তীব্র গরমে কর্মঘণ্টা হারানোর শঙ্কা, দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে ঢাকা

ডেস্ক নিউজ : দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়তে থাকায় সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চরম গরমের কারণে কর্মঘণ্টা হারানোর দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে ঢাকা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হলে আগামী কয়েক দশকে এই সংকট বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

‘বসবাসযোগ্য ভবিষ্যৎ: দক্ষিণ এশিয়ার শহরে চরম তাপের মধ্যে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি সুরক্ষার উপায়’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় তাপপ্রবাহের কারণে যে পরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হবে, তা প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ। এটি ওই সময় রাজধানীর মোট বার্ষিক কর্মঘণ্টার প্রায় ৩ শতাংশের সমান। অর্থাৎ প্রচণ্ড গরম শুধু মানুষের কর্মক্ষমতাই কমিয়ে দিচ্ছে না, উৎপাদনশীলতা ও অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ২০৫০ সালে এই ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৭ লাখ ৮ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ। আর ২০৮০ সালে কর্মঘণ্টা হারানোর পরিমাণ বেড়ে হবে প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমান। তখন তাপজনিত কারণে মোট কর্মঘণ্টা হারানোর হার ৭ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার আটটি বড় শহরের তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এসব শহরের মধ্যে রয়েছে ঢাকা, নয়াদিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাই, আহমেদাবাদ, সুরাট ও বারানসি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০৩০ সালে কলকাতায় প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার এবং নয়াদিল্লিতে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এই দুই শহরের তুলনায় ঢাকার ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও তাপপ্রবাহের প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে অতিরিক্ত গরমের কারণে দেশের অর্থনীতিতে আনুমানিক ১৩০ কোটি থেকে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় শূন্য দশমিক ৩ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশের সমান। বিশেষ করে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠলে এই ক্ষতির মাত্রা আরও দ্রুত বাড়তে থাকে।

বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় যে তাপপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে, তা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র। ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের ৭০ কোটির বেশি মানুষ এমন অঞ্চলে বসবাস করেন, যেখানে বছরে অন্তত একদিন বাইরের তাপমাত্রা মানুষের সহনক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে। আবার প্রায় ১২ কোটি মানুষ প্রতিবছর অন্তত এক মাস ধরে চরম তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হন। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি কর্মক্ষমতা ও জীবিকার ওপরও গুরুতর প্রভাব পড়ছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ইতিবাচক উদ্যোগেরও প্রশংসা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, পানিসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি এবং উন্নত কর্মপরিবেশে বিনিয়োগের জন্য ২০১৬ সালে চালু হওয়া ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড’ শিল্পখাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশে ২৭০টির বেশি কারখানা আন্তর্জাতিক লিড সনদ অর্জন করেছে। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের পোশাক খাতের রপ্তানিতে সর্বোচ্চ ৬৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হতে পারে।

তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ভারতের আহমেদাবাদের ‘হিট অ্যাকশন প্ল্যান’-এর কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, সমন্বিত প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং স্থানীয় প্রস্তুতির মাধ্যমে সেখানে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় প্রতি ১ ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে প্রায় ৫০ ডলারের সমপরিমাণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যায়।

এদিকে, জার্মান গবেষণা ও নীতি পরামর্শ প্রতিষ্ঠান অ্যাডেলফি গ্লোবালের পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কৃষি ও নির্মাণ খাতের শ্রমিকেরা বছরে গড়ে প্রায় ২৩ দশমিক ৭৫ কর্মদিবসের সমপরিমাণ কাজ হারাতে পারেন। বর্তমানে এই দুই খাতে কর্মঘণ্টা হারানোর হার ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন, কারণ তাঁদের অধিকাংশেরই স্বাস্থ্যবিমা, বেতনসহ ছুটি কিংবা আয়ের নিরাপত্তা নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, চরম তাপপ্রবাহ শুধু অর্থনীতি নয়, দেশের সামাজিক বাস্তবতাকেও নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কর্মঘণ্টা কমে যাওয়া, উৎপাদনশীলতা হ্রাস, স্বাস্থ্য ব্যয় বৃদ্ধি এবং আয় কমে যাওয়ার ফলে দারিদ্র্যের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতায় শ্রমিক সুরক্ষা, তাপসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।




রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় এবার হেভিওয়েট তিন নাম

ডেস্ক নিউজঃ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। 
আলোচনায় থাকা তিন নেতা হলেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান এবং দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
দলীয় সূত্রের দাবি, শনিবার (১ আগস্ট) দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি উত্থাপিত হতে পারে। তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে নাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে অতীতের মতোই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর সিদ্ধান্তের দায়িত্ব অর্পণের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
দলীয় আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনার পাশাপাশি সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা, কূটনৈতিক ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। এমন একজনকে মনোনয়নের চিন্তা করা হচ্ছে, যিনি অভিজ্ঞ, গ্রহণযোগ্য এবং বিতর্কমুক্ত হিসেবে বিবেচিত।
এ প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খানের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা, নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা এবং বিজ্ঞান, পরিকল্পনা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তার পক্ষে ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে সূত্রগুলোর দাবি।
অন্যদিকে হাফিজ উদ্দিন আহমেদের দীর্ঘ সাংবিধানিক ও সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ক্ষেত্রে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ বর্তমানে শূন্য। ভবিষ্যতে কে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে বেছে নেওয়া উচিত, যার বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য কোনো নেতিবাচক রেকর্ড বা দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং যিনি রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তার মতে, অবসরপ্রাপ্ত কোনো জ্যেষ্ঠ বিচারপতির মতো অভিজ্ঞ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কাউকে এ পদে বিবেচনা করলে রাষ্ট্র ও সরকার উভয়ই উপকৃত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও এমন একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে বেছে নেওয়া উচিত, যার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে এবং যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই।




কক্সবাজার সৈকতে প্যারাসেলিং থেকে ছিটকে পড়ে প্রাণ গেল পর্যটকের

ডেস্ক নিউজঃ কক্সবাজারের দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে সমুদ্রে পড়ে অক্ষর শৌভিক রায় (৩১) নামে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি খুলনা সদরের বানিয়াখামার এলাকার শেখর রায়ের ছেলে।

শনিবার (১ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে কলাতলীর দরিয়ানগর এলাকায় ‘ফরিদের প্যারাসাইলিংয়ে’ এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শৌভিক রায় খুলনা জেলার বাসিন্দা। তিনি ৯ সদস্যের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, প্যারাসেইলিং চলাকালে হঠাৎ নিরাপত্তা হারনেস থেকে শৌভিক ছিটকে সমুদ্রে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে ‘সি-স্পোর্টস’ প্যারাসাইলিং কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর নিহতের স্বজন ও সফরসঙ্গীদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেইলিং করার সময় সমুদ্রে পড়ে ওই পর্যটক গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মোহাম্মদ সহেল বলেন, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে শৌভিককে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং পরিচালিত হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো নজরদারি নেই। একের পর এক দুর্ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। এর আগে আরও কয়েকটি দুর্ঘটনার পর প্রশাসন প্যারাসেলিং বন্ধে নোটিশ দিলেও পক্ষকাল না যেতেই রহস্যজনকভাবে ফের চালু হয় অনিরাপদ এ পর্যটন বিনোদন।




জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩, শপিংমলে আটকা বহু মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি নিশ্চিত করেছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ এখনও বিভিন্ন ভবনের ধ্বংস্তূপে অনুসন্ধান তৎপরতা জারি আছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পের পর কুমামোতো শহরের একটি শপিংমলে উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, মঙ্গলবার রাতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান, এমনকি এখনও বিভিন্ন ধ্বংস্তূপের তলায় আটকা পড়া লোকজন উদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করছেন। আমাদের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে, কারণ এখন প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। আটকা পড়া লোকজনকে উদ্ধারে আমরা আমাদের সমস্ত সক্ষমতা প্রয়োগ করবো।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে কিউশু দ্বীপের অভ্যন্তরীণ এলাকায় ৭.১ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, মনে হচ্ছিল শক্ত মাটি হঠাৎ করেই নড়তে শুরু করেছে।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শপিংমল থেকে প্রায় ৩.৫ কিলোমিটার দূরের একটি দোকানের ভেতরে ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে শিশুরা আতঙ্কে কাঁদছে এবং দোকানের পণ্যসামগ্রী মেঝেতে ছিটকে পড়েছে।

