টিকার পর্যাপ্ত মজুত আছে, আগামী ৬ মাস কোনো সমস্যা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ দেশে সব টিকার পর্যাপ্ত মজুত আছে এবং আগামী ৬ মাসে টিকা দিতে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, টিকার কোনো সংকট নেই।

বুধবার (২২ এপ্রিল) ‎রাজধানীর শাহবাগে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে চীনের কুনমিং মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির সাথে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘আমাদের ছয় মাসের (টিকার) মজুত আছে, অন দ্য লাইনে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ। পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত আমরা ভ্যাকসিন দিয়ে যেতে পারবো।’

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে লোকবল সংকট কাটাতে সরকার ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগে দিতে যাচ্ছে। এছাড়াও, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জন্য ১০ জন সশস্ত্র আনসার নিয়োগ করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চীন সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ‎দুদেশের দীর্ঘমেয়াদি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণেই এই সমঝোতা হয়েছে।

চীন বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক সহায়তাসহ নানামুখী কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, করোনাকালীন সময়েও চীন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।




ঢাকার প্রথম নারী ডিসি ফরিদা খানম

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকা জেলার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা খানম। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। বর্তমানে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ-এ কর্মরত রয়েছেন।

নতুন দায়িত্বে ফরিদা খানম ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তবে বর্তমান জেলা প্রশাসককে কোথায় বদলি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ স্কাউটসের কার্যনির্বাহী কমিটির সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ স্কাউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা। 

বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

সাক্ষাৎকালে স্কাউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এসময় স্কাউট সদস্যদের ভালোবাসায় সিক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে স্কাউটিং কমিটির ভূমিকার প্রশংসা করেন।




ভারত মহাসাগরে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন সেনাদের অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারত মহাসাগরে মার্কিন ‘নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত’ একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে মার্কিন মেরিন সেনারা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলসীমায় চলাচলরত এম/টি টিফানি নামের জাহাজটিতে এ অভিযান চালানো হয়।

গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের খার্গ দ্বীপ থেকে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকায় জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। সে পরিপ্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৩০ মিটার দীর্ঘ অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারটিতে (ভিএলসিসি) তখনও তেল বোঝাই ছিল। মেরিন ট্র্যাফিকের তথ্যানুযায়ী, জাহাজটি ১৯ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার ডনড্রা হেড অতিক্রম করে এবং ২০ এপ্রিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে প্রবেশের পর মার্কিন মেরিন সদস্যরা এতে আরোহণ করে। সে সময় ট্যাংকারটির গতি ছিল প্রায় ৬ নট এবং ড্রাফট ছিল ২০ মিটার, যা সাধারণত ভারী বোঝাই থাকার ইঙ্গিত দেয়।

পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এলাকায় কোনো ধরনের সংঘাত বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ট্যাংকারটিতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘পরিদর্শনের অধিকার’ প্রয়োগ করে মার্কিন বাহিনী জাহাজটিতে আরোহণ করে।

এম/টি টিফানিকে ‘রাষ্ট্রবিহীন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাংকার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক জলসীমা কোনোভাবেই ইরানকে অবৈধ সহায়তা প্রদানকারী জাহাজগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয় হতে পারে না। এ ধরনের পদক্ষেপের লক্ষ্য অবৈধ সামুদ্রিক নেটওয়ার্ক ব্যাহত করা এবং নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজগুলোর চলাচল সীমিত করা।

পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, এটি ছিল নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে আরোহণের অংশ। এম/টি টিফানি ইরানের অপরিশোধিত তেল স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হয়। জাহাজ-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, আরোহণের আগের দিনগুলোতে এটি ভারত মহাসাগরেই চলাচল করছিল। তবে অভিযান শেষে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর মার্কিন চাপ প্রসারিত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে এমন অভিযান বৈশ্বিক পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।

এর আগে গত ১৯ এপ্রিল হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি আরেকটি ঘটনায় মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘তুস্কা’কে আটক করে। মার্কিন গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়েন্স জাহাজটিকে থামায়। তাদের অভিযোগ, জাহাজটির নাবিকরা গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশনা মানেনি।

সূত্র: গালফ টাইমস, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দপ্তরের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট




সৌদি আরব পৌঁছেছেন ২০ হাজার ৫৬৩ হজযাত্রী, একজনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে বাংলাদেশ থেকে ২০ হাজার ৫৬৩ হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সরকারি-বেসরকারি মোট ৫১টি ফ্লাইটে সৌদিতে পৌঁছান তারা। এদিকে হজে গিয়ে নইম উদ্দীন মন্ডল (৭৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা ও সৌদি আরবের সূত্রে হজ বুলেটিনের আইটি হেল্প ডেস্ক জানিয়েছে, বুধবার রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৯টি ফ্লাইটে সৌদি আরব পৌঁছান ৭ হাজার ৮৫৫ হজযাত্রী, সৌদি এয়ারলাইনসের ১৮টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ১৫ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ১৪টি ফ্লাইটে ৫ হাজার ৬৯৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছান। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ২ হাজার ৮৭০ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি পৌঁছান ১৭ হাজার ৬৯৩ হজযাত্রী।

এদিকে চলতি বছর পবিত্র হজপালনে সৌদি আরবে গিয়ে এখন পর্যন্ত নইম উদ্দীন মন্ডল নামে একজন বাংলাদেশি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। নইম উদ্দীন মন্ডলের বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলায়।

এর আগে, গত ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এ দিন ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করে।




গ্রামে ৮ থেকে ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না

ডেস্ক নিউজঃ দেশ জুড়ে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে লোডশেডিং পরিস্থিতিতে। এপ্রিলের শুরু থেকেই লোডশেডিং নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা মে-জুনে আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ১৫ হাজার ৩৩০ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৩৫৮ মেগাওয়াট। একই দিনে সর্বোচ্চ লোডশেডিং পৌঁছায় ১ হাজার ৯৩২ মেগাওয়াটে। গত কয়েক দিনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ লোডশেডিং ২ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে গত রবি, সোম ও মঙ্গলবারে যথাক্রমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৩, ৩৬.৬ এবং ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, তিন দিনই বিদ্যুতের লোডশেড ১৯০০ মেগাওয়াটের মতো ছিল। বিদ্যুতের পরিমাণ বিবেচনায় এ সময়ে ঢাকা অঞ্চলে লোডশেড বেশি হলেও সময় বিবেচনায় তা ছিল অপেক্ষাকৃত কম। আর বিদ্যুৎ না থাকার সময় বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি লোডশেড হয় বরিশাল অঞ্চলে, দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। এরপর বেশি সময় অন্ধকারে থাকা অঞ্চলগুলো হলো যথাক্রমে রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, ঢাকা বিভাগ, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং রংপুর। তবে ঢাকা শহরে লোডশেডিং অপেক্ষাকৃত কম, দৈনিক ১ থেকে ২ ঘণ্টা। এমনকি অনেক এলাকায় লোডশেড প্রায় শূন্য।

গরম যত বাড়ছেতত বাড়ছে ঘাটতি

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং একাধিক এলাকায় তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে আবাসিক খাতে ফ্যান, এসি ও কুলিং ডিভাইসের ব্যবহার বেড়েছে। কৃষিতে বোরো সেচের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্প খাতেও বৈদ্যুতিক জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাত্ লাফিয়ে বাড়লেও উৎপাদন সেই হারে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলেই লোডশেডিং বাড়ছে।

উৎপাদনচাহিদা ও সরবরাহে বাড়ছে ব্যবধান

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে সাবস্টেশন পর্যায়ে বিদ্যুতের দৈনিক গড় চাহিদা প্রায় সাড়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু প্রকৃত উৎপাদন ১৩-১৪ হাজার মেগাওয়াট। এখানেই ঘাটতি প্রায় ১-২ হাজার মেগাওয়াট। পিক আওয়ারে এই ঘাটতি আরো বেশি। কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা আরো বেশি। তাই বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা ও লোডশেড সরকারি তথ্যের চেয়ে বেশি বলে জানান খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। সোমবার ইভিনিং পিক আওয়ারে চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট, বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ১৯৮ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হয়েছে ১ হাজার ৯১২ মেগাওয়াট।  অন্যদিকে দিনের বিভিন্ন সময়ে ৯১৩ থেকে ১৮৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত  লোডশেডিং করতে হয়েছে।

অঞ্চলভেদে লোডশেডিংয়ের বৈষম্য চিত্র

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। আবার ঘাটতিও বেশি এ বিভাগে। তবে যে পরিমাণ বিদ্যুতের ঘাটতি থাকে তাতে ঢাকায় লোডশেড হয় গড়ে ২ ঘণ্টার মতো। কিন্তু অন্যান্য অঞ্চলগুলোতে চাহিদা অপেক্ষাকৃত কম থাকলেও সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কম। ফলে ঐ অঞ্চলগুলোতে জনগণ দীর্ঘসময় বিদ্যুেসবা বঞ্চিত থাকেন। পিজিসিবির ও পিডিবির সাব স্টেশন পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে এবং স্থানীয় সূত্রগুলো মতে, বরিশাল অঞ্চলে বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার চেয়ে সবচেয়ে কম। দিনে ৮-১০ বার বিদ্যুৎ গিয়ে ১০-১২ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে ভোগেন মানুষ। কিছু এলাকায় সরবরাহ চাহিদার অর্ধেকেরও কম।

রাজশাহী অঞ্চলে দিনে ছয় থেকে আট বার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়। এতে ৮-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। কৃষি সেচ ও রাতের পিক লোডের সময়ও একাধিকবার বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায় না। খুলনা অঞ্চলে দিনে ছয় থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ চলে যায় পাঁচ থেকে আট বার। এর ফলে ঐ অঞ্চলের শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়। চট্টগ্রাম শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ অপেক্ষাকৃত ভালো থাকলেও এ বিভাগের গ্রামীণ এলাকায় এবং উপজেলা শহরগুলোতেও দিনে ছয় থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে না। কিছু এলাকায় ১৬-১৭ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। দিনে বিদ্যুৎ যায় ছয় থেকে ১০ বার।

ঢাকা বিভাগে শহরাঞ্চলের বাইরে গ্রামে ও উপজেলা পর্যায়ে দিনে পাঁচ-সাত বার বিদ্যুৎ গিয়ে লোডশেড হয় ছয় থেকে আট ঘণ্টা। কুমিল্লা অঞ্চলেও দিনে ছয় থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পায় না জনগণ। সেখানেও শহরের চেয়ে গ্রামে লোডশেড ও ভোগান্তি বেশি। ময়মনসিংহে পাঁচ-সাত বার বিদ্যুৎ গিয়ে পাঁচ-আট ঘণ্টা বিদ্যুতের সরবরাহ থাকে না। সিলেটে দিনে গড়ে চার-ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। কিন্তু কিছু উপজেলায় বা এলাকায় দিনের অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না। রংপুরে দিনে তিন থেকে ছয় বার বিদ্যুৎ গিয়ে সরবরাহ থাকে না তিন-পাঁচ ঘণ্টা। পিক আওয়ারে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৩৮ শতাংশই ঢাকায় সরবরাহ করা হয়। ফলে অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ কমে যায়।

লোডশেডিংয়ের কারণে নওগাঁ, নাটোর, কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষি সেচ, ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে ৪৮৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৩১২ মেগাওয়াটের মতো। ফলে প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে, যা সরাসরি শিল্প উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। লোডশেডিংয়ের কারণে গার্মেন্টস ও কারখানায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে। তাঁত শিল্পে উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে। সেচ পাম্প পর্যাপ্ত পরিমাণে চালাতে না পারায় বোরো মৌসুমে বিদ্যুৎ ঘাটতি কৃষকদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) সূত্র জানায়, আমদানিসহ দেশে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৪৯৪ মেগাওয়াট। এবার গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ চাহিদা সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট হতে পারে বলে প্রক্ষেপণ করেছে সরকার। কিন্তু গরম বাড়লেও জ্বালানিসংকটে চাহিদানুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না বিদ্যুেকন্দ্রগুলো।




আজ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের জন্য জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়া আজ বুধবার থেকে শুরু হবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আজ বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনব্যাপী চলবে এই বাছাই কার্যক্রম।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ও সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন-২০২৬ এর রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ২২ এপ্রিল (বুধবার) দুপুর ২টা থেকে এবং পরদিন ২৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন ভবন অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) এই বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

ইসির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র বাছাইকালে প্রার্থী নিজে এবং তাদের প্রস্তাবক ও সমর্থকগণ উপস্থিত থাকতে পারবেন।




চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে সংঘর্ষ ‘একটি পা কেটে’ নেওয়ার অভিযোগ শাহজাহান চৌধুরীর, দোষারোপ না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ : চট্টগ্রাম সিটি কলেজে একটি ছাত্রসংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করে একজনের একটি পা কেটে নিয়েছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, নিউমার্কেটে গত ২৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহাসমাবেশে যারা আক্রমণ করেছিল, তারাই আজকে সিটি কলেজে আক্রমণ করেছে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘটনার তদন্ত না করে কাউকে দোষারোপ না করার আহ্বান জানান।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে শাহজাহান চৌধুরী সিটি কলেজে ছাত্রদের সংঘর্ষের বিষয় তুলে ধরেন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই দফায় সংঘর্ষ চলে। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে উভয় পক্ষের কর্মীদের দেখা গেছে। ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দুই পক্ষই দাবি করেছে।

এই সংঘর্ষের ঘটনা উল্লেখ করে সংসদে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের নিউমার্কেটের কাছাকাছি সিটি কলেজ। নিউমার্কেটে ২৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহাসমাবেশে যারা আক্রমণ করেছিল, তারাই আজ সিটি কলেজে সন্ত্রাসী আক্রমণ করেছে একটি ছবি নিয়ে। একজনের পা কেটে ফেলেছে।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘এই অপরাধীদের নামে মামলাও আছে। চট্টগ্রামে অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য, সিটি কলেজের ছাত্র নামধারী পার্শ্ববর্তী এলাকার অস্ত্রধারীরা, যাদের নামে মামলা আছে, তারা সাধারণ ছাত্রদের ওপর আক্রমণ করে একটি পা কেটে নিল।’ এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষভাবে দেখার অনুরোধ করেন তিনি।

এ পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে তাঁদের দোষারোপ করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে চলমান বিষয় হিসেবে তাঁর কাছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সংবাদ আসে। চট্টগ্রামে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে, একটা নিউজ বের হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে তাঁর একটু সময় লাগবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘তবে একতরফা ব্লেম আমি যেমন দিতে চাই না, মাননীয় সদস্যেরও উচিত না কোনো তদন্ত ছাড়া একটা রাজনৈতিক দলের ওপর আক্রমণ হয়েছে ইত্যাদি বলা। উনি নোটিশ দিলেও আমাকে সময় দিতে হবে, আমি ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেব।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব, কোনো তদন্ত ছাড়া অতীতের সংস্কৃতির মতো এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ না করি। যদি এ রকম ঘটনা হয়, অবশ্যই থানায় মামলা দায়ের করতে হবে। সুষ্ঠুভাবে তদন্তপ্রক্রিয়া চলবে।’




দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অতিরিক্ত তেল না কেনার পরামর্শ

ডেস্ক নিউজ : দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত বিদ্যমান থাকায় জনগণকে অযৌক্তিক ভীতি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। মূলত অসাধু চক্রের বেআইনি মজুতদারি এবং ক্রেতাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতার কারণেই বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। আজ মঙ্গলবার সকালে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী উপস্থিত ছিলেন।

জ্বালানি মজুতের সর্বশেষ পরিসংখ্যান উল্লেখ করে এই উপদেষ্টা জানান, ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এক লাখ ২২ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৭ হাজার ৬০২ টন অকটেন সংরক্ষিত রয়েছে। পাশাপাশি এক লাখ ৮৪ হাজার ৫৪ টন পেট্রোল এবং ২১ হাজার ৩৮২ টন জেট ফুয়েল মজুত আছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসির অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোকে গত ২০ এপ্রিল থেকে ডিজেল ও পেট্রোলে ১০ শতাংশ এবং অকটেনে ২০ শতাংশ বেশি সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, রাজধানীর আসাদ গেটের পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাব পাম্পে গত বছর পুরো মাসে তিন লাখ ১৫ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি হলেও চলতি এপ্রিলের মাত্র ১৯ দিনেই দুই লাখ ৭০ হাজার লিটার সরবরাহ করা হয়েছে।

বেআইনিভাবে জ্বালানি আটকে রাখার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী কঠোর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। গত ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৩টি অভিযান চালিয়ে ৪৭টি মামলার বিপরীতে এক কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার ৭১৫ টাকা জরিমানা আদায় এবং ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে সর্বমোট পাঁচ লাখ ৬২ হাজার ৮২১ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে প্রশাসন। উদ্ধারকৃত এই তেলের মধ্যে তিন লাখ ৮১ হাজার ৮০৫ লিটার ডিজেল, ৪০ হাজার ৪০১ লিটার অকটেন, ৯২ হাজার ১১৫ লিটার পেট্রোল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস অয়েল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দেশজুড়ে ‘ফুয়েল পাস বিডি’ অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন, পাশাপাশি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়েও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক ‘এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ চালু এবং সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে ‘অপারেশন রিস্টোর’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ’ চলমান রয়েছে। একই সাথে ইটভাটায় কৃষিজমির মাটির ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ এবং হাওর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৪০০টি ওয়াইফাই হটস্পট স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।




দেড় মাসের শিশুসহ কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় যুব মহিলা লীগের নেত্রী মোসা. শিল্পী বেগমকে (৩৭) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আসামিকে হাজির করা হলে বিচারক আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শিল্পী বেগম ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের নেত্রী।

মঙ্গলবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে আদালতের চারতলায় দেখা যায়, ৪৬ দিন বয়সী এক শিশুকে স্তন্যপান করাচ্ছেন শিল্পী বেগম। পুলিশ যখন তাকে হাজতখানায় নিয়ে যেতে উদ্যত হয়, তখন তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় উপস্থিত আইনজীবী ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে পুলিশের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত কোলের শিশুকে নিয়েই তাকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী আদালতে জামিন আবেদন করে বলেন, আসামির কোলে মাত্র ১ মাস ১৬ দিনের শিশু। সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের পর মা ও শিশুর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন। মানবিক দিক বিবেচনায় জামিন চাওয়া হলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি, যা মা ও শিশুর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন শিল্পী বেগমের বিরুদ্ধে হামলা ও লুণ্ঠনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদ মুবিন রাতুল গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় শিল্পী বেগমের নাম আসে। এছাড়া ২৩ জুলাই তার নির্দেশেই ১২০-১৩০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি রাতুলের বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুণ্ঠন চালায়। হামলার সময় বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ও মারধর করে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, আসামিকে আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ২০ এপ্রিল নিজ বাসা থেকে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।