদের করা র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের সবচেয়ে তলানির ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাংলাদেশের এই আসর।

আইসিসি স্বীকৃত ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের মধ্যে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অবস্থান দশম। চারটি মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে এই র‌্যাংকিং করেছে দ্য ক্রিকেটার। 
সেগুলো হলো- বিনোদনমূল্য, খেলার মান, গ্রহণযোগ্যতা এবং সামগ্রিক অবস্থান। দশটি লিগের মধ্যে চালানো এই পর্যালোচনায় বিপিএল তিনটি ক্যাটাগরিতেই রয়েছে দশ নম্বরে। শুধু স্থায়িত্ব বা গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি ২০ রয়েছে দশম স্থানে, যেখানে বিপিএল নবম।
সামগ্রিক বিচারে আইপিএল, বিগ ব্যাশ, এসএ টি-টোয়েন্টি, দ্য হানড্রেড তো বটেই, বিপিএলের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটও। অনুমিতভাবেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ ভারতের আইপিএল রয়েছে শীর্ষে, তারপরেই দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টি-টোয়েন্টির  অবস্থান। ক্রিকেটের মান এবং গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে আইপিএল এক নম্বরে থাকলেও বিনোদনের দিক থেকে এসএ টি-টোয়েন্টিকে প্রথমে রাখা হয়েছে।
‘দ্য ক্রিকেটার’ জানিয়েছে, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কম রেটিং পেয়েছে লংকান প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। 

তাদের মতে, ‘সবচেয়ে নিচে থাকা দুটি টুর্নামেন্ট এলপিএল এবং বিপিএল, যেগুলোর সঙ্গে আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ লেগেই আছে।’




বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় আইসিসির কড়া সমালোচনায় পাকিস্তানি কিংবদন্তি ইউসুফ

ক্রীড়া ডেস্কঃ নিরাপত্তা শঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এ ঘটনায় আইসিসির কঠোর সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফ।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) এক্স হ্যান্ডলে করা পোস্টে ইউসুফ লেখেন, ‘নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, স্কটল্যান্ড, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তানের মিলিত ক্রিকেট দর্শকসংখ্যার প্রায় সমান দর্শক রয়েছে বাংলাদেশের একারই। ১০টি দেশ মিলে: ১৭ কোটি ৮০ লাখ (দর্শক)। বাংলাদেশ: ১৭ কোটি ৬০ লাখ (দর্শক)।’

তিনি আরও লেখেন, ‘একটি খেলা যা বৈশ্বিকভাবে দর্শকদের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে বাংলাদেশের নিরাপত্তাজনিত ন্যায়সংগত উদ্বেগকে উপেক্ষা করা (আইসিসির) ধারাবাহিকতা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। যখন বেছে বেছে সুবিধা দেওয়া হয়, তখন ন্যায়পরায়ণতা হারিয়ে যায়। ক্রিকেটকে প্রভাব নয়, নীতি অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে।’

উল্লেখ্য, কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে গত ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় বিসিসিআই। ওই ঘটনার পরই নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না বলে জানায় বিসিবি।

এরপর একাধিকবার বৈঠক করে আইসিসি-বিসিবি। গত বুধবার আইসিসির সভা শেষে বাংলাদেশকে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেধে দেয়। এরপর বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৈঠক শেষে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানান তিনি।

এরপর বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয় আইসিসি। টাইগারদের বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে বেছে নেয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।




টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন মোড়, ডাক পেতে পারে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজঃ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে চলমান নাটক নতুন মোড় নিতে শরু করেছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানালে গত শনিবার বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাংলাদেশের বদলে এবারের বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছে স্কটল্যান্ড।

তবে এখন নতুন করে ক্ষীণ আশা জেগেছে, আইসিসি হয়তো বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে ফেরাতে পারে। তবে সেটা নির্ভর করছে পাকিস্তানের ওপর।

বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কট করার কথা ভাবছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। আগামী শুক্রবার বা সোমবার তারা এনিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বলে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেহবাজের সঙ্গে বৈঠক শেষে জানান বোর্ড প্রধান মহসিন নাকভি। আর পাকিস্তান যদি সরে দাঁড়ায় তাহলেই বাংলাদেশকে ফেরানো হবে।

পাকিস্তান ‘এ’ গ্রুপের দল হিসেবে সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে। আর তারা বাদ পড়লে পরিবর্তিত দল হিসেবে ওই গ্রুপে বাংলাদেশ খেললে তাদের দাবি অনুযায়ী সব ম্যাচই হবে শ্রীলঙ্কায়।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান যদি বয়কট করে তাহলে বাংলাদেশকে দেওয়া হবে প্রথম সুযোগ।

এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পাকিস্তান যদি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, বাংলাদেশকে ‘এ’ গ্রুপে তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হবে। তখন বিসিবির দাবি অনুযায়ী তারা সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে। সেটা হলে লজিস্টিকাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে।’

এমন প্রতিবেদনে পাকিস্তান হয়তো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ব্যাপারে নতুন করে ভাববে। কারণ যে বাংলাদেশের জন্য তারা বিশ্বকাপ বর্জন করবে, তারাই যদি তাদের জায়গায় খেলার সুযোগ পায় সেটা হবে পাকিস্তানের জন্য বোকার মতো কাজ। আর সেই বোকামি যেন পাকিস্তান না করতে পারে, সেজন্যই হয়তো এমন চতুর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রাখছে আইসিসি। এখন দেখার অপেক্ষা, পাকিস্তান কী সিদ্ধান্ত নেয়!




আইসিসির দ্বিমুখী নীতির আসল চেহারা উন্মোচন করলো উইজডেন

ক্রীড়া ডেস্কঃ নিরাপত্তা শঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

অথচ গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের জন্য ভারতের করা একই ধরনের অনুরোধ ঠিকই রেখেছিল আইসিসি। আর দুই ঘটনাকে সামনে রেখে বিখ্যাত ক্রিকেট ম্যাগাজিন উইজডেন প্রশ্ন তুলেছে, এটি কি আইসিসির ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ নয়?

উল্লেখ্য, কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে গত ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় বিসিসিআই। ওই ঘটনার পরই নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে ভারতে থেকে বিশ্বকাপ ভেন্যু পরিবর্তনের আহ্বান জানায় বাংলাদেশ। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটার, স্টাফ, ফ্যান ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আইসিসিকে ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয় বিসিবি।

কিন্তু ভারতীয় জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আমলে নিতে রাজি হয়নি। বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতেই খেলতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেয় আইসিসি। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় আইসিসি বদলি হিসেবে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। টুর্নামেন্টটি এককভাবে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ভারত জানিয়ে দেয়, তারা পাকিস্তানে সফর করবে না। নিজেদের ম্যাচের জন্য নিরপেক্ষ ভেন্যুর দাবি তুলেছিল দেশটি। দীর্ঘ আলোচনার পর সে দাবি মেনে নেয় আইসিসি। ভারত তাদের সব ম্যাচ দুবাইয়ে খেলে। ভ্রমণের ধকল না থাকা এবং সব ম্যাচ একই মাঠে খেলার ‘বাড়তি সুবিধা’ কাজে লাগিয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতে ভারত।

এই দুটি ঘটনা বর্ণনা করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ন্যায্যতা আদৌ শর্তসাপেক্ষ কিনা— সে প্রশ্ন তুলেছে উইজডেন। ভারত তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য তিন মাস সময় পেয়েছিল; অন্যদিকে সূচি ও গ্রুপ ঘোষণার পর বাংলাদেশের হাতে ছিল মাত্র এক মাস। শুধু সময়ের ব্যবধানই কি আইসিসির ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ডকে’ ন্যায্যতা দিতে পারে?

উইজডেনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংকট তৈরিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার ভূমিকা কি উপেক্ষা করা যায়? বিসিসিআই কখনোই মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে নিরাপত্তার কথা বলেনি। ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’—এই একটি কথাই ছিল ব্যাখ্যা।

বাংলাদেশ এটিকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখেছে—যদি একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে পুরো দলকে কীভাবে নিরাপদ রাখা হবে? মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত ছিল নিঃশর্ত ও অনুতাপহীন। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই একজন খেলোয়াড়কে ছেড়ে দিয়ে বিসিসিআই স্পষ্ট বার্তা দেয়, ক্রিকেট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহৃত হতে পারে।

প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ক্রিকেটের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে ভারত। বাংলাদেশ তাদের খেলোয়াড়দের সুরক্ষায় দাঁড়ালেও আত্মসম্মান ও নীতির প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্য হুমকির পথে গেছে। যার ফলে আইসিসির জন্য না বলাটা সহজ হয়েছে বলে মনে করে উইজডেন।

অন্যদিকে ভারত জানে, অর্থনৈতিক শক্তি ও সুপারস্টারদের কারণে তাদের ছাড়া আইসিসি টুর্নামেন্ট প্রায় অচল। তাই তারা পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পেরেছে। লড়াইয়ের পাল্লা শুরু থেকেই ভারতের দিকেই ভারী ছিল, যা দেখিয়ে দেয় কীভাবে ক্ষমতা, বিশেষ করে অর্থনৈতিক শক্তি, সিদ্ধান্তকে নিজের পক্ষে বাঁকিয়ে নিতে পারে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের তেমন সামর্থ্য ছিল না। তাই এমন এক সিদ্ধান্তের খেসারত তাদের দিতে হয়েছে, যার কথা তারা তিন সপ্তাহ আগেও ভাবেনি। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ছিল, কিন্তু এখন আর নেই। শুধু নিজেদের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই।




বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি আইসিসির

ক্রীড়া ডেস্কঃ আসন্ন পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) টুর্নামেন্ট বয়কটের যে হুমকি দিয়েছে, তাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। 

বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তান যদি এই টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে তাদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসি কেবল বিশ্বকাপ থেকেই নয়, বরং পাকিস্তানকে এশিয়া কাপ থেকে বাদ দেওয়া, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাতিল এবং পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি ক্রিকেটারদের খেলার অনুমতি বা এনওসি না দেওয়ার মতো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের চিন্তাভাবনা করছে।

সংকটের সূত্রপাত হয় গত শনিবার, যখন আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেয়। আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই এবং বিসিবির ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবিটি তাই ভিত্তিহীন।

আইসিসি মনে করে, টুর্নামেন্টের সূচির অখণ্ডতা রক্ষা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই তারা এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়’ ও আইসিসির ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের মতো একটি প্রধান অংশীদারকে বাদ দেওয়া ক্রিকেটের জন্য নেতিবাচক নজির হয়ে থাকবে।

পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি আরও উল্লেখ করেছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা বয়কটের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় তাঁর ফেরার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

নাকভি জোর দিয়ে বলেন যে, পাকিস্তান আইসিসির নির্দেশের চেয়ে তাদের নিজস্ব সরকারের নির্দেশনাকে বেশি গুরুত্ব দেয় এবং পরিস্থিতির প্রয়োজনে তাঁদের কাছে ‘প্ল্যান এ, বি, সি ও ডি’ প্রস্তুত রয়েছে। পাকিস্তানের এই শক্ত অবস্থানের কারণে টুর্নামেন্টের আয়োজক ভারত এবং আইসিসির মধ্যে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আইসিসি ও পিসিবির এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান বিশ্ব ক্রিকেটে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। যদি পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বয়কটের পথে হাঁটে এবং আইসিসি তাদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে তা বৈশ্বিক ক্রিকেটের রাজস্ব এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারতে অনুষ্ঠেয় ২০ দলের এই টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ এখন পাকিস্তান সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে আছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস




বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ, আইসিসির ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন আফ্রিদি

ক্রীড়া ডেস্কঃ শেষ পর্যন্ত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের। বাংলাদেশ দলের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে এই টুর্নামেন্টে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। শনিবার সন্ধ্যায় একটি বিবৃতি দিয়ে আইসিসি এই খবর নিশ্চিত করে।

আইসিসির এই আচরণকে ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও ভক্তদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের ভেরিফায়েড এক্স একাউন্টে আফ্রিদি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে ও আইসিসির বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলা একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আজ আইসিসির আচরণে আমি খুবই হতাশ। ২০২৫ সালে পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার বিষয়ে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ আইসিসি মেনে নিয়েছে, অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই বিষয় বোঝার ব্যাপারে তারা নারাজ বলে মনে হচ্ছে।”

pic

গত বছর ভারত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে পাকিস্তানে যেতে রাজি হয়নি। পরে আইসিসি তাদের দাবি মেনে ভারতের সব ম্যাচ দুবাইয়ে আয়োজন করে। অংশগ্রহণকারী অন্য সব দল পাকিস্তানে গেলেও ভারতের সঙ্গে খেলার জন্য তাদের দুবাইয়ে যেতে হয়েছিল।

আফ্রিদি আরও লিখেছেন, ‘ধারাবাহিকতা এবং ন্যায্যতা হলো বিশ্ব ক্রিকেটের শাসনের ভিত্তি। বাংলাদেশের খেলোয়াড় এবং তাদের কোটি কোটি ভক্ত সম্মান পাওয়ার দাবি রাখে, দ্বিমুখী নীতি নয়। আইসিসির উচিত সেতুবন্ধন তৈরি করা, তা ভেঙে ফেলা নয়।’




