যমুনা সেতু থেকে ২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি টাকা টোল আদায়

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চারদিনের ছুটিতে গ্রামে ছুটছে মানুষ। ফলে অতিরিক্ত পরিবহনের চাপ পড়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ হাজার ৯২৩টি যানবাহন যমুনা সেতু পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৬৫০ টাকা।

বুধবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করে।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ হাজার ৯২৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ১২ হাজার ৯৩৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ৩৬ হাজার ৯২৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৬৫০ টাকা।

এ ব্যাপারে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরিফ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চার দিনের ছুটিতে উত্তরাঞ্চলসহ আশপাশের ২৩ জেলার মানুষ যাতায়াত করছে। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। মহাসড়কে যানজট এড়াতে বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছে পুলিশ।




বিমানের সাবেক এমডির বাসায় গৃহকর্মীকে নির্যাতন: লোমহর্ষক বর্ননা বিচারকের

ডেস্ক নিউজঃ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সদ্য সাবেক এমডি সাফিকুর রহমানসহ চারজনের রিমান্ড শুনানিতে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রিমান্ড শুনানির এক পর্যায়ে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন সেই গৃহকর্মীর জবানবন্দির কিছু অংশ পড়ে শোনান।

আদালত উল্লেখ করেন, ১১ বছরের শিশু মোহনাকে খুন্তি দিয়ে মারধর করা হতো ও তার চোখে মরিচের গুঁড়া দেওয়া হতো। এছাড়া তাকে দীর্ঘ সময় বাথরুমে পানির মধ্যে আটকে রাখা হতো। যার ফলে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তার পায়ে পচন ধরে যায়। শীতকালেও তাকে কোনো শীতের পোশাক দেওয়া হয়নি। ভালো খাবার তো দূরের কথা, সে বাথরুমের পেস্ট খেয়েছে এবং তাকে টয়লেটের পানি পান করে বেঁচে থাকতে হয়েছে।

বিচারক বলেন, জবানবন্দিতে উঠে এসেছে তার শরীরের মধ্যে মুখ থেকে গলা পর্যন্ত লম্বা পোড়া দাগ, যা এখন সাদা হয়ে আসছে। কপালে লাঠি দিয়ে মারার দাগ। হাতে বাঁশের লাঠির ও পোড়া দাগ আছে। দাগটি এখনো দগদগে। এমনকি পায়ের উরুর অংশে খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকার দাগ আছে। পিঠে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারার অসংখ্য চিহ্ন আছে। চোখ দুটি ভেতরে ঢোকানো ও কালো দাগ। শরীরে জ্বর ও মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা আছে। মাথার চুল ধরে টানার কারণে মাথা ব্যথার কথা বলেছে শিশুটি।

এ পর্যন্ত বলার পর উপস্থিত আইনজীবীরা আদালতকে জবানবন্দি আর না পড়ার অনুরোধ করেন। তারা বলেন, এই নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা সহ্য করা যাচ্ছে না। এক পর্যায়ে আদালত সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বীথিকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি শিশুটিকে নির্যাতনের কথা আংশিক স্বীকার করেন।

এর আগে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুবেল মিয়া আসামি সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী ও অপর দুই গৃহকর্মীর সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। সেই আবেদনের ওপর শুনানির জন্য মঙ্গলবার তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এদিন বিকেলে শুনানির সময় মাথায় হেলমেট, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে চার আসামিকে আদালতের কাঠগড়ায় নেওয়া হয়।

এসআই রুবেল মিয়া প্রথমে বক্তব্য দেন। মোহনাকে আইনি সহায়তা দেওয়া নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ডিএমসি) ফাহমিদা আক্তার রিংকিসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন। শতাধিক আইনজীবী আসামিদের রিমান্ডে পাঠানোর পক্ষে সমর্থন জানান।

