কর্ণফুলী টানেলে আয়ের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যয়: সেতুমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল থেকে প্রতি মাসে যে পরিমাণ টোল আদায় হয়, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে তার প্রায় দ্বিগুণ ব্যয় হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী বলেন, কর্ণফুলী টানেল থেকে মাসিক গড়ে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫১ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় হলেও পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয় ৬ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৯১ টাকা।

তিনি জানান, টানেলের ভেতরে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, আলোকসজ্জা, বায়ু চলাচল ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা, সিসিটিভি এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো অত্যাবশ্যকীয় সেবার কারণে পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক বেশি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, টানেল চালুর পর প্রথমদিকে প্রতিদিন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় হতো। তবে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি এবং সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উদ্যোগে কম গুরুত্বপূর্ণ খাতের ব্যয় কমিয়ে বর্তমানে দৈনিক ব্যয় ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। টানেলকে লাভজনক করতে সরকার আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪০-এর সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে সড়কমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার করিডরে দেশের প্রথম বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) দ্রুত চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি আরও উন্নত করে জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মহাসড়কে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং গণপরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রমকারী যানবাহনের চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

সংরক্ষিত আসন-৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে মহাসড়কের পরিবর্তে স্থানীয় ফিডার সড়কে সীমাবদ্ধ রাখতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করা এবং কঠোর রুট নিয়ন্ত্রণসংবলিত থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় যানবাহন পরিচালনা নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, যেসব যানবাহনের ফিটনেসের মেয়াদ ১০ বছর আগে শেষ হয়েছে এবং নবায়ন করা হয়নি, সেগুলো সড়ক থেকে অপসারণ ও নিবন্ধন বাতিল করা হচ্ছে। আর যেসব যানবাহনের ফিটনেসের মেয়াদ পাঁচ বছর আগে শেষ হয়েছে, সেগুলোর নবায়ন কার্যক্রম চলছে। এসব যানবাহনের তালিকা পুলিশের কাছে পাঠানোর পাশাপাশি মালিকদেরও নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। সম্ভাব্য তিনটি রুট বিবেচনায় রয়েছে—বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ, গাইবান্ধার বালাসী থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত করিডর।

এদিকে সংরক্ষিত আসন-১১-এর সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী জানান, ঢাকা মহানগরের তিনটি লেভেল ক্রসিংয়ে বুয়েটের সহায়তায় পরীক্ষামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় ব্যারিয়ার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সব অনুমোদিত লেভেল ক্রসিংয়ে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। ভবিষ্যতে এসব ক্রসিংয়ে ক্যামেরা ও স্মার্ট গেট সিস্টেম স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।




এবারের বাজেট হবে বাস্তবমুখী, সব মানুষের জন্য আনবে স্বস্তি: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এবারের বাজেট হবে সুন্দর, স্বাভাবিক ও বাস্তবমুখী। সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি আনবে এবারের বাজেট।

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন)-এর ১৮তম কার্যদিবসে নিজের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে ৬১ পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহারের পর পণ্যের দাম স্বাভাবিক আছে। এবারই প্রথম বাজেট ঘোষণার পর কোন নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। প্রস্তাবিত এ বাজেটকে তিনি ‘জীবনবান্ধব’ বাজেট আখ্যা দেন।

তিনি বলেন, দেশের নানামুখী সংকটকে অস্বীকারও করতে চাই না, আবার অযুহাতও বানাতে চাই না। অর্থ পাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গিয়েছিল। দেশে এখন একটি গণতান্ত্রিক অবস্থা তৈরি হয়েছে। অতীতের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগোতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কিছু বিষয়ে ঐকমত্য ও কিছু বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও জনগণের মধ্যে আমরা আশার সঞ্চার করতে পেরেছি৷ যদিও আমরা সংসদে যতটা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছি, এর চেয়ে বেশি অতীত নিয়ে কথা বলেছি। তবে জনগণ চায় ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি।

তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণের কারণেই আমরা সংসদে এসে দেশকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারছি৷ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে বিপুল বিদেশি ঋণের বোঝা চাপিয়েছে বিগত সরকার। এ বোঝা জনগণকে অনেক বছর টানতে হবে।

‘ঋণ নয়, উৎপাদন হবে বিনিয়োগ নির্ভর। এমন একটি দেশ গড়তে চাই, তরুণরা যেনো নিজেই নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে’, যোগ করেন তিনি।




নবম পে স্কেল: জুলাই থেকেই কার্যকর হতে পারে নতুন মূল বেতন

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশীত নতুন বেতনকাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়ন হতে পারে। এর মধ্যে আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন স্কেলে সম্পূর্ণ মূল বেতন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