বুধবার ঢাকায় আসছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি

ক্রীড়া ডেস্কঃ বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপের মূল ট্রফি আগামীকাল বুধবার ঢাকায় আসছে। ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ট্রফির আগমন ঘিরে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও, সবাই সরাসরি ট্রফিটি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না।

কেবল কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ প্রোমোশনাল ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করে নির্বাচিত বিজয়ীরাই ট্রফিটি কাছ থেকে দেখা এবং এর সঙ্গে ছবি তোলার এক্সক্লুসিভ সুযোগ পাবেন। এই ক্যাম্পেইনটি শেষ হয় গত ৮ জানুয়ারি। নির্দিষ্ট প্রোমোশনাল বোতল কিনে কিউআর কোড স্ক্যান এবং ফিফা-থিমভিত্তিক কুইজে অংশ নিয়ে বিজয়ীরা এই বিশেষ পাস অর্জন করেন।

এর আগে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকা-কোলার ষষ্ঠ আসরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপজয়ী ইতালিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো এই বিশ্বভ্রমণের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ভিআইপিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ ট্রফি ট্যুর বিমানে করে রিয়াদে পৌঁছানোর পর দেল পিয়েরো বিমানবন্দরের টারমাকে বিশ্বকাপ ট্রফি উন্মোচন করেন। পরে তিনি একটি ফুটবল ক্লিনিকে অংশ নেন, যেখানে তরুণ শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান ও বিভিন্ন ফুটবল কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কিংবদন্তি ফুটবলার ও বিশ্বকাপ ট্রফির উপস্থিতিতে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

দিনের শেষভাগে রিয়াদের একটি বড় শপিং মলে সাধারণ দর্শকদের জন্য আয়োজন করা হয় পাবলিক ফ্যান ইভেন্ট। সেখানে শত শত ফুটবলপ্রেমী ও গণমাধ্যমকর্মীর সামনে প্রদর্শন করা হয় ফিফা বিশ্বকাপের মূল ট্রফি।

এই ট্রফি ট্যুরে ফিফা বিশ্বকাপের মূল ট্রফিটি ৩০টি ফিফা সদস্য দেশের ৭৫টি গন্তব্যে ভ্রমণ করবে। ১৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সফরের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে হাজারো ফুটবলপ্রেমী জীবনে একবার হলেও কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন ফুটবলের সর্বোচ্চ পুরস্কারটি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—এই তিন দেশ যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। এবারের আসরে অংশ নেবে ৪৮টি দল এবং অনুষ্ঠিত হবে রেকর্ড ১০৪টি ম্যাচ।

কোকা-কোলার গ্লোবাল অ্যাসেটস, ইনফ্লুয়েন্সার ও পার্টনারশিপস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিকায়েল ভিনে বলেন, ফুটবল এমন একটি খেলা যা ভাষা ও সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষকে একত্রিত করে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকা-কোলা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের এই আবেগের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে।

ফিফার চিফ বিজনেস অফিসার রোমি গাই বলেন, ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি খেলাধুলার জগতে সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতীক। কোকা-কোলার সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিশ্বকাপের উত্তেজনা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত এই সফর হলেও ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির ঢাকায় আগমন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।




আইপিএল থেকে ছিটকে গেলেও পিএসএল খেলবেন মোস্তাফিজ

ক্রীড়া ডেস্কঃ ভারতীয় উগ্রবাদীদের হুমকিতে মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল খেলা হচ্ছে না। কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেটে মোস্তাফিজের যে চাহিদা, তার সে সময়ে বসে থাকার কথাও না! কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে জানিয়েছে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের পিএসএলের অফিশিয়াল পেজ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ খবর জানানো হয়েছে।

পিএসএলের পোস্টে বলা হয়েছে, ব্যাটাররা সাবধান… এবার নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে ফিজ। পিএসএলের ১১তম আসরে যোগ দিচ্ছে মোস্তাফিজ।

আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া আইপিএলের নতুন আসরে কলকাতান নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলার কথা ছিল মুস্তাফিজের। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা পেসারকে গত মাসে নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে নিয়েছিল দলটি। কিন্তু বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিবাদের মুখে তাকে দল থেকে বাদ দিনে নির্দেশ দেয় ভারতীয় বোর্ড। গত শনিবার তাকে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয় কলকাতা।

এরপর তুমুল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক। আগামী মাসের বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার ঘোষণা দেয় বিসিবি। বাংলাদেশের ম্যাচগুলি ভারতের বাইরে সরিয়ে নিতে আইসিসিকে চিঠি পাঠায় তারা। এরপর সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা আসে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখার।