নবান্নের আবহ নিয়ে চলে এলো অগ্রহায়ণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ টলটলে মুক্তোর মতো শিশির যেন ভোরের আলোর সঙ্গে প্রতিদিন নতুন জন্ম নেয়। ঘাসের ডগায়, ধানের শীষের মাথায় তারা চিকচিক করে ওঠে। দূরদিগন্ত অবধি ছড়িয়ে থাকা ধানক্ষেত তখন সোনালি আভায় দীপশিখার মতো ঝলমল করে। সবুজ স্বপ্নের সঙ্গে হলুদ সোনালি রঙ একাকার হয়ে বাংলার হেমন্তকে সাজিয়ে তোলে এক অপূর্ব মায়াবী আলোয়। অখণ্ড নীল আকাশ, কোমল সোনাঝরা রোদ আর হিমশীতল বাতাস—সব মিলিয়ে প্রকৃতির ভাষা যেন বলে ওঠে, এসেছে অগ্রহায়ণ।

দিনগুলো ছোট হয়ে আসে। শেষ বিকেলে কুয়াশার পাতলা চাদর নেমে আসে নিঃশব্দে, ঠিক শিশিরের মৃদু টুপটাপ শব্দের মতো। নিশিথের গাঢ় নিস্তব্ধতায় সেই শিশির যেন রূপ নেয় অদৃশ্য সংগীতে। আর সে সুরেই ভেসে ওঠে কৃষকের মন—কারণ উঠোনে উঠতে চলেছে নতুন ধানের ম-ম গন্ধ, আসন্ন নবান্নের আনন্দ।

অগ্রহায়ণ মানেই বাংলার অন্ন-উৎসব, কৃষিজীবনকে ঘিরে অনাদিকাল ধরে চলে আসা এক ঐতিহ্যের নবজাগরণ। নতুন আমন ধান ঘরে তুলেই শুরু হয় নবান্ন উৎসব। হিন্দু লোকবিশ্বাসে এই দিনকে ধরা হয় বাৎসরিক মাঙ্গলিক এক শুভক্ষণ হিসেবে। নতুন ধানের ভাত, বিবিধ তরকারি, পিঠেপুলি—সব মিলিয়ে গ্রাম মহল্লা হয়ে ওঠে উৎসবের আসর। অনেক পরিবারে মেয়েদের ডেকে আনা হয় বাপের বাড়িতে; কোথাও হয় মসজিদে শিন্নি বিতরণ, আবার হিন্দু কৃষক পরিবারে চলে পূজার আয়োজন। হিন্দু লোকাচারে পিতৃপুরুষ, দেবতা, এমনকি কাক পর্যন্ত নতুন অন্ন উৎসর্গ করার রীতি আছে। মৃতের আত্মার কাছে খাবার পৌঁছে যায় কাকের মাধ্যমে—এ বিশ্বাসে এই নৈবেদ্য পরিচিত ‘কাকবলী’ নামে।

নবান্নের উচ্ছ্বাস শুধু গ্রামেই থেমে থাকে না। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের নানা প্রান্তে আয়োজন করা হচ্ছে নবান্ন উৎসব। অগ্রহায়ণের প্রথম দিনকে ‘আদি নববর্ষ’ আখ্যা দিয়ে উদযাপনের ডাক দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। দেশের বহু স্থানে বসছে গ্রামীণ মেলা—যেখানে মানবসমাগমে জমে উঠবে মিলনমেলা।

ধান কাটা মৌসুমে কৃষকের ঘর ভরে ওঠে ‘রাশি রাশি ভারা ভারা সোনার ধানে’। কুয়াশাচ্ছন্ন হেমন্তের সকালে ভেসে আসে ধান ভাঙার গান, ঢেঁকির তাল—যদিও যান্ত্রিকতার যুগে ঢেঁকির শব্দ আর অতটা শোনা যায় না, তবু সেই স্মৃতিই হেমন্তকে রাখে চিরন্তন আবহে। নতুন চালের পিঠার জন্য সংগ্রহ হতে থাকে খেজুরের রস; নতুন রস আর নতুন চালের এই যুগলবন্দী যেন বাঙালি সংস্কৃতির এক অমোঘ অঙ্গ।

লোকগবেষকদের মতে, কৃষিনির্ভর সভ্যতা গড়ে ওঠার পর থেকেই চলে আসছে নবান্নের জনপ্রিয়তা। কখনও অগ্রহায়ণই ছিল বাংলা বছরের প্রথম মাস—‘অগ্র’ মানে প্রথম, ‘হায়ণ’ মানে মাস। অতীতে উৎসবটি পালন করতেন মূলত হিন্দু গৃহস্থরা। আমন ধান কাটার পর অগ্রহায়ণ বা পৌষে ঘরে ঘরে জমত নবান্ন। হেমন্তের প্রকৃতি যে কী অদ্ভুত সুন্দর, তা কবি-সাহিত্যিকেরা দীর্ঘকাল ধরেই বর্ণনা করে আসছেন মুগ্ধ কণ্ঠে। জীবনানন্দ দাশের স্বপ্নময় পঙ্‌ক্তি যেন নবান্নকেই স্মরণ করিয়ে দেয়—
‘আবার আসিব ফিরে ধান সিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়/
হয়তো মানুষ নয়—হয়তো শঙ্খচিল, শালিখের বেশে…’।

তার আরেক কবিতায় হেমন্তের প্রাচুর্য ধরা দেয়—
‘চারিদিকে নুয়ে পড়ে ফলেছে ফসল,/
তাদের স্তনের থেকে ফোঁটা ফোঁটা পড়িতেছে শিশিরের জল…।’

বর্তমানে দেশের বহু অঞ্চলে চলছে আগাম আমন ধান কাটা ও মাড়াই। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফসল উৎপাদনের সময়—প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টন আমন উৎপাদিত হয় এই মৌসুমেই। রবীন্দ্রনাথও নতুন ফসলের আনন্দকে তুলে ধরেছিলেন—
‘ধরার আঁচল ভরে দিলে প্রচুর সোনার ধানে।’

অগ্রহায়ণের সঙ্গে শীতের দশ প্রহরণ শুরু হয়। কুয়াশার পর্দা নামতে থাকে ধীরে ধীরে। জীবনানন্দের ভাষা তখন সত্যি হয়ে ওঠে—
‘শিশির পড়িতেছিল ধীরে ধীরে খসে;/
নিমের শাখার থেকে একাকীতম কে পাখি নামি
উড়ে গেল কুয়াশায়— কুয়াশার থেকে দূর-কুয়াশায় আরও।’

হেমন্তের প্রকৃতি, নতুন ধানের গন্ধ, কৃষকের মুখের হাসি—সব মিলিয়ে নবান্ন শুধু একটি উৎসব নয়; এটি বাংলার জীবন-স্পন্দন, বাংলার মাটির সঙ্গে মানুষের শাশ্বত বন্ধনের অবিচ্ছেদ্য উদযাপন।




পে স্কেলের গেজেট না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি সরকারি কর্মচারীদের

ডেস্ক নিউজঃ আগামী সংসদ নির্বাচনের আগেই পে কমিশন বাস্তবায়ন ও নবম পে স্কেল গেজেট জারির দাবি করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তারা।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বলা হয়, পে স্কেল বাস্তবায়ন করা না হলে ১৮ লাখ কর্মচারী নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে বিরত থাকবেন। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন প্রায় ১৫ লাখ।

সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সমন্বয়ক মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, ‘পে কমিশন নির্বাচনের আগেই দিতে হবে। এটির বাস্তবায়ন না হলে কর্মচারীরা কঠোর আন্দোলনে যাবে। ১ ডিসেম্বর থেকে যত দিন পর্যন্ত পে কমিশন বাস্তবায়ন না হবে, তত দিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

কর্মচারী নেতারা পে স্কেলসংক্রান্ত অন্যান্য দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করারও দাবি জানিয়ে বক্তারা জানান, ২০১৫ সালের পে স্কেল থেকে বাদ পড়া ৩টি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল করতে হবে। বেতন জ্যেষ্ঠতা ফিরিয়ে আনতে হবে। সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাচুইটির পাশাপাশি পেনশন চালু করতে হবে। বর্তমান গ্র্যাচুইটি হার ৯০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করতে হবে। পেনশন গ্র্যাচুইটিতে প্রতি ১ টাকার সমমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং কর্মচারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ গত বুধবার (১২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলের সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী নয়, বরং আগামী নির্বাচিত সরকার নেবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার বেতন কমিশনের প্রতিবেদন (বেতন কাঠামো) চূড়ান্ত করে যাবে।




বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইইউর সমর্থন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বকে স্বাগত

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীন চলমান গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আগামী নির্বাচন আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়েছে ইইউ। 

একইসঙ্গে, সব রাজনৈতিক দলকে গঠনমূলকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে উৎসাহিত করেছে ইইউ।

ইইউ এক ফেসবুক পোস্টে জানায়, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পথে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়াকে আমরা সমর্থন করি।’

এতে আরও বলা হয়, ‘আগামী ফেব্রুয়ারিতে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রেক্ষিতে আমরা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বকে স্বাগত জানাই।’

দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইইউ বলেছে, ‘আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে পরবর্তী ধাপে গঠনমূলকভাবে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করছি।’




নতুন পোশাকে মাঠে নেমেছে পুলিশ

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের গায়ে নতুন পোশাক উঠেছে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশসহ (ডিএমপি) দেশের সব মহানগর পুলিশ ও বিশেষায়িত ইউনিটে নতুন পোশাক পরেছে পুলিশ। তবে জেলা পুলিশ এখনো তা পায়নি। পর্যায়ক্রমে তারাও নতুন পোশাক পাবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠার পর থেকে সমালোচনার মুখে থাকা পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও পোশাক পরিবর্তনের দাবি উঠলে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পোশাক অনুমোদন করে। এরই অংশ হিসেবে মহানগর পুলিশে লৌহ রঙের নতুন পোশাক দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌ এই পোশাক পরবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, আজ থেকে সব মহানগরে পুলিশের নতুন পোশাক চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব সদস্য এই পোশাক পাবেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জেলা ও রেঞ্জ পুলিশ পর্যায়ক্রমে নতুন এই পোশাক পরবেন। তবে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্পেশাল প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) আগের পোশাক থাকবে।

এর আগে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছিলেন, ‘পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। পুলিশের জন্য, র‌্যাবের জন্য এবং আনসারের জন্য। তিনটা সিলেক্ট করা হয়েছে। এটা ইমপ্লিমেন্ট হবে আস্তে আস্তে। একসঙ্গে সব করা যাবে না।’

পোশাকের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের মানসিকতারও পরিবর্তন হবে বলে অন্তর্বর্তী সরকার আশা করছে। পুলিশে সংস্কারের উদ্যোগও নিয়েছে এই সরকার। সে জন্য স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করা হচ্ছে।




0xc6be24ca

0xc6be24ca




হিরো আলম গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজঃ দেশের আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম গ্রেপ্তার হয়েছেন। 

শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে স্ত্রী রিয়ামনির দায়ের করা মামলায় তাকে রাজধানীর হাতিরঝিল থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

এর আগে হিরো আলমের স্ত্রী রিয়ামনি হিরো আলম ও আহসান হাবিব সেলিমের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেছিলেন।

গত বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামানের আদালত বাদীর আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী জিয়াউর রহমান চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আসামিরা জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তারা ঠিকমতো আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন না। এ জন্য আমরা তাদের জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করি। শুনানি শেষে তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।’

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি হিরো আলম ও বাদী রিয়া মনির মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। এরপর হিরো আলম বাদীকে তালাক দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন।

গত ২১ জুন বাদীর পরিবারের সঙ্গে মীমাংসা করার জন্য হাতিরঝিল থানাধীন এলাকায় একটি বাসায় ডাকা হয়েছিল। অভিযোগ করা হয়েছে, সেই সময়ে হিরো আলমসহ ১০-১২ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।

পরে তারা বাদীর বর্তমান বাসায় বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করে। এই হামলায় বাদীর শরীরে জখম সৃষ্টি হয়। এছাড়াও, এসময় তার গলায় থাকা ‘দেড় ভরি’ ওজনের স্বর্ণের চেইন চুরি করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। এই ঘটনায় গত ২৩ জুন বাদী রিয়া মনি হাতিরঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।




0xfe2e9125

0xfe2e9125




0xc6b6fbc7

0xc6b6fbc7




মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় অস্বীকার করলেন শেখ হাসিনা

ডেস্ক নিউজঃ গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে ওঠা মানবতাবিরোধী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পূর্বনির্ধারিত রায়ের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিবিসিকে ই-মেইল দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তার অনুপস্থিতিতে যে বিচার চলছে, তা ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের সাজানো প্রহসন’ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি আরও জানান, তার আইনজীবী বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন দমনে হত্যায় উসকানি, প্ররোচনা এবং ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’সহ পাঁচ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের দাবি করা হয়েছে। একই মামলায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আসামি করা হয়েছে। প্রসিকিউশন কামালের বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে।

শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আন্দোলন দমনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলেও তিনি কখনো নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেননি। তিনি এই মামলাকে রাজনৈতিকভাবে ‘আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশন এবং বিবিসি রিপোর্ট অনুসারে, ওই সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১,৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। তবে হাসিনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, তার ব্যক্তিগত কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং কোনো কর্মকর্তার দায় থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।

আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই জাতিসংঘে ট্রাইব্যুনালের বিচার ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। মামলার প্রক্রিয়া চলাকালীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় দলটি আগামী ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

শেখ হাসিনার অবস্থান অনুযায়ী, এই মামলা ও অন্যান্য মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি দাবি করছেন, তার বিরুদ্ধে যেকোনো দোষ প্রমাণ করতে হলে তা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে করা উচিত।




নারীদের বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়নের চিন্তা করলে ভুল হবে: সেনাপ্রধান

ডেস্ক নিউজঃ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের যদি ৫০ ভাগ নারী হয়,আর তাদের ছাড়া যদি আমরা চিন্তা করি দেশ এবং জাতি উন্নয়নের শিখরে উঠে যাবে তাহলে সেটা একটা ভুল হবে।  

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেটদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান এটি। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আজ দ্বিতীয় দিন ছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পুনর্মিলনী প্যারেডে সালাম গ্রহণ করেন। তিনি প্যারেডে অংশগ্রহণকারী ক্যাডেট ও প্রাক্তন ক্যাডেটদের সফলতা ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সেনাপ্রধান বলেন, আমরা অনেকেই স্বশিক্ষিত হই কিন্তু সুশিক্ষিত হই না। আমরা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো রেজাল্ট, পিএইচডি করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে চলে যাই। কারও কারও নৈতিকতার অভাবের কারণে আমরা খুব একটা ভালো কাজ করতে পারি না। নৈতিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ভালো ছাত্র, ভালো রেজাল্ট হলেই হবে না। আমাদের সবাইকে ভালো মানুষ হতে হবে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, প্রাক্তন ও বর্তমান ক্যাডেটদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন সেনাপ্রধান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আরিফুল হক, জয়পুরহাট প্রাক্তন ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মৌসুমী শিখা।

এ সময় অনুষ্ঠানে ১১ পদাতিক ডিভিশন ও বগুড়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহাম্মেদ, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের স্ত্রী কমলিকা জামান, জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. আব্দুল ওয়াহাব, জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তা, অভিভাবকবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।