জানা যায়, চলতি সপ্তাহেই পে কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন কমিটি শুরুতে তিন ধাপে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সুপারিশ করেছিল।

সুপারিশ অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে কমিশনের সুপারিশ করা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জুলাই বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব ছিল। তবে এভাবে পে-স্কেল কার্যকর করতে গেলে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

অনেক কর্মচারীর ক্ষেত্রে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে বর্তমান মূল বেতন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে নতুন বেতনকাঠামোর ৫০ শতাংশ কার্যকর করলেও প্রকৃত বেতন বাড়বে খুব সামান্য। কারও কারও মোট বেতন কমেও যেতে পারে।

এ নিয়ে সরকারি কর্মচারীরা আপত্তি জানালে বাস্তবায়ন কমিটি পরিকল্পনা পরিবর্তন করে। এখন আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন ভাতা কার্যকরের সুপারিশ করা হচ্ছে।

একটি সূত্র বলছে, সরকারের আর্থিক সংগতি থাকলে নতুন বেতন কাঠামো একবারেই বাস্তবায়ন করত। তবে তিন ধাপের বদলে দুই ধাপে করতে পারলেও ভালো। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের রাজস্ব সংগ্রহে মনোযোগ দিতে হবে।

এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।

এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাসচিব, স্বাস্থ্যসেবাসচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।

সূত্র জানায়, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর পৃথক বেতনকাঠামোর প্রতিবেদনও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এখন শুধু প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা।




প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আজ

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র’ থেকে একযোগে দেশের ২৯ হাজারেরও বেশি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

রোববার (২৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রতিজন শিশুকে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণে সম্পৃক্ত করতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের শিক্ষাঙ্গনে এই নতুন সবুজায়ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর আওতায় আগামী ৫ বছরে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শেরে বাংলা নগরের ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে’ আয়োজিত মূল অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী দুপুর ২টায় মাধ্যমিক পর্যায়ের মোট ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদ্রাসা রয়েছে।

এ কর্মসূচি সোমবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিশেষ কারণে তা দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিবছর প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার টাকা করে বিশেষ জলবায়ু সচেতনতা অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। এ বছর কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১টি ফলদ বৃক্ষ, ১টি বনজ বৃক্ষ ও ১টি ঔষধি বৃক্ষ রোপণ করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় পর্দায় সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট এলাকার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে সরাসরি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।

অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ অংশগ্রহণমূলক হবে এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সাথে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পাবেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আজ প্রতিটি ক্যাম্পাসে জলবায়ু বিষয়ক ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হবে বলেও জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে এদিন একই মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’-এর জাতীয় পর্যায়ের তরুণ উদ্ভাবকদের তৈরি স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রদর্শনীর স্টল পরিদর্শন এবং সেরা উদ্ভাবকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, আয়োজনটি সফল করতে রোববার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের মূল ভ্যেনু ও প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।




বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন

ডেস্ক নিউজঃ বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেয়ায় আশার আলো দেখা দিলেও পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেয়া হয়।

এর আগে তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।
দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।



হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ : গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে ১ হাজার ৫৭ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৬ শিশুর। এই হিসাব গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে।

আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৩। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬১৯ জন। মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৭১২ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৮৯ শিশু। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৬৫ শিশু। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে দুইজন এবং ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯৯ হাজার ২০৭ শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৭১০ শিশুর। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১০ হাজার ৯১৭ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮২ হাজার ৮৪৪ শিশু। আর সুস্থ হয়ে ৭৯ হাজার ১৫২ শিশু হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে।




আজ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করলো ভারত

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ প্রায় দুই বছর স্থগিত থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য আবারও ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করেছে ভারত। রোববার (২৮ জুন) থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনাসহ দেশের সব ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। 

রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে আবেদনকারীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় সাধারণ আবেদনকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভিসা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এখন থেকে ট্যুরিস্ট ভিসার পাশাপাশি আগের মতোই মেডিকেল ভিসা ও অন্যান্য জরুরি ভিসা কার্যক্রমও চলমান থাকবে।

ভিসা আবেদনকারীরা মনে করছেন, ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর ফলে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজতর হবে। এটি শুধু পর্যটন খাতেই নয়, বরং দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাখাতেও নতুন গতির সঞ্চার করবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় যেসব শিক্ষার্থী বা ব্যবসায়ী নিয়মিত ভারত যাতায়াত করতেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর।

ভিসা আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। আবেদন প্রক্রিয়া আগের মতোই অনলাইনে সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ে ভিসা কেন্দ্রে পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভিসা আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরুর ফলে ভারতগামী ভ্রমণপিপাসুদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে এবং পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।




