জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

ডেস্ক নিউজ : জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ৯৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ভোটে ড. খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পেয়েছে ৯১ ভোট। এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

এই সাফল্য বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা নয়; বরং এটি বহুপাক্ষিক কূটনীতি, শান্তি, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেশের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক অর্জনের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সীমিত সময়ে বাংলাদেশের সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং প্রার্থী ড. খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা—এই তিনটি বিষয় মূল ভূমিকা পালন করেছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় নির্বাচনের জন্য মাত্র তিন মাসের মতো সময় অবশিষ্ট ছিল। সেই সীমিত সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রার্থিতা নিয়ে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে বিজয়ের ব্যাপারে প্রায় নিশ্চিত আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদে বাংলাদেশের নির্বাচনের বিষয়টি স্মরণ করেন। সেই সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে সীমিত সময়ে পরিচালিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ তৎকালীন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী জাপানকে পরাজিত করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। এই নির্বাচনেও বাংলাদেশ সাফল্য অর্জন করতে পারবে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তখনই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।

এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সময়ের সীমাবদ্ধতা। মাত্র তিন মাস সময় হাতে পেয়ে বাংলাদেশকে এমন এক বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রচারণা পরিচালনা করতে হয়েছে, যা সাধারণত কয়েক বছরব্যাপী প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। বাংলাদেশ কার্যত মাত্র তিন মাসের প্রচারণার মধ্যেই পাঁচ বছরের সমপরিমাণ কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পন্ন করেছে।

বাংলাদেশ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনজিএ সভাপতি পদে নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেও ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে দেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই পূর্ণমাত্রার কূটনৈতিক প্রচারণা শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির সুযোগ না থাকায় এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ এবং বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক ফোরামে অত্যন্ত সক্রিয় ও কৌশলগত প্রচারণা চালিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনে সফল হয়েছে।

অপরদিকে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস ২০১৬ সালেই তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে এবং গত এক দশক ধরে ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়েছে। বিশেষ করে গত এক বছরে দেশটি অত্যন্ত বিস্তৃত ও সুসংগঠিত কূটনৈতিক প্রচারণা পরিচালনা করেছে।

জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এত অল্প সময়ে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচারণা পরিচালনা নিঃসন্দেহে খুবই কঠিন ও কৌশলগতভাবে চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই প্রচারণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পাশাপাশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনসমূহ সমর্থন আদায়ে সমন্বিত ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

বাংলাদেশের প্রার্থীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা এ বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রেখেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল জাতিসংঘের সদর দপ্তরে গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত ড. খলিলুর রহমানের ইন্টারঅ্যাকটিভ ডায়ালগ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি আনালেনা বায়েরবকের সভাপতিত্বে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী ওই সংলাপে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান তাঁর ভিশন স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করেন এবং নির্বাচিত হলে সাধারণ পরিষদ পরিচালনায়ডের অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। কূটনৈতিক মহলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সংলাপ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এই সংলাপের পর কার্যত বাংলাদেশের পক্ষে প্রায় ৩০টি দেশ তাদের সমর্থন ব্যক্ত করে এবং স্পষ্টত বাংলাদেশ বিজয়ের পথে সুনিশ্চিতভাবে এগিয়ে যায়।

বাংলাদেশের প্রচারণায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে কার্যকর বহুপাক্ষিকতা, জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশসমূহের স্বার্থ সংরক্ষণ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর পক্ষে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়ন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো। বাংলাদেশের প্রচারণা ছিল বিষয়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, যেখানে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে বাংলাদেশ সংলাপ, সহযোগিতা এবং ঐকমত্যভিত্তিক কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার এই ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের জন্য জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং জাতিসংঘের মূলনীতি ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।




হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল সোমবার সকাল আটটা থেকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে এই শিশুমৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে।



মশা মারা শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে নয়, ডোবার পাশে বসতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও পাঁচ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মশক নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য ফ্লোরিডা সফরের অনুমোদন চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছিল, তা অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠান ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস এলএলসি (Valent BioSciences LLC)-এর অর্থায়নে ফ্লোরিডা সফরের অনুমোদন চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। প্রস্তাবিত সফরের উদ্দেশ্য ছিল মশক নিয়ন্ত্রণ ও নিধনের বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিদর্শন করা।

প্রস্তাবের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। দেশের বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যেই কার্যকর ধারণা ও উদ্ভাবনী পদ্ধতি খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলেও তিনি মত দেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বলা হয়, ‘মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই। দেশেই সন্ধ্যার পর যে কোনো ডোবার পাশে দুই-তিন ঘণ্টা অবস্থান করলেই মশক নিধনের অনেক উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব হবে।’

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি। ওই নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামসহ ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। পরে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্বাচিত হওয়া বাতিল করে মামলার বাদী শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে। একই বছরের ৩ নভেম্বর তিনি মেয়র হিসেবে শপথ নেন।




প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হলেন কামরুল ইসলাম

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ (গ্রেড-৬) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন কামরুল ইসলাম।

সোমবার (১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী।

ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার বাসিন্দা কামরুল ইসলামকে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল পর্যন্ত অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে—যেটি আগে ঘটে—সেই পর্যন্ত এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে শর্ত দেওয়া হয়েছে, এ নিয়োগ কার্যকর রাখতে কামরুল ইসলামকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা এবং সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে সব ধরনের কর্মসম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।




নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন কত?

ডেস্ক নিউজ : দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও বহুল আলোচিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বা বেসিক একলাফে ২০ হাজার টাকা করার এক ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কমিটি এখন জোরেশোরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চালাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, নতুন এই বৈপ্লবিক পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুধু মূল বেতনই বাড়বে না, বরং এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আবাসন, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা এবং আর্থিক সুবিধাতেও একটি বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে সব গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি বৃদ্ধি করার এই জোরালো সুপারিশ দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ, উদ্দীপনা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নতুন এই নবম পে-স্কেলেও সরকারের বর্তমান ২০টি গ্রেডের প্রশাসনিক কাঠামোটি সম্পূর্ণ বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে গ্রেড অপরিবর্তিত থাকলেও প্রতিটি গ্রেডের আর্থিক মানে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন এই কাঠামোতে সর্বশেষ তথা ২০তম গ্রেডের (সর্বনিম্ন স্তর) একজন কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে একলাফে বাড়িয়ে সরাসরি ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। একই সাথে বৈষম্য দূরীকরণে প্রথম গ্রেডের (সর্বোচ্চ স্তর) কর্মকর্তাদের মূল বেতন বর্তমানের ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার দূরদর্শী প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই বিশাল বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবনাটি দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখেই তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বাস্তবায়নের মুখে থাকা এই নবম পে-স্কেলের খসড়া প্রস্তাবনাটি এখন সরকারের সর্বোচ্চ মহলের আনুষ্ঠানিক নীতিগত অনুমোদন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত এবং চূড়ান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। মাঠপর্যায়ের লাখ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী আশা করছেন, আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই এই প্রস্তাবনাটি পাস হয়ে একটি ঐতিহাসিক প্রজ্ঞাপনে রূপ নেবে।




সুন্দরবন প্রবেশে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু

ডেস্ক নিউজঃ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজননকালীন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আজ সোমবার (১ জুন) থেকে টানা তিন মাসের জন্য বনাঞ্চলটিতে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ।

বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ ও পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সুন্দরবনে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল, গোলপাতা সংগ্রহকারীসহ কোনো পেশাজীবী প্রবেশ করতে পারবেন না। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্যও সুন্দরবনে ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

বনের মৎস্যসম্পদ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে ২০২০ সাল থেকে প্রতিবছর টানা তিন মাস বনাঞ্চলে সব ধরনের মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে আসছে সরকার। তবে পাঁচ বছর পর এ সিদ্ধান্তে আংশিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, এবার থেকে নিষিদ্ধকালীন সময়েও ‘করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র’ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, করমজল পশুর নদীর পাড়ে হওয়ায় মৎস্য, বন্যপ্রাণী বা বনাঞ্চলের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, বনজীবীদের নৌযান চলাচল, মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, পর্যটকবাহী ট্রলারের শব্দ এবং মানুষের উপস্থিতির কারণে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ ও প্রজননপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তাই এই নিষেধাজ্ঞা বনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোনো ধরনের পাস-পারমিট ইস্যু করা হবে না এবং কেউ অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করলে বন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ টহল ও নজরদারি জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন বন্ধ রাখার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সুন্দরবন-নির্ভর হাজারো পরিবারের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বন থেকে আহরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আয়-রোজগারের পথও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আগামী তিন মাস পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন বনজীবীরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় বন বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে মহাজনসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন তারা। এ সময় পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনা না পাওয়ায় প্রতি বছরই নানামুখী সংকট ও দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয় বননির্ভর মানুষদের।

অনেক বনজীবী অভিযোগ করেন, বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা প্রায়ই ‘ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ’ থাকে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় এবং অসাধু বন কর্মকর্তা-প্রহরীদের ঘুষ-বাণিজ্যের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণীর জেলেরা বনের অভয়ারণ্যের নদী-খালে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার করে। এছাড়া, মৎস্য সম্পদ বাড়ানোর জন্য সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিলেও বর্তমানে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও বন বিভাগের সামনেই বন সংলগ্ন ও বনের ভেতরের নদী-খালে অবৈধ নেটজাল দিয়ে নির্বিচারে মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে, যা বন্ধে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই।

সুন্দরবন ও বাংলাদেশ উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক শুভ্র শচীন জানান, সুন্দরবন উপকূলীয় প্রান্তিক মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস সুন্দরবন। তবে গত এক দশকে সুন্দরবনের অর্থনীতির গতিপথ অনেকটাই বদলে গেছে, তাতে ভুক্তভোগী হচ্ছে বনজীবীরা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবসহ নানা কারণে বনজসম্পদ আহরণসহ নানা উপায়ে বননির্ভরশীল মানুষের আয় কমেছে। মাছ-কাঁকড়া, মধু আহরণ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।

তিনি আরও বলেন, বন সুরক্ষায় স্থানীয় ও বনজীবীদের কার্যকর সম্পৃক্ততাও নিশ্চিত হয়নি। যে কারণে জীবিকার তাগিদে বনজসম্পদ আহরণে তাদের কেউ কেউ অবৈধ ও অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেন। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে অপরাধ প্রবণতার পাশাপাশি বননির্ভরতা কমবেও। বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষদের বিকল্প কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সুন্দরবনে ‘প্রবেশনিষিদ্ধ’ সময়ে সরকারিভাবে খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার, যার প্রায় ৩১ শতাংশ জলভাগ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ এ বনে রয়েছে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি এবং ১৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী। সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ।

প্রতি বছর ১২ হাজারের বেশি জেলেনৌকা সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) সংগ্রহ করে। বন বিভাগের তালিকা অনুযায়ী, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে নিবন্ধিত বনজীবীর সংখ্যা ৫ হাজার ৮০০ জন এবং পশ্চিম বিভাগে ৬ হাজার ৩১০ জন। এছাড়া প্রতিবছর ২ লাখেরও বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।




ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীমুখী কর্মজীবী মানুষের ঢল

ডেস্ক নিউজঃ ঈদুল আজহার ছুটি শেষে সোমবার (১ জুন) থেকে খুলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। কর্মদিবস শুরুর আগে রবিবার (৩১ মে) থেকেই রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন, যাত্রাবাড়ী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রেন ও ব্যক্তিগত যানবাহনে মানুষ ঢাকায় ফিরলেও যানবাহন সংকটের কারণে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, গতকাল বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ৪৩টি আন্তঃনগর, ২৩টি লোকাল, মেইল ও কমিউটারসহ মোট ৬৬টি ট্রেন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় পৌঁছেছে।

ঢাকার রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন জানান, ঢাকায় মানুষ ফিরছে। তবে অনেকে এখনো পরিবার নিয়ে ফেরেননি। উত্তরবঙ্গের কিছু ট্রেন আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা দেরি করেছে, তবে বড় কোনো সমস্যা হয়নি।

অন্যদিকে বিমানবন্দর সড়কসহ রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে ঢাকামুখী মানুষের সংখ্যা বাড়লেও যানচাপ ছিল তুলনামূলক কম। যাত্রাবাড়ী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ এলাকায় গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচলও বেড়েছে।

পুলিশ ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো অনেক পোশাক শ্রমিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ঢাকায় ফেরেননি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে তাঁদের ফেরার চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।




প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ সম্মেলনের সময় পরিবর্তন

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী দুপুর ১২টায় হওয়ার কথা থাকলেও এখন এটি অনুষ্ঠিত হবে সোমবার (১ জুন) বিকেল ৩টায়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে অনুষ্ঠিতব্য এ সংবাদ সম্মেলনে ঈদ উপলক্ষে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন গণমুখী উদ্যোগ ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি তুলে ধরা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।




ঈদের ছুটি শেষে সচিবালয়ে অফিস শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন শেষে প্রথম কর্মদিবসে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার সকাল সোয়া নয়টায় প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে প্রবেশ করে দাফতরিক কার্যক্রম শুরু করেন।

দিনব্যাপী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অংশ নেওয়ার কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে ১০টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদ ভবনে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।

এরপর বেলা ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ১টা পর্যন্ত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দেশের ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের উন্নয়নে করণীয় নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া বিকাল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত আরেকটি সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎ কর্মসূচি রয়েছে।

সব কর্মসূচিই সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে বলেও প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে।




১০ দিনে পদ্মা-যমুনা সেতুতে টোল আদায় প্রায় ৬৪ কোটি

ডেস্ক নিউজঃ পদ্মা ও যমুনা সেতু দিয়ে গত ১০ দিনে পারাপারকারী যানবাহন থেকে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা টোল আদায় হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পদ্মা সেতুতে মোট টোল আদায় হয়েছে ৩৬ কোটি ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৯০০ টাকা। ২১ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ১০ দিনে পারাপার হওয়া ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫টি যানবাহন থেকে এ টোল আদায় হয়েছে।

একই ভাবে যমুনা সেতুতে ২১ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ১০ দিনে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং মোট টোল আদায় হয়েছে ২৭ কোটি ৬৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯০০ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পদ্মা ও যমুনা সেতুর কার্যকর ব্যবস্থাপনার ফলে ঈদুল আজহার ছুটিতে থাকা যাত্রীদের জন্য সড়কপথে নিরাপদ, মসৃণ ও শান্তিপূর্ণ ভ্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ এক বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে নিরলসভাবে কাজ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীও ঈদযাত্রায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেছেন। এর ফলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা আরো স্বস্তিদায়ক ও সুশৃঙ্খল হয়েছে।