কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটির উদ্যোগে ১৫৩ হৃদরোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা

ডেস্ক নিউজ : জন্মগতভাবে হৃদরোগে (কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ) আক্রান্ত ১৫৩ শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশন।

২ থেকে ৯ মে পর্যন্ত রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চ্যারিটি কার্ডিয়াক মিশনের মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টরা যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ সময় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রায় ১০৮ জন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর হার্টে ডিভাইস স্থাপন ও বিভিন্ন ইন্টারভেনশন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে রমজান উপলক্ষে এ উদ্যোগের আওতায় আরও ৩১ জন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এছাড়াও ১৪ শিশুকে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য নির্বাচন করা হয়। যার মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচজনের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট নয়জন শিশুর সার্জারি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফাউন্ডেশনটি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।

সর্বশেষ চ্যারিটি মিশনটি সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান কিডস হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম।

বাংলাদেশ টিমের সহযোগী হিসেবে ছিলেন ডা. আশিক মো. রায়হান চৌধুরী, ডা. প্রিয়াঙ্কা দাস, ক্যাথ ল্যাব চীফ টেকনিশিয়ান মো. আনোয়ার হোসেন, কালাম, নায়িম, আশরাফ, শাহ-আলম প্রমুখ।

কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদল, বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিকিৎসক মো. নোমান, জর্ডান থেকে ডা. ইয়াদ আল অমৌরি, ফিলিস্তিন থেকে ডা. হাসান, কাতার থেকে ডা. আব্দুল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন।
উল্লেখ জন্মগত হৃদরোগ (কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ) শিশুদের জন্য এক নীরব ঘাতক। বিশ্বব্যাপী প্রতি হাজারে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন শিশু জন্মগত হৃদরোগে নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বাংলাদেশে এ হার আরও উদ্বেগজনক। প্রতি হাজারে প্রায় ১৮ থেকে ২৫ জন শিশু এ রোগে আক্রান্ত। এসব শিশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের চিকিৎসা বর্তমানে কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই ইন্টারভেনশন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা সম্ভব হলেও চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় বহু পরিবার এ ব্যয় বহনে অক্ষম। ফলে প্রতিবছর অসংখ্য শিশু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রাণ হারায়।



অটোরিকশার ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত

ডেস্ক নিউজ : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দ্রুতগতির সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থী তন্ময় কুরী (১৬) নিহতের ঘটনায় ঘাতক চালক মো. নাজমুলকে (২০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।

সোমবার দুপুরের দিকে আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এর আগে রোববার রাত ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকার কলেজ গেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার নাজমুলের উপজেলার নাজিরপুর এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে। নিহত কুরী বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী ডেলটা জুট মিল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। সে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল।

র‌্যাব জানায়, গত ৬ মে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মিনিটে বেগমগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ গেটের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুত ও বেপরোয়া গতির একটি নম্বরবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা তন্ময় কুরী ও তার সহপাঠী জিৎ দেবনাথকে ধাক্কা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তন্ময়ের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নোয়াখালীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর। তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাবা কার্তিক কুরী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অভিযুক্ত চালককে শনাক্ত করে গ্রেফতার করে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বেগমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




ভূমি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ভূমিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, জমির মালিকানা যাতে কৃষকদের হাতেই থাকে, ভূমি ব্যবস্থায় যাতে দখলদারিত্ব না থাকে, এক্ষেত্রে ভূমি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (১৮ মে) সচিবালয়ে ভূমি সেবা মেলা উপলক্ষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, অতীতে জমি সংক্রান্ত যে মামলা জটিলতা ছিল, জমির মালিকরা ভূমি সংক্রান্ত কাজে নানাভাবে বিভ্রান্ত হতেন, হয়রানির শিকার হতেন, এ সকল জটিলতা দূর করা হবে।
এ সময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি হয়রানিমুক্তভাবে জনগণকে সেবা দিতে চাই। এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে ভূমিসেবা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এখন থেকে সারাদেশে ৮৯৩ টি সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সেবা নিতে পারবেন। 



কোন হাটে যাবে কোরবানির পশু, ট্রাকে লিখতে হবে নাম-ঠিকানা

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশু পরিবহনে ট্রাকের সামনে সংশ্লিষ্ট হাটের নাম ও ঠিকানা সুস্পষ্টভাবে ব্যানারে প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

সোমবার (১৮ মে) সংবাদ মাধ্যমে সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের যে কোনো স্থান থেকে কোরবানির পশু—গরু, ছাগল, মহিষসহ অন্যান্য পশু—ট্রাকে করে যে হাটে বিক্রির জন্য নেওয়া হবে, সেই হাটের নাম ও ঠিকানা ট্রাকের সামনে দৃশ্যমানভাবে ব্যানারে লিখে রাখতে হবে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা গ্রহণ সহজ হবে এবং রাস্তায় অন্য কারও দ্বারা বাধা বা হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

এতে আরও বলেন, পরিবহনের সময় কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হলে সংশ্লিষ্টদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে হবে। বিষয়টি যথাযথভাবে পালনের জন্য সব ট্রাক মালিক ও চালকদের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো।




চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজঃ ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সোমবার (১৮ মে) সকালে তিনি দেশে ফেরেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং।

