প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আগামীকাল ১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’ (The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি ও অগ্রগতির ফলে বিশ্বের দেশে দেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দীর্ঘায়ু মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে; একই সঙ্গে দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলোকে সময়োপযোগী করে তোলার প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় সরকার সচেতন ও সতর্ক। একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি প্রবীণ বয়সে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লিখিত কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ধারণার আলোকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। প্রবীণদের অবহেলা না করে তাঁদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।

দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে।

প্রবীণ ব্যক্তিদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই একটি কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।

তিনি বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র-তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি। প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থরক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে রাষ্ট্র ও সমাজে আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ যত বেশি বজায় থাকবে, সমাজে প্রবীণদের যত্ন, সম্মান ও মর্যাদা তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের এ শুভক্ষণে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা তাঁর সরকারের লক্ষ্য, যেখানে বয়সে তরুণ কিংবা প্রবীণ প্রতিটি মানুষ তাঁর সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে।

তিনি ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস, ২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।




জাপানের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে দুই দেশের উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মঈন খান।

সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপান দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জাপানের সহযোগিতা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা করি।

বৈঠকে জাপানের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টেকসই সমাজ বিনির্মাণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এসব খাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা। এ সময় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব কোমিনে কেন, দ্বিতীয় সচিব সোমা হানা, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




বিনিয়োগ-রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আরও সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সময় রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংকট সমাধান ও টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের উদ্যোগ সহায়ক হবে।

তিনি তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে আরও সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে প্রস্তুত।

এ সময় তিনি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আলোচনা আরো এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।

এ সময় তিনি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাঁর নিজের এবং বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীন সফরের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ সকল সফর ও বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে।

তিনি  চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরো শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।

এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য রাষ্ট্রপতি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা চান। রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রপতি চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করে বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।




দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা

ডেস্ক নিউজঃ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে ছুটির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন আসন্ন মন্ত্রিসভায় এর অনুমোদন নিয়ে ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। ফলে এবার দুর্গাপূজায় সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা।

প্রশ্ন উঠেছে এই ছুটি কি কেবল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই ভোগ করবেন, নাকি বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীরাও এর আওতায় আসবেন।

ছুটির বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ছুটির প্রজ্ঞাপন ও বেসরকারি খাতও এই ছুটির আওতায় থাকবে কি না, সে বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এটি বড় সিদ্ধান্ত, তাই মন্ত্রিসভার অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের আগে প্রজ্ঞাপন জারির সুযোগ নেই। আশা করা হচ্ছে আগামী মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হবে এবং তারপর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

এই ছুটি কি বেসরকারি খাত অর্থাৎ বেসরকারি ব্যাংক, কলকারখানা ইত্যাদির জন্যও প্রযোজ্য হবে কি না জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা জানান, এটি জাতীয় ছুটি। তাই এটি সবার জন্যই প্রযোজ্য হবে। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস সবার জন্যই প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ ছুটিকালীন সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

অবশ্য এ ধরনের ছুটির ক্ষেত্রে সব সময়ই জরুরি পরিষেবা, যেমন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাকসেবা এবং এ-সংশ্লিষ্ট সেবাকাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এই ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকেন। এ ছাড়া হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এ সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মী, চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী, ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মী এবং জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিসগুলোও ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকেন।

এ ধরনের ছুটি হলে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। আর আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। যখন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে, তখন এসব বিষয় স্পষ্ট করে উল্লেখ করে দেওয়া হয়।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি রয়েছে। পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি। এরপর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। আর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২২ অক্টোবর ছুটির সিদ্ধান্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি হবে।

কয় ধরনের ছুটি আছে, পার্থক্য কী

সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে ছুটিসহ বিভিন্ন রকমের ছুটি আছে। প্রশ্ন হলো, সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে ছুটির মধ্যে পার্থক্য কী?

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সাধারণ ছুটি হলো সেটি, যেটি মূলত উদ্‌যাপন বা পালনের জন্য করা হয়। এটি সর্বজনীন, সবার জন্যই প্রযোজ্য। যেমন ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, বিজয়ী দশমী, বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা), বড়দিন, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, মহান বিজয় দিবস, মে দিবস ইত্যাদি। ২০২৬ সালের ছুটির তালিকায় এ রকম ছুটি আছে ১৪ দিন।

আর সরকার নির্বাহী আদেশে যে সরকারি ছুটি দেয়, তা মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির লোকদের জন্য। ঈদের আগে-পরে নির্বাহী আদেশে এমন সরকারি ছুটি দেওয়া হয়।

যেমন, এ বছরের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি রয়েছে। পরদিন ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি। এরপর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। এখন ২২ অক্টোবরও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ, দুর্গাপূজার পরদিন এই ছুটি।

নির্বাহী আদেশে ছুটি সাধারণত সরকারি, আধা সরকারি, সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হয়। যদিও ইদানীং সরকার ছুটির প্রজ্ঞাপনে বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে যেসব অফিসের সময়সূচি ও ছুটি নিজস্ব আইনকানুন দিয়ে চলে (যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক) অথবা যেসব অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের চাকরি সরকার অত্যাবশ্যক হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেগুলো নিজস্ব আইনকানুন অনুযায়ী জনস্বার্থ বিবেচনা করে এই ছুটি ঘোষণা করে।

অবশ্য বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো, ছুটি সরকার যে কয়দিন নির্ধারণ করে, সাধারণত অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও তা অনুসরণ করে।

সাধারণ ও নির্বাহী-এই দুই ধরনের ছুটির বাইরেও আছে ঐচ্ছিক ছুটি। এটি মূলত ধর্মীয় পর্ব অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন নেওয়ার সুযোগ আছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, একজন কর্মচারীকে তার নিজ ধর্ম অনুযায়ী বছরে অনধিক তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। প্রত্যেক কর্মচারীকে বছরের শুরুতে নিজ ধর্ম অনুযায়ী নির্ধারিত তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে। সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত করে ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

কোন ধর্মের কোন পর্বগুলোতে এই ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়া যাবে, সেটিও বাৎসরিক ছুটির পঞ্জিতে উল্লেখ করে দেওয়া হয়।




সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ও এর আওতাধীন কোম্পানিসমূহের কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া বিসিআইসি ও বিএডিসি কর্তৃক রাসায়নিক সারের উৎপাদন, মজুদ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত দুই বছরে গ্যাস সংকটের কারণে যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানায় মাত্র তিন দিন সার উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া আশুগঞ্জ সার কারখানায় গত ১৯ মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সার সংকট নিরসন ও ব্যয় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে সার উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে পে-অফকৃত সার কারখানাগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বন্ধ সার কারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে পুরোনো সার কারখানাগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বীজ উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের ক্ষেত্রে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, তা পর্যালোচনার পাশাপাশি সার সরবরাহ ব্যবস্থার সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিএডিসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী-সে বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাগণ, বিসিআইসি, বিএডিসি এবং এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তাগণ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




১৩০ বারের মতো পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

ডেস্ক নিউজঃ সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী ৫ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে এই দম্পতির হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১৩০ বার পেছাল। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই তারিখ ঠিক করেন।

এদিন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এ জন্য বিচারক প্রতিবেদন দাখিলের নতুন করে এই তারিখ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। পরে নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির ২ নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে রয়েছে। বাকিরা কারাগারে আটক রয়েছেন।

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি খুন হওয়ার সময় বাসায় ছিল তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে শিশু মাহির সরওয়ার মেঘ।

প্রথমে মামলাটি তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের  গোয়েন্দা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে এসআরবি (সাবেক র‌্যাব) পায় তদন্তের দায়িত্ব।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব এসআরবি থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এক আদেশে বলেন, সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত এখন থেকে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স করবে, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত হবে।

গত ২৩ অক্টোবর সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে উচ্চ আদালতের নির্দেশে টাস্কফোর্স গঠন করে সরকার। চার সদস্যের এই টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক হন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান।




প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন বিকেলে

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ, বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং নিউইয়র্ক সফরের সার্বিক বিষয় তুলে ধরতে আজ সংবাদ সম্মেলন করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রেস উইং জানায়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।




প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরেই অনড় সরকার

ডেস্ক নিউজঃ বিরোধী দলসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সংবিধান সংশোধনের ওপর জোর দিয়েছেন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও টকশো ব্যক্তিত্বরা। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার গঠন ও প্রক্রিয়া, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও সক্ষমতা এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে লিখিত ও সুস্পষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অংশীজনদের মতামত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রণয়নের কথা জানিয়েছে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি।

ব্যক্তিতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি এড়াতে একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব থেকে সরে আসেনি সরকার। এ প্রস্তাবকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে কিছু মতামত এলেও ক্ষমতাসীন দলের অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত। তবে বিরোধী দল আলোচনায় এলে জুলাই জাতীয় সনদের বিভিন্ন প্রস্তাব ও ভিন্নমত নিয়ে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৈঠকে দেশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, টিভি ও অনলাইন মিডিয়ার প্রতিনিধি এবং টকশোতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব কমিটিতে উত্থাপন করেন। কমিটি বৈঠকে আলোচনার বাইরে কারো লিখিত প্রস্তাব থাকলে সেটি কমিটিতে প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ করে।

বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও জানান, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার গঠনপ্রক্রিয়া, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব এসেছে। এসব মতামত পর্যালোচনা করে সংসদে উপস্থাপনের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বিশেষ কমিটি। গণমাধ্যমের সম্পাদক, বার্তা ব্যবস্থাপক, সাংবাদিক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ ১০ বছর থাকার প্রস্তাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আলোচনায় কেউ কেউ মত দিয়েছেন, একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী থাকার মেয়াদ ১০ বছর বেঁধে দেওয়া অগণতান্ত্রিক। কোনো ব্যক্তি ভালো কাজ করলে এবং জনগণ তাঁকে আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইলে সেই অধিকার থাকা উচিত বলেও মত এসেছে। তবে ব্যক্তিতান্ত্রিক বা স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঝুঁকি রোধ করতেই একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন। দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী ইশতেহারেও তা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সরকার এখনো এ প্রস্তাবে অনড় রয়েছে। তবে সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব এলে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবটির পক্ষে ও বিপক্ষে উভয় ধরনের মতামত এসেছে। দীর্ঘ সময় একই ব্যক্তির ক্ষমতায় থাকার ঝুঁকি যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনি জনগণের পছন্দ অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্বাচনের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নও উঠেছে। কমিটি এসব মতামত পর্যালোচনা করবে।

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের মতো একক রাষ্ট্রব্যবস্থায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ কতটা প্রয়োজন, তা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব এসেছে। এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ একটি একক রাষ্ট্র। এখানে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক কোনো কাঠামো নেই। এ বাস্তবতায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কেউ কেউ মত দিয়েছেন। তবে জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষ সংসদ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ায় সরকার সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এগোতে চায়। তবে নতুন কোনো প্রস্তাব এলে তা সংসদে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত পর্যালোচনা করে সংসদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সঙ্গে মতপার্থক্য নিরসনে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে প্রণীত ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সরকার সেটি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে সনদের বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। বিরোধী দল আলোচনায় এসে কোনো অংশে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিলে তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, কমিটি সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধান সংশোধন করতে চায়। যেসব বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলোও আলোচনার আওতায় আসতে পারে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার কাঠামো, গঠনপ্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত থাকবেন, এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বিশেষ কমিটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে, কোন প্রক্রিয়ায় সদস্য নির্বাচন করা হবে এবং কী ধরনের ধাপ অনুসরণ করা হবে, তা নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু প্রস্তাব রয়েছে। আবার কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্টও রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিকল্প পদ্ধতিগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উন্মুক্ত আলোচনার পর দেশের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি সংসদে বিবেচনা করা হবে।

