দীর্ঘ ২২ বছর পর চাঁদপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী, অংশ নেবেন একাধিক কর্মসূচিতে

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি কুমিল্লায় একটি পথসভায় অংশ নেবেন এবং চাঁদপুরে দুটি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন।

জানা যায়, আজ সকাল সাড়ে ৮টার পর সড়ক পথে তিনি রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে রওনা দেন। সরকারপ্রধানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান চাঁদপুর যাচ্ছেন। গুলশানের বাসা থেকে এখন গাড়িতে আছেন।

এ সফরে তিনি দুটি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং পথসভা ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, যাত্রা পথে বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার বরুড়ার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত পথ সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি।

পরে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন বিশ্ব খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং তা উদ্বোধন করবেন।

দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

পরে বিকেল ৫টায় তিনি চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি প্রথম সফর। সর্বশেষ ২০০৪ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারেক রহমান চাঁদপুর সফর করেছিলেন।




বিছানাকান্দিতে নিখোঁজ শাবি শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ : সিলেটের বিছানাকান্দি পর্যটন এলাকায় ঘুরতে গিয়ে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সীমান্তবর্তী বিছানাকান্দি পর্যটন এলাকার জিরো পয়েন্ট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শান্ত চন্দ্র বণিক ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কীর্তিশ চন্দ্র বণিকের ছেলে। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গোয়াইনঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

এর আগে শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে বিছানাকান্দির জিরো পয়েন্ট এলাকায় পানিতে নেমে স্রোতের টানে তলিয়ে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শান্তসহ শাবিপ্রবির ১১ জন শিক্ষার্থী বিছানাকান্দিতে ঘুরতে আসেন। বিকালের দিকে তাদের মধ্যে পাঁচজন মিলে জিরো পয়েন্টে গোসলে নামেন। একপর্যায়ে স্রোতের টানে শান্তসহ তিনজন পানিতে তলিয়ে যান। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে নৌকা নিয়ে দুজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ শান্তকে উদ্ধার করতে পারেননি।

খবর পেয়ে স্থানীয় টুরিস্ট পুলিশ, গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ডুবুরিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। পরে ঘটনার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।




চামড়া শিল্পকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাত হিসেবে গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : চামড়া শিল্পকে দেশের অন্যতম প্রধান বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়কারী খাত হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শুক্রবার দুপুরে সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারের জিমনেসিয়াম হলে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চামড়া খাতের বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এই শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে একাধিকবার ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে এ খাতটি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থানের জানান দেবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারের সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র আড়াই মাস এবং এ স্বল্প সময়ের মধ্যে বড় কোনো আমূল পরিবর্তন সম্ভব না হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের কাজ পুরোদমে চলছে। তিনি চামড়া শিল্পের উন্নয়নে জনসাধারণের কাছে কিছুটা সময় প্রার্থনা করেন এবং পর্যায়ক্রমে এ খাতের উন্নতির প্রতিফলন দৃশ্যমান হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

শিল্প রক্ষায় জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, চামড়া দেশের একটি অমূল্য সম্পদ এবং এটি যেন কোনোভাবেই অপচয় বা নষ্ট না হয় সেদিকে আমাদের সবার সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। সম্পদ সংরক্ষণে প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতার মাঝে কোনো ধরনের অপচয় কাম্য নয়।

বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালু করার বিষয়েও অনুষ্ঠানে আশার বাণী শোনানো হয়। জানানো হয়, দেশের শিল্প খাতে বিশেষ করে বন্ধ কলকারখানাগুলোতে বিনিয়োগের ব্যাপারে চীন সরকার ও বিনিয়োগকারীরা গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান সরকার এই শিল্পগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল পর্যায়ে নিয়ে আসার কাজ করছে এবং খুব শীঘ্রই কাজের অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। কলকারখানাগুলো পুনরায় সচল করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সৃজনশীল চিন্তাধারা ও নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ করে তুলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরী ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মেলায় আগত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই আয়োজনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রদর্শন করেন।




এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই বাংলাদেশের নাগরিক: ডেপুটি স্পিকার

ডেস্ক নিউজ : জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো ধরনের ধর্মীয় বৈষম্য হতে দেওয়া হবে না। এখানে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। রাষ্ট্রের সম্পদের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের কেশবপুর এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, আমি নির্বাচনের আগেই বলেছিলাম—এক মানবের দুই হাত, এক হাত হিন্দু আর এক হাত মুসলমান। উন্নয়নমূলক টিআর, কাবিখা বা অন্যান্য বরাদ্দ যাই আসুক না কেন, আমি মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ সবাইকে সমানভাবে ভাগ করে দিই। বাংলাদেশে কোনো ধরনের ধর্মীয় বৈষম্য হতে দেওয়া হবে না।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যারা প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের আগামী তিন মাস সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

কায়সার কামাল আরও বলেন, সরকারি অনুদান নিতে কাউকে কোনো ধরনের ঘুস দিতে হবে না। অতীতে বিভিন্ন সরকারি অনুদান নিয়ে অনেক দুর্নীতি হয়েছে। আমি নির্বাচনের আগেই বলেছিলাম, সরকারি অনুদান নিয়ে আমি নিজে দুর্নীতি করব না এবং কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না।

সুমেশ্বরী নদী শাসন প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইতোমধ্যে সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে এবং একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদী ও হাওড় এলাকার দুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১৫-১৬ বছর এ ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দুর্ভোগ দিনদিন বেড়েছে। এখন যে পরিকল্পনাগুলো হাতে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে আমরা আশা করছি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকারের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া, বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম এবং কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসেমসহ স্থানীয়রা।




ঢাকার যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভা

ডেস্ক নিউজ : রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক এবং কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও এমপি অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের থেকে জানানো হয়, ঢাকার যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এটি দ্বিতীয় সভা।

সভায় নগরীর সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, গণপরিবহণ ব্যবস্থার সমন্বয়, ট্রাফিক সিগন্যাল আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয় বলেও জানা গেছে।




পদ্মা ব্যারেজ আমাদের স্বার্থ, ভারতের সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ আমাদের স্বার্থের ব্যাপার। ভারতের সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই। গঙ্গা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন সেটা চলছে।

বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে শুরু হওয়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদনের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ দেশের মোট আয়তনের এক তৃতীয়াংশ ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ উপকার পাবে। ৫ বছরের প্রতি বছরে ৭ হাজার কোটি টাকা করে সম্ভাব্য ৩৪ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়ন হবে প্রকল্পটি।

এ্যানি বলেন, খালখননের মাধ্যমে পানি আনা প্রাথমিক পরিকল্পনা। প্রকল্পের মাধ্যমে পানি মজুদে কারিগরি দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা চুক্তি বাস্তবায়নে কারিগরি দল কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে সেটা কাটিয়ে উঠতে রাজবাড়ীতে ব্যারেজের যে অংশ হবে সেখানে পানি মজুদ করা হবে। ৫৪টি নদীর হিস্যা এখানে নয়।




ট্রেনের ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু: আজ পাওয়া যাচ্ছে ২৪ মের টিকিট

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে আগামী ২৪ মের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, বরাবরের মতোই যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে (ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে) বিক্রি করা হচ্ছে। টিকিট বিক্রির চাপ সামলাতে এবং প্রযুক্তিগত শৃঙ্খলা রক্ষায় এবারও অঞ্চলভেদে ভিন্ন সময়ে টিকিট ইস্যু করা হচ্ছে।

রেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল ১৫ মে ২৫ মের, ১৬ মে ২৬ মের এবং ১৭ মে ২৭ মে যাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে। এছাড়া বিভিন্ন রুটে ১০টি বিশেষ ট্রেন চালানো হবে ঈদ উপলক্ষে। ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ২৮ মে ধরে এ ট্রেন চলাচলের সময়সূচি ও পরিকল্পনা সাজিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন ঈদযাত্রী অগ্রিম যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার টিকিট কিনতে পারবেন এবং প্রতি ক্ষেত্রে সর্বাধিক চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। অগ্রিম যাত্রার টিকিট রিফান্ড (ফেরত) করা যাবে না। যাত্রীদের সুবিধার জন্য যাত্রার দিন মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট (উচ্চ শ্রেণি ছাড়া) স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি হবে।

পাশাপাশি কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য থাকবে পশুবাহী দুটি বিশেষ ট্রেন (ক্যাটল স্পেশাল)। এই ক্যাটল ট্রেন দুটি ২২ ও ২৩ মে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি দেওয়ানগঞ্জ বাজার ও ইসলামপুর বাজার থেকে ছেড়ে কমলাপুর, তেজগাঁও ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে আসবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, টিকিট শুধু রেলওয়ের অনলাইন ওয়েবসাইট ও ‘রেল সেবা’ অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। যাত্রীদের অন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ফেসবুক পেজ থেকে টিকিট কেনাবেচা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।




নবম জাতীয় পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন গ্রেড প্রকাশ

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল ঘোষণার বিষয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে মোট আটবার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।

সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে স্কেল দেওয়ার রীতি থাকলেও বিশ্বজুড়ে মহামারি পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে এই প্রক্রিয়া বেশ কয়েক বছর পিছিয়ে যায়। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই সচিবালয়সহ সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বর্তমানে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ ও আর্থিক দিক বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত তৈরির কাজ করছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সংগতি রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি এই কমিটিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সুপারিশমালা পেশ করবে।

