বাংলাদেশিদের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। অভিবাসন ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পর যুক্তরাষ্ট্র এবার জানিয়েছে, ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি (একবার প্রবেশযোগ্য) ভিসা দেওয়া হবে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।

এর আগে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। পরে গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় যুক্ত করা হয়। বাংলাদেশিদের জন্য এই ভিসা বন্ড কার্যকর হয়েছে ২১ জানুয়ারি থেকে।

ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানায়, ভিসা বন্ড প্রোগ্রামের আওতায় আবেদনকারীদের জন্য যেসব শর্ত প্রযোজ্য হবে, সেগুলো হলো—

  • ভিসার জন্য অনুমোদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ভিসা বন্ড পরিশোধ করতে হবে

  • ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা pay.gov–এর সরাসরি লিংকসহ পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন

  • সর্বোচ্চ ৩ মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হবে

  • নির্ধারিত কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে

  • যুক্তরাষ্ট্রে কাজ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এলে
    বন্ডের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে

ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত (ভিসা বন্ড) জমা দিতে হতে পারে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে থেকে যান (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করা। যেসব দেশের নাগরিকদের ওভারস্টের হার বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো—

  • বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS)

  • জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK)

  • ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)

নির্ধারিত এসব বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে ভিসা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে— আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা। দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

ভিসা বন্ড হলো একটি ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা কিছু দেশ নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে ভিসার শর্ত, বিশেষ করে থাকার সময়সীমা মেনে চলা নিশ্চিত করা হয়।

প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে বলা হয়।

উল্লেখ্য, অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যও ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল, তবে পরে তা বাতিল করা হয়।




নীলফামারীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হবে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা প্রকল্পটি রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর সভায় অনুমোদন পেয়েছে। 

রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকায় পরিকল্পনা কমিশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর ৮ম সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস।

একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই হাসপাতাল শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষ নিজ এলাকাতেই উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রংপুর ও ঢাকা-কেন্দ্রিক হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। নীলফামারীর এই হাসপাতাল সেই লক্ষ্য অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু বাংলাদেশের রোগীরাই নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। নেপাল ও ভূটানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর রোগীরাও এখানে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে।’

প্রধান উপদেস্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ সময়কালে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২,৪৫৯.৩৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ১৭৯.২৭ কোটি টাকা এবং বাকি অংশ চীনা অনুদান সহায়তা।

গত বছরের মার্চ মাসে চীন সফরকালে বাংলাদেশে একটি উন্নত হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের কাছে অনুরোধ করেছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে দ্রুততার সঙ্গে চীন এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।

প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী সদর উপজেলায় একটি আধুনিক ১০ তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ডরমেটরি ও আবাসিক ভবন, ডিরেক্টরস বাংলা, প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো এবং আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে।

এই হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, অনকোলজি, নিউরোলজি প্রভৃতি বিশেষায়িত বিভাগে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। আধুনিক জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, সিসিইউ ও এইচডিইউ, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।




মাদকাসক্তির শীর্ষে ঢাকা, সর্বনিম্নে বরিশাল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশের মাদক ব্যবহারকারীদের ৬০ শতাংশের বেশি প্রথমবার মাদক গ্রহণ করে। মাদক গ্রহণ শুরুর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে বন্ধুদের প্রভাব। বর্তমানে দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ। দেশে মাদক সমস্যা নিয়ে এক জাতীয় গবেষণায় এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট লিমিটেড।

গবেষণা মতে, এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে আর সর্বনিম্ন বরিশাল বিভাগে। গবেষকরা জানান, তরুণদের পাশাপাশি কিশোরদের মধ্যেও মাদক ব্যবহারের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই গবেষণায় সিগারেট সেবনকে মাদক ব্যবহার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

গতকাল রবিবার রাজধানীর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল বিএমইউর কনফারেন্স হলে ‘বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণগগুলো’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণায় দেশের আট বিভাগের ১৩টি জেলা ও ২৬টি উপজেলা থেকে পাঁচ হাজার ২৮০ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে পরিমাণগত ও গুণগত উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। তাদের বড় একটি অংশ তরুণ বয়সী। গবেষণায় উঠে আসে, মাদক ব্যবহার এখন শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিরোধের পাশাপাশি চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনঃ অন্তর্ভুক্তির ওপর সমান গুরুত্ব না দিলে এই সংকট আরো গভীর হবে। গবেষণার এই ফল এবং প্রস্তাবিত পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো বাস্তবায়িত হলে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক মাদক নিয়ন্ত্রণ নীতি গ্রহণে সহায়ক হবে।

গবেষণাটির প্রধান গবেষক বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডিন অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, ‘দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক হলো গাঁজা। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও কোডিনজাত কাশির সিরাপ।’

তিনি বলেন, ‘ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা এইচআইভি, হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিষয়টি এখন বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।’

গবেষণায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলেও এর বিস্তার দ্রুত বাড়ছে। বিভাগভিত্তিক হিসেবে ঢাকা বিভাগে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সর্বাধিক এবং বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা এবং বড় শহরের আশপাশের এলাকাগুলোতে মাদক ব্যবহার ও সরবরাহের ঝুঁকি বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণায় মাদক গ্রহণের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বন্ধুদের প্রভাব, কৌতূহল, পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক চাপ। অনেক ক্ষেত্রে কিশোররা সামাজিক পরিবেশ ও সঙ্গদোষে অল্প বয়সেই মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বলে গবেষকরা জানান।

গবেষণায় আরো বলা হয়, মাদকাসক্তদের বড় একটি অংশ কখনোই চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা গ্রহণ করে না। যারা চিকিৎসা নেয়, তাদের অনেকেই ধারাবাহিক ও মানসম্মত সেবা পায় না। ফলে পুনরায় মাদক গ্রহণে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাদক সমস্যা শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখলে সমাধান আসবে না। এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিরোধের পাশাপাশি চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনঃ অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে কিশোর ও তরুণদের লক্ষ করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা বিস্তারের লক্ষ্যে সরকার ঢাকার বাইরে আরো সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যা করে সাতটি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র চালুর প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ।

তিনি বলেন, ‘দেশে মাদক ব্যবহার এখন আর বিচ্ছিন্ন কিছু মানুষের সমস্যা নয়, এটি একটি বিস্তৃত জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাদকবিরোধী লড়াইকে একটি সামাজিক যুদ্ধ হিসেবে দেখতে হবে এবং পরিবার থেকেই এর প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হবে।’

ডিএনসি মহাপরিচালক বলেন, ‘শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। সমাজের সব স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন, সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে। পরিবার থেকেই যদি প্রতিরোধ শুরু না হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ একা কার্যকর হবে না।’

মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে হাসান মারুফ জানান, এই সংকট মোকাবেলায় ঢাকার বাইরে আরো সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যা করে সাতটি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে বর্তমান সরকার। এই কেন্দ্রগুলো চালু হলে বিভাগীয় পর্যায়ে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার সুযোগ বাড়বে এবং মাদকাসক্তদের সমাজে পুনঃ অন্তর্ভুক্তির পথ সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম বলেন, ‘মাদক প্রতিরোধে রাজনৈতিক কমিটমেন্ট এবং আরো গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে, কিছুসংখ্যক খারাপ মানুষই শুধু মাদকাসক্ত এবং আমরা বা আমাদের সন্তানেরা নিরাপদ। প্রকৃতপক্ষে আমরা সবাই এবং আমাদের সন্তানরাও মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছি। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান নয়, সমাজের সব স্তরের মানুষকে সচেতন হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, ‘মাদক সমস্যার সমাধানে শুধু সরবরাহ বন্ধ করলেই হবে না, একই সঙ্গে চাহিদাও কমাতে হবে। বিশেষ করে শিশুরা ও তরুণরা জীবনকে ঠিকভাবে বুঝে ওঠার আগেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’




আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় কাস্টমস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহায়তা ও সহজীকরণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আগামীকাল আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডব্লিউসিও) ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য- ‘অতন্দ্র প্রহরা আর দৃঢ় অঙ্গীকারে দেশের সুরক্ষায় কাস্টমস’- কে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি উদযাপন হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেবা গ্রহীতা ও অংশীজনদের অভিনন্দন জানান।

বাণীতে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহায়তা ও সহজীকরণের পাশাপাশি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সীমান্ত অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিশ্চিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (বিএসডব্লিউ) প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য ব্যবস্থা সহজীকরণে বন্ড অটোমেশন সিস্টেম চালুসহ কাস্টমস কার্যক্রম আধুনিকায়নে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি স্বচ্ছ, দক্ষ, জবাবদিহিতামূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কাস্টমস প্রশাসন অবৈধ বাণিজ্য, চোরাচালান, মাদক ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে ভূমিকা রেখে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করছে।

বাণীতে তিনি আরও বলেন, পেশাগত দক্ষতা, বিশেষায়িত জ্ঞান ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে বাংলাদেশের কাস্টমস কর্মকর্তারা একটি আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করেন।




২ মাস পর এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম চালু

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ দুই মাস বন্ধ থাকার পর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের সুযোগ পুনরায় চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল থেকে এই সেবাটি সাধারণ মানুষের জন্য আবারও সচল করা হয়েছে।

এনআইডি মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে এনআইডি সংশোধন করা যাবে।

কেন এতদিন এই কার্যক্রম বন্ধ ছিল–এমন প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পোস্টাল ভোটের (ওসিভি ও আইপিসিভি) নিবন্ধন ও প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করার মতো বড় কাজগুলো চলছিল। এই জটিল টেকনিক্যাল কাজগুলো চলাকালীন এনআইডি সংশোধনের ডেটাবেজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন সেই কাজগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আমরা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে এসেছি।’

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং এনআইডি সংক্রান্ত যে কোনো অপব্যবহার বা ভুল তথ্য পরিবর্তন ঠেকাতে গত বছরের ২৪ নভেম্বর থেকে এই কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল ইসি। আজ নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে এটি আবারও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হলো।

এখন থেকে নাগরিকরা যে কোনো ভুল সংশোধন বা তথ্য পরিবর্তনের জন্য যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদন করতে পারবেন।




একাত্তরে বাংলাদেশের বন্ধু সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই

ডেস্ক নিউজঃ বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক ও একাত্তরে বাংলাদেশের বন্ধু মার্ক টালি আর নেই। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দিল্লির একটি বেরসকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

মার্ক টালি দীর্ঘদিন বিবিসিতে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে বিবিসি রেডিওর মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও বাঙালির দুর্দশার চিত্র মানুষের কাছে পৌঁছে দেন তিনি। মার্ক টালি ছিলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্ক টালির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার সাবেক সহকর্মী সতীশ জ্যাকব।

ব্রিটিশ-ভারতীয় মার্ক টালি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সংবাদদাতা ছিলেন। বিবিসি রেডিওতে তার পরিবেশিত খবর ছিল মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ জানার অন্যতম উৎস।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্ক টালির জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতার টালিগঞ্জে। পেশাগত জীবনের বড় অংশ তিনি কাটিয়েছেন ভারতে। টানা ২০ বছর নয়াদিল্লিতে বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া সংবাদদাতা ছিলেন।

বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গিয়ে খবর সংগ্রহ করেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতে একাত্তরের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন। সেই প্রথম এবং শেষ বারের মতো পাকিস্তানী সরকার দুই সাংবাদিককে বাংলাদেশে আসার অনুমতি দিয়েছিল। মার্ক টালি ১৯৭১ সালের সেই সফরে ঢাকা থেকে সড়ক পথে রাজশাহী গিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে মার্ক টালি বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানী সেনাবাহিনী যখন সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত পৌঁছালো এবং তারা মনে করলো যে পরিস্থিতির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আছে, তখনই তারা আমাদের আসার অনুমতি দিয়েছিল। আমার সঙ্গে তখন ছিলেন ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকার যুদ্ধবিষয়ক সংবাদদাতা ক্লেয়ার হলিংওয়ার্থ।’

বিবিসি বাংলাকে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেহেতু স্বাধীনভাবে ঘুরে বেরিয়ে পরিস্থিতি দেখার সুযোগ পেয়েছি, সেজন্য আমাদের সংবাদের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ হয়েছে। আমি ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে সড়কের দু’পাশে দেখেছিলাম যে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার জন্য মার্ক টালিকে ২০১২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ দেয় বাংলাদেশ। বিবিসি থেকে অবসরে যাওয়ার পর ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন তিনি।




আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় কাস্টমস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহায়তা ও সহজীকরণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আগামীকাল আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডব্লিউসিও) ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য- ‘অতন্দ্র প্রহরা আর দৃঢ় অঙ্গীকারে দেশের সুরক্ষায় কাস্টমস’- কে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি উদযাপন হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেবা গ্রহীতা ও অংশীজনদের অভিনন্দন জানান।

বাণীতে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহায়তা ও সহজীকরণের পাশাপাশি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সীমান্ত অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিশ্চিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (বিএসডব্লিউ) প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য ব্যবস্থা সহজীকরণে বন্ড অটোমেশন সিস্টেম চালুসহ কাস্টমস কার্যক্রম আধুনিকায়নে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি স্বচ্ছ, দক্ষ, জবাবদিহিতামূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কাস্টমস প্রশাসন অবৈধ বাণিজ্য, চোরাচালান, মাদক ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে ভূমিকা রেখে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করছে।

বাণীতে তিনি আরও বলেন, পেশাগত দক্ষতা, বিশেষায়িত জ্ঞান ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে বাংলাদেশের কাস্টমস কর্মকর্তারা একটি আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করেন।




যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি

ডেস্ক নিউজঃ উত্তর আমেরিকা ও কানাডায় ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে ফিকহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা (এফসিএনএ)। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা অনুযায়ী, ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে থেকে। 

সেই হিসেবে উত্তর আমেরিকার মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষেরা ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাত থেকেই তারাবির নামাজ শুরু করবেন। একইভাবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এক মাস সিয়াম সাধনার পর ২০ মার্চ শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড অনুসরণ করে আগাম এই ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে এই স্বাধীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি।

ফিকহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা চন্দ্রমাস নির্ধারণের ক্ষেত্রে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবকে শরিয়তসম্মত পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করে। সংস্থাটি ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অব ফাতওয়া অ্যান্ড রিসার্চের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী জানিয়েছে, কোনো নতুন মাস শুরু হতে হলে সূর্যাস্তের সময় চাঁদ ও সূর্যের কৌণিক দূরত্ব কমপক্ষে ৮ ডিগ্রি এবং দিগন্তের ওপরে চাঁদের উচ্চতা অন্তত ৫ ডিগ্রি হতে হবে।

১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সূর্যাস্তের আগেই রমজানের নতুন চাঁদের জন্ম হবে এবং ওই দিনেই নির্ধারিত শর্ত পূরণ হবে বলে ফিকহ কাউন্সিল নিশ্চিত করেছে। ফলে ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার থেকেই হিজরি ক্যালেন্ডারের নবম মাস রমজান গণনা শুরু হবে।

শাওয়াল মাসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের গাণিতিক বিশ্লেষণ প্রদান করেছে এফসিএনএ। ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদের জন্ম হবে এবং ওই সময় চাঁদের অবস্থান ও কৌণিক দূরত্ব দৃশ্যমান হওয়ার উপযোগী অবস্থায় থাকবে।

এর ফলে ২০ মার্চ শুক্রবার ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে বলে সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। তবে ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংস্থাটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার চেয়ে সৌদি আরবের মক্কায় হজ কর্তৃপক্ষের আরাফার দিনের ঘোষণার ওপর নির্ভর করবে। আরাফার পরদিনই যথারীতি ঈদুল আজহা পালিত হবে।

১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ফিকহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা একটি অলাভজনক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের ধর্মীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করে আসছে। সংস্থাটি তাদের ঘোষণার শেষাংশে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করেছে।

উত্তর আমেরিকার ধর্মীয় প্রশ্ন ও বিবাদ মীমাংসাসহ চন্দ্র ক্যালেন্ডার তৈরির ক্ষেত্রে এই সংস্থাটির সিদ্ধান্তই প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। আগাম এই ঘোষণার ফলে স্থানীয় মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় উৎসব ও ইবাদতের প্রস্তুতি আগেভাগেই গ্রহণ করতে পারবেন।




যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় না থাকায় কতটা ক্ষতি হবে বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকেও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে তার প্রভাব কেমন হবে এ নিয়ে নানা ধরনের বিশ্লেষণ করছেন স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা। এর আগে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল ছাড়াও ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাতের যেসব বিষয়ে সাফল্য অর্জন করেছে তার অধিকাংশেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে ডব্লিউএইচও। তবে যুক্তরাষ্ট্র সংস্থাটি থেকে সরে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশে সংস্থাটির কার্যক্রম কাটছাঁট হওয়া শুরু হয়েছে।

এর ফলে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, ইমার্জেন্সি রেসপন্স এবং ল্যাবরেটরি সাপোর্টের মতো স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক বে-নজির আহমেদ বলছেন, সম্ভাব্য সংকট এড়াতে দ্রুত রাজনৈতিক দলগুলোকে এদিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত, যাতে করে যারাই সরকারে আসুক তারা যেন বিকল্প অর্থায়ন কিংবা স্বাস্থ্য খাতের প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে পারেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জাতিসংঘেরই একটি বিশেষায়িত সংস্থা এবং এটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন ও দক্ষ স্বাস্থ্য কর্মী তৈরিসহ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সব ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছিল।

এর আগে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপি) থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ট্রাম্প। সংস্থাটি বাংলাদেশসহ ১৫০টির বেশি দেশে পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে আসছে।

উভয় সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া এখন কার্যকর হলেও দেশটি প্রায় এক বছর আগে থেকে তহবিল যোগান বন্ধ করে দিয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালে বৈশ্বিক এ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র এ থেকে বেরিয়ে গেল। ইতোমধ্যেই দেশটি ডব্লিউএইচও’র সব তহবিল বন্ধ করে দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাস্থ্য খাতের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশে যে প্রভাব পড়তে পারে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় অন্যতম বড় তহবিল যোগানদাতার ভূমিকা পালন করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সংস্থাটি থেকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার পর জাতিসংঘ বলেছে, ভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগ সংক্রমণ রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হলো তেমনি একটি জায়গা।

ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস ইতোমধ্যেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সদস্যপদ বাতিল করলে তহবিল সংকটে পড়বে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আর এ ঘাটতি মোকাবিলা করতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মুশতাক হোসেন বলছেন, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের সব বিষয়ের সাথেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্পৃক্ত এবং অর্থায়ন থেকে শুরু করে গবেষণা সহায়তা পর্যন্ত সব ধাপেই তাদের সহায়তা পেয়ে অনেকগুলো ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত।

ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল বন্ধ হয়ে গেলে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্যর কর্মসূচি বা সহায়তা বাংলাদেশে কমে গেলে তার নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা আছে অনেকের মধ্যে।

গত বছর অক্টোবরে বাংলাদেশে যে প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হয়েছে তাতেও বড় ভূমিকা ছিল জাতিসংঘের এই সংস্থাটির। টাইফয়েড প্রতিরোধী এই টিকাটি বাংলাদেশ পেয়েছিল পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির মাধ্যমে।

এর আগে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ সরকার, ইউনিসেফ, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স – গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় জরায়ুমুখ ক্যান্সারের অন্যতম কারণ হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) এর প্রতিষেধক টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছিল।

তখন ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুসহ প্রায় এক কোটিরও বেশি মেয়েকে বিনামূল্যে এই এইচপিভি টিকা দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া বৈশ্বিক এই সংস্থাটি কোভিড মহামারির সময়ে বাংলাদেশকে অল্প সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেছিল। পাশাপাশি এ ধরনের মহামারিতে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা তৈরির ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা ছিল বলে জানান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ করে এর মহামারি ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম বাংলাদেশকে এ বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানোয় সহায়তা করে, যা কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজে লেগেছে বলে জানান মুশতাক হোসেন।

মহামারি বা রোগ সম্পর্কে গাইডলাইন, উপকরণ ও পরিকল্পনা এমনকি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে উপকৃত হয়েছে বাংলাদেশ, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের শুরুতে সংক্রামক ও অসংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ, ভ্যাকসিন প্ল্যান্ট স্থাপন ও ভ্যাকসিন তৈরি, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কমিউনিটি ক্লিনিককে জনস্বাস্থ্য সেবার মূল কেন্দ্রে রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের জন্য স্বাস্থ্য খাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আরো সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।

