লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন ড. ইউনূস

ডেস্ক নিউজঃ সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। এক সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন পাসপোর্টটি হস্তান্তর করেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টার পদমর্যাদার অনেকে ইতোমধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। তবে এখনো কয়েকজন উপদেষ্টা লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করেননি।

স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টার পদমর্যাদার মিলিয়ে প্রায় ২০ জন তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা সপ্তাহখানেক আগে পাসপোর্ট ছেড়েছেন। অন্যরাও ভোটের আগে পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন।

সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, বিদায়ী সরকারের বেশিরভাগ উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। বাকিরা যারা এখনো হস্তান্তর করেননি, এমন নয় যে তাদের কালকে এটি ছেড়ে দিতে হবে। একটা সময় পর তাদের বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদায়ী উপদেষ্টাদের মধ্যে লাল পাসপোর্ট হস্তান্তরকারীদের তালিকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও আছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মুক্তিযুদ্ধ ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

এ ছাড়া লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব (তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন)।

সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তাদের দায়িত্ব হস্তান্তরের পরপরই কূটনৈতিক পাসেপোর্ট ছেড়েছিলেন।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিনেও সচিবালয়ে গেছেন। সচিবালয়ে নিজ দফতরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিন বাহিনীর প্রধানেরা।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম (অব.)।

এর আগে সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি ও মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে চেয়ে সময় চেয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার আগ্রহের কথা জানিয়ে বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে চীনা দূতাবাস।

সূত্র জানায়, বুধবার ঢাকার চীনা দূতাবাস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের আগ্রহ জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আলাদাভাবে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার কয়েকদিন আগে অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিশ্বনেতাদের মধ্যে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং প্রথম শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা দেন। এছাড়া চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।




গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুস্থ গণতন্ত্রের প্রথম শর্ত: বিরোধীদলীয় নেতা

ডেস্ক নিউজঃ বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের প্রথম শর্ত। ভিন্নমত দমন নয়- স্বাগত জানানোই হোক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

বৃহস্পতিবার ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

পোস্টে জামায়াত আমির আরও বলেন- “মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্যই জুলাই।

পোস্টে আরও বলেন- “ফ্যাসিবাদের ১৭ বছরে বর্তমান সরকারি দল ও আমরা- উভয় পক্ষই স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে দমন-পীড়নের শিকার হয়েছি। আমরা সেই অন্ধকার সময়ে আর ফিরতে চাই না।”




আইনের শাসনই হবে শেষ কথা

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতিনিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোরজবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।

গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর এ বক্তব্য বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।

ভাষণে নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য, বাজারব্যবস্থা, রাষ্ট্র পরিচালনা, যোগাযোগব্যবস্থা, জুয়া, মাদক ও যানজট নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি, অথবা কাউকেই ভোট দেননি, এ সরকারের প্রতি সবার অধিকার সমান। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, দলমত ধর্ম দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই দেশে, এই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশি হিসেবে, আপনার আমার আমাদের প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান। তিনি আরও বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতা-গ্রহীতা, এই সরকার সবারই সরকার। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারাই এই সরকারের শক্তি।

তারেক রহমান বলেন, হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি। তাঁবেদার মুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের কারণেই দেশে আবার মানুষের অধিকার সম্মান এবং মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বার্তা দিতে চাই, মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান তথা দলমত-ধর্মবর্ণনির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, এই দেশ আমাদের সবার। প্রতিটি নাগরিকের জন্যই এই দেশকে আমরা একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চাই। একটি স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, সারা দেশে জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকেও বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে। সুতরাং, জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব রকমের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

বাজার ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ক্ষুদ্র মাঝারি কিংবা ছোট-বড়, সব ব্যবসায়ীর প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ এবং স্পষ্ট। বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা সাধারণ উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায়। সুতরাং, সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিংবা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হবে, এ ব্যাপারে আপনাদের যেকোনো ধরনের পরামর্শ কিংবা অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত। তিনি বলেন, সারা দেশে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায় এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকবেন। বিএনপি সরকার সবক্ষেত্রেই অনাচার অনিয়মের সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজান মাসে রোজাদাররা বিশেষ করে ইফতার, তারাবি, সাহরি এই সময়গুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে চান। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি। তিনি বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানজট প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন। হাটে মাঠে ঘাটে অফিস আদালতে জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই। জনজীবনের নানা ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ লাঘব করা না গেলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে না। রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। মানুষ তার নিজ জেলায় কিংবা নিজের বাসা-বাড়িতে থেকেও যাতে সহজভাবে সঠিক সময়ে অফিস আদালত ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সারা দেশে রেল যোগাযোগব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী এবং জনসাধারণের প্রতি কৃচ্ছ্র সাধনের আহ্বান জানানোর আগে আমি সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপির এমপিদের দিয়েই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি। বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভাতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না।