সাগরের অগভীর অংশে ভূমিকম্প হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে এটির ব্যাপক কম্পন অনুভূত হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুমামোতো জেলা।

আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ভূমিকম্পটি সম্ভবত ২০১৬ সালের ভূমিকম্পের পর অক্ষত থাকা একটি ফল্টের কারণে ঘটেছে।

এর আগে, চলতি বছরের এপ্রিলে, দুই দিনের ব্যবধানে ৬.৫ এবং ৭.৩ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যাতে ২৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।




শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সোমবার বিকালে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত শিশু-কিশোর ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। কিন্তু এই কাজটি আমরা তখনই সফলভাবে করতে পারব, যখন তোমরা আজকে যারা গ্যালারিতে বসে আছো এবং যারা খেলার মাঠে পুরস্কার পেয়েছ, তোমরা নিজেদেরকে আগামী দিনের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। এখন পড়ার সময় মন দিয়ে পড়তে হবে, একইভাবে মন দিয়ে খেলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছোট্ট বন্ধুরা সঠিকভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের দিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাকিয়ে আছে, বাংলাদেশ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরা যদি নিজেদের গড়ে তুলতে পারো, আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এই কাজ আমরা হয়তো শুরু করেছি। কিন্তু বাংলাদেশ গড়ার কাজ তোমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় বিশ্বাস রেখে বলেন, ‘আজ প্যান্ডেল ও গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার শিশুদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের সফল ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্থপতি, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার, সাঁতারু ও টেনিস খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে, যারা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই ছোট্ট বন্ধুরা তোমরা শক্তভাবে নিজেদের আত্মগঠনে মনোযোগ দাও।’

ছোট্ট শিশুদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ছোট্ট বন্ধুরা, তোমাদের সকলের কাছে আমি একটি সহযোগিতা চাই। এই দেশটা আমাদের সকলের দেশ। এই দেশের আলো, এই দেশের বাতাস, এই দেশের পরিবেশ আমরা সকলে মিলে যদি ঠিক রাখি, তাহলে আমরা একটি সুন্দর পরিবেশ গড়তে পারব। তোমরা নিশ্চয়ই দেখেছো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তোমার বাসার আশেপাশে অনেকে বিভিন্ন রকম ময়লা, প্লাস্টিকের বোতল ফেলে যায়। কেউ এগুলো ফেলছে, সেটি পুকুর হোক, নদীনালা হোক, বাসার আশেপাশে এখন থেকে যদি এরকম কোনো দৃশ্য তোমাদের চোখে পড়ে, প্লিজ তোমরা তাকে বারণ করবে। দরকার হলে সেই ময়লাটি তোমরা তুলে নিয়ে গিয়ে যেইখানে ময়লা ফেলার জায়গা, নির্দিষ্ট সেই জায়গায় ময়লা ফেলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটি কাজ তোমাদের করতে হবে, কেউ যদি পুকুর নদীনালায় ময়লা ফেলে, যদি তুমি পারো’ বন্ধুদেরকে সাথে নিয়ে সেই ময়লাটিকে পরিষ্কার করবে। যাতে আমাদের পরিবেশটি আমাদের নদীর পানি, পুকুরের পানি যাতে পরিষ্কার থাকে, যাতে সেখানে মানুষ সুন্দরভাবে হাঁটাচলা করতে পারে বা মানুষ সেখানে বসতে পারে।’

শিশুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিবছর চেষ্টা করবে, তোমার বাড়ির আশেপাশে হোক, তোমার স্কুলের আশেপাশে হোক অথবা যেখানে তুমি সুবিধা মনে করো সেইখানে একটি করে গাছ লাগাতে হবে। গাছ যদি আমরা লাগাতে পারি, আমাদের পরিবেশটা সুন্দর হবে, পরিষ্কার হবে। আমরা সকলে মিলে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব।’

কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা প্রকৃতির প্রতি বিভিন্ন পশুপাখির প্রতি অত্যন্ত নির্দয় হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমার সকল ছোট বন্ধুদের আমি অনুরোধ করব, আসো আমাদের আশেপাশে যত কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল যত রকম পশুপাখি আছে, আমরা চেষ্টা করব, এই যে প্রকৃতির, আল্লাহ দেওয়া বিভিন্ন জীব, পশুপাখি এদের যত্ন নেওয়ার। যত্ন যদি নিতে না পারি, অন্তত আমরা চেষ্টা করব, তাদের যাতে কোনো প্রকার ক্ষতি হতে না পারে।’

বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। শিশুরা যে ক্ষেত্রে নিজেদের বিকশিত করতে চায়, তা পড়ালেখা, খেলাধুলা, গান বা ছবি আঁকা যাই হোক না কেন সরকার তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’

উপস্থিত সাংবাদিক এবং সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রায়ই নানামুখী রাজনৈতিক ও সামাজিক খবর লিড নিউজ হিসেবে প্রাধান্য পায়। তবে শিশুরা এবং তাদের এই আয়োজনই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রকৃত ভবিষ্যৎ। তাই আগামীকালের পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদে শিশুদের এই উদ্যোগ ও তাদের সাফল্যকে যেন অগ্রাধিকার দিয়ে প্রচার বা ‌‘লিড নিউজ’ করা হয়, এটা আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান থাকল।’




শাপলা চত্বর হত্যাকান্ডটি ছিল ‘গণহত্যা’: চিফ প্রসিকিউটর

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে জেনোসাইড বা গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

সোমবার (২৭ জুলাই) ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ মিলে একটি নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালায়। তবে ঘটনার পর এ নিয়ে করা মামলাটির কোনো তদন্তকাজ চালানো হয়নি। বহু চেষ্টা করার পরও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো তদন্ত বা বিচার পায়নি হেফাজতে ইসলাম। অবশেষে এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বভার নেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচারের সম্মুখীন করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেননা শিশুসহ আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এটি জেনোসাইড ছিল। দেশের ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড কখনো ঘটেছে বলে জানা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোট ৬১ জন মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুটি ঘটনার ওপর আমরা অভিযোগ দিয়েছি। একটি হলো শাপলা চত্বরে ৫ মে মধ্যরাতে নারকীয় ঘটনায় ৩২ জন শহীদ, আরেকটিতে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জন মানুষকে হত্যা করার ঘটনা। এ সবকিছুই জেনোসাইড ছিল। এই দুটি অভিযোগে আমরা ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছি। তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।’

এর আগে শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর শাপলা চত্বরের ঘটনাকে জেনোসাইড আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অভিযানের আগে মন্ত্রী ও প্রশাসনের একটি বৈঠকে গ্রেনেড ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিশুসহ হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয় বলে আদালতে অভিযোগ উপস্থাপন করেন তিনি।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ওই ঘটনা নিয়ে প্রথমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। তিনি হেফাজতের নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে অভিযোগটি দাখিল করেন। প্রাথমিক অভিযোগে ২১ জনকে আসামি করা হলেও তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন আসামির সংখ্যা বাড়িয়ে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।

শুনানি শেষে শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার থাকা ১০ আসামিকে পরবর্তী শুনানিতে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।




গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল সাগর, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

আবহাওয়া ডেস্কঃ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূলে অবস্থানরত মৌসুমী নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তবে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, গভীর নিম্নচাপটি সকাল ৬টায় উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূল এলাকায় অবস্থান করছিল। এর কেন্দ্র ছিল ২১ দশমিক ২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। সে সময় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২২০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, গভীর নিম্নচাপটি আর শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে এর প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় এলাকায় বাতাসের গতি তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে নিম্নচাপের কেন্দ্রের আশপাশে সাগর উত্তাল রয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।




গ্যাসের জন্য হাহাকার

ডেস্ক নিউজঃ মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর এক সপ্তাহ ধরে দেশে গ্যাস-সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ক্রমে উৎপাদন কমতে থাকা গ্যাসের সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে। ফলে শিল্প উৎপাদন কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে অপেক্ষমাণ গাড়ির সারি বাড়ছে। বাসাবাড়িতে গ্যাস না পেয়ে নানা ধরনের ভোগান্তিতে এবং অতিরিক্ত খরচের বোঝা নেমে এসেছে নাগরিক জীবনে। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে।

দেশে গত প্রায় এক দশক ধরে চাহিদার বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ কমে আসছে। ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু করেও ঘাটতি কমানো যায়নি। ফলে এক যুগে গ্যাসের চাহিদা, অনুসন্ধান, উৎপাদন ও সরবরাহে সমন্বয় করতে না হওয়ায় গত চার-পাঁচ বছর ধরে গ্যাসভিত্তিক শিল্প ‘ন্যূনতম বা সীমিত সক্ষমতা’ ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় উৎপাদনে বা এলএনজি আমদানিতে বা গ্যাসে রূপান্তর প্রক্রিয়ায় হঠাৎ সমস্যা দেখা দিলে সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। গত সপ্তাহে পেট্রোবাংলার এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার বা ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর ফের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। টার্মিনালটির এ ত্রুটি সারিয়ে গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে আরও ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন পেট্রোবাংলার একাধিক কর্মকর্তা। অর্থাৎ এ কয়দিন ভোগান্তিও অব্যাহত থাকবে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত পেট্রোবাংলার ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গত সপ্তাহে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে। এতে টার্মিনালের গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ও একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর থেকেই টার্মিনালটি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট হলেও দুর্ঘটনার আগেও সরবরাহ ছিল প্রায় ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট। এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে; অর্থাৎ চাহিদার প্রায় অর্ধেক ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সব খাতেই।

কবে কমবে দুর্ভোগ

পেট্রোবাংলা এবং রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির একাধিক সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ মেরামতের কাজ করছেন। তবে এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কবে পুরোপুরি টার্মিনাল চালু হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, আগামী পাঁচ থেকে আট দিনের মধ্যে একটি বয়লার চালু করা সম্ভব হলে আংশিকভাবে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে টার্মিনালটির পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মেরামতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমা ও কারিগরি যাচাইয়ের কিছু প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে।

রান্নার চুলা বন্ধ কিংবা হিমশিম অবস্থা

গ্যাস-সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। রাজধানীর মগবাজার, রামপুরা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, কলাবাগান, ধানমন্ডি, বাড্ডা, রামপুরা, বাসাবো, কাফরুলসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় পাইপলাইনের গ্যাস আসছে না। কোথাও গভীর রাতে সামান্য চাপ ফিরে এলেও সকালে আবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কোথাও সারা দিন নিম্নচাপে মিলছে গ্যাস। আর কোথাও একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না।

ফলে অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন কুকার কিংবা রাইস কুকারে রান্না করছে। এলপিজি ব্যবহার করছে কেউ কেউ। নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার আবার মাটির বা ইটের অস্থায়ী চুলা তৈরি করে লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে একদিকে বাড়ছে ভোগান্তি, অন্যদিকে বেড়েছে ব্যয়। বাইরে থেকে খাবার কিনতে হওয়ায় সীমিত ও নির্ধারিত আয়ের পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

শিল্পে উৎপাদন নেমেছে প্রায় ৩০ শতাংশে

গ্যাস-সংকটের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতে। বিশেষ করে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের গ্যাসনির্ভর তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটওয়্যার ও অন্যান্য কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, অনেক কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক সক্ষমতার মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। কোথাও কোথাও ডিজেল বা এলপিজি ব্যবহার করে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দৈনিক ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেত তিতাস। বর্তমানে তা কমে প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায় সরবরাহ অগ্রাধিকার দেওয়ায় শিল্প ও আবাসিক খাতে সংকট আরও বেড়েছে।

সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষা

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও ভোগান্তি চরমে উঠেছে। রাজধানী থেকে জেলা শহর পর্যন্ত অনেক স্টেশন দিনের বড় অংশ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। যেসব স্টেশন খোলা রয়েছে, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা।

সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, স্বাভাবিকভাবে একটি স্টেশন পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ১৫ পিএসআই গ্যাসচাপ প্রয়োজন। অথচ অনেক এলাকায় বর্তমানে চাপ নেমে এসেছে ৪ থেকে ৫ পিএসআই, কোথাও আবার তারও নিচে।

বাড়তে পারে লোডশেডিং

গ্যাস-সংকটের প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট কমে গেছে। এতে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমেছে।

পিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, গত কয়েক দিনে বৃষ্টি ও সরকারি ছুটির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় বড় ধরনের লোডশেডিং এড়ানো গেছে। তবে তাপমাত্রা বাড়লে এবং শিল্পকারখানা পুরোদমে চালু হলে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।




পানির পাইপলাইনে বিষ প্রয়োগ ‘সাবভার্সিভ অ্যাক্টিভিটিজ’: এসপি মাসুদ

ডেস্ক নিউজঃ রাস্তা কেটে দেওয়া বা ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো সম্পূর্ণ ‘অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম’ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেছেন, দেশের ও সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টে নিয়মিত মামলা রুজু করা হচ্ছে।

রোববার (২৬ জুলাই) রাতে মোবাইল ফোনে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক মন্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, আলীনগরের যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ মিলিয়ে প্রায় তিনশ সদস্য রয়েছেন। তাদের জন্য পাশের ডিপটিউবওয়েলের সংযোগস্থলে বিষ বা বিষজাতীয় কিছু পুশ করেছিল দুর্বৃত্তরা। পরে অপারেটর সকালে পানি ও টাংকি চেক করতে গিয়ে দুর্গন্ধ পেয়ে সবাইকে সতর্ক করেন।

তিনি আরও বলেন, রাস্তা কেটে দেওয়া বা ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো এই ধরনের বারবার ঘটনা সম্পূর্ণ অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম (সাবভার্সিভ অ্যাক্টিভিটিজ)। দেশের ও সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।




শিগগিরই বাস্তবায়িত হচ্ছে নবম পে-স্কেল, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের প্রস্তুতি

ডেস্ক নিউজঃ অর্থনৈতিক চাপ, রাজস্ব ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সতর্ক অবস্থানের কারণে বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নে সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত না হওয়ায় নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মিলেনি। তবে আমলাতান্ত্রিক ও আইনি জট কেটে সচিব কমিটির সুপারিশ সমন্বয় করা সম্ভব হলে দ্রুতই আসতে পারে বড় ঘোষণা।

জানা যায়, আর্থিক সক্ষমতা ও সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য চাপের কথা বিবেচনায় নিয়ে নতুন পে স্কেল অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে সরকার সে পথে না হেঁটে আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার আগেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ঢাকা সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে সংস্থাটি বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত আরো দুই বছর স্থগিত রাখার পরামর্শ দেয়। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারের রাজস্ব ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে, যা বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

আগামী অক্টোবরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার আগেই গেজেট প্রকাশ করে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় সরকার বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

আর আইএমএফ চায় বিষয়টি অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষমাণ থাকুক, যাতে বার্ষিক সভায় এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যায়। পাশাপাশি নভেম্বরে সম্ভাব্য নতুন মিশন ঢাকায় এসে পে স্কেল ও নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আরও গভীরভাবে আলোচনা করতে পারে। কিন্তু সরকার বিষয়টি দীর্ঘায়িত করতে আগ্রহী নয়।

অর্থনীতিবিদ ও সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, মূলত দুই প্রধান চ্যালেঞ্জের কারণে নতুন পে স্কেলের চূড়ান্ত অনুমোদন পিছিয়ে যাচ্ছে:

ক. অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকার ফান্ড সংকট: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ইতোমধ্যে সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশনসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নবম পে-স্কেল পুরোপুরি কার্যকর করতে বাড়তি আরও ৪৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন, যা দেশের বর্তমান রাজস্ব ঘাটতির মাঝে বড় চ্যালেঞ্জ।

খ. আইএমএফের শর্ত ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে জানিয়েছে, একসঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ বাজারে এলে নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে মূল্যস্ফীতি আরও উসকে যেতে পারে। এছাড়া রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে সরকারের ঋণের বোঝা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়বে।

তবে নতুন পে স্কেলের প্রস্তাবনা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অর্থ বিভাগ।

চলতি সপ্তাহের শেষদিকে কিংবা আগামী সপ্তাহের যেকোনো মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।

এরই অংশ হিসেবে গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সচিব কমিটির সুপারিশ, আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়ন কৌশল এবং আইএমএফের আপত্তির বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, পে স্কেলসংক্রান্ত ফোকাল কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।