আমলারা প্রকৃতিগতভাবে সংস্কারবিরোধী: আসিফ নজরুল

ডেস্ক নিউজঃ আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর সমালোচনা করে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, আমলারা বাংলাদেশে প্রকৃতিগতভাবে সংস্কারবিরোধী। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘এটা উনাদের ব্যক্তি হিসেবে দোষ, নাকি আমাদের সিস্টেমের দোষ, আমি জানি না।’

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান–এর লেখা ‘বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি’ বইটির প্রকাশনা হয়।

আমলাদের কাজের ধরন নিয়ে হতাশার কথা জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, তরুণ কর্মকর্তাদের তিনি বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তারা কেরানি নন; একজন কর্মকর্তার স্বাধীন বিচারবুদ্ধি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।

নিজের কাজের চাপের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উপদেষ্টা হওয়ার আগে রাজনৈতিক সমালোচনার কারণে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। এখন প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাতভর বৈঠক শেষে আবার ভোরে কাজ শুরু করতে হয়; শারীরিকভাবে তা ক্লান্তিকর হয়ে উঠছে, তবু সমালোচনা থেমে নেই।

আইন উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক দুর্নীতির অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। উদাহরণ হিসেবে একটি ইউটিউব ভিডিওর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধানকে ঘিরে যেসব দাবি করা হয়েছিল, সেগুলো শেষ পর্যন্ত বিনোদনের গল্পে পরিণত হয়।

বইটির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের লেখা কেবল স্মৃতিকথা নয়; রাষ্ট্র, মানবিকতা ও নাগরিক দায়িত্ব নিয়ে গভীর অন্তর্দৃষ্টি দেয়। এসব বই আরও বেশি পাঠকের কাছে পৌঁছানো জরুরি।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।




শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ

ডেস্ক নিউজঃ অফিস, আদালত, হাসপাতাল, ক্লিনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা একই ধরনের অন্য প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে হর্ন বাজালে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানানো হয়।

ডিএমপি জানিয়েছে, অফিস, আদালত, হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটার বিস্তৃত এলাকাকে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এসব নীরব এলাকায় হর্ন বাজালে জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা তিন মাসের কারাদণ্ড হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় এলাকায় (সচিবালয়ের চারদিকের ও অভ্যন্তরীণ রাস্তাসমূহ ও পার্কিং এলাকা) বিধি অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে অর্থাৎ হর্ন বাজালে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (অর্থদণ্ড) কার্যকর করবে।

এতে বলা হয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের উপস্থিতিতে বিআরটিএ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে সমন্বিত অভিযান (বিশেষ মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা ও জনসচেতনতামূলক সমাবেশ হবে। শব্দ দূষণ কমাতে সকল সরকারি ও বেসরকারি গাড়িচালকদের শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ অনুসরণপূর্বক বাংলাদেশ সচিবালয় এলাকায় হর্ন না বাজানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।




মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা বানিয়ে চাকরি নেওয়া সেই সহকারী সচিব বরখাস্ত

ডেস্ক নিউজঃ মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহারের অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (ওএসডি) মো. কামাল হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে নিজের বাবা হিসেবে দেখিয়ে কোটার সুবিধা নিয়ে বিসিএস ক্যাডার হন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কামাল হোসেন বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) গত ২৮ জানুয়ারি ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কোর্টে হাজির হয়ে দুদকের মামলায় জামিন প্রার্থনা করলে আদালত শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী সরকার তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা প্রয়োজন ও সমীচীন মনে করেন। তাই সরকারি চাকরি আইনের ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী ওএসডি সিনিয়র সহকারী সচিব কামাল হোসেনকে ২৮ জানুয়ারি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ইউএনও হিসেবে কর্মরত থাকার সময় ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়। সেই মামলায় গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত।

দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং চাকরি লাভসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্যে জন্মদাতা পিতা মো. আবুল কাশেম ও মা মোছা. হাবীয়া খাতুনের পরিবর্তে আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা সাজিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে চরম প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি নেন। প্রতারণা ও জাল–জালিয়াতির অভিযোগে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, মো. কামাল হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নকালীন পিতার নাম হিসেবে তার প্রকৃত জন্মদাতা পিতা মো. আবুল কাশেমের নাম ব্যবহার করেন।

পরবর্তী সময় একই স্কুলে নবম শ্রেণিতে তিনি তার আপন চাচা মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা সাজিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন।




ইইউ-এর সঙ্গে দ্রুত এফটিএ আলোচনা শুরুর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজঃ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হলে বাংলাদেশের বৃহত্তম রফতানি বাজারে বাণিজ্য সুবিধা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা, বাংলাদেশ–ইইউ বাণিজ্য সম্পর্ক নির্বিঘ্ন রাখা এবং দেশের ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচন এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মোতায়েন নিয়েও কথা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে। এর ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে ৭ হাজার ৩০০-এর বেশি বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই ধরনের আলোচনা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যাতে বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ দেশটির পণ্যগুলো ভবিষ্যতেও ইইউ বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “জাপানের সঙ্গে ইপিএ আমাদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। এটি আমাদের রফতানি পণ্যের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আমরা অবশ্যই ইইউর সঙ্গে একটি এফটিএ স্বাক্ষরের আশা করছি, যাতে আমাদের বাজার আরও সম্প্রসারিত হয়।”

ইউরোচ্যাম চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ তার বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা হারাতে পারে। এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে ইইউর সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, একটি এফটিএ ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়াবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

লোপেজ আরও বলেন, ভারত ইতোমধ্যে ইইউর সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের পথে রয়েছে এবং ভিয়েতনাম এরই মধ্যে এমন চুক্তি করেছে, যার ফলে উভয় মধ্যম আয়ের দেশ ইউরোপীয় বাজারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা একটি এফটিএর পক্ষে জোরালোভাবে কথা বলছি। আমি ইউরোপে গিয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করব।”

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ–ইইউ বাণিজ্যিক সম্পর্কের রূপান্তর ঘটবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে নয়।

তিনি বলেন, প্রায় ২০ কোটি মানুষের একটি বড় বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনার ক্ষেত্রে ইইউ গভীর আগ্রহী। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২৬ সালে একটি ইইউ–বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতির কথাও জানান।

মাইকেল মিলার বলেন, “আমরা চাই প্রাথমিক রাজনৈতিক সংকেত—যাতে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো নিশ্চিত হয় যে তারা বাংলাদেশে আসতে উৎসাহ পাবে এবং সমান সুযোগ পাবে।”

প্রধান উপদেষ্টা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে দক্ষ জনশক্তির বিশাল ভাণ্ডার থেকে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হতে পারে।

অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, “আমরা একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছি। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য একটি উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করা। আমরা বাংলাদেশে আরও ইউরোপীয় বিনিয়োগ চাই।”

আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে আস্থার বড় প্রতিফলন।”

ড. ইউনূস আরও যোগ করেন, নির্বাচন প্রচারণার সামগ্রিক চিত্র “খুবই ইতিবাচক।”

বৈঠকে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।




তারেক রহমানকে বরণে প্রস্তুত খুলনা

ডেস্ক নিউজঃ উত্তরাঞ্চলে তিনদিনের নির্বাচনী সফর শেষে আজ সোমবার খুলনায় সমাবেশে যোগ দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ঢাকা থেকে তারেক রহমান হেলিকপ্টারে খুলনায় পৌঁছাবেন। সেখানে দুপুর ১২টার দিকে খালিশপুর প্রভাতী হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেওয়ার জন্য হেলিকপ্টারে যশোরে পৌঁছাবেন তিনি।

দীর্ঘ ২২ বছর পর দলীয় প্রধানের খুলনায় আগমনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। তার এই আগমন উপলক্ষে খুলনা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। আনন্দ মুখর পরিবেশে তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত হয়েছে খুলনাবাসী।

জনসভার ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেছেন।

মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরারর ধানের শীষের ১৪ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন।

খুলনা-২ আসনের নির্বাচনী পরিকল্পনা ও প্রচার সেলের সমন্বয়ক রোটাঃ আল জামাল ভূঁইয়া বলেন, খুলনায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণ করতে আমরা সব ধরণের প্রস্ততি নিয়েছি। তার আগমণকে ঘিরে ৯০ সফল সাবেক ছাএদল নেতারা আজ ঐক্যবদ্ধ। দিন যতই যাবে ধানের শীষের বিজয় হবেই। ইনশাআল্লাহ।

খুলনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আমাদের নেতা কর্মীরা চেয়ারম্যানকে বরণ করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।




নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

রবিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচেম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই কথা জানান। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানো, বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্ক আরও মসৃণ করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ জোরদারে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমানে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যেন বাংলাদেশের রফতানি- বিশেষ করে তৈরি পোশাক- ইইউ’র বাজারে অব্যাহতভাবে প্রবেশাধিকার পায়, সেজন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে, যার ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩০০-এর বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই ধরনের আলোচনা এগিয়ে নিতে চায় সরকার।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জাপানের সঙ্গে ইপিএ আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এতে রপ্তানি পণ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ হলে আমাদের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে।’

ইউরোচেমের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা হারাতে পারে। তাই এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু করা জরুরি। তাঁর মতে, এ ধরনের চুক্তি হলে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও জোরদার হবে।

নুরিয়া লোপেজ আরও বলেন, ভারত ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ করার পথে রয়েছে এবং ভিয়েতনাম আগে থেকেই এ ধরনের চুক্তির আওতায় সুবিধা পাচ্ছে। এতে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে তারা ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করেছে। ‘আমরা এফটি’র পক্ষে কাজ করছি। ইউরোপে গিয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করব,’ বলেন তিনি।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্কের ধরন বদলাবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে নয়। তিনি জানান, প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনার বিষয়ে ইইউ আগ্রহী। এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালে একটি ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতিও রয়েছে।

মাইকেল মিলার বলেন, ‘ইইউ’র কোম্পানিগুলো যেন বাংলাদেশে এসে সমান সুযোগ পায় এবং বিনিয়োগে উৎসাহ পায়- এজন্য আগাম রাজনৈতিক বার্তা গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বড় সুযোগ পেতে পারে। দক্ষ শ্রমশক্তি ও তুলনামূলক কম ব্যয় বাংলাদেশের বড় শক্তি। তিনি জানান, সরকার একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করা।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘ইইউ’র পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি আমাদের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে বড় আস্থার প্রতীক।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক।’

বৈঠকে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।




নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়লো

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই লম্বা ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। সে উপলক্ষে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরের দিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)।

এ অবস্থায় কেবল এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের ছুটি কাটানো যাবে। কেননা এর পরের দুদিন যথাক্রমে ৬ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) ও ৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি। সুতরাং মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই সরকারি চাকরিজীবীরা টানা চার দিনের ছুটি কাটাতে পারবেন। এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ক্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সে উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর পরের দুদিন ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। অর্থাৎ এখানে মিলছে টানা চার দিনের ছুটি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

আর ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ছুটি থাকবে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষণা করা হয়।’

অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, চলতি বছরে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি ও ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্র ও শনিবারে পড়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটি নির্ধারিত হয়েছে।

সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।




নির্বাচনকে ঘিরে রেলে নাশকতার আশঙ্কা, সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রেলপথে নাশকতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় রেলের যাত্রী, ট্রেন ও রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাতেমা তুজ জোহরার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। গণপরিবহন হিসেবে রেলকে লক্ষ্য করে এ ধরনের অপচেষ্টার ঝুঁকি রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে রেলের যাত্রী, ট্রেন ও অবকাঠামোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ, তা বাস্তবায়ন এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে কোনো নাশকতা বা রেল সম্পদের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ রেলস্টেশনের কর্মচারী, গেটকিপার অথবা রেল পুলিশকে জানাতে সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন নম্বর ১৩১-এ ফোন করেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা যাবে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।




লিটারে ২ টাকা কমল জ্বালানি তেলের দাম

ডেস্ক নিউজঃ বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২ টাকা কমিয়েছে সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১১৮ টাকা, অকটেনের দাম ১২০ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস বা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতিমাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে সংশোধিত প্রাইসিং ফর্মুলার আলোকে ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।’

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ১০২ টাকা থেকে ২ টাকা কমিয়ে ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে অকটেনের দাম প্রতি লিটার ১২২ টাকা থেকে কমিয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।

এছাড়া পেট্রোলের দাম লিটার ১১৮ টাকা থেকে ২ টাকা কমিয়ে ১১৬ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১১৪ টাকা থেকে কমিয়ে ১১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই নতুন মূল্যহার রোববার থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে বছরের প্রথম মাসের জন্যও সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২ টাকা কমিয়েছিল সরকার।

সরকার স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে মাসভিত্তিক জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে আসছে।




বাতিল হলো ১২ ‘জুলাই যোদ্ধার’ গেজেট

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে গেজেটভুক্ত আরও ১২ জনের নাম বাতিল করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর আগে, গত বছর মিথ্যা তথ্য দিয়ে গেজেটভুক্ত হওয়া ও দুই বার নাম থাকায় ১২৮ জুলাই যোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছিল।

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ১১(৪) ধারা এবং রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬-এর শিডিউল-১ অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ গেজেট বাতিল করা হয়েছে।

বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দিনাজপুর জেলার পাঁচজন এবং চাঁদপুর জেলার সাতজন রয়েছেন। দিনাজপুরের বাতিলকৃতরা হলেন- তাসফিয়াহ রিফা, মো. আসাদুজ্জামান নূর, মো. সুরুজ মিয়া, মোছা. কহিনুর ও মোছা. সখিনা। চাঁদপুরের বাতিলকৃতরা হলেন- মো. কামরুল হাসান রাব্বি, মো. রায়হান, মো. ইউছুব আলী, নাহিদুল ইসলাম রাতুল, শাহজালাল ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

কেন এই ১২ জনের ‘জুলাই যোদ্ধা’ গেজেট বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কিছু জানানো হয়নি। তবে মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে গেজেটভুক্ত হওয়ায় তালিকা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।