গত ৯ মে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফলো-আপ চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন রাষ্ট্রপতি। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে তার হৃদযন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক শনাক্ত হয়। পরে ১২ মে জরুরি ভিত্তিতে সফলভাবে এনজিওপ্লাস্টি করা হয় এবং একটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়।

যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজে অবস্থিত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল-এ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলি-এর তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়।

পরীক্ষার সময় হৃদযন্ত্রে উল্লেখযোগ্য ব্লক ধরা পড়লে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করেন এবং স্টেন্ট স্থাপন করেন।
বঙ্গভবন সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি এর আগেও হৃদরোগজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিনি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল-এ ওপেন হার্ট সার্জারি করান। এরপর থেকে হৃদযন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতার চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে ক্যামব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে ফলো-আপ চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য পরিচিত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল বিশ্বে প্রথম সফল হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত। রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ চিকিৎসাও সেখানেই সম্পন্ন হয়।




প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এনইসি সভা চলছে

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শুরু হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশন মিলনায়তনে এ সভা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। সভায় এডিপি চূড়ান্ত ও অনুমোদন দেয়া হতে পারে।

এছাড়া ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত রূপরেখা (২০২৬-২০৩০ অর্থবছর)’ শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলপত্রের রূপরেখা উপস্থাপন ও অনুমোদনের বিষয়ও রয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানসহ অন্যরা অংশ নিয়েছেন।




আমার ব্যাপারে সব সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসত: আরমান

ডেস্ক নিউজ : গুম থাকার সময় তাঁর ব্যাপারে সব সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসত বলে জেরায় উল্লেখ করেছেন সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ রোববার আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মীর আহমাদ বিন কাসেম চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ নানা ব্যস্ততার কারণে এত দিন তাঁর জেরা শেষ হয়নি। রোববার তাঁর জেরা সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে এই মামলায় তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হলো।

এই মামলার পলাতক আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের জেরার জবাবে আরমান বলেন, পত্রপত্রিকা বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে শেখ হাসিনা গুমের নির্দেশ দিয়েছেন—এমনটা জানতে পারেননি। তবে তিনি গুম থাকার সময় সেখানকার ‘সিনিয়র একজন’ তাঁকে বলেছিলেন, তাঁর ব্যাপারে সব সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসে। তখন তিনি বুঝতে পারেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসত।

এ মামলার অপর সাত আসামি পলাতক। তাঁরা হলেন শেখ হাসিনা, তাঁর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এম খুরশীদ হোসেন ও মো. হারুন অর রশিদ এবং লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।




সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় অংশ নিয়েছেন। রোববার (১৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান। 
দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড অ্যান্ড গ্রুপ’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র পেশ ইমাম আবু রায়হান।
এতে আরো অংশ নেন  জাতীয় সংসদের স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অন্যান্য সদস্য।
জানাজা শেষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । এরপর একে একে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ অন্যরাও সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৫ মে) রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
মিজানুর রহমান সিনহা মুন্সিগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মিজানুর রহমান সিনহা। এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সর্বশেষ ঘোষিত মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটিতে তাকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।



শাহজালালে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু, একসঙ্গে উপকৃত হবেন ৩৭ হাজার যাত্রী

ডেস্ক নিউজঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রবিবার (১৭ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো বিনামূল্যে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই সেবা। এদিন দুপুর ২টায় এ সেবার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। এখন থেকে বিমানবন্দরে আসা যাত্রীরা বিনা খরচে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

এ সময় আফরোজা খানম বলেন, ‘বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ‘সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট’ প্রতিশ্রুতির আলোকে এই সেবা চালু করেছে। আশা করছি থার্ড টার্মিনালও দ্রুত উদ্বোধন করতে পারব, যা আমাদের জন্য হবে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’

বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, নতুন এই নেটওয়ার্কে একই সময়ে ৩৭ হাজারেরও বেশি যাত্রী ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে পারবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

জানা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে এই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক কাভারেজ দেবে। এর আওতায় রয়েছে— টার্মিনাল ১, টার্মিনাল ২, ডোমেস্টিক টার্মিনাল, ভিআইপি টার্মিনাল, ভিভিআইপি টার্মিনাল এবং কার পার্কিং এলাকা। এই বিস্তৃত কাভারেজের ফলে বিমানবন্দরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অংশেই যাত্রীরা বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

সেবাটির জন্য পুরো নেটওয়ার্কটি তৈরি করতে স্থাপন করা হয়েছে ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট, ৪৮ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ও ইথারনেট কেবল এবং ৩৭টি অ্যাক্সেস সুইচ। প্রতিটি অ্যাক্সেস পয়েন্ট সর্বোচ্চ ১৫০ জন ব্যবহারকারীকে একসঙ্গে সেবা দিতে সক্ষম। সম্পূর্ণ সিস্টেম সর্বোচ্চ ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।




ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ডেস্ক নিউজঃ দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ আখ্যা দিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৪ জনের ভূমিকা তদন্ত এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটে হামের টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়।

রিটে কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল একই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম। ওই নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছিল। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশে আবারও হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বহু শিশু ও সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
রিটে যাদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা। হামের টিকা ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার ‘অশুভ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে’ স্বার্থসংশ্লিষ্টভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে এই তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম।