হজে গিয়ে ২৮ বাংলাদেশির মৃত্যু

ডেস্ক নিউজঃ চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত মোট ২৮ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন। মৃতদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, পবিত্র মক্কা নগরীতে ১৯ জন এবং মদিনা শরিফে ৯ জন হজযাত্রী শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। 

সোমবার (২৫ মে) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ হজ অফিসের পক্ষ থেকে যৌথভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

চলতি হজের প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যমতে, এ বছর বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৭৯ হাজার ১৬৪ জন হজযাত্রী ও হজের বিভিন্ন টিমের ব্যবস্থাপনা সদস্য সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে গেছেন ৪ হাজার ৪৬৪ জন এবং বিভিন্ন অনুমোদিত বেসরকারি এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৭৩ হাজার ৯২৬ জন। এ ছাড়া হজ এজেন্সি, হাব প্রতিনিধি এবং সরকারের বিভিন্ন কারিগরি ও প্রশাসনিক টিমের ব্যবস্থাপনা সদস্য রয়েছেন ৭৭৪ জন।

বাংলাদেশ থেকে এই বিশাল সংখ্যক হজযাত্রী পরিবহনে মোট ২০১টি বিশেষ ফ্লাইট সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস একাই পরিচালনা করেছে ৯৮টি ফ্লাইট, সৌদি এয়ারলাইনস ৭৩টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

তিন এয়ারলাইনসের যাত্রী বণ্টনের হিসাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে গেছেন ৩৮৭০২ জন, সৌদি এয়ারলাইনসে ২৭ হাজার ৩৪০ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসে গেছেন ১২ হাজার ১৫৭ জন হজযাত্রী।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের নিয়ম ও পঞ্জিকা অনুযায়ী আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে বিমান যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১৮ এপ্রিল এবং হজের সর্বশেষ ফিরতি বা শেষ ফ্লাইটটি ঢাকা ত্যাগ করেছে গত ২১ মে। পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাজিদের নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার প্রথম ফিরতি ফ্লাইট আগামী ৩০ মে শুরু হবে এবং ফিরতি এই কার্যক্রম আগামী ৩০ জুন পুরোপুরি শেষ হবে।




আজ মিলছে ঈদ ফেরত যাত্রার শেষ দিনের ট্রেন টিকিট

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহা শেষে ঘরমুখো মানুষের ফেরার সুবিধার্থে আন্তঃনগর ট্রেনের আসনের টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম হিসেবে বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আজ বিক্রি করা হচ্ছে শেষ দিন, অর্থাৎ আগামী ৪ জুনের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ৮টায় রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। আর দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে এবারও শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।

ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা থেকে জানা গেছে, আন্তঃনগর ট্রেনের ৩১ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ২১ মে, ১ জুনের আসনের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ২২ মে, ২ জুনের আসনের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ২৩ মে এবং ৩ জুনের আসনের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ২৪ মে।

আরও জানা গেছে, এ সময়ে কেনা টিকিট যাত্রীরা রেলওয়েকে ফেরত দিতে পারবেন না। প্রতিজন টিকিটপ্রত্যাশী একবারে সর্বোচ্চ চারটি আসনের টিকিট কিনতে পারবেন। একটির বেশি আসনের টিকিট কিনলে সহযাত্রীদের নাম টিকিট কেনার সময় উল্লেখ করতে হবে।




আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে বুড়িমারী এক্সপ্রেস, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ডেস্ক নিউজঃ ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে লালমনিরহাটগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় ট্রেনটির কমলাপুর স্টেশন ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল। নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটি না ছাড়াই যাত্রীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ে। এতে স্টেশনে অপেক্ষমাণ প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন।

জানা গেছে, ইঞ্জিনের জটিলতার কারণে ট্রেনটি সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে ছেড়ে যায়।

এর আগে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের আন্তঃনগর ট্রেনগুলো সময়মতো ছেড়ে গেলেও বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় ছিলেন।

ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডেও অনেকক্ষণ ট্রেনটির প্ল্যাটফর্ম সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেখানো হয়নি। এতে যাত্রীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও অসন্তোষ বাড়তে থাকে।

এ বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. কবীর উদ্দীন বলেন, লালমনিরহাট থেকে ঢাকায় আসার পথে বগুড়ার একটি এলাকায় ট্রেনটির ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য ট্রেন ছাড়তে দেরি হচ্ছে। চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি সমাধান করতে কিছুটা সময় লাগে।




রামিসা হত্যা: সোহেল-স্বপ্নাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিচ্ছে পুলিশ

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করতে যাচ্ছে পুলিশ।

আজ রবিবার দুপুরে আদালতে তাদের দু’জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই (রবিবার) আদালতে দু’জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতারে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগী শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় ২০ মে গ্রেফতার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানান এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানান, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলাকেটে হত্যা করেন। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করা হয়। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান তিনি।

আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্বে কোনও শত্রুতা ছিল না।




ঈদযাত্রায় সদরঘাটে প্রস্তুত ১৭২ লঞ্চ

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নদীপথে যাত্রীচাপ সামাল দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এবার শতাধিক অতিরিক্ত লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং যাত্রীদের জন্য কেবিন ভাড়ায় দেওয়া হচ্ছে ছাড়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সদরঘাট টার্মিনালে মোট ১৭২টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাধারণ সময়ে যেখানে ৫০ থেকে ৫৫টি লঞ্চ চলাচল করে, সেখানে ঈদের সময় অতিরিক্ত লঞ্চ যুক্ত করা হচ্ছে।

লঞ্চ মালিকরা জানান, যাত্রী আকৃষ্ট করতে সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম দামে কেবিন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। একটি সিঙ্গেল কেবিনের সরকারি ভাড়া ১ হাজার ৭১৬ টাকা হলেও তা ১ হাজার ২০০ টাকায় দেওয়া হচ্ছে।

নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পন্টুনের আশপাশ থেকে নৌকা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি পন্টুন এলাকায় নৌ পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

নৌ পুলিশ জানিয়েছে, সদরঘাটের ১ থেকে ২৫ নম্বর পন্টুন পর্যন্ত চারটি টহল টিম দায়িত্ব পালন করছে। নৌকা যাতে টহল ভেঙে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এ ছাড়া হকারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত, ফ্রি কুলি সেবা চালু এবং ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই যাত্রী পূর্ণ হলে লঞ্চ ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনো লঞ্চ চলাচল করতে পারবে না এবং দুর্ঘটনামুক্ত ঈদযাত্রা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।




২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে টোল আদায় প্রায় ৩ কোটি

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যমুনা সেতু দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৩২ হাজার ৬৪৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। যা আগের দিনের তুলনায় ২ হাজার ৩১৭টি কম। তবে ধারণা করা হচ্ছে আজ দুপুর থেকে যানবাহনে চাপ বাড়বে।

শনিবার (২৩ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ১৬ হাজার ৭৫৩টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৭ হাজার ১৫০ টাকা।

অন্যদিকে, পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ১৫ হাজার ৮৯৬টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৫০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩২ হাজার ৬৪৯টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা।

এর আগে শুক্রবার (২২ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৩৪ হাজার ৯৬৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল। সেদিন টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪০০ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে যানবাহন পারাপার কমেছে ২ হাজার ৩১৭টি এবং টোল আদায় কমেছে ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সেতুর উভয় প্রান্তে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২২ জেলার মানুষের সড়কপথে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম যমুনা সেতু। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য এসব জেলার অধিকাংশ যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করে।




সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ কর্মদিবস আজ, সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের দীর্ঘ ছুটি

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহার আগে আজ রোববার সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ কর্মদিবস। ঈদ উপলক্ষ্যে সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হচ্ছে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি।

২৮ মে ঈদুল আজহা ধরে আগে থেকেই ৬ দিনের ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছিল সরকার।

ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২৮ মে ঈদুল আজহার দিন সাধারণ ছুটি।

ঈদুল আজহার আগে ২৬ ও ২৭ মে দুদিন এবং পরে ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত তিনদিনসহ মোট পাঁচদিন নির্বাহী আদেশে ছুটি।

তবে আগের অভিজ্ঞতার আলোকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গত ৭ মে ছুটি আরও একদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিসভা। ওইদিন মন্ত্রিসভা বৈঠকে ২৫ মে ছুটি ঘোষণা ও এর আগে ২৩ ও ২৪ মে অফিস খোলা রাখার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

এরপর ১৪ মে ঈদুল আজহায় সাত দিনের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশের সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মোট ৭ দিন বন্ধ থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জরুরি পরিষেবা যেমন- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এ সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে।

হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এ সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মীরা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিসগুলোও এই ছুটির আওতা বাইরে থাকবে।

আগামী ২৮ মে দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।




আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ আগামী এক বছরকে ((২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত) ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে এ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

একটি নিরাপদ মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জীবন ঘটাতে হবে। এ ক্ষেত্রেও কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন এবং কর্ম আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক।’

তারেক রহমান বলেন, ‘কবি নজরুলের জীবন এবং কর্ম বিশ্বসাহিত্য দরবারে আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তার জীবনবোধ, দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হবে। এরই অংশ হিসেবে আমাদের জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে নজরুল সিটি হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না, এ ব্যাপারে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি। আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক, আমাদের জাতীয়তাবাদের প্রতীক।’

নজরুল জয়ন্তী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্বাগত বক্তব্য দেন ত্রিশালের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান ও স্মারক বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কবিপৌত্রী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান খিলখিল কাজী, ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. লতিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কবি নজরুল গবেষণা ও কবির জীবন-দর্শনের নিয়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দুইজন গুণীর হাতে নজরুল পদক ও সন্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নজরুল স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচনও করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে অতিথি সারিতে বসে নজরুল ইসলামের স্মরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।




রামিসা হত্যার ফরেনসিক রিপোর্ট হস্তান্তর

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর পল্লবীতেশিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি জানিয়েছে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ভুঁইয়া নিপুন এসব গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক রিপোর্ট সংগ্রহ করেন।

শনিবার (২৩ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিআইডির পক্ষ থেকে সব ফরেনসিক রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তারা হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এসব ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রিপোর্ট হাতে আসায় এখন অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুতের কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার (২৪ মে) আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে।

গত ১৯ মে সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়।

এ ঘটনায় প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে সোহেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন সোহেল রানা।




ময়মনসিংহে ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজঃ ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিয়ারপুরে মৃত প্রায় ধরার খাল (বৈলর খাল) পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার দুপুরে ঝড় বৃষ্টির মধ্যে প্রথমে ধরার খালের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে খালের পাড়ে নেমে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খনন কাজের সূচনা করেন। এরপর তিনি খালের পাশে একটি তালগাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন এবং ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ৩.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি ১৯৭৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর খনন করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রায় মরা খালে রূপ নেয়।

গাছ রোপণ ও খননস্থল পরিদর্শনের পর খালের পাশে স্থাপিত মঞ্চে স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে উষ্ণ করতালিতে স্বাগত জানান।