আনসার-ভিডিপি সদস্যদের হাত ধরে প্রতিটি গ্রাম আর্থসামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আনসার-ভিডিপির গর্বিত সদস্যদের হাত ধরে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম আর্থসামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন।

তিনি বলেন, বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যের সাহস ও নিষ্ঠা হোক আগামী দিনের পাথেয়।

বুধবার (২০ মে) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৯ মে) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উদযাপিত হচ্ছে। এই শুভলগ্নে প্রধানমন্ত্রী এই বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং তৃণমূলের অকুতোভয় আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানান। মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী এই বাহিনীর ৬৭০ জন শহীদের প্রতি তিনি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো প্রয়োজনে এই বাহিনীর সদস্যদের সময়োপযোগী ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য তিনি এই বাহিনীর সর্বস্তরের প্রতিটি সদস্যকে আবারও অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের পর বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। দেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার কাজ করে যাচ্ছে। একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার এই যাত্রাপথে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গর্বিত উচ্চারণ ‘আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার’ এবং গণপ্রতিরক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের ধারণায় গড়ে ওঠা এই বাহিনীর রয়েছে দেশের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত এক শক্তিশালী সেতুবন্ধন। গ্রাম ও শহরে সুরক্ষিত সমাজ কাঠামো গঠন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং বহুবিধ সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে আনসার-ভিডিপি সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, আনসার-ভিডিপির নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণের মতো কার্যক্রমে সারাদেশে বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সক্ষমতাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। বিজ্ঞান ভিত্তিক পরিবেশ সুরক্ষা এবং কৃষি অর্থনীতির বিকাশে খাল খনন, দুর্যোগপ্রবণ প্রত্যন্ত এলাকায় বন্যা থেকে সুরক্ষা, পানিসম্পদ পরিকল্পনা, দুর্যোগকালীন সাধারণ জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের মতো অনন্য কার্যক্রম বাস্তবায়নেও আনসার ও ভিডিপি অপরিসীম ভূমিকা পালন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে শিল্পকারখানা, হাসপাতাল ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫২ হাজারের বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।’

বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, তারুণ্যই শক্তির উৎস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুবসমাজকে নিছক জনশক্তি নয়, বরং দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আনসার ও ভিডিপি যে সুনির্দিষ্ট চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। স্বনির্ভরতা ও কর্মসংস্থানের এই নতুন মডেলে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি উৎপাদনমুখী রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে আনসার-ভিডিপি সহায়ক শক্তি হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, এটিই আমার প্রত্যাশা।’

তিনি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, ‘দেশ গড়ার পবিত্র দায়িত্বে আপনাদের সাহসী ও কার্যকর ভূমিকার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখছি।’




এখনও একদলীয় শাসনের ধারাবাহিকতা চলছে: রুমিন ফারহানা

ডেস্ক নিউজ : দেশে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা একদলীয় শাসনের ধারাবাহিকতা এখনও বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ইন্টারন্যাশনাল জুরিস্টস ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস নামে একটি সংগঠনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন একদলীয় শাসন দেখেছি, এখনও তার ধারাবাহিকতা চলছে। তখন বিএনপি-জামাতকে খেলার মাঠের বাইরে রেখে এককভাবে সংসদকে সাজানো হয়েছে, এখন আওয়ামী লীগ এবং বাম দলগুলোকে বাইরে রেখে আরেকভাবে সংসদকে চালানো হচ্ছে। দিস ইজ অল দ্য সেম। আমি আগেও যা দেখেছি একদলীয় সংসদ, এখনও আমি সেই একদলীয় সংসদই দেখছি এবং এটা আমি যেদিন সংসদে প্রথম যাই, আমি বলেছিলাম।

ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন জানান, আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড এগ্রিমেন্ট (বাণিজ্য চুক্তি) নিয়ে সংসদে তিনি ছাড়া আর কোনো সদস্য প্রশ্ন উত্থাপন করেননি।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি বিষয়ে আলোচনার জন্য স্পিকারের কাছে নোটিশ দিতে ন্যূনতম পাঁচজন সংসদ সদস্যের সমর্থনের প্রয়োজন হলেও, পুরো সংসদে তিনি সেই পাঁচজন সদস্যকেও পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে তাকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে হয়েছে। একইভাবে হামের প্রকোপ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাকে কথা বলতে নিরুৎসাহিত করেছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে বেশি কথা বললে মানুষ ভয় পাবে বলে যুক্তি দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দিয়ে সারারাত ধরে গাড়ি এবং মোটরবাইকের চালকরা অপেক্ষা করেছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে পর্যাপ্ত তেল মিলতে শুরু করে। এই তেলগুলো এতক্ষণ কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করা হচ্ছে।