আমি আপনাদের সামনে বলেছিলাম, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপি সরকার মহানবীর ‘ন্যায়পরায়ণতার’ আদর্শ অনুসরণ করবে। আমি মনে করি, বিএনপির সংসদীয় দলের এসব সিদ্ধান্ত ‘ন্যায়পরায়ণতার’ আদর্শেরই প্রতিফলন।




‘দায়িত্ব যেহেতু পেয়েছি, ইনশাল্লাহ অনেক চমক রয়েছে’

ডেস্ক নিউজঃ তারেক রহমানের নতুন সরকারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর আগে ২০০১ সালে মন্ত্রিসভায় তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েই তিনি জানান, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে প্রবর্তন করাসহ আমূল পরিবর্তন আনা  হবে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ ভবনে শপথের পর রাতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এই মন্তব্য করেন তিনি।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। উই আর লিভিং ইন এ গ্লোবাল ভিলেজ। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেসে আনতে হবে। ইটস নো লঙ্গার এ লোকাল কমোডিটি, ইটস অ্যান ইন্টারন্যাশনাল কমোডিটি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ফোর্থ জেনারেশন ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনে ন্যানোটেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়োটেক এগুলিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার লিংকিংসগুলিকে আমাদের লক্ষ্য দিতে হবে। আমাদের টিভেট (টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং)-কে গুরুত্ব দিতে হবে। সর্বোপরি শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। বললাম না, ইটস অ্যান ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি। এটাকে আমাদের ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একটু অপেক্ষা করুন, নিশ্চয়ই দেখবেন। দায়িত্ব যেহেতু পেয়েছি, ইনশাল্লাহ অনেক চমক রয়েছে। শুরু হবে কয়েক দিনের মধ্যেই।’




সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় তিনি এই ভাষণ দেবেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার একযোগে প্রধানমন্ত্রীর এ ভাষণ সম্প্রচার করবে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও এ ভাষণ সম্প্রচার করবে।

এর আগে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বুধবার দুপুর থেকে সচিবালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে (মন্ত্রিপরিষদ ভবন) প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত দপ্তরে তিনি তার প্রথম কর্মদিবস শুরু করেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের পর আজ সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তারেক রহমান। বেলা ১১টার দিকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপর মন্ত্রিপরিষদের নতুন সদস্যদের নিয়ে আবারও স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তিনি।

সাভার থেকে ফিরে দুপুর সোয়া ১২টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আসেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি মন্ত্রিপরিষদ সদস্যসহ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দাপ্তরিক কার্যক্রমের শুরুতেই দুপুর সাড়ে ১২টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। বিকেল ৩টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। এটিই হবে নতুন সরকারের প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠক। এরপর বিকেল ৪টায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে তার।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই আয়োজনে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ৪৯ জন শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সবাইকে শপথবাক্য পাঠ করান।




ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুলকে অভিনন্দন জানালেন বুলবুল

ক্রীড়া ডেস্কঃ বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। নতুন এই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বিসিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘আমিনুল হকের মতো একজন স্বনামধন্য ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জাতীয় ফুটবল দলকে গর্বের সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি খেলোয়াড়দের বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা রাখেন। আমি বিশ্বাস করি, একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা বিভিন্ন খেলাধুলার উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন প্রতিমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে বিসিবি। যাতে দেশের সব স্তরে খেলাধুলার উন্নয়ন ও ক্রীড়াবিদদের জন্য ধারাবাহিক অগ্রগতি ও সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন আমিনুল। তবে তিনি হেরে যান জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী কর্নেল (অব.) মো. আবদুল বাতেনের কাছে। নির্বাচনে হারলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ক।




তিন বছরে তিন সরকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তিন বছরের ব্যবধানে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সরকারকে শপথ পড়িয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান। একই সঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্বে তার সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদেরও শপথ পড়ান তিনি।

এর আগে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারকে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।

ওই বছরের ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। ওই সরকারকেও শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

আর গতকাল তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করালেন।

ফলে ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬— পর পর তিন বছর তিনটি সরকারকে শপথ পড়ালেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।




সাভার স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ডেস্ক নিউজঃ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এদিকে প্রথম কর্মদিবস উপলক্ষে দুপুরে সচিবালয়ে যাবেন তারেক রহমান। বিকেলে সচিবালয়ে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে নবগঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক। একই দিনে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের (সচিব) সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তার।