প্রস্তাবিত এই নবম পে স্কেলের একটি সম্ভাব্য খসড়া নিয়ে বর্তমানে সরকারি মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এটি একটি প্রাথমিক প্রস্তাব মাত্র, তবুও এতে ১ নম্বর গ্রেডের বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা (নির্ধারিত)। একইভাবে ১০ নম্বর গ্রেডের বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০ নম্বর গ্রেডের বেতন ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৪৫ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাবনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২০২৬ সালের প্রস্তাবিত জাতীয় বেতন স্কেলের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলো

গ্রেড    বেতন স্কেল (টাকা)

০১    ১,৬০,০০০/- টাকা (নির্ধারিত)

০২    ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ টাকা

০৩    ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০ টাকা

০৪    ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০ টাকা

০৫    ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০ টাকা

০৬    ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০ টাকা

০৭    ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ টাকা

০৮    ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০ টাকা

০৯    ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০ টাকা

১০    ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ টাকা

১১    ২৫,০০০ – ৬০,৫০০ টাকা

১২    ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০ টাকা

১৩    ২৪,০০০ – ৫৮,০০০ টাকা

১৪    ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০ টাকা

১৫    ২২,৮০০ – ৫৫,২০০ টাকা

১৬    ২১,৯০০ – ৫২,৯০০ টাকা

১৭    ২১,৪০০ – ৫১,৯০০ টাকা

১৮    ২১,০০০ – ৫০,৯০০ টাকা

১৯    ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০ টাকা

২০    ২০,০০০ – ৪৮,৪০০ টাকা

উল্লেখ্য, এই তালিকাটি বর্তমানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার একটি অংশ মাত্র এবং এটি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরেই এই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির সংবাদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।




আগামী বছর এসএসসি ও এইচএসসি কবে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুন মাসে আয়োজন করা হবে।

বুধবার (১৩ মে) বিকালে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) গাজীপুর বোর্ড বাজার ক্যাম্পাসে ‘শ্রেষ্ঠত্ব’ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন কারণে গত কয়েক বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যে সেশনজট তৈরি হয়েছে, তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং পাঠদান কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে বাস্তবসম্মত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিসেম্বরে পাবলিক পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মতামত বিবেচনায় সরকার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারির শেষে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুনে নেওয়া হবে। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে সেশনজট নিরসন করে পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ে আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকদের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর জীবন থেকে অতিরিক্ত সময় নষ্ট না হয়, সে জন্য ধাপে ধাপে সবকিছু সমন্বয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য রাখা হয়েছে, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য ড. হিসাইন আরাবি নূরসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। পরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট ও সম্মাননা তুলে দেন মন্ত্রী।

এর আগে একই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশ নেওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক ডিসেম্বরে এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, এক বছরেই চার মাস সময় কমিয়ে দিলে শিক্ষার্থীরা চাপের মুখে পড়বে এবং শিখন ঘাটতি তৈরি হবে।

সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। যেকোনো সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।




জাহাঙ্গীরনগরে ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে মশাল হাতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নারী শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান এলাকা থেকে মিছিল বের করেন তাঁরা। মিছিলে সহস্রাধিক নারী শিক্ষার্থী অংশ নেন।

মিছিলটি ছাত্রীদের ১০টি আবাসিক হলের সামনে দিয়ে গিয়ে প্রক্টর কার্যালয়ে শেষ হয়। এর আগে রাত ১০টার দিকে বটতলা এলাকা থেকে ছাত্ররা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি টারজান এলাকায় গিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে যুক্ত হয়ে তাঁদের সঙ্গে সংহতি জানায়।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘ধর্ষকের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘ক্যাম্পাসে ধর্ষণ করে, প্রক্টর কী করে?’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি জানান। তাঁদের দাবিগুলো হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমকে দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হবে, ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে প্রক্টরিয়াল বডিকেও পদত্যাগ করতে হবে, নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স কার্যকরী টিম গঠন করতে হবে, ক্যাম্পাসে নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিতে হবে এবং কুইক রেসপন্স টিমে যুক্ত করতে হবে।

এ বিষয়ে মিছিলে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিয়া রহমান বলেন, ‘আমরা গর্ব করে বলতাম এই ক্যাম্পাস নারীদের জন্য নিরাপদ। কখনো আমাদের এই অনুভূতি হতো না কেউ আমাদের দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারে। কিন্তু বর্তমানে অবস্থা খুবই নাজুক। ক্যাম্পাসের ভেতরেই আমাদের এক সহপাঠীকে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে ঝোপে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করে। এর চেয়ে আর দুঃখের, লজ্জার কী হতে পারে? এই প্রশাসন আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।’

গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের একটি সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে ঝোপে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা একজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেন। সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন এক তরুণের চেহারা নিশ্চিত হওয়া গেলেও এখনো তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, হত্যাচেষ্টা ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে হওয়া মামলাটি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে। অতি দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।