চট্টগ্রাম রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াল নভোএয়ার

ডেস্ক নিউজঃ যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং ভ্রমণ সুবিধা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ার। আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে এই রুটে অতিরিক্ত একটি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে নভোএয়ার।

বর্তমানে নভোএয়ার প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সূচি অনুযায়ী ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে এবং চট্টগ্রাম থেকে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে।

নতুন সংযোজিত ফ্লাইটটি প্রতি সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার চলাচল করবে। এই ফ্লাইট ঢাকা থেকে বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে এবং চট্টগ্রাম থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।

এ বিষয়ে নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন,’চট্টগ্রাম দেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও পর্যটন কেন্দ্র। যাত্রীদের বাড়তি চাহিদা এবং ভ্রমণ সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, নভোএয়ার বর্তমানে চট্টগ্রামের পাশাপাশি প্রতিদিন কক্সবাজার, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করছে।




বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও জুলাই সনদের প্রতি ইতালির সমর্থন

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ব্যাপক সংস্কার ও জুলাই সনদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছে ইতালি। মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা বলেন ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি মাত্তেও পেরেগো দি ক্রেমনাগো।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।

বৈঠকে দুই পক্ষ বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অভিবাসন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং জুলাই সনদসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেন।

জুলাই সনদের প্রশংসা করে সফররত ইতালির উপমন্ত্রী বলেন, দলিলটিতে উল্লিখিত সার্বিক সংস্কারগুলোকে ইতালি সমর্থন করে। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতিও রোমের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

পেরেগো বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এখন বৈশ্বিক গুরুত্বের নতুন কেন্দ্রবিন্দু।

তিনি জানান, ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ইতালি, যাতে আগামী দিনে যৌথভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়।

ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রশংসা করেন দেশটির উপমন্ত্রী। তবে একইসঙ্গে ভূমধ্যসাগরীয় পথে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস ইতালির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি চলতি বছরের মিলানো কোর্তিনা শীতকালীন অলিম্পিককে একটি সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক আয়োজন হিসেবে নকশা প্রণয়নে সহায়তা করেছিলেন।

অধ্যাপক ইউনূস জাপান ও ইতালির মতো উন্নত দেশে যেখানে জনসংখ্যা দ্রুত বার্ধক্যের দিকে যাচ্ছে আইনগত অভিবাসন সম্প্রসারণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

প্রধান উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৃহৎ পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর জন্য ইইউকে প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি শক্তিশালী হবে বলে তার প্রত্যাশা। কারণ, গত ১৬ বছরের শাসনামলে তিনি যাকে ‘ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী শাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেন, সেই সময়ে অনুষ্ঠিত ‘ভুয়া নির্বাচনে’ বহু তরুণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি।

এ ছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা জোরদারে ইতালির সমর্থন কামনা করেন তিনি।

বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন।




বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিক পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নিচ্ছে ভারত

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন ও অন্যান্য মিশনে দায়িত্বরত কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি।

ভারত সরকারের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে পিটিআই গতকাল মঙ্গলবার এমনটি জানিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এমন পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে দেশটির হাইকমিশন, সহকারী হাইকমিশন এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর যথারীতি খোলা থাকবে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে আমলে নিয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেশটিতে কর্মরত সব ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের ভারতে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন তারা।

তবে ভারতীয় কূটনীতিকরা জানান, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ও অন্যান্য মিশন পূর্ণ সক্ষমতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।




পদ্মা সেতুতে টোল আদায়ের অনন্য মাইলফলক

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে আজ পর্যন্ত সেতুটি থেকে সংগৃহীত মোট টোলের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা টোল আদায়ের ক্ষেত্রে অনন্য মাইলফলক।

মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর থেকে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিতকারী এই সেতুটি দিয়ে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা এবং রাজস্ব আদায় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেতুটি চালুর ফলে যাতায়াতের সময় সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং শিল্পজাত পণ্য পরিবহনে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বিশেষ দিক-নির্দেশনায় এবং সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানের ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

সেতু কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে (মাওয়া ও জাজিরা) স্থাপিত অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) পদ্ধতি টোল আদায় কার্যক্রমকে বেগবান করেছে এতে যানবাহনকে টোল প্লাজায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না, ফলে সময় বাঁচে। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (জঋওউ) কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায়ের ফলে যাতায়াত আরও দ্রুত ও সহজতর হয়েছে। জনগণের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা এবং ডিজিটাল টোল সিস্টেমের আধুনিকায়নের ফলেই এই সাফল্য দ্রুত অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

পদ্মা সেতুর টোল আদায়ের এ মাইলফলক অর্জনের জন্য গাড়ির মালিক, চালক, শ্রমিক, সেতুর দুই পাড়ের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট অপারেটর, সাইট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেতু সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

সূত্র : বাসস




৬ মাসের চিকিৎসা শেষে বুধবার ছাড়পত্র পাচ্ছে মাইলস্টোন শিক্ষার্থী রহিম

ডেস্ক নিউজঃ আজ জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট (এনআইবিপিএস) থেকে ছাড়পত্র পাচ্ছে রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনায় সর্বশেষ আহত শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম (১৩-১৪ বছর) ২০২৫ সালের ২১ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির উত্তরা শাখায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়। দীর্ঘ ছয় মাসের নিবিড় চিকিৎসা শেষে আগামীকাল বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাচ্ছে।

মঙ্গলবার এনআইবিপিএস-এর আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, ‘আগামীকাল বুধবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে আমরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ দুর্ঘটনার শেষ আহত রোগীকে ছাড়পত্র দেব।’

রহিমের ছাড়পত্রের মধ্যদিয়ে ওই দুর্ঘটনায় আহত মোট ৩৬ জন রোগীর সবাই চিকিৎসা শেষে বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে ছাড়পত্র পাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই দুপুর ১টার দিকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি ফাইটার জেট মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই তলা ভবনে বিধ্বস্ত হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই দুর্ঘটনায় পাইলটসহ মোট ৩৫ জন নিহত হন।




নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র যেকোনোভাবে এবং যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘লুট হওয়া অস্ত্র যেভাবেই হোক নির্বাচনের আগেই উদ্ধার করতে হবে।’

মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভায় প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা সভায় সভাপতিত্ব করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এটি নিকার-এর প্রথম সভা।

সভা শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সভায় প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অস্ত্র উদ্ধারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

নির্বাচন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে শফিকুল আলম বলেন, ‘যারা নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন, তাদের অনেকের পেছনের ইতিহাস আমরা জানি। তারা গত সাড়ে ১৫ বছরে কী পরিমাণ দালালি করেছেন, সেটা আমাদের অজানা নয়। তাই এ ধরনের বক্তব্যে আমরা অবাক হচ্ছি না।’

তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবার আছে, সবাই কথা বলতেই পারেন। তবে নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখেই নির্বাচন হবে। নির্বাচন এর একদিন আগেও হবে না, একদিন পরেও হবে না। নির্ধারিত দিনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তা খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, নির্বাচন হবে না-এমন বক্তব্য যারা দিচ্ছেন, তাদের কাছে এর পেছনের যুক্তি জানতে চাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘কেউ যদি নির্বাচন হবে না-এ দাবির পেছনে কোনো যৌক্তিক বা বাস্তব কারণ দেখাতে না পারেন, তাহলে সেটিকে গণতন্ত্রবিরোধী ও নির্বাচনবিরোধী প্রপাগান্ডা হিসেবে ধরে নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সে লক্ষ্যেই প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে ছড়ানো গুজব দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না বলে ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।




জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আজ বিকালে গণভবনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে জাদুঘরে পৌঁছান এবং জাদুঘরে থাকা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস ও শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্রগুলো ঘুরে দেখেন।

এসময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম।

গুমের শিকার পরিবারেরগুলোর সংগঠন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা তুলি ও গুম থেকে ফেরত ভিকটিম ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, জুলাই অভ‍্যুত্থানে সম্মুখসারিতে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম খান, জুলাই জাদুঘরের গবেষকসহ দায়িত্বশীল অন্যান্যরা আগতদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে অভ্যুত্থানের ছবি, বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সে সময়কার পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিওসহ নানা উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এছাড়া তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে।

জাদুঘরে পরিদর্শনে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গুম, রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই জাদুঘর জুলাই শহিদদের রক্ত তাজা থাকতেই করা সম্ভব হয়েছে, এটা গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না ভবিষ্যতে কোথাও যেন আর এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন হোক। যদি আমাদের জাতি কখনো কোনো কারণে দিশেহারা হয় তবে এই জাদুঘরে পথ খুঁজে পাবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত হবে এখানে এসে একটি দিন কাটানো, শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে এই জাদুঘরে আসবেন। এই জাদুঘরে একটা দিন কাটালে মানুষ জানতে পারবে কী নৃশংসতার মধ্য দিয়ে এ জাতিকে যেতে হয়েছে। এখানে যে আয়নাঘরগুলো তৈরি হয়েছে সেখানে কিছু সময়, কয়েক ঘণ্টা অথবা একটা দিন কেউ যদি থাকতে চায় সে যেন থাকতে পারে।’

তিনি বলেন, আয়নাঘরে বসে পরিদর্শনকারীরা উপলব্ধি করতে পারে কী নৃশংসতার মধ্যে বন্দিরা ছিল!

‘এ ধরনের নৃশংস ঘটনা না হওয়ার পক্ষে কীভাবে আমরা সবাই এক থাকতে পারি সেটা মনের মধ্যে আনতে হবে। এই একটা মতে আমরা সবাই এক থাকব যে এই ধরনের নৃশংস দিনগুলোতে এ জাতি আর ফিরে যাবে না,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, নৃশংস একটা কাণ্ড হচ্ছিল। তরুণরা, ছাত্ররা এটার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, প্রতিহত করেছে। তাদের কোনো অস্ত্রশস্ত্র ছিল না, কিছু ছিল না। সাধারণ মানুষও যে এমন নির্ভয়ে, সাহসিকতার সঙ্গে অস্ত্রের মুখে দাঁড়াতে পারে– এটাই আমাদের শিক্ষা।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ জাদুঘরের কাজে নিয়োজিত সকলকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘অল্প সময়ে এই জাদুঘরের কাজ এই পর্যায়ে এসেছে এটা একটা রেকর্ড। এটা সম্ভব হয়েছে অনেক ছেলে-মেয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে। আট মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে এখানে কাজ করেছেন অনেকে। তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

‘আমাদের আরও বেশ কিছু সেকশনের কাজ আগামী কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হবে। এবং নির্বাচনের আগেই সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। জুলাই জাদুঘর ইতিহাসের চিহ্ন বহন করে দাঁড়িয়ে থাকবে। বাংলাদেশের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের রাজনীতির আকর হয়ে থাকবে এটা। ভবিষ্যত রাজনৈতিক ডিসকোর্স-শিক্ষা-গবেষণায়, শিল্প-সাহিত্য চর্চায়ও এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে,’ বলেন তিনি।




সরকারি কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতায় বড় সুখবর

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈশাখ উদযাপন আরও আনন্দমুখর করতে বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর পথে হাঁটছে জাতীয় বেতন কমিশন। নবম পে স্কেলের আওতায় বৈশাখী ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুপারিশ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

আগামী বুধবার (২১ জানুয়ারি) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে।

নবম পে স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন (পে কমিশন)।

পে কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জানিয়েছে, বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পান। এই হার বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পে কমিশনের এক সদস্য সাংবাদিকদের জানান, বৈশাখী ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি কমিশনের সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তবে ঈদ উপলক্ষে প্রদত্ত বোনাস আগের নিয়মেই বহাল থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।




চিকিৎসা নিতে থাইল্যান্ড যাওয়ার অনুমতি মেলেনি আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেমের

ডেস্ক নিউজঃ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেন স্পাইনাল কর্ডের চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করলেও অনুমতি মেলেনি আদালতের।

মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ মোয়াজ্জেম হোসেনের আবেদন খারিজ করে দেন। এদিন তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. রায়হান। শুনানিকালে মোয়াজ্জেম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তকে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি কোনো প্রকার আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তিনি দৃঢ়ভাবে চ্যালেঞ্জ করছেন এবং আইনিভাবে তা মোকাবিলা করবেন। তাই তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া জরুরি।

আবেদনে আরও বলা হয়, মোয়াজ্জেম হোসেন পড়ে গিয়ে স্পাইনাল কর্ডে আঘাত পান এবং সেখান থেকে ফ্লুইড বের হয়ে যায়। চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড থেকে মেডিকেল ভিসা ইনভাইটেশন লেটার পাঠানো হয়েছে এবং আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, গত বছরের ২৪ মে একই আদালত দুর্নীতির অভিযোগে মোয়াজ্জেম হোসেনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন।

সে সময় আবেদনে বলা হয়, মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন-এমন আশঙ্কায় সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশ গমন রহিত এবং এনআইডি ব্লক করা প্রয়োজন।




ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে বন্ড পরিশোধ নয় : মার্কিন দূতাবাস

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের নাগরিক যারা পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান তাদের জন্য বুধবার থেকে ভিসা বন্ড নীতি কার্যকর হবে। তবে ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে কোনোভাবেই বন্ড পরিশোধ না করার জন্য আবেদনকারীদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। সোমবার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে যারা ব্যবসা বা পর্যটন ভিসা (বি-১/বি-২) আবেদন করে অনুমোদন পাবেন, তাদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। তবে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারির আগে ইস্যু করা বৈধ বি-১/বি-২ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে বন্ড পরিশোধ করবেন না। আগাম বন্ড পরিশোধ করলে তা ভিসা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। এ ছাড়া তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট প্রতারণামূলক হতে পারে। সাক্ষাৎকারের আগে পরিশোধ করা কোনো অর্থ ফেরতযোগ্য নয়। তবে ভিসার শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করলে পরবর্তীতে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

এর আগে, ৬ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।