বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পাচ্ছে জাপান

ডেস্ক নিউজঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিচালনা এবং রাজস্ব বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টির সুরাহা করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টার্মিনালটির গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পাচ্ছে জাপানি কোম্পানি।

২০১৭ সালে ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পের ব্যয়ের মধ্যে সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে, আর অবশিষ্ট অর্থ জাপান ঋণ হিসেবে দিয়েছে।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, ‘তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জাপানি কনসোর্টিয়ামের (চার কোম্পানির জোট) এ মাসের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের জোর চেষ্টা চলছে। টার্মিনাল পরিচালনায় রাজস্ব ভাগাভাগিতে জাপান পাবে ৭৩ শতাংশ, বাংলাদেশ পাবে ২৭ শতাংশ।’

চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো কর্পোরেশন, নিপ্পন কোয়েই ও নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন সমন্বয়ে গঠিত একটি জাপানি কনসোর্টিয়াম হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে।




কর্ণফুলী নদীতে ফিশিং ভেসেলে বিস্ফোরণ, ঢাকায় নেওয়ার পথে দুই নাবিকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজঃ কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা একটি মাছ ধরার নৌযানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ দুই নাবিক ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা গেছেন। নিহতরা হলেন নৌযানটির গ্রিজার (ইঞ্জিন বিভাগের কারিগরি কর্মী) মো. রুবেল (৩২) ও শাহ আলম (৪০)। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিমকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, শতভাগ দগ্ধ হওয়ায় তার অবস্থা সংকটাপন্ন।

বুধবার সকালে দুই নাবিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাহাজটির ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ। তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দগ্ধ তিনজনকে ঢাকায় নেওয়ার পথে রুবেল ও শাহ আলম মারা যান। নিহত রুবেলের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপায়। বুধবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। শাহ আলমের বাড়ি নোয়াখালীতে। সকাল ৮টায় জানাজা শেষে সেখানেই তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১টার দিকে চট্টগ্রামের সদরঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা ‘এফভি দেশ’ নামের একটি মাছ ধরার নৌযানে বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে। এতে ওই নৌযানের ক্যাডেট প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিম, নাবিক মো. রুবেল ও শাহ আলম এবং পাশে নোঙর করা ‘এফভি ডিজনি’ নৌযানের নাবিক নিজাম উদ্দিন, মো. রাসেল ও ছিদ্দিক আহমেদ দগ্ধ হন।

ঘটনার পর আহত ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে আশিকুজ্জামান তামিম, রুবেল ও শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে পথে রুবেল ও শাহ আলমের মৃত্যু হয়। অপর তিন নাবিকের অবস্থার উন্নতি হওয়ায় বুধবার সকালে তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধ প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিম বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ জানান, হাসপাতালে ভর্তি থাকা বাকি তিন দগ্ধ নাবিককে বুধবার সকালে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

প্রয়োজনে আমি এটিকে *দৈনিক ইত্তেফাক*-এর স্টাইলে আরও সংক্ষিপ্ত বা আরও ঝরঝরে ভাষায়ও সাজিয়ে দিতে পারি।




পূর্বাচলকে ঢাকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত অনুমোদন

ডেস্ক নিউজঃ প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পুরো এলাকা ঢাকা জেলার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি নতুন থানা গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)।

বুধবার (১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের একটি বড় অংশ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় এবং অপর অংশ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। তিন জেলার প্রশাসনিক সীমার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকায় প্রকল্পটির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পুরো প্রকল্প এলাকা ঢাকা জেলার আওতায় আনার প্রস্তাব দেয়, যা নিকার সভায় অনুমোদিত হয়েছে।
সভায় আরও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। 



প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট–পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করা হয়েছে। ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি জানান, ব্যয় সংকোচনের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবার বাজেট–পরবর্তী নৈশভোজও বাতিল করা হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

প্রতি বছর বাজেট পাসের দিন রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে প্রতিবছর ব্যয় হয়েছিল ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের বাইরেও দেখা গেছে প্রতিবছর ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করা হয়েছে। যেমন ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই খাতে খরচ হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।

প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাবার সরবরাহ করত। বিগত সরকারের সময়ে এই বিশাল অঙ্কের টাকা এখনো বাকি রয়ে গেছে, যা বর্তমান সরকারকেই পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করতে হচ্ছে।’

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। আজ মঙ্গলবার সংসদে বিভিন্ন মঞ্জুরি দাবি নিষ্পত্তি করে বিকেল চারটার দিকে জাতীয় বাজেট সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরে আপ্যায়ন ভাতা কাটছাঁট করেছেন। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৬৯ টাকা। এ ছাড়া দুই ঈদে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।’

এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা তারেক রহমান সকাল পৌনে ১০টায় সংসদে আসেন। প্রথম থেকে তিনি অধিবেশনকক্ষে অবস্থান করেন। বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াসহ আইন প্রণয়ন কার্যাবলিতে অংশ নেন। শুধু তা–ই নয়, বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী দাপ্তরিক কাজ সেরেছেন এবং জরুরি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সই করেছেন।’




আইনজীবীর পোশাকে রুমিন ফারহানা, সংসদে আলোচনা

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ ও ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিতর্কের পাশাপাশি আকর্ষণীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পোশাক পরিধান। নানা ইস্যুর ফাঁকে বেশ কিছুক্ষণ সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার পোশাক নিয়ে আলোচনা হয়। কারণ তিনি আইনজীবীর ব্যবহৃত বিশেষ কোলার ব্যান্ড পরে সংসদ অধিবেশনে অংশ নেন। বক্তব্য দেওয়ার শুরুতেই তিনি নিজেই এই পোশাকের বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, আদালতের বাইরে এই বিশেষ কলার ব্যান্ড পরা যায় না, তা তিনি একজন আইনের শিক্ষার্থী ও আইনজীবী হিসেবে খুব ভালো করেই জানেন। তবে কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং কেন তিনি এটি পরে সংসদে এসেছেন, তা স্পিকার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দের তীব্র বিরোধিতা এবং দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির সমালোচনা করার অংশ হিসাবেই তিনি এই বিশেষ পোশাকের প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছাঁটাই করে মাত্র ১ টাকা করার দাবি জানান।

দেশের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি খুনের ঘটনা ঘটছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে এই মন্ত্রণালয়ের জন্য বিপুল পরিমাণ বাজেট বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

রসাত্মক সুরে তিনি বলেন, পুরো বাজেটের সবটাই যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয়, তারপরেও এই মন্ত্রণালয়ের কতটুকু উন্নয়ন হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি নিজেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিবেট মুগ্ধ হয়ে শোনেন, কিন্তু এই মুগ্ধতা যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার কাজের মাধ্যমে পুরো মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন, তাহলে হয়ত আজ ছাঁটাই প্রস্তাব আনার প্রয়োজন হতো না।




প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ব্যয় সংকোচনের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবার বাজেট পরবর্তী নৈশভোজও বাতিল করা হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

প্রতিবছর বাজেট পাসের দিন রাতে সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে নৈশভোজ হয়ে থাকে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতাসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নিয়ে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে প্রতিবছর ব্যয় হয়েছিল গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের বাইরেও দেখা গেছে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করা হয়েছে। যেমন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই খাতে খরচ হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাবার সরবরাহ করতো। বিগত সরকারের সময়ে এই বিশাল অঙ্কের টাকা এখনো বাকি রয়ে গেছে, যা বর্তমান সরকারকেই পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করতে হচ্ছে।’

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন।

আজ সংসদে বিভিন্ন মঞ্জুরি দাবি নিষ্পত্তি করে বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় বাজেট সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরে আপ্যায়ন ভাতা কাটছাঁট করেছেন। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৬৯ টাকা।’

‘এ ছাড়াও দুই ঈদে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।’

এদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা তারেক রহমান সকাল পৌনে ১০ টায় সংসদে আসেন। প্রথম থেকে তিনি অধিবেশন কক্ষে অবস্থান করেন। বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াসহআইন প্রণয়ন কার্যাবলিতে অংশ নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী দাপ্তরিক কাজ সেরেছেন এবং জরুরি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সই করেছেন।’




মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর ১০ বছর কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এ সময় কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন হাসানুল হক ইনু।

এদিন, দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে মামলার একমাত্র আসামি ইনুকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা কাঠগড়ায় তোলা হয়। এর ১০ মিনিট পর ২১১ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু হয়। ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়েন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দ্বিতীয় সদস্য বিচারক শাহরিয়ার কবীর। সাক্ষীদের কিছু বিবরণ ও তথ্যপ্রমাণের দিক তুলে ধরেন প্রথম সদস্য মঞ্জুরুল বাছিদ। রায়ের পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

রায়ে নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের তিন নম্বর অভিযোগে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের ছয় নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ষড়যন্ত্রের সাত নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক, দুই, চার, পাঁচ ও আট নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

৩০ বছরের সাজা হলেও সব সাজা একসঙ্গে চলবে বিধায় তাকে ১০ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে।

এর আগে গত ২২ জুন রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন নির্ধারণ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়। ৩৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রের সঙ্গে রয়েছে এক হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র।

এছাড়া রয়েছে তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও ডকুমেন্ট। এ মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে হাসানুল হক ইনুকে।

আটটি অভিযোগে আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, ১৪ দলীয় জোট সরকারের অংশীদার জাসদের সভাপতি হিসেবে তার ঊর্ধ্বতন অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশনা, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলন দমনের নির্দেশনার পর ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে চাক্ষুষ সাক্ষী তিনজন, বিশেষজ্ঞ দু’জন, ভুক্তভোগী পরিবারের একজন, জব্দতালিকা সাক্ষী দু’জন, জেলার সাক্ষী একজন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা একজন। এছাড়া ডকুমেন্ট প্রদর্শন করা হয় ২০ সিরিজ ও বস্তু প্রদর্শনী পাঁচটি।

প্রসিকিউশনের আনা আট অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের মুম্বাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত ও সন্ত্রাসী-জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন হাসানুল হক ইনু। ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া সভায়ও অংশ নেন তিনি। ১৪ দলীয় জোটের ওই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত তথা নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশনা কার্যকরেও ভূমিকা রাখেন জাসদের এই সভাপতি। এছাড়া ২০ জুলাই দুপুরে আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রণয়নসহ ব্যবস্থা নিতে ফোনে নির্দেশ দেন। তার এমন নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশসহ ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়েন তৎকালীন এসপি। তাদের গুলিতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ।

এছাড়া জুলাই আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, ছত্রীসেনা নামানো, হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি ছুড়ে হত্যা, বোম্বিং, আটক-নির্যাতনের ষড়যন্ত্র কিংবা পরিকল্পনাসহ সব ধরনের উসকানি দিয়ে শেখ হাসিনাকে নির্দেশনা দিতেন ইনু। একইসঙ্গে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করেন তিনি। এছাড়া ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া জোটের আরেকটি সভায় উপস্থিত ছিলেন ইনু। সেখানেও নানান উসকানি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেন। ফলে এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডারের হত্যাকাণ্ড আর নির্যাতনকে বৈধতা দেন এই আসামি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের একদিন আগে তথা ৪ আগস্ট কারফিউ জারি করে গুলি ছুড়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যাসহ শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অনুমোদন করেন ইনু।




সিলেটে পৌঁছালো কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর মরদেহ

ডেস্ক নিউজঃ কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের ৫ প্রবাসীর মরদেহ সিলেটে কফিনবন্দি হয়ে পৌঁছায়। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে মঙ্গলবার সকালে ওসমানী বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল পৌণে সাতটার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটটি সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। নিহতদের স্বজনরা আগে থেকেই বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। কফিনগুলো বের হয়ে আসার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।

বিমানবন্দরে স্বজনদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃতদেহ হস্তান্তর করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এসময় তাদের হাতে চেকও তুলে দেওয়া হয়।

বিমানবন্দর থেকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো রওয়ানা দেয় কানাইঘাটের গাছবাড়ি এলাকায় নিহতদের গ্রামের বাড়িতে। সেখানে যথাযথ আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এর আগে, গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা।

নিহতরা হলেন, ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদের আহমদ।




নবম পে-স্কেল: জুলাই থেকেই মিলবে পুরো মূল বেতন

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল বা নবম জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকেই এই নতুন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ভাতা কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে। দীর্ঘ ১১ বছর পর এই বেতনকাঠামো কার্যকরের মধ্য দিয়ে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি পে কমিশনের সুপারিশগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছে। বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আলাদা তিনটি পে কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত রোড ম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। এই রোড ম্যাপটি চলতি সপ্তাহেই অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে অর্থ বিভাগ।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে একাধিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনার চিন্তা থাকলেও, কারিগরি জটিলতা এড়াতে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তটিই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। সরকারি হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি বা আইবিএএসপ্লাস-এ কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি না করতে একবারেই মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর করার যৌক্তিকতা দেখিয়েছে অর্থ বিভাগ। তবে সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে সম্পন্ন করার দিকেই এখন মনোযোগী কমিটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানের ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের ১০০ শতাংশ বা তার কাছাকাছি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের বা ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রায় ১৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির একটি প্রস্তাবনা বিবেচনায় রয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাজেটে এই কার্যক্রমের প্রাথমিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যদিও বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বিস্তারিত ঘোষণা দেননি, তবে কর্মকর্তাদের মতে, এই ৪৪ হাজার কোটি টাকা মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের জন্য ব্যয় করা হবে। নেট পাবলিক সার্ভিস খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই বিশাল অঙ্কের অর্থের সংস্থান করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। নবম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, মূল বেতনে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বড় ধরনের বৃদ্ধির পাশাপাশি আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সবশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়িত হয়েছিল, যা দুই ধাপে কার্যকর করা হয়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবারও দ্রুত সময়ের মধ্যে বেতনকাঠামো পুনর্বিন্যাসের কাজ এগিয়ে চলছে। বর্তমানে সরকার প্রায় ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা বাবদ বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে এই ব্যয়ের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে, যা সরকারের সেবামূলক কাজের মানোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




কর্ণফুলী টানেলে আয়ের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যয়: সেতুমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল থেকে প্রতি মাসে যে পরিমাণ টোল আদায় হয়, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে তার প্রায় দ্বিগুণ ব্যয় হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী বলেন, কর্ণফুলী টানেল থেকে মাসিক গড়ে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫১ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় হলেও পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয় ৬ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৯১ টাকা।

তিনি জানান, টানেলের ভেতরে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, আলোকসজ্জা, বায়ু চলাচল ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা, সিসিটিভি এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো অত্যাবশ্যকীয় সেবার কারণে পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক বেশি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, টানেল চালুর পর প্রথমদিকে প্রতিদিন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় হতো। তবে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি এবং সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উদ্যোগে কম গুরুত্বপূর্ণ খাতের ব্যয় কমিয়ে বর্তমানে দৈনিক ব্যয় ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। টানেলকে লাভজনক করতে সরকার আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪০-এর সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে সড়কমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার করিডরে দেশের প্রথম বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) দ্রুত চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি আরও উন্নত করে জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মহাসড়কে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং গণপরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রমকারী যানবাহনের চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

সংরক্ষিত আসন-৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে মহাসড়কের পরিবর্তে স্থানীয় ফিডার সড়কে সীমাবদ্ধ রাখতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করা এবং কঠোর রুট নিয়ন্ত্রণসংবলিত থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় যানবাহন পরিচালনা নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, যেসব যানবাহনের ফিটনেসের মেয়াদ ১০ বছর আগে শেষ হয়েছে এবং নবায়ন করা হয়নি, সেগুলো সড়ক থেকে অপসারণ ও নিবন্ধন বাতিল করা হচ্ছে। আর যেসব যানবাহনের ফিটনেসের মেয়াদ পাঁচ বছর আগে শেষ হয়েছে, সেগুলোর নবায়ন কার্যক্রম চলছে। এসব যানবাহনের তালিকা পুলিশের কাছে পাঠানোর পাশাপাশি মালিকদেরও নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। সম্ভাব্য তিনটি রুট বিবেচনায় রয়েছে—বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ, গাইবান্ধার বালাসী থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত করিডর।

এদিকে সংরক্ষিত আসন-১১-এর সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী জানান, ঢাকা মহানগরের তিনটি লেভেল ক্রসিংয়ে বুয়েটের সহায়তায় পরীক্ষামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় ব্যারিয়ার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সব অনুমোদিত লেভেল ক্রসিংয়ে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। ভবিষ্যতে এসব ক্রসিংয়ে ক্যামেরা ও স্মার্ট গেট সিস্টেম স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।