দুই ঘণ্টা পরপর প্রদত্ত ভোটের হার জানাবে ইসি

ডেস্ক নিউজঃ গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের দিন দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের হার জানাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ লক্ষ্যে দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা পাঠাতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় সরকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার নিয়োজিত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (ইএমএস) লগইন করে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের সংখ্যা এন্ট্রি করবেন।

ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ভোটের সংখ্যা এন্ট্রি করার পর সরকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা তা যাচাই করে অনুমোদন দেবেন। অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনের অ্যাকাউন্ট থেকে ‘কপ্ট ড্যাশবোর্ডে’ ওই তথ্য দেখা যাবে।




থাইল্যান্ডের উপকূলে চট্টগ্রামগামী জাহাজডুবি, ১৬ বাংলাদেশি নাবিক উদ্ধার

ডেস্ক নিউজঃ মালয়েশিয়া থেকে কন্টেইনার ভর্তি পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পথে থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজ ডুবে গেছে। দুর্ঘটনাস্থলের কাছে থাকা একটি মাছ ধরার নৌযান ও থাই নেভির একটি দল জাহাজটিতে থাকা ১৬ বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধার করেছে।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাংলাদেশি নাবিকদের উদ্ধার করা হয়। থাইল্যান্ডের অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্য ফুকেট নিউজ আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম ‘এমভি সিলয়েড আর্ক’। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ১১৫ মিটার।

৫ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার কেলাং বন্দর থেকে জাহাজটি যাত্রা শুরু করে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। রওনা দেওয়ার দুই দিনের মধ্যেই থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে থেকে ৪ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়। জাহাজটিতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের ২৯৭ একক কনটেইনার পণ্য ছিল। এর মধ্যে ১৪টি কনটেইনারে বিপজ্জনক পণ্য রয়েছে।

জাহাজটির বাংলাদেশের স্থানীয় এজেন্ট আলভি লাইন্স বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক মো. মুকুল হোসেন বলেন, ফুকেট উপকূল থেকে চার নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে জাহাজটি কাত হয়ে ডুবে যায়। এ সময় ক্যাপ্টেন জাহাজটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। নাবিকদের উদ্ধার করে ফুকেটের একটি হোটেলে নেওয়া হয়েছে। তারা সবাই সুস্থ আছেন।




পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

ডেস্ক নিউজঃ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে পাবনা-৫ আসনে (সদর) ভোট দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গভবনে তিনি এ ভোট দেন। রাষ্ট্রপ্রধানের সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে যে ভোট দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, তার পদ্ধতি ছিল প্রথাগত।

এবারই নির্বাচন কমিশন আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটের পদ্ধতি চালু করেছে। এক্ষেত্রে অনলাইনে নিবন্ধন সেরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ মিলছে।

নতুন পদ্ধতিতে কারাগার থেকে ইতোমধ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, এমপি, আমলা, পুলিশ, সাংবাদিকসহ ২০ জন ভোট দিয়েছেন।




ট্রেন চলবে নির্ধারিত শিডিউলে, ছুটি বাতিল পদ্মা এক্সপ্রেসের

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) ট্রেন শিডিউল অনুযায়ী চলাচল করবে। যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে ছুটি বাতিল (মঙ্গলবার) করা হয়েছে ঢাকা-রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেসের। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম-মহাপরিচালক (অপারেশন) শহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, পদ্মা এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক ছুটি মঙ্গলবার। যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নির্ধারিত ছুটি বাতিল করা হয়েছে। 

অন্যদিকে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকে টানা তিন দিন সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। তবে নির্বাচনের দিন চলবে না ক্যাব-মাইক্রোবাস-ট্রাক। রাজধানীতে নির্বাচনের ছুটিতে চলবে মেট্রোরেল।

মোটরসাইকেল: সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ (তিন দিন) সার দেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

ক্যাব-মাইক্রোবাস-ট্রাক: একই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী ভোটগ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ১১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা।

যেসব ক্ষেত্রে শিথিল থাকবে নিষেধাজ্ঞা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক। জরুরি সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন এবং ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি ও সংবাদপত্র বহনকারী সব ধরনের যানবাহন। আত্মীয়স্বজনের জন্য বিমানবন্দরে যাওয়া, বিমানবন্দর থেকে যাত্রী বা আত্মীয়স্বজনসহ নিজ বাসস্থানে বা আত্মীয়স্বজনের বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত যানবাহন (টিকিট বা অনুরূপ প্রমাণ প্রদর্শন) এবং দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী বা দূরপাল্লার যাত্রী হিসাবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য যে কোনো যানবাহন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য একটি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট (যথাযথ নিয়োগপত্র/পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে)-এর জন্য একটি গাড়ি (জিপ, কার, মাইক্রোবাস ইত্যাদি ছোট আকৃতির যানবাহন) রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ও গাড়িতে স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে। সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক বা জরুরি কোনো কাজে ব্যবহৃত যানবাহন/মোটরসাইকেল নির্বাচন কমিশন/রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে/নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা/কর্মচারী বা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য মোটরসাইকেল। টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিটিআরসি এবং বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন। জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ছাড়াও আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে বাইর বা প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও প্রধান প্রধান রাস্তার সংযোগ সড়ক বা এমন সব রাস্তায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

মেট্রোরেল: জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে সব ধরনের যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এ বিধিনিষেধের মধ্যে ঢাকার জনপ্রিয় গণপরিবহন মেট্রোরেলে যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক থাকবে। মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পরিচালক এ কে এম খায়রুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ছুটির দিনগুলোয় ঢাকার যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে এবং ভোটপ্রদান সহজ করতে স্বাভাবিক কর্মদিবসের মতোই মেট্রোরেল চলাচল করবে। এক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে যেসব স্টেশনের গেট ভোটকেন্দ্রের একেবারে পাশে অবস্থিত, সেসব গেট বন্ধ রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বাকি সব গেট খোলা থাকবে। নির্বাচনকালীন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ডিএমটিসিএল ও সংশ্লিষ্ট সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে।




নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ আমরা কেউই চিরস্থায়ী নই। কিন্তু নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, তারা যেন জানে এই দেশ কোথা থেকে এলো, কীভাবে যুদ্ধ হয়েছে। যুদ্ধ তো একটা না, সামনে আরও যুদ্ধ আসবে। আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠককালে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম। বৈঠকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) আজিজুর রহমান, বীর উত্তম, ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হুদা, মেজর (অব.) সৈয়দ মুনিবুর রহমান, মেজর (অব.) কাইয়ুম খান, সাদেক আহমেদ খান, হাবিবুল আলম, বীর প্রতীক, মেজর (অব.) ফজলুর রহমান বীর প্রতীক।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) জামিল ডি আহসান, বীর প্রতীক, মেজর (অব.) সৈয়দ মিজানুর রহমান, পিএসসি, মেজর (অব.) এ কে এম হাফিজুর রহমান, মনোয়ারুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর, সদস্য সৈয়দ আবুল বাশার, সিরাজুল হক, মো. মনসুর আলী সরকার, অনিল বরণ রায়, নুরুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ হিল সাফী, জাহাঙ্গীর কবির, প্রকৌশলী জাকারিয়া আহমেদ বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা খুঁজে বের করা এবং ভুয়াদের চিহ্নিত করতে উদ্যোগ নেওয়া। বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্ভব শ্রদ্ধা করেন। এ কারণে শ্রদ্ধাকে পুঁজি করে অতীতে অনেকে স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছেন। এটা যেন আর ভবিষ্যতে না ঘটে সেই ব্যবস্থা আমাদের করে যেতে হবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যখন এটাতে সুযোগ দেখল তখন এটাকেই ব্যবহার করল। এই প্রতিষ্ঠানগুলো আর প্রতিষ্ঠান থাকল না; খেলার পুতুল হয়ে গেল। খেলার পুতুল থেকে এগুলোকে আবার প্রতিষ্ঠান করাই আমাদের চেষ্টা ছিল।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ড. ইউনূস বলেন, ইতিহাস লিখতে পারা, ইতিহাসের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া একটি পবিত্র কাজ। এটা করতে পারা অত্যন্ত গর্বের। আর কয়েক বছর পর নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু তাদের স্মৃতি আমাদের ধরে রাখতে হবে। এজন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেদিকে আমাদের এখন থেকেই পরিকল্পনা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি যেন আমাদের জাতির মধ্যে অবিনশ্বর থাকে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, বিগত সরকার মুক্তিযোদ্ধার চেতনার বুলি আওড়িয়ে মানুষের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বঞ্চিত করেছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধারা এ নিয়ে মর্মাহত ছিলেন, কষ্টে ছিলেন। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সবাই মিলে জঞ্জালমুক্ত করতে চাইছি। মুক্তিযোদ্ধাদের হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করছি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন, সংস্কার বাস্তবায়ন এবং গণভোটের আয়োজন করায় প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। তারা বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার চিহ্ন থাকবে না। সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে জুলাই সনদ অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে জানান তারা।

গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে তা হবে দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে ব্যক্তিগত পরিসরে গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা একেবারে নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে আছি। সংবিধান সংস্কারের একটি সুযোগ আমরা গণ-অভ্যুত্থান থেকে পেয়েছি। সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ঐকমত্য কমিশন কাজ করেছে। এখন সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের আয়োজন করছে। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংস্কার না হলে, পরিবর্তন না হলে ঘুরে ফিরে একই জায়গায় থেকে যাব, আর বের হতে পারব না।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপনি আন্তর্জাতিকভাবে যে বলয় তৈরি করেছেন সেজন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা, একটা দেউলিয়া অর্থনীতিকে সবল করার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাদের যুদ্ধ করার লক্ষ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অর্থনৈতিক মুক্তিলাভ। কিন্তু এখন জনগণ একদিকে, মুক্তিযোদ্ধা একদিকে, স্বাধীনতা আরেকদিকে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অপরাজনীতির কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের আইসোলেট করে ফেলা হয়েছে।

বৈঠকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা আক্ষেপ করে জানান, ১৬ বছরে সম্মান এমনভাবে নষ্ট হয়েছে যে পরিচয় দিতে পারতাম না। মানুষ জিজ্ঞেস করত, আসল না নকল?

ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হুদা বলেন, বাকস্বাধীনতা, ৫৭ বছরে যেটা পাইনি সেটা আপনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। সবাই এখন কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে, নিজেদের নেতা-উপযুক্ত লোক খুঁজে নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত সরকারে যারা এসেছেন মুক্তিযুদ্ধকে টুইস্ট করেছেন। আমরা মতবিনিময় করে সংজ্ঞা পরিবর্তনের সুপারিশ করেছিলাম। আপনি সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করেছেন। আগামীতে কী হবে জানিনা। কিন্তু এখন মুক্তিযোদ্ধাদের ভুল বোঝার যে সুযোগ ছিল আপনার সরকার সেটা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে; সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, আমরা যে বয়সে যুদ্ধ করেছিলাম, চব্বিশে সেই বয়সের ছেলেরাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান করেছে। আমাদের মতো এই তরুণরাও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছে, পুরানো বয়ান-সিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এরা আমাদেরই উত্তরসূরি। অনেকেই একাত্তর-চব্বিশকে মুখোমুখি করতে চায়। তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে।

বৈঠকে তিন সংগঠনের নেতারা তাদের কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরেন। তারা বলেন, গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও অধ্যায়কে এই প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়াই এখন মূল উদ্দেশ্য।

তারা জানান, একাত্তরে সশস্ত্র সংগ্রাম হয়েছিল, কিন্তু এটা জনযুদ্ধও ছিল। সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতিস্মারক সংরক্ষণ ও গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিল হয়েছে। ঘুরে ঘুরে কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদগুলো যাচাই করা হচ্ছে, সবকিছু নোট নেয়া হচ্ছে, জটিলতা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং কীভাবে এগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার হয় তা নিয়ে কাজ চলছে। পরে যারা আসবেন তাদের জন্য একটি ছক ও কর্মপন্থা রেখে যেতে চেষ্টা করবেন বলেও জানান তারা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের শক্ত থাকতে হবে, যেন অতীতের মতো কেউ এসে গন্ডগোল করতে না পারে। যে সম্পদ আছে সেটা যেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে, মানুষ যেন শ্রদ্ধা করতে পারে, স্মরণ করতে পারে সেজন্য ব্যবহার করতে হবে। দেশের স্থায়ী মঙ্গলের জন্য ব্যবহার করতে হবে। অর্থের দিক থেকে, সম্পদের দিক থেকে এই সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে এবং এটা ক্রমান্বয়ে বাড়াতে হবে, কাজের পরিধিও বাড়াতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কাজ হবে কিন্তু নাগরিক হিসেবেও কাজ করে যেতে হবে। আর কয়দিন পরেই আমি সরকারে থাকব না। এটা আমার জায়গা ছিল না কখনোই। আমি ঘটনাচক্রে জড়িত হয়ে গেছি। তবে আমি নাগরিক হিসেবে আমার কর্তব্য পালন করে যাব।




আজ থেকে ভোটের মাঠে নামছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ করতে আজ রোববার থেকে মাঠে নামছেন সেনা বাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এসময় মাঠে থাকবেন ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। তারা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে আছে। রোববার থেকে আরও যুক্ত হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা ভোটের আগে-পরে সাত দিন থাকবে।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। ইসির কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেলও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে, সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তথ্যও পাবে ইসি।

শঙ্কাহীন নির্বিঘ্ন ভোটের পরিবেশের জন্য যা যা দরকার, সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা সবাই বলেছে যে মাঠের অবস্থা, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভালো এবং নির্বাচনের জন্য সহায়ক আছে।’

এ নির্বাচন কমিশনার জানান, সব ব্যালট বাক্স জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে। রিটার্নিং অফিসাররা সেগুলা গ্রহণ করছেন। এখন সবাই ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

ভোটের কয়েকদিন আগে বিভিন্ন ধরনের দাবি দেওয়া নিয়ে রাজধানীতে আন্দোলনও চলছে। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা ধরনের দাবি আপাতত পরিহার করার পরামর্শ দেন এই নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের যেহেতু আর চার দিন বাকি আছে। আমরাও প্রস্তুত, ভোটাররা প্রচার শেষে উৎসবের ভোটের প্রস্তুতিতে আছেন। কমিশন মনে করে, নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভালো আছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে।’

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের আগে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় প্রচার শেষ করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হবে। স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে।

এবার বিভিন্ন বাহিনীর মোট প্রায় ৯ লাখ সদস্য নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সদস্য ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন থাকবে। পুলিশের প্রায় দেড় লাখ, সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হবে।

পরিপত্রে বলা হয়, নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‌্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএন এবং আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা, উপজেলা ও থানাভিত্তিক কাজ করবে। আর উপকূলীয় এলাকার জন্য কোস্টগার্ড মোতায়েন থাকবে। সকল বাহিনী রিটার্নিং অফিসারের কাছে রিপোর্ট করবে, তার নির্দেশ এবং পরামর্শ অনুসারে দায়িত্ব পালন করবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, এ নির্বাচনে মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সারাদেশে প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬-১৭ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭-১৮ জন মোতায়েন থাকবে। আর মেট্রোপলিটন এলাকার সাধারন ভোটকেন্দ্রে ১৬ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন থাকবেন। দুর্গম ঘোষিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট এলাকার ভোটকেন্দ্রে ১৬-১৮ জন করে সদস্য মোতায়েন হবে। এসব সদস্য ভোটগ্রহণের দুদিন আগ থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।

এবারের সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে দুই হাজার ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে। এরমধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে, বাকিরা ৫১টি দলের প্রার্থী।

>> এবার প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের জন্য ৩০০ আসনে প্রায় ৪২ হাজার ৭৭৯ ভোটকেন্দ্র।

>> আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে ৭ দিনের জন্য।

>> ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ঘিরে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকছে।

>> নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনি আচরণবিধি দেখার পাশাপাশি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করবেন।

মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্ট্রাইকিং ফোর্স বিশেষ করে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে দায়িত্বপালন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।




রমেশ চন্দ্র সেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে গেলেন মির্জা ফখরুল

ডেস্ক নিউজঃ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে জেলাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। তার প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনের সহকর্মীকে শেষবারের মতো দেখতে ছুটে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার রুহিয়ার বাসায় যান মির্জা ফখরুল। তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে মরহুমের পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন। পরে তিনি সেখান থেকে বিদায় নেন।

এ সময় বিএনপি মহাসচিব সংবাদমাধ্যমকে কোনো বক্তব্য না দিলেও এর আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক শোকবার্তায় রমেশ চন্দ্র সেনের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করেন।

রমেশ চন্দ্র সেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

এর আগে, শনিবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে রমেশ চন্দ্র সেনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কারা সূত্রে জানা গেছে, সকালে ঘুম থেকে উঠে দৈনন্দিন কাজ শেষে নাস্তা করার পর তিনি ওয়ার্ডের ওয়াশরুমে যান। সেখানে গোসলের প্রস্তুতিকালে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেলে কারাগারের দায়িত্বরত সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে ১৬ আগস্ট রাতে সদর উপজেলার রুহিয়া সেনপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের মাধ্যমে প্রথমে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরদিন তাকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন।

রমেশ চন্দ্র সেন ১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের কশালগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ক্ষিতীন্দ্র মোহন সেন এবং মায়ের নাম বালাশ্বরী সেন। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজে পড়াশোনা করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সর্বশেষ ২০২৪ সালে দলটির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদ শেষ হয়।




নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট প্রধান উপদেষ্টা: প্রেস সচিব

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। এখন সুষ্ঠু নির্বাচন করা বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, পরবর্তী এক সপ্তাহ খুবই ক্রুশিয়াল। তিনি বলেছেন, ভোট উৎসবমুখর হবে এবং সেইফ হবে। নারীরা আনন্দের সাথে ভোট দিবেন, পুরো পরিবার একসাথে ভোট উৎসবে যোগ দিবেন। আমি আশা করি এই ভোট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রেস সচিব জানান, বডি অন ক্যামেরা কীভাবে কাজ করছে সেটা জানতে যারা বডি অন ক্যামেরা ক্যারি করছিলেন তাদের প্রধান উপদেষ্টা কথা বলেছেন।




ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি বা পারিশ্রমিক গ্রহণ নিষিদ্ধ: মার্কিন দূতাবাস

ডেস্ক নিউজঃ ভিজিটর ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কোনো ধরনের চাকরি করা বা পারিশ্রমিক গ্রহণের অনুমতি নেই বলে সতর্ক করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, বি১ ও বি২—অর্থাৎ ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কিছু সীমিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম করা গেলেও চাকরি করা বা অর্থ গ্রহণ আইনত নিষিদ্ধ।

দূতাবাসের তথ্যে বলা হয়, বি১/বি২ ভিসার আওতায় চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা, দরকষাকষি কিংবা বিভিন্ন সম্মেলনে অংশ নেওয়া যেতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে কোনো মার্কিন নিয়োগকর্তার জন্য কাজ করা বা সেখান থেকে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা অনুমোদিত নয়।

বার্তায় আরও বলা হয়, ভিসার শর্ত যথাযথভাবে মেনে চলা ভিসাধারীর ব্যক্তিগত দায়িত্ব। ভিসার শর্ত লঙ্ঘিত হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।




নির্বাচনে ২৪ ঘণ্টা যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, প্রবাসী যাত্রীদের ছাড়

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারাদেশে যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১ ফেব্রুয়ারি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৩২ ধারা অনুসারে ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ টানা ২৪ ঘণ্টা।

এর পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত, মোট ৭২ ঘণ্টা সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

তবে জরুরি প্রয়োজন ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ শিথিল রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং অনুমোদিত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া জরুরি সেবা, ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও অনুরূপ দ্রব্য পরিবহন এবং সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন চলাচলের অনুমতি পাবে।

বিদেশগামী ও বিদেশফেরত যাত্রীদের জন্যও বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। পাসপোর্ট ও টিকিটসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিমানবন্দর যাতায়াতে কোনো বাধা থাকবে না। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহন এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চলাচলেও শিথিলতা থাকবে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের জন্যও বিশেষ সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি ও নির্ধারিত স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে প্রার্থী ও এজেন্টরা একটি করে ছোট গাড়ি (জিপ, কার বা মাইক্রোবাস) ব্যবহার করতে পারবেন।

সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন থাকলে যানবাহন বা মোটরসাইকেল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যানবাহনও এই বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকবে। এছাড়া টেলিযোগাযোগ সেবা সচল রাখতে বিটিআরসি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন জরুরি সেবার আওতায় চলাচল করতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এলাকা এবং আন্তজেলা বা মহানগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে, যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না হয়।

এদিকে স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার প্রয়োজন অনুযায়ী এ বিধিনিষেধ আরও কঠোর বা শিথিল করার ক্ষমতা রাখবেন।