১৮ আগস্ট চালু হচ্ছে বিআরটিসির ‘মহিলা বাস’ সার্ভিস

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর সড়কে নারীদের যাতায়াত নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে পৃথক বাস সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। নারী চালক ও কন্ডাক্টর দিয়ে পরিচালিত এ ‘পিংক বাস’ সেবা মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চালু হবে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিআরটিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাকিম ভূঞার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, ‘মহিলা বাস সার্ভিস পরিচালন’ কার্যক্রমের উদ্বোধন মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পিংক রঙের এ বাস সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। সার্ভিসের বাসগুলোতে নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর দায়িত্ব পালন করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে।




প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত, যেকোনো সময় ঘোষণা

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় এর ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এরই মধ্যে পে স্কেলের খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করে রেখেছে সচিব কমিটি।

দীর্ঘ ১১ বছর নতুন কোনো বেতন কাঠামো না থাকায় দেশের প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন মুখ্য সচিব। তিনি বলেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করাটা সাধারণ জনগণের জন্য কিছুটা কষ্টকর হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান সমন্বয়ের স্বার্থে এটি জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনীতি। এই সংকট থেকে উত্তরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দেশে বিরাজমান গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং বিগত সরকারের আমলে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না রাখাকে দায়ী করেন তিনি। সংকট কাড়াতে রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও চীন থেকে বহুমুখী সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও জানান মুখ্য সচিব। এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে শুধু মূল বেতন বাড়ানো হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব কার্যকর করা হবে। চলতি বছরের জুলাই থেকে এর আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর পূর্ণ বাস্তবায়ন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পে-স্কেল কত ধাপে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।




হাওর-বিল তরুণদের মধ্যে বণ্টনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশের হাওর, পুকুর ও বিলগুলো পরিকল্পিতভাবে তরুণদের মধ্যে বণ্টনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে বৃষ্টির মধ্যে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বাড়াতে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের হাওর, পুকুর ও বিলগুলো তরুণদের মধ্যে সুন্দর ও পরিকল্পিতভাবে বণ্টন করতে হবে, যাতে মৎস্যসম্পদ কাজে লাগিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মৎস্যসম্পদের সঠিক ব্যবহার ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে খুলনা অঞ্চলে ৩০০টি ক্লাস্টার গঠন করে ক্লাস্টারভিত্তিক চিংড়ি চাষ উন্নয়নের ফলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

খাল-বিল ও হাওরের পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলাশয়ে বর্জ্য, টিস্যু, প্লাস্টিক ও পানির বোতল ফেলে জলজ পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জলজ সম্পদ সংরক্ষণ, টেকসই মৎস্য চাষ, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আহরণশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে পুষ্টিসমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক-২০২৬ (স্বর্ণ পদক) দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে পদকপ্রাপ্তদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন তিনি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান ঘাটে পোনামাছ অবমুক্ত শেষ করে কটিয়াদীর আচমিতা এলাকায় সরকারি কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।




রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই আজ

আগামী ২০ আগস্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে অংশ নিতে গত ১৩ আগস্ট শেষ দিনে দুজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

আজ রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তাদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনি কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কার্যালয়ে দাখিল করা হয়েছে।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ৪টা পর্যন্ত শেষ সময় ছিল। বিকেল ৪টা পর্যন্ত আমরা তিনটা মনোনয়নপত্র পেয়েছি। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি মনোনয়নপত্র পেয়েছি। আর কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র পেয়েছি।

তিনি বলেন, তাদের মনোনয়নপত্রগুলো যথাযথ আছে কি না, তা আজ যাচাই-বাছাই করা হবে। এই যাচাই-বাছাইয়ে আমাদের সহযোগিতা করার জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে একজন কর্মকর্তা আসবেন এবং ওনাদের স্বাক্ষরগুলো ভেরিফিকেশন করবেন।

তিনি জানান, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।




কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়কপথে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে প্রধানমন্ত্রী রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আচমিতা ইউনিয়নে জর্জ ইনস্টিটিউট মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এসব কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।’ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কিশোরগঞ্জে এটি তারেক রহমানের প্রথম সফর।

প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফর অনুযায়ী বেলা সাড়ে ১১টায় পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় ব্রক্ষপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, বিতরণ, শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান, দুপুর সাড়ে ১২টায় কটিয়াদি কার্ড হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন, ১টায় আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও জাতীয় মৎস্য পদক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং আড়াইটায় শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন।

দুপুর সোয়া ৩টায় সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্ন ভোজ এবং ৪টায় পুরাতন কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিত-ভিক্ষু-পার্দীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানী প্রদানের অনুষ্ঠানে যোগদান। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।