শুনানিতে ফাহমিদা আক্তার বলেন, ভুক্তভোগীর ওপর চার আসামি পাশবিক নির্যাতন করেছেন। সাফিকুর রহমান কি কারণে নির্যাতন করেছে তা জানার জন্য রিমান্ড প্রয়োজন। ১২ বছরের নিচে শিশুকে নির্যাতন করা অপরাধ। বিথী (সাফিকুরের স্ত্রী) তাকে বাসায় রেখে নির্যাতন করেছেন। প্রথমে তারা শিশুটিকে খাটে রাখতো। পরে নিচে, এরপর বারান্দায় পরে টয়লেটে রাখে। টয়লেটের পেস্ট, টিস্যু খেয়ে বেঁচে ছিল শিশুটি। শীতের মধ্যে শীতের কাপড়ও তাকে দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, একটা ঘরের মধ্যে শিশুটির সঙ্গে যে ধরনের নির্যাতন করা হচ্ছে। তারা কাজের লোক হলেও বাইরে এসে প্রকাশ করতে পারতো। কিন্তু তারা তা করেনি। খুন্তি গরম করে তাকে ছ্যাঁকা দিত। সরকারি উচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার বাসায় এমন শিশু নির্যাতন দেশ ও জাতির জন্য লজ্জাকর। তাকে লোমহর্ষক নির্যাতন করা হয়েছে। এ সময় তাদের সর্বোচ্চ রিমান্ড প্রার্থনা করেন তিনি।

আসামিদের পক্ষে এ কে আজাদ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, সাফিকুর রহমান অফিস করতেন। সপ্তাহে মাত্র একটা দিন বাসায় থাকতেন। তিনি এ ঘটনার বিষয়ে অবগত না। তার রিমান্ড নামঞ্জুরের প্রার্থনা করেন তিনি। অপর আসামিদেরও রিমান্ড নামঞ্জুরের প্রার্থনা করেন এ আইনজীবী।

পরে সাফিকুর রহমান ও গৃহকর্মী রুপালী খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন এবং তার স্ত্রী বিথীর সাত দিন এবং আরেক গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তরা ৯ নং সেক্টরের শফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর, গোলাম মোস্তফাকে জানায় ওই বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট মেয়ে খুঁজচ্ছে। পরে তাদের সঙ্গে দেখা করেন মোস্তফা।

তারা জানায়, যাকে রাখবে বিবাহসহ যাবতীয় খরচ বহন করবে। তাতে সম্মত হয়ে গত বছরের জুন মাসে মোহনাকে ওই বাসায় কাজে দেন মোস্তফা। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় মোহনাকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন বাবা। তবে এরপর আর মোহনাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেননি আসামিরা। গত ৩১ জানুয়ারি বিথী মোস্তফাকে ফোন করে জানান, মোহনা অসুস্থ। তাকে নিয়ে যেতে। পরে মোহনাকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মোহনাকে বুঝিয়ে দেন সাথী। তখন মোস্তফা দেখতে পান, মোহনার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্নস্থান গুরুতর জখম।

মোহনা ভালোভাবে কথাও বলতে পারে না। সাথীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে সদুত্তর দিতে পারে না। পরে তিনি মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে মোহনা জানায়, ২ নভেম্বর মোস্তফা তার সঙ্গে দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান এবং বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারধরসহ খুন্তি আগুনে গরম করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করে।

এ ঘটনায় হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি দায়ের করেন।




ভোট উপলক্ষে আজও বাড়িমুখো মানুষ, নেই ভোগান্তি

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়ছেন অনেক মানুষ। বুধবার সকাল থেকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীরা স্বস্তিতে বাসে উঠছেন এবং নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন।

তবে আগের দিনের মতো উপচেপড়া ভিড় নেই। মঙ্গলবার সায়েদাবাদ টার্মিনালে ছিল যাত্রীদের চাপ, বাস সংকট এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ। কিন্তু বুধবার চিত্র ভিন্ন। পর্যাপ্ত বাস থাকায় অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, জনপথ মোড়, উত্তর যাত্রাবাড়ী, দোলাইপার, শনির আখড়া ও রায়েরবাগ এলাকায় কুমিল্লা, বরিশাল, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, হাজীগঞ্জ, চট্টগ্রাম, লাকসাম, খুলনা, সিলেট ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলার বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। কাউন্টার কর্মীরা যাত্রীদের ডাকাডাকি করছেন, তবে অনেক বাসই পূর্ণ যাত্রী ছাড়াই ছেড়ে যাচ্ছে।

তিশা কাউন্টারের কর্মী মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন জানান, মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার যাত্রী কম। তার ভাষায়, ‘গতকাল যে ভিড় ছিল, তা ঈদের সময়েও দেখা যায় না। সারারাত বাস ছাড়তে হয়েছে।’

পর্যাপ্ত বাস থাকায় যাত্রীরা ভাড়া নিয়ে দরকষাকষিও করছেন। বরিশালের পিরোজপুরগামী যাত্রী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ সময়ে ভাড়া ৫০০ টাকা। চেষ্টা করছি কিছুটা কমে নেওয়ার।’