এর আগে বাংলাদেশের অন্যতম সফল স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মসূচি হিসেবে পরিচিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ থেকে পোলিও, ফাইলেরিয়া ও কালাজ্বর নির্মূলে কারিগরি সহায়তা দেওয়া ছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হাম, কনজেনিটাল রুবেলা সিনড্রোম নির্মূলের জন্য টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা দিয়ে আসছিল।

ফাইলেরিয়াসিস ও কালাজ্বর বাংলাদেশ থেকে দূর হয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশকে সনদ দিয়েছে এবং টিবি প্রিভ্যালেন্স সার্ভে এবং মিজেলস্ কেস ফ্যাটালিটি স্টাডিতে সহায়তা করেছে।

অর্থাৎ কয়েক দশক ধরেই বাংলাদেশ ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, কালাজ্বর, ফাইলেরিয়া, নিপাহ, বার্ড ফ্লু, অসংক্রামক ব্যাধি, মাতৃস্বাস্থ্য-শিশুস্বাস্থ্য, পয়জনিং মেডিকেল এডুকেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি সহায়তা পেয়ে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে।

প্রায় ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিষয়ক সাফল্যগুলোতে এই সংস্থাটির ভূমিকা আছে। উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তাদের বড় অবদান। যেসব রোগ নির্মূল হয়েছে কিংবা নির্মূলের পথে সেগুলোকে কেন্দ্র করে নেওয়া কর্মসূচি এখন তহবিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব রোগ ফিরে আসার আশংকার পথ তৈরি হতে পারে, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক পরিচালক বে-নজির আহমেদ।

মুশতাক হোসেন বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল কমে আর প্রভাব এর মধ্যেই বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যক্রম সংকুচিত হলে পাবলিক হেলথ, ইমার্জেন্সি রেসপন্স ও ল্যাবরেটরি সাপোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জরুরি জনস্বাস্থ্যের সব খাতেই অর্থ কমে যাচ্ছে। সম্প্রসারিত টিকাদান, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও রোগ গবেষণার বাজেট কাটছাঁট হচ্ছে, যা চিন্তার বিষয় হবে বাংলাদেশের জন্য,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন বে-নজির হোসেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর এখনই এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া জরুরি, যাতে করে নতুন সরকার স্বাস্থ্য খাতের অভ্যন্তরীণ বরাদ্দ বাড়িয়ে ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া সংক্রান্ত কারণে সৃষ্ট সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর হোয়াইট হাউসে প্রথম দিনই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন ট্রাম্প, যা বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রায় এক বছর পর এটি কার্যকর হলো।

গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রোগ পর্যবেক্ষণ, রোগনির্ণয় এবং প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।




কুতুবদিয়ার নৌপথে সি-ট্রাকের উদ্বোধন কাল

ডেস্ক নিউজঃ বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্নের সি-ট্রাক অবশেষে উদ্বোধনের মাধ্যমে কুতুবদিয়ার মানুষের নৌপথে যাতায়াত দুর্ভোগের কিছুটা অবসান ঘটতে যাচ্ছে। রবিবার সকাল ১১টায় পেকুয়ার মগনামা জেটিঘাটে কুতুবদিয়ার নৌপথে “এস টি ভাষা শহীদ জব্বার” নামের সি-ট্রাকটির উদ্বোধন করা হবে। এতে একসঙ্গে প্রায় ২৫০ জন যাত্রী বহন করা যাবে।

জানা গেছে, সকাল ১১টায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন এ সি-ট্রাক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

ইতোমধ্যে উদ্বোধনের জন্য শনিবার একটি সি-ট্রাক পেকুয়া উপজেলার মগনামায় আনা হয়েছে। সি-ট্রাকটি একনজর দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উদ্বোধন উপলক্ষে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ জেটিঘাট সাজানো হয়েছে। সি-ট্রাক চালুর খবরে দ্বীপবাসীর মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। তবে নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের জন্য ফেরি ব্যবস্থা চালুর দাবিও জানিয়েছেন কুতুবদিয়াবাসী।