চট্টগ্রাম বন্দরে আলফা অ্যাংকরেজে দুই বাল্ক ক্যারিয়ারের সংঘর্ষ

চট্টগ্রাম বন্দরের আলফা অ্যাংকরেজে নোঙর করে থাকা একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সঙ্গে চলাচলরত আরেকটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রায় ৩৫ হাজার ৩৫০ টন স্ল্যাগ বহনকারী আনাসা জাহাজের সঙ্গে নোঙর করা জাহাব জাহানের এ সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর দুই জাহাজই নিরাপদ দূরত্বে সরে গেছে। তবে আনাসার ডান পাশের কাঠামোয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় নেভিগেশন ও পাইলটেজ সহায়তা নিয়ে চলাচলের সময় আনাসা নোঙর করে থাকা জাহাব জাহানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এরপর দুই জাহাজের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণের কাজ শুরু হয়।

জাহাজ দুটির মধ্যে ২০০০ সালে নির্মিত বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাব জাহান ১৯০ মিটার দীর্ঘ। অন্যদিকে সংঘর্ষে জড়িত আনাসা ২০১১ সালে জাপানের ইওয়াগি শিপবিল্ডিংয়ে নির্মিত। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটির এর আগের নাম ছিল নিও বিচউড ও আইভিএস বিচউড।

জাহাজটির সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আনাসা বর্তমানে নিরাপদে ভাসমান রয়েছে। জাহাজটিতে কোনো ফ্লাডিং বা পানি ঢোকার ঘটনা ঘটেনি। তেল বা পানির অনুপ্রবেশেরও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে জাহাজটি কোনো একদিকে কাত হয়নি। এর সামনের অংশের ড্রাফট ১১ দশমিক ৪০ মিটার, মধ্যভাগে ১১ দশমিক ৪৫ মিটার এবং পেছনের অংশে ১১ দশমিক ৫০ মিটার। অর্থাৎ তিন অংশের ড্রাফট প্রায় সমান রয়েছে। সংঘর্ষের পর ড্যামেজ স্ট্যাবিলিটি বা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় জাহাজের স্থিতিশীলতার হিসাব করা হয়েছে। এতে জাহাজটি নিরাপদ সীমার মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষের পর জাহাজটির প্রধান ইঞ্জিন, স্টিয়ারিং গিয়ার ও বিভিন্ন পাম্প পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা সচল রয়েছে। জরুরি ব্যবস্থাগুলোও কার্যকর রয়েছে বলে জাহাজটির সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শক্তিশালী স্রোতের মধ্যেও জাহাজটির অ্যাংকর নিরাপদে ধরে রয়েছে।

বন্দরসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর জাহাজটির তাৎক্ষণিক ডুবে যাওয়ার বা স্থিতিশীলতা হারানোর কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তবে কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মাত্রা জানতে আরো বিস্তারিত পরিদর্শন প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ইস্পাতের আবরণ ও কাঠামোগত অংশের ক্ষতি কতটা গভীর এবং জাহাজটি পরবর্তী সময়ে সমুদ্রযাত্রার উপযোগী কি না, তা সার্ভে শেষে স্পষ্ট হবে।

এদিকে সংঘর্ষে জাহাব জাহানের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

তথ্যানুযায়ী, আনাসার সামনের অংশ দিয়ে জাহাব জাহানকে আঘাত করার কথা জানা গেছে। তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট আঘাতের স্থান, কোন কোণে সংঘর্ষ হয়েছে এবং দুই জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষে জানা যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ও মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ এবং নেভিগেশনের সময় দুই জাহাজের অবস্থান, গতি, স্রোতের পরিস্থিতি ও পাইলটেজ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আসবে। দুর্ঘটনার পর সহায়তা দেয়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগ কান্ডারি-৮ এবং বিএলভি লুসাই ঘটনাস্থলে রয়েছে।’




গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বুধবার থেকে

 

ডেস্ক নিউজ : চলমান সংকটের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। আগামী বুধবার থেকে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে। সরকারি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সামিট এলএনজি টার্মিনালের উদ্দেশে রওনাকারী একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ বৈরী আবহাওয়া ও অধিক বেগে বাতাস প্রবাহের কারণে গত ১০ আগস্ট সিঙ্গাপুর বন্দরে ফিরে যায়। এতে টার্মিনাল হতে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়। পরবর্তীতে, ১৪ আগস্ট নতুন এলএনজি বহনকারী জাহাজ টার্মিনালে পৌঁছায়। এরপর শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর ৪টা হতে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে বলে জানা যায়।

অপরদিকে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি আংশিক মেরামত শেষে বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে মেরামত কাজ সম্পন্ন হলে উক্ত টার্মিনাল হতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে, সামিট এলএনজি টার্মিনাল হতে দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনাল হতে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটসহ উভয় টার্মিনাল হতে সম্মিলিতভাবে দৈনিক গড়ে প্রায় ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

বর্তমানে উভয় টার্মিনাল হতে সম্মিলিতভাবে দৈনিক প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সামিট থেকে ৪৬০ এবং এক্সিলারেট থেকে ৩০০ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, আগামী ১৯ আগস্ট উভয় টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানা যায়।




গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দেশবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ

ডেস্ক নিউজ : দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে দুস্থদের সহায়তা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ-গ্যাস নিয়ে বিরোধী দল হঠকারী আন্দোলন করছে উল্লেখ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেছনে ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে, হাতে হারিকেন নিয়ে বসে বলছে— ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’; এগুলো হঠকারিতা। তাদের বন্ধুরাই ক্ষমতায় ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার এলএনজি টার্মিনাল বসানো বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার দেশে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল বানানোর চেষ্টা করছে, এজন্য সময় লাগবে। সংকট সমাধানে সরকার চীন ও মালয়েশিয়ার সাথে কথা বলেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে যদি সংকট সমাধানের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা থাকে, তবে তা সরকারের কাছে পেশ করা হোক, সরকার তা সাদরে গ্রহণ করবে। যদি না পারে, তাহলে বিভ্রান্তির রাজনীতির জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে তাদের। বিভ্রান্তি, হঠকারী রাজনীতি বাদ দেন। জনগণের উপকার হবে সেই রকম পরিকল্পনা থাকলে উপস্থাপন করুন। রাস্তায় বসে ভাঙচুরের রাজনীতির দিন শেষ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র থাকলে জবাবদিহি থাকবে, তখনই দেশের উন্নয়ন হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস দেওয়ার কাজ শুরু হবে। উপজেলার সব ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় রূপান্তর করবে সরকার।’




বিভ্রান্তি ও হঠকারিতার রাজনীতি ছেড়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাজনীতি হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণের জন্য, বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য নয়।

তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রাস্তায় বসে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা তৈরির রাজনীতি ছেড়ে জনগণের জন্য কাজ করুন। আপনাদের কাছে যদি জ্বালানি বা বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকে, তবে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। যদি আপনাদের পরিকল্পনা ৬ মাসের মধ্যেও সমস্যার সমাধান করতে পারে, তবে সরকার তা সানন্দে বাস্তবায়ন করবে।’

শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মাঝে চেক বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মহাপ্রকল্প প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রত্যেকটি হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় রূপান্তর করা হবে। এতে করে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মা ও শিশুরা নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে স্বাস্থ্যসেবা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো যাতে মানুষ বিদেশে যেতে বাধ্য হয়, কিন্তু বর্তমান সরকার দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।

দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার দেনা রেখে গিয়েছে এবং জ্বালানি আমদানির অবকাঠামো তৈরি করেনি। আমরা ক্ষমতায় আসার পর বাপেক্সকে দেশের মাটিতে গ্যাস খননের নির্দেশ দিয়েছি। দুর্ঘটনাজনিত কারণে একটি এলএনজি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িক সমস্যা হচ্ছে, যা দ্রুতই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।’

সম্প্রতি কিছু রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদের ধরণ নিয়ে সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘কিছু দলকে দেখা যাচ্ছে হারিকেন সামনে নিয়ে প্রতিবাদ করছে, অথচ তাদের পেছনে ফ্যান চলছে। এই হঠকারিতা জনগণ এখন আর পছন্দ করে না। ১৭ বছর যখন মানুষ নির্যাতিত হয়েছে, গুম-খুনের শিকার হয়েছে, তখন এসব নেতাকে রাজপথে দেখা যায়নি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের যে ৪০ কোটি হাত আছে, সেগুলোকে শ্রমিকের নয় বরং দক্ষ কর্মীর হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। আমি নিজে কী পেলাম সেটি বড় কথা নয়, আমি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কী করতে পারলাম—সেটিই বড় সার্থকতা।’

বক্তব্যের শেষে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং  বেগম খালেদা জিয়ার দেশপ্রেমের পথ ধরে বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার শপথ ব্যক্ত করেন।




শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার বেলা পৌনে ১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশ গড়ার কারিগর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে সম্মানসূচক অবসর ও কল্যাণ ভাতার চেক তুলে দেন।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অবসর সুবিধা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা উপস্থিত রয়েছেন।