নবম পে-স্কেল জুলাই থেকেই আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তাব, কার বেতন কত

ডেস্ক নিউজঃ নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নে খসড়া প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি। প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন ধরা হবে। ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে নতুন বেতন কাঠামো কত ধাপে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। 

বুধবার (১২ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রস্তাবনাটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়। সচিবদের কমিটির এক সদস্য জানান, বাস্তবায়নের ধাপসংখ্যা মন্ত্রিসভাই নির্ধারণ করবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অর্থ বিভাগ গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নবম পে-স্কেল সম্পর্কে অবহিত করে। এরপর ওই আলোচনার ভিত্তিতে প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নিম্ন গ্রেডে বেশি বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা
নতুন বেতন কাঠামোয় উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া বলেন, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ধাপে ধাপে না বাড়িয়ে একবারে ১০০ শতাংশ বাড়ানো উচিত। উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন প্রাথমিকভাবে না বাড়ালেও সমস্যা নেই বলে মনে করেন তিনি।

তার মতে, উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীরা বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পান। কিন্তু নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা আর্থিকভাবে বেশি সংকটে রয়েছেন।

বিচার বিভাগ নিয়ে জটিলতা
নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত করার পর্যায়ে বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এসব জটিলতা নিরসন এবং বিচার বিভাগের কর্মচারীদের বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করতে ৬ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ে ওই কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কমিটির সুপারিশের পর চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

কার বেতন কত হতে পারে
নবম পে স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।

প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।

২০১৫ সালের পর নতুন পে-স্কেল
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রতিবছর নির্ধারিত হারে বাড়লেও মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এর ফলে নবম পে-স্কেলের দাবি জোরালো হয়। পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে-কমিশন বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করে।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল পে-স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও পরবর্তী মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন কাঠামো নির্ধারিত হবে।




বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বৈঠক

ডেস্ক নিউজঃ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সফরে আসা ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের (ইউএসবিবিসি) ৫০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বৈঠকের তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে এক্সিলারেট এনার্জি, শেভরন, মেটা, মেটলাইফ, বোয়িং, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকসহ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এক্সিলারেট এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, অর্থনীতি ও অন্যান্য খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত দলটি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে ঢাকায় এসেছে।

গত ১১ আগস্ট ইউএসবিবিসির প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় আসে। তিন দিনের সফর আজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সফরে তারা জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন ও আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করছে।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে কীভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি কোম্পানির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা অংশ নেন। কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এক্সিলারেট এনার্জি, শেভরন, মেটা, মেটলাইফ, বোয়িং ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

একই সময়ে ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশপ বলেন, আজ বৈঠকে যে ২৫টি কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন, সেসব কোম্পানি হলো বাংলাদেশে শীর্ষ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশ হতে চায়। এ জন্য বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ ও কারিগরি জ্ঞানের মাধ্যমে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

এসময় বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো বেশ উৎসাহব্যঞ্জক, যা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।




রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দলের স্থায়ী কমিটির সভায় নাম চূড়ান্ত করা হয়। দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা। ইসির তফসিল অনুযায়ী, এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

অন্যদিকে সংসদের বিরোধী দল, অর্থাৎ ১১ দলীয় জোট থেকে প্রার্থী করা হয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন জোট নেতারা।

ইসির তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের তারিখ রেখে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।

এক প্রার্থী একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন, বাছাইয়ে একটি চূড়ান্ত হবে। ভোট হবে ২০ আগস্ট সংসদ অধিবেশন কক্ষে।



বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে বিএনপির শীর্ষ ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের জরুরি বৈঠকে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় মির্জা ফখরুল দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।’

এর আগে সকাল ৯টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে দলের শীর্ষ ও জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নেন। বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিবের পদটি শূন্য হবে। ফলে এখন দলের পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়েও বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নাম এ পদে আলোচনায় রয়েছে।




১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল অলির মনোনয়নপত্র দাখিল

১১ দলীয় ঐক্যজোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল করে ড. হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল।

এ সময় জোটের শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন। 

পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীরবিক্রম)।

আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ জন্য বৃহস্পতিবার নিজেদের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেবে সরকারি দল ও বিরোধী দল।

সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। 

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামী ১৮ আগস্ট। আগামী ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।




এনআইডিতে জন্মতারিখ ও নাম সংশোধনে নতুন নিয়ম

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মতারিখ সংশোধনের প্রক্রিয়ায় নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। এখন থেকে অনলাইনে যাচাই করা যায়—এমন শিক্ষাগত সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাই নিষ্পত্তি করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ ব্যবহার করে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এবং নিজের নাম বা বাবা-মায়ের নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তনের আবেদন জাতীয় পরিচয়পত্রের মহাপরিচালক (ডিজি) নিষ্পত্তি করবেন।

এ ছাড়া জন্মতারিখ, নিজের নাম এবং বাবা-মায়ের নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশোধনের সুযোগ একবারই থাকবে। অর্থাৎ এসব তথ্য একবার সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা হলে পরবর্তীতে দ্বিতীয়বার সংশোধনের আবেদন করা যাবে না।

নতুন এই নির্দেশনার ফলে কোন ধরনের আবেদন স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে এবং কোন আবেদন কেন্দ্রীয়ভাবে অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও নির্দিষ্ট হলো।




রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ রিটটি দায়ের করেন।

রিটে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোন নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।

রিটকারী আইনজীবীর দাবি, এই বিধানের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এতে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বর্তমান প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

এদিকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় তফসিলসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনকে ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে রিট দায়ের হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।




পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন গতি, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি

বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নে সরকার সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে।

এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করাই হবে কমিটির প্রধান দায়িত্ব। প্রয়োজন হলে কমিটি নতুন সদস্যও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা শিগগিরই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন মিললে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে নতুন পে স্কেল ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এর আর্থিক প্রভাব। বেতন বাড়ালে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

তবে সরকার পুরো বিষয়টি স্থগিত না রেখে আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বাস্তবায়নের উপায় খুঁজছে। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারিত হারে বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর পর থেকেই নবম পে স্কেলের দাবি জোরালো হতে থাকে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

পরে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল পে স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। সেই চাপ সামাল দিতে রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষতা আনা প্রয়োজন হবে।

নতুন পে স্কেল নিয়ে এরই মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বেড়েছে। এখন তাঁদের নজর মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি কবে উঠবে, অনুমোদনের পর কখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং কোন কাঠামোয় নতুন বেতন কার্যকর হবে—সেদিকেই।




রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন ফখরুল ও অলি

দেশের নতুন অর্থাৎ ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমাদান আজ সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করলেও দলীয় সূত্রমতে তাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হচ্ছেন দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আজ দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বিএনপির প্রার্থীর নাম। এরপর দলের পক্ষ থেকে বেলা ২টার দিকে তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা। এদিকে, বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। আজ বেলা ১১টায় তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুসারে, ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট। এদিন বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে।

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার গঠিত হয়। ওই বছরের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিলেন জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের সংসদ সদস্যরা।

১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠন করে। বিরোধী দলে ছিল আওয়ামী লীগ। সেবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুই দলের প্রার্থী থাকায় প্রথমবারের মতো সংসদকক্ষে ভোট হয়। বিএনপি প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। পঞ্চম সংসদে বিএনপি ১৪০, আওয়ামী লীগ ৮৮, জাতীয় পার্টি ৩৫, জামায়াত ১৮, বাকশাল পাঁচ, সিপিবি পাঁচ, ইসলামী ঐক্যজোট এক, ন্যাপ (মোজাফফর) এক, গণতন্ত্রী পার্টি এক, এনডিপি এক, জাসদ (শাজাহান সিরাজ) এক ও ওয়ার্কার্স পার্টি একটি আসন পেয়েছিল। সেবার ৩০০ সাধারণ আসনের পাশাপাশি সংরক্ষিত আসন ছিল ৩০টি। সব মিলিয়ে (নির্বাচিত ও সংরক্ষিত) ৩৩০ জনের মধ্যে জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ ৬৬ জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।

১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পোলিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন যুগ্ম সচিব হিসেবে অবসরে যাওয়া ইসির কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ। ৩৫ বছর আগের সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সেবারই প্রথম প্রকাশ্য ভোট হয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে। ভোটাররা প্রকাশ্যে ভোট দেন; ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা দূর থেকে তা প্রত্যক্ষ করেন। দুই প্রার্থীর পোলিং এজেন্টও দেখেন কে কাকে ভোট দিচ্ছেন। কে কে ভোট দিলেন তা নোটও নেন নিজ নিজ দলের এজেন্টরা। ভোটের পরদিন ৯ অক্টোবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় পার্টি, জামায়াত, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি ভোট দেয়নি। আবদুর রহমান বিশ্বাস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

’৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির সব সংসদ সদস্য ভোট দিতে আসেন এবং দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেন। স্বতন্ত্র সদস্য নূরুল ইসলাম মনি ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদও তাঁকে ভোট দেন। গণতন্ত্রী পার্টির সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। তবে আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান বাবু ভোট দিতে সংসদে যাননি। জাতীয় পার্টি নির্বাচন বর্জন করে। জামায়াত ও সিপিবি সদস্যরা ভোটদানে বিরত ছিলেন। ন্যাপের আবদুল হাফিজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, এনডিপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জাসদের শাজাহান সিরাজ ও ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ভোটদানে বিরত ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ সেদিন সংসদে উপস্থিত থেকে নির্বাচন পরিচালনা করেন। সংসদকক্ষের ভিতরে চারটি কক্ষে একযোগে ভোট শুরু হয় বেলা ২টায়। বিরতি ছাড়াই ভোট চলে ৫টা পর্যন্ত।

বিএনপি চেয়ারপারসন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২টায় ভোট দেন। ভোট দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন এবং দলীয় সদস্যদের ভোটদান প্রত্যক্ষ করেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ভোট দেন ৩টা ৩৪ মিনিটে। বিকাল ৫টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে ভোটদানের সময় শেষ ঘোষণা করেন সিইসি। ৫টা ৫ মিনিটে ভোট গণনা শুরু হয়। পৌনে ৬টায় গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ওই দিনই ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে ইসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবদুর রহমান বিশ্বাস পেয়েছেন ১৭২ আর বদরুল হায়দার চৌধুরী ৯২ ভোট।

এদিকে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ। জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত হলেও বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে। ইসি জানিয়েছে, এবারে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটিতে প্রার্থিতা বাতিল রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এবার ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যাঁরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এর মধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সদস্য ২৪৭ আর জামায়াতের ৭৭ জন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র আট, এনসিপির আট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিন, ইসলামী আন্দোলনের এক, বিজেপির এক, গণসংহতি আন্দোলনের এক, গণপরিষদের এক, খেলাফত মজলিসের এক ও জাগপার এক জন সংসদ সদস্য রয়েছেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ বিরতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হচ্ছে ২০ আগস্ট। শুরুতে ভোটাভুটি সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) হবে এবং সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা থাকবে।’




প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি, গ্রেফতার ৬ জন রিমান্ডে

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম, পরিচয়, সিল, স্বাক্ষর ও অফিশিয়াল লেটারহেড জাল করে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার ৬ আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেক আসামির সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- ফারুক হোসেন, সাকিব খান, মাসুম মুনসী, মীর তৌহিদুল ইসলাম, বকুল মন্ডল ও রফিকুল ইসলাম।

আদালত সূত্র জানায়, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গত ৭ আগস্ট আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো. সামিম সরদার। সেদিন আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

এদিন কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামিদের পক্ষে একাধিক আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ও খাম ব্যবহার করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি খাম পাঠানো হয়। ওই খামের ভেতরে ছিল সাত পাতার নথি। এতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরযুক্ত বিভিন্ন নথি ছিল।

নথিগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগে পাঠানো হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম, পরিচয়, সিল, স্বাক্ষর ও অফিশিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে ভুয়া নথি তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের একপর্যায়ে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে পুলিশ। পরে মাদারীপুরের কালকিনি থানা এলাকা ও কুষ্টিয়া থেকে ফারুক হোসেন, সাকিব খান, মাসুম মুনসী, মীর তৌহিদুল ইসলাম ও বকুল মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক রায়হানুর রহমান বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন। ওইদিন গ্রেফতার আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলা দায়েরের পরদিন রাজধানীর মতিঝিলের ফকিরাপুল এলাকা থেকে রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসামিদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রী-এমপিদের সিল ও স্বাক্ষর সংবলিত লেটারহেড প্যাড জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের ধারণা, জাল নথি তৈরির মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে বড় ধরনের প্রতারণার পরিকল্পনা করছিল চক্রটি। রিমান্ডে নিয়ে তাদের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং জাল নথি তৈরির উদ্দেশ্য কী ছিল- এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।