ঢাকায় এমআরভি সার্ভার অচল, বিদেশি মিশনে ভিসা সেবা বিঘ্নিত

ডেস্ক নিউজঃ কারিগরি সমস্যার কারণে ঢাকায় অবস্থিত এমআরভি-এর কেন্দ্রীয় সার্ভার সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়েছে। ফলে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোতে ভিসা ও নো-ভিসা সেবা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। 

স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে পৃথক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস, ব্যাংকক ও লিসবন।

ব্যাংকক দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভিসা সার্ভারে সাময়িক কারিগরি ত্রুটির কারণে আবেদনকারীরা ভিসা আবেদন জমা দেওয়া এবং ভিসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল দ্রুত সমস্যাটি সমাধানে কাজ করছে জানিয়ে দূতাবাস আবেদনকারীদের সাময়িক অসুবিধাটি বিবেচনায় রাখার অনুরোধ করেছে। পাশাপাশি সিস্টেম পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত, যেখানে সম্ভব, ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ওপর নির্ভরশীল জরুরি ভ্রমণ পরিকল্পনা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, লিসবন দূতাবাস জানিয়েছে, ঢাকায় অবস্থিত এমআরভি-এর কেন্দ্রীয় সার্ভার সাময়িকভাবে অচল থাকায় ভিসা ও নো-ভিসা সেবা প্রদান বিঘ্নিত হচ্ছে।

দূতাবাস জানায়, কেন্দ্রীয় সার্ভার দ্রুত সচল করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল কাজ করছে। সার্ভার পুনরায় চালু হওয়ার পর ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে ইতিবাচক সংকেত পাওয়ার পর পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সবাইকে জানানো হবে।

সাময়িক এই অসুবিধার জন্য আবেদনকারীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে ব্যাংকক ও লিসবন মিশন। একই সঙ্গে সবার ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে তারা।




জিয়াউর রহমানের লাশ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন কর্নেল মতিউর

ডেস্ক নিউজঃ ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর তার মরদেহ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (বরখাস্ত/অবসরপ্রাপ্ত) মোজাফফর হোসেন নিজেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউটর তানভীর হাসান একটি গণমাধ্যমকে জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় মোজাফফর হোসেন এই তথ্য প্রকাশ করেন। গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী থেকে মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রসিকিউটর তানভীর হাসান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর জানিয়েছেন যে তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান তাকে জিয়ার মরদেহ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশ পেয়ে তিনি সৈনিকদের নিয়ে সার্কিট হাউস থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরদেহ মোজাফফর হোসেন পাহাড়ে নিয়ে যান।

তবে নির্দেশ অমান্য করে তিনি মরদেহ পাহাড় থেকে ফেলেননি জানিয়ে বলেন, “একজন ইমামকে ডেকে এনে জিয়াউর রহমানসহ তিনজনের মরদেহ একটি কবরে দাফন করা হয়। তবে সেটি যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির মরদেহ ছিল, তা সেই ইমামকে জানানো হয়নি।”

মোজাফফরের বাংলাদেশি এনআইডি ও পাসপোর্ট থাকার কথা উল্লেখ করে প্রসিকিউটর তানভীর জানান, ১৯৯৭ বা ১৯৯৮ সালের দিকে দেশে ফিরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন মোজাফফর। সিরাজগঞ্জের তৎকালীন সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাতের মাধ্যমে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার দেখা পান তিনি।

সে সময় শেখ হাসিনাকে স্যালুট দিয়ে পরবর্তী করণীয় জানতে চাইলে তিনি মোজাফফরকে সেনাবাহিনীতে আত্মসমর্পণ করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে সেনা সদরে চিঠি গেলেও নানা জটিলতায় তার যোগদান প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি। এরপর থেকেই তিনি বাংলাদেশে সাধারণ ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে নির্মমভাবে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তার এমন জবানবন্দি দেশজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।




সমঅধিকারের ভিত্তিতে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীসহ অন্যান্য সকল সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। সকল সম্প্রদায়ের সমান অধিকার রয়েছে। সবার সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করে একটি সম্প্রীতিপূর্ণ দেশ গড়ে তুলতে হবে।

আজ দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের সৃষ্টি করা সংকট থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নৃ-গোষ্ঠী, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, দুঃখ-কষ্ট ও প্রত্যাশার বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন বলেও জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল করতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

সংরক্ষিত নারী আসনে এই তিন সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের বেশি করে মনোনয়নের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সব সম্প্রদায়ের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন বিষয় যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের উন্নয়নে সবার প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একা কোনো পক্ষের এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতিকে আসন্ন দুর্গাপূজায় ঢাকেশ্বরী ও রমনা কালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানায় প্রতিনিধিদল।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং উপস্থিত থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

এসময় রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিনিধিদল তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে। জবাবে তিনি সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধিদলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের উপদেষ্টা তপন চন্দ্র মজুমদার, ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জন গমেজ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপদেষ্টা সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।




চীনের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্ব আরোপ প্রধানমন্ত্রীর

চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ও নিউইয়র্কের বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করায় তাঁকে অভিনন্দন জানান চীনা রাষ্ট্রদূত।

ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় চীনের সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন।




ফ্যামিলি কার্ডের ভাতা: মাসের ২০-২৫ তারিখে নির্ভুল পে-রোল পাঠানোর নির্দেশ

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের নিয়মিত ও সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি থেকে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীদের নিজ নিজ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব, টাকাপে (TakaPay) ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জিটুপ (G2P) পদ্ধতিতে সরাসরি ভাতার অর্থ পাঠানো হচ্ছে।

সঠিক ও প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি মাসের কিস্তির অর্থ পাঠাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/শহর সমাজসেবা কর্মকর্তাদের নির্ভুল পে-রোল পাঠানো আবশ্যক।

নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতি মাসের নির্ধারিত ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে পে-রোল পাঠানোর আগে উপকারভোগীদের মোবাইল ও ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এ হালনাগাদ করতে হবে।

এ ছাড়া বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী কোনো উপকারভোগীর মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

চিঠিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাতার অর্থ নিয়মিতভাবে পাঠানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে উপকারভোগীদের নিজস্ব এমএফএস, টাকাপে ও ব্যাংক হিসাবের অনুকূলে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানো নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মো. মোশাররফ হোসেনের সইকৃত পত্রটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।




রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত আইরিন খানের

ডেস্ক নিউজঃ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের অবসানে রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য একটি রোডম্যাপ এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য আরও মানবিক সহায়তার প্রস্তাব দেন।

নিউইয়র্ক থেকে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইরিন খান বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে যে বিষয়টি ব্যর্থ হচ্ছে, তা হলো- প্রথমত, এই ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে সহায়তা করার আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার; দ্বিতীয়ত, দেশের একটি অত্যন্ত কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করা; এবং তৃতীয়ত, এই জনগোষ্ঠীর জন্য একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা।’

অর্থায়ন কমে যাওয়া এবং বিশ্বের মনোযোগ অন্যদিকে সরে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যর্থ হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আইরিন খান বলেন, শরণার্থীদের সহায়তা, বাংলাদেশকে সমর্থন এবং সংকটের সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের ঘাটতিই এর মূল কারণ।

আইরিন খান বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর আবাসন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশের জনাকীর্ণ শিবিরে তারা বসবাস করছে।

তিনি বলেন, ‘সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন, কিন্তু এর পরিমাণ কমে যাচ্ছে। বর্তমানে মানবিক সহায়তাও কমে আসছে।’

আইরিন খান বলেন, রোহিঙ্গারা নয় বছর ধরে শিবিরগুলোতে বসবাস করছে। সেখানে শিশুরা বেড়ে উঠছে এবং প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার শিশু শিবিরগুলোতে জন্ম নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘তারা যাবে কোথায়? একটি শিবিরে নয় বছর থাকা অনেক দীর্ঘ সময়।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং এ অঞ্চলের ভেতরে ও বাইরের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এ সংকটের সমাধান নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যার উৎস মিয়ানমারে এবং আমরা বিশ্বাস করি, এর সমাধানও সেখানেই রয়েছে।’

রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ‘নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে’ ফিরে যেতে চায়।

বাংলাদেশ কী ধরনের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার প্রত্যাশা করে- এমন প্রশ্নের জবাবে আইরিন খান জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সব অংশীজনকে আলোচনার টেবিলে আনার আহ্বান জানান।

তিনি বাংলাদেশ, মিয়ানমার, সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং মিয়ানমারের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে কিংবা প্রয়োজনীয় সম্পদ সরবরাহ করতে পারে- এমন দেশগুলোর কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চাই, যেখানে মিয়ানমার সরকারকে তার দায়িত্বের কথা, তার আইনগত দায়িত্বের কথা, স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে- যাতে তারা তাদের জনগণকে ফিরিয়ে নেয়। একইসঙ্গে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এমন সহায়তা প্রয়োজন, যা মানুষের ফিরে যাওয়ার জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে পারে।’

বড় ধরনের সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের সক্ষমতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইরিন খান বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলোকে।

তিনি বলেন,‘আমাদের সত্যিই প্রয়োজন এসব সরকার আরও কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করুক।’

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিপুলসংখ্যক দেশ বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে এবং কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে আস্থাশীল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন। তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়নে বৈশ্বিক অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে সরে এসে এখন তা অবসানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস : অ্যা রিনিউড কল ফর অ্যা ডিউরেবল সলিউশন ফ্রম প্রোট্র্যাক্টেড ডিসপ্লেসমেন্ট, উইথ জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক সাইড ইভেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘সহমর্মিতা থেকে মূল কারণ ও এর সমাধান খোঁজার দিকে, প্রতিশ্রুতি থেকে পদক্ষেপের দিকে এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে তা অবসানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।’

প্রধানমন্ত্রীর পাঁচটি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন; রোহিঙ্গাসহ বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমানযোগ্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা; বিচার ও জবাবদিহি ব্যবস্থা জোরদার করা; এবং মাদকনির্ভর অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।




ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি কমবে আরও ৫ দিন

ডেস্ক নিউজঃ দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি এখন বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল কমেছে। আগামী পাঁচ দিনও এসব নদ-নদীর পানি কমতে পারে।

সোমবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিনে বলা হয়, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। গঙ্গার পানি আগামী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী তিন দিন বাড়তে পারে। অন্যদিকে পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।

উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি কমতে পারে।

এ ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী তিনদিন এ নদ-নদীর পানি কমার পূর্বাভাস রয়েছে।

এদিকে, উপকূলীয় মিয়ানমার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন মিয়ানমার উপকূলে গিয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়। পরে এটি আরও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন দেশের অভ্যন্তরে ও তৎসংলগ্ন উজানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে।




আরও কমল স্বর্ণের দাম, ভরি কত

ডেস্ক নিউজঃ দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

​সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। স্বর্ণের এই নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে। ​বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এ নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।

স্বর্ণের দামের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৪৯১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৩১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৭৯৯ টাকা।




রাড্ডা ক্লিনিক দখলমুক্ত ঘোষণা, ফিরেছে প্রতিষ্ঠানটির সাইনবোর্ড

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের কয়েকদিন পর এবার ফিরেছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সাইনবোর্ড। দখলমুক্ত ঘোষণা করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে হামলার পর টানানো অন্য সাইনবোর্ড।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্লিনিক সংশ্লিষ্টরা সেখানে দখলদারদের লাগানো সাইনবোর্ডটি সরিয়ে দেন। পরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির নিজস্ব সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে হামলা-ভাঙচুরের ক্ষত না শুকাতেই শুরু হয়েছে সংস্কারকাজ। ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অংশ মেরামতে কাজ করছেন কর্মীরা। তবে চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়নি। ক্লিনিকের ভেতরে স্বাস্থ্যকর্মীরা অবস্থান নিয়ে সেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি বাইরে চেয়ার-টেবিল বসিয়েও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলার পর তাদের প্রতিষ্ঠানের জায়গায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এছাড়া ঘটনার পর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।




রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় জ্বালানি পরিবহনে বিলম্ব

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে আনা সম্ভব হয়নি। ২৪ সেপ্টেম্বর জ্বালানিবাহী কার্গো বিমানটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আসেনি।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজকে ফোনে তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি আনা সম্ভব হয়নি। মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত পাকিস্তান কেন ওই বিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তার সঠিক কারণ বাংলাদেশ জানতে পারেনি।

তিনি জানান, ইউরেনিয়াম পরিবহনের জন্য নতুন সময়সূচি নিয়ে কাজ চলছে। রাশিয়া জানিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানিটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে বলেন, ইউরেনিয়ামবাহী বিমান আসার কথা থাকায় বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছিল। কর্মকর্তারাও অপেক্ষায় ছিলেন।

তবে পরে রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা বাংলাদেশকে জানান, বিমানটির চলাচলের জন্য আকাশসীমা নিয়ে সমস্যা রয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানটি পাঠানো হয়নি। শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নতুন করে সময়সূচি ঠিক করতে হতে পারে। তবে ঠিক কোন দেশ বা কর্তৃপক্ষ আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দিয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বিস্তারিত কিছু জানাননি। এ বিষয়ে রোসাটমের একজন প্রতিনিধির কাছে জানতে চেয়ে এএনআই ই-মেইল করেছে।

তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত রোসাটমের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে পদ্মা নদীর তীরে এ প্রকল্প নির্মাণ করা হচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। রূপপুর প্রকল্পে দুটি পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। এগুলো তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির চুল্লি। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা রয়েছে। রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে আসে। ওই চালান দেশে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে।

রোসাটমের নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে ওই পারমাণবিক জ্বালানি তৈরি করা হয়। প্রথম চালানে ১৬৪টি নতুন জ্বালানি সমাবেশ ছিল। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে রাশিয়া থেকে একটি ভারী কার্গো বিমানে করে জ্বালানি সরাসরি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। পরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধী কনটেইনারে করে জ্বালানি ঢাকার বিমানবন্দর থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। এ জন্য ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত বিশেষ ‘গ্রিন করিডর’ তৈরি করা হয়েছিল। জ্বালানি পরিবহনের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ওই জ্বালানি হস্তান্তর করা হয়।