সরকার তথ্য লুকিয়ে নিজেদের কার্যক্রম আড়াল করতে পারবে না উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান যুগের মানুষ অত্যন্ত সচেতন এবং স্মার্ট। এখন সবার হাতে হাতে সেলফোন থাকায় মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে কী ঘটছে তা জানা সম্ভব। তাই তথ্য গোপন করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করাও সম্ভব নয়।

রুমিন ফারহানা বলেন, ৫ আগস্টের পর প্রায় দুই বছর পার হতে চলল। অথচ আমাদের কারাগারগুলোতে আজ ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বন্দী অমানবিক জীবন কাটাচ্ছেন। জামিন তো কোনো স্থায়ী খালাস বা মামলা থেকে অব্যাহতি নয়। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত একজন নাগরিক যাতে কারাবন্দী না থেকে বাইরে থাকতে পারেন, এটি তার আইনগত অধিকার। কারণ, পরবর্তীতে যদি তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে তার জীবনের এই হারিয়ে যাওয়া কারাবাসের সময়টা রাষ্ট্র কীভাবে ফিরিয়ে দেবে? কিন্তু আমাদের এখানে কী হচ্ছে? প্রথম দিকে তো জামিন পাওয়াই যেত না। পরবর্তীতে যখন দুই-একজন বিচারক সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে জামিন দেওয়া শুরু করলেন, ঠিক তার পরের দিনই সেই কোর্টের বিচারিক এখতিয়ার বা পাওয়ার পরিবর্তন করে দেওয়া হলো! এগুলো কি আদালতের ওপর নির্বাহী বিভাগের নগ্ন কর্তৃত্বের প্রমাণ নয়? নিশ্চিতভাবেই তাই।

ইতিহাসের এক অদ্ভুত নিয়ম হলো—আপনি আজ অন্যের জন্য যা করে যাবেন, ভবিষ্যতে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আপনার ওপর ফিরে আসবে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন,  গত পরশু বা তার আগের দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগের একটি মিছিল হয়েছে। সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ জন লোক মাথায় ক্যাপ এবং মুখে মাস্ক পরে সেই মিছিল করেছে। মাস্ক এবং ক্যাপ পরার কারণে কাউকে চেনা অত্যন্ত কঠিন ছিল। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানলাম, সেই ঘটনায় ১৫০ জনেরও বেশি মানুষের নামে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে! ১৫ জনের মিছিলের বিপরীতে ১৫০ জন আসামি! কেন এই বিপুল সংখ্যক অজ্ঞাতনামা আসামি? কারণ একটাই—‘মামলা বাণিজ্য’। স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী পুলিশের সঙ্গে সরাসরি যোগসাজশ করে এই বাণিজ্য চালাচ্ছে। ফোনে ভয় দেখানো হচ্ছে, ‘টাকা না দিলে কিন্তু তালিকায় নাম ঢুকিয়ে দেব।’ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা হচ্ছে। বিএনপি যখন বিরোধী দলে ছিল, তখন আমরা দেখতাম ‘গায়েবি মামলা’র উৎসব। ঘটনা ঘটেনি, আসামি ঘটনাস্থলে ছিল না, তাও মামলা হতো। আজ ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু কালচারের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং এখন গায়েবি মামলার সঙ্গে যোগ হয়েছে এই নিকৃষ্ট ‘বাণিজ্য’।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যদি একই ঘটনা, একই জুলুম এবং একই গায়েবি মামলার সংস্কৃতি আরও কুৎসিতভাবে চলতে থাকে, তবে এত বড় রক্তের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার এই অভ্যুত্থানের দরকার কী ছিল? আমরা কোন ‘নতুন বাংলাদেশ’, কোন ‘নতুন রাজনীতি’ আর কোন ‘নতুন চিন্তা’র কথা মুখে বলছি? সব তো আগের মতোই চলছে, বরং ক্ষেত্রবিশেষে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই বৃত্ত থেকে বের হতে না পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

অনুষ্ঠানে নবগঠিত সংগঠনের সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




জন্মের পরই শিশুর থাইরয়েড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি

ডেস্ক নিউজ : দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছে। আক্রান্তদের প্রতি সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই নারী। আবার আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ ভাগই চিকিৎসার আওতায় নেই।

বিশেষজ্ঞরা মনে করাছেন, শনাক্তকরণে গুরুত্বের অভাবে প্রতিদিনই এ রোগের ভুক্তভোগী বাড়ছে।

দীর্ঘমেয়াদি থাইরয়েডের জটিলতা থেকে বাঁচতে তাই জন্মের পরপরই শিশুর থাইরয়েড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি (বিটিএস) ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) আয়োজিত গোল টেবিল বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়।

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৬ ও ‘আন্তজার্তিক থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ’ উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়।

গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান আলোচক ছিলেন সোসাইটির সভাপতি ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা, সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ফরিদুল আলম, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সাত্তার, সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা জেসমীন ফেরদৌস, প্রকাশনা সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. পাপড়ি মুৎসুদ্দী, সাইন্টিফিক সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক ডা. তপতী মন্ডল, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সেক্রেটারি মুজাহিদ শুভসহ অনেকে।

থাইরয়েড দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য- ‘জানুন, পরীক্ষা করুন, জয় করুন’ এবং ‘আপনার থাইরয়েড, আপনার রক্ষক’।

বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির নানা রোগে ভুগছে। আক্রান্ত ব্যক্তির ৬০ শতাংশই চিকিৎসা সেবার আওতার বাইরে। আক্রান্তদের মধ্যে প্রতি ২৩০০ শিশুর মধ্যে একজন জন্মগত থাইরয়েড সমস্যার শিকার হচ্ছে। যাদের পরিবারে থাইরয়েড রোগী আছে তাদের পরিবারের সকল সদস্যকে থাইরয়েড স্ক্রিনিংয়ের (শনাক্তকরণ) মাধ্যমে রোগটি আছে কিনা তা নির্ণয়ের জন্য আহ্বান করা হয়।

বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়, থাইরয়েড রোগীদের ৬ শতাংশ হাইপোথাইরয়েডিজমে ভুগছে। যারা ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ঠান্ডা সহ্য করতে পারেন না। কিন্তু তারা এ সমস্যার কথা জানেনই না। রোগের শুরুতে থাইরয়েড নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগের সফল চিকিৎসা সম্ভব বলেও জানান চিকিৎসকেরা।

প্রধান আলোচক অধ্যাপক ডা এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, ‘থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের হরমোন নিঃসরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা শরীরের বিপাক হার, হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, ওজন এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। কিন্তু এই ছোট্ট গ্রন্থিতে জটিলতা দেখা দিলে শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। দেখা দিতে পারে হাইপোথাইরয়েডিজম, থাইরয়েড ক্যানসারের মত জটিলতা।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে থাইরয়েড সমস্যা নির্ণয় করা গেলে তা খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু সচেতনতার অভাব, উপসর্গ উপেক্ষা করা এবং সময়মতো পরীক্ষা না করানোর জন্য অনেক সময় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। থাইরয়েড সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা সময়ের দাবি।’

অধ্যাপক ডা. বারী বলেন, ‘বাংলাদেশে সরকারি অর্থায়নে থাইরয়েডে বরাদ্দ নেই বললেই চলে। অথচ থাইরয়েড শনাক্তকরণে ও চিকিৎসায় বড় বাজেট দরকার। বর্তমানে এ রোগে কতজন ভুগছে, সেটি জানা জরুরি। কিন্তু এর জন্য নিজস্ব যে কর্মসূচি থাকা দরকার, সেটি নেই। ফলে অন্যান্য দেশের চিত্র দিয়ে বাংলাদেশের রোগীর হিসেব করা হচ্ছে। এতে করে প্রকৃত আড়ালেই থাকছে।’

ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, ‘বিশ্বে ৫৮৯ মিলিয়ন ডায়াবেটিসের রোগী আছে। থাইরয়েডের রোগীও প্রায় কাছাকাছি। কিন্তু ডায়াবেটিসের রোগীর সংখ্যা যতটা সহজে বলা যাচ্ছে, থাইরয়েডের ক্ষেত্রে যাচ্ছেনা। কারণ আমাদের নিজস্ব কোনো গবেষণা নেই। আমরা বলছি বাংলাদেশে ২০ শতাংশের মত, সে অনুযায়ী ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষ এতে ভুগছেন। বিএমইউ হাসপাতালে যেসব মায়েরা চিকিৎসা করাতে আসেন, তাদের অন্তত ৮ শতাংশ হাইপোথাইরয়েডের রোগী। এটির কারণে মস্তিষ্কের বুদ্ধিমত্তা কমে যায়। এখন দরকার শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা। এজন্য ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

নিনমাসের অধ্যাপক ডা. কামালউদ্দিন আহমেদ অডিটোরিয়াম একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার আয়োজন করা হয়। এতে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা এফ.এম সিদ্দিকী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।




কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটির উদ্যোগে ১৫৩ হৃদরোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা

ডেস্ক নিউজ : জন্মগতভাবে হৃদরোগে (কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ) আক্রান্ত ১৫৩ শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশন।

২ থেকে ৯ মে পর্যন্ত রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চ্যারিটি কার্ডিয়াক মিশনের মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টরা যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ সময় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রায় ১০৮ জন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর হার্টে ডিভাইস স্থাপন ও বিভিন্ন ইন্টারভেনশন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে রমজান উপলক্ষে এ উদ্যোগের আওতায় আরও ৩১ জন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এছাড়াও ১৪ শিশুকে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য নির্বাচন করা হয়। যার মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচজনের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট নয়জন শিশুর সার্জারি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফাউন্ডেশনটি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।

সর্বশেষ চ্যারিটি মিশনটি সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান কিডস হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম।

বাংলাদেশ টিমের সহযোগী হিসেবে ছিলেন ডা. আশিক মো. রায়হান চৌধুরী, ডা. প্রিয়াঙ্কা দাস, ক্যাথ ল্যাব চীফ টেকনিশিয়ান মো. আনোয়ার হোসেন, কালাম, নায়িম, আশরাফ, শাহ-আলম প্রমুখ।

কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদল, বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিকিৎসক মো. নোমান, জর্ডান থেকে ডা. ইয়াদ আল অমৌরি, ফিলিস্তিন থেকে ডা. হাসান, কাতার থেকে ডা. আব্দুল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন।
উল্লেখ জন্মগত হৃদরোগ (কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ) শিশুদের জন্য এক নীরব ঘাতক। বিশ্বব্যাপী প্রতি হাজারে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন শিশু জন্মগত হৃদরোগে নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বাংলাদেশে এ হার আরও উদ্বেগজনক। প্রতি হাজারে প্রায় ১৮ থেকে ২৫ জন শিশু এ রোগে আক্রান্ত। এসব শিশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের চিকিৎসা বর্তমানে কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই ইন্টারভেনশন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা সম্ভব হলেও চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় বহু পরিবার এ ব্যয় বহনে অক্ষম। ফলে প্রতিবছর অসংখ্য শিশু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রাণ হারায়।



অটোরিকশার ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত

ডেস্ক নিউজ : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দ্রুতগতির সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থী তন্ময় কুরী (১৬) নিহতের ঘটনায় ঘাতক চালক মো. নাজমুলকে (২০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।

সোমবার দুপুরের দিকে আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এর আগে রোববার রাত ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকার কলেজ গেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার নাজমুলের উপজেলার নাজিরপুর এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে। নিহত কুরী বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী ডেলটা জুট মিল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। সে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল।

র‌্যাব জানায়, গত ৬ মে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মিনিটে বেগমগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ গেটের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুত ও বেপরোয়া গতির একটি নম্বরবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা তন্ময় কুরী ও তার সহপাঠী জিৎ দেবনাথকে ধাক্কা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তন্ময়ের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নোয়াখালীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর। তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাবা কার্তিক কুরী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অভিযুক্ত চালককে শনাক্ত করে গ্রেফতার করে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বেগমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




ভূমি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ভূমিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, জমির মালিকানা যাতে কৃষকদের হাতেই থাকে, ভূমি ব্যবস্থায় যাতে দখলদারিত্ব না থাকে, এক্ষেত্রে ভূমি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (১৮ মে) সচিবালয়ে ভূমি সেবা মেলা উপলক্ষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, অতীতে জমি সংক্রান্ত যে মামলা জটিলতা ছিল, জমির মালিকরা ভূমি সংক্রান্ত কাজে নানাভাবে বিভ্রান্ত হতেন, হয়রানির শিকার হতেন, এ সকল জটিলতা দূর করা হবে।
এ সময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি হয়রানিমুক্তভাবে জনগণকে সেবা দিতে চাই। এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে ভূমিসেবা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এখন থেকে সারাদেশে ৮৯৩ টি সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সেবা নিতে পারবেন। 



কোন হাটে যাবে কোরবানির পশু, ট্রাকে লিখতে হবে নাম-ঠিকানা

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশু পরিবহনে ট্রাকের সামনে সংশ্লিষ্ট হাটের নাম ও ঠিকানা সুস্পষ্টভাবে ব্যানারে প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

সোমবার (১৮ মে) সংবাদ মাধ্যমে সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের যে কোনো স্থান থেকে কোরবানির পশু—গরু, ছাগল, মহিষসহ অন্যান্য পশু—ট্রাকে করে যে হাটে বিক্রির জন্য নেওয়া হবে, সেই হাটের নাম ও ঠিকানা ট্রাকের সামনে দৃশ্যমানভাবে ব্যানারে লিখে রাখতে হবে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা গ্রহণ সহজ হবে এবং রাস্তায় অন্য কারও দ্বারা বাধা বা হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

এতে আরও বলেন, পরিবহনের সময় কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হলে সংশ্লিষ্টদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে হবে। বিষয়টি যথাযথভাবে পালনের জন্য সব ট্রাক মালিক ও চালকদের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো।




চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজঃ ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সোমবার (১৮ মে) সকালে তিনি দেশে ফেরেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং।

গত ৯ মে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফলো-আপ চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন রাষ্ট্রপতি। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে তার হৃদযন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক শনাক্ত হয়। পরে ১২ মে জরুরি ভিত্তিতে সফলভাবে এনজিওপ্লাস্টি করা হয় এবং একটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়।

যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজে অবস্থিত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল-এ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলি-এর তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়।

পরীক্ষার সময় হৃদযন্ত্রে উল্লেখযোগ্য ব্লক ধরা পড়লে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করেন এবং স্টেন্ট স্থাপন করেন।
বঙ্গভবন সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি এর আগেও হৃদরোগজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিনি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল-এ ওপেন হার্ট সার্জারি করান। এরপর থেকে হৃদযন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতার চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে ক্যামব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে ফলো-আপ চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য পরিচিত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল বিশ্বে প্রথম সফল হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত। রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ চিকিৎসাও সেখানেই সম্পন্ন হয়।




প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এনইসি সভা চলছে

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শুরু হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশন মিলনায়তনে এ সভা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। সভায় এডিপি চূড়ান্ত ও অনুমোদন দেয়া হতে পারে।

এছাড়া ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত রূপরেখা (২০২৬-২০৩০ অর্থবছর)’ শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলপত্রের রূপরেখা উপস্থাপন ও অনুমোদনের বিষয়ও রয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানসহ অন্যরা অংশ নিয়েছেন।




আমার ব্যাপারে সব সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসত: আরমান

ডেস্ক নিউজ : গুম থাকার সময় তাঁর ব্যাপারে সব সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসত বলে জেরায় উল্লেখ করেছেন সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ রোববার আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মীর আহমাদ বিন কাসেম চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ নানা ব্যস্ততার কারণে এত দিন তাঁর জেরা শেষ হয়নি। রোববার তাঁর জেরা সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে এই মামলায় তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হলো।

এই মামলার পলাতক আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের জেরার জবাবে আরমান বলেন, পত্রপত্রিকা বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে শেখ হাসিনা গুমের নির্দেশ দিয়েছেন—এমনটা জানতে পারেননি। তবে তিনি গুম থাকার সময় সেখানকার ‘সিনিয়র একজন’ তাঁকে বলেছিলেন, তাঁর ব্যাপারে সব সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসে। তখন তিনি বুঝতে পারেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসত।

এ মামলার অপর সাত আসামি পলাতক। তাঁরা হলেন শেখ হাসিনা, তাঁর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এম খুরশীদ হোসেন ও মো. হারুন অর রশিদ এবং লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।