১২ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯১ ফ্লাইট বাতিল

ডেস্ক নিউজঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

যার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১১ মার্চ) মোট ২৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানায়, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি এবং ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২ টি ফ্লাইট বাতিল হয়।

আজ বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে– কুয়েত এয়ারের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ, ইউএই) ৪টি, গালফ এয়ারের (বাহরাইন) ২টি, কাতার এয়ারওয়েজের (কাতার) ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের (ইউএই) ৪টি, জাজিরা এয়ারের (কুয়েত) ৪টি, ফ্লাইদুবাইয়ের (ইউএই) ৪টি।

সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সর্বমোট বাতিল করা ফ্লাইটের সংখ্যা ৩৯১টি।




১৬ মার্চ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৬ মার্চ খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায থেকে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারা দেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন করা হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রী মূল কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই দিনে দেশের আরও ৫৪টি জেলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে এই কর্মসূচির সূচনা করবেন।’

চার বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয় করবে সরকারের চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়: পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘এবারের খনন কর্মসূচিতে যান্ত্রিক এক্সকাভেটরের চেয়ে মানুষের শ্রমকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কাজের অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সাধারণ শ্রমিকদের মাধ্যমে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং হাইস্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও এই জাতীয় কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চান সাধারণ মানুষ এবং শ্রমিকরা সরাসরি এই কাজের সুফল ভোগ করুক। এটি একটি জনবান্ধব রাজনৈতিক অঙ্গীকার।’

অতীতে খাল খনন প্রকল্পের নামে অর্থ লোপাটের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আমরা জনসম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছি। যেহেতু মাঠ পর্যায়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সরাসরি তদারকি করবেন এবং শ্রমনির্ভর পদ্ধতিতে কাজ হবে, তাই অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।’




রাজধানী ঢাকায় বাড়তে শুরু করেছে গরমের তীব্রতা

আবহাওয়া ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকায় সকাল থেকেই গরমের প্রভাব আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও বুধবার (১১ মার্চ) সকালের দিকে আকাশ কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন ছিল, তবে তাপমাত্রার পারদ গতকালের চেয়ে ঊর্ধ্বমুখী। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আজ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আজ সকাল ৭টায় প্রকাশিত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার বিশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয় যে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৬ শতাংশ, যার ফলে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে যে, আজ দুপুর পর্যন্ত ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এই সময়ে পশ্চিম অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে মৃদু বাতাস বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাতাসের গতি কম থাকায় এবং আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে যে মনোরম আবহাওয়া ছিল, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা গরমের তীব্রতায় রূপ নিতে পারে। আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আজ সারাদিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আজকের দিনপঞ্জি অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ১১ মিনিটে। বসন্তের এই সময়ে তাপমাত্রার এমন পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ গরমের অনুভূতি বেশি হওয়ায় জনজীবনে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে আর্দ্রতা বেশি থাকায় বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে নগরবাসীকে বাড়তি সচেতনতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দুপুরের পর আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলে রোদের তেজ আরও বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া চিত্রের বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হচ্ছে।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের এই পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন এবং বাতাসের গতিপ্রকৃতি আগামী কয়েক দিন একই রকম থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রতিনিয়ত পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আপডেট প্রদান করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বৃষ্টিপাতের কোনো পূর্বাভাস না থাকায় গরমের এই ধারা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।




আগামী মাসের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আগামী মাসের মধ্যে আমরা কৃষক ভাইদের কাছেও কৃষক কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।’

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় পাশে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আরও কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তার মধ্যে যেগুলো আমাদের প্রায়োরিটি প্রয়োজন ছিল, সেগুলোর মধ্যে আরেকটি আছে কৃষক কার্ড। সেই কৃষক কার্ডের কাজও আমরা শুরু করেছি ইনশাআল্লাহ। আজকের এই অনুষ্ঠানে আমরা যেভাবে ৩৭ হাজার নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি, ঠিক একইভাবে আগামী মাসের মধ্যে আমরা কৃষক ভাইদের কাছেও কৃষক কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের কৃষক ভাইদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে তাদের কৃষি ঋণ মওকুফ করবো। আল্লাহর রহমতে আমরা গত সপ্তাহে সেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সরকারের পক্ষ থেকে মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে সুদসহ। এইভাবে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের মাধ্যমে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। যেই প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের মাধ্যমে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে, সেই প্রতিশ্রুতিগুলো আমরা ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে যে কোনো মূল্যে পূরণের চেষ্টা করব।




ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধনের দিনেই অ্যাকাউন্টে এসেছে টাকা

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনের আগেই উপকারভোগীদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার টাকা জমা হওয়া শুরু হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে এই প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালীন কড়াইল বস্তির নিম্নআয়ের বাসিন্দাদের আনন্দ করতে দেখা গেছে।

অনেকের মুঠোফোনেই অর্থ জমা হওয়ার সরকারি বার্তা পৌঁছানোর পর অনুষ্ঠানস্থলে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আসন্ন ঈদের আগে সরাসরি রাষ্ট্রীয় এই আর্থিক সহায়তা পেয়ে অনেক অসহায় মানুষের চোখে পানি চলে আসে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব ছাড়াই এই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসা সাধারণ মানুষ এই সহায়তার টাকা নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। কেউ এই অর্থ দিয়ে জরুরি ওষুধের ব্যয় মেটানোর স্বপ্ন দেখছেন, আবার কেউ সামান্য কিছু সঞ্চয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্বচ্ছ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবার চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি টাকা জমা হওয়ায় সুবিধাভোগীদের আর কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হতে হচ্ছে না, যা প্রান্তিক পর্যায়ে জনতুষ্টি বাড়িয়েছে।

সরকার এই মানবিক কর্মসূচিটি বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়ন করছে। মাঠ পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দুস্থদের তথ্য যাচাই করে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রকৃত হকদাররা যাতে কোনো হয়রানি ছাড়াই সরকারি এই সুবিধা পান, তা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগটি দরিদ্র পরিবারের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। কড়াইল বস্তিসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা এই অর্থ সহায়তাকে তাদের জন্য বড় এক স্বস্তি হিসেবে দেখছেন।

বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এই আড়াই হাজার টাকা সাধারণ মানুষের আনন্দকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরীক্ষামূলক পর্যায়ের এই সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে কর্মসূচির পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।




ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন বনানীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

এদিন সকালে টিএন্ডডি মাঠে জড়ো হন নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের অনেকের মুঠোফোনেই টাকা জমা হওয়ার সরকারি বার্তা পৌঁছেছে এরইমধ্যে। ঈদের আগে রাষ্ট্রীয় অর্থ সহায়তায় আনন্দ অশ্রু তাদের চোখেমুখে।

এদিন সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেন।

এ কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে দেশের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবার মাসিক ভাতা পাবেন।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, পাইলটিং কর্মসূচির আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন বা ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রথম পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়।




সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু

ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বড় পরিসরে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন। আজ সোমবার ফজরের নামাজের পর বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে বাহিনীর সদস্যরা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অতীতে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ কারণে তারা অভিযানে কৌশল অবলম্বন করছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার মো. রাসেল আজ সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যৌথ বাহিনীর চার হাজার সদস্য অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অভিযানের বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

আজ সকালে জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রবেশ ও বাহিরের পথগুলোতে বসানো হয় তল্লাশিচৌকি, যাতে অভিযান শুরুর পর কেউ পালিয়ে যেতে না পারে।

গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করে র‍্যাব। এতে প্রধান আসামি করা হয় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে। মামলায় ইয়াসিন, নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় ২০০ জনকে।

জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় তা হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের ‘নিরাপদ আস্তানা’। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনো পাহাড় কেটে চলছে প্লট-বাণিজ্য। আর এই বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকাটিতে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে এসব সন্ত্রাসী।

পুলিশ ও জঙ্গল সলিমপুরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকাটিতে দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন, অপর পক্ষে রোকন উদ্দিন।

ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ইয়াসিন নিজেকে বিএনপি নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর অনুসারী দাবি করে আসছেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে তাঁর কোনো অনুসারী নেই। ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন।




এবার মির্জা আব্বাসকে ‘গালি’ দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে গালি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, ‘তুমি কোন ….. আব্বাস, তুমি আসছো এখানে মামলা করতে। তোমাকে গোনার টাইম নাই।’

রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে বরিশাল নগরের হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ্য করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘সভ্য হতে শিখুন। আমরা সভ্য সমাজে বসবাস করি। অসভ্য আচরণ করবেন না। অসভ্য আচরণ যদি করেন, কীভাবে আপনাদের সভ্য করতে হয়, এটা আমাদের ভালো করে জানা আছে।’

