সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়ি-গাড়িসহ ৯ খাতে ব্যয় কমালো সরকার

ডেস্ক নিউজঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়ি-গাড়িসহ মোট ৯টি ক্ষেত্রে সরকারের পরিচালন ব্যয় কমিতে পরিপত্র জারি হয়েছে।

সম্প্রতি এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পরিপত্র জারি করে সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছে।

এর আগে গত ২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিপত্র জারি করলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

পরিপত্রে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে নিচের নির্দেশনাগুলো বহাল থাকবে।

১. সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।

২. সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সকল বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে।

৩. প্রশিক্ষণ ব্যয় ছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।

৪. সভা বা সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সেমিনার বা কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ কমাতে হবে।

৫. ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।

৬. সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ কমাতে হবে।

৭. সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।

৮. আবাসিক ভবনের শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবনের শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।

৯. ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ কমাতে হবে।




২০ এপ্রিল বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ একদিনের সরকারি সফরে আগামী ২০ এপ্রিল (সোমবার) বগুড়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকালে তিনি বহুল প্রতীক্ষিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ জেলার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এক সরকারি সফরসূচি থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সফরসূচি অনুযায়ী, ওইদিন সকালে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে বগুড়া জেলা পুলিশ লাইন্স হেলিপ্যাডে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বেলা পৌনে ১১টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন তিনি।

এদিন বেলা ১১টায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া সিটি করপোরেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এরপর শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কার্যক্রম এবং বাঘবাড়ী নশিপুরস্থ চৌকিরদহ খালে খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

দুপুরের পর প্রধানমন্ত্রী শহীদ জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৈতৃক ভিটায় সময় কাটাবেন। বিকেলে বগুড়া সার্কিট হাউসে নামাজ ও বিরতি শেষে বিকেল ৪টায় তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে বগুড়া ত্যাগ করবেন। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি সফর ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।




হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ আটকে রাখা হবে না

ডেস্ক নিউজঃ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, বাংলাদেশি কোনো জাহাজ আর সেখানে আটকানো হবে না।

রোববার (১২ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব যেন দেশের বাজারে না পড়ে, সে জন্য সরকার আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বর্তমানে কোনো সংকট নেই। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালিতে যদি কোনো বাংলাদেশি জাহাজ আটকে থাকে, সেগুলোও ছেড়ে দেওয়া হবে বলে ইরান আশ্বাস দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কূটনৈতিক সংকটের সমাধান অবশ্যই আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। অন্যথায় এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়বে। বাংলাদেশ চায়, দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধান ও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হোক।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গে তিনি জানান, লেবাননে বাংলাদেশ মিশনে কর্মরতদের মধ্যে কিছুজন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। সেখানে নিহত এক বাংলাদেশি নারীর মরদেহ দেশে ফেরাতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবে এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বিদেশ সফর নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই বলে জানান তিনি এবং এ বিষয়ে গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক করেন।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিনর সিইও’র সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার।

সোমবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন, ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণ এবং টেলিনর গ্রুপের বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের বিকাশে টেলিনরের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

টেলিনর সিইও বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, টেলিনর গ্রুপ বাংলাদেশে তাদের সেবার মান আরও উন্নত করতে এবং নতুন প্রযুক্তি (৫জি) বিস্তারে কাজ করতে আগ্রহী।

সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং টেলিনর গ্রুপের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




0x0211230a

0x0211230a




0x292828ad

0x292828ad




সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পদ নয়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের এক অমূল্য সম্পদ। 

রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর এক বিশেষ দরবারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্বের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস না করার আহ্বান জানান এবং সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। 

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী অস্থির সময়ে প্রশাসনিক অচলাবস্থা নিরসনে এই বাহিনী যে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে, তা দেশপ্রেমিক জনগণকে আশান্বিত করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল এবং সেই বিয়োগান্তক ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিতে তাঁর সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত দেড় দশকের শাসন ও শোষণের সময় সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, তার সমালোচনা করে তিনি বাহিনীকে জনআস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকা সেনানিবাসের এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

দরবারে প্রধানমন্ত্রী গত আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও শান্তি রক্ষায় এই বাহিনীর অবদান বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশপ্রেমকে ধারণ করার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি সততা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অটুট রেখে কাজ করার জন্য সকলকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এই বিশেষ দরবারে ঢাকা সেনানিবাসের সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন সেনানিবাসের সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।




নববর্ষ উদযাপনে দেশব্যাপী সরকারের নানা কর্মসূচি গ্রহণ

ডেস্ক নিউজঃ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের বাণী সম্বলিত বাংলা নববর্ষের বিশেষ ক্রোড়পত্র বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করা হবে।

আগামী ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের দিন সকালে রমনা বটমূলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করবে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ও ছায়ানট। বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান আবশ্যিকভাবে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গান পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রতি বছরের ন্যায় পহেলা বৈশাখে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র আয়োজন করবে। শোভাযাত্রায় এ বছরের প্রতিবাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। অনুষ্ঠানগুলো সব সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন, রেডিও, বাণিজ্যিক রেডিও ও কমিউনিটি রেডিওতে সম্প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন কর্তৃক বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১৪ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী নববর্ষের মেলা, আলোচনা সভা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হবে।

সেইসঙ্গে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রতিষ্ঠানটির প্রাঙ্গণে ২০ এপ্রিল থেকে ১৪ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা আয়োজন করা হবে।

নববর্ষ উপলক্ষ্যে সব কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে ঐতিহ্যবাহী খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা ও শিশু পরিবারের শিশুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

সব জাদুঘর ও প্রত্নস্থান সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। শিশু-কিশোর, ছাত্রছাত্রী প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিনা টিকিটে প্রবেশের সুযোগ থাকবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পহেলা বৈশাখে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

জেলা শহর ও সব উপজেলায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ মেলা ও শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

এছাড়া, উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি ইউনিয়নে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ আয়োজনসহ বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করবে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দফতর বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট অথবা কেন্দ্র বা অ্যাকাডেমিগুলো তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠান আয়োজন করবে।

বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে অভিজাত হোটেল ও ক্লাবগুলোতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন ও ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হবে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্ক সংলগ্ন সুবিধাজনক স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র, প্রয়োজনীয় সংখ্যক টয়লেট স্থাপন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করবে।

জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।




সপরিবার মঞ্চনাটক দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর বেইলি রোডে মহিলা সমিতির মিলনায়তনে মঞ্চনাটক দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাতটার দিকে মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে তাঁরা শিশুতোষ নাটক কবি চিতাবাঘ উপভোগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

মহিলা সমিতিতে অবস্থানকালে আতিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইলি রোডে মহিলা সমিতির মিলনায়তনে তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। সন্ধ্যা সাতটায় প্রধানমন্ত্রী এখানে এসেছেন। এখন তাঁরা নাটক দেখছেন।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নাটক দেখতে এসেছেন—এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মিলনায়তনে থাকা শিশু দর্শক ও অভিভাবকদের মধ্যে ভিন্ন অনুভূতির সৃষ্টি হয় বলে উল্লেখ করেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব।

এর আগে ৩ এপ্রিল মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির জিগাতলায় সীমান্ত সম্ভার সিনেমা হলে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেদিন সন্ধ্যায় প্রজেক্ট হেইল মেরি সিনেমা দেখেন তাঁরা।

এবার বেইলি রোডে মহিলা সমিতির মিলনায়তনে হঠাৎ সরকারপ্রধানের আগমনে শিশুশিল্পীসহ দর্শকদের হকচকিত হতে দেখা যায়। কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেখে অনেককে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যখন মঞ্চে ওঠেন, তখন পুরো মিলনায়তনের দর্শকেরা তুমুল করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘বিনোদনের জন্য নাটক দেখতে নয়, মূলত প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা শিশুশিল্পীদের উৎসাহ দিতেই এখানে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী পরে শিশুশিল্পীদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশ নেন।’




ঢাকাসহ ৪ সিটিতে হামের টিকা দেওয়া হবে আজ

ডেস্ক নিউজঃ দেশে হামের ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ মোট চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় আজ থেকে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।

ঢাকা ছাড়াও ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। মূলত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এই মরণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষা দিতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই জরুরি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এই কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বর্তমান হাম পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে স্বাস্থ্য সচিব বিগত প্রশাসনের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকাদান কর্মসূচিতে কিছু ত্রুটি বা ভুলের কারণে দেশে বর্তমানে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে চলমান থাকলে আজ এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।

উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল থেকেই দেশে হাম প্রতিরোধে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে এবং ওই দিন থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এমআর টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি হামের প্রকোপ বাড়ার খবর পাওয়া গেছে এবং অনেক শিশুকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বড় শহরগুলোতে যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের এই বিশেষ এমআর ক্যাম্পেইন একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।