রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান একমাত্র প্রত্যাবাসনেই: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। 

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেন তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান। ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন, সমস্যার শুরু যেহেতু মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে এবং দীর্ঘকাল রোহিঙ্গাদের শরণার্থী শিবিরে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সাক্ষাতকালে ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার নজরে আনেন। তিনি শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের স্বনির্ভরতা ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গত এক বছরে একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি আয়োজিত হলেও রোহিঙ্গা সংকট এখনও প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাচ্ছে না। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শরণার্থী শিবিরে প্রযুক্তি-সুবিধা বঞ্চিত এক হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য শুভ নয়। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গেও নানা ধরনের উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে ভাসানচরের পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস জানান যে, অনেক শরণার্থী ভাসানচর ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

ইভো ফ্রেইজেন জানান, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ইউএনএইচসিআর প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন এবং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন। ড. ইউনূস এ সময় আরও বলেন যে, বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং তাঁরা নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চান যাতে নতুন ভোটারদের জন্য এই প্রক্রিয়া আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়।

প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় সক্রিয় থাকার পাশাপাশি মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অনুরোধ জানান যাতে তারা দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে। তিনি বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, ইউএনএইচসিআর-এর নতুন প্রতিনিধি এই সংকট নিরসনে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবেন।




দীর্ঘ ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে আজ

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ পুনরায় শুরু হচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা-করাচি রুটে এই সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে। 

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার ও শনিবার এই রুটে নন-স্টপ ফ্লাইট চলবে। প্রথম ফ্লাইটের ১৬২টি আসনের সব টিকিট ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে, যা এই রুটে যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদার বহিঃপ্রকাশ। ২০১২ সালে নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ১৪ বছর পর এই রুটে পুনরায় ডানা মেলছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান।

বিমানের সময়সূচি অনুযায়ী, আজ রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময়) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি করাচির উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে এবং স্থানীয় সময় রাত ১১টায় করাচিতে অবতরণ করবে। ফিরতি ফ্লাইটটি করাচি থেকে রাত ১২টায় ছেড়ে আসবে এবং পরদিন ভোর ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।

এই যাত্রায় ব্যবহার করা হচ্ছে বোয়িং ৭৩৭ মডেলের ১৬২ সিটের উড়োজাহাজ। বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন যে, শুধু প্রথম ফ্লাইটই নয়, দ্বিতীয় ফ্লাইটেরও ৮০ শতাংশের বেশি আসন ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। সরাসরি যাতায়াতের ফলে এখন মাত্র তিন ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

সরাসরি এই ফ্লাইট চালু হওয়ার ফলে যাত্রীদের সময় ও খরচ—উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ হয়ে ট্রানজিট নিয়ে যাতায়াত করতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হতো এবং খরচও ছিল অনেক বেশি।

এখন রাউন্ড ট্রিপে যাত্রীরা সর্বনিম্ন ৫১ হাজার টাকায় যাতায়াত করতে পারবেন, যা আগের তুলনায় ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত কম। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, এই রুট চালুর ফলে কেবল যাত্রী পরিবহনই নয়, দুই দেশের মধ্যে কার্গো পরিবহনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

বিমানের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ট্রানজিট ঝামেলামুক্ত এবং সাশ্রয়ী ভাড়ায় সরাসরি যাতায়াতের এই সুযোগ দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করবে এবং পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি এই রুটে বাণিজ্যিক সাফল্য আসবে বলেও সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

নিরাপত্তা ও অপারেশনাল বিষয়গুলো সুচারুভাবে সম্পন্ন করে আজ থেকে শুরু হওয়া এই আকাশপথের যোগাযোগ দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের সম্পর্কের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।




ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততার মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং উচ্চমূল্য নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির মালিকানাধীন আদানি পাওয়ার। দুই দেশের সরকারি উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে গ্যাসের তীব্র সংকট এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আদানির ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

উভয় দেশের তথ্যের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত বছরের শেষ তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আদানির গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। এই তিন মাসে আদানি প্রায় ২২৫ কোটি কিলোওয়াট (ঘণ্টা) বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে।

২০২৫ সাল জুড়ে আদানি রেকর্ড ৮৬৩ কোটি কিলোওয়াট (ঘণ্টা) বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, যা বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের ৮ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে ভারতের অংশ ছিল ১২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে রেকর্ড ১৫ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৭ দিনেই বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ একাই সরবরাহ করেছে আদানি গ্রুপ।

এদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়া এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এলএনজি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন রেকর্ড সর্বনিম্ন ৪২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। অথচ গত এক দশকে এটি ছিল মোট উৎপাদনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।

গ্যাসের এই ঘাটতি মেটাতে সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রয়টার্সকে বলেন, ২০২৬ সালে বিদ্যুতের চাহিদা ৬ থেকে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই চাহিদা সামাল দিতে এ বছর কয়লা আমদানির পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেই কয়লা আমদানি ৩৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১ কোটি ৭৩ লাখ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। আদানি গ্রুপ ২০২৩ সালের শুরুতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে।

তবে মজার বিষয় হলো, দুই দেশের মধ্যে যখন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত এবং নিরাপত্তা উদ্বেগে কূটনীতিকদের তলব করার মতো টানাপোড়েন চলছে, তখন বিদ্যুৎ বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত একটি জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তিতে ‘অস্বাভাবিক অসংগতি’ খুঁজে পেয়েছে এবং দাম অতিরিক্ত (প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি) বলে উল্লেখ করেছে, তবুও গ্রিডের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই বিদ্যুৎ অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, ‘গ্যাসের অভাবে বাংলাদেশকে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে হচ্ছে। সেই তুলনায় আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ এখনো সাশ্রয়ী।’




সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকার বাড়তি বেতনসুবিধার নতুন প্রজ্ঞাপন

ডেস্ক নিউজঃ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা পদনাম অন্তর্ভুক্তি এবং অগ্রিম বর্ধিত বেতনসুবিধা নিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির এমএড বা মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য একটি এবং প্রথম শ্রেণির এমএড বা মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য দুটি অগ্রিম বর্ধিত বেতন প্রাপ্য হবেন সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা। আদেশটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবরের সম্মতির আলোকে (চাকরি বেতন ও ভাতা) আদেশ, ২০১৫–এর ১২ (২) নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত তদানিন্তন এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট মেমোরেন্ডামের নম্বর ৮৩২-এর তফসিলে ‘সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা’ পদনাম অন্তর্ভুক্তি এবং অগ্রিম বর্ধিত বেতনসুবিধা উল্লিখিতভাবে সংযোজন করা হলো। দ্বিতীয় শ্রেণির এমএড বা মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য একটি এবং প্রথম শ্রেণির এমএড বা মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য দুটি অগ্রিম বর্ধিত বেতন প্রাপ্য হবেন। আদেশটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।




এক লাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে দেশে স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস

ডেস্ক নিউজঃ ১ দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। 

এবার ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। যা দেশের ইতিহাসে মূল্যবান এই ধাতুর সর্বোচ্চ দাম।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আজ সকাল ১০ টা ১৫ মিনিট থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।




সরকারি চাকুরেরা কোনো পক্ষ নিতে পারবেন না

ডেস্ক নিউজঃ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটে সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো পক্ষ নিতে পারবেন না। তাঁরা যদি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর  পক্ষে প্রচার চালান সেটি হবে দণ্ডনীয় অপরাধ। গতকাল মঙ্গলবার দুজন নির্বাচন কমিশনার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এবং গণভোট অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ ও ধারা  উল্লেখ করে জানিয়েছেন, শুধু ভোট গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই নন, তাঁরা ছাড়াও যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী গণভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবেন তাঁদের দণ্ডনীয় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হতে হবে।

সরকারি চাকুরেরা কোনো পক্ষ নিতে পারবেন নানির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘আইন অনুসারে আমি জোর দিয়ে বলছি, গণভোটের প্রচারে কী কী প্রস্তাব রয়েছে সেসব উল্লেখ করাতে কোনো সমস্যা নেই।

খোদ নির্বাচন কমিশনও এটা করছে। কিভাবে কী ধরনের ব্যালটে ভোট দিতে হবে—এগুলো  নির্বাচন কমিশন প্রচার করছে। গণভোট সম্পর্কে অ্যাওয়ারনেস বিল্ডিংয়ের জন্য এটা করা হচ্ছে। কিন্তু রিটার্নিং, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা তো বটেই,   কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘হ্যাঁ’ পক্ষে দেন বা বিপক্ষে ‘না’ ভোট  দেন এটা বলতে পারবেন না। এটা একেবারেই নিষেধ।

তিনি বলেন, “আপনারা হয়তো প্রশ্ন করবেন, উপদেষ্টা মহোদয়রা তো ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার করছেন। আমি বলব, উপদেষ্টা মহোদয়রা সরকারি চাকুরে নন। তাঁরা পাবলিক সার্ভেন্ট। গভর্নমেন্ট সার্ভেন্ট বা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নন। কাজেই উপদেষ্টারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বলতে পারবেন।  উনারা নিজেরাই জাতির জন্য অনেক টাকা-পয়সা খরচ করে এ বিষয়ে একটা উদ্যোগ নিয়েছেন। সে কারণে উপদেষ্টাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবেন—এটাই বাস্তবতা। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা পারবেন না। শুধু না পারার বিষয় না, গণভোটের হ্যাঁ-না-এর পক্ষে বা বিপক্ষে বলাটা তাঁদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ।”

এই বিষয়ে কি নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো নির্দেশনা জারি করা হয়েছে—এ প্রশ্নে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘একটু আগেই আমরা (নির্বাচন কমিশন) আলাপ-আলোচনা করেছি। পরিপত্র জারি করতেও পারি। তবে নানাভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানিয়ে দিচ্ছি। কয়েক দিন আগে আমি চট্টগ্রামে গিয়েছিলাম। সেখানকার জেলা প্রশাসককে আইনের বিষয়টি জানিয়েছি।  আপনাদের  (গণমাধ্যম) এসব কথা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, আপনারাও এ বিষয়ে বিধি-নিষেধগুলো প্রচার করেন। আমরা পরিপত্র জারি না করলেও এই আইন তো বলবৎ রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও) এর ৮৬  অনুচ্ছেদে এবং  গণভোট অধ্যাদেশের (অপরাধ, দণ্ড ও বিচার পদ্ধতি) ২১ ধারায়  এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন তাহলে এটা শুধু অপরাধই নয়, দণ্ডনীয় অপরাধ।’

উল্লেখ্য, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও) এর ৮৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘যদি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি কোনোভাবে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করিবার উদ্দেশে তাঁর সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করেন, তাহা হইলে তিনি (অনধিক পাঁচ বৎসর এবং অন্যূন এক বৎসরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত) দণ্ডনীয় কোনো  অপরাধে দোষী  সাব্যস্ত হইবেন।’

আর গণভোট অধ্যাদেশের (অপরাধ, দণ্ড ও বিচার পদ্ধতি) ২১ ধরায় বলা হয়েছে, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মোতাবেক যেসব কার্য অপরাধ ও নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য, একই ধরনের কার্য গণভোটের ক্ষেত্রেও যতদূর প্রযোজ্য, অপরাধ ও আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে গণ্য হইবে, এবং এরূপ ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান প্রয়োগ করিয়া এখতিয়ার সম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত অপরাধের বিচার এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।’

আরেকজন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গতকাল নির্বাচন ভবনে তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তারা গণভোটের প্রচার করতে পারবেন। তবে তাঁরা ‘হ্যাঁ’-‘না’ এর পক্ষে কিংবা বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না। গণভোটের বিষয়ে কমিশনের অবস্থান কী—এমন প্রশ্নে মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, গণভোটের জন্য আমরা ভোটারদের ভোট দিতে  উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনী কাজের দায়িত্বে যাঁরা থাকবেন, তাঁরা আইনগতভাবে এ বিষয়ে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। নির্বাচনী দায়িত্বে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং অন্যান্য যাঁরা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন তাঁরা গণভোটের প্রচার করতে পারবেন, কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার চালানো যাবে না। রিটার্নিং অফিসার যখনই তিনি হয়েছেন, তখনই তিনি কোনো পক্ষের লোক না। কোনো রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার  গণভোটের কোনো পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন না বলেই জানি।’

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থানে প্রচারণা করছেন। এটা কতটা আইনসংগত—এ প্রশ্নে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এ  বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। তবে কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।’

এদিকে নির্বাচন কমিশনের এই অবস্থানের বিপরীতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান  সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চলমান। সরকারি ভবনগুলোতে শোভা পাচ্ছে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বিলবোর্ড, ব্যানার ফেস্টুন। উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষে এমন দাবিও রয়েছে যে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালাতে সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে কোনো আইনগত বাধা নেই। বিদ্যমান সংবিধান, আরপিও, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ কিংবা এই গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশের কোথাও বলা নেই যে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলতে পারবেন না। প্রচারণায় আইনগত বাধা আছে এমন কোনো রেফারেন্স কেউ দেখাতে পারবে না। ১৯৭২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ৪৮টি গণভোট হয়েছে, তার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। সুতরাং আন্তর্জাতিকভাবে এটা গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা,  নৈতিকভাবে এটা আমাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব। যারা এ বিষয়ে বাধা আছে বলে প্রচার করছে, তারা ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। গত ২৪ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং গণভোট বিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ সিলেটের বিভাগীয় মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন।

বিশেষজ্ঞ বক্তব্য : এ বিষয়ে  সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রীম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক গতকাল এ প্রতিবেদককে বলেন, বিদ্যমান আইন অনসুারে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারও গণভোটে ‘হ্যা’ এর পক্ষে প্রচার চালাতে পারেন বলে মনে হয় না। কারণ তারাও তো প্রজাতন্ত্রের বাইরের কেউ না। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারির জন্য যে বিধি-নিষেধ প্রযোজ্য, মন্ত্রী, উপমন্ত্রী পর্যায়ের উপদেষ্টাদের জন্যও একই বিধান প্রয়োজ্য। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাঁরা যে প্রচার চালাচ্ছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারিদের দিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যেভাবে প্রচার চলছে তা সংশ্লিষ্ট আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের অন্যতম সদস্য বেগম জেসমিন টুলি  বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, গণভোটের আইন করতে হলে, এর পক্ষে কিভাবে প্রচার চালাতে হবে, না হবে, সেটি আইনেই স্পষ্ট করে দিতে  হতো। কিন্তু তা না করে এটি সংসদ নির্বাচনের আইনের সঙ্গে এক করে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় বিদ্যমান আইন অনুসারে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী গণভোটের কোনো পক্ষেই প্রচার চালাতে পারবেন না।  নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল আইনের এই বাধ্যবাধকতা আগেই সবাইকে জানিয়ে দেওয়া।

চারটি বিষয়ে গণভোট, এক উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ : গণভোট অনুষ্ঠিত হবে চারটি বিষয়ে। এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে জনগণকে মতামত জানাতে হবে।

বিষয়গুলো হচ্ছে—ক. নির্বাচনের সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে। খ. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে। গ. সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে। ঘ. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে  ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে মতামত জানাতে হবে।




জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের রাজনীতিতে জুলাই আন্দোলন যেমন নতুন সম্ভাবনার দাড় উন্মোচন করেছিল তেমনই ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার উন্মোচন করবে। জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। জুলাই অভুত্থ্যানে ইন্টারনেট বন্ধ করার পর যে বিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তার কারণেই মহাশক্তিশালী এক সরকারের পতন ঘটেছিল।

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল খাতই বর্তমানে মূল খাত। কারণ এটি থেকেই পরিবর্তন আসবে। এ খাত থেকেই অন্যান্য সব খাত প্রভাবিত হবে।’

জালিয়াতি প্রথা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ জালিয়াতিতে সেরা হয়েছে। এতে বিদেশে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমাদেরকে প্রযুক্তিতে ভালো করতে হলে এই জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। আমাদের সেই সামর্থ্য রয়েছে।’

সবার জন্য চাকরি নিশ্চিতের ধারণা একটি ভুল জিনিস উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি একটি দাস প্রথার সামিল। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সরকারকে সহায়তা করতে হবে।’

সরকারি কর্মকর্তাদের পাঁচ বছরের বেশি সরকারি চাকরি করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘তাহলে তার মাইন্ড সেট হয়ে যায়। সৃজনশীলতা নষ্ট হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পর পর নতুন করে শুরু করা উচিত। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য পরিবর্তন হলেও মানুষরা সেই প্রতিষ্ঠানে পুরোনো ধ্যান ধারণা নিয়ে বসে রয়েছে।’




ভোটের দিন নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক নিউজঃ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ভোটগ্রহণের দিন এবং এর আগে-পরে নির্দিষ্ট কিছু নৌযান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে, জরুরি সেবা ও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচন পরিচালনা-০২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিবসের পূর্ববর্তী মধ্যরাত অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত বোটের (নির্দিষ্ট রুটে চলাচলকারী ব্যতীত) ওপর এ নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনী এজেন্ট এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের (পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে) ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিলযোগ্য।

এ ছাড়া, নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে— নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি সাংবাদিক, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সংশ্লিষ্টরা এবং ভোটার ও জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত নৌযান এবং দূরপাল্লার নৌযান।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে আরও কিছু নৌযান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিল করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।




বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু

ডেস্ক নিউজঃ প্রায় দেড় দশক পর আবারও পাকিস্তানে নামবে বিমানের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ। ঢাকা-করাচি-ঢাকা নন-স্টপ ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে দুই দেশের আকাশপথ যোগাযোগ পুনরায় চালু হচ্ছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি)। ট্রানজিট ছাড়াই চলাচল সম্ভব হওয়ায় সময় কমবে এবং যাত্রীপ্রতি ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ সাশ্রয় হবে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুই দিন এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

ঢাকা থেকে করাচি ১ হাজার ৪৭১ মাইল পথ পাড়ি দিতে ব্যবহার করা হবে ১৬২ আসনের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ। প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতি ও শনিবার ফ্লাইট চলবে। প্রথম ফ্লাইটের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এবং দ্বিতীয় ফ্লাইটের ৮০ শতাংশের বেশি আসন ইতোমধ্যে বুক হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেন, সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় যাত্রীরা তিন ঘণ্টার মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন এবং ট্রানজিটের ঝামেলা ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারবেন।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রুট চালু হওয়ায় শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, কার্গো পরিবহনেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম জানান, এর মাধ্যমে দুই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে।

উল্লেখ্য, নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০১২ সালে ঢাকা-করাচি রুটে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। এতদিন যাত্রীদের দুবাই, দোহাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ট্রানজিট হাব ব্যবহার করতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল ছিল। নতুন ব্যবস্থায় রাউন্ড ট্রিপে ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হয়ে সর্বনিম্ন ৫১ হাজার টাকায় যাতায়াত সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।




পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না অন্তর্বর্তী সরকার : জ্বালানি উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো নিয়ে পে-কমিশনের প্রতিবেদনটাই শুধু জমা দেয়া হয়েছে। পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না অন্তর্বর্তী সরকার।

নির্বাচিত সরকার চাইলে এই পে-স্কেল বাস্তবায়ন বা বাতিল যে কোনোটাই করতে পারবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত পে-স্কেল নির্বাচিত সরকারের জন্য চাপ হবে না।