সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সিঙ্গাপুরের, বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭

ডেস্ক নিউজঃ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ফের পিছিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নেমে এসেছে ৯৭তম স্থানে। বছরের শুরুতে যদিও এ অবস্থান ছিল ৯৫তম স্থানে। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়াও।

লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তাদের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ সূচক প্রকাশ করে। বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি সম্ভাব্য ভ্রমণ গন্তব্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। কোনো দেশের নাগরিক আগাম ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় কতটি দেশে প্রবেশ করতে পারেন, সেটিই এই সূচকের মূল ভিত্তি।

সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে আগাম ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। জানুয়ারি ২০২৬ এবং ২০২৫ সালের সূচকে এ সংখ্যা ছিল ৩৭। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ দুইটি ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা সুবিধার গন্তব্য হারিয়েছে।

তবে ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা কমলেও গত বছরের এ সময়ের থেকেও তিন ধাপ উন্নত হয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। সেসময় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম। নতুন সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। ২০২৫ সালের সূচকে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ছিল ৯৯তম। সর্বশেষ হালনাগাদে দেশটির অবস্থানেরও পরিবর্তন হয়েছে এবং দুই দেশ একই কাতারে এসেছে।

বাংলাদেশের মতো উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্ট দিয়ে মোট ৩৫টি দেশে কোনো অগ্রিম ভিসা ছাড়া প্রবেশ করা যায়। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা প্রায় ৮ থেকে ১০টি। বাকি প্রায় ২৫ থেকে ২৭টি দেশে উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরা ভিসা অন অ্যারাইভাল বা পৌঁছানোর পর ভিসা নেওয়ার সুবিধা পান।

বিগত কয়েক বছরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২০ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৮তম। এরপর ২০২১ সালে নেমে যায় ১০৮তম স্থানে। ২০২২ সালে অবস্থান হয় ১০৩তম এবং ২০২৩ সালে ১০১তম। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ আবার ৯৭তম স্থানে উঠে আসে। ২০২৫ সালে অবস্থান নেমে যায় ১০০তমে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে উন্নতি হয়ে ৯৫তম হলেও জুলাইয়ে তা আবার ৯৭তম হয়েছে।

সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের মর্যাদা ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ১৯২টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশযোগ্য গন্তব্য ১৮৮টি।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন, যার পাসপোর্ট দিয়ে ১৮৭টি দেশে ভ্রমণ করা যায়। চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেন। এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন।

পঞ্চম স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে ১৮৫টি গন্তব্য। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। সপ্তম স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, লাটভিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া। অষ্টম স্থানে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া ও এস্তোনিয়া। নবম স্থানে লিচেনস্টেইন ও লিথুনিয়া এবং দশম স্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।

এবার ও একই অবস্থানে রয়েছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দুটি দেশের অবস্থান ১৬তম এবং তাদের নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই ১৬৯টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।

যুদ্ধরত ইউক্রেন রয়েছে ৩১তম এবং রাশিয়া ৪৭তম অবস্থানে। ইউক্রেনের নাগরিকরা ১৪২টি এবং রাশিয়ার নাগরিকরা ১১৪টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান।

ইসরায়েল রয়েছে ১৮তম অবস্থানে। দেশটির নাগরিকরা ১৬৬টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। অন্যদিকে ইরান ও ফিলিস্তিন যৌথভাবে ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে, যেখানে ভিসামুক্ত গন্তব্য ৩৭টি।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব রয়েছে ৫৪তম অবস্থানে। চীন কসোভোর সঙ্গে যৌথভাবে ৬০তম এবং হাইতি ও ভিয়েতনাম রয়েছে ৮৭তম স্থানে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। দেশটি ৫২তম অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান। এরপর রয়েছে ভারত, যার অবস্থান ৮১তম এবং ভিসামুক্ত গন্তব্য ৫৫টি। ভুটান রয়েছে ৮৮তম স্থানে, মিয়ানমার ৯১তম এবং শ্রীলঙ্কা ৯৪তম অবস্থানে।

বাংলাদেশ রয়েছে ৯৭তম স্থানে, যেখানে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধার দেশ ৩৫টি। বাংলাদেশের ঠিক পরেই ৯৮তম অবস্থানে রয়েছে নেপাল। দেশটির নাগরিকরা ৩৪টি দেশে সহজে ভ্রমণ করতে পারেন।

অন্যদিকে পাকিস্তান রয়েছে ১০১তম অবস্থানে এবং তাদের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত গন্তব্য ২৯টি। সিরিয়া ১০৩তম, ইরাক ১০২তম এবং আফগানিস্তান ১০৪তম অবস্থানে রয়েছে। আফগানিস্তানের নাগরিকরা মাত্র ২২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন, যা সূচকের সর্বনিম্ন।




বস্ত্রখাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ বস্ত্রখাতের সমস্যা সমাধানে অর্থ উপদেষ্টা এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন-বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

এসময় তিনি অভিযোগ করেন, বস্ত্রখাতের সমস্যাগুলো অনেক পুরনো যা আগের কোনো সরকারই সমাধান করেনি।

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার পরেও আনুমানিক দেড় বছর সময় লাগতে পারে সমস্যাগুলো সমাধানে। উদ্যোক্তারা সরকারকে এই সময় দেবে বলেও জানান শওকত আজিজ।

সরকার আন্তরিক হলে বস্ত্রখাত ঘুরে দাঁড়াবে মন্তব্য করে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, গ্যাস বিদ্যুতের পাশাপাশি এ খাতের আর্থিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।

এরইমধ্যে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার জানিয়ে শওকত আজিজ বলেন, গঠিত কমিটি আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠকে বসবে। সরকারের বন্ধ কারখানা চালু হলে বন্ধ এবং অর্ধ বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ সফল হলে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে খুব স্বাভাবিক এবং ত্বড়িৎ গতিতেই। তবে এসব কারখানা চালু করতে হলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে যে ডাম্পিং হচ্ছে সেদিকে মনোযোগী হতে হবে বলেও জানান বিটিএমএ সভাপতি।




প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে চলছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সভাটি শুরু হয়।

সভায় উঠছে প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে নতুন চারটি ও সংশোধিত পাঁচটি প্রকল্প। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ১১ হাজার ১৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ৯টি প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার ৭২৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলোর মধ্যে কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের পাঁচটির মধ্যে তিনটি নতুন এবং দুটি সংশোধিত। ভৌত অবকাঠামো বিভাগ এবং আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের একটি করে সংশোধিত, শিল্প ও শক্তি বিভাগের দুটির মধ্যে একটি নতুন ও অন্যটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে।

একনেকে যেসব প্রকল্প উঠছে সেগুলো হলো- পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্প; স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প; পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান এবং সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২) (প্রথম সংশোধন) প্রকল্প।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত), সেতু বিভাগের মেগা প্রকল্প ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত), জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের একটি মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং দুটি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন, বিদ্যুৎ বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, সিলেট বিভাগ (তৃতীয় সংশোধন)। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয় বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোয় ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন (প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সংশোধন)।

সভায় ১১টি প্রকল্প একনেক সদস্যদের অবহিত করার জন্য তোলা হবে। সেগুলো হলো-মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি আঞ্চলিক অফিস স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত), বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, গৌরনদী বরিশাল স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত), ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তিনটি প্রকল্প অবহিত করা হবে। প্রকল্পগুলো হলো-নলকা-সিরাজগঞ্জ-সয়দাবাদ আঞ্চলিক মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ শহর অংশ (শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ থেকে কাটা ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত) চার লেনে উন্নীতকরণ ও অবশিষ্ট অংশ দুই লেনে উন্নীতকরণ (দ্বিতীয় সংশোধিত), পিরোজপুর-নাজিরপুর-মাটিভাঙা-পাটগাতী-ঘোনাপাড়া (জেড-৭৭০৪) জেলা মহাসড়কের ঘোনাপাড়া থেকে পাটগাতী সেতু অ্যাপ্রোচ পর্যন্ত অংশসহ জেড-৮৫০৪, জেড-৮৫০৭ ও জেড-৮৪২৯ জেলা মহাসড়ক যথায়থ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) এবং ভূঞাপুর লিংক সড়ক (জেড-৪৮০২) নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)।

এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগ দুটি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প রয়েছে বলে জানা গেছে।




ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব নীতি বাজেটে প্রতিফলিত

ডেস্ক নিউজ : সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব নীতি প্রণয়নের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে ‘বেইলা ফিউচার সামিট-২০২৬’ এর সমাপনী অধিবেশনে মাহ্দী আমিন একথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যার নীতি ও পরিকল্পনাগুলো দেশের সবচেয়ে বড় অংশ—তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে ভূমিকা রাখবে। তরুণ প্রজন্ম প্রকৃতপক্ষে কী চায়? তারা প্রথমত এমন একটি পরিবেশ প্রত্যাশা করে যেখানে তাদের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বিকশিত করার মতো উপযোগী নীতি থাকবে। সকলেই এমন একটি শাসনব্যবস্থা চায়, যা ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব নীতি প্রণয়ন করবে। এর প্রতিফলনস্বরূপ সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে কীভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যালায়েন্সের (বেইলা) আয়োজনে দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে প্রায় দেড় হাজার অংশগ্রহণকারী, পাঁচ শতাধিক শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা (সিএক্সও), পোশাক খাতের উদ্যোক্তা, শিল্পনেতা এবং দেশি-বিদেশি অতিথি অংশ নেন।

নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের অত্যন্ত স্বাভাবিক ও মৌলিক দাবি হলো এমন একটি সমন্বিত পরিবেশ বা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যেখানে নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, বন্ডেড সুবিধার প্রক্রিয়া আরও সহজতর হবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পাবে এবং ব্যবসা পরিচালনায় সহজলভ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাবে। দুর্ভাগ্যবশত, বিগত বহু বছর ধরে আমরা এই সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত ছিলাম। তাই নতুন সরকার হিসেবে আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাদের পক্ষ থেকে এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো আনয়নে সর্বোচ্চ প্রয়াস থাকবে।

রাজস্ব সংগ্রহ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে গভীর কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রে সুশাসনের দুটি মূল ভিত্তি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আমরা কীভাবে নিশ্চিত করতে পারি, সেটাই মূল বিষয়। আমরা এমন উন্নয়ন চাই যা সার্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, যেখানে গ্রাম ও শহরের মধ্যকার বৈষম্য ও ব্যবধান দূর করা সম্ভব হবে। বৈষম্য নিরসনে আমাদের প্রকল্পগুলোতে অধিকতর ন্যায্যতা ও সমতা থাকতে হবে, প্রকল্পগুলোকে হতে হবে ন্যায়বিচারমুখ। মেগা প্রকল্পের অন্তরালে যে মেগা দুর্নীতির সংস্কৃতি আমরা বিগত সময়ে দেখেছি, তা থেকে আমাদের পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে হবে। এ কারণেই সরকারের মূল নীতি অবকাঠামোগত, নিছক ইট, কাঠ, রড বা সিমেন্টে বিনিয়োগ করা নয়।

সরকারের মূল বিনিয়োগ তরুণ মানবসম্পদের পেছনে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যেই আমরা বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। যারা তৈরি পোশাক শিল্পের সাথে যুক্ত তারা সকলেই অবগত আছেন যে, সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীদের তুলনায় আমাদের দক্ষতার ঘাটতি। কীভাবে সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের কর্মীদের দক্ষতা আরও উন্নত করতে পারি, যেন আমরা সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারি সেটিই আমাদের লক্ষ্য। উপরন্তু, বহু ক্ষেত্রে আমাদের ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়ও অনেক বেশি।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের হয়তো একমাত্র সুবিধা হলো তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয়। তবে সময়ের পরিক্রমায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ নানাবিধ কারণে ব্যবসা পরিচালনার খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। আমাদের বর্তমান মেয়াদে ধাপে ধাপে এই ব্যয় ও জটিলতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করব।

মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা এমন এক যুগে বসবাস করছি যেখানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, রোবোটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এই আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে প্রদর্শিত উদ্ভাবনী ধারনার প্রশংসা করেন‌ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।

তিনি বলেন, আমরা যেমন এক সময়ের বৃহদাকার মুঠোফোন থেকে আজকের আধুনিক স্মার্টফোনে রূপান্তরিত হয়েছি, যা ছিল একটি সময়োপযোগী উদ্ভাবন, ঠিক তেমনি আমাদের পোশাক তৈরির কারখানাগুলোও একসময় ফ্যাক্স বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ হতো, যা এখন হোয়াটসঅ্যাপে রূপ নিয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো আরও নতুন প্রযুক্তি আসবে, যার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই তথ্যের আদান-প্রদান সম্ভব হবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, একইভাবে আমাদের প্রতিটি স্তরে প্রযুক্তিকে সাদরে গ্রহণ করতে হবে তা প্রসেস বা প্রক্রিয়ার উদ্ভাবন হোক কিংবা পণ্যের উদ্ভাবন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন হোক না কেন। একটি অর্ডার চূড়ান্ত করার পূর্ববর্তী ধাপসমূহ যেমন প্রকল্প ও পণ্য পর্যায়ে পোশাকের নকশা, গবেষণা ও উন্নয়ন থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন, লজিস্টিকস এবং পরিশেষে, বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া শেষে অর্থপ্রাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সংযুক্তি অত্যন্ত জরুরি। যেহেতু আমাদের একটি ব্যয়গত সুবিধা রয়েছে, তাই জনবল বা কর্মীদের এমনভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে যেন প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে আমাদের সেই মূল সুবিধাটি নস্যাৎ না হয়ে যায়।

তিনি বলেন, আমাদের একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে, যেখানে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে দক্ষতা বাড়াতে এবং একই সাথে যেন কোনো বেকারত্ব সৃষ্টি না হয়। মূলত, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের প্রধান লক্ষ্যই হলো দক্ষতা ও প্রবৃদ্ধি অর্জন করা, যেন বৈশ্বিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। একই সাথে আমরা চাই ব্যবসায়ের সার্বিক পরিধি ও ব্যাপ্তি এমনভাবে বৃদ্ধি পাবে, যাতে করে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

সরকার নীতিগত দিক থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বন্ডেড ওয়্যারহাউজের নবায়ন সংক্রান্ত যে জটিলতা পূর্বে বিদ্যমান ছিল, নতুন উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের জন্য আমরা তা অত্যন্ত সহজ করে দিচ্ছি। একই সাথে বিদ্যমান নিয়মকানুন শিথিল করা হচ্ছে এবং শুল্কসংক্রান্ত নানান সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, পূর্বে প্রণোদনা বা ইনসেন্টিভ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হতো, কিন্তু প্রথমবারের মতো আমরা দ্রুততম সময়ে এই প্রণোদনা হাতে পৌছানোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যার মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত ও সৎ ব্যবসায়ী, যারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন তাদের জন্য ব্যয়সংকোচন ও সহায়ক নীতি গ্রহণ করা।

মাহ্দী আমিন বলেন, সার্বজনীন বা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির অংশ হিসেবে আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো সেটি হতে পারে তৈরি পোশাক শিল্প, বস্ত্র কিংবা আমাদের ঐতিহ্যবাহী পাট শিল্পই হোক না কেন পুনঃরায় চালু করা এবং সৎ ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদান করা। সরকার হিসেবে আমরা

দিকনির্দেশনামূলক নীতি নির্ধারণ করতে পারি, তবে আসল উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি হতে হবে বেসরকারি খাত কেন্দ্রিক। আমরা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই এবং প্রয়োজনবোধে বেসরকারীকরণের দিকেও অগ্রসর হতে চাই। আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। আপনারা যত বেশি যৌথ উদ্যোগের প্রকল্প গ্রহণ করবেন, আমরা মুনাফা নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক সহজতর করেছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করা।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের তিনটি অনন্য সুবিধাজনক দিক রয়েছে। প্রথমত, বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী তথা আমাদের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশাল অভ্যন্তরীণ ভোক্তা বাজার, যেখানে যেকোনো শিল্প কারখানা সহজেই তাদের পণ্য বিপণন করতে পারে। এবং তৃতীয়ত, বহু বছর পর অর্জিত একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, যেখানে নীতির ধারাবাহিকতা ও জাতীয় স্বার্থ বজায় থাকবে।

এই তিনটি সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আরও যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে, তা হলো জ্বালানি নিরাপত্তা। বহু কারখানায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট বিদ্যমান। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া আমরা যে বন্দর ব্যবস্থাপনা পেয়েছি, তা নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে পণ্য খালাস এবং আমদানিরীতি সম্পূর্ণ করতে সময় ও ব্যয় দুটোই বেশি লাগে। আমরা এই ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কারে কাজ করে যাচ্ছি। সার্বিকভাবে আমরা এমন একটি গতিশীল ইকোসিস্টেম বা পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যা আপনাদের উদ্যোক্তাসুলভ আচরণ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পূর্ণ সমর্থনের পাশাপাশি উৎসাহিত করবে। আমরা এমন একটি যৌথ যাত্রা শুরু করতে চাই, যেখানে দেশের তরুণ সমাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের তরুণ-তরুণীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রাষ্ট্র পরিচালনা ও সরকারের উন্নয়ন নীতিতে নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমরা সকলে মিলে একযোগে একটি সর্বজনীন, ন্যায্যতা, সমতা ও ন্যায়বিচারপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।




‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে যাবেন ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক

ডেস্ক নিউজঃ র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) ও ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) তথা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে যাবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারক।

মঙ্গলবার প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ পরিদর্শন করবেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। র‍্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির গোপন বন্দিশালা তথা আয়নাঘরে ট্রাইব্যুনালকে পরিদর্শনে যাওয়ার আবেদন করেন তিনি। এ সময় আওয়ামী লীগের টানা শাসনামলে এসব বন্দিশালায় বিরোধী মতাদর্শের লোকদের তুলে নিয়ে নির্যাতনসহ গুমের বর্ণনা দেন। পরে আবেদনটি বিবেচনায় নেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পরিদর্শনে যাওয়ার সম্মতি জানান।

এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ​আওয়ামী লীগের আমলে বাংলাদেশে অনেক গুমের ঘটনা ঘটেছে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন আয়নাঘরে রাখা হতো, যা জেআইসি বা টিএফআই সেল হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে র‍্যাব-১ এ টিএফআই সেল, জেআইসি ও ডিবি কার্যালয়ে কয়েকটি আয়নাঘরের সন্ধান রয়েছে।

মামলার স্বার্থে এসব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারেন ট্রাইব্যুনাল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটি আবেদন করেছি। আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ সম্মতি জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি জানান, যেকোনো সময় দিন-তারিখ দেবেন ট্রাইব্যুনাল। পরিদর্শনের ক্ষেত্রে প্রসিকিউশনকে তারা নোটিশ করতে পারেন। এরপরই যৌথভাবে পরিদর্শন কার্যটি সম্পন্ন হবে।




তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে আরও দুই সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্যের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, গত ১৭ জুলাই কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক তদন্তের স্বার্থে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম ও ফয়সাল আহমেদ রাব্বী (রাব্বী)-এর ডিএনএ সংগ্রহের অনুমতি দেন।

তদন্ত কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, জাহিদুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ জেলার মেঘাই গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে এবং ফয়সাল আহমেদ রাব্বী কুমিল্লার রাজাপাড়া লক্ষীনগর এলাকার এম এ হান্নানের ছেলে।

এর আগে মামলার প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সাবেক সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে, মামলার প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শাহিন আলম কুয়েতে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, জাহিদুজ্জামানের অবস্থান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি হাফিজুর রহমান কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে তদন্তাধীন রয়েছে।




মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: মানসিক ট্রমায় অনেক শিক্ষার্থী

ডেস্ক নিউজঃ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। গত বছরের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী একাডেমিক ভবনে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ৩৫ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিন জন শিক্ষক, তিন জন অভিভাবক ও বিমানের একজন পাইলট। আহত ১৭৫ জনের মধ্যে শিক্ষার্থী ৬৩ জন। আহতরা দীর্ঘ চিকিৎস শেষে ক্লাসে ফিরলেও অধিকাংশই এখনো স্বাভাবিকে ফিরে আসতে পারেনি। ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থী যারা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন, আজও তাদের বুকের ভিতর শূন্যতা আর হাহাকার। হূদয়ে রক্তক্ষরণ থামলেও দগদগে বিষাদের সেই ক্ষণ, আকাশ থেকে নেমে আসা আগুনের লেলিহান শিখা, আর্তনাদ, বন্ধুদের হারানোর শোকসহ চোখের সামনে ঘটে যাওয়া বিভীষিকাময় সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীকে। অভিভাবকরা বলেন, আহত শিক্ষার্থীরা সবকিছুতেই এখন বিরক্ত দেখায়, হঠাত্ রেগে যায়। আকাশে বিমানের আওয়াজ শুনলে এখনো অনেকে আতঙ্কে শিউরে ওঠে ও কান চেপে ধরে। বেশির ভাগই ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না, আবার কেউ মাঝ রাতে ঘুমের মধ্যে কেঁদে উঠছে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শিশুদের মনে গভীর মানসিক আঘাত বা ট্রমা তৈরি হয়েছে, যা তারা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কেবল শারীরিক চিকিৎসাই যথেষ্ট নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিং সেবা শিশুদের স্বাভাবিক শৈশবে ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের জন্য এখনো কাঁদেন স্বজন, সহপাঠী ও শিক্ষকরা। আর যারা সেদিন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছেন, তাদের জীবন চলছে এক অজানা আতঙ্কে। এতদিনেও বিভীষিকাময় সেই দৃশ্য এখনো অনেকের কাছে ধূসর স্মৃতি। যত দিন যাচ্ছে অস্বাভাবিক আচরণ বাড়ছে দুর্ঘটনায় আহত ৬ষ্ঠ শ্রেণির (ইংরেজি ভার্শন) শিক্ষার্থী জাইয়ানা মাহবুবের। সে প্রায়ই বলছে, ‘মরে গেলে ভালো হতো’। গতকাল জাইয়ানা মাহবুবের মা সানজিদা বেলায়েত ইত্তেফাককে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, তার মেয়ের এখনো ভয় কাটেনি। হুটহাট রেগে যায়। কোন কথা বললেই বিরক্ত বোধ করে। প্রতিদিন ঘুমের মধ্যে কেঁদে ওঠে। দিনদিন এই অস্বাভাবিক আচরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিনে ও রাতে প্রায়ই বলে, আমি কেন ঐ দিন মারা গেলাম না? মরে গেলে ভালো হতো, আমার কিছু ভালো লাগে না। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটা পরিপাটি ছিল। হাতে মেহেদি দিত, ব্রেসলেট পরত। ওর হাত পুড়ে গেছে। সে বলে, হাত জম্বির মতো হয়ে গেছে। ওর প্রশ্নের উত্তর আমি কী দেব? এই বাচ্চাগুলোকে সমাজ কোন চোখে দেখবে? তিনি আহত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর দাবি জানান।
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির পর বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পেলেও হতাহতের পরিবার সরকারের পক্ষ থেকে কোন আর্থিক সহায়তা পায়নি। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ লাখ ও আহতদের ৫ লাখ করে টাকা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এটা খুবই সীমিত সহায়তা হিসেবে আখ্যায়িত করে অভিভাবকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এ প্রসঙ্গে সানজিদা বেলায়েত বলেন, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে গত ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত্ চেয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো সাক্ষাত্ পাইনি। গত ২১ জানুয়ারি ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছিল। সেদিন তারেক রহমান বলেছিলেন, তিনি সরকার গঠন করতে পারলে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবেন। সানজিদা বেলায়েত বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ এক বছর অতিবাহিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্থানীয় কোন পুনর্বাসন পরিকল্পনা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে আহত শিশুরা দগ্ধজনিত জটিলতা, প্লাস্টিক সার্জারি ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমার কারণে মানবেতন জীবন যাপন করছে।’
প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের জন্য লিখিত আবেদনে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে শহীদ ও আহতদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো—শহীদ পরিবারের সুরক্ষায় ও আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দ্রুত হাইকোর্টের রিটের বাস্তবায়ন। আহতদের জন্য আজীবন বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সিএমএইচ থেকে বিশেষ মেডিক্যাল কার্ডের ব্যবস্থা করা। নিহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদি মর্যাদা ও সনদ প্রদান করা। ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ ঘোষণা এবং শহীদদের স্মরণে উত্তরায় একটি মসজিদ নির্মাণ করতে হবে।
নিয়মিত ক্লাস করছে ইউসা: দুর্ঘটনায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূরে জান্নাত ইউসার শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে যায়। গত বছরের ২২ জুলাই তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ঐ বছরের ১১ আগস্ট হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন। এখন নিয়মিত ক্লাস করছে ইউসা। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে ইউসা বলে, একসময় পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখত সে, এখন বিমান উড়ে গেলেই ভয় পেয়ে দুই হাত দিয়ে কান চেপে ধরে সে, আর পাইলট হওয়ার ইচ্ছা নেই তার।
সেদিন কি দেখেছিল শিক্ষার্থীরা: ২০২৫ সালের ২১ জুলাই সোমবার সকালটা ছিল একদমই সাধারণ। কলেজের প্রজেক্ট-২ ভবনের প্রতিটি কক্ষে তখন চলছিল পাঠদান। তৃতীয় শ্রেণির ক্লাসরুমে বসে ছিল শিশু শিক্ষার্থীরা। পরনে ইউনিফর্ম আর বইভরা ব্যাগ। এক হাতে খাতা, অন্য হাতে কলম। দুপুর ১টায় ছুটি হয়। বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ বিমানটি ঢাকার বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর-উত্তম এ কে খন্দকার থেকে বেলা ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে। ১টা ১৮ মিনিটে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী একাডেমিক ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এক মুহূর্তে পালটে যায় সব কিছু। হতবিহ্বল ও দিশাহারা হয়ে শিক্ষার্থীদের দিগ্বিদিক ছুটোছুটি, চিত্কার, কান্না, ধোঁয়া, ধুলোয় ভরে যায় স্কুল। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এর মধ্য থেকে একের পর এক দগ্ধ শিক্ষার্থী বের করে আনা হয়। বিধ্বস্ত প্লেনটি ছিটকে প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের ভবনের সিঁড়ির সামনে চলে যায়। বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির ‘নাক’ ঢুকে যায় ভবনের সিঁড়ির অংশে, আর এর দুই পাখার আঘাতে পুড়ে ছাই হয় শিশুদের দুটি ক্লাসরুম।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাত্ দেখি আগুন ধরা প্লেনটা আমাদের বিল্ডিংয়ে আঘাত করছে। আমার এক বন্ধুই আমার চোখের সামনে মারা গেছে। এই দৃশ্য ভুলতে পারছি না।’ ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের শিক্ষার্থী হাসবিয়া রহমান আঝরা জানান, ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার সময় তারা ক্লাসে ছিল। চারপাশ কেঁপে ওঠা বিকট শব্দ, আগুনে পুড়ে যাওয়া মানুষ আর বাচ্চাদের করুণ আর্তনাদ—এই সবই তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। এখন বিমানের শব্দ শুনলে সেই ভয়াবহ স্মৃতি তার মনে পড়ে যায়।
ট্রমা কাটাতে বিশেষ পুনর্বাসনের উদ্যোগ: শিক্ষার্থীদের এই গভীর মানসিক ক্ষত ও ট্রমা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোটারি ক্লাব অব বনানী ঢাকা এবং ছুটি রিসোর্টের যৌথ উদ্যোগে গাজীপুরের পুবাইলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ ‘মেন্টাল হিলিং’ বা মানসিক নিরাময় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম পরিবেশ থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তারা দিনভর মেডিটেশন, ছবি আঁঁকা, ফুটবল খেলা এবং উন্মুক্ত কাউন্সেলিং সেশনে অংশ নেয়। নিহত সহপাঠীদের স্মরণে এবং শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে এই নিরাময় অনুষ্ঠানে চারাগাছ রোপণ করা হয়।
নিহতদের স্মরণ, আহতদের সুস্থতা কামনা: মাইলস্ট্রোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ এবং আহত ব্যক্তিদের সুস্থতা কামনায় দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাসে এই দোয়া ও স্মরণসভা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কলেজটির অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের স্মরণ করতে এখানে হাজির হয়েছে। তারা নিহত সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে। শিক্ষার্থীসহ যারা এ ঘটনায় আহত হয়েছেন, তাদের সুস্থতা কামনা করছে।
দুর্ঘটনাস্থলটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে আজ: এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ এবং আহত ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি জানাতে দুই দিনের কর্মসূচি নিয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। এর অংশ হিসেবে দুর্ঘটনাস্থলটি আজ মঙ্গলবার সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে বলে জানান অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে স্কাউট ও রোভার সদস্যরা গার্ড অব অনার দেবেন। নিহত ব্যক্তিদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। স্মৃতিচারণার আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি নিহত ব্যক্তিদের ছবি, বন্ধুদের লেখা স্মৃতিকথা ও বিভিন্ন বার্তা প্রদর্শন করা হবে। আজকের আয়োজনে অভিভাবকেরাও উপস্থিত থাকবেন।



ছয় বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টি, মঙ্গলবারও অব্যাহত থাকতে পারে বর্ষণ

ডেস্ক নিউজ : রংপুর, সিলেট, খুলনাসহ দেশের ছয় বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় ঢাকা বিভাগেও দিনভর মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবারও দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে সর্বোচ্চ ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর ডিমলায়।

এ ছাড়া সিলেটে ৮৪ মিলিমিটার, চাঁদপুরে ৯৪ মিলিমিটার, খুলনার মোংলায় ১০০ মিলিমিটার, বরিশালে ৬৩ মিলিমিটার, রাজশাহীতে ৬২ মিলিমিটার এবং ঢাকায় ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।




সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরো উন্নত এবং সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে গিয়ে কোনো ভোগান্তি ছাড়া খুব সহজে যেন সবাই চিকিৎসা পায়। গ্রামের মানুষের চিকিৎসার জন্য যেন অন্য কোথাও যেতে না হয়। সরকারি হাসপাতালই যেন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়।

একইসঙ্গে চিকিৎসকরা যেন রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো আন্তরিক হন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অডিটোরিয়ামে গিয়ে বৈঠক করলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৈঠকে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের শুরুতে তিনি বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্যখাতে গত ৫ মাসের অর্জন সম্পর্কে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান। তারা সেগুলো উপস্থাপন করেন।

তারা জানান, বিগত সরকার স্বাস্থ্যখাত একেবারে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। প্রান্তিক মানুষের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

বৈঠকে আলোচনা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে এমন অভিযোগ দেখা যায় যে, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকলেও রোগীরা সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা পান না। চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয় উঠে আসে। এ ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেভাবে হোক গ্রামের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে হবে। তাদের জন্য সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা এবং পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে গিয়ে কোনো ভোগান্তি ছাড়া খুব সহজে যেন সবাই চিকিৎসা পান। সরকারি হাসপাতালই যেন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়।

উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা বলেন, কিডনি রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক। তিনি কিডনি রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের কথা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জেলা পর্যায়ে যেখানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার আছে, সেগুলো ৫০ শয্যায় সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

এর মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫১ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলেও জানান উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা।

এ সময় গণপূর্তের প্রকোশলীরা অবকাঠামোর নকশাসহ খুঁটিনাটি বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন।

বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিতসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু আনিফার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ জন্মগতভাবে জটিল রোগে আক্রান্ত দুই বছর বয়সী শিশু আনিফা আক্তারের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় বহনে অক্ষম অসহায় পরিবার। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়।

এরপর শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তার প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে ওই শিশুর পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ- প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, তার কার্যালয়ের চিকিৎসক ও অর্থোপেডিক সার্জন ডা. শাহ মোহাম্মদ আমানুল্লাহ আমানের পরিকল্পনায় এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে আজ একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যায়।

সেখানে তারা শিশু আনিফা আক্তারের চিকিৎসা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেন।

উপ-প্রেস সচিব জানান, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশু কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড আনিফা আক্তারের সার্বিক শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি এবং বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে। পর্যালোচনায় শিশুটির রোগের অবস্থা অত্যন্ত জটিল ও সংকটাপন্ন (ক্রিটিক্যাল) বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরা।

জাহিদুল ইসলাম রনি আরও জানান, মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে, চীন থেকে আগত একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম বাংলাদেশে পৌঁছালে আনিফা আক্তারের জটিল রোগের বিষয়টি তাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি জানান, দেশীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে চীনা দলের যৌথ পরামর্শের ভিত্তিতে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এ সময় আনিফার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেন যে শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিষয়ে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

একই সঙ্গে তারা পরিবারের কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক সহমর্মিতা ও শুভকামনার বার্তা পৌঁছে দেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব।