নববর্ষে শোভাযাত্রা হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ বাংলা নববর্ষ উদযাপনের শোভাযাত্রা এবার থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। 

শনিবার (৪ এপ্রিল) মাগুরা জেলার মহম্মদপুরে আধুনিক মানের জেলা ডাকবাংলোর ভিত্তিপ্রস্থ স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে ভবিষ্যতে নববর্ষ উদযাপনের জন্য বৈশাখী শোভাযাত্রা নামে অনুষ্ঠিত হবে।

নিতাই রায় বলেন, বাংলা নববর্ষ দীর্ঘদিন ধরে বাঙালির সংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এটি কোনো দলের নয়। কৃষক থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই এর আনন্দ উপভোগ করে।

অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ প্রশাসক আলিয়া আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ।




কাল থেকে যে ৩০ উপজেলায় দেয়া হবে হামের টিকা

ডেস্ক নিউজঃ হাম রোগ প্রতিরোধে আগামীকাল রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হাম টিকার কর্মসূচি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কথা জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘রোববার সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি। ১৮ জেলার ৩০ উপজেলাকে আমরা এ কর্মসূচির আওতায় আনছি। কারণ সেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি।’

যে ৩০ উপজেলায় দেয়া হবে হামের টিকা
বরগুনার পৌরসভা-সদর, ময়মনসিংহের সদর-ত্রিশাল-তারাকান্দা, রাজশাহীর গোদাগাড়ি, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ-বাকেরগঞ্জ, নওগাঁর পোরশা, যোশরের পৌরসভা-সদর, নাটোরের পৌরসভা-সদর, মুন্সীগঞ্জের পৌরসভা-সদর-লৌহজং-শ্রীনগর, মাদারীপুরের পৌরসভা-সদর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, ঝালকাঠির নলসিটি, শরীয়তপুরের জাজিরা, পাবনার পৌরসভা-সদর-ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া-বেড়া, চাঁদপুরের পৌরসভা-সদর-হাইমচর, কক্সবাজারের মহেশখালী-রামু, গাজীপুর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পৌরসভা-সদর-শিবগঞ্জ-ভোলাহাট, নেত্রকোনার আটপাড়া।




মালয়েশিয়া থেকে এলো ৩৪ হাজার টন ডিজেল

ডেস্ক নিউজঃ মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছে অয়েল ট্যাংকার জাহাজ ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’।

গতকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে জাহাজটি বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছে। জাহাজটি রাতেই চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসবে বলে জানিয়েছে জাহাজের স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনস।

এর আগে শুক্রবার দুপুর ২টায় ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে আসা ‘ইয়ান জিং হে’ নামের আরেকটি জাহাজ পদ্মা অয়েলের ডলফিন জেটি-৬-এ বার্থিং করে। ওই জাহাজেরও স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং।

প্রাইড শিপিং লাইনসের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ এরই মধ্যে কুতুবদিয়া এসেছে। এটিতে ৩৪ হাজার টনের কিছু বেশি ডিজেল রয়েছে। জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে এসেছে। এটি রাতেই বহির্নোঙরে আসবে। শনিবার জাহাজটি বার্থিং করার কথা রয়েছে।




কদমতলীতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর কেরানিগঞ্জের কদমতলী এলাকার গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের জোন কমান্ডার (ঢাকা দক্ষিণ) ফয়সালুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় এক নারীসহ আরও তিন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়াও নাঈম নামে এক কিশোর শ্রমিকসহ পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।

কেরানিগঞ্জ উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা বউ বাজার এলাকার ওই কারখানায় শনিবার বেলা পৌনে একটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিসের জোন কমান্ডার (ঢাকা দক্ষিণ) ফয়সালুর রহমান বলেন, টিনশেড কারখানায় আগুনের খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ইউনিট বাড়িয়ে সাতটি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটিতে গ্যাস লাইটার তৈরি করা হচ্ছিল। এর আগেও এই কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই স্থানীয়রা জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে খবর দিলে কেরানিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভায়।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের পরপরই ফ্যাক্টরির ভিতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকা প্রকম্পিত হয়। এতে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কারখানায় প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সাথে স্থানীয়রাও আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা করেন। তবে কী কারণে এ আগুনের সূত্রপাত তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। কারখানাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।




দেশে আড়াই লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত আছে

ডেস্ক নিউজঃ দেশে বর্তমানে আড়াই লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।

সচিবালয়ে জ্বালানি বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

তিনি জানান, মজুত করা জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ডিজেল- ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ। পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত থাকায় কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

এছাড়া, অকটেনের মজুত রয়েছে ৯ হাজার ২১ মেট্রিক টন, যা ব্যক্তিগত যানবাহন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট। পেট্রোলের মজুত ১২ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৬ মেট্রিক টন, ফার্নেস অয়েল ৫৮ হাজার ৭৩৬ মেট্রিক টন, কেরোসিন ৯ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন এবং মেরিন ফুয়েল ১ হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন।

যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমান মজুত দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধিদল।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এ সময় পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




ইলিয়াস আলীর লাশ ফেলা হয় ধলেশ্বরীতে

ডেস্ক নিউজঃ সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসছে বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী গুম নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেপ্তারের পর তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও রাষ্ট্রীয় অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা। জিজ্ঞাসাবাদে ইলিয়াস আলী গুম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে দায় চাপাচ্ছেন অন্যদের উপর। তবে তিনি বিএনপি নেতাকে গুম, নেপথ্য, কারা জড়িত এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টদের। ডিবি তার দেয়া তথ্য যাচাই বাছাই করছে।

শেখ মামুন খালেদ গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, গুম করার সংকেত আগেই দেয়া হয়েছিল। ইলিয়াস আলী টিপাইমুখ বাঁধ এবং পার্শ্ববর্তী একটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। এই বাঁধ ও চুক্তি ওই দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইলিয়াস আলী এর বিরুদ্ধে গিয়ে আন্দোলনও করেছিলেন। এরপরই সরকারের রোষানলে পড়েন। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ইলিয়াস আলীকে সরিয়ে দেয়া হয়। শেখ হাসিনা তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধান ও র‌্যাব’র মহাপরিচালকে গুমের মিশন বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা দেন। গুমের পুরো প্রক্রিয়া রেকি ও বাস্তবায়ন করে র‌্যাব-১। আর র‌্যাবকে সহযোগিতা করে ডিজিএফআইয়ের কিছু কর্মকর্তা। সবচেয়ে বড় ভূমিকা ও ইলিয়াস আলী গুম মিশনের নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান।

শেখ হাসিনা ঘটনার আগে পরে জিয়াউলের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন। সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর ২০১২ সালের ১৭ই এপ্রিল ইলিয়াস আলী ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে বনানী থেকে গুম করে নেয়া হয় র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে। সেখানে ইলিয়াসকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে মারধর করা হয়। গোয়েন্দাদের সূত্র জানিয়েছে, তুলে নেয়ার পর ১৭ থেকে ২০শে এপ্রিলের কোনো এক রাতে ইলিয়াস আলীকে হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে লাশ ফেলে দেয়া হতে পারে।

অন্যদিকে গুম হওয়া স্বামীর সন্ধান চেয়ে ২১শে এপ্রিল ইলিয়াসপত্নী সন্তানদের নিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। পরে শেখ হাসিনা জিয়াউল আহসানকে ফোন দিলে ইলিয়াস আলীকে চূড়ান্ত গুম করার ইঙ্গিত দেন ওই কর্মকর্তা।

এদিকে সরকারের নির্দেশনায় ইলিয়াস আলীকে গুম করা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে ফের সাতদিনের রিমান্ড চান তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। আদালত আবার তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন খালেদ জানান, ইলিয়াস আলীকে গুম করার জন্য কাজ করে ডিজিএফআই ও র‌্যাব’র একটি বিশেষ টিম। তাদের আগে থেকেই ব্রিফ করে তৈরি করা হয়েছিল। সার্বিকভাবে দিকনির্দেশনা মামুন খালেদ নিজেই দিয়েছিলেন।

ইতিমধ্যে আলোচিত এই গুম নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পর গুমের সঙ্গে জড়িত র‌্যাব ও ডিজিএফআইয়ের সকল সদস্যকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যদিও তাদের কেউ কেউ দেশত্যাগ করেছেন। কেউ আগেই গা-ঢাকা দিয়েছেন। কেউ অবসরে গেছেন। অনেকেই এখনো চাকরিতে বহাল তবিয়তে আছেন। মামুন খালেদ জানিয়েছেন, ইলিয়াস আলী গুম মিশনে ডিজিএফআইতে কর্মরত দু’জন মেজর প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিলেন। আর ইলিয়াস গুমের বিষয়ে অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষপদধারীরা অবগত ছিলেন।

গুমের স্বীকার বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী বেঁচে আছেন নাকি তাকে মারা হয়েছে এমন প্রশ্ন চৌদ্দ বছর ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে তার কর্মী, সমর্থক ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। কিন্তু সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কেউ দিতে পারেনি। রাষ্ট্রীয়ভাবে এ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তো উত্তর মিলেনি বরং ওই সময় ইলিয়াস আলী গুম নিয়ে কোনো তদন্তই হয়নি বলে দাবি করেছেন তার পরিবার ও বিএনপি। একটি পক্ষ আগেই ধারণা করেছিলেন ইলিয়াস আলীকে হত্যা করা হয়েছে। আর আরেকটি পক্ষ মনে করতেন ইলিয়াস বেঁচে আছেন এবং তিনি ফিরবেন। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের পর ডিজিএফআই নিয়ন্ত্রণাধীন আয়নাঘর খ্যাত বন্দিশালা থেকে গুমের শিকার অনেকেই মুক্তি পান। তখনো ইলিয়াস আলী ফিরেননি। এরপর থেকে তার ফিরে আসার আশা একেবারেই ক্ষীণ হয়ে আসে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদে ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনাও এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আমার স্বামী ইলিয়াস আলী কোথায়?

তদন্ত সূত্র জানায়, ঘটনার রাতে সন্ধ্যার পর থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ইলিয়াস আলী তৎকালীন শেরাটন হোটেলে (বর্তমান ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল) বসে মিটিং করছিলেন। রাত ১১টার দিকে তিনি নেতাকর্মীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তখন থেকেই তাকে অনুসরণ করছিল জিয়াউল আহসানের গুম স্কোয়াডের এক সদস্য। তিনি একটু পর পর ইলিয়াস আলীর গাড়ির অবস্থান জিয়াকে জানিয়ে দেন। মহাখালী পৌঁছার পর ইলিয়াস আলীর গাড়ি সরাসরি অনুসরণ শুরু করে জিয়ার টিম। মহাখালী থেকে বনানীর ২ নম্বর সড়কে যাওয়ার পর গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে থামানোর পর ড্রাইভার আনসারসহ ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করে এই টিমের সদস্যরা। তারপর সেখান থেকে নেয়া হয় র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে।




চার দিনের সফর শেষে ঢাকা ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজঃ চার দিনের সরকারি সফর শেষে নিজ জেলা পাবনা থেকে ঢাকায় ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে পাবনা ক্যাডেট কলেজ মাঠের হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারযোগে তিনি বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা দেন।

এর আগে শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে বঙ্গভবন থেকে রওনা হয়ে পাবনার শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে অবতরণের মাধ্যমে তার সফর শুরু হয়। সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তাকে স্বাগত জানান।

সফরকালে রাষ্ট্রপতি সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন এবং সুধীজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। দ্বিতীয় দিন তিনি সদর উপজেলার আরিফপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। এ ছাড়া তিনি পাবনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। 
সোমবার (৩০ মার্চ) রাষ্ট্রপতি ভবানীপুর মসজিদ পরিদর্শন করেন এবং নিজ বাসভবনে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটান। পাশাপাশি তিনি পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জেলার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত উদ্যোগ সম্পর্কে অবগত হন এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলো কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
এ ছাড়া ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দলও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সফরকালে তিনি পাবনা সদরের চরভবানিপুরে একটি শাহী জামে মসজিদের নির্মাণ কাজের অগ্রগতিও পরিদর্শন করেন।
পুরো সফরজুড়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 



ভারত ভিসা স্বাভাবিকীকরণ করবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ ভারত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওরা ভিসা স্বাভাবিকীকরণ করবে। আমি মনে করি দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য, জনগণ থেকে জনগণের সম্পর্ক, এমনকি মেডিকেল ভিসা স্বাভাবিক করার জন্য ভিসা সহজীকরণ মানে আগের জায়গায় ফিরে যাওয়া উচিত। তারা নিশ্চয়ই এটা করবে, আমাদের তারা বলেছেও।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা জানান।

মানব পাচার বন্ধের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় সব দেশেই বাংলাদেশের মানুষ বৈধভাবে যাক। তবে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ধরা জরুরি। লিবিয়াসহ সব দেশেই লোক যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমস্যাটা হচ্ছে অসাধু লোকেরা সুযোগ নিয়ে লাভের জন্য মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করে; সরকার সেটিই বন্ধ করতে চায়।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বিএনপি সরকার এখন বাংলাদেশে ক্ষমতায় এসেছে। নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারাই (ভারত) বলেছে, নতুন করে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়।




হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশি ৬ জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলো ইরান

ডেস্ক নিউজঃ মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশের ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অবশেষে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। 

বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিল ইতিমধ্যে বাংলাদেশি জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করেছে। বর্তমানে আটকে থাকা এই ছয়টি জাহাজকে নিরাপদ পরিবেশে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ইরান সরকার অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ও একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

জাহাজে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদী এই সৌজন্যমূলক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বিষয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তার মতে, বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কেবল ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ যথেষ্ট নয়, বরং উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দায়ী পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে স্পষ্ট ‘নিন্দা’ জানানো প্রয়োজন ছিল বলে ইরান মনে করে।

সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইরানের একটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ভাইপ্রতিম দেশ। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, যেকোনো সংকটের সময়ে দুই দেশ সবসময় একে অপরের পাশে শক্ত অবস্থানে থেকে সহযোগিতা করবে। হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচলের এই অনুমতি পাওয়ায় বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে থাকা অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও কাটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল, যার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের এই জাহাজগুলোও সেখানে আটকা পড়ে।

বর্তমানে জাহাজগুলোর যাত্রা শুরুর প্রক্রিয়া তদারকি করছে ইরানের নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে যাতে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা ছাড়াই জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় পৌঁছাতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি ইতিবাচক প্রতিফলন। তবে রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদীর বক্তব্যে এটিও স্পষ্ট হয়েছে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ করে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তারা বাংলাদেশের কাছ থেকে আরও জোরালো সমর্থন ও সরাসরি নিন্দা প্রস্তাব আশা করছে।