সোমবার থেকে সারা দেশে একযোগে হামের টিকা পাবে শিশুরা

ডেস্ক নিউজঃ প্রতিদিনই বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আনুপাতিক হারে বাড়ছ মৃত্যুও। তাই হামের প্রাদুর্ভাব রোধে আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী,  চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২২ হাজার। আর হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ২১৩ শিশুর।

গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ১২ এপ্রিল ঢাকাসহ চার সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা দেয়া শুরু করে সরকার।

গত শুক্রবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে ম্যাসিভভাবে হামের টিকার কার্যক্রম শুরু হবে। দেশে কোনো টিকার ঘাটতি নেই, তাই অপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান দেয়া যাবে না।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু হামের কারণে মৃত্যুর রেকর্ড নেই, যে শিশুরা মারা যাচ্ছে তাদের হামের সঙ্গে রয়েছে শরীরের অনান্য জটিলতা।

হাম হলে ভয় বা আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। দেশব্যাপী প্রাদুর্ভাব কমাতে ঘরে ঘরে টিকা কার্যক্রম সফল করার তাগিদ দেন তারা।

চিকিৎসকরা বলেন, এর জন্য সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে অভিভাবকদের। শিশুকে টিকা দেয়ার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে পুষ্টিকর খাবারের।




দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর ৬০ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার প্রথম দুই মাসেই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এটি গণতন্ত্রের পুনরুত্থান ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন মাহদী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো-

১. ফ্যামিলি কার্ড: নারীর ক্ষমতায়নে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তার কার্ড দেওয়া।
২. কৃষক কার্ড: প্রান্তিক কৃষকদের ১০টি সুবিধা সংবলিত কার্ড বিতরণ শুরু।
৩. ঋণ মওকুফ: ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ।
৪. সংসদীয় গণতন্ত্র: রেকর্ড সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি এবং গুম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান।
৫. নদী খনন: ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও জলাশয় খননের কাজ শুরু।
৬. জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ: বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও দেশে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ভর্তুকি বৃদ্ধি।
৭. সৌরশক্তি: জাতীয় গ্রিডে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্য।
৮. ফুয়েল কার্ড: জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ফুয়েল কার্ডের পাইলটিং শুরু।
৯. দ্রব্যমূল্য: প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রমজান ও পরবর্তী সময়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা।
১০. ধর্মীয় সম্প্রীতি: ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী দেওয়া এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক বিশেষ সহকারী নিয়োগ।
১১. জাকাত আধুনিকায়ন: দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থার বৈজ্ঞানিক আধুনিকায়ন।
১২. প্রবাসী কার্ড: প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কার্ড চালুর উদ্যোগ।
১৩. হজ খরচ হ্রাস: হজযাত্রার খরচ ১২ হাজার টাকা কমানো ও নুসুক হজ কার্ড দেওয়া।
১৪. নিয়োগ পরিকল্পনা: সরকারি অফিসের ৪ লাখ ৬৮ হাজার শূন্যপদ পূরণে ৩ মেয়াদি পরিকল্পনা।
১৫. বন্ধ কারখানা: চিনিকল, রেশম ও পাটকলসহ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ।
১৬. ইন্ডাস্ট্রি ইকোসিস্টেম: হাই-টেক পার্ক ও ইপিজেডে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ইকোসিস্টেম তৈরি।
১৭. ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি: ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।
১৮. জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা: ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করার কৌশল।
১৯. বিদেশি বিনিয়োগ: বিনিয়োগ সহজীকরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা শিথিল।
২০. শ্রমিক অধিকার: মালিক-শ্রমিক সমন্বয়ে ঈদুল ফিতরে শতভাগ বেতন-বোনাস নিশ্চিতকরণ।
২১. মালয়েশিয়া শ্রমবাজার: অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু।
২২. ইউরোপে শ্রমবাজার: সার্বিয়া, গ্রিস ও রোমানিয়াসহ ৭টি দেশের সঙ্গে শ্রম চুক্তি।
২৩. দক্ষতা বৃদ্ধি: বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে টিটিসি ও কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন।
২৪. উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন: উত্তরবঙ্গকে ‘অ্যাগ্রো প্রসেসিং হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ।
২৫. পে-পাল: বাংলাদেশে পে-পাল ও গ্লোবাল পেমেন্ট গেটওয়ে আনার কাজ শুরু।
২৬. স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা, যেখানে ৮০ শতাংশই নারী।
২৭. ই-হেলথ কার্ড: ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় ই-হেলথ কার্ড ও হাসপাতালের নিরাপত্তা বৃদ্ধি।
২৮. শিক্ষা ফি বাতিল: প্রতিবছর পুনরায় ভর্তি ফি নেওয়া বাতিল ও বৃত্তি দ্বিগুণ করা।
২৯. উচ্চশিক্ষায় ঋণ: বিদেশে পড়তে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি।
৩০. শিক্ষক নিয়োগ: মাদরাসাসহ বিভিন্ন স্তরে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ।
৩১. বাধ্যতামূলক খেলাধুলা: চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক ও নতুন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ।
৩২. নতুন কুঁড়ি: শিশুদের প্রতিভা অন্বেষণে আবারও ‘নতুন কুঁড়ি’র যাত্রা শুরু।
৩৩. স্কুল কিট: ২ লাখ শিশুর মাঝে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ বিতরণ এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’।
৩৪. মাদরাসা আধুনিকায়ন: মাদরাসায় স্মার্ট ক্লাসরুম ও কারিগরি কোর্স চালু।
৩৫. স্পোর্টস কার্ড: ক্রীড়াবিদদের জন্য স্পোর্টস কার্ড ও মাসিক ভাতা চালুর উদ্যোগ।
৩৬. সবুজ বনায়ন: ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু।
৩৭. মিতব্যয়িতা: যমুনার বদলে প্রধানমন্ত্রীর নিজের বাড়িতে অবস্থান ও নিজের গাড়ি ব্যবহার।
৩৮. প্রটোকল সংস্কার: ট্রাফিক জট এড়াতে ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিতকরণ ও শনিবারও অফিস।
৩৯. ডিজিটাল ভূমি সেবা: ই-নামজারি ও অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর বাধ্যতামূলক করা।
৪০. পদ্মা ব্যারেজ: উত্তরবঙ্গকে মরুকরণ থেকে বাঁচাতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ গ্রহণ।
৪১. মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি বাতিল: এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
৪২. পাটের ব্যবহার: সরকারি-বেসরকারি খাতে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলককরণ।
৪৩. ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার।
৪৪. টিকাদান কর্মসূচি: বন্ধ থাকা হামের টিকা পুনরায় সারাদেশে চালু।
৪৫. চাঁদাবাজিবিরোধী অভিযান: চাঁদাবাজি বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশের সংস্কার।
৪৬. ইলেকট্রিক বাস: ঢাকায় পরিবেশবান্ধব বাস ও নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ সার্ভিস।
৪৭. নদী রক্ষা আইন: নদী দখলকারীদের ৫ বছরের জেল ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান।
৪৮. জ্বালানি সাশ্রয়: সরকারি অফিসে এসি ও লাইট ব্যবহারে কঠোর ১১ নির্দেশনা।
৪৯. মেধাভিত্তিক নিয়োগ: এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ।
৫০. জ্বালানি নিরাপত্তা: ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ।
৫১. ফুটপাত পুনর্বাসন: ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্বাসনের কাজ।
৫২. বাকস্বাধীনতা: প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনার পরও কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া।
৫৩. থার্ড টার্মিনাল: শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর পদক্ষেপ।
৫৪. ফ্রি ইন্টারনেট: দেশের বড় সব বিমানবন্দরে যাত্রীসেবায় ফ্রি ওয়াই-ফাই।
৫৫. ট্রেনে ইন্টারনেট: চলন্ত ট্রেন ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ইন্টারনেট সংযোগ।
৫৬. অর্থনৈতিক কূটনীতি: বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি ও বিনিয়োগ আকর্ষণকে দূতাবাসের অগ্রাধিকার।
৫৭. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: প্রতিবেশী ও বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে পানি ও সীমান্ত সমস্যা সমাধানে জোর।
৫৮. অর্থ পাচার রোধ: ১০টি দেশের সঙ্গে পাচারকৃত অর্থ শনাক্ত ও ফেরত আনার চুক্তি।
৫৯. উপকূল রক্ষা: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
৬০. মানবাধিকার রক্ষা: গত দুই মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো নজির না থাকা ও আইনি সুরক্ষা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




দেশে জ্বালানি তেলের নতুন দাম আজ থেকে কার্যকর

ডেস্ক নিউজঃ ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অকটেনের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৪০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। এই দাম আজ রবিবার থেকে সারাদেশে কার্যকর হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল শনিবার পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের বার্তায় জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে দেশের বাজারেও এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হবে।

একইসঙ্গে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কেরোসিনের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৩০ টাকা।

মূল্যবৃদ্ধির আগে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা ও পেট্রোলের মূল্য ১১৬ টাকা ছিল।




আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় : কাদের গনি চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ : দেশের ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রথমেই শিক্ষাখাতে মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, শিক্ষা হলো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রা। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতি অসম্ভব।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স হলে অ্যাসোসিয়েশন ফর ম্যাস অ্যাডভান্সমেন্ট নেটওয়ার্ক-আমান আয়োজিত ছাত্রবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে কাদের গনি চৌধুরী এসব বলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষায় সফলতার জন্য যার যার জায়গা থেকে নিজের দায়িত্বটুকু সম্পর্কে যত্নবান হতে হবে। নিজ নিজ দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করলে শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্য অর্জন সম্ভব।

আমান’র নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ আবু ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কারিগরি ও শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া, ইকো ইউএসএ’র প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জামান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মানারাত ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

সারা বিশ্বে শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, এর কারণ শিক্ষা হলো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রা। শিক্ষা ছাড়া সভ্যতা আসে না। শিক্ষা ছাড়া জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব নয়। শিক্ষায় সফলতার জন্য যার যার জায়গা থেকে নিজের দায়িত্বটুকু সম্পর্কে যত্নবান হওয়া উচিত বলে মনে করেন কাদের গনি চৌধুরী।

তিনি বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে আমি একটি কথা বলি, যার যার দায়িত্ব আমরা ঠিকঠাক পালন করলে শিক্ষাক্ষেত্রে আমরা অসামান্য সাফল্য অর্জন করতে পারি। এখানে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব হলো নিয়মিত পড়ালেখা করা। পাঠে মনোযোগী হওয়া। হোমওয়ার্ক নিয়মিত করা। শিক্ষকদের দায়িত্ব হলো নিয়মিত পাঠদান করা। সততার শিক্ষা দেওয়া। আর পরিবারের দায়িত্ব সন্তানকে শিক্ষালয়ে পাঠানো। হোমওয়ার্ক করছে কিনা দেখা। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে নজর রাখা।

অভিভাবকদের দায়িত্ব বেশি হলেও অনেক অভিভাবক সন্তানকে স্কুল-কলেজে পাঠিয়ে মনে করেন দায়িত্ব শেষ- এটা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সন্তানকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলায় পরিবারের ভূমিকার কথা তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, পরিবার হলো একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে পরিবারের সদস্যরা প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা ও মায়া-মমতার বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। পরিবারকে বলা হয় ‘জ্ঞানচর্চার সূতিকাগার’। পরিবার হলো ‘শাশ্বত বিদ্যালয়’, ‘চিরন্তন মাতৃসদন’। মানুষ তার সামগ্রিক জীবনে যত জ্ঞান, শিক্ষা, ঐশ্বর্য অর্জন করে তার সূচনাই হয় পরিবার থেকে। মায়ের কোলে হয় শিশুশিক্ষার হাতেখড়ি। তাই সন্তানের মূল্যবোধ, চরিত্র, চেতনা ও বিশ্বাস জন্ম নেয় পরিবার থেকেই।




পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশের আকাশে আজ কোথাও ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে পবিত্র শাওয়াল মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী রোববার (১৯ এপ্রিল) শাওয়াল মাসের সমাপ্তি ঘটবে। সে হিসেবে আগামী ২০ এপ্রিল সোমবার থেকে জিলকদ মাস গণনা শুরু হবে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।

সভায় ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সব তথ্য বিশ্লেষণ করে চাঁদ দেখা না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি এই ঘোষণা দেয়।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক মো. শাহীন হোসেন, প্রধান তথ্য অফিসার ইয়াকুব আলী, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, স্পারসোর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. খোরশেদ আলম খান, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ওয়ারেছ আনসারী, চরমোনাই আহছানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ও জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার উপাধ্যক্ষ আবদুল গাফফারসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




প্রধানমন্ত্রী দেশের সেবা করতেই সরকার পরিচালনার দায়িত্বে এসেছেন: আতিকুর রহমান রুমন

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সেবা করতেই সরকার পরিচালনার দায়িত্বে এসেছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে মুগ্ধকর স্বভাবসুলভ আচরণ, তার ড্রেস আপ সবকিছুই অতি সাধারণ। তিনি আসলে দেশ সেবা করার জন্যই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি চান দেশের সব ভালো কাজগুলো হোক।’

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসার পর থেকে আমাদের সাফল্যগুলোর মধ্যে একটি জিনিসই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা হলো- একটি যুদ্ধের কারণে তেলের দামসহ কিছু জিনিসের দাম বৃদ্ধির দিকে। এটা ছাড়া অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ বা দুষ্টু লোকেরা যে খারাপ কাজগুলো করছিল, এগুলো তুলনামূলক অনেক কমে গেছে।




৮ জেলায় হতে পারে ঝড়

ডেস্ক নিউজ : দেশের ৮টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে এক নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ : দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু নেই। শনিবার (১৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৬ জনের। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ২৭৮ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪২ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬২৪ জন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু নেই। ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১৭৮ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪ হাজার ৫২২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছে ১১ হাজার ৭৫১ জন।

উল্লেখ্য, গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৩৭ বলা হলেও আজ তা সংশোধন করে ৩৫ করা হয়েছে। বরগুনা জেলায় ভুলক্রমে দুজনের মৃত্যুকে নিশ্চিত হাম হিসেবে গণনা করা হয়েছিল বলে জানানো হয়।




২০২৫ সালে আন্দামান-বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৯০০ রোহিঙ্গার মৃত্যু বা নিখোঁজ

ডেস্ক নিউজঃ আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে চলাচলের ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর।

শুক্রবার জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবার বালোচ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন নিখোঁজ বা মৃত বলে জানা গেছে, যা বিশ্বের যেকোনো প্রধান সমুদ্রপথের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার।

ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পথে যাত্রা করা মানুষের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু। এই ধারা ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে ২ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন।

সাম্প্রতিক এক মর্মান্তিক ঘটনায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে যায়। এতে আনুমানিক ২৫০ জন নিখোঁজ হন। পরে ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গাদের কাউন্সেলিং, চিকিৎসা ও মনোসামাজিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করা হচ্ছে।

মানব পাচার, শোষণ ও সমুদ্রে মৃত্যুর মতো ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার রোহিঙ্গা এই যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। সাধারণত অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও নিরাপত্তাহীন নৌকা বাংলাদেশর কক্সবাজার বা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সুযোগ না থাকায় রোহিঙ্গারা বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়াচ্ছেন। চলমান সংঘাত, নিপীড়ন ও নাগরিকত্ব সংকট তাদের সামনে কোনো বাস্তব বিকল্প রাখছে না।

এদিকে তহবিল সংকটের কারণে বাংলাদেশে মানবিক সহায়তাও কমে গেছে। ক্যাম্পে অস্থিরতা, শিক্ষা ও জীবিকার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ইউএনএইচসিআর রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলা, নিরাপদ ও বৈধ পথ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে জীবনরক্ষা ও মানব পাচার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বর্তমানে এই অঞ্চলে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশে আশ্রিত। ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থায়ন পাওয়ায় আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়েছে।




জামায়াতে ইসলামী ভদ্র দল, সংসদে তারা খুব ভালো ব্যবহার করে: স্পিকার

ডেস্ক নিউজঃ জামায়াতে ইসলামীর প্রশংসা করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ভদ্র দল, সংসদে তারা খুবই ডিসিপ্লিন্ড, সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পিকারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এদিন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দলবাজি আর করবেন না। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে হয়রানি করবেন না।’

তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রশংসা করে বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ভদ্র দল, সংসদে তারা খুবই ডিসিপ্লিন্ড, সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে। তারা পাশের লোকের সঙ্গেও কথা বলেন না। নিয়মকানন মেনে চলেন। একসময় তারা আমাদেরই মিত্র দল ছিল। তাদেরকে অনুরোধ করব, আপনারা ও বিএনপি মিলেমিশে চলবেন।’

স্পিকার আরও বলেন, তিনি সংবর্ধনা গ্রহণের জন্য নয়, বরং এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছেন।

তিনি বলেন, ‘ভোলা-৩ আসনের মানুষ সব সময় আমার পাশে থেকেছেন। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনেই আজ আমি এ অবস্থানে পৌঁছেছি। এলাকার উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘স্পিকারের হয়তো প্রশাসনিক বিশাল কোনো ক্ষমতা নেই, কিন্তু এই পদের অনেক সম্মান আছে। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সেই সম্মানের আসনে বসার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি স্পিকার হই আর যাই হই, দিনশেষে আমি আপনাদেরই সংসদ সদস্য।’

স্পিকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে আছে। অন্যায়, অবিচার, লুটপাট ও সন্ত্রাস করলে কী ফলাফল হয়, তা তো দেখছেন। ছয়বারের এমপিকে ঘর থেকে বের হতে দেয়নি। তারা ভেবেছিল এভাবেই দিন যাবে। সে জন্যই আল্লাহর গজব তাদের ওপর পড়েছে।’ এ সময় তিনি ছাত্রসমাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা মাফিয়া সরকারকে বিদায় করে বাংলাদেশের উন্নয়নের পথকে সুগম করেছে।

স্পিকার আরও বলেন, ‘যারা মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছিল, এই ঐক্য যেন আর না ভাঙে। এ ঐক্য ভাঙলে আবার ভারত থেকে দাদারা চলে আসবে। তারা এসে এ দেশে আবারও আগের মতো লুণ্ঠনের রাজত্ব কায়েম করতে চাইবে। আমরা আর এ ধরনের বাংলাদেশ দেখতে চাই না; যেখানে মানুষ গুম হবে, ভয়ে থাকবে, আতঙ্কে ঘুমাতে পারবে না। এ অবস্থার অবসান চাই।’

ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দায়িত্ব অনেক বেশি উল্লেখ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, এটা আওয়ামী লীগ নয়। আমরা সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করব না। আগামী দিনে স্থানীয় সরকার বা যেকোনো নির্বাচন হোক, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করব; যাতে করে আপনারা সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেন।’

অনুষ্ঠানে তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু, ভোলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাছেত, উপজেলা বিএনপি নেতা হাসান মাকসুদুর রহমান, জাকির হোসেন হাওলাদারসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এতে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।