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভোট দিতে যাচ্ছেন। তিনি জানান, ভিড়ের আশঙ্কায় আগের দিন আসেননি। আজ এসে দেখেছেন পরিবেশ স্বাভাবিক, ভাড়াও আগের মতোই।

বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানান, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী সংখ্যা বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি চাকরিজীবীরা টানা চারদিনের ছুটি পাচ্ছেন।




নির্বাচিত সরকার দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করবে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচন হয়ে গেলে নির্বাচিত সরকার দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এবং গৌরবের সঙ্গে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে, তাদের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করে বিদায় নিয়ে নিজ নিজ কাজে ফিরে যাব। আমরা এই শুভ মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

তিনি এই সময় গুজব ও অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে নাগরিকদের মনে সন্দেহ, ভয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্য একটাই- নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করা, জনগণের আস্থাকে দুর্বল করা।’

গুজব ও অপতথ্যের বিষয়ে সতর্ক করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন নতুন করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নাকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিঘ্ন সৃষ্টি করা। আপনারা নিশ্চিত থাকুন, নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার দায়িত্ব সমাপ্ত করবে।’




সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ে গণভোটকে সামনে রেখে তিনি এই ভাষণ দেবেন।

প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।




প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজঃ কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের চেয়ার ও ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ.ই. নানা আকুফো-আডোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গতকাল সোমবার এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের চেয়ার ও ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ.ই. নানা আকুফো-আডো ২৩ সদস্যের এ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ঐতিহাসিক করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজঃ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিগত আমলের নির্বাচনগুলোকে ‘ফেক’ ও ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও ঐতিহাসিক করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গতকাল সোমবার প্রায় ৭০ জন সচিবের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাত্র দুই দিন আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসব তথ্য জানান।

প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের অতীত চিত্র তুলে ধরে বলেন, সেগুলো প্রকৃত নির্বাচন ছিল না, বরং ছিল এক ধরনের মকারি। সব কটিই ছিল ভুয়া নির্বাচন। তিনি সচিবদের আশ্বস্ত করেন, এবারের নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু। নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি, প্রায় লক্ষ্যে পৌঁছে গেছি। এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনবে।’

প্রধান উপদেষ্টা এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণকে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্তি দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষকের আগমনকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেগুলোকে ‘প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেন। ড. ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনার আমলের নির্বাচনগুলোর কোনো জনভিত্তি ছিল না এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যবেক্ষকরাও তখন আসেননি। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণায় বড় কোনো উত্তেজনার খবর নেই। রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে গণসংযোগ চালাচ্ছে।

নির্বাচনকে আরো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের কথাও জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সব কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। ভোটারদের সুবিধার জন্য ‘নির্বাচন’ ও ‘নির্বাচন বন্ধু’ নামের দুটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। তাঁর আশা, প্রযুক্তির এই ব্যবহার এবারের নির্বাচনকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।

আসন্ন গণভোট প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে দেশে আর অপশাসন ফিরে আসবে না এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় পরিবর্তন আসবে।

প্রেস সচিব জানান, গত ১৮ মাসে রাষ্ট্র সংস্কারে সচিবদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা। এই সময়ে প্রায় ১৩০টি জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এসব কাজ দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সচিবরা যে আন্তরিকতা ও পেশাদারি দেখিয়েছেন, সে জন্য তিনি তাঁদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টা সচিবদের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন।

জাপানের সঙ্গে ইপিএ বাংলাদেশের জন্য ‘যুগান্তকারী’ : জাপানের সঙ্গে সদ্য স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তিকে (ইপিএ) বাংলাদেশের জন্য ‘যুগান্তকারী’ বলে অভিহিত করেছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত এই ইপিএ বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। প্রধান উপদেষ্টা এই চুক্তিকে যুগান্তকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই চুক্তির ফলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে।

শফিকুল আলম বলেন, এই ইপিএ চুক্তির মাধ্যমে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় সাত হাজার ৪০০ পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এর ফলে বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, উৎপাদন ও রপ্তানি আরো সহজ হবে।

‘সম্ভবত আজই শেষ প্রেস কনফারেন্স’ : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব গতকাল বলেন, ‘আজকেরটাই সম্ভবত শেষ ব্রিফিং। আমি ক্ষমাপ্রার্থী, যদি আমার আচরণে আপনারা কেউ ব্যথিত হয়ে থাকেন, একদম হৃদযন্ত্রের অন্তস্তল থেকে বলছি, আমি আপনাদের কাছে সরি।’

শফিকুল আলম বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দু-একজন উপদেষ্টা ছাড়া অন্য সবাই সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। তাঁদের সম্পদের তথ্য শিগগিরই জানা যাবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৩০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক আসার কথা উল্লেখ করেন উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে সর্বোচ্চ ২১১ জনের মতো পর্যবেক্ষক আসছেন।

‘দেশের ফরেন পলিসি বর্গা দেওয়া হয়েছিল’ : প্রেস সচিব বলেন, আগে বাংলাদেশের ফরেন পলিসি এক দেশের প্রভাবাধীন ছিল। এখন সেটিকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে ভালো রয়েছে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আসন্ন নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষকদল পাঠাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভারতের গণমাধ্যমের সমালোচনা করে শফিকুল আলম বলেন, গত ১৮ মাসে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রত্যাশিতভাবে এগোয়নি, যার একটি বড় কারণ ছিল ভারতীয় মিডিয়ার ছড়ানো ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য।

সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে এবং চীন বর্তমানে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করছে, যা সময়সাপেক্ষ।

সংস্কার প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করা একটি বড় সংস্কার। গণমাধ্যম যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করেছে এবং বক্তব্যসংক্রান্ত সব মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ভোটের আগে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা ভাষণ দেবেন বলে জানান তিনি।




নির্বাচনী পরিবেশ খুবই ইতিবাচক: ইইউ’র প্রধান পর্যবেক্ষক

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ খুবই ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণমাধ্যমে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো জানিয়ে ইভারস আইজাবস বলেন, স্বল্প মেয়াদি ইইউ পর্যবেক্ষকরা আজ থেকে মাঠে থাকবেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে নির্বাচনী পরিবেশ খুবই ইতিবাচক। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার দরকার। তবে, মোটা দাগে পরিবেশ আশাব্যঞ্জক।

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ইইউ, যেখানে সংখ্যালঘু ও নারীর অংশগ্রহণ থাকবে।




ভোটের দিন পাঁচ ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, চলবে যেসব

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে যানবাহন চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। এ বিষয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বিধিনিষেধের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী ভোটগ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ১১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত  টানা ২৪ ঘণ্টা।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মধ্যরাত ১২টা থেকে ভোট গ্রহণের পরদিন শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে ইসির স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল চলাচলে বাধা নেই।

ইসি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন (ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এবং সংবাদপত্র বহনকারী সব ধরনের যানবাহন) চলবে। আত্মীয়স্বজনের জন্য বিমানবন্দরে যাওয়া, বিমানবন্দর থেকে যাত্রী বা আত্মীয়স্বজনসহ নিজ বাসস্থানে অথবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত যানবাহন (টিকিট বা অনুরূপ প্রমাণ প্রদর্শন) চলতে পারবে।

ইসি আরও জানিয়েছে, দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী অথবা দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য যেকোনো যানবাহন চলতে পারবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য একটি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও নির্বাচনী এজেন্টের (যথাযথ নিয়োগপত্র/পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে) জন্য একটি গাড়ি (জিপ, কার, মাইক্রোবাস ইত্যাদি ছোট আকৃতির যানবাহন) রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন ও গাড়িতে স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে।

সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক অথবা জরুরি কোনো কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও মোটরসাইকেল নির্বাচন কমিশন/রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে বলেও উল্লেখ করেছে ইসি। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এলাকা এবং আন্তঃজেলা বা মহানগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হয়।

এদিকে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (এমটিসিএল) জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের দিন মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে।




নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শেষ

ডেস্ক নিউজঃ ভোটার ও প্রার্থীদের নানামুখী উত্সাহ-উদ্দীপনা এবং পারস্পরিক নানা অভিযোগের মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। প্রচার-প্রচারণা শেষে এখন জয়-পরাজয়ের সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে ভোটের মাঠ এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার নির্বাচনপূর্ব জরিপে বেশির ভাগ আসনে প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। ভোট নিয়ে এতসব ব্যস্ততার মধ্যেও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নানান অভিযোগ নিয়ে আসছেন রাজনৈতিক দলগুলো। গতকাল সোমবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাত্ করে নানান অভিযোগ জানান। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও করেছেন অভিযোগ। অন্যদিকে ইসিও বসে নেই। নির্বাচনে সারা দেশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ৪৬১টি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করার অভিযোগে ২৫৯টি মামলা দায়ের ও ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৯৫০ টাকা জরিমানা করেছেন। এদিকে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু করতে মঙ্গলবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণের পর দিন বিকাল পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় অবস্থানের ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছে ইসি। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ সমাপ্তির ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবে না। একই সময়ে কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকেরা মিছিল, শোডাউন বা জনসভাও করতে পারবেন না।

এদিকে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিলেও পরবর্তীকালে সাংবাদিকদের তোপের মুখে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ইসি। ভোটগ্রহণের দিন বিমান বাহিনীর ড্রোনের মাধ্যমে ভোটের পরিস্থিতি লাইভ পর্যবেক্ষণ করবে ইসি এবং সরকার। এ সময়ে সংস্কারকাজে কোথাও টেলিযোগাযোগ সেবা বিঘ্নিত না করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুই ঘণ্টা পরপর প্রদত্ত ভোটের হার নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সিস্টেমে আপডেট দেওয়ার জন্য রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।

১১ দলীয় জোটের পক্ষে সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি রাখা প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতি ইলেকশনে বিএনসিসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা সহযোগী ফোর্স হিসেবে কাজ করেন। ওনারা বলেছেন যে, এই ব্যাপারে আরপিওতে কিছু বিধিবদ্ধ বিষয় আছে। তার পরও চূড়ান্তভাবে ওনারা করেননি। এটাকে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তারা বিষয়টি ভাববেন। আমরা বলেছি যে, এবারের নির্বাচন যেহেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে হচ্ছে। যেহেতু জনগণের ভোট দিতে সময় বেশি লাগবে এবং গত তিনটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারার কারণে মানুষের স্বাভাবিকভাবে আবেগ-আগ্রহ এবং উত্সাহ বেশি থাকবে। এজন্য যত বেশি পারা যায় সাপোর্টিং এসব ফোর্সকে দেওয়া উচিত। যাতে সুন্দর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনটা নিশ্চিত হয়।’ এ ব্যাপারে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ফজলে বারী মাসুদ বলেছেন, ‘৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হয়েছে। এটি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অংশ হতে পারে। একটি দল জাল ভোট দিতে গিয়ে সিলসহ ধরা পড়েছে। এটি নিয়ে ইসিকে শঙ্কা জানাই। নির্বাচনী আচরণবিধি আমাদের দল পালন করেছে। অন্য রাজনৈতিক দল সেটি অনুসরণ করেনি।’ অন্যদিকে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে নির্বাচনী আমেজ নষ্টের অপপ্রয়াস দেখতে পাওয়ার দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি সাদিক কয়েম। সাদিক কায়েম বলেন,  ‘বাংলাদেশের ৪ কোটি তরুণ ভোটার আছেন, তাদের কথাগুলো বলতে এসেছি। নির্বাচনের আমেজকে নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ধরনের অপপ্রয়াস ইতিমধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি। সেই ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে আমাদের কনসার্নগুলো জানার জন্য এসেছি।’

সিইসির সঙ্গে দেখা করে কাদের সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উত্সাহ এবং উদ্দীপনা দেখা যায়, তা তিনি রাস্তাঘাটে অনুভব করতে পারছেন না। রাস্তাঘাটে মানুষের উত্সাহ খুবই কম। নির্বাচনে কোথাও জামায়াত এবং কোথাও বিএনপি খুবই শক্তি খাটাবার চেষ্টা করেছে। নির্বাচন কমিশন তার অভিযোগ শুনেছেন। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে ইসি জানিয়েছে—গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ, নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ সমাপ্তির ২৪ ঘণ্টা পর অর্থাত্ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করা যাবে না।

এদিকে ভোট গ্রহণের দিন সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ফলাফল বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করলে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়বেন না।

বিমান বাহিনীর ড্রোন থেকে ভোটের মাঠ লাইভ দেখবে ইসি ও সরকার :নির্বাচনে বিমান বাহিনীর ড্রোনের মাধ্যমে ভোটের পরিস্থিতি লাইভ পর্যবেক্ষণ করবে ইসি। একই সঙ্গে ড্রোনের লাইভ ফিড দেওয়া হবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েও। নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী তাদের নিজ নিজ ড্রোন ভোটের মাঠে ওড়াবে। ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলাম ইতিমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৃথক পৃথক চিঠি পাঠিয়েছেন।