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার বিষয়েও মতামত এসেছে। এ ছাড়া সংবিধানের প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। এসব মতামত লিখিতভাবে পাওয়ার পর কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাবেক প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন দলের সঙ্গেও আলোচনার পরিকল্পনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় যাঁরা ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের মতামতও নেওয়া হবে।

বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনা শেষে একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে বিশেষ কমিটি। সেটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের পর সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন করা হবে।

টকশো ব্যক্তিত্ব ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত বলেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া সবাইকে কমিটির পক্ষ থেকে ধৈর্য ধরে শোনা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার গঠনপ্রক্রিয়া। এ বিষয়ে সবাইকে সুচিন্তিত ও লিখিত মতামত দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টেকসই করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সংবিধান এমনভাবে সংশোধন করা প্রয়োজন, যাতে তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকে এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে আবার সংশোধনের প্রয়োজন না হয়।

জুলাই জাতীয় সনদের যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট নেই, সেগুলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের পক্ষে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী মত দিয়েছেন বলে জানান তিনি। নোট অব ডিসেন্ট থাকা বিষয়গুলো নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনা করে কোনো কোনো প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না, সে বিষয়ে মত এসেছে।

বিরোধী দলসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় রেখে সংশোধনী প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. সায়ন্ত বলেন, একসঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে বিতর্ক কমবে এবং সংশোধনীর গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

বৈঠকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় উচ্চকক্ষের প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উচ্চকক্ষ হলে রাষ্ট্রের ব্যয় বাড়বে কি না এবং এটি অতিরিক্ত বোঝা তৈরি করবে কি না, এ বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আবার উচ্চকক্ষে বিভিন্ন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে নিরপেক্ষ সিভিল সোসাইটির পরিসর সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কার কথাও কেউ কেউ বলেছেন।

বিশেষ কমিটির বৈঠকে গণমাধ্যম ব্যক্তিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং কমিটির সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল।




চার জেলায় নতুন ডিসি

ডেস্ক নিউজ : টাঙ্গাইল, নীলফামারী, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পিরোজপুরের ডিসি আবু সাঈদকে টাঙ্গাইলের ডিসি করা হয়েছে। আর অর্থ বিভাগের উপসচিব মো. হুমায়ূন কবিরকে নীলফামারী, অর্থ বিভাগের উপসচিব চৌধুরী আশরাফুল করিমকে পটুয়াখালী এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব গোলাম রব্বানীকে পিরোজপুরের ডিসি করা হয়েছে।

নীলফামারীর ডিসি মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব, টাঙ্গাইলের ডিসি শরীফা হককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এবং পটুয়াখালীর ডিসি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এ তিন কর্মকর্তা উপসচিব থেকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা মাঠ প্রশাসনে ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়ে থাকেন।




অক্টোবরে টানা ৫ দিনের ছুটির সুযোগ

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি থাকছে দুদিন। এই ছুটির সঙ্গে মাত্র একদিনের ছুটি নিতে পারলেই কাটানো যাবে টানা পাঁচ দিনের ছুটি।

মহানবমী উপলক্ষে ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) নির্বাহী আদেশে এবং বিজয়া দশমী উপলক্ষে ২১ অক্টোবর (বুধবার) সাধারণ ছুটি থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অফিস কার্যক্রম যথারীতি চলবে। তবে কেউ যদি এই দিনটি ছুটি নিতে পারেন, তাহলেই কাটাতে পারবেন টানা পাঁচ দিনের ছুটি। এর পরের দুদিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।

সরকারি ছুটির দিনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও সাধারণত বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো শাখা বা বিশেষ সেবা চালু থাকতে পারে। এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণত ছুটির দিনেও চালু থাকে।

অন্যদিকে হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহসহ জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। গণমাধ্যমসহ কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মীদের দায়িত্বে থাকতে হয়।

ফলে দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি দুদিন হলেও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য একইভাবে ছুটি কার্যকর হবে না।