হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ : দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু নেই। শনিবার (১৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৬ জনের। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ২৭৮ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪২ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬২৪ জন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু নেই। ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১৭৮ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪ হাজার ৫২২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছে ১১ হাজার ৭৫১ জন।

উল্লেখ্য, গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৩৭ বলা হলেও আজ তা সংশোধন করে ৩৫ করা হয়েছে। বরগুনা জেলায় ভুলক্রমে দুজনের মৃত্যুকে নিশ্চিত হাম হিসেবে গণনা করা হয়েছিল বলে জানানো হয়।




২০২৫ সালে আন্দামান-বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৯০০ রোহিঙ্গার মৃত্যু বা নিখোঁজ

ডেস্ক নিউজঃ আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে চলাচলের ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর।

শুক্রবার জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবার বালোচ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন নিখোঁজ বা মৃত বলে জানা গেছে, যা বিশ্বের যেকোনো প্রধান সমুদ্রপথের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার।

ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পথে যাত্রা করা মানুষের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু। এই ধারা ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে ২ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন।

সাম্প্রতিক এক মর্মান্তিক ঘটনায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে যায়। এতে আনুমানিক ২৫০ জন নিখোঁজ হন। পরে ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গাদের কাউন্সেলিং, চিকিৎসা ও মনোসামাজিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করা হচ্ছে।

মানব পাচার, শোষণ ও সমুদ্রে মৃত্যুর মতো ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার রোহিঙ্গা এই যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। সাধারণত অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও নিরাপত্তাহীন নৌকা বাংলাদেশর কক্সবাজার বা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সুযোগ না থাকায় রোহিঙ্গারা বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়াচ্ছেন। চলমান সংঘাত, নিপীড়ন ও নাগরিকত্ব সংকট তাদের সামনে কোনো বাস্তব বিকল্প রাখছে না।

এদিকে তহবিল সংকটের কারণে বাংলাদেশে মানবিক সহায়তাও কমে গেছে। ক্যাম্পে অস্থিরতা, শিক্ষা ও জীবিকার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ইউএনএইচসিআর রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলা, নিরাপদ ও বৈধ পথ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে জীবনরক্ষা ও মানব পাচার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বর্তমানে এই অঞ্চলে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশে আশ্রিত। ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থায়ন পাওয়ায় আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়েছে।




জামায়াতে ইসলামী ভদ্র দল, সংসদে তারা খুব ভালো ব্যবহার করে: স্পিকার

ডেস্ক নিউজঃ জামায়াতে ইসলামীর প্রশংসা করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ভদ্র দল, সংসদে তারা খুবই ডিসিপ্লিন্ড, সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পিকারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এদিন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দলবাজি আর করবেন না। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে হয়রানি করবেন না।’

তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রশংসা করে বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ভদ্র দল, সংসদে তারা খুবই ডিসিপ্লিন্ড, সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে। তারা পাশের লোকের সঙ্গেও কথা বলেন না। নিয়মকানন মেনে চলেন। একসময় তারা আমাদেরই মিত্র দল ছিল। তাদেরকে অনুরোধ করব, আপনারা ও বিএনপি মিলেমিশে চলবেন।’

স্পিকার আরও বলেন, তিনি সংবর্ধনা গ্রহণের জন্য নয়, বরং এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছেন।

তিনি বলেন, ‘ভোলা-৩ আসনের মানুষ সব সময় আমার পাশে থেকেছেন। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনেই আজ আমি এ অবস্থানে পৌঁছেছি। এলাকার উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘স্পিকারের হয়তো প্রশাসনিক বিশাল কোনো ক্ষমতা নেই, কিন্তু এই পদের অনেক সম্মান আছে। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সেই সম্মানের আসনে বসার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি স্পিকার হই আর যাই হই, দিনশেষে আমি আপনাদেরই সংসদ সদস্য।’

স্পিকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে আছে। অন্যায়, অবিচার, লুটপাট ও সন্ত্রাস করলে কী ফলাফল হয়, তা তো দেখছেন। ছয়বারের এমপিকে ঘর থেকে বের হতে দেয়নি। তারা ভেবেছিল এভাবেই দিন যাবে। সে জন্যই আল্লাহর গজব তাদের ওপর পড়েছে।’ এ সময় তিনি ছাত্রসমাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা মাফিয়া সরকারকে বিদায় করে বাংলাদেশের উন্নয়নের পথকে সুগম করেছে।

স্পিকার আরও বলেন, ‘যারা মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছিল, এই ঐক্য যেন আর না ভাঙে। এ ঐক্য ভাঙলে আবার ভারত থেকে দাদারা চলে আসবে। তারা এসে এ দেশে আবারও আগের মতো লুণ্ঠনের রাজত্ব কায়েম করতে চাইবে। আমরা আর এ ধরনের বাংলাদেশ দেখতে চাই না; যেখানে মানুষ গুম হবে, ভয়ে থাকবে, আতঙ্কে ঘুমাতে পারবে না। এ অবস্থার অবসান চাই।’

ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দায়িত্ব অনেক বেশি উল্লেখ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, এটা আওয়ামী লীগ নয়। আমরা সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করব না। আগামী দিনে স্থানীয় সরকার বা যেকোনো নির্বাচন হোক, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করব; যাতে করে আপনারা সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেন।’

অনুষ্ঠানে তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু, ভোলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাছেত, উপজেলা বিএনপি নেতা হাসান মাকসুদুর রহমান, জাকির হোসেন হাওলাদারসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এতে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।




সরকারের ২ মাস পূর্তিতে সংবাদ সম্মেলন আজ

ডেস্ক নিউজঃ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত দুই মাসের কার্যক্রম, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতেও বক্তব্য আসতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।




হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ২০২৬ সালের পবিত্র হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে হজ ফ্লাইটের কার্যক্রম। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সৌদি সরকার ঘোষিত হজ ব্যবস্থাপনার বিশেষ ‘রোডম্যাপ’ অনুসরণ করে এবার আগেভাগেই ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে হজযাত্রীদের সাথে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে আচরণ করার নির্দেশ দেন।

২০২৬ সালের হজের রোডম্যাপ অনুযায়ী, এবার হজযাত্রীদের সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বাংলাদেশেই (রুট-টু-মক্কা ইনিশিয়েটিভের আওতায়) সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে করে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর হাজিদের দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে হজযাত্রীদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ সফরের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সৌদি দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী প্রথম হজ ফ্লাইটের যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটটি ১৮ এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রা করবে। ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।

প্রথম দিনে মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৬টি, সাউদিয়ার ৩টি এবং ফ্লাইনাসের ৩টি ফ্লাইট থাকবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বর্ধিত ফ্লাইট শিডিউল ও বিমান ভাড়া কমানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হজ যাত্রী পাঠানো দেশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি অ্যাজেন্সির মাধ্যমে হজ পালন করবেন।

আগামী ২১ মে হজ পূর্ব ফ্লাইট শেষ হবে। এ বছর মোট ২০৭টি হজ পূর্ব ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে। যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়া ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। মোট হজযাত্রীর প্রায় ৫০ শতাংশ বহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বাকি হজযাত্রীদের বহন করবে সাউদিয়া এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স।

চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, এটি চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।




এবারও হরমুজ পার হতে পারল না বাংলার জয়যাত্রা

ডেস্ক নিউজঃ এবারও হরমুজ পাড়ি দিতে পারল না বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেতারবার্তায় ইরানের বাহিনী জাহাজটি পারস্য উপসাগরে ফেরত যাওয়ার নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনা পেয়ে আবারও পারস্য উপসাগরে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাচ্ছে জাহাজটি।

জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান শুক্রবার রাত পৌনে একটায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে আমরা শুক্রবার রাতে হরমুজ পাড়ি দিতে রওনা হয়েছিলাম। তবে ইরানের বাহিনী জাহাজটি হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি। জাহাজটি ফেরত নেওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা আগের জায়গায় অর্থাৎ পারস্য উপসাগরে ফেরত যাচ্ছি।’

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে শুক্রবার রাত ১১টায় দেখা যায়, ইরানের কর্তৃপক্ষ এই প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণার পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা একের পর এক জাহাজ নোঙর তুলতে শুরু করে। শতাধিক জাহাজ পূর্ণ গতিতে হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে রাত পৌনে একটায় মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সব কটি জাহাজ আবার পারস্য উপসাগরে ফেরত যাচ্ছে। এই তালিকায় বাংলার জয়যাত্রাও রয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছিলেন, পারস্য উপসাগর থেকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। রাত তিনটা নাগাদ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে।




“সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়ছে অশ্লীলতা ও ভুয়া তথ্য”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটূক্তি, অশ্লীল ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যে কোনো লাগাম নেই। ভুয়া তথ্য প্রচার, রাজনৈতিক নেতাসহ বিশিষ্টজনদের চরিত্রহানি এখন চরমে। রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যও রেহাই পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব—ইন্টারনেটভিত্তিক এসব প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া অগণিত অস্থায়ী ভিডিও নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটাচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে সক্রিয় বিভিন্ন ‘বট বাহিনী’। গালাগালকে এখন বাকস্বাধীনতা বলে অপরাধ আড়ালের চেষ্টা চলছে। প্রতিবাদের ভাষা ক্রমে পাল্টে যাচ্ছে অশ্লীলতা ও ঘৃণায়।
এই পরিস্থিতিতে দেশ, রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতি নিয়ে কোনো পোস্ট দিতে ভয় পাচ্ছেন সজ্জন ব্যক্তিরা।

এমনও ঘটনা ঘটছে যে একজন বিশিষ্ট নাগরিকের কোনো কন্যাসন্তান নেই। কিন্তু ফেসবুকে প্রচার করা হলো—অমুকের কন্যা আপত্তিকর কাজে লিপ্ত। কয়েক দিন আগে একটি রাজনৈতিক দলের নারী কর্মীর মৃত্যুসংবাদ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন সম্পর্কে অশ্লীল মন্তব্যের ছাড়াছড়ি লক্ষ করা যায়। একজন মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে এ ধরনের ঘৃণা প্রকাশ সামজিক মূল্যবোধের অবিশ্বাস্য অবক্ষয় বলে অনেকে মনে করেন।

কয়েক দিন আগে ‘বিজ্ঞানতথ্য’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ চন্দ্রাভিযান নিয়ে তথ্যবহুল একটি পোস্ট লেখা হয়। এই মিশনে তিনজন পুরুষ নভোচারীর সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন ক্রিশ্চিনা কোচ নামের ৪৭ বছর বয়সী একজন নারী নভোচারী। পোস্টটিতে ওই নারী সম্পর্কে অনেকেই অশ্লীল মন্তব্য করলে পোস্টদাতা লেখেন, ‘মানুষ শিক্ষিত কি না তাকে বোঝার অন্যতম উপায় হলো তার আচরণ এবং ভাষা। এটিই শিক্ষার প্রতিফলন ঘটায়।…ক্রিশ্চিনা কোচ একজন বয়স্ক মহিলা।
তাঁকেও সমাজের যে এক শ্রেণির মানুষ জঘন্য ভাষায় ইঙ্গিত করতে পারে, তাদের কাছে কোনো নারীই নিরাপদ না। যারা অন্যদের মাকে অসম্মান করতে পারে  তারা বরং নিজেদের মাকেই অসম্মান করে।’

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ গত বছর তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘একসময় রাজনৈতিক বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিতাম। এখন পারতপক্ষে দিই না। মূর্খ আর বেয়াদব অর্বাচীনরা যেভাবে হামলে পড়ে, ট্রল করে, তা দেখলে রক্তচাপ বেড়ে যায়।’

তিনি আরো লিখেছিলেন, ‘ফেসবুক এ দেশে এখনো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠল না। এটা চলে গেছে মূর্খ আর ইতরদের দখলে। এরা উগ্র জাতিবাদী, ধর্মোন্মাদ, সাম্প্রদায়িক, প্রচণ্ড রকম নারীবিদ্বেষী। চিলে কান নিয়ে গেছে শুনলে এরা চিলের পেছনে দৌড়ায়। এদের পোস্ট কিংবা মন্তব্য পড়লে বোঝা যায়, এদের ন্যূনতম পড়াশোনা নেই, হোমওয়ার্ক নেই, শোভন ভাষা ব্যবহারের পারিবারিক শিক্ষা নেই। এরা উইট বোঝে না।’

গত বছরের শেষ দিকে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে গালাগাল সম্পর্কে একজন নারী সাংবাদিক তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘গালাগাল নতুন নয়। কিন্তু যখন তা রাজনীতির স্লোগান হয়, তখন প্রতিবাদের ভাষা হয়ে যায় অশ্লীলতা, ঘৃণা; আজ এই অশ্লীল গালি সহজেই আমাদের সন্তানদের ডিভাইস বেয়ে তাদের মন-মগজে ঢুকছে, এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।’

ওই সাংবাদিক রাষ্ট্র ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা কি বুঝতে পারছেন না, এই কদর্যতা শুধু আমার ঘরে নয়, আপনাদের ঘরেও ঢুকে পড়ছে? আপনাদের সন্তানের মনও কলুষিত করছে! দুই দিন পর কিন্তু কিছু চেয়ে না পেলে এই অশ্লীল গালিই হবে তার ক্ষোভ প্রকাশের ভাষা। অশনিসংকেত টের পাচ্ছেন না?’

গত বছর নির্বাচনের আগে একটি দলের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে প্রতিপক্ষের চৌকস নেতাদের মুখোশ খুলতে, তাঁদের চরিত্র হনন করতে। সম্ভাব্য এই আক্রমণ, অশ্লীলতার জবাব দিতে অন্য দলের পক্ষ থেকেও তাদের কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হতে বলে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিভাবে বট বাহিনী গড়ে তুলে ব্যক্তি পর্যায়ে চরিত্রহানি করা হয়, সেই কাহিনি গত মাসে একটি সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যায় ছাপা হয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা ‘ ইউটিউবার’ নামের এই গল্পের লেখক।

পরিস্থিতির আরো অবনতি : গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট চেকিং নেটওয়ার্ক স্বীকৃত দেশের একটি ফ্যাক্ট চেকিং বা তথ্য যাচাই প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার বাংলাদেশ’-এর প্রতিবেদন অনুসারে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত) বাংলাদেশে মোট এক হাজার ৯৭৪টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানিট, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩৬ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে এই সংখ্যা ছিল ৮৩৭। প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণ—এই তিন মাসে ভুল তথ্যের বিস্তার বাড়ার পেছনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ জাতীয় রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগের প্রান্তিকের (২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর) তুলনায় এই বৃদ্ধির হার প্রায় ৩৭ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য, একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে। রাজনৈতিক দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে নিয়ে।

সম্প্রতিক আলোচনা : সম্প্রতি একজন নারী রাজনৈতিক কর্মীকে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার এবং বিষয়টি নিয়ে বাকস্বাধীনতাকেন্দ্রিক আলোচনার মধ্যে সাংবাদিক, গবেষক ও কলাম লেখক আমীন আল রশীদ সম্প্রতি তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী বা অন্য যেকোনো নাগরিককে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষোদগার করবেন, গালাগাল করবেন, তাঁকে নিয়ে অসম্মানজনক শব্দ লিখবেন এবং এ কারণে আপনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বলবেন আপনার বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে—এটা পৃথবীর উন্নত গণতান্ত্রিক দেশও অনুমোদন করবে না। নিতান্ত রাজনৈতিক ও আদর্শিক কারণে যদি রাষ্ট্র আপনার কথা বলা ও লেখার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, সেটি অবশ্যই বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। কিন্তু কোনো রাষ্ট্রই গালাগাল, অশ্লীলতা ও বিষোদগারের স্বাধীনতা দেয় না, দিতে পারে না। কারণ যা খুশি বলা ও লেখার স্বাধীনতা দিলে সেখানে যে নৈরাজ্য তৈরি হবে, রাষ্ট্র সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।’

আলোচিত ওই নারী রাজনৈতিক কর্মীর জামিন পাওয়া সংক্রান্ত একটি অনলাইন সংবাদ বিষয়ে একজন মন্তব্য করেন, ‘সমালোচনা বলতে আমরা কী বুঝি এটা একটু ভেবে দেখা দরকার। গঠনমূলক সমালোচনা মানে হলো তথ্যভিত্তিক, শালীন ভাষায় কোনো বিষয়ের ভুল বা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা, যাতে সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, পরিবারকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য, মিথ্যা তথ্য বা গুজব ছড়ানো—এসবকে কোনোভাবেই সমালোচনা বলা যায় না। একইভাবে, ভুয়া ছবি বা ভিডিও তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো কিংবা কাউকে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করাও সমালোচনার অংশ নয়।’

এ ছাড়া এমন ঘটনাও ঘটছে যে ফেসবুকে কারো পোস্টের কমেন্ট বক্সে গালাগাল করে ব্র্যাকেটে লেখা হচ্ছে—‘আমি আমার বাকস্বাধীনতার কিছুটা প্রয়োগ করলাম’।

বিশেষজ্ঞ মত : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়টির নৈতিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ড. শাহ কাওসার মুস্তাফা আবুলউলায়ী এ বিষয়ে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও সমাজে অশালীন আচরণ, গালাগালি বেড়েছে বলেই মনে হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এ ক্ষেত্রে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। রাজনীতিতেও এই অন্যায় চর্চা হচ্ছে। এতে আমাদের জাতি নৈতিকভাবে নিম্নগামী হচ্ছে। পাকিস্তান আমলেও রাজনীতিতে গালাগালি ছিল, কিন্তু তা ছিল একটি মাত্রার মধ্যে। একজন ফিলোসফার হিসেবে এই চর্চাকে আমি অশুভ মনে করি এবং মেনে নিতে পারি না। গালাগালি, চরিত্র হনন, অশালীন আচরণের সঙ্গে অর্ধসত্য এবং অসত্য তথ্য প্রচারও ক্ষতিকর, নৈতিকতাবিরোধী। এই পরিস্থিতি প্রতিরোধে সমাজচিন্তাবিদদের উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীসহ দল-মত-নির্বিশেষে সবারই এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা দরকার। আমি আমার সন্তানকে তো শালীনতা শেখাই। শালীনতা সত্যের পক্ষে এবং সত্য কথা বলতে শেখায়। আমাদের সমাজ সেভাবেই গড়ে ওঠা দরকার।’

আলোচিত বিষয়ে আইনি প্রতিকার সম্পর্কে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, “যখন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ছিল না, তখনো কাউকে গালাগালি করা, অসম্মান করা বা মানহানি করা—এগুলোর জন্য প্যানাল কোডে বিধান ছিল মামলা করার, এমনকি ক্ষতিপূরণ চাওয়ারও। ডিজিটাল মাধ্যম হওয়ার পরে এই মাধ্যমে যখন এগুলো শুরু হলো, তখন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করা হয়েছে। পরবর্তীকালে এটি বিভিন্নভাবে সংশোধন হলেও ওই বিধানটি আছে। এই অপরাধের জন্য বিচারের জায়গা হলো ট্রাইব্যুনাল। সাইবার ট্রাইব্যুনালে গিয়ে ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে পারেন এবং সেগুলো হচ্ছেও। তবে ফেক আইডি একটি বড় ধরনের সমস্যা। ডিজিটাল যুগের সবচেয়ে বড় একটি দুর্বলতা এটি। এখানে কতগুলো ‘বট বাহিনী’ আছে। আপনি যদি কোনো পলিটিক্যাল বক্তব্য দেন, দেখবেন ৫০০ কমেন্ট আসছে। তার মধ্যে মাত্র ২০ থেকে ৩০ জনের আইডেন্টিটি বা ছবি আছে। বাকি সব এ, বি, সি, ডি…। এগুলো ভুয়া। কোনো ব্যক্তি এগুলো চালাচ্ছে, বিভিন্ন মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছে, কিন্তু নিজের নাম দিচ্ছে না। এ জায়গাটায় আমাদের সরাসরি কিছু করার নেই। ফেসবুক চালায় আমেরিকানরা। কোনো ব্যক্তি যদি মনে করেন কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে অপপ্রচার হচ্ছে, তবে তিনি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে তাদের একটি টিম আছে, তারা চাইলে ওই আইডি ব্লক করে দিতে পারে। আমার মনে হয় এটার (বট বাহিনী) পেছনে খুব বেশি লোক নেই। কমেন্টগুলো দেখলে বোঝা যায় যে ভাষাগুলো একই ধরনের। একেক মানুষের মাথা থেকে তো একেক ধরনের কমেন্ট বা গালি আসার কথা। কিন্তু এখানে দেখা যায় একজন ব্যক্তিই শত শত ফেক আইডি ব্যবহার করে এই কাজগুলো করছে। জনসাধারণের কাছে আমার আবেদন হলো, আপনারা যখন ফেসবুকে কোনো আনআইডেন্টিফায়েড বা ছবি ছাড়া আইডি দেখবেন, সেগুলোকে ইগনোর করবেন। এগুলো আপনারা খুলবেন না বা দেখবেন না। তাহলে আলটিমেটলি তাদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যাবে।”




“প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলন”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সরকারের ‘দুই মাস পূর্তি’ উপলক্ষে আগামীকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী।

এতে আরও উপস্থিত থাকবেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত দুই মাসের কার্যক্রম, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও বক্তব্য দেওয়া হতে পারে।




“ভারত-বাংলাদেশ পাইপলাইনে ৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ভারত থেকে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুর পার্বতীপুর পদ্মা অয়েল ডিপোতে আসা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে সাড়ে ৩টায় দিনাজপুর পার্বতীপুর পদ্মা অয়েল ডিপোর সরকারি ব্যবস্থাপক মো. আহসান হাবীব চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পার্বতীপুর রেল হেড ডিপোতে এই ডিজেল আসা শুরু হয়েছে।

সূত্র জানায়, সবশেষ গত ১৪ এপ্রিল ভারতের নুমালীগড় থেকে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে এসেছে। এর আগে, গত মার্চ মাসে এসেছে ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। সব মিলিয়ে মার্চ থেকে এপ্রিলের ১৪ তারিখ পর্যন্ত ভারতের নুমালীগড় থেকে পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে সর্বমোট ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে।

ডিপো কর্তৃপক্ষ বলেছেন, ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসতে সময় লাগবে আনুমানিক ৫০ ঘণ্টা। এই তেল আসা শেষ হলে আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসবে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে সরকার।

এর আগে, ১১ মার্চ প্রথম দফায় বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসে পৌঁছায়। জ্বালানি তেল সরবরাহ ঠিক রাখার লক্ষ্যে আজ শুক্রবার ছুটির দিনেও ডিপো খোলা রেখেছে ডিপো কর্তৃপক্ষ।

চলতি এপ্রিল মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে মোট ৫ ধাপে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ডিপোর সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখতে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।




“চাঁদা দাবির অভিযোগে মঈনসহ ৭ জন জেলে”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ মানবিক চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের হাসপাতালের চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনসহ সাতজনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপর আসামিরা হলেন এমবি স্বপন কাজী, মো. শাওন হোসেন, ফালান মিয়া, মো. রুবেল, ফারুক হোসেন সুমন ও মো. লিটন মিয়া।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। এদিন রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার মো. ছাব্বির আহমেদ তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন প্রার্থনা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে ১৩ এপ্রিল আসামি ফালান, রুবেল, ফারুক ও লিটনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরদিন ১৪ এপ্রিল আসামি মঈন, স্বপন ও শাওনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

গত ১১ এপ্রিল সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। এতে সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি এবং ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়।