এ বছরই আমি দেশে ফিরব: শেখ হাসিনা

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে থাকা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র এবং আইনি বাধা উপেক্ষা করে তিনি চলতি বছরই দেশে ফিরবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। 

নির্বাসিত জীবনে থাকা শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন, দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়। বরং এটি বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমার এই সংগ্রাম।”

তিনি মৃত্যুকে ভয় পান না জানিয়ে বলেন, ১৯৭৫ সালের ট্র্যাজেডি এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো কঠিন সময় পার করেছেন। প্রতিবারই জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এবারও সব বাধা অতিক্রম করে তিনি তার মাতৃভূমিতে ফিরে আসবেন।

দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি বাংলার মাটি ও মানুষের ইতিহাস এবং জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি বারবার কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু বাংলাদেশবিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতা পরিবর্তন করেছে। কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি।

দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও হাজারো মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না। তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলটির সমর্থনে মিছিল করছেন, যা আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের স্পষ্ট লক্ষণ।

শেখ হাসিনা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মূল ভিত্তি—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর আঘাত হানা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ এবং সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টার অংশ।

বিএনপি বা অন্য কোনো শক্তির সঙ্গে গোপন সমঝোতার গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না। গণতন্ত্র এবং জনগণের ভোটাধিকার কোনো গোপন দর-কষাকষির বিষয় নয়; এগুলো সাংবিধানিক অধিকার।”

ভারতে অবস্থান করলেও তার মন পড়ে আছে বাংলাদেশে। তিনি জানান, বাবার সমাধি এবং প্রিয় দেশবাসীর কথা ভেবে তিনি প্রতিটি মুহূর্ত অস্থিরতায় পার করেন। তিনি বলেন, “আমি শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণ আবারও গণতন্ত্র ফিরে পাবে এবং আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতেই ঘুরে দাঁড়াবে।”




৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব

ডেস্ক নিউজঃ মানুষের কাছে থাকা নগদ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফেরাতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

ব্যাংক খাতে আস্থাহীনতার কথা তুলে ধরে নোয়াখালী-১ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, অনেকেই এখন ব্যাংকে অর্থ না রেখে বাসায় নগদ সংরক্ষণ করছেন। অতীতে অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা স্বৈরাচারী শাসনের সুবিধাভোগীদের কাছেও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এতে বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকের বাইরে অবস্থান করছে।

মাহবুব উদ্দিন বলেন, সরকার যদি ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে যেসব অর্থ আয়কর নথিতে নেই, সেগুলো ২৫ শতাংশ কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে বাজেট ঘাটতি কমবে, ব্যাংক খাতে তারল্য বাড়বে এবং বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী খাতে অর্থ ব্যবহার সম্ভব হবে বলে তিনি মত দেন।

দেশে ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর পক্ষেও মত দেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় দেশে ব্যাংক বেশি। জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংক খাত পুনর্গঠন জরুরি। জনগণের অর্থ দিয়ে বারবার ব্যাংকের ঘাটতি পূরণ করতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টাকা পাচারকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে মাহবুব উদ্দিন বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানো কঠিন। তাই এমন আর্থিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে মানুষ দেশে বিনিয়োগে আস্থা পায়। শুধু আইন প্রণয়ন নয়, পুরো ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেকারত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিপুলসংখ্যক যুবকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হলে স্থিতিশীলতা আসবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ঘাটতি বাজেট অস্বাভাবিক নয়; বিশ্বের অনেক দেশেই ঘাটতি বাজেট হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।




সারা দেশে শুরু ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন, ক্যাপসুল পাবে ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু

ডেস্ক নিউজঃ সারা দেশে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন-২০২৬। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একযোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় পরিচালিত এ ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন।

সারা দেশে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র এবং প্রায় ৫০০ অস্থায়ী কেন্দ্র, যেমন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও ফেরিঘাটে ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা এই কাজে নিয়োজিত থাকবেন। নির্ধারিত দিনে কোনো শিশু ক্যাপসুল গ্রহণ করতে না পারলে পরদিন সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তা গ্রহণ করা যাবে। এছাড়া ১২ জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলার জন্য আরও চার দিন বিশেষ কার্যক্রম চলবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

জানা গেছে, শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে ১৯৭৩ সাল থেকে দেশে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়নো শুরু হয়। এটি তখন ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে কার্যক্রমটিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সাথে ভিটামিন এ কে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সাল থেকে এটিকে আলাদা একটি কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করা হয় যার নাম দেওয়া হয় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন, যা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো।

২০১১ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা বা এনএনএস অপারেশন প্ল্যানের অধীনে ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পরিচালিত হয়ে আসছিল এবং পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০২৬ সালে কার্যক্রম হিসেবে পুনরায় চালু করা হয়েছে। ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান।