৪ সিটি করপোরেশন কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক নিউজ : অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত চলাকালে চারজন সিটি করপোরেশন কর্মকর্তা গোপনে দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন। এমন আশঙ্কায় তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিদেশযাত্রা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া চার কর্মকর্তা হলেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যান্ত্রিক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, সংস্থাটির সাবেক ও বর্তমানে বরিশাল সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী (ময়মনসিংহে বদলির আদেশপ্রাপ্ত) এবং একই সংস্থার নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর-অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারজানা মুক্তা (রংপুরে বদলির আদেশপ্রাপ্ত)।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে ২৬ জুলাই ইস্যু করা যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক ‘গোপনীয়’ চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, পুলিশের বিশেষ শাখা ও ইমিগ্রেশন শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তরা গোপনে দেশ ত্যাগ করতে পারেন বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ইমিগ্রেশন চেকপোস্টকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত চার কর্মকর্তার নাম, পদবি, স্থায়ী ঠিকানা ও পাসপোর্টের অনুলিপিও চিঠিটির সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।




৫৫ বছরেও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সঠিক তালিকা কেন হয়নি, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও কেন শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ মঙ্গলবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

জামায়াত আমির বলেন, এতগুলো সরকার আসলো গেল, সবাই দাবি করে, আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্টেকহোল্ডার। আপনারা মুক্তিযুদ্ধের স্টেকহোল্ডার, আপনাদের সম্মান করি। কিন্তু এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করছেন না কেন?। ইতিহাসটা উঠে আসুক, ওই ফ্যামিলিগুলা গ্লোরিফাই হোক, শহীদের আত্মা শান্তি পাক।

তিনি আরো বলেন, আমি সরকারকে অনুরোধ করব, আপনারা উদ্যোগ নেন, সঠিক ইতিহাস রচনা করেন। ৭১-এর মতো ২৪ যেন হারিয়ে না যায়।

চব্বিশের পরিবর্তনের আগে আমাদের কণ্ঠে, রাজনীতিবিদদের কণ্ঠে যে সুর ছিল, ৫ তারিখের পর তা আস্তে আস্তে বদলে যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারির পর তা আরো বদলে যাচ্ছে। আগে যে সমস্ত কথা বলেছেন, অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, অনেকে এটা এখন বেমালুম ভুলে গেছে। তার ঠিক বিপরীত ন্যারেটিভ দাঁড় করাচ্ছেন।




পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগই টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও অন্যান্য দূষণ প্রতিরোধবিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ দূষণ বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুত নগরায়ন, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদ-নদী ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সমন্বিত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তোলাও সমান জরুরি। বিশেষ করে ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিকল্পের ব্যবহার বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

মতবিনিময় সভায় পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদ-নদী সংরক্ষণ এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. শফিকুল ইসলাম খান, মো. আব্দুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




সিরাজগঞ্জে ট্রেন লাইনচ্যুত, বন্ধ ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ

সিরাজগঞ্জে ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ের শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্টেশনের বুকিং সহকারী হাফিজুর রহমান।

তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

হাফিজুর বলেন, “রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ‘সিল্কসিটি ট্রেনটি’ স্টেশনে পৌছানোর পর হঠাৎ একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনার পর থেকে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।”

এদিকে ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ের সয়দাবাদ স্টেশনে আটকা পড়েছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আহসানুর রহমান বলেন, “পাবনার ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন আসার জন্য খবর দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী ট্রেনটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর লাইনটি সচল করা সম্ভব হবে।

ট্রেনটি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।




শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো গণমাধ্যম আগাম ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচারের খবর প্রকাশ করে, তাহলে তা আদালতের রায়ের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আগেও এ বিষয়ে সরকার গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছিল। যদি কেউ আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং সেটি প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তবে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।

তিনি বলেন, আমরা আবারও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেব, কেউ যেন এ ধরনের কাজ না করেন। আদালতের নির্দেশনা মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সরকারের কাজ হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

তিনি ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে বলেন, আদালতের আদেশ না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া ঠিক হতো না। কেউ যদি আদালতের ওই আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে তিনি আদালতেই গিয়ে সেই রায় চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বহাল থাকবে, ততক্ষণ সেটি সবাইকে মেনে চলতে হবে।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বৃহস্পতির জামিন পাওয়ার তথ্য সরকার দুই-তিন দিন পর জানল কেন? একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না।

তিনি বলেন, আমি বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেব এবং তার সঙ্গে কথা বলব। কেন এ ধরনের গ্যাপ হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।

প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনো আগের সরকারের প্রভাব রয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সবাইকে একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে প্রশাসনসহ নানা প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষ এখনো রয়েছেন। চাইলেই এত মানুষকে একসঙ্গে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। ১৫ বছরে বিভিন্ন স্তরে যারা উঠে এসেছেন, তাদের পরিবর্তে নতুনদের আনতে সময় লাগে।

তিনি আরও বলেন, শুধু বদলি করলেই হবে না, নতুন কর্মকর্তাদের দক্ষতা অর্জনেরও বিষয় রয়েছে। সরকার ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করছে, তবে এমনভাবে নয় যেন রাষ্ট্রের সেবাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, চেষ্টা শুধু নয়, কাজও চলছে। তবে এমনভাবে পরিবর্তন করা হচ্ছে না, যেন ভঙ্গুর সিস্টেম আরও ধ্বংস হয়ে যায়। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।




বিএডিসির ডাল ও তৈলবীজ বিভাগের পিডির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর ডাল ও তৈলবীজ বিভাগের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. শফিকের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পলিথিন ব্যাগ ক্রয়সংক্রান্ত একটি টেন্ডারে (টেন্ডার আইডি: #1307923) এমন কিছু যোগ্যতার শর্ত সংযুক্ত করা হয়েছে, যা নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। বিশেষ করে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত আরোপের কারণে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিশেষ সুবিধাভোগী কিছু প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। তবে এ বিষয়ে জানতে ড. শফিকের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। এদিকে, বিএডিসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




রোববারে তিন উপজেলার বন্যাদুর্গতদের খোঁজ নিতে চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত তিন উপজেলা হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী রোববার (৯ আগস্ট) তার এ সফরসূচি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে যাচ্ছেন, সফরটি এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম চট্টগ্রাম সফর। এই সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল ও এর সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকেও তাকে স্বাগত জানাতে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবেন এবং সাম্প্রতিক বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো গৃহহারা পরিবারগুলোর জন্য সরকারি উদ্যোগে নির্মিত নতুন বাড়িগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে হস্তান্তর করবেন।

প্রশাসনের সূত্র জানিয়েছে, পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে নির্মিত এসব নতুন বাড়ির কাজ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত দিনে প্রধানমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর হাতে এসব ঘরের চাবি তুলে দেবেন। এ ছাড়া, তার এই সফরে দুর্গত এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে ইতোমধ্যে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে হেলিপ্যাড প্রস্তুতের কাজ চলছে। সফরের একটি উল্লেখযোগ্য অংশে তিনি পশ্চিম বাঁশখালী এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করবেন। একই এলাকায় সরকারি সহায়তায় পুনর্নির্মাণ করা ১০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে দলীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নিতে তাকে ও কমিটির সদস্য সচিবকে প্রধানমন্ত্রীর গুলশান কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল। দলীয় প্রধানকে স্বাগত জানাতে এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক প্রস্তুতিগুলো গুছিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে চূড়ান্ত ও বিস্তারিত সরকারি কর্মসূচি হাতে পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হবে।




অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: বিদ্যুৎ বিভাগ

ডেস্ক নিউজ : অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত যে সকল অভিযোগ পাওয়া গেছে তা বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিতরণ সংস্থাসমূহ কর্তৃক সমাধান করা হয়েছে।

আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ বিষয়ে কোনো প্রকার অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই। তবে কোনো গ্রাহকের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল বিষয়ক কোনো অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করলে সে বিষয়ে অবশ্যই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হলে দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




বিরোধী দলের নেতারা ‘শেখ হাসিনার ভাষায়’ কথা বলছেন: মির্জা ফখরুল

নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ বিরোধী দলের নেতারা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ‘শেখ হাসিনার ভাষায়’ কথা বলা শুরু করেছেন বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, “এখন যে ভাষায় আমাদের সম্মানিত বিরোধী দলের নেতারা কথা বলছেন… সরকারকে পাঁচ বছর থাকতে দেব না। এ ভাষায় কথা বলতেন শেখ হাসিনা।

“ওরা (আওয়ামী লীগ) ৯১ সালে যখন বিরোধী দলে ছিল, তখন বলেছিল যে, একটা দিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেব না। আজ একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন আমাদের বিরোধী দলের নেতারা।”

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জুলাই অভ্যুত্থানের এক আলোচনা সভায় স্থানীয়সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিরোধী দলের নেতারা অবশ্যই সমালোচনা করবেন, অবশ্যই তারা বিরোধিতা করবেন এবং যে ভুলগুলো সরকার করবে, সেগুলোকে দেখিয়ে দেবেন। কিন্তু সেটা পার্লামেন্টের মধ্যে হলেই গণতান্ত্রিক পরিবেশটা ঠিক থাকে।

“দুর্ভাগ্য আমাদের যে তারা সেই আগের মতই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে জনমত তৈরির চেষ্টা করছে। এটাও তো আপত্তি নেই, এটা আপনার গণতান্ত্রিক নীতি। কিন্তু সেটা এমন এক পর্যায়ে যেন না যায়, যে পর্যায়ে গিয়ে একটা সংঘাতে রূপ নেয়।“

জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এ সভা আয়োজন করে।




হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৮৫০ ছুঁইছুঁই

দেশে এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৪৭ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৫১ জন মারা গেছে আর হামে মারা গেছে ৯৬ জন।

আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩২৬ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১১৩ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯১, ময়মনসিংহে ৭১, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৫, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১২ জন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত পরিসংখ্যানে মৃতদের বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়।

সরকারের তথ্য বলছে, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৯৬৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৩১ হাজার ৫০ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১১৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৪০৮।

হাসপাতালে ভর্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫২২ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ১৭৯ জন।