এর আগে আজ রবিবার সকালে মির্জা আব্বাসকে ভয়ভীতি দেখানো ও মানহানির অভিযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। রাজধানীর রমনা থানার বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে মামলা দায়েরের আবেদন করেন। মামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়।

এ প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আজকে আমার নামে একটা মামলা হলো। মানহানির মামলা। যে ব্যক্তি চাঁদাবাজি করে, এমন লোকের কোনো মান থাকতে পারে না। যার মান আছে তারই তো মানহানি হয়। মামলা করেছে আরেকজনকে দিয়ে। তিনি গোপনে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। এগুলোকে আমরা বলবো গুপ্ত।’

তিনি অতীতের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে আমাকে মাথা নিচের দিকে দিয়ে পা উপরে তুলে সারারাত নির্যাতন করেছিল। কখনো আপস করার চেষ্টা করি নাই। তুমি আব্বাস কোন …..। তুমি আসছো এখানে মামলা করতে। তোমাকে গোনার টাইম নাই। সিনিয়র সিটিজেন আছেন, সিনিয়র সিটিজেন থাকেন। আমরা সম্মান করতে চাই। কিন্তু নিজের সম্মান যদি ধরে রাখতে না পারেন যারা ইয়াং জেনারেশন, জেনজিরা আপনার পুরা সম্মানের চাদর খুলে বুড়িগঙ্গায় নিক্ষেপ করবে।’

বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। অনুষ্ঠানে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।




জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে পরিচালিত হবে মোবাইল কোর্ট

ডেস্ক নিউজঃ জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে এখন থেকে মাঠপর্যায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। রবিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেলের বাজারে সংকট তৈরির লক্ষ্যে অবৈধ মজুত করছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ সংকট নিরসনকল্পে ইতোমধ্যে সরকার যানবাহনভিত্তিক তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। তথাপি বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প/ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূলের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রয়, অধিক মুনাফার লোভে অতিরিক্ত মজুত, খোলা বাজারে বিক্রি, পাচারের প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এমতাবস্থায়, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি, খোলা বাজারে বিক্রি বন্ধ ও পাচার রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নিমিত্ত জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।




১৫ মার্চের মধ্যে সম্মানী পাবেন ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় নেতারা

ডেস্ক নিউজঃ নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে মাসিক সম্মানী পাবেন। একই সঙ্গে নির্বাচিত অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ধর্মীয় নেতারাও এই সম্মানীর আওতায় আসবেন। আগামী ১৪ মার্চ এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে ধর্মমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সেলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে গঠিত সেলের সভা শেষে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এমপি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ সেলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র নির্বাচনি ইশতেহারে প্রধান প্রতিশ্রুতি হিসেবে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করার বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। সরকারের এ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঈদুল ফিতরের পূর্বেই মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদানের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রথম পর্যায়ে পাইলট স্কিমের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা হতে একটি করে মোট ৪,৯০৮ টি মসজিদ নির্বাচন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা হতে ০২টি করে মোট ৯৯০ টি মন্দির, বৌদ্ধ বিহার রয়েছে এমন ৭২ টি উপজেলার প্রতিটি হতে দুইটি করে মোট ১৪৪ টি বৌদ্ধ বিহার নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া, গির্জা আছে এরূপ ১৯৮টি উপজেলার প্রতিটি হতে দুইটি করে মোট ৩৯৬ গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, এ পাইলট স্কিমের আওতায় নির্বাচিত মসজিদের ইমামকে পাঁচ হাজার, মুয়াজ্জিনকে তিন হাজার ও খাদেমকে দুই হাজার টাকা মাসিক সম্মানী দেওয়া হবে। নির্বাচিত মন্দিরের পুরোহিত পাঁচ হাজার ও সেবাইত তিন হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ পাঁচ হাজার ও উপাধ্যক্ষ তিন হাজার এবং গির্জার পালক বা যাজক পাঁচ হাজার ও সহকারী পালক বা যাজককে তিন হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হবে।

এছাড়া, প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাতে সংশ্লিষ্ট ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে এক হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে। অন্যান্য ধর্মের নির্বাচিত উপাসনালয়ের ব্যক্তিরা তাদের প্রধান একটি ধর্মীয় উৎসবে দুই হাজার করে উৎসব ভাতা পাবেন বলে জানান তিনি।

মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য স্থায়ীভাবে মাসিক সম্মানী প্রদানের লক্ষ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ধর্ম সচিবকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের খণ্ডকালীন বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে।

এছাড়া, মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